বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০০৬

সিংহপুরী আলাপ-

১।
এবার দেশে আসার পথে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের টিকেট না কাটার পেছনে প্রধান কারণ ছিল পছন্দের সময়ে রিটার্ন টিকেট না পাওয়া। ওটায় করে এলে আমাকে পনের দিন আগেই দেশ ছাড়তে হতো।
আরেকটা প্রচ্ছন্ন কারণ ছিল আমার বন্ধু রাজীব। ও আমাকে আগেই সাবধান করে দিয়েছিলো ভুলেও যেন মালয়েশিয়ান টিকেট না কাটি। মেলবোর্ন থেকে মালয়েশিয়া সার্ভিস খুব ভালো, কিন্তু তারপরে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার সার্ভিস নাকি একদম যাচ্ছেতাই! ও যেবার ঢাকায় এসেছিলো, সেবারের প্লেন নাকি ঢাকার লোকাল বাসের কোয়ালিটির। আরো ভয়ংকর কথা, প্লেন জিয়া এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার সাথে সাথে সব প্যাসেনজার নাকি দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করেছিল। ল্যান্ডিংয়ের সময়ে সীট বেলট বাঁধা আবশ্যক, সুতরাং অনতিবিলম্বে বিমানবালারা চেঁচামেচি করে সেটা জানান দিতে থাকে, কিন্তু তবু নাকি কারো ভ্রুক্ষেপ ঘটেনা!
চোখ বুজে দৃশ্যটা কল্পনা করার চেষ্টা করতেই শিউরে উঠলাম। এবং এমন করেই কেটে ফেললাম সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের টিকেট।

২।
ভুল যে করিনি সেটা টের পাই প্লেনে ওঠার সাথে সাথেই।
প্রায় নিয়মিত বিরতিতে সিনেমার নায়িকাদের প্রেমে পড়ার ব্যাপারে আমার রেকর্ড আছে। উইনোনা রাইডার, ক্যাথারিন জেটা জোনস, পেনেলোপ ক্রুজ ঘুরে এই মূহুর্তে মনিকা বেলুচ্চি। কিন্তু তার আসনও টালমাটাল। সীটে বসে বেলট বাঁধতে বাঁধতেই সিনেমার নায়িকাদের তালিকার সাথেই প্রায় নির্দিধায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সব এয়ার হোষ্টেস এর নাম যোগ করে দিলাম। আহ, একেকজন যেন সাক্ষাৎ হুর-পরী! জান্নাতুল ফেরদৌসে যদি প্লেন সার্ভিস থাকে, নির্ঘাৎ তার এয়ারহোস্টেসদের নেয়া হবে সিঙ্গাপুর থেকে! কোনো সন্দেহ নাই।

৩।
জার্নি ভালো হলো। একদম নির্ঝনঝাট। খেয়ে দেয়ে আধাঘুমিয়ে আর সুপারম্যান রিটার্ণস দেখে সময় কেটে গেলো।
আমি অবশ্য খুব আশা করেছিলাম এরা 'স্নেক অন দ্য প্লেন' মুভিটা দেখাবে। কিন্তু অতটা রসিক মনে হয় এঁরা নন।

৪।
সিঙ্গাপুরে চার ঘন্টার ট্রানজিট। কথা ছিলো মাশীদাপু আসবে দেখা করতে। কিন্তু ওনারা তখন কুয়ালালামপুরে সংসার সাজাতে ব্যþত, তাই আসতে পারবে না। সাদিক ভাই আগেই জানিয়েছিলো সেটা। আমি তাই এয়ারপোর্টে বসেই নেটে ঢুকে মেইল করলাম কয়েকটা।
মাশীদাপুর ফোন নাম্বার জানা ছিলো। আমি অভ্যাসবশে শুরুতে জিরো লাগিয়ে সেই নাম্বারে ডায়াল করে দেখি যায় না। খুব মেজাজ খারাপ হলো। শেষে কি মনে করে জিরো বাদ দিয়ে ডায়াল করতেই লাইন পেয়ে গেলাম।
মাশীদাপুর গলা শুনতেই আমি বললাম, বস, কী খবর?
ও বলে কি, কে রে??
আমি হাসতে হাসতে আমার নাম বললাম। কিন্তু কপাল, আমার নিজের নামে আমারে কেউ চিনে না! তাই বললাম, আমি কনফু।
অবশেষে চিনিলেন।
বেশ খানিক্ষণ কথা হলো, প্রাণবন্ত এবং ছটফটে গলা মাশীদাপুর, ঠিক যেমনটা ভেবেছিলাম। তারপরে কথা হলো অরূপদার সাথে। টু বি অনেষ্ট, 'ভদ্্রলোকের' গলা শুনে আমি মুগ্ধ! অরূপদা গান, আবৃত্তি বা ডিবেট করে কি না জানি না। কিন্তু করলে যে খুব ভালো হয়, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। আমাকে আদুরে গলায় বললেন, 'আহারে ছেলেটা এত দূর থেকে এলো, আর দেখা করতে পারলাম না।' এইটুকু শুনেই আমি গলে গেছি।
অবশেষে, কঙ্কাবতীর সাথে প্রতিদিন ফুচকা খাবো- মাশীদাপুর কাছে প্রায় শতবারের মতন এই প্রমিস করে ফোন ছাড়লাম।
আমার সিঙ্গাপুর যাত্রাও স্বার্থক হলো।

সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০০৬

কষ্টে আছি ইয়াজুদ্দিন-

১।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়া আমার ব্যক্তিগত ধারণা ছিল- প্রজাতিতে এনারা বেশ নীরিহ হন, করেন না কো ফোঁসফাঁস, মারেন নাকো ঢুসঢাস।
ইশকুলে থাকতে বিএড টিচার বলে একটা ব্যাপার ছিল। বৎসরের কোন একটা সময়ে এরা হাজির হতেন। কোন এক সুন্দর সকালে আমরা বাংলা ক্লাসে গিয়ে দেখতাম, আজ রবি ঠাকুরের কবিতা পড়া হবে, সেজন্যে বোর্ডে লাল চক দিয়ে কবিতার নাম, আর নীল চক দিয়ে লেখা হয়েছে কবির নাম। তারচেয়ে মজার কথা বোর্ডের এক কোনায় ক্যালেন্ডার থেকে কেটে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে রবিদাদুর ছবি। দাদাঠাকুর সেই ছবি থেকে দাড়ির ফাঁক দিয়ে অদৃশ্য হাসি হাসতেন, আর আমরা ক্লাশের সবাই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচতাম।
ঐ স্যাররা হতেন ভয়াবহ ক্যাটাগরির অমায়িক মানুষ। ক্লাশে যতই চিল্লাপাল্লা করতাম, কখনৈ ওনারা ধমকটা পর্যন্ত দিতেন না। বাসায় বেড়াতে আসা নতুন মামীর মতন অভিমানী গলায় বলতেন, প্লিজ, তোমরা দুষ্টামি কোরো না।

২।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুনলেই আমার কেন জানি বিএড টিচারদের কথা মনে হোত। তিনমাসের জন্যে এসে এনারা দেশটাকে সুন্দর ভাবে চালাবেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে, এমনটাই ভাবতাম।
কিন্তু এ বছর দেখি ঘটনা অন্যরকম।
গত একমাসে সবকিছু কেমন ভোজবাজির মত লাগছে। 'কি হইতে কি হইলো, হঠাৎ দেখি- ' আমাদের প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন নিজেই হয়ে গেলেন প্রধান উপদেষ্টা! তারপরে নানা কান্ড। অন্য উপদেষ্টারা যখন নানা প্যাকেজ নিয়া হাজির হন, আমরাও আশ্বস্ত হই, কিন্তু পরবর্তিতে পত্রিকায় দেখি, ইয়াজুদ্দিন নাকি অনীহা প্রকাশ করেছেন। তার এই অনীহার কোন কারণ খুঁজে পাই না।
গতকাল রাতে ইয়াজ সাহেব তৃতীয়বারের মত জাতির উদ্দেশ্যে ওয়াজ করিলেন। সেই ওয়াজ শুনে আমি বুঝিতে পারিলাম, তিনি বড়ই কষ্টে আছেন। সম্ভবত বিয়েনপি প্রধানের বক্তৃতাটা ভুল করে তার ফাইলে চলে এসেছে, তিনিও চোখ অর্ধে ক বোজা অবস্খায় সেটাই পাঠ করলেন। এবং আমার মত বোকাদের কাছেও এতদিনকার ভোজবাজিগুলার কারণ স্পষ্ট হয়ে গেল!

৩।
ইদানীং আমার শুধু-শুধুই রাগ লাগে।
কেন ১৪ দল খালি অবরোধ দ্যায় সে জন্যে রাগ হয়। সারা দেশের জনগণ মুহিনকে না দিয়ে কেন যে শুধু সালমাকেই সব ভোট দেয় আমি সেটারও কোন কারণ খুঁজে পাই না। এই ভয়াবহ বাংলা উচ্চারণ নিয়েই এই মেয়েটাই যে ক্লোজআপওয়ান হয়ে যাবে, এটা বুঝে ফেলার পর থেকে এই প্রোগ্রামটার প্রতি আমার আর কোন আকর্ষণই নেই।
স ম জাকারিয়া কেন ছুটিতে যাবেন না সেটা ভেবেও রাগ লাগে, আবার তাকে কেন যেতেই হবে সেটা ভেবেও রাগ লাগে। এতজন জ্ঞানীগুণী উপদেষ্টারাও আসলে কতটা অসহায়, সেটা ভেবে অস্খির লাগছে।
আজ সকালে উঠে ইন্ডিয়ান ইটিভি বাংলার নিউজে দেখলাম বলা হয়েছে- বাংলাদেশে সেনা অভ্যুথান! মোতায়েন এবং অভ্যুথান শব্দ দুটোর অর্থগত পার্থক্য এরা কবে বুঝবে? এ দেশের মিডিয়াগুলো এটার প্রতিবাদ করবে? জানি না।
এইসব রাগ আর অস্খিরতা প্রকাশের জায়গা পাচ্ছি না, তাই শেষমেষ ব্লগে এসে লিখে যাচ্ছি, কষ্টে আছি, জনাব ইয়াজুদ্দিন, বড়ই কষ্টে আছি।

সোমবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০০৬

বীক্ষণ সম্পর্কিত ঘোষনা-



নেটে বসে আছি প্রায় ঘন্টাখানেক হবে। এর মধ্যে অনেক সময় নিয়ে ৩ টা পেজ খুলতে পেরেছি। সেজন্যে অবশ্য আমি মোটেও দু:খিত নই। কোন লিংকে ক্লিক করে নতুন পেইজ খুলবার সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্যে বাসা থেকে সাথে করে মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমি তপু“ বইটা নিয়ে এসেছি। একটা লিংকে ক্লিক করে ৩ বা চার পাতা পড়া শেষ করে মনিটরে তাকাই, ততখনে পেজটা চলে আসে।
লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, বইটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি, আর বোধহয় ২০/২৫ পৃষ্ঠা বাকি!

-------------------
দেশে আসবার আগেই একটা ঘোষনা দেবার কথা ছিল, তাড়াহুড়ায় দিতে পারি নি।
নতুন একটা ওয়েবম্যাগাজিনের কাজ শেষ করেছি। আসবার আগের দিনেও অনেক রাত জেগে নানা কারেকশান করতে হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি। নানারকম ভুল-ভ্রান্তি এখনো রয়ে গেছে। কিন্তু সবই আস্তে আস্তে শুধরে ফেলবো। খানিকটা সময় লাগবে যদিও।

ম্যাগাজিনের নাম হলো বীক্ষণ
লিংকটি এরকম http://www.beekkhan.com
ম্যাগাজিনটির মূল বৈশিষ্ঠ হচ্ছে পুরোটাই ইউনিকোডে বানানো। সম্পাদনা করেছেন সুচেতা মিশ্র। লেখা ঝাড়াই, বাছাই এবং ডিজাইন ভাবনার সবটুকু কৃতিত্বই তাঁর। আমি শুধু সফটওয়্যারে বসিয়ে সেগুলোকে ওয়েবে তুলে দিয়েছি। সুতরাং, ভুল-ভ্রান্তির সবটুকু দায় আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।
আমাদের ব্লগের পরিচিত অনেকেই লিখেছেন সেখানে। হাসান মোরশেদ, সুমেরু, রাগ ইমন, শরৎ চৌধুরি, কৌশিক আহমেদ।
লিখবার কথা ছিল রাসেল ভাই এবং হযু ভাইয়েরও। কিন্তু দুজনেই শেষমেষ আমাকে পাত্তা দেন নি।
মাহবুব সুমন ভাইকে স্পেশাল ধন্যবাদ। উনার বানানো ওয়েবটুলটা ছিনতাই করে সেখানে বসিয়ে দিয়েছি, উনি তাতে কোন আপত্তিই করেন নি!

ম্যাগাজিনটি সবার ভালো লাগবে বলে আশা করি। কারণ, একেবারে আনকোরা নতুন হলেও মানের দিক দিয়ে এটা বেশ উঁচু মানের হয়েছে বলেই আমার ধারণা।
সবাই লেখা এবং মন্তব্য দিয়ে প্রয়াসটাকে সফল করবেন বলে আশা করছি।

শনিবার, নভেম্বর ০৪, ২০০৬

ও যে...


ও যে মানে না মানা ,
আঁখি ফিরাইলে বলে না, না , না।

প্রতিবেশি


আমার জানালা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়...


যে বাসায় থাকি, সেটা একটু নির্জন টাইপের। পেছনে বিশাল উঠোন। ( ব্যাকইয়ার্ডের চেয়ে উঠোন শব্দটা শুনতে কত ভাল শোনায়! ) সামনে নানারকম গাছগাছালি।
আমার জানালার ঠিক সামনেই একটা জংলামতন গাছ। জানালা খুলে প্রায়শই দাঁড়িয়ে থাকি, ঠিক আকাশ দেখা হয় না, তবু এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার 'এমনি এমনিই' ভাল লাগে।
মাঝে কদিন খুব ব্যস্ততা গেল। বাসায় এসে ঘুম ছাড়া আর তেমন কিছু করা হয় নি। এরকম করে বেশ অনেকদিন জানালাও খোলা হয়নি। একদিন হুট করে সেটা খুলতে গিয়ে দেখি পাল্লা আটকে গেছে, খুলছে না কিছুতেই।
বাইরে গিয়ে দেখলাম সেই জংলা গাছটা ডালপালা মেলেছে, বাড়তে বাড়তে সেটা আমার জানালার পাল্লায় সাঁড়াশির মত আটকে গেছে, গাছ না কেটে অথবা অন্তত ডাল না ছেঁটে কিছুতেই সেটা খুলবে না।
সেটারও সুযোগ হচ্ছিলো না। দিন চলে যাচ্ছিল।
আজ সময় বের করে কিছু ডাল কেটে ফেললাম, যেন অন্তত জানালার উপর থেকে চাপটা কমে যায়, জানালা খোলা যায়।
তখুনি হঠাৎ এই পাখির বাসাটা চোখে পড়লো।
দেশের বাইরে এসে এত কাছ থেকে কখনো গাছের ডালে পাখির বাসা দেখিনি। খুব আজব ধরণের মজা লাগছে কেন জানি।

সকাল থেকেই ঘুরে ঘুরে এসে উঁকি দিচ্ছি বারে বারে, আমার ঘরের পাশের প্রতিবেশি সেই পাখিটাকে যদি এক নজর দেখতে পাই!
কিন্তু, বারান্দায় রোদ্দুর, ...... তবু তোমার দেখা নাই!

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৩১, ২০০৬

আমার দেশ

ইদানীং শিউরে ওঠাও ভুলে গেছি।
ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার চেষ্টা করছি আসলে আমাদের দেশটায় কি হচ্ছে, কোন কূলকিনারা পাচ্ছি না। এরকম সহিংস্রতার মূলে আসলে কি আছে? যারা এভাবে ভাংচুর চালাচ্ছে, পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে- তাদের মানসিক গঠনটা দেখতে ইচ্ছে করছে। পত্রিকায় ছাপানো ছবিতে তাদের হাসিমুখ দেখে গা কেঁপে ওঠে, ওরকম আনন্দিত চেহারা নিয়ে কেমন করে মানুষ আরেকটা মানুষকে মেরে ফেলে?
মানুষের অসহিষ্ণুতা চলে গেছে চরম মাত্রায়। প্রাচীনকালের পৃথিবীতে নাকি গোত্রে গোত্রে মারামারি হতো, বড় নৃশংস সেইসব গল্প।
এখন গোত্র নেই, আমরা নিজেদের ভাগ করে ফেলেছি রাজনৈতিক দলে। দেশের রাস্তায় এখন যেসব দু'পেয়ে প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়, তারা নির্ঘাৎ কোন মানুষ নয়। তারা অতি অবশ্যই বিএনপি, আওয়ামি লীগ, জামাত বা জাতীয়-পার্টির ল্যাবে তৈরি করা বিশেষ প্রজাতির কোন প্রাণী। যাদের জিনেটিক কোডে খোদাই করে দেয়া হয়েছে অন্য দলের প্রাণী-হত্যার নির্দেশ!

ভীষন দুঃসময় কাটাচ্ছে এখন আমার প্রিয় জন্মভূমি। আমরা এখন তার সন্তানদের মনুষ্যত্ববোধের মাগফেরাত কামনা করার জন্যে হাত তুলে মোনাজাত করতে পারি।

শুক্রবার, অক্টোবর ২৭, ২০০৬

কঙ্কাবতী আখ্যান অথবা আমি ইহাকে যেমন করিয়া পাইলাম-


তোমার কথা শুনতে ভালো লাগে, বন্ধুরা বলে,
শোনায় তোমার কথা আমায় প্রায়।
তাই শুনলাম তোমার কথা গান শোনার ছলে,
শুনলাম- তোমাকে তাই।

অনেক কথা কত কথা কথকতার সুরে-
ভরে গেলো ভেতরটা আমার-
ইচ্ছে হলো বলতে কথা সুরের তালে তালে...
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার...।
মন আমার, মন আমার, মন আমার।

...... ভার্সিটিতে ভর্তির ছয় মাস পরে ক্লাস করতে গেছি। গিয়ে দেখি কাউকেই চিনি না। মহা সমস্যা। মুখ গোমড়া করে বসে আছি- কী যে করবো ভেবে পাই না কিছুই। হঠাত দেখি সজীব। বহুদিন আগে একবার কথা হয়েছিলো। ওর সঙ্গেই ঘুরলাম খানিক্ষণ, চিনলাম রুমাকে। আমি প্রাকটিক্যাল গ্রুপ-ট্রুপ কিছুই জানি না। অবশেষে জানলাম- গ্রুপ-সি।
প্রাকটিক্যাল ক্লাসে গিয়ে নাম এনট্রি করাতে খবর হয়ে গেলো। নওরীন ম্যাডামের কাছে জবাবদিহি করতে করতে জান শেষ। এতদিন কোথায় ছিলাম , ( আহা, যেনবা বনলতা! ), কেন আসিনি! বললাম হাবিজাবি অনেক কিছু। উনাকে তো আর বলা যায় না যে প্লান করেছিলাম এক বছর ঘুম দিবো শুধু- কিছুই করবো না!
শেষ পর্যন্ত মোটামুটি ঝামেলা শেষ হলো। কিন্তু আমার ব্যাচমেটদের কারো কোন খবর নেই। পরপর দু’ক্লাশ কেটে গেলো ্লাইড ক্যালিপার্স আর স্ক্রুগজ নিয়ে গুতোগুতি করতে করতে।
বুঝলাম এভাবে চলবে না। সজীব আর রুমা বুদ্ধি দিলো- কোন একটা ব্যাচের সাথে মিলে শুরু করে দিতে। তা-ই ভালো মনে হলো।
ছেলেমেয়ের আলাদা গ্রুপ ওখানে। তাই গেলাম একটা ছেলেদের গ্রুপে, বললাম, কিন্তু ওদের চারজন পুরো হয়ে গেছে। আরেকটা গ্রুপে গিয়ে দেখি ওখানেও কোন কোটা খালি নেই। কি যে করি! আমার বিভ্রান্ত চেহারা দেখে ভাস্করের ভীষন মায়া হলো। বললো,“ তুমি এক কাজ করো, ঐ যে মেয়েটাকে দেখছো- ওর পার্টনার অসুস্থ তিনদিন ধরে, তুমি বরং ওকে গিয়ে বলো।’
আমি তাকালাম। হ্যা, সত্যিই। আমিও গত দু’দিন দেখেছি ভীষন মিষ্টি ঐ মেয়েটা একা একা খুব গম্ভির মুডে
প্রাকটিক্যাল করছে। কারো সঙ্গে কোন কথা নেই- শুধু মাঝে মাঝে নওরীণ ম্যাডামকে গিয়ে কি জানি জিজ্ঞেস করে আসছে।
এত গম্ভির একটা মেয়েকে গিয়ে কিছু বলবো- কেন জানি সাহসে কুলালো না। আমি ছেলেটার দিকে তাকাতেই সে একটা হাসি দিলো, যার অর্থ মোটামুটি এরকম, “ তুমি যাও, ভয়ের কিছু নেই।’

আমি গেলাম। বললাম। মেয়েটা রাজী হলো। খুব মনোযোগ দিয়ে
প্রাকটিক্যাল করা শুরু করলাম। অজানা রোধ নির্ণয় করতে হবে। আমি জকি নাড়াচ্ছি তারের এ মাথা থেকে ও মাথায়, ও রিডিং নিচ্ছে। মিটারের কাটা শূন্যতে আনতে হবে। ও “ডানে, আরেকটু ডানে, না না, বামে , আবার ডানে’..... এরকম বলছে.., আমি জকি সেট করছি .....। হঠাত কি হলো, মেয়েটা খিলখিল করে হেসে দিলো। আমি তো অবাক! “ কি হলো? ’’
ও হেসে বললো, “ ধুত্তোরি, মনে হচ্ছে তুমি যেন রিকশাওয়ালা, আর আমি তোমাকে ডানে-বামে ডিরেকশান দিচ্ছি!!’’

এ-ই হলো কংকাবতী। আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এই অসাধারন মানুষটাকে আমি এমন করিয়াই পাইলাম।


মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৪, ২০০৬

সিনেমা সিনেমা


কোনরকম লুকোছাপা না করলে বলতে হয়, আমি নির্ঘাত ইটালিয়ান মুভির প্রেমে পড়ে গেছি!
আমাদের এখানকার ভিডিও ক্লাবে আলাদা একটা সেকশান আছে ওয়ার্ল্ড মুভিজ নামে। ওখানে খুঁজে টুজে দারুন সব সিনেমা পেয়ে গেছি। আমার বিশেষ করে ভাল লেগেছে ইটালিয়ানগুলো। আরো নানা দেশের আছে, ইরানি মুভি গুলো এখনো শুরু করিনি দেখা, তবে দেখবো নিশ্চয়।
পরে লিখব না হয়, যেগুলো ভাল লেগেছে, সেগুলো নিয়ে। এবং খুব শিঘ্রীই।

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৭, ২০০৬

কাবুলিওয়ালা


কথিত আছে, মাছের পেটে ঢুকিয়া ইউনুস নবী ইসমে আজম জপিয়াছিলেন।
ড. ইউনুস কি জপিতেছেন কে জানে, কিন্তু আমাদিগের এই বঙ্গদেশীয় পেটে যে তাহাকে ভীষন বদহজম হইতেছে, অবিরত ভুটুরভাটুর শব্দে ইহা বেশ বুঝিতে পারিতেছি। এক্ষনে এই উভমূখী নির্গমণ ঠেকাইতে হাতের নিকটে ফ্ল্যাজিল ( ৫০০ এমজি) খুঁজিয়া না পাইয়া নোবেল নামক ট্যাবলেট গিলিয়াও শেষ রক্ষা হইতেছে না।
ট্যাগোর আংকেল মিনুকে রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাহাকে পালিয়া পুষিয়া আমরা করিমন বেওয়া বানাইয়াছি। ভাঙ্গা ঘরের দাওয়ার পার্শ্বে লক্ষণ রেখা আঁকিয়া, উহাকে দারিদ্রসীমা নাম দিয়াছি, অতঃপর চতুষ্পদী ছাগলের পিঠে চাপাইয়া করিমন বেওয়াকে সেই সীমানা পার করিবার চেষ্টা করিয়াছি।
এইবার ছাগলে হোঁচট খাইলে, কেন উহাকে গরু কিংবা মরুদেশীয় দুম্বার পিঠে চাপানো হইলো না এই নিয়া কামান দাগি। ডিশুম ডিশুম!

সুধীজনেরা, অদ্য বাদ-জোহর এই ব-দ্বীপের মধ্যিখানে একখান বিশাল খন্দক কাটিবার আয়োজন করা হইয়াছে। উহাতে গলা পর্যন্ত ডুবাইয়া আজিকার কাবুলিওয়ালাকে মাটিচাপা দিয়া রাখা হইবে। আর আমাদিগের হাতে পাথরের পরিবর্তে দেয়া হইবে পাকা কদবেল।

এক্ষণে, সেই কদবেল ছুড়িয়া তাহাকে হত্যা করিব নাকি কদবেল ভাঙ্গিয়া আরাম করিয়া নুন দিয়া মরিচ দিয়া মাখাইয়া খাইব, ইহাই দেখিবার বিষয়!

সোমবার, অক্টোবর ১৬, ২০০৬

যুদ্ধের দেবতা-


ভিডিও ক্লাবের মেম্বার হয়ে গিয়ে গত ক'মাসে বেশ কিছু ভাল মুভি দেখা হয়ে গেল। এর মধ্যে কয়েকটা সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।
এরকম একটা মুভি হলো লর্ড অব ওয়ার। নিকোলাজ কেজ-এর। আমার খুব পছন্দের একজন নায়ক।
আমার একটা অভ্যাস হলো, ছবি দেখার সময় আমি মোটামুটি একটা লিংক ফলো করে যাই। প্রথম যে ছবিটা দেখলাম, পরেরটা হয়তো একই নায়ক অথবা পরিচালকেরই ছবি হয়। অথবা নায়িকার। কোন নির্দিষ্ট কারন নেই অবশ্য, নিজের কাছেই মজা লাগে এরকম করে দেখতে।

এই ছবিটা পুরোপুরি রাজনৈতিক। অস্ত্রব্যবসা নিয়ে, অথবা বলা যায় যুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা হয় দুনিয়া জুড়ে, তাই নিয়ে এই সিনেমা। একজন সাধারন মানুষ কেমন করে অস্ত্রব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, তারপর সেখান থেকে আস্তে আস্তে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী, খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে এখানে। এই অংশটুকু অবশ্য খানিকটা ফাস্ট ফরোয়ার্ডের মত মনে হয়েছে আমার। আরেকটু রয়েসয়ে দেখালে ভাল হতো মনে হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে কেজের নিজের গলায় জীবনী বলার মত করে দেখানো হয়েছে সিনেমা। এই ব্যবসার কথা নিজের পরিবারের কাছে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে নানা জটিলতা, এই কারণেই নিজের ভাইকেও হারাতে হয়।
মাঝখানে একটা জায়গায় এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শুনে চমকে যাই। এ.আর.রাহমানের কোন একটা মিউজিক শুনেছি এরকম, কোন ছবির মনে নেই, বোম্বে, নাকি রোজা? একটা বিষন্ন সুর। একদম হুবহু, নাকি একই মিউজিক? কে জানে!

একদম শেষে এসে কিছু দুর্দান্ত বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় সারাজীবন ধরে তাড়িয়ে বেড়ানো ইন্টারপোলের একজন পুলিশ অবশেষে নিকোলাসের নাগাল পায়, গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে তাকে। ইন্টাররোগেশান সেলে বসে যখন সে দেখে- তবু অবিচল নিকোলাস কেজ, ভীষন অবাক হয়। শান্ত স্বরে কেজ তাকে জানায়, এরপরে কি হতে যাচ্ছে। এই সেল-এর দরজার একটা নক হবে, মার্কিন সরকারের একজন সিনিয়ার অফিসার পুলিশ অফিসারকে বাইরে ডেকে তার এই অসাধারণ কীর্তির জন্যে তাকে অভিনন্দন জানাবে, তারপর বলবে, কেজকে ছেড়ে দিতে।
খানিকপরে এই কথা একদম অক্ষরে অক্ষরে সত্য করে যখন সত্যিই কেজ বের হয়ে আসে, পুলিশ অফিসারের ঐ অবাক চোখগুলো সহজে ভুলবো না।
একদম শেষে প্রায় নিরাসক্ত গলায় নিকোলাজ কেজ জানায়, বিশ্বের রাজনীতি আসলে এমনই।পৃথিবীর প্রধান পাঁচটি অস্ত্রবিক্রেতা দেশ হলো আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। এবং বড্ড হাস্যকরভাবে এই পাঁচজনই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য!
কি প্রচন্ড কৌতুকবোধে আমার মুখটা তখন অসহায়ভাবে বেঁকেচুরে যায়!

শুক্রবার, অক্টোবর ১৩, ২০০৬

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, ২০০৬

ফটুকবাজি-২


বিমূর্ত এই রাত্রি যেন মৌনতার সুতোয় বোনা
একটি রঙ্গিন চাদর-

মাশীদাপু-অরূপদাঃ দুই ফটুকবাজকে উৎসর্গ।

ফটুকবাজি-১



মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি,
বানাইয়াছে কোন মেস্তরি ।

-----------------
এটা সাদিক ভাইয়ের জন্যে।

ক্লোজআপের গল্প-


এই দূর দেশ থেকে কংকাবতীরে ফোন করি। আলাপ শুরু হলে ঘড়িতে কয়টা বাজে সেই খেয়াল আর থাকে না, কার্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতেই থাকে, চলতেই থাকে।
কিন্তু কংকার খেয়াল থাকে, সব দিনে নয় অবশ্য- বিশেষ করে সেই দিনগুলোয়, যেদিন টিভিতে ক্লোজ আপ ওয়ান থাকে! সেদিন আগে থেকেই এসএমএস আসে, আজ কিন্তু সাড়ে নটা থেকে ক্লোজ আপ ওয়ান, শেষ হলে ফোন করবি, তার আগে না।
মনের ভুলে আমি যদি নয়টায় ফোন করেই ফেলি, সাড়ে নটায় শুরু হয়ে যায় ম্যাডামের উশখুশানি, এই, ফোন রাখ! ক্লোজ আপ ওয়ান দেখব!

বুঝো ঠেলা!
এখন এই ক্লোজ আপ ওয়ান ব্যাটার ওপর আমার মেজাজ খারাপ না হবার কোন কারণ আছে? কত্ত বড় সাহস, আমার সাথে কম্পিট করে!

কদিন আগে জাম্প টিভি সাইটে সস্তার প্যাকেজে এনটিভির নিউজ দেখার জন্যে সাবস্ক্রাইব করলাম। কংকা শুনে টুনে বললো, একদিন ক্লোজআপ ওয়ানটা দেখ। আমি গাল ফুলিয়ে বললাম, না! অসম্ভব!
তবু পীড়াপীড়িতে অনিচ্ছাসত্বেও দেখলাম একদিন।
দেখে বেশ ভালই লাগলো। দেবাশীষকে মহা বোরিং মনে হলো, চৈতীর উচ্চারণ শুনে খানিকটা ভড়কেছি, আর আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কান্ডকারখানা দেখে পেট ফাটিয়ে হেসেছি!
কিন্তু এই সব বাদ দিলে সব মিলিয়ে খুব চমৎকার একটা প্রোগ্রাম। ব্যবসা-বুদ্ধি, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর পণ্যের বিজ্ঞাপণ- এইসব ভারি দেয়ালের ভেতরে উঁকি মেরে দেখি, আর কিছু না হোক, খুব চমৎকার কিছু গান শোনা হচ্ছে এদের কল্যাণে। শুনলাম দেশেও নাকি একটা সুন্দর পরিবর্তন আসছে, তরুণরা বাংলা গান শুনছে। মোবাইলের রিংটোনে ধুম মাচা লে-র পরিবর্তে শোনা যাচ্ছে- ও রে নীল দরিয়া...।
ইম্প্রেসিভ!

অনেকদিন পর শুনলাম খুব প্রিয় একটা গান, আমার দুই চোখে দুই নদী, তুমি দু'হাত ভরে পানি নিও, তৃষ্ণা লাগে যদি!
এই লেখাটা লিখছি আর গুন গুন করছি।

-------------
ভাল খবর।
আমার খুব প্রিয় ইউটিউবে সার্চ দিতেই দেখি ওখানে একগাদা ক্লোজআপ ওয়ানের ভিডিও তুলে রাখা! একেবারে তুলকালাম ব্যাপার স্যাপার!
গুনগুনটাই মনে হচ্ছে অচিরেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার হয়ে যাবে! :-)
দোয়া রাইখেন সবাই!
আমি আপাতত ক্লোজআপ ওয়ান দেখতে গেলাম।

ইউনিকোডের খবর-


আজ বেশ চমৎকার একটা ব্যাপার হয়েছে, সামহোয়্যার ইন ব্লগ আজ থেকে ইউনিকোডে পোষ্ট করার সিস্টেম করে দিয়েছে।
হাসিন ভাই আজই ঘোষনা দিলেন।
আমি সহ আরো অনেকেই একদম শুরু থেকে হাউকাউ করেছিলাম ইউনিকোড করবার জন্যে, যাক, অবশেষে তবু ব্যাপারটা হলো।
এ ব্যাপারে আরেকটা ভাল খবর, অনলাইনে বেশ কয়েকটা ইউনিকোড এডিটর পাওয়া যাচ্ছে এখন, তার মধ্যে দুটার লিংক এখানে তুলে রাখলাম, কখনো নিজের ল্যাপিও সাথে না থাকলে বেশ কাজে আসবে আশা করি।

এডিটর।
লিংক ১। সুমন মাহবুবের এডিটর
লিংক২। হাসিন ভাইয়ের এডিটর

সোমবার, অক্টোবর ০৯, ২০০৬

তালিয়া

বাংলাদেশ কিসে চ্যাম্পিয়ন বলুনতো? ফুটবলে না, ক্রিকেটে না, বাস্কেটবল বা ভলিবল দুরে থাক, এমনকি হা-ডু-ডু তেও না৷ বিগত পাঁচ বছর ধরে আমরা এমন একটা বিষয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়ে আসছি, যেটার কথা আমাদের শিশুরা কখনো তাদের সাধারণ জ্ঞান বইয়ে খুঁজে পাবে না৷ অ্যাল্,ছি ছি, শিশুদের এর মধ্যে টানা উচিত নয়, এটা একেবারে অ্যাডাল্ট ওনলি ব্যাপার৷

কষ্ট করে মাথা চুলকে আর নতুন কোন খেলার নাম বের করতে হবে না৷ এখানে কোনো রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের গোয়েন্দা গল্প লেখা হচ্ছেনা, তাই বলেই দেওয়া যাক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ইন্ডেক্সে বাংলাদেশ এক নম্বরে! কানে কানে আরও বলি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হবার ক্ষেত্রে যাদের সবচে বেশি অবদান -- তাদের নাম হচ্ছে পুলিশ৷ আইনের রক্ষক যাদেরকে বলে৷ বেশ বুঝতে পারছি, আর কোথাও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার যাতনা যেন আমাদের সইতে না হয়, পুলিশ বাহিনী সে জন্যে দিনরাত বিস্তর খেটে রীতিমত প্রাণপাত করে দিচ্ছে ৷

আহা, এ হেন প্রচেষ্টার জন্যে তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়৷

বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও!

------------------------------------------------------------------

গত সোমবার দুপুরে গুলশানের শ্যুটিং রেঞ্জে প্রাকটিস করছিলেন আমাদের জাতীয় শ্যুটার আসিফ হোসেন খান৷

এমনিতে শ্যুটি ংব্যাপারটা আমাদের গরীব দেশের মানুষদের খুব একটা প্রিয় খেলা নয়৷ কিন্তু আসিফ নিজে খুব জনপ্রিয়৷ বিশ্বমানের প্রতিযোগিতাগুলোর হিটেই বাদ পড়ে যাওয়াটা আমাদের কাছে ডাল-ভাতের মত ব্যাপার৷ এমনকি সাফ গেমসের মত ঘরের পাশের টুর্নামেন্টেও আমরা খেলোয়াড় পাঠিয়েই সন্তুষ্ট থাকি৷ কোন পদক আশা করি না কখনো, খেলে টেলে গায়ে খানিকটা ধূলো মেখে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুক, এরকমই আমাদের চাওয়া৷

প্রায় নিয়মে পরিনত হয়ে যাওয় রুটিনটায় বাদ সাধলেন এই আসিফ৷ ২০০২ এর কমনওয়েলথ আর ২০০৪ এর সাফ গেমসে তিনি দু'দুটো সোনা বাগিয়ে নিয়ে এলেন৷ রীতিমতন তুলকালাম ব্যাপার৷ গরীবের ঘরে হাতির পা! দেশের মানুষ নিজেদের গায়ে চিমটি কেটে দেখল, ভুল করে দেশের ক্রীড়াংগনে কোথেকে একটা তারা এসে জুটেছে, যার কল্যাণে এ ধরনের গেমসে আমরা আর কিছুতে না হোক, শ্যুটিংএ একটা সোনা জেতার স্বপ্ন রাতের বদহজম না হওয়া ছাড়াও দেখতে পারি৷

তো যা বলছিলাম, সোমবার দুপুরে তিনি আরো কয়েকজন শ্যুটারের সাথে প্রাকটিস করছিলেন৷ সেখানকার মিলনায়তনেই চলছিল এশিয় মহিলা উদ্যোক্তাদের ঈদ মেলা৷ মেলায় আসা অতিথিরা গাড়ি পার্ক করছিলেন রেঞ্জের সামনেই৷ কিন্তু একটা গাড়ি পার্কিংএর জায়গা বাদ দিয়ে এসে পার্ক করল ঠিক গেটের সামনে৷

একেবারে যেন অ্যাকশান সিনেমার ক্লাইম্যাক্স! পাঠক কি ভাবছেন? এটা নিশ্চয় কোন মন্ত্রীর গাড়ি৷ না, হলো না৷ তাহলে? কোনো সচিব, কিংবা আমলা? অথবা, নিদেনপক্ষে গোয়েন্দা কিংবা পুলিশ বাহিনীর প্রধানের গাড়ি?

তাও হলো না৷ ওটা ছিল পুলিশের ডিআইজির স্ত্রীর গাড়ি৷

হু হু বাবা,বাঘে ছুঁলে আঠার, পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা, আর পুলিশের বউ ছুঁলে? ক্যালকুলেটর লাগবে মশাই, দু হাতের আঙুলে হবে না!

আবারো, যা বলছিলাম৷ গাড়ি ওখানে রাখায় রেঞ্জের দারোয়ান বললেন গাড়ি সরিয়ে নিতে৷ কিন্তু পুলিশের-স্ত্রীর-গাড়ির-ড্রাইভার! তার একটা প্রেস্টিজ আছে না? ড্রাইভার জানালেন, এই গাড়ির-মালিকের-স্বাআমীর-পদবী হলো ডিআইজি৷ সুতরা গাড়ি সরবে না৷

লেগে গেলো কথা কাটাকাটি৷ ড্রাইভার সাহেব হাত চালিয়ে বসলেন৷ সুতরা ংকথা কাটাকাটি অচিরেই বদলে গেল হাতাহাতিতে৷ পাশ দিয়েই নাকি টহলরত পুলিশের দল হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছিলেন৷ গন্ডগোল দেখে তারাও এসে হাত লাগালেন৷ খালি হাতে কি আর তাদের মানায়? সেই হাতে লাঠিও ছিল৷

এদিকে গোলমাল শুনে রেঞ্জের ভেতর থেকে শ্যুটাররা দেখতে এলেন কি হলো৷ আসিফও ছিলেন সেই দলে৷ পুলিশের সাথে মারামারি দেখে তারা সেটা থামানোর চেষ্টা করলেন৷ কিন্তু পুলিশ তখন দারুন ফর্মে৷ তারা সামনে যাদের পাচ্ছে তাদেরই পেটাচ্ছে৷ শ্যুটারদেরও মেরে বসলো৷ মাটিতে ফেলে মার৷ কয়েকজন দৌড়ে দোতলায় গিয়েও নিস্তার পেলেন না, সেখান পর্যন্ত ধাওয়া করে গিয়ে মেরে আসা হলো সবাইকে৷

যাবার সময় আসিফ সহ আরো পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো৷ সেখানে গিয়ে আরেকদফা মার৷ হাতে, পায়ে, পায়ের তলায় লাঠি দিয়ে অমানুষিক মার৷ লাঠি ভেঙ্গে গেলে হকিষ্টিক দিয়ে শুরু হলো৷

এর মাঝে আসিফ কয়েকবার নিজের নাম ও পরিচয় বললেন৷ তার উত্তরে তাকে বলা হলো, "রাখ তোর শ্যুটার!'

বাহ বাহ, একদম চ্যাম্পিয়ানের মত কথা! ওনারা বছর বছর দেশকে চ্যাম্পিয়ান বানাচ্ছেন, তাদের কাছে আসিফ কোন ছার!

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আসিফ মোটামুটি চলত্শক্তিহীন৷ বাম হাতে কোন শক্তি পাচ্ছেন না৷ ডান হাতও তথৈবচ৷ আর কোনোদিন রাইফেল হাতে নিতে পারবেন কিনা বলা যাচ্ছে না৷ যদিও এর মাঝেই তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অভিমান নিয়ে ঘোষনা দিয়েছেন, তিনি শ্যুটি ংছেড়েই দেবেন৷
-------------------------------------------------------------------

পত্রিকার পাতা খুললেই শুধু পুলিশি কীর্তির খবর পাই৷ কদিন আগে প্রাক্তন স্বরাষ্ট মন্ত্রীকে রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছিল তারা, সে ছবি পত্রিকায় দেখে শিউরে উঠতে হয়৷ তারো কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে পিটিয়েছিল সাংবাদিক৷ কয়েকদিন আগে দেখলাম হরতালরত বিরোধীদলীয় নারী কর্মীদের পরনের জামা ছিড়ে ফেলতেও তাদের একটুও হাত কাঁপেনি৷

নাহ, এসবে কোন সমস্যা নেই আমাদের৷ বিরোধীদলীয় নারীকর্মী, ফটো সাংবাদিক কিংবা প্রাক্তন স্বরাষ্টমন্ত্রী, এঁরা কেউই আমাদের খুব একটা উপকারে আসবেন না৷ কাজে আসবেন না আসিফও৷ একটা দুটো সোনা দিয়ে কিই বা হবে আমাদের? ডিআইজির বউএর কানের দুলেও তার চেয়ে বেশি পরিমান সোনা থাকে৷

সুতরাং পিটিয়ে সবার হাতপা ভেঙ্গে দিন, দেশ ছাড়া করুন, কোন অসুবিধা নেই৷

শুধু ভাবি, পুলিশের দায়িত্বে থাকা বর্তমান স্বরাষ্টমন্ত্রী কি একবারো ভেবে দেখেছেন, প্রতি পাঁচবছর পর সবার পেছনেই "প্রাক্তন' শব্দটি যোগ হবার একটা প্রবল সম্ভাবনা থাকে? তিনি নিজে যখন 'প্রাক্তন' হবেন তখন এই ফ্রাংকেনস্টাইনের হাত থেকে তিনি নিজেকে বাঁচাতে পারবেন তো?

বাচ্চালোগ, তালিয়া থামাও৷ এর চেয়ে বরং বসে বসে নামতা পড়ো, পাঁচ-এক্কে-পাঁচ৷

*****************

প্রথম প্রকাশঃ কুটকচা৯ - গুরুচন্ডালি


শুক্রবার, অক্টোবর ০৬, ২০০৬

অভাগা রবীন্দ্রনাথ-


আজ কেলাশে বসিয়া দুরন্ত গতিতে লেকচার তুলিতেছি।
এই শিক্ষক মহাশয় বড়ই দ্রুত কথা বলেন। তাহার কথার সহিত তাল মিলাইয়া লিখিতে লিখিতে মনের মধ্যে হঠাৎ একখান ভাবের উদয় হইল। মাথা খানিকটা চুলকাইয়া ভাবিলাম, আহা, রবীন্দ্রনাথ বেচারা কি অভাগাই না ছিলেন!
সেই দেড় শতক বর্ষ পূর্বে দোয়াতে কলম ডুবাইয়া তিনি কাব্য রচনা করিতেন। অতীব সময়ক্ষেপক ব্যাপার। কিন্তু ঐরূপ গতি নিয়াই তিনি যেই পরিমাণ সাহিত্য সৃষ্টি করিয়া গিয়াছেন, আজ ভাবিতেছি, কোনক্রমে একখান বলপেন হাতে পাইলে তাহার কি সুবিধাই না হইত! আমাদিগের লেকচার তুলিবার গতিতে না হোক, তাহার অর্ধেক গতিতে যদি তিনি লিখিয়া যাইতেন, তবে নিশ্চিত জীবদ্দশায় প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ সাহিত্য তিনি রচনা করিতে পারিতেন।

বলপেন আবিষ্কারকদের নির্বুদ্ধিতায় বাংলা সাহিত্যের কি পোচোন্ডো ক্ষতি সাধিত হইয়া গেল, ইহা ভাবিয়া আজ আমার বুক ফাটিয়া অশ্রু নির্গত হইতেছে।
আহা, বেচারা রবীন্দ্রনাথ!




বুধবার, অক্টোবর ০৪, ২০০৬

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটগুলো-

মোটামুটি দৌড়ের উপর আছি। সেমেস্টারের মাঝামাঝি। হাতে হারিকেন পেছনে বাঁশ টাইপ অবস্থা!
বেশ কিছু কাজ একসাথে শুরু করে এখন কোনটাই করা হচ্ছে না। সব ঝুলে আছে। কিন্তু দেশে যাবার আগে অবশ্যই শেষ করে যেতে হবে সব। ভাবছি প্রতিদিন ঘড়ি ধরে বসব এসব নিয়ে, আধা ঘন্টা করে হলেও।

সেরকমই একটা কাজে কদিন ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইনে যতগুলো সাইট আছে, ঘুরে ফিরে দেখছি তাদের।
প্রাথমিক মূল্যায়ন হলো, ওখানে বেশিরভাগই বেসিক তথ্যগুলো রাখা আছে, ডিটেইলস নেই তেমন। অল্পবিস্তর ছবি আছে।
ইংরেজিতে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বেশিরভাগই সামারাইজড করা। “মুরগী বাচ্চা পাড়িল’ টাইপ। মাঝের ডিম পাড়ার খবর নেই।
নিজের সুবিধার জন্যে এখানে সাইটগুলোর একটা লিষ্ট করে রাখছি।

১।প্রথম লিনক হিসেবে দিতেই হবে উইকিপিডিয়ার সাইটটার। পরিমাণের দিক দিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে এখানে। পুরোটা পড়ে দেখা হয় নি, তবে, উইকির প্রতি আস্থা রয়েছে আমার।
২।ফরচুনসিটিতে হোষ্ট করা সাইটটিতে তথ্য কম রয়েছে, সাইটের ডিজাইন ভালো হয়নি যদিও, তবে এখানে প্রচুর পরিমাণে ছবি দেয়া আছে।
৩।তালিকার তৃতীয় সাইটকে মরুদ্যান বলে আখ্যা দেয়া যায়। সবচে গোছানো এবং সুন্দর। নাম হলো বাংলাদেশ ডট নেট। বানিয়েছে কে বলুনতো? অরূপ কামাল। মানে আমাদের অরূপদা!
৪।সাবকন্টিনেন্ট নামের সাইটে আমাদের যুদ্ধের কথা এসেছে ইন্দো-পাক যুদ্ধ হিসেবে। তবু, নানা কারণে এই সাইটে ঢুঁ মারা যেতে পারে।
৫।বেশ ভালো একটা সামারি দেয়া আছে বাংলাপিডিয়াতেও। তবে, মনে রাখতে হবে, এটা সামারি।
৬।জেন্ডারসাইডের সাইটে ৭১ এর জেনোসাইডের খবর পাওয়া যাবে জেন্ডারের বেসিসে। মন্দের ভালো বলা যায় এটাকে।
৭।ভার্চুয়াল বাংলাদেশে বেশ কিছু আর্টিক্যাল দেয়া আছে।একধারসে পড়া শুরু করেছি, যদিও এখনো শেষ করতে পারিনি।
৮। বেশ দৃষ্টিনন্দন হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সাইট। বিতর্কের খাতিরে অবশ্য ব্লগের সবাই এটার খবর আগেই জেনে গেছেন।
৯। গুগলের মতোই আমার আরেকটা প্রিয় সাইট হলো আনসার ডট কম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও দেখি ওদের কাছে ভালোই উত্তর পাওয়া গেল!
১০। বিডি৭১ এর লেখাগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। আরো খানিকটা পড়ে মতামত দিতে হবে।
১১। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বেশ ভালো কিছু তথ্য পাওয়া যাবে ভারতীয় এয়ারফোর্সের এই সাইটে। বাংলাদেশি বলে মাঝেমাঝেই অবশ্য ঢোক গিলেছি। কেন? সেটা পড়লেই জানতে পারবেন।
১২। অল্প কিছু ছবি দেয়া আছে বাংলা২০০০এ। শুভ আর পিয়ালভাই-র কল্যাণে অবশ্য এসব দেখা হয়ে গেছে আগেই।
১৩। ছোট্ট একটা ডকুমেন্ট এটা। বাংলাদেশ মেরিনারের সাইটে পাওয়া। একটা নাটশেল।

তবে এখন পর্যন্ত নেটে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে আনায় বেশ বড় একটা অবদান রেখেছে এনওয়াইবাংলা ওয়েবসাইট। দারুন সব ডকুমেন্ট ওখানে।

আবশ্যিকভাবে আরো দুটো লিংক এখানে না রাখলেই নয়। শুভ এবং পিয়ালভাই
সাথে রেখে দিচ্ছি রেজওয়ান ভাইয়ের দেয়া লিংকগুলোও।

১) আলোচনা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ডঃ আব্দুল মোমেনের পারসোনাল ডাইরি।
২) মুক্তধারা
৩) বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের সাইট।
৪) বিবিসির সাইটে কিঞ্চিত তথ্য।
৫) আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট আর্কাইভ ।
৬) একটি পাকিস্তানি ভার্সন
৭) জিও সিটিজ- থালসেনা সাইট
৮) কথন-হলোকাস্ট
৯) বুদ্ধিজীবি হত্যা
১০) পাকিস্তানি গনহত্যার পরিসংখ্যান
১১) ইউএস লাইব্রেরি অফ কনগ্রেস -বিকৃত তথ্য

ব্লগারদের অনুরোধ করবো,নতুন কোন সাইট বা ডকুমেন্টের খোঁজ যদি পান, একটু কষ্ট করে মন্তব্যের ঘরে রেখে যাবেন।


আউলা মাথা, বাউলা পোষ্ট-

তখন হলে থাকি। দুইটা টিউশানি করি। কপাল মন্দ, দুইজনই ছাত্র, ছাত্রী নাই।
আমার রুমমেট নতুন টিউশানিতে যায় কয়দিন হইলো। যাবার সময় দেখি পারফিউম মারে, শার্টে, গলায়, ঘাড়ে। আমাগো চোখ টনটন করে। আবার পড়ানো শেষে রুমে ফিরা গুন গুন গান গায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায়...। আমাগো বুকে জ্বালাপোড়া!

একদিন দেখি বালিশে হেলান দিয়া সিগারেট টানে। সাথে গুন গুন তো আছেই।
আমরা জিগাই, কি রে? নতুন টিউশানি কেমন? ছাত্রী ভালো?
কয়, আর কইস না।বড় জ্বালায় আছি।
আমরা বলি, কি হইছে?
ও বলে, মাইয়া জানি কেমুন কেমুন। পড়া পারে না। আমি ঐদিন চেইতা গিয়া কই, একটা চড় দিবো তোমারে, বুঝছো?

আমরা তো হা! কি সাংঘাতিক। জিগাই, তারপর?
ও একটা সুখটান দেয়, তারপরে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে কয়, মেয়ে আমারে বলে, দিয়ে ফেলেন স্যার। কেউ দেখবেনা, আম্মুও ঘুমাচ্ছে!

মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৩, ২০০৬

রাং দে বাসান্তি !

আব ভি জিসকা খুন না খোলা, খুন নেহি ও পানি হ্যায়;
জো দেশকে কাম না আয়ে, ও বেকার জওয়ানি হ্যায়।

বাংলায় কি হবে?
নাহ, নতুন অনুবাদের প্রয়োজন নেই, হেলাল হাফিজ অনেক আগেই লিখেছেন,

এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,
এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়!


হুমম।

সারফারোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়,
দেখতাহু জোর কিতনা বাজুএ কাতিল মে হ্যায়!


ধন্যবাদ, প্রজাপতি


মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৬

বেহেশতে যাচ্ছি-




মনের মধ্যে কতরকমের হাউশ!
ম্যাকগাইভার দেইখা একসময় ভাবতাম, এই ব্যাটার মত বুদ্ধি না হইলে তো জীবনটাই বৃথা! বোম্বাই সিনেমা 'গুরু' দেইখা মোনাজাতে কইতাম, আল্লাহ , আমারে মিঠুনের মতন মারামারি শিখাইয়া দাও।
বেহেশতে যাওনের একটা খায়েশ মনের মধ্যে উঁকি ঝুকি মারে বহু আগে থেইকা। না না, জান্নাতুল ফিরদাউশ চাই না, ঠেলাঠেলি কইরা চামে চুমে কোন একটা ছোটখাট বেহেশতে জায়গা পাইলেই হইলো!
সাড়ে তিন বছর বয়েসে ইশকুলে ভর্তি হওনের পর একা একা জীবনেও কেলাশে যাইতাম না। আম্মু যাইতো লগে, আম্মুর আঙুল ধইরা বইসা বইসা কেলাশ করতাম।
সেভেনে ওঠার পর থেইকা ঘরছাড়া হইছি। শুনলাম বেহেশতে নাকি পরিবার নিয়া থাকার সু-বন্দোবস্ত আছে, সেইজন্যেও যাইতে সাধ হয়। মায়ের লগে থাকতে মন চায়।

কোন সিনেমায় জানি দেখছিলাম, শিল্পা শেঠি তাহার চিক্কন কোমর দুলাইয়া সঞ্জয়রে কয়, চল। সঞ্জয় জিগায়, কাহা? বেটি হাতে টান মাইরা চোখে নাচুনি দিয়া কয়, জান্নাত মে!
আহা!

অধম কনফু কহে, পূণ্যবানেরা শোনেন, শেষমেষ বেহেশতে যাইতাছি। টিকেট ফাইনাল, নভেম্বরে।
বাংলাদেশ ছাড়া এই মুহুর্তে আর কোন বেহেশত চিনি না!


-

টিভি দেখা

এই মুহুর্তে আমার প্রিয় চ্যানেল নিঃসন্দেহে ইউটিউব ডট কম
সার্চ দিলেই অগুনতি বাংলা নাটক সিনেমা চলে আসছে। দেখা যাচ্ছে মজার সব বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও।
লাবন্য প্রভার বেশ কিছু পর্ব দেখলাম। মোস্তফা ফারুকীর কয়েকটা নাটক, এবং সর্বশেষ দেখলাম হুমায়ুনের সিনেমা- নিরন্তর। সবই ফ্রিতে!

জাম্প টিভি নামের একটা সাইট ওয়েব এ টিভি দেখার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে। নানা দেশের চ্যানেল আছে সেখানে। বাংলাদেশের চ্যানেল আছে তিনটি। চ্যানেল আই, আরটিভি, আর এনটিভি।
কাল এনটিভি-র জন্যে সাবস্ক্রাইব করে ফেললাম, মাঝে মাঝে নিউজ দেখা যাবে।

খুব একটা পয়সাও লাগে না। এমনিতে ১৫ ডলারের মত লাগে মাসে। তবে ওরা একটা সুযোগ দিচ্ছে, প্রথম মাসে লাগবে মাত্র দেড় ডলার!

ভালই তো!


রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০০৬

জেসমিন মানে কি জুঁই?


ছোটবেলায় কেউ যখন বাবার নাম জিজ্ঞেস করত, উত্তরে পুরো নাম বলতাম। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করত, আম্মুর নাম কি? খুব সিরিয়াস মুখ করে বলতাম,আম্মুর নাম হচ্ছে আম্মু।
এটাই তখন নিয়ম ছিল, বাসা থেকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল, কখনো আম্মুর নাম বলবে না। আম্মুর নাম বলতে হবে আম্মু।
কাল অনেকদিন পরে সেই কথা মনে পড়ে গেল।

বিকেলে বের হয়েছি, আমি আর আমার হাউসমেট, বাসা থেকে খানিকটা সামনে এগুতেই দেখি পিচ্চি একটা মেয়ে, দুই বা আড়াই হবে বয়েস, দু রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে!
ওখানে কারো দাঁড়িয়ে থাকার কথা না। পাশ দিয়ে ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। তারচেয়ে বড় কথা মেয়েটার আশপাশে কেউ নেই, এমনকি যতদূর দেখা যাচ্ছে, অভিভাবক টাইপের কাউকেই দেখছি না।
অগত্যা গাড়ি থামালাম। সন্দেহ হলো, সম্ভবত হারিয়ে গেছে।
কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই এই মহা কিউট মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতেই চোস্ত অজি উচ্চারণে বললো, আম্মুর কাছে যাব! বুঝলাম যা সন্দেহ করেছি তাই। হারিয়ে গেছে যেমন করেই হোক।
বললাম, আম্মু কোথায়, রাস্তার এক দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দিল। ওখানে কেউ নেই। বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করতেই আবারো সেই একই দিকে আঙ্গুল। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, বাসা কোথায় তোমাদের? আবারো আঙ্গুল সেই দিকে, আমি মনে মনে বলি, গেছি!
খানিক্ষন অপেক্ষা করব সিদ্ধান্ত নিলাম, কেউ যদি আসে খোঁজে। এর ফাঁকে টুকিটাকি কথা হলো, ততক্ষনে কান্না থেমেছে, নাম জিজ্ঞেস করতেই মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, জাসমিন। কঠিন মজা পেলাম। বারবার মায়ের খোঁজ করছিলো দেখে জিজ্ঞেস করলাম তোমার আম্মুর নাম কি?
জাসমিন বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে স্পষ্ট করে উচ্চারণ করলো, মাম্মি! এবারে হেসে ফেললাম।
বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে কি উত্তর পাব বুঝে গেছি ততক্ষণে, তবু একটা চান্স নিলাম। উত্তরে 'ড্যাডি' শুনে আর কিছু বললাম না।
কি আর করা, ইমার্জেন্সি নাম্বারে ডায়াল করলাম মোবাইল থেকেই। জিরো জিরো জিরো। কথা বললাম পুলিশের সাথে। ওরা বললো আসছে এখুনি।
খানিকটা পিছিয়ে বাসার সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর ভাবছিলাম, বাংলা সিনেমাই ভাল, ছোট থাকতেই নায়ক নায়িকাকে একটা ফ্যামিলি সং শিখিয়ে দেয়া হয়, হারিয়ে গেলে পরে সেই গান গাইতে গাইতে বাবা-মাকে খুঁজে পায় তারা!
মিনিট পনের বাদে দেখি, রাস্তার অন্যপাশে এক ভদ্রলোক কোলে আরেকটা পিচ্চি নিয়ে বিমর্ষ মুখ করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, কি মনে হতেই কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি কাউকে খুঁজছো?
ওর বাচ্চাকে খুঁজছে শুনে নিয়ে এলাম সাথে করে।
পিতা-কন্যার মিলন হলো। ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে মনে মনে আমি কোন একটা বাংলা ছবির গান গেয়ে নিলাম।

ঘটনা হচ্ছে, পিচ্চির মা বের হয়েছে কোন একটা কাজে। বের হতে না হতেই এই পিচ্চি চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে দরজার লক খুলে দৌড়ে বের হয়ে এসেছে রাস্তায়।

খানিক পর পুলিশ মামুরাও এলো। কিছুক্ষণ থ্যাংকস আর নো ওয়ারিজ মাইট -এর পালা চললো। জাসমিনের বাবাকে কঠিন গলায় বলা হলো, দরজায় যেন ডেডলক লাগানো হয়। তারপর বিদায় নিয়ে যার যার রাস্তায় আমরা।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে মজা লাগছিলো আপন মনেই! একদম বৈশিষ্ঠ্যহীন একটা দিন কাটাচ্ছিলাম, দিনটা সুন্দর হয়ে গেল।


ছবির পিচ্চিটাই জাসমিন। আমার হাউসমেটের তোলা ছবি, ফোনের ক্যামেরা দিয়ে।

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৬

মাতা-পুত্র


বলা হয়ে থাকে, নেসেসিটি আর ইনভেনশান - এর সম্পর্ক নাকি মাতা আর পুত্রের।
আমার দেশের অভাগা মানুষের চেয়ে ভাল এটা আর কে-ই বা জানে।


প্রথম আলো থেকে নেয়া ছবি।

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০০৬

চার এবং পাঁচের কাল্পনিক হিসাব-


কাল সারাদিনে আমি ২ টা সেদ্ধ ডিম খেয়েছি। দুপুরে আর রাতে মিলে মুরগীর ঠ্যাং খেয়েছি মিনিমাম ৪ পিস। ৫ নম্বরটার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম, কিন্তু খাওয়া হয় নি।

৯/১১ হামলায় মোট মারা গেছিলো ২৯৭৬ জন মানুষ।
ইরাকে মারা যাওয়া আমেরিকান সৈন্যের সংখ্যা মে মাসের ২ তারিখে ছিল ১৫৮৬। এখন কি সংখ্যাটা ২০০০ পেরিয়েছে?
একটা ওয়েবসাইট বলছে , একই যুদ্ধে সাধারন ইরাকি নাগরিক মরেছে, ৪৩১৫৪ জন। এটা সর্বনিম্ন সংখ্যা।

ছোটবেলায় টিভিতে দেখতাম, প্রতি মিনিটে বাংলাদেশে জন্মায় ৪ টি শিশু। কেউ কি জানে কতজন মরে? হয়ত মিনিটে ১ জন। বা, ঘন্টায় ২ জন।
শিশু নয়, সব মিলিয়ে কতজন মানুষ মারা যায় প্রতিদিন বাংলাদেশে? ২০০ জন, বা ৪০০ জন? কে জানে!
কতজন দূর্ঘটনায় মরে, তাও জানি না। হয়ত ১০০ জন।

চিকিৎসার অভাবে মরে কতজন? ৭০? নাকি ৮০?
আচ্ছা, চিকিৎসার জন্যে এম্বুলেন্স এ হাসপাতালে যেতে যেতে মারা যায় কজন? রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়তে পারে এম্বুলেন্স, অথবা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর যাবার মতন অতি গুরুত্বপূর্ণ কোন কারনে হয়ত তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতে পারে। পারে না?

আচ্ছা, ধরে নিলাম, গতকাল এম্বুলেন্স এ মারা গেছে ৪ জন মূমুর্ষু মানুষ।
৪ , সংখ্যাটা ৪ ই। কিন্তু যদি ৫ জন মারা যেত , তাহলেই বা কি হোত? কিছু কি আদৌ হোত?
পত্রিকায় হয়ত ৪ লেখা হতো না, বলা হতো, মারা গেছে ৫ জন। আর, সেই পাতায় চোখ বুলিয়ে ৪ এর বদলে আমি ৫ পড়তাম, চার এর বদলে পাঁচ। এইতো, ব্যস। আর কিছু না।

সত্যি বলতে কি, চারজন অথবা পাঁচজন মূমুর্ষু মানুষের জন্যে আমার মনে কোন হাহাকার জাগে না। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছালে তারা বেঁচে যেতে পারতো কিনা তাই বা কে ভাবে! আমি অন্তত ভাবি না।
লিখতে লিখতে আমার বরং মুরগীর ৫ নম্বর রসালো টুকরোটার জন্যে বড্ড দুঃখ হচ্ছে।
ইস, ৪ টা না খেয়ে কাল ৫ টা খেলেই পারতাম!

ছবি সূত্রঃ প্রথম আলো

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০০৬

প্রথম আলোয় লেখা।

আজকের প্রথম আলোর ছুটির দিনে -তে আমার আরো একটা লেখা ছাপা হলো। লোপামুদ্রাকে নিয়ে যেটা লিখেছিলাম- ভালোলাগায় লোপামুদ্রা।
পাওয়া যাবে এখানে

আর, বলতে ভুলে গেছিলাম, ছুটির দিনে-তে কদিন আগে আমার অন্য একটা লেখাও ছাপা হয়েছিল- অবশেষে আলেকজান্ডার কহিলা বিষাদে।
ওটা পাওয়া যাবে এখানে।

বেশ ফুরফুরে টাইপ একটা মজা লাগছে!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০০৬

রত্নভান্ডার-


এটাকে রত্নভান্ডার ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।
আজ সকালে ইউনি যাবার সময় স্টেশন থেকে বের হতেই একজন হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল। নিতান্ত অনাগ্রহে নিলাম সেটা, সবসময় যেটা করি। তাকিয়ে দেখি একটা বইয়ের দোকানের বিজ্ঞাপন। যে কোন বইয়ে আজ ওরা ২০% ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।
ক্লাশ শেষে তাই সেই দোকান খুঁজতে বের হলাম। জায়গামত যাবার আগেই পরিচিত আরেকটা বইয়ের দোকান দেখে অলসতায় পেয়ে বসলো, ঢুকে গেলাম সেটাতেই।
হাজার হাজার বই সেখানে, কিন্তু সবগুলোরই ভীষন দাম। এ দেশে এসে এই দামের কারনেই বই কেনার অভ্যাসটা একেবারেই চলে গেছে। প্রতিবারের মতই তাই বইয়ের গন্ধ নিয়েই সময় কাটাচ্ছিলাম। হাত দিয়ে ছুয়ে ছুয়ে দেখছিলাম।
চট করে আর্ট এন্ড কালচার সেকশনে গিয়ে দেখি এই বই! লিওনার্দো দা ভিন্সি- দি কমপ্লিট ওয়ার্কস! সাংঘাতিক ব্যাপার! যেন এক সিডিতে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ!
হাতে নিয়ে পাতা ওল্টালাম। ছোট ছোট নোটসহ লিওনার্দো-র আঁকা সবগুলা পেইন্টিং আর ড্রয়িং! মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! অবধারিতভাবে একদম শেষে গিয়ে দামটাও দেখে নিলাম। ত্রিশ ডলার! এখানে এসে সবাই ডলারের সাথে ৫০ দিয়ে গুণ দেয়। তারপরে ভিরমি খায়।
এই অভ্যাসটা সাউথ আফ্রিকায়ই ফেলে এসেছি আমি। এখানে এসে ৫০ দিয়ে গুণ দেই না আর। আমি করি কি, এরকম কিছু খরুচে শখ মেটানোর আগে মনকে বোঝাই, কিনিস না বাপ, কিনিস না, কতগুলা টাকা!
তবু মন না বুঝলে, চোখ বুজে সেটাকে ১৯ দিয়ে ভাগ দেই। হুম, তারমানে এই বইটা কিনতে হলে আমাকে মিনিমাম দেড়ঘন্টা এক্সট্রা কাজ করতে হবে।
তাই সই।
৩০ ডলারের বিনিময়ে এরকম সলোমনের গুপ্তধন হারায় কোন বোকা!


সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০০৬

ইউনিকোডে ব্লগাই যারা-


ইউনিকোডে যারা ব্লগিং করেন, তাদের একটা কমন প্ল্যাটফর্ম নেই বলে তারা নিজেরাও ঠিক বেশিরভাগ ইউনিকোড ব্লগের খোঁজ জানেন না৷ সুতরাং আমাদের ব্লগিংটা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে নিজেদের পরিচিতদের মধ্যেই৷
এসব কারণে ইউনিকোড ব্লগারদের জন্যে কমন একটা প্ল্যাটফর্ম করার চিন্তা মাথায় আসে৷ এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্যেই বানালাম এই বাংলা ইউনিকোড ব্লগ৷
কি আছে এখানে?
বাম পাশে আছে ব্লগরোল, সেখানে প্রায় সমস্ত বাংলা ইউনিকোড ব্লগের ঠিকানা আছে৷
কিন্তু তার চেয়ে জরুরি কথা হচ্ছে, প্রতিদিন যে ব্লগগুলো আপডেট হয়, সেই আপডেটেড ব্লগ তাদের পোষ্টের কিছু অংশ সহ অটোমেটিক্যালি এই ব্লগে চলে আসে৷
সুতরাং, যারা একটা পেজে এসে দেখতে চান যে আজ কোন কোন ব্লগ আপডেট হলো- তারা এখানে আসলেই সেই খোঁজ পেয়ে যাবেন৷ তারপর ইচ্ছেমতন চলে যেতে পারবেন পছন্দের ব্লগ বা আর্টিকেলে৷

লিংকটি আবারো দিলাম: http://banglaunicode.blogspot.com/
অথবা ক্লিক করুন এখানে: বাংলা ইউনিকোড ব্লগ
আমরা যারা ইউনিকোডে ব্লগাই- তাদের জন্যে এই ব্লগটা খুব কাজে লাগবে, এই আশাই করছি৷


শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০০৬

মায়ামি ভাইসঃ যত গর্জায় ততই কি বর্ষায়?


দেখতে গিয়েছিলাম লাগে রাহো মুন্নাভাই।
বড় পর্দায় হিন্দি ছবি দেখাটা আমার কাছে অপচয় বলে মনে হয়। কিন্তু এ ছবিটা আসতে না আসতেই অনেক প্রশংসা শোনা হয়ে গেছে। মংগলবারদিন পরিচিত কয়েকজন বন্ধুদের সবাই ফ্রি। একসাথে সবার এরকম কাজ ছাড়া দিন সহজে পাওয়া যায় না। একটা ছবি দেখতে যাব প্রস্তাব করলাম। ছবির নাম ভেবে বের করার আগেই দলের রমণীরা প্রস্তাব দিলেন- লাগে রাহো মুন্না ভাই দেখতে হবে, হবেই। সুতরাং ঢেঁকি গেলো।
গিললাম। খুব তাড়াহুড়ো করে গেলাম সিনেমা হলে, দাঁড়ালাম চীনের প্রাচীরের মতন লম্বা একটা লাইনের পেছনে। সে প্রাচীর বেয়ে উঠে যখন কাউন্টারের সামনে যাবার সৌভাগ্য হল- জানা গেল- টিকেট নেই।
অন্য একটা হিন্দি কি যেন চলছে। সবাই সেটাই দেখতে চাইল, আমি রাজি হলাম না। ( হেলায় হারিওনা সুযোগ! ) চট করে বললাম মায়ামি ভাইস দেখব।
একটাও ট্রেলার দেখিনি, কেমন হয়েছে কিছুই জানি না, তবু পুরনো মায়ামি ভাইসের নাম ডাকের অপর ভরসা করে এই নাম প্রস্তাব করলাম।
খানিকটা গাইগুইয়ের পরে সবাই রাজি হল। ঢুকলাম গিয়ে হলে। এবং আবিষ্কার করলাম, আমরা সাতজনের দলটা বাদে পুরো হলে দর্শকের সংখ্যা দুই!
সেটার কারনও বোঝা গেল খানিক পরেই। ছবি শুরু হবার আধা ঘন্টা বাদেও কাহিনির কোন সুতো খুঁজে পেলাম না। শুরুতেই মনে হয়েছিল দুম করে কোন একটা ঘটনার মাঝ থেকে সিনেমা শুরু হয়েছে।
আলেক্সাজান্ডারে কলিন ফেরেল কে একেবারেই ভাল লাগে নি। এখানে বেশ চমৎকার মানিয়ে গেছে। লম্বা চুলে, জটিল একটা সানগ্লাসে কাউবয় ডিটেকটিভ। জেমি ফক্সকেও বরাবরই ভাল লাগে। এখানেও তাই। কিন্তু এইটুকুই।
বেশ কিছু দেখবার মতন বিচ্ছিন্ন মারামারি রয়েছে। নিঃশ্বাস আটকানো কিছু লাভ-মেকিং। আর ছবির প্রতিটি চরিত্রের কঠিন ভাব। এ সবই দেখার মতন। এবং এইটুকুই সব। বলবার মতন তেমন কিছু নেই।
পুরো মুভিটা দেখে যেটা মনে হল, এডিটর হয়ত ভুল করে ছবির চটকদার দৃশ্যগুলো রাখতে গিয়ে মুল কাহিনিগুলোই কেঁটে ফেলে দিয়েছে।
একদম শেষের গোলাগুলির দৃশ্যটায় একটু অবাক হলাম। হঠাৎ করেই মনে হল, ক্যামেরা বদলে গেছে। পুরো দৃশ্যটাকে হোম-মেইড কোন ভিডিও বলে মনে হলো। সিনেমাসুলভ কোন রঙ বা গ্রাফিক্স নেই ওখানে। আমাদের বিয়ে বা জন্মদিনে যেরকম ভিডিও কোয়ালিটি দেখা যায়, একদম সেরকম।
বাস্তবতার ছোঁয়া দিতে এরকম করা হয়েছে কি না কে জানে। উদ্দেশ্য যাই হোক, সেটা মাঠে মারা গেছে একদম।
সব মিলিয়ে কেমন লাগলো? আমাদের আশরাফুল একবার ইংল্যান্ডকে পিটিয়ে ৫২ বলে ৯৪ করেছিল। যতক্ষন ক্রিজে ছিল, মনে হয়েছে পুরোটা সময় জুড়ে যেন হাইলাইটস দেখছি। ( না না, হাসির কিছু নেই, আমাদের আছেই ওই দু একটা খড়কুটো, ওগুলোই আঁকড়ে ধরি মাঝে মাঝে!)
মায়ামি ভাইস দেখে মনে হয়েছে, পুরোটা সময় যেন একটা দুর্দান্ত ছবির ট্রেলার দেখলাম বসে বসে। কিন্তু হায়, পুর্ণাঙ্গ মুভিটাকে খুঁজে পেলাম না আর।

ছবি সুত্রঃ ইয়াহু মুভিজ।

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০০৬

মেঘদল


গতকাল এখানে যাচ্ছেতাই ওয়েদার ছিল।
সারাদিন কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি। দেশ ছেড়ে আসার সাথে সাথে বৃষ্টির প্রতি ভাললাগাও ফেলে এসেছি নির্ঘাৎ। এখানে বৃষ্টি একেবারেই দেশের মত নয়। একদমই আলাদা, দেশের বৃষ্টির মতন আকাশ থেকে ভালবাসা ঝরে পড়ে না এখানে।
তার মধ্যে কাল ছিল ড্রাইভিং টেষ্ট। কাগজ কলম নিয়ে বসে থাকা কোন মাষ্টারনীকে পাশে নিয়ে গাড়ি চালাতে ভাল লাগে না। তার ওপর সে যদি শকুনের মত চোখ নিয়ে শুধু আমার ভুল ধরার জন্যে বসে থাকে!
এত কিছুর মধ্যেও হঠাৎ চোখ পড়লো আকাশের দিকে। মেঘেরা যেন অনেক নীচে নেমে এসেছে, ঐ দালানগুলোর মাথায় চেপে বসেছে যেন।
এটা অতি অবশ্যই মেঘ নয়। ভারি কুয়াশা হতে পারে। বা মেঘের ছোট ভাই- ঘন জলীয় বাষ্প। তবু ভাবতে মজা লাগছিল মেঘেরা হঠাৎ আমাদের খুব কাছে চলে এসেছে- এত কাছে যে, লিফটের বোতাম চাপলেই চড়ে বসা যায় তাদের উপর।

মোবাইল ক্যামটাকে কালই প্রথম প্রয়োজনীয় মনে হলো।

মিরুজিন নদীটির তীরে-



কোন কোন মানুষ থাকেন পাহাড়ের মতন।

সাগর বয়ে যায়, দিনান্তে ঘরে ফেরে পাখি, বাতাসের সাথে অবিচল সখ্যতায় কখনো কখনো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে আজন্ম স্থির থাকবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গাছেরা। শুধু পাহাড়ই যেন একঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে |

সেই পাহাড়ের পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটা রাস্তাটুকু প্রতিদিন নিশ্চিত নির্ভরতায় পার হয়ে যাই হেঁটে। ছায়াটুকু গায়ে মেখে নিই, দমকা হাওয়ায় নির্ভয়ে পথ চলার সুবিধাটুকুও।

তবু কোন এক দুঃস্বপ্নের রাতে ছোট কুটীরে জ্বলতে থাকা মাটির পিদিম নিবে যায় ঝড়ো বাতাসে। শঙ্কায় কেঁপে ওঠে মন। এবং সত্যিই চোখ মেলে দেখে, পাহাড়টা নেই আর সেখানে।

বুকের কাছ থেকে বয়ে চলে নোনা নদীর জল।
পাবে না জেনেও বাতাসে কান পাতে হৃদয়- যদি ভেসে আসে তবু ইলেক্ট্রার গান !
---------------------

প্রিয় কবি, আপনাকে বিদায় বলবার স্পর্ধা আমার নেই। আপনি শিখিয়েছিলেন, স্বাধীনতা মানে রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
পৃথিবী জানুক, আমাদের কাছে কবিতা মানে শামসুর রাহমান

--------------
বাংলালাইভে মুল লিংক


বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০০৬

ব্লগ দিবস

৩১ অগাস্ট ব্লগ দিবস গেল।
সবাই তাঁদের পছন্দের পাঁচটা ব্লগের নাম দিয়েছিল সেদিন।
একটু দেরি করে আমিও দিলাম। যেগুলোর নাম মনে আসবে ঠিক পাঁচটা হলে থেমে যাব।

-হারে রেরে রেরে
-মেঘদল
-স্লোগান দিতে গিয়ে
- বিবর্ণ আকাশ এবং আমি
- জিকোবাজি

আরো অনেক বাকি থেকে গেল। থাক, ওগুলোতো আছেই জায়গামতন। এখানে এই পাঁচটাই থাক।

আপন দেশে -

কদিন খুব কোলাহলে ছিলাম।
কোলাহল ভালো লাগে না এমনটা নয়। একটা টান আছে ব্যাপারটায়। ভিড়ের মাঝে নিজেকে ঠেলে দেবার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে।
কিন্তু সেই আনন্দ হঠাৎ করে আতিশয্য মনে হলো। তাই, কিছুদিন নির্জন বাসের জন্যে ফিরে এলাম এখানে।
নিজেকে নিজেই উইশ করছি- বিরতির পরবর্তী যাত্রা শুভ হোক।
সুন্দর হোক।

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৬

মহামতি আকামেরডিসঃ প্রত্যাবর্তন ও ইউরেকা বিষয়ক জটিলতা


মাথার পাশের ক্যাটক্যাটে কমলা রঙের আলোগুলো হঠাৎ জ্বলে উঠলো। তিনটা জ্বলার কথা, জ্বললো দুইটা। একটা মনে হয় কোন কারণে ফিউজ হয়ে গেছে। একটু পরেই টাইম ক্যাপসুলের ঢাকনা দুইটা ক্যাচক্যাচ শব্দে খুলে গেলো। ধোলাই খালে বানানো জিনিস- কোনই ভরসা নাই- মাত্র কয়েকশ বছরেই মরিচা ধরে গেছে!

দরোজা খুলতেই তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি তারস্বরে চিৎকার করতে লাগলো, " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হয়ে গেছে। ও ওস্তাদ ওঠেন।'
কিন্তু মহামতি আকামেরডিস উঠবার কোন লক্ষনই দেখালেন না। তিনি গরিলার মত বিশাল হা করে, আ-আ-আ শব্দ করে একটা হাই তুলেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।
তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দিলো- " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হইয়া গেছে! আরে ও ওস্তাদ- ওঠেন না! সময় হইয়া গেছে তো!'
কিন্তু তবুও মহামতি আকামেরডিসের কাছ থেকে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে হঠাৎ ঘড়িটা ঘোঁতঘোঁত করে তীব্র স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো- " ধুৎ, তোর ওস্তাদের খ্যাতা পুড়ি! ওঠ হারামজাদা! ওঠ!'

মহামতি আকারমেডিস ধড়মড় করে উঠে বসলেন! উফ, কি ভয়ংকর এক দু:স্বপ্নই না দেখছিলেন তিনি। মিশমিশে কালো কিছু মিচকা বদমাশ তার আজানুলম্বিত দাঁড়ি ধরে টানাটানি করছে!
টাইম ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে তিনি চারপাশে তাকালেন। প্রায় অন্ধকার একটা ঘর। কোথায় এসে নামলেন তিনি? কয়েকশ বছর আগে টাইম ক্যাপসুলে ওঠার সময় সেট করেছিলেন, যেন ২০০৬ সালে এই ছোট্ট ব-দ্বিপের সবচে ক্ষমতাবান ব্যাক্তির বাসভবনে এসে নামেন। কিন্তু বাড়ির অবস্থা দেখে তো সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না! হতদরি˜্র অবস্থা। দেয়াল হাতড়ে দেখলেন বেশ কিছু সুইচ আছে, কিন্তু কোনটাই কেন জানি কাজ করছে না!
নিজের থলথলে ভুঁড়িটা ঘ্যাস ঘ্যাস করে চুলকাতে গিয়ে আকামেরডিস হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, তার গায়ে কাপড় চোপড়ের নাম গন্ধও নেই! একেবারে নেংটা বাবা যাকে বলে!
ব্যাপার কি? এমুন তো কথা ছেলুনি! অন্তত নিজের কিসমিস ব্র্যান্ডের লুংগিখান না পরে তো তিনি কোথাও যান না!
আহা বড়ই প্রিয় লুংগি তার। মাঝে মাঝে রাজার সাথে দেখা করতে গেলেও সেই লুংগিখানই মালকোচা মেরে তার উপর পাতলুন চাপিয়ে চলে যেতেন। সারাজীবন এর কল্যানেই তো একটাও আন্ডারওয়্যার কিনতে হলো না!

চি›তায় পড়ে গেলে মহামতি আকামেরডিসের পেট চুলকানোর মাত্রা বেড়ে যায়। লুংগিটা যে কোথায় হারালেন সেটা ভাবতে ভাবতে তিনি দরজা খুলে পাশের রুমে ঢুকতেই দেখেন সেইটা একটা বাথরুম! আর কিম আশ্চর্যম, সেইখানে একটা বাথটাবও সেট করা। আকামেরডিসের মন খুশিতে ধেই ধেই করে উঠলো। পানি ভতির্ করে তিনি মনের আনন্দে জলকেলি করতে লাগলেন।
কিন্তু মাথার মধ্যে থেকে থেকেই সেই এক চিন্তা, লুংগিখান গেলো কই??

ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মনে পড়লো- সেদিন টাইম ক্যাপসুলে চড়বার আগে তিনি নদীর ধারে গেছিলেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে। কি›তু সকালবেলা বি(এ)ডি ফুডসের চানাচুর খেয়ে তার পেটটা ভুডভুড করছিল। হঠাৎ প্রকৃতি তাকে এমন জোরেই ডাক দিলো যে তিনি খেই হারিয়ে লুংগি খুলে রেখে পাশের ঝোপে ঢুকে গেলেন। কার্য সমাধার পরে আনমনে হাটতে হাটতে কখন যে লুংগি ছাড়াই বাড়ি পৌছে গেছেন নিজেও টের পান নাই!

হঠাৎ করে নিজের হারানো লুংগি ফিরে পাবার আনন্দে মহামতি আকামেরডিস ¯থান কাল ভুলে এক লাফে বাথটাব ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর "ইউরেকা, ইউরেকা' বলে চিৎকার করতে করতে বাড়ি হতে বের হয়ে এলেন!

------------------

বাড়ির চারপাশে ড্যাবড্যাব বাহিনি কালো বন্দুক উঁচা করে দাঁড়িয়ে আছে। ইংরাজি ভাইকে তারা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে। যেকোনো সময় সে আত্মসমর্পণ করবে।
ড্যাবড্যাব বাহিনির প্রধান জনাব আজরাইল আলি, যিনি কানে একটু কম শোনেন, সারারাত জাগার ক্লান্তিতে ঘুমে ঢুলু ঢুলু প্রায়।
তক্ষুনি বাড়ি হতে হাঁটু সমান দাঁড়িওয়ালা এক লোক চিৎকার করতে করতে ছুটে আসলো। দাঁড়ি দেখে কোন সন্দেহই রইলোনা যে এটাই তাদের বহু প্রতীক্ষিত ইংরাজি ভাই।
আজরাইল আলি হুকুম দিলেন, ধর ব্যাটারে!
ড্যাবড্যাব বাহিনির সদস্যরা সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়লো। কিন্তু দাঁড়ির আড়ালে তার হাত-পা খুঁজে না পেয়ে শেষে দাঁড়ি ধরেই তাকে আটকালো।
মহামতি আকামেরডিস তখনো বলছেন, ইউরেকা ইউরেকা! কানে খাটো আজরাইল আলী শুনলেন, জুলেখা, ও জুলেখা! তিনি চমকে উঠলেন! ইংরাজি ভাইয়ের মুখে তার বউয়ের নাম কেন?? কয়দিন ধরেই বউকে সন্দেহ করছিলেন, তবে কি তার বউ এই ইংরাজি ভাইয়ের সাথেই ...।
তিনি আকামেরডিসের কাছে গিয়া হুংকার করলেন, হারামজাদা, আমার বউরে তুই চিনস কেমনে?
মহামতি আকামেরডিস বাংলা না বুঝে আবারো বললেন, ইউরেকা ইউরেকা!
এইবার এই জুলেখা ডাক সোজা গিয়া আজরাইলের বুকে ধাককা মারলো! তিনি হাতের ডান্ডা দিয়া মহামতি আকামেরডিসের পশ্চাদ্দেশে মারলেন দুই বাড়ি!
ব্যাথার চোটে মহামতি আর্তচিৎকার করে উঠলেন, " মার ডালা!' ( বলা বাহুল্য- ভবিষ্যৎ দর্শনের মেশিনে তিনি সারাক্ষনই হিন্দি ছবি দেখতেন।মিস ওয়ার্লড দিলধরিয়া খাই- এর এই গানটি তার বিশেষ প্রিয় গান!)
কিন্তু হিতে বিপরীত। আজরাইল এবারে মার ডালা-রে শুনলেন বিমান-বালা! তিনি চমকে উঠলেন, সর্বনাশ! এতো দেখি বউয়ের চাকুরির খবরও জানে!
তেড়ে ফুঁড়ে তিনি মহামতি আকামেরডিসরে খানিক্ষন দুমাদ্দুম পেটালেন!
অত:পর, দু:স্বপ্ন সত্য করে আজরাইলের নিদের্শে ড্যাবড্যাব বাহিনির লোকেরা মহামতি আকামেরডিসের দাঁড়ি ধরে তাঁকে চ্যাংদোলা করতে করতে রাজার বাড়ি- অর্থাৎ রংগভবনের দিকে নিয়ে চললো।

এদিকে-
ইংরাজি ভাই তার টাকে হাত বুলাতে বুলাতে ফোনের নম্বর ঘুরিয়ে তার বন্ধু জর্জ ঠুসের বাড়ি ব্ল্যাক হাউসে ডায়াল করতে লাগলেন। খবর পেয়েছেন, খানসামা বিন হ্যাভেন নাকি ইদানিং সেখানেই আস্তানা গেঁড়েছেন! তাকে খবরটা জানানো দরকার।



(ক্রমশ: হইলেও হইতে পারে। তবে চান্স কম।)
---------------------------

উৎসর্গ :: মুখফোড়রাসেল ( অষ্টডটু)- বাংলা সাহিত্যের এই বিশেষ শাখায় যাদের নিদির্ধায় আকামেরডিসের সম্মান দেয়া যায় ! :-))

বাংলাদেশের জন্যে গানঃ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ


Bangla Desh, Bangla Desh
Where so many people are dying fast
And it sure looks like a mess
I've never seen such distress
Now won't you lend your hand and understand
Relieve the people of Bangla Desh

খুব চেনা গান। কমবেশি সবাই শুনেছি।
শুভ-র একটা পোষ্ট পড়ে অসাধারন লাগলো- সব যুদ্ধ স্টেনগান দিয়ে হয় না
আমিও ভাবি- অস্ত্র হাতে যারা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন, শুধু তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা নন। সে সময় যাঁদের বুকের ভেতরেই বাংলাদেশের জন্যে জন্ম নিয়েছিলো বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসা- তাঁরা সবাই-ই মুক্তিযোদ্ধা।
আমি তাই বলি- রবি শংকরও আসলে মুক্তিযোদ্ধা-ই। অথবা আমাদের পরম ভালোবাসার জর্জ হ্যারিসন।
'৭১ -এ নিউইয়কের্র ম্যাডিসন স্কয়ারে এই দু'জনের প্রচেষ্টাতেই হয়েছিলো - কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
প্রস্তাবটা করেছিলেন রবিশংকর। বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের কাছে বলেছিলেন, দেখো, বাংলাদেশে একটা অন্যায় গণহত্যা হয়েছে। এখন চলেছে যুদ্ধ। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। আমাদের কিছু একটা করা উচিৎ।
বন্ধু সায় দিয়েছিলেন সে আহবানে। গানের লিরিকেই আছে সেটা।

My friend came to me, with sadness in his eyes
He told me that he wanted help
Before his country dies
Although I couldn't feel the pain, I knew I had to try
Now I'm asking all of you
To help us save some lives


সেদিন পারফর্ম করেছিলেন জর্জ হ্যারিসন, বিটলসের রিংগো স্টার, বাডফিংগার। আরো ছিলেন লিও রাসেল, এবং বিলি প্রেস্টন। প্রিয় রবি শংকর বাজিয়েছিলেন - বাংলা ধুন। সাথে ছিলেন আলী আকবার খান ও আল্লা রাখা।

নেটে খুঁজতে গিয়ে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামেই একটা অসাধারন ওয়েবসাইট পেয়ে যাই। সেই ওয়েবসাইট দেখে আমি মুগ্ধ।
রবিশংকর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিংগো স্টার, লিও রাসেল এবং বিলি প্রেস্টন- প্রত্যেকের নিজের স্বরে ছোট্ট ভূমিকা শোনা যাবে সেখানে।
এমনকি একটা স্পষ্ট ট্রেইলারও দেখা যাবে।

---------------------------------------
রক্তসম্পকের্র না হলেও অনেকেই আত্মার খুব কাছের মানুষ হয়ে যান। সেরকমই একজন - অরিজিৎদা - আমাকে সেদিন জোয়ান বায়েজ এর একটা গান পাঠালেন। সং অব বাংলাদেশ
এ গানের লিরিকটাও কাছাকাছি ।

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commmands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which is to sacrifice a people for a land
Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh

----------------
নিজের দেশকে ভালোবাসি সবাই।
তুলনায় অন্যদেশের জন্যে ভালোবাসাটা একটা বাহুল্যই বলা চলে। হয়ত নেহাৎই মানবতার খাতিরে, অথবা কর্তব্যবোধের জন্যেই এই সব বিখ্যাত মানুষেরা সেদিন বাংলাদেশের গান গেয়েছিলেন।
তবু, ভাবতে ভালো লাগে- ঐ গান গাইবার মুহুর্তটুকুতে হলেও- একটু সময়ের জন্যে - তাঁরা বাংলাদেশকে ভালোবেসেছিলেন।
যেমনটা আমি ভালোবাসি- আমার বাংলা মা-কে।



----------------
ছবি কৃতজ্ঞতা: কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

ভাবছো তুমি সুতোর টানে নাচবে সবাই


... ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই-
ভাবছো লোকে দিচ্ছে তোমায় হাততালিটাই।
ভাবছো তুমি বাঁচবে তুমি একার চালে-
ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে। ..

সুমনের গান
ভেবে দেখলাম, ঘুরে ফিরে আমার একাকীতে¡র সঙ্গী আসলে গানেরাই। একটা সময় বই আর গানে কম্পিটিশান ছিলো। কিন্তু এখন হাতের কাছে বই অপ্রতুল। তাই , সিনেমাকে খুব অল্প খানিকটা ভাগ দিয়ে পুরো সাম্রাজ্যটা প্রায় একাই দখল করে নিয়েছে প্রিয় গানেরা

নিজের গানের গলা খুব খারাপ। আমার কর্কশ কবিতাগুলো ছাড়াও হঠাৎ করে মাঝে মাঝেই আনমনে যখন গান গুনগুন করি, কাকের কথা আরও বেশি মনে পড়ে যায়।
অবশ্য কাক গান গায় কিনা জানা নেই, তবে আমি গাই। প্রায়শই, গুন গুন করে, অথবা হেঁড়ে গলায়।

আজ শুনছিলাম সুমনের এই গানটা। আর গুন গুন করছিলাম। একটা সময়ে একটু মনোযোগ দিতেই কথাগুলো খুব আকৃষ্ট করলো।
ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই - । বেশ অদ্ভূত একটা কথা। কিন্তু ভেবে দেখলাম আমরা প্রায় সবাইই ঠিক এরকমটাই আশা করি। পরের লাইনগুলো আরো অদ্ভুত! ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে!

চট করে মনে হলো- সুমন কি এই গানটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন? নইলে গাইতে গাইতে আমার কেন মনে হলো, গানটা আসলে নিজের চোখে চোখ ফেলে গাওয়া উচিৎ!

ভাবছো তুমি এই তো জীবন দিব্যি আছো
নাচাতে চাও দেখাও নিজে কেমন নাচো।
নাচছো তুমি নিজেই নিজের সূতোর টানে-
হয়তো জীবন তোমায় নিয়ে খেলতে জানে।

আমাদের সমাজ বা ব্যাক্তিজীবনের, আরও ভালো করে বললে ব্লগের বাইরের জীবনের অস্থিরতার খানিকটা ছোঁয়া এই ব্লগেও টের পাচ্ছি। বড় বেশি অসহনশীল হয়ে যাচ্ছি আমরা, দিনে দিনে।
এই গানটা আজ ব্লগের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।
পারলে শুনে নিবেন সবাই। হাতের কাছে আয়না পেলে ভালো। না পেলেও সমস্যা নেই। চোখ বুজেও নিজের চোখে চোখ ফেলা যায়।


ছবি নিয়ে কিছু কথা: বাচ্চারা নতুন খেলনা পেলে যা করে, আমার এখন ছবি আঁকার নতুন সফটওয়্যারটা পেয়ে ঠিক সেই অবস্থা। দুমদাম ছবি এঁকে যাচ্ছি। পঁচা হোক কি ভালো, কোনায় আবার নিজের নামও লিখে রাখছি! :-))
খুব আদর করে এই ছবিটার নাম দিয়েছি- আয়না।
আবারো গুনগুন-
ভাবছো তুমি ভাবনা নিয়ে কোথায় যাবে , ভয় পেওনা জীবন তোমায় পথ দেখাবে।

ফাইভ হান্ড্রেড মাইলস এওয়ে ফ্রম হোম-


If you missed the train I'm on
You will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles.

... গান শুনি, তার সবই বাংলা গান। ইংলিশ গান খুব বেশি শোনা হয় না। অল্প কিছু, বাছাই করা। তার বেশিরভাগই পরিচিত, সবাই শোনে বা শুনেছে- এরকম।
ফাইভ হানড্রেড মাইলস- এই গানটা খুব ভালো লাগে।
অঞ্জন দত্তের একটা গান আছে- মিষ্টার হল।
... কানে বাজে এখনো পুরোনো সে পিয়ানোর সুরটা, নিকোটিনে হলদে হয়ে যাওয়া দশটা আঙুল... সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে একশ মাইলের গানটা....
ওখানেই এটা প্রথম শোনা।
মূল গানটা অনেক বেশি স্লো, অঞ্জনেরটার চেয়ে।
এখন আমার কাছে মূল গানটাই আছে, অঞ্জনেরটা হারিয়ে গেছে- তবু, ওটাই এখনো ভালো লাগে, মনে মনে।

----------------------

And the land that I once loved is not my own
Lord I'm one, Lord I'm two,
Lord I'm three, Lord I'm four
Lord I'm five hundred miles away from home

...। দেশে কবে যাবো তার ঠিক নাই।
অনেক রাতে কাজ থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে, কখনো ট্রাফিক লাইটে থেমে গিয়ে- নিজের মনে গুনগুন করে উঠি- লর্ড আয়্যাম ফাইভ হানড্রেড মাইলস অ্যাওয়ে ফ্রম হোম- ।

প্রিয় মানুষদের প্রতিদিন নতুন করে কথা দেই। এই জুনে আসবোই... জুন পেরিয়ে গেলে - এই ডিসেম্বরে- নিশ্চিত।
একসময় ডিসেম্বর চলে যায়। তাতে কি? ফেব্রুয়ারী আছে না?
... যাবো কি না জানি না, তবু, ভেবে রাখি। যাবো নিশ্চয়ই - ফেব্রুয়ারিতে - দেশে।

Someday soon the tide'll turn and I'll be free
I'll be free, I'll be free
I'll come home to my country





ছবি : কংকাবতীর তোলা, জায়গা- সম্ভবত ময়মনসিংহ ।

বেসিক ইন্সটিক্টঃ ১ এবং ২


প্রথমটা দেখেছিলাম লুকিয়েলুকিয়ে। তখনো যৌনতা বিষয়ক কিশোরসুলভ চিত্তচাঞ্চল্য বিদ্যমান আমাদের মধ্যে। মানুষের বেসিক ইনস্টিংক্ট কি এটাই নাকি নিষ্ঠুরতা- এরকম কোন জটিলতর ভাবনা তখনো আমাদের কাছে অকারন।
লুকিয়ে দেখা আরো অনেক কিছুর লিষ্টে বেসিক ইন্সটিংক্ট নামক সিনেমাটিও ছিলো। মাহেন্দ্রক্ষণে যখন শ্যারোন স্টোন তার পা বদলালেন, সামনে বসে থাকা ডিটেকটিভদের পেছনে তখন আমরাও ছিলাম, আমরা-কিছু উদভ্রান্ত কিশোর, গলায় আটকানো গন্ধম ফলের অস্তিত¡ অস্বিকারের চেষ্টায় বারে বারে ঢোক গিলছি সবাই।
আটকানো দরজার এপাশে, কমানো ভলিউমে, একসাথে বসে দেখতে দেখতেও নানা দৃশ্যে নিজেদের মাইকেল ডগলাস ভেবে ফেলবার মত স্বার্থপর নি:সঙ্গতায় আমরা কমবেশি সবাই আক্রান্ত। শ্যারোন স্টোনের তীব্রতায় ডুবতে ডুবতে আমরা নিষিদ্ধ গন্ধ পাই। সেই গন্ধ আমাকে বহু বছর আগে কেনা আমাদের ছোট্ট-নতুন-কাঠের শো-কেসটির কথা মনে পড়িয়ে দেয়। কি অদ্ভুত ঝাঁঝালো একটা গন্ধ ছিলো তাতে, আর কি সুন্দরই না সেই বাদামী রঙের পলিশ করা গা তার, শ্যারোন স্টোনের মতই।

দ্বিতীয় পর্ব দেখলাম গতকাল।
অনাবশ্যক জটিলতা কাহিনিতে। সেই জম্পেশ সাইকো-থ্রিলার ভাবটি অনুপস্থিত সেখানে, বরং খানিকটা যেন সাই-ফাই। যেসব ছবির শেষে পাদটীকা আকারে এতক্ষণ দেখে আসা নানা দৃশ্যের ব্যাখ্যা সংযোজন করা হয়, তাদের আমার পছন্দ নয়। অনেক বেশি পৌনপুনিকতায় বৃত্তাবদ্ধ এবারের পর্ব। খানিকটা নতুনত¡ বোধহয় হতে পারে মানসিক আধিপত্য ছড়িয়ে এমকি খুনও করিয়ে ফেলবার আইডিয়াটুকু।
তুলনায় না গিয়েও শুধু একক মুভি হিসেবেও ভালো লাগেনি বলা চলে।
দরোজা না আটকে অথবা ভলিউম না কমানো একটা কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে। অথবা হয়তো ঢোক না গিলেও নিজের অ্যাডামস অ্যাপেলের অস্তিত¡ খালি চোখেই দেখতে পাওয়াটা। কিংবা, পাংশুটে পলিশের সেই পুরোনো শো-কেসও হতে পারে, সময়ের সাথে সাথে ক্রমশ বুড়োটে হয়ে গেছে সে, যেমনটা হয়েছেন শ্যারোন স্টোন!


--------------

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৭, ২০০৬

... অবশেষে আলেকজান্ডার কহিলা বিষাদে ...


ইতিহাসের সন-তারিখ মনে থাকেনা, রাখার প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট অভাব চিরকাল আছে আমার মধ্যে। তবে ঘটনাগুলো প্রায়শই মনে থেকে যায় গল্পের মত করে।
সেইসব গল্প হাতড়েও কোথাও যখন পেলাম না- আলেকজান্ডারের বিজয়রথ আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে এসেই পিছন ফিরেছিলো- মুভিতে সেটা দেখে তাই খানিকটা পুলকিত হলাম।
এই সিনেমাটিকেই সর্বং সত্য বলে ভাবার কোন কারন নেই, ভাবছিও না, কিন্তু সত্যের কাছাকাছি কোন জায়গার বলে ভাবতে ভালো লাগছিলো শুরু থেকেই।
মহাবীর জাতীয় মানুষদের নিয়ে ছোটবেলা থেকে শুনে আসা কল্পকথাগুলো শেষমেষ তাদের মানুষের সীমানা থেকে খানিকটা উপরে তুলে ছেড়ে দেয়। আমাদের ছা-পোষা দূর্বল মানব-মনের মাধ্যাকর্ষন শক্তির ধরাছেঁায়ার বাইরেই থেকে যান তাঁরা। সা¤প্রতিক কুড়িয়ে পাওয়া প্রগতিশীলতার ব্যাজ বুকে আটকে সিনেমায় বাস্তবতার ছোঁয়া খুঁজে বেড়ালেও - আমরা আসলে সেই মহাবীরদের মধ্যে এখনো মানুষ নয়, কোন একজন সুপারম্যানকেই দেখতে চাই।

মনের সেই চাওয়ার সাথে সঙ্গতি রেখে বালক আলেকজান্ডার যখন কারো পোষ না মানা ঘোড়ার পিঠে চেপে দাপিয়ে বেড়ালেন, অথবা শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের কাছে ব্যক্ত করলেন পৃথিবী জয়ের বাসনা- অবাক হইনি। তবে হোঁচট খেয়েছি- অবশ্যই- যুবক আলেজান্ডারের দৃষ্টি অনুসরণ করে। মেসাডোনিয়া কিংবা ব্যাবিলনের লাস্যময়ীদের ছেড়ে তিনি যখন প্রায়শই চোখে-কাজল-পরা কিছু অর্ধযুবকের দিকে চোখ ফেরান- অনভ্যস্ত মন খানিকটা থমকে গিয়েছিলো বটে। সেটা বিশাল একটা ধাককায় পরিণত হয়- আলোআঁধারীর কোন এক রাতে সবচে' গভীর কাজল চোখের ছেলেটিকে নিয়ে যখন নগ্ন আলেকজান্ডার তার বিছানায় গেলেন।

-------------------------------------------------------------------------------
বিজ্ঞাপন বিরতি:
সৌজন্যে- ইশতিয়াক জিকো

-------------------------------------------------------------------------------

বীরসুলভ গাম্ভির্য দেখানো হয় নি খুব একটা। আবেগে কম্পমান, কখনো ক্রন্দনরত- অথবা, সাত বছর ধরে যুদ্ধরত বাড়িছাড়া সহযোদ্ধাদের উদ্দীপ্ত করতে মানবিক অনুভূতিগুলোর সহায়তা নিতে দেখে অবাক হলেও, অনেকটাই পরিচিত মানুষ করে তোলা হয়েছে।

ব্রেভ হার্ট অথবা প্যাট্রিয়টের মত যুদ্ধকালীন সৌন্দর্য খুব একটা নেই এখানে। ভারতীয় বৃষ্টি অথবা হাতির দাপটে তাঁর রাশ টেনে ধরাটাও অনেকটা যৌক্তিক মনে হয়েছে।
সেখানে, তীরের আঘাতে লুটিয়ে পড়া আলেকজান্ডারকে সঙ্গীরা বাঁচিয়ে তোলেন। সেটারই প্রতিদানে হয়ত- সেরে উঠে- অবসাদগ্রস্থ আলেকজান্ডার বিষাদমাখা গলায় ঘোষনা দেন, মেসাডোনিয়ার যোদ্ধারা, উই উইল গো ব্যাক হোম।

আকাশে উড়তে থাকা বাজপাখির চোখ দিয়ে যুদ্ধের ময়দান দেখানোর আইডিয়াটা দারুন। আলেকজান্ডার-বঁধূ রুকসানার নাচ ও। ঘটমান বর্তমানের সাথে প্যারালালি ফ্ল্যাশব্যাকে প্রাসঙ্গিক অতীত দেখানোটা মাঝে মাঝেই বিরক্তিকর ঠেকেছে।
আর, অ্যানজেলীনা জোলিকে মানিয়ে গেছে সুন্দর-ক্রুদ্ধ- আলেকজান্ডার মাতার ভূমিকায়।

একের পর এক দেশজয়ের পথে মাইলের পর মাইল বরফ ঢাকা পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে - শীতে কাঁপতে থাকা আলেকজান্ডারকে মনে পড়বে আরো কটা দিন। তবুও হয়তো আরেকবার দেখবার ইচ্ছা খুব একটা প্রবল হবে না- একেবারেই আলেকজান্ডারসুলভ নাহয়েউঠতেপারা এই সিনেমাটিকে।

রবিবার, জুলাই ৩০, ২০০৬

... আমরা যারা বাংলা বই পড়তে চাই...


পড়তে শেখার পর থেকেই পড়ি।
তারো আগে পড়তে জানতাম না। কি জানি, নইলে হয়তো তখন থেকেই পড়তাম। :-)
অল্প-বিস্তর বানান করতে শেখার পর থেকেই যন্ত্রনা শুরু করে দিয়েছিলাম। বাবার সাথে বের হলে রিকশা থামিয়ে দোকানের সাইনবোর্ড পড়তাম, অথবা দেয়াল লিখন।
এটা শুধু আমার কথা নয়। আসলে আমাদের সবার ছোটবেলাই প্রায় এরকম। মানে,যারা পড়তে আগ্রহী- তাদের কথা বলছি।
প্রতি বছর একটা করে "আমার বই'- সেই সাথে চলতে থাকতো ঠাকুমার ঝুলি, গোয়েন্দা রাজু, তিন গোয়েন্দা, কুয়াশা, মাসুদ রানা, ফেলুদা, টেনিদা, কাকাবাবু.. সময়ের সাথে সাথে উত্তরন। কোন এক ফঁাকে পড়েছি মণির পাহাড়। রাশিয়া থেকে ছাপা হওয়া বই। অসাধারণ।
তারপর একসময় বুদ্ধদেব সুনীল শীষর্েন্দু সমরেশ দুই হুমায়ুন নির্মলেন্দু সৈয়দ শামসুল আব্দুল মান্নান সৈয়দ, জীবনানন্দ রবীন˜্র মাইকেল, আরো বড় হলে নজরুল।
থামেনি তবু- ও হেনরী, সমারসেট ম্যাক্সিম এরিখ মারিয়া .... হেলাল হাফিজ রু˜্র আহমেদ ছফা ওয়ালীউল¬াহ মানিক ... এ যেন জীবনের সাথে বয়ে চলা এক রেলগাড়ি, থামবার নয়। নতুন নতুন স্টেশন ছঁুয়ে চলতে থাকে, থাকে, থাকেই। জীবন থেমে যাবার আগে থামবে না কখনো।

--------------

থামেনি। কিন্তু একটা বিরতি পড়েছে ঠিক।
দেশ ছাড়ার পর বাংলা বই পড়া হচ্ছেনা একদম। নেট খুঁজে অল্প দুয়েকটা পিডিএফ পাওয়া যায়। হাভাতের মত পড়ি সেগুলো। মেলবোনর্ের বাংগালী দোকানে বই আনে মাঝে মাঝে, বহুল প্রচলিত বই আনে ওরা শুধু, নিজের সাধ মেটানো যায় না সেসবে।
দেশ থেকে বই আনা? বহুৎ খরচান্ত ব্যাপার।

ওয়ার্লড বুক ফেয়ার নামে একটা সাইট বই নামাতে দিয়েছে। ইংরেজী বই। এরকম নানা রকম ওয়েবসাইট আছে, গুটেনবার্গ , রিডপি্রন্ট । মাঝে মাঝে বুভুক্ষের মতন সেখানে উঁকি দেই। বেশ কিছু ভালো বই পড়া হয়েছে ওদের কল্যানে।

কিন্তু,
ওখানে পড়তে পড়তেই মনে হলো। বাংলায় কেন নেই এরকম কিছু?
একটা আর্কাইভের মতন। যেখানে গেলে খুঁজে পাবো মনির পাহাড়, ওঙ্কার, লাল সালু অথবা পদ্মা নদীর মাঝি? আরো সব হাজার বছরের পি্রয় বই গুলো!
চলুন, খানিকটা ভাবনা চিন্তা করি।

---------------------------
একটা সাইট হতে পারে।
যেখানে বাংলা বইগুলো সব আর্কাইভ করা থাকবে। ওখানে গিয়ে বইয়ের নাম বা লেখক ধরে সার্চ করে পড়া যাবে পছন্দের বই।
ব্যাক্তিগত উদে্যাগে হবার দরকার নেই। ম্যানেজ করা ভীষন ঝামেলা। এগিয়ে আসতে হবে কোন প্রতিষ্ঠান কে।
প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে, সেটাকে লাভজনক হতে হবে। সুতরাং, এটা বিনামূলে্যর পে্রাজেক্ট হবে না। তার দরকারও নেই।
কারন,
অনলাইনে বই খুঁজবে তারাই যারা মূলত, দেশের বাইরে থাকে। দেশ থেকে বই কিনে আনানোয় অনেক খরচ। অনেক সাইট আছে, যারা বই বিক্রি করে। অর্ডার নিয়ে ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয় সেই বই।
কিন্তু এটাও বিশাল খরচান্ত ব্যাপার। এবং সময়ের।
সিস্টেমটা এমন হতে পারে- মেম্বরশিপ ফি থাকবে একটা। এবং সেই সাথে বই ভেদে পড়বার মূল্যও ধার্য্য করা হতে পারে। তবে সেটা খুব বেশি হবে না। যেন, ছাত্ররাও সেই খরচটা অক্লেশে দিতে পারে এরকম।
পে-পল বা এরকম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করা যেতে পারে পেমেন্ট সংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে।

ঐ বইয়ের লেখক, প্রকাশক বা স্বত¡াধিকারিরা পড়বার ফি-র একটা অংশ পেতে পারেন। সে রকম চুক্তি করলে লেখকেরা বা প্রকাশকেরাও লাভবান হবেন, আপত্তি করবেন বলে মনে হয় না।
অথবা,
সেই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও নিজেদের সাইটে রাখতে পারেন এরকম কোন ব্যবস্থা।

বইয়ের সফট কপি জোগাড় করা ঝামেলা বলে মনে হচ্ছে না। এখন সবাইই আগে কম্পিউটারে কম্পোজ করে বই ছাপায়। ঐ কম্পোজ কপিটাকে আর্কাইভে দেয়া যায়।
পুরোনো বইগুলোর জনে্য স্ক্যানিং সিস্টেমটাকে কাজে লাগানো যায়।
অনলাইন ব্যবসায়ীদের জনে্য এটা বিশাল লাভজনক একটা পে্রাজেক্ট হতে পারে।
আর বইপে্রমীদের জনে্য হতে পারে ভীষন আনন্দের একটা ব্যাপার।

আর্কাইভিংয়ের একটা চমৎকার উদাহরন হতে পারে বইপাড়া । চমৎকার এবং অনুসরণযোগ্য।
--------------------

আমরা আরো কিছু ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে পারি- যেমন,
আগ্রহী কোন উদে্যাক্তাকে খুঁজে বের করা যায় কেমন করে?
আরো কি কি সম্ভাবনা, সমস্যা বা উপায় আমাদের মাথায় আসছে?
সবাই মিলে আমরা এ উদে্যাগটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি? কি মনে হয়?

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৩, ২০০৬

বাবা জানো, আমাদের ময়না পাখিটা না ...



একদম ছেলেমানুষি হয়ে যাচ্ছে সন্দেহ নেই।
কিন্তু এই পিচ্চিটার কথা গুলো এত সাঙ্ঘাতিক পছন্দ হয়ে গেছে যে বারবার দেখতে ইচ্ছে করে।
প্রতিবার আলাদা করে না খুঁজে এখানেই এলেই যেন দেখতে পাই, সে ব্যাবস্থা করলাম।

মজার ব্যাপার হলো- এটার জন্যে দীঘি নামের এই পিচ্চি আবার পুরস্কারও পেয়েছে।
মেরিল-প্রথম আলো সেরা নারী মডেল!
সেটার ভিডিও নীচে।


রবিবার, জুলাই ০৯, ২০০৬

অপারগতার গ্লানি- কাক কবির কবিতা


অপারগতার গ্লানি-
--------------

ঝুম বৃষ্টি নামে।

অফিস ফেরতা আমি
হাঁটতে হাঁটতে পথ চলতে চলতে
দেয়ালে বসা দাঁড় কাকটার সঙ্গে
কাকভেজা ভিজতে থাকি।।

আমি শীতে শিউরে উঠি,
দাঁড় কাকটা নির্বিকার।।

ছোট্ট একটা আড়াল খুঁজে পাই।
ছাতার মতন ডাল ছড়িয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলো ছাতিম গাছ।
তারই আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে
ভিজে ভিজে ভিজে
আমি তাকাই কাকটার দিকে।
ধ্যানমগ্ন ঋষির মতন, মাথা
খানিকটা হেঁট করে
ভিজেই চলেছে সে।।

মেঘেরা হঠাৎ নড়ে চড়ে ওঠে-
বৃষ্টিও থেমে যায় খানিক পরে।

এই এতক্ষণে যেন ধ্যান ভাঙে ঋষির।
টলটলে চোখ দু'টিতে স্পন্দন...;
আর কি গবর্িত ভঙ্গিতেই না সে মাথা দোলায়!

তারপর,
দারুন ক্ষিপ্রতায় গা ঝাড়া দিয়ে
অবলীলায় ঝেড়ে ফেলে সে,
ছোট্ট কালো শরীরে লেগে থাকা
এতক্ষনের অনাবশ্যক সিক্ততা।

অত:পর পলিশ করা ডানা দু'টো ছড়িয়ে
বাতাসে ভাসিয়ে দেয় রাজকীয় শরীরটা।
একটা ঘুরপাক খায়-
ছোট্ট একটা সুখের শব্দ করে
উড়ে চলে যায় সেই দাঁড়কাক।

তাবৎ অনাবশ্যকতা গায়ে জড়িয়ে রেখে
আমি সেদিকে তাকাই।
কিছুটা শীতে কাঁপতে থাকি আমি;
কিছুটা ঈর্ষায় ...।




কাক কবির কবিতা: ৩
----------------------
## সেই একই ফুটনোট।
বালকবয়েসে লেখা। তবে, এখন সুযোগ পেলেও আমি বদলাবো না। সে সময় যে অনুভুতি নিয়ে লিখেছিলাম এটা, তা প্রকাশ করতে পেরেছি ঠিকঠাক;;সেরকমই মনে হয়।
নিজেকে কাক কবি ভাবার কি হেতু, সেটা সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
সেটুকুও, অবশ্য, একেবারেই অনাবশ্যক ...।

ছবি: ২০০৪, ডারবান, দক্ষিন আফ্রিকা।

প্রিয় বন্ধু - কাক কবির কবিতা


প্রিয় বন্ধু -

সেদিন হঠাৎ সে বলে, অনেকদিন তো তোমার কাছে,
এবার তবে যাই ?
দৃষ্টিতে বিষন্নতা নিয়ে আমি তাকালাম তার দিকে -
সে চলে যাবে ..!
আমায় সে বুঝতে পারে ।
হেসে বলে- কত দিন, মাস, কত বছরই না পেরিয়ে গেল;
কত স্মৃতি, কত সময়, আর কত !
এবারে যাই?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি-
হ্যা, আর কত, আশি বছরতো বটেই !
একটা সময়ে কত স্বপ্নই না ছিল- হেন করব , তেন করব;
করা হয়নি কোন কিছু,
অনেক কিছুই করেওছি আবার !

জানালার বাইরে দৃষ্টি থমকে যায়;
সারি সারি কৃষঞচূড়া, মাঝে একফালি চাঁদ ।
বিষন্ন জোছনার নূপুর পায়ে কে যেন ছুটে চলে গেল ।
আমি তার দিকে তাকালাম,
মুখে ম্লান হাসি তার ,
সে বলে- অসুবিধে কি, পাবে নতুন বন্ধু !
তার চোখে মুক্তির উচ্ছলতা খেলা করছে ।
দূরে কোথাও বিরহের সানাই বেজে উঠে,
" নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে- "
কোথায় যেন পড়েছিলাম ?

আরও একটি নি:শ্বাস,
তারপর আবার,
তারপর আবার !
অস্ফূটে বলে উঠি- বিদায় !

অত:পর-
জীবন বিদায় নেয়-
জীর্ণ এই আমার কাছ থেকে ।


--------------------
# অনেক পুরোনো কবিতা এটা। একদমই বালক বয়সে লেখা। ভাষায় দূর্বলতা অনেক। আবারো লিখতে হলে আমি অনেক অনেক কিছু পালটে দেব, সন্দেহ নেই।
তবে, ইচ্ছে করলো না সেরকম কিছু করতে। প্রথমবারের কবিতায় কেমন একটা গন্ধ থাকে, নবান্নের মত।
সাল হিসেব করে দেখলাম, তখন নবম শ্রেনীতে পড়ি। ঐ বয়সে মৃত্যু চিন্তা আসার কোন কারন ছিল না। অন্তত আমার।
তবু, আমার কবিতারা কখনোই হিসেব করে আসে নি। মাথার উপর ঘুর ঘুর করে কাকেদের মত। তারপর কর্কশ শব্দে জায়গা করে নেয় খাতার পাতায়।
সেই শব্দের খানিকটা বিরক্তি তবু সামনে নিয়ে আসা..।

সোমবার, জুন ১৯, ২০০৬

আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি...


প্রতিটা পোষ্টে সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি হয়। কুশীলবও আমরাই। একদল আস্ফালন করেন, প্রমান করা হোক!!
আমরা নতজানু হয়ে নিজেদের প্রমান হাজির করি। একগাদা ওয়েবসাইট, কিছু ইতিহাসের দলিল, অনেকগুলো বই, কিছু পেপার কাটিং..।
কিন্তু আমরা কি জানি, সেইসব প্রমান যে আসলে ভ্রান্ত? আসলে কিছু উর্বর মস্তিষ্কের মানুষের লেখা থ্রিলার?
না জানি না। ভ্রান্ত তো হবেই, ওগুলো তো গোলাম আযম তার স্মৃতিতে লিখে রাখেন নাই। মুক্তিযুদ্ধে নিহতের পরিবার মিথ্যে বলেছেন, এটাই তো সত্য, কারন গোলাম আযম তো মিথ্যে বলেন নাই!

এই নাটক এখানেই শেষ হবে।
কদিন পর আরেকটি পোষ্ট হবে।
সেখানে আবারো বলা হবে প্রমাণ করা হোক! আমরা বাবার রক্তভেজা শার্ট আর মায়ের ছেঁড়া শাড়ি বুকের মধ্যে লুকিয়ে আবারো আমাদের প্রমান নিয়ে হাজির হবো।

এইভাবেই, মুক্তিযুদ্ধের পৌন:পুনিক অপমান চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে...। যতদিন না গোলাম আযম তার পবিত্র স্মৃতিকথা নতুন করে লিখবেন!

আসুন, তার চেয়ে আমরা বরং একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি। ওখানে ডেকে আনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষ আর হতভাগা বুদ্ধিজীবিদের। ওদের আত্মা এসে আমাদের হাত ধরে বলুক, বাবারা, এইবারটি থামো, আর কত অপমান করবে আমাদের?

থ্রিলার উপন্যাসের নিহত নায়ক আর তাদের সঙ্গীসাথীরা অন্তত এইটুকু করুণাও কি আশা করতে পারেন না আমাদের কাছে?


------------
মুল লেখা- এইখানে

শুক্রবার, জুন ১৬, ২০০৬

ভাললাগায় লোপামুদ্রা ...


লোপামুদ্রার গলায় আমার শোনা প্রথম গান বেনীমাধব।

এইচএসসি-র পরে তখনো ঢাকায় নতুন। ঢাকা যে আসলে ঠিক বাংলাদেশের ভেতরের কোন শহর নয়, সেটা বুঝে গেছি ততদিনে। সব কিছুতেই যেন যোজন যোজন ফারাক আমাদের ছোট্ট মফস্বল শহর কুমিল্লার সাথে। সেই বোধটা আরেকটু দৃঢ় করতে সে বছর গুলশানে আমাদের এক বন্ধুর বাসায় গেলাম থার্টিফার্স্ট নাইটের মজা নিতে। আমরা প্রায় ১০/১২ জন। বিকেলের দিকেই পৌঁছে গেছি ওর গুলশান-২ নম্বরের বাসায়।
কিন্তু রাত হতেই বন্ধুর মা নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন, বেরুনো যাবে না। কোথা থেকে খবর পেয়েছেন, রাস্তায় পুলিশ আছে, ১২ টায় কেউ বের হলেই ধরে নিয়ে যাবে। আমাদের অনেক কাকুতি মিনতিও গলাতে পারলো না তাঁকে।
কি আর করা, এক ডজন টগবগে নওজোয়ান আমরা তখন ওর রুমে বসে আড্ডা দিতে লাগলাম। কবিতা থেকে ক্রিকেট আর মোনালিসা থেকে পামেলা কেউই বাদ নেই।
আড্ডার ফাকে মাঝে কার যেন একবার টয়লেট চেপেছিল। সে বাইরে গিয়ে ফিরে এসে ফিকফিক করে হাসতে লাগলো। কি হলো কি হলো? না, আন্টি খুব আজিব কিসিমের গান শুনছেন পাশের রুমে বসে, খালি নাকি শোনা যাচ্ছে- তোমার বাড়ি যাব, তোমার বাড়ি যাব...।
এধরনের আড্ডার কোন আগামাথা থাকে না। চরম সিরিয়াস ব্যাপারও হয়ে যায় নিছক রসিকতা। আমরা সবাই হুড়মুড় করে দরজা খুলে বের হলাম, এবং শুনতে পেলাম, খালি বলছে বেনীমাধব বেনীমাধব, তোমার বাড়ি যাব।
সংক্রামক রোগীদের মত আমরা সেই গান শুনে হেসে এ ওর গায়ে লুটিয়ে পড়ছি। আর ভাবছি, আন্টির নিশ্চয়ই মাথা খারাপ, এরম গান কেউ শোনে!
সেই প্রথম লোপামুদ্রার গান শোনা, একটা ভুল সময়ে, ভুল পরিবেশে।

------------------

তার ঠিক মাস ছয়েক বাদেই সেই একই বাসায় আমি, টিউশনিতে, বন্ধুর ছোট ভাইকে পড়াতে গেছি। হলে থাকি, বাড়ি যাওয়া হয়নি অনেকদিন। শুরুতে প্রতি সপ্তাহে চলে যেতাম কুমিল্লায়। কিন্তু মাস দুয়েক পরেই নিষেধাজ্ঞা জারি হলো, এত ঘন ঘন যাওয়া যাবে না।
তো, অনেকদিন যাইনি বাড়ি। পড়াচ্ছি। মন ভালো নেই। মনোযোগ নেই তেমন। হঠাৎ পাশের রুম থেকে আবারো ভেসে এলো সেই গান। বেনীমাধব বেনীমাধব তোমার বাড়ি যাব...। মোটামুটি শিউরে ওঠলাম। এরকম অদ্ভুত গলা মানুষের হয়!
পড়ানো শেষে আন্টিকে বলে সিডিটা নিয়ে এলাম সাথে করে। হলে ফিরে শুনলাম গান, একবার দুবার তিনবার, সারারাত ধরে।
সকালে , প্রায় ভোরের দিকে ঘুমাতে যাবার সময় টের পেলাম, আমার মাথার মধ্যে খুব যত্ন করে ঢুকে বসে গেছেন তিনি, লোপামুদ্রা।

---------------------

এলবামের নামটাই অন্যরকম। অন্য হাওয়ার অন্য গান। অনেকগুলো কবিতাকে সুর দিয়ে গান হিসেবে গাওয়া। অন্যতম হল জয় গোস্বামীর লেখা মালতীবালা উচ্চ বিদ্যালয় ( নামটা সঠিক মনে নেই)- এ সুর করা গান, বেনীমাধব। এরকম গলা আগে কখনো শুনিনি। এরকম স্পষ্ট, এরকম আবেগ, কিন্তু অদ্ভূত রকম বাহুল্য বর্জিত। শুনিনি আগে কখনো।
ঐ এলবামের আরো কিছু প্রিয় গান আছে আমার, ছেলেবলার বৃষ্টি। অথবা আবার আসিব ফিরে।

গান শোনাটা আমার কাছে সাধারন কিছু নয়।অনেকেই আছেন, গান শুনতে শুনতে পড়তে পারেন, বা অন্য যে কোন কাজ, কোন অসুবিধা ছাড়াই করতে পারেন, কিন্তু আমি পারি না। আমি যখন গান শুনি, তখন কেবলি গান শুনি , বিভোর হয়ে শুনি আমি।
লোপামুদ্রা এসে সেই বিভোরতায় আরো বেশি মগ্ন করে দিয়ে যান আমায়।
রবীন্দ্রনাথের একটা গান আমার ভীষন প্রিয়। সহেনা যাতনা দিবস গনিয়া গনিয়া বিরলে, আশা-র গলায় শুনি প্রথম, তারপর থেকেই বারে বারে শুনতেই থাকি শুধু, সখা হে, এলে না।
কিন্তু ক'দিন পরেই টের পাই, আশা-র উচ্চারনে ভীষন সমস্যা। গনিয়াকে বলেন গুনিয়া, মাঝের একটা জায়গায় একবার যাতনা হয়ে যায় যতনা!
আমাকে এসে রক্ষা করেন কবীর সুমন। আবারো আমি যাতনায় বিভোর হই।
তারপর কিছুদিন পরেই , হাতে আসে লোপামুদ্রার গাওয়া কিছু রবীন্দ্র সংগীতের একটা এলবাম, রবি কবির গান। আর কি আশ্চর্য সেখানে তিনি যেন আমারই জন্যে গেয়েছেন সহেনা যাতনা..., আর সেই গান শুনে , মুগ্ধ আমি নিজের মনেই বলে উঠি, এতদিন কোথায় ছিলেন?
দিন দিন ভালো লাগা বেড়ে চলে শুধু। লোপামুদ্রায় আমি আরো বেশি তন্ময় হয়ে রই।
এখনো রোজ শুনি, অন্তত একবার। বেনীমাধব , অথবা রবি-র গান, যাই হোক, আমি অবাক হয়ে শুনি, তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী।
কোন উপমা জানা নেই। এ ভালোলাগার প্রকাশ কি করে করবো জানি না আমি।
মেট্রিকের ছুটিতে সিলেট গেছিলাম বেড়াতে, জাফলং। সে নদীতে নেমেছিলাম সেবার। কি অদ্ভূত স্বচ্ছ আর পরিষ্কার সে পানি। আর কি ঠান্ডা! শুধু ছুঁয়ে থাকতে ইচ্ছা করে যেন...।
বলে রাখি, লোপামুদ্রার গান শুনলে আজো আমার কোন এক অলস বিকেলে ছুঁয়ে আসা সেই নদীটার কথাই মনে পড়ে। কেন জানি ...! জানি না।


-----------
মূল লেখা- এইখানে - ।

মামা বাড়ির আবদার


মামাবাড়ির আব্দার-
----------------
আরে ভাই, ৩৫ বছর পরে ঐসব চেচামেচি করার কি দরকার? সব ভুলে যান। নিজেদের ঐক্য নষ্ট করবেন না। আসেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি।

আমার কথা-
----------
বন্ধুদের মধ্যে একটা রসিকতা প্রচলিত আছে- " কলা ছিলছো কেন, আবার বুজাইয়া দাও''!
আব্দারের চরমসীমা বুঝাতে আমরা এই বাক্য ব্যবহার করি।
বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক দূরে আছি। আড্ডাও হয় না- কিন্তু এই আব্দারের কথা মনে পড়ল আবার। মামাবাড়ির আব্দার!

৩৫ বছর কি অনেক লম্বা সময়, ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত ধুয়ে মুছে ফেলবার জন্যে? কেন আমাদের ইতিহাসকে ভুলে যেতে হবে? কেনই বা আমাদের ভুলে যেতে বলা হবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের কথা?
না, আমরা ভুলবোনা। ভুলতে চাইবে তারাই যাদের জন্যে মুক্তিযুদ্ধ মানে লজ্জা, মানে পরাজয়, মানে নিজেদের নীচতা আর বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলজ্বলে দলিল। ভুলে যেতে চাইবে রাজাকাররা, আমরা না।

কি করেনি তারা?
একটা দেশের জন্মলগ্নে যতভাবে সম্ভব তার বিরোধীতা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে পাকসেনাদের হাতে, নিজেরা অস্ত্র তুলে নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে, হাজার হাজার নারীদের ঠেলে দিয়েছে পাকসেনাদের বিকৃত লালসার সামনে!! যখন টের পেয়েছে আর কোনভাবেই বাংলাদেশের জন্মকে ঠেকানো সম্ভব নয়- তখন করেছে সবচেয়ে ঘৃন্য কাজ। ১৪ ডিসেম্বরে- আত্মসমর্পনের মাত্র দুদিন আগে বেছে বেছে খুন করেছে এ দেশের শে্রষ্ঠ সম্পদদের- ধ্বংসস্তূপ থেকে যারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারত!
জন্মাবিই যখন তখন পঙ্গু হয়েই জন্মা!
ভেবে দেখুন- একটি শিশুর জন্মের সময় তার গর্ভপাতের চেষ্টা করে যে দস্যুরা, কিন্তু কোনভাবেই না পেরে তার জন্মমূহুর্তে যারা তার হাত পা কেটে পঙ্গু করে দেয়, সে শিশু কি পারবে তাদের ক্ষমা করে দিতে? অথবা তার সন্তানেরা? ৩৫ বছর পরেও?

নাহ। ভুলবোনা । ইতিহাস আমাদের জন্যে কখনো চেচামেচি নয়। ইতিহাস আমাদের শেখায় বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতে।

দেশ গড়ব অবশ্যই। তবে ঐ জানোয়ারদের সাথে ঐক্য বেঁধে নয়, বিষাক্ত রক্ত যাদের শরীরে বয়ে চলছে এখনো। বাংলাদেশের অস্তিত্বইতো তাদের জন্যে লজ্জার। আর এ লজ্জা তারা মুছে ফেলতে চাইবেই। যতদিন না মুছতে পারো ততদিন- ভুলে যান ভাইসব, আপনে আমি ভাই ভাই!
ভাই? ভাইয়ের রক্তে হাত ভিজিয়েছে যারা একদিন, তারা আমার ভাই!!

আমি চাই না রাজাকারদের কাঁধে কাঁধ মিলাতে। আমার কাঁধ এখনো পঁচে যায় নি এত। মেলাবার মত শক্ত কাঁধের অভাব হয় নি এখনো যে রাজাকারদের বিশ্বাস করতে হবে!

৩৫ বছর খুব বেশি সময় নয়।
আড়াইশো বছর আগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো মীরজাফর, আজো তাকে লোকে তার নাম ধরেই গাল দেয়।
শুধু ৩৫ নয়, ৩৫০০ বছর পরেও নিজের ভাইয়ের সাথে যারা বেঈমানী করবে, তাদের মুখে আমাদের সন্তানেরা থুতু দিবে এবং ঘৃণা ভরে উচ্চারন করে বলবে- "তুই রাজাকার, তুই রাজাকার ''।


-------------
মূল লেখা- এইখানে- ।

রবিবার, জুন ১১, ২০০৬

ভাষাই ধর্ম ভাষাই দেশঃ আরেক ফাল্গুনের গল্প।


কমলা ভট্টাচার্য্য।
মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়া এক কিশোরী। এখনো রেজাল্ট বের হয় নি, তার আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম।
সম্ভবতঃ ইতিহাসের প্রথম নারী ভাষা শহীদ।
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের বোন এই কমলা।
১৯৬১ সালের ২১ মে।
আসামের ছোট্ট শহর শিলচর। রাজ্যের প্রধান ভাষা অসমীয়া হলেও বরাক ভ্যালির এই অঞ্চলে বাংলা ভাষাভাষীদেরই আধিক্য। পাকিস্তান হবার এক বছর পর ১৯৪৮ সালে রেভারেন্ডেমের মাধ্যমে সুরমা ভ্যালি (বর্তমানে সিলেট বিভাগ ) পুর্বপাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু বৃহত্তর সিলেটের তিন-চতুর্থাংশ নিয়ে বরাক ভ্যালি থেকে যায় আসামে। ১৯৬১ সালে আসাম প্রাদেশিক সরকার শুধু অসমীয়াকেই রাজ্যের একমাত্র সরকারী ভাষা ঘোষনা দিলে ক্ষোভ দানা বাঁধে বাংগালিদের ভেতরে। ক্রমশঃ রুপ নেয় তা আন্দোলনে। প্রথমে সত্যাগ্রহ। তারপর সহিংস। আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্বে , ১৯ মে, পুলিশ গুলি চালায় মিছিলে। শহীদ হন কমলা ভট্টাচার্য্য সহ মোট ১১ জন। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়।
দেয়াল গড়ে ওঠে মানচিত্র বদলে যায়। তবু রফিক জব্বার কমলার মত ভাইবোনেরা আমাদের মাথা নত না করতে শেখায়।

আভুমি আনত - শ্রদ্ধা একুশে-ঊনিশের সকল ভাষা শহীদদের জন্য।
--- হাসান মোরশেদ

---------------------
সামহোয়্যারইনব্লগে পাওয়া লেখা। খুব পছন্দ হলো, তাই এখানে তুলে রাখলাম।

শুক্রবার, জুন ০৯, ২০০৬

আমার প্রতিবাদ


এক খাবলা মাটি হাতে লইয়া
নিজের গায়ে মাখ-
মাটিতে লাগাইয়া নাক;
ঘ্রান নে রে ব্যাটা নিশ্বাস ভইরা নে,
মায়ের দুধের গন্ধ পাবি সেখানে।

এই সবুজ জমিনে একবার-
তোর বাপের লাংগলের লগে গড়াগড়ি দে,
এই নদীতে তিনখান ডুব লাগা, শুশুকেরা
যেমন কইরা ডুবে।

এই যে ক্ষেতের আইল,
তার মইধ্যে দিয়া দৌড় লাগা একখান।
আসমানে উড়তাছে ভো-কাট্টা ঘুড়ি,
হ দেখি তার সমানে সমান!

তারপর,
মাথাখান উঁচা কইরা
আসমানের দিকে তাকা দেহি একবার।
কি দ্যাখা যায়? চাঁন-তারা??
আরে বেকুব, সর্বহারা-
সিনা টান কইরা দ্যাখ,
চক্ষু দুইটা খুইলা দ্যাখ-
সুর্য দেখবি খালি,
টকটইক্যা লাল সূর্য !

আসমান আর জমিন একাকার কইরা-
লালে আর সবুজে মাখামাখি...
আমার মায়ের আঁচলের লাহান-
আঁচলের মতন পতাকার লাহান।

৭।০৬।২০০৬



----------
এই কবিতার একটা প্রেক্ষাপট আছে। ( অবশ্য সব কবিতারই একটা প্রেক্ষাপট থাকে।)
সামহোয়্যার ইন ব্লগে কোনো এক পাকিস্তান প্রেমিক হুট করে পাকিস্তানের পতাকা সহ কিছু পোষ্ট দেয়া শুরু করে। ভীষন অশ্লীল মনে হয়েছিল আমার সেটা। তারই প্রতিবাদে লেখা এই কবিতা।
এটা একদম র'- কপি। পরে কখন সুযোগ পেলে এডিট করব হয়তো, বা হয়তো করবো না।

বুধবার, মে ৩১, ২০০৬

করি বাংলায় চিৎকার


করি বাংলায় চিকার

...... অতঃপর বছর গড়িয়ে যায় গড়াতেই থাকে বছরের পর বছর শহীদের রক্তে ভেজা জায়গা ধুয়ে-মুছে আমরা সেখানে মিনার বানাই হৃদপিন্ডের মধ্য থেকে ভালবাসার লাল সুর্যটাকে খুলে এনে শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে দেই মিনারের গায়ে প্রতিবছর- ফুলে ফুলে সাজাই তাকে মধ্যরাতে খালি পায়ে এসে গান গেয়ে যাই কি সুমধুর সেই গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি - গাইতে গাইতে গলা বেয়ে অশ্রু ঝরে পরে আহা, সেই অশ্রু যদি মাখিয়ে দিতে পারতাম ভাইয়েদের বুলেট-বিদ্ধ বুকের ক্ষতে!
একুশের সংকলনের পাতা উল্টাই আজ অজস্র শ্রদ্ধাঞ্জলি সেখানে মুখের ভাষা ফিরিয়ে দেয়া সেই বীর শহীদদের জন্যে দেখে-পড়ে-শুনে ভাল লাগে ভাল লাগা বাড়িয়ে যাই আমি পাতা উল্টে চোখে পড়ে - একুশের গল্প জহির রায়হানের কোন এক হবু ডাক্তার একুশের মিছিলে তার বন্ধুকে হারায় পুলিশের গুলিতে কপালের ঠিক মাঝখানটায় গুলি লাগে বন্ধুর লাশ তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনির লোকেরা প্রায় বছর তিনেক বাদে তারই রুমমেট এনাটমি পড়ার জন্যে কঙ্কাল নিয়ে আসে বাক্স খুলে সবাই দেখে প্রয়াত বন্ধুর মতন এর কপালেও একটা মসৃন ফুটো, ডান পায়ের হাড়টা তেমনি এক ইঞ্চি ছোট বাম পায়ের চেয়ে
পড়তে পড়তে শিউরে উঠি আমি বুকের মধ্যে টের পাই ব্যথার কাঁপন মাথা ব্যথা করতে থাকে আমার- বিশেষ করে যেন কপালের মাঝখানটা!
ব্যথা পোহাতে পোহাতে গল্প রেখে ইতিহাস খুলি অবাক বিস্ময়ে জানি- সেই দুপুরে গুলি লেগেছিল রফিকের খুলিতেও ( রফিক, যে কিনা আমার ভাই) আমার ভাইকে চেনা যায় নি সেদিন কেউ কেউ ওকে সালাহউদ্দীন (আমার আরেক ভাই) বলে ভুল করেছিল আচ্ছা, সালাহউদ্দীন কি আজো দুঃখ করে, কেন সে রফিক হতে পারল না!
রফিকের মৃত্যুসংবাদ থেকে চোখ সরিয়ে নিই যেমন করে প্রতিদিন সকালে মুখ মুছে দুরে ঠেলে দিই ভেজা টাওয়েল একুশের কাহিনিতে অনাবশ্যক আগ্রহ টের পেয়ে আমার ভুরুরা কুঁচকে ওঠে এটা তো ফেব্রুয়ারি নয়-, তবে?’’ মে মাসের আলোকোজ্জ্বল এই বিকেলে কেনই বা তবে ফেব্রুয়ারির ধোঁয়াটে দুপুরকে টেনে আনা!
ভীষনই অপ্রয়োজনীয় ওরা, ঠেলে সরিয়ে আমি হেঁটে যাই সামনেসামনে আর উপরেউপরে, যেখানে তিনতলা বাড়ির চিলেকোঠায়- ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় ডুবে যেতে যেতে আমার লেখক-বন্ধু সাদা কাগজের বুকে কল্পনা এঁকে যায়- কোন এক উর্দুভাষি পাকিস্তানীর কথা- বউ কথা কও’’ নামের এক বাঙ্গালি পাখির ডাক শুনে যার কিনা প্রতিরাতে ঘুম ভেঙ্গে যেত সেই ৫২-র রাতগুলোয়
স্বপ্নের মত দিন পকেটে পুরে আমি ফিরে আসি আবার রফিকের কাছে ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা হাতে তুলে নিয়ে বইয়ের পাতায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি সালামের বুক (সালাম, আমার ভাই) ঠিক কতখানি বড় ছিল তোমার হৃদয়, ভাই? কি ছুঁয়েছিলে তুমি, পরশপাথর?
খুঁজতে থাকি খুঁজতে থাকি খুড়তে খুড়তে খুঁজে বেড়াই সেই পরশমণিকে খুঁজে পেলে ছুঁয়ে নিতাম, ছুঁইয়ে নিতাম সবাইকে ছোট্ট এ জীবনের অনেকগুলো শান্ত মিছিলের মধ্যভাগে হেঁটে চলা এই আমি আজ সামনে আসতে চাই- বুক পেতে চুমু খেয়ে দেখতে চাই শত্রুর বুলেট
আমি জানি, মিছিলের সামনে এসে দাঁড়ানোর মতন মানুষের আজ বড়ই প্রয়োজন আমার জন্মভুমির


***************
একুশ স্মরণে বাংলালাইভ ডট কম -এর ঢাকার চিঠি-র জন্যে লেখা ।