পোস্টগুলি

2006 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সিংহপুরী আলাপ-

১।
এবার দেশে আসার পথে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের টিকেট না কাটার পেছনে প্রধান কারণ ছিল পছন্দের সময়ে রিটার্ন টিকেট না পাওয়া। ওটায় করে এলে আমাকে পনের দিন আগেই দেশ ছাড়তে হতো।
আরেকটা প্রচ্ছন্ন কারণ ছিল আমার বন্ধু রাজীব। ও আমাকে আগেই সাবধান করে দিয়েছিলো ভুলেও যেন মালয়েশিয়ান টিকেট না কাটি। মেলবোর্ন থেকে মালয়েশিয়া সার্ভিস খুব ভালো, কিন্তু তারপরে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার সার্ভিস নাকি একদম যাচ্ছেতাই! ও যেবার ঢাকায় এসেছিলো, সেবারের প্লেন নাকি ঢাকার লোকাল বাসের কোয়ালিটির। আরো ভয়ংকর কথা, প্লেন জিয়া এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার সাথে সাথে সব প্যাসেনজার নাকি দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করেছিল। ল্যান্ডিংয়ের সময়ে সীট বেলট বাঁধা আবশ্যক, সুতরাং অনতিবিলম্বে বিমানবালারা চেঁচামেচি করে সেটা জানান দিতে থাকে, কিন্তু তবু নাকি কারো ভ্রুক্ষেপ ঘটেনা!
চোখ বুজে দৃশ্যটা কল্পনা করার চেষ্টা করতেই শিউরে উঠলাম। এবং এমন করেই কেটে ফেললাম সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের টিকেট।

২।
ভুল যে করিনি সেটা টের পাই প্লেনে ওঠার সাথে সাথেই।
প্রায় নিয়মিত বিরতিতে সিনেমার নায়িকাদের প্রেমে পড়ার ব্যাপারে আমার রেকর্ড আছে। উইনোনা রাইডার, ক্যাথারিন জেটা জোনস, পেনেলোপ …

কষ্টে আছি ইয়াজুদ্দিন-

১।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়া আমার ব্যক্তিগত ধারণা ছিল- প্রজাতিতে এনারা বেশ নীরিহ হন, করেন না কো ফোঁসফাঁস, মারেন নাকো ঢুসঢাস।
ইশকুলে থাকতে বিএড টিচার বলে একটা ব্যাপার ছিল। বৎসরের কোন একটা সময়ে এরা হাজির হতেন। কোন এক সুন্দর সকালে আমরা বাংলা ক্লাসে গিয়ে দেখতাম, আজ রবি ঠাকুরের কবিতা পড়া হবে, সেজন্যে বোর্ডে লাল চক দিয়ে কবিতার নাম, আর নীল চক দিয়ে লেখা হয়েছে কবির নাম। তারচেয়ে মজার কথা বোর্ডের এক কোনায় ক্যালেন্ডার থেকে কেটে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে রবিদাদুর ছবি। দাদাঠাকুর সেই ছবি থেকে দাড়ির ফাঁক দিয়ে অদৃশ্য হাসি হাসতেন, আর আমরা ক্লাশের সবাই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচতাম।
ঐ স্যাররা হতেন ভয়াবহ ক্যাটাগরির অমায়িক মানুষ। ক্লাশে যতই চিল্লাপাল্লা করতাম, কখনৈ ওনারা ধমকটা পর্যন্ত দিতেন না। বাসায় বেড়াতে আসা নতুন মামীর মতন অভিমানী গলায় বলতেন, প্লিজ, তোমরা দুষ্টামি কোরো না।

২।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুনলেই আমার কেন জানি বিএড টিচারদের কথা মনে হোত। তিনমাসের জন্যে এসে এনারা দেশটাকে সুন্দর ভাবে চালাবেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে, এমনটাই ভাবতাম।
কিন্তু এ বছর দেখি ঘটনা অন্যরকম।
গত একমাসে সবকিছু কেমন ভোজবাজির মত লাগছে। 'কি হইতে কি হইলো, হঠাৎ দ…

বীক্ষণ সম্পর্কিত ঘোষনা-

ছবি
নেটে বসে আছি প্রায় ঘন্টাখানেক হবে। এর মধ্যে অনেক সময় নিয়ে ৩ টা পেজ খুলতে পেরেছি। সেজন্যে অবশ্য আমি মোটেও দু:খিত নই। কোন লিংকে ক্লিক করে নতুন পেইজ খুলবার সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্যে বাসা থেকে সাথে করে মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমি তপু“ বইটা নিয়ে এসেছি। একটা লিংকে ক্লিক করে ৩ বা চার পাতা পড়া শেষ করে মনিটরে তাকাই, ততখনে পেজটা চলে আসে।
লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, বইটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি, আর বোধহয় ২০/২৫ পৃষ্ঠা বাকি!

-------------------
দেশে আসবার আগেই একটা ঘোষনা দেবার কথা ছিল, তাড়াহুড়ায় দিতে পারি নি।
নতুন একটা ওয়েবম্যাগাজিনের কাজ শেষ করেছি। আসবার আগের দিনেও অনেক রাত জেগে নানা কারেকশান করতে হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি। নানারকম ভুল-ভ্রান্তি এখনো রয়ে গেছে। কিন্তু সবই আস্তে আস্তে শুধরে ফেলবো। খানিকটা সময় লাগবে যদিও।

ম্যাগাজিনের নাম হলো বীক্ষণ
লিংকটি এরকম http://www.beekkhan.com
ম্যাগাজিনটির মূল বৈশিষ্ঠ হচ্ছে পুরোটাই ইউনিকোডে বানানো। সম্পাদনা করেছেন সুচেতা মিশ্র। লেখা ঝাড়াই, বাছাই এবং ডিজাইন ভাবনার সবটুকু কৃতিত্বই তাঁর। আমি শুধু সফটওয়্যারে বসিয়ে সেগুলোকে ওয়েবে তুলে দিয়েছি। সুতরাং, ভুল-ভ্রান্তির সবটুকু দায় আমি ম…

ও যে...

ছবি
ও যে মানে না মানা ,
আঁখি ফিরাইলে বলে না, না , না।

প্রতিবেশি

ছবি
আমার জানালা দিয়ে একটুখানি আকাশ দেখা যায়...


যে বাসায় থাকি, সেটা একটু নির্জন টাইপের। পেছনে বিশাল উঠোন। ( ব্যাকইয়ার্ডের চেয়ে উঠোন শব্দটা শুনতে কত ভাল শোনায়! ) সামনে নানারকম গাছগাছালি।
আমার জানালার ঠিক সামনেই একটা জংলামতন গাছ। জানালা খুলে প্রায়শই দাঁড়িয়ে থাকি, ঠিক আকাশ দেখা হয় না, তবু এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার 'এমনি এমনিই' ভাল লাগে।
মাঝে কদিন খুব ব্যস্ততা গেল। বাসায় এসে ঘুম ছাড়া আর তেমন কিছু করা হয় নি। এরকম করে বেশ অনেকদিন জানালাও খোলা হয়নি। একদিন হুট করে সেটা খুলতে গিয়ে দেখি পাল্লা আটকে গেছে, খুলছে না কিছুতেই।
বাইরে গিয়ে দেখলাম সেই জংলা গাছটা ডালপালা মেলেছে, বাড়তে বাড়তে সেটা আমার জানালার পাল্লায় সাঁড়াশির মত আটকে গেছে, গাছ না কেটে অথবা অন্তত ডাল না ছেঁটে কিছুতেই সেটা খুলবে না।
সেটারও সুযোগ হচ্ছিলো না। দিন চলে যাচ্ছিল।
আজ সময় বের করে কিছু ডাল কেটে ফেললাম, যেন অন্তত জানালার উপর থেকে চাপটা কমে যায়, জানালা খোলা যায়।
তখুনি হঠাৎ এই পাখির বাসাটা চোখে পড়লো।
দেশের বাইরে এসে এত কাছ থেকে কখনো গাছের ডালে পাখির বাসা দেখিনি। খুব আজব ধরণের মজা লাগছে কেন জানি।

সকাল থেকেই ঘুরে ঘুরে এসে উঁকি দিচ্ছি বারে বারে…

আমার দেশ

ইদানীং শিউরে ওঠাও ভুলে গেছি।
ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার চেষ্টা করছি আসলে আমাদের দেশটায় কি হচ্ছে, কোন কূলকিনারা পাচ্ছি না। এরকম সহিংস্রতার মূলে আসলে কি আছে? যারা এভাবে ভাংচুর চালাচ্ছে, পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলছে- তাদের মানসিক গঠনটা দেখতে ইচ্ছে করছে। পত্রিকায় ছাপানো ছবিতে তাদের হাসিমুখ দেখে গা কেঁপে ওঠে, ওরকম আনন্দিত চেহারা নিয়ে কেমন করে মানুষ আরেকটা মানুষকে মেরে ফেলে?
মানুষের অসহিষ্ণুতা চলে গেছে চরম মাত্রায়। প্রাচীনকালের পৃথিবীতে নাকি গোত্রে গোত্রে মারামারি হতো, বড় নৃশংস সেইসব গল্প।
এখন গোত্র নেই, আমরা নিজেদের ভাগ করে ফেলেছি রাজনৈতিক দলে। দেশের রাস্তায় এখন যেসব দু'পেয়ে প্রাণীরা ঘুরে বেড়ায়, তারা নির্ঘাৎ কোন মানুষ নয়। তারা অতি অবশ্যই বিএনপি, আওয়ামি লীগ, জামাত বা জাতীয়-পার্টির ল্যাবে তৈরি করা বিশেষ প্রজাতির কোন প্রাণী। যাদের জিনেটিক কোডে খোদাই করে দেয়া হয়েছে অন্য দলের প্রাণী-হত্যার নির্দেশ!

ভীষন দুঃসময় কাটাচ্ছে এখন আমার প্রিয় জন্মভূমি। আমরা এখন তার সন্তানদের মনুষ্যত্ববোধের মাগফেরাত কামনা করার জন্যে হাত তুলে মোনাজাত করতে পারি।

কঙ্কাবতী আখ্যান অথবা আমি ইহাকে যেমন করিয়া পাইলাম-

ছবি
তোমার কথা শুনতে ভালো লাগে, বন্ধুরা বলে,
শোনায় তোমার কথা আমায় প্রায়।
তাই শুনলাম তোমার কথা গান শোনার ছলে,
শুনলাম- তোমাকে তাই।

অনেক কথা কত কথা কথকতার সুরে-
ভরে গেলো ভেতরটা আমার-
ইচ্ছে হলো বলতে কথা সুরের তালে তালে...
আমার ইচ্ছে হলো বাজাতে গীটার...।
মন আমার, মন আমার, মন আমার।

...... ভার্সিটিতে ভর্তির ছয় মাস পরে ক্লাস করতে গেছি। গিয়ে দেখি কাউকেই চিনি না। মহা সমস্যা। মুখ গোমড়া করে বসে আছি- কী যে করবো ভেবে পাই না কিছুই। হঠাত দেখি সজীব। বহুদিন আগে একবার কথা হয়েছিলো। ওর সঙ্গেই ঘুরলাম খানিক্ষণ, চিনলাম রুমাকে। আমি প্রাকটিক্যাল গ্রুপ-ট্রুপ কিছুই জানি না। অবশেষে জানলাম- গ্রুপ-সি।
প্রাকটিক্যাল ক্লাসে গিয়ে নাম এনট্রি করাতে খবর হয়ে গেলো। নওরীন ম্যাডামের কাছে জবাবদিহি করতে করতে জান শেষ। এতদিন কোথায় ছিলাম , ( আহা, যেনবা বনলতা! ), কেন আসিনি! বললাম হাবিজাবি অনেক কিছু। উনাকে তো আর বলা যায় না যে প্লান করেছিলাম এক বছর ঘুম দিবো শুধু- কিছুই করবো না!
শেষ পর্যন্ত মোটামুটি ঝামেলা শেষ হলো। কিন্তু আমার ব্যাচমেটদের কারো কোন খবর নেই। পরপর দু’ক্লাশ কেটে গেলো ্লাইড ক্যালিপার্স আর স্ক্রুগজ নিয়ে গুতোগুতি করত…

সিনেমা সিনেমা

ছবি
কোনরকম লুকোছাপা না করলে বলতে হয়, আমি নির্ঘাত ইটালিয়ান মুভির প্রেমে পড়ে গেছি!
আমাদের এখানকার ভিডিও ক্লাবে আলাদা একটা সেকশান আছে ওয়ার্ল্ড মুভিজ নামে। ওখানে খুঁজে টুজে দারুন সব সিনেমা পেয়ে গেছি। আমার বিশেষ করে ভাল লেগেছে ইটালিয়ানগুলো। আরো নানা দেশের আছে, ইরানি মুভি গুলো এখনো শুরু করিনি দেখা, তবে দেখবো নিশ্চয়।
পরে লিখব না হয়, যেগুলো ভাল লেগেছে, সেগুলো নিয়ে। এবং খুব শিঘ্রীই।

কাবুলিওয়ালা

ছবি
কথিত আছে, মাছের পেটে ঢুকিয়া ইউনুস নবী ইসমে আজম জপিয়াছিলেন।
ড. ইউনুস কি জপিতেছেন কে জানে, কিন্তু আমাদিগের এই বঙ্গদেশীয় পেটে যে তাহাকে ভীষন বদহজম হইতেছে, অবিরত ভুটুরভাটুর শব্দে ইহা বেশ বুঝিতে পারিতেছি। এক্ষনে এই উভমূখী নির্গমণ ঠেকাইতে হাতের নিকটে ফ্ল্যাজিল ( ৫০০ এমজি) খুঁজিয়া না পাইয়া নোবেল নামক ট্যাবলেট গিলিয়াও শেষ রক্ষা হইতেছে না।
ট্যাগোর আংকেল মিনুকে রাখিয়া গিয়াছিলেন, তাহাকে পালিয়া পুষিয়া আমরা করিমন বেওয়া বানাইয়াছি। ভাঙ্গা ঘরের দাওয়ার পার্শ্বে লক্ষণ রেখা আঁকিয়া, উহাকে দারিদ্রসীমা নাম দিয়াছি, অতঃপর চতুষ্পদী ছাগলের পিঠে চাপাইয়া করিমন বেওয়াকে সেই সীমানা পার করিবার চেষ্টা করিয়াছি।
এইবার ছাগলে হোঁচট খাইলে, কেন উহাকে গরু কিংবা মরুদেশীয় দুম্বার পিঠে চাপানো হইলো না এই নিয়া কামান দাগি। ডিশুম ডিশুম!

সুধীজনেরা, অদ্য বাদ-জোহর এই ব-দ্বীপের মধ্যিখানে একখান বিশাল খন্দক কাটিবার আয়োজন করা হইয়াছে। উহাতে গলা পর্যন্ত ডুবাইয়া আজিকার কাবুলিওয়ালাকে মাটিচাপা দিয়া রাখা হইবে। আর আমাদিগের হাতে পাথরের পরিবর্তে দেয়া হইবে পাকা কদবেল।

এক্ষণে, সেই কদবেল ছুড়িয়া তাহাকে হত্যা করিব নাকি কদবেল ভাঙ্গিয়া আরাম করিয়া নুন দিয়া ম…

যুদ্ধের দেবতা-

ছবি
ভিডিও ক্লাবের মেম্বার হয়ে গিয়ে গত ক'মাসে বেশ কিছু ভাল মুভি দেখা হয়ে গেল। এর মধ্যে কয়েকটা সত্যিই খুব ভাল লেগেছে।
এরকম একটা মুভি হলো লর্ড অব ওয়ার। নিকোলাজ কেজ-এর। আমার খুব পছন্দের একজন নায়ক।
আমার একটা অভ্যাস হলো, ছবি দেখার সময় আমি মোটামুটি একটা লিংক ফলো করে যাই। প্রথম যে ছবিটা দেখলাম, পরেরটা হয়তো একই নায়ক অথবা পরিচালকেরই ছবি হয়। অথবা নায়িকার। কোন নির্দিষ্ট কারন নেই অবশ্য, নিজের কাছেই মজা লাগে এরকম করে দেখতে।

এই ছবিটা পুরোপুরি রাজনৈতিক। অস্ত্রব্যবসা নিয়ে, অথবা বলা যায় যুদ্ধ নিয়ে যে ব্যবসা হয় দুনিয়া জুড়ে, তাই নিয়ে এই সিনেমা। একজন সাধারন মানুষ কেমন করে অস্ত্রব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে, তারপর সেখান থেকে আস্তে আস্তে হয়ে যায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী, খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে এখানে। এই অংশটুকু অবশ্য খানিকটা ফাস্ট ফরোয়ার্ডের মত মনে হয়েছে আমার। আরেকটু রয়েসয়ে দেখালে ভাল হতো মনে হয়েছে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে কেজের নিজের গলায় জীবনী বলার মত করে দেখানো হয়েছে সিনেমা। এই ব্যবসার কথা নিজের পরিবারের কাছে লুকিয়ে রাখতে গিয়ে নানা জটিলতা, এই কারণেই নিজের ভাইকেও হারাতে হয়।
মাঝখানে একটা জায়গায় এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শুনে…

নোবেল পেলেন ড. ইউনুস

ছবি
কি সব কেলেংকারিয়াস ব্যাপার স্যাপার!
ড. ইউনুস নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন!
জটিল!


ফটুকবাজি-২

ছবি
বিমূর্ত এই রাত্রি যেন মৌনতার সুতোয় বোনা
একটি রঙ্গিন চাদর-

মাশীদাপু-অরূপদাঃ দুই ফটুকবাজকে উৎসর্গ।

ফটুকবাজি-১

ছবি
মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি,
বানাইয়াছে কোন মেস্তরি ।

-----------------
এটা সাদিক ভাইয়ের জন্যে।

ক্লোজআপের গল্প-

ছবি
এই দূর দেশ থেকে কংকাবতীরে ফোন করি। আলাপ শুরু হলে ঘড়িতে কয়টা বাজে সেই খেয়াল আর থাকে না, কার্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতেই থাকে, চলতেই থাকে।
কিন্তু কংকার খেয়াল থাকে, সব দিনে নয় অবশ্য- বিশেষ করে সেই দিনগুলোয়, যেদিন টিভিতে ক্লোজ আপ ওয়ান থাকে! সেদিন আগে থেকেই এসএমএস আসে, আজ কিন্তু সাড়ে নটা থেকে ক্লোজ আপ ওয়ান, শেষ হলে ফোন করবি, তার আগে না।
মনের ভুলে আমি যদি নয়টায় ফোন করেই ফেলি, সাড়ে নটায় শুরু হয়ে যায় ম্যাডামের উশখুশানি, এই, ফোন রাখ! ক্লোজ আপ ওয়ান দেখব!

বুঝো ঠেলা!
এখন এই ক্লোজ আপ ওয়ান ব্যাটার ওপর আমার মেজাজ খারাপ না হবার কোন কারণ আছে? কত্ত বড় সাহস, আমার সাথে কম্পিট করে!

কদিন আগে জাম্প টিভি সাইটে সস্তার প্যাকেজে এনটিভির নিউজ দেখার জন্যে সাবস্ক্রাইব করলাম। কংকা শুনে টুনে বললো, একদিন ক্লোজআপ ওয়ানটা দেখ। আমি গাল ফুলিয়ে বললাম, না! অসম্ভব!
তবু পীড়াপীড়িতে অনিচ্ছাসত্বেও দেখলাম একদিন।
দেখে বেশ ভালই লাগলো। দেবাশীষকে মহা বোরিং মনে হলো, চৈতীর উচ্চারণ শুনে খানিকটা ভড়কেছি, আর আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কান্ডকারখানা দেখে পেট ফাটিয়ে হেসেছি!
কিন্তু এই সব বাদ দিলে সব মিলিয়ে খুব চমৎকার একটা প্রোগ্রাম। ব্যবসা-বুদ্ধি, মাল্ট…

ইউনিকোডের খবর-

আজ বেশ চমৎকার একটা ব্যাপার হয়েছে, সামহোয়্যার ইন ব্লগ আজ থেকে ইউনিকোডে পোষ্ট করার সিস্টেম করে দিয়েছে।
হাসিন ভাই আজই ঘোষনা দিলেন।
আমি সহ আরো অনেকেই একদম শুরু থেকে হাউকাউ করেছিলাম ইউনিকোড করবার জন্যে, যাক, অবশেষে তবু ব্যাপারটা হলো।
এ ব্যাপারে আরেকটা ভাল খবর, অনলাইনে বেশ কয়েকটা ইউনিকোড এডিটর পাওয়া যাচ্ছে এখন, তার মধ্যে দুটার লিংক এখানে তুলে রাখলাম, কখনো নিজের ল্যাপিও সাথে না থাকলে বেশ কাজে আসবে আশা করি।

এডিটর।
লিংক ১। সুমন মাহবুবের এডিটর
লিংক২। হাসিন ভাইয়ের এডিটর

তালিয়া

বাংলাদেশ কিসে চ্যাম্পিয়ন বলুনতো? ফুটবলে না, ক্রিকেটে না, বাস্কেটবল বা ভলিবল দুরে থাক, এমনকি হা-ডু-ডু তেও না৷ বিগত পাঁচ বছর ধরে আমরা এমন একটা বিষয়ে চ্যাম্পিয়ান হয়ে আসছি, যেটার কথা আমাদের শিশুরা কখনো তাদের সাধারণ জ্ঞান বইয়ে খুঁজে পাবে না৷ অ্যাল্,ছি ছি, শিশুদের এর মধ্যে টানা উচিত নয়, এটা একেবারে অ্যাডাল্ট ওনলি ব্যাপার৷

কষ্ট করে মাথা চুলকে আর নতুন কোন খেলার নাম বের করতে হবে না৷ এখানে কোনো রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজের গোয়েন্দা গল্প লেখা হচ্ছেনা, তাই বলেই দেওয়া যাক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির ইন্ডেক্সে বাংলাদেশ এক নম্বরে! কানে কানে আরও বলি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হবার ক্ষেত্রে যাদের সবচে বেশি অবদান -- তাদের নাম হচ্ছে পুলিশ৷ আইনের রক্ষক যাদেরকে বলে৷ বেশ বুঝতে পারছি, আর কোথাও চ্যাম্পিয়ন না হতে পারার যাতনা যেন আমাদের সইতে না হয়, পুলিশ বাহিনী সে জন্যে দিনরাত বিস্তর খেটে রীতিমত প্রাণপাত করে দিচ্ছে ৷

আহা, এ হেন প্রচেষ্টার জন্যে তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়৷

বাচ্চালোগ, তালিয়া বাজাও!

----------------------------------------------------…

অভাগা রবীন্দ্রনাথ-

ছবি
আজ কেলাশে বসিয়া দুরন্ত গতিতে লেকচার তুলিতেছি।
এই শিক্ষক মহাশয় বড়ই দ্রুত কথা বলেন। তাহার কথার সহিত তাল মিলাইয়া লিখিতে লিখিতে মনের মধ্যে হঠাৎ একখান ভাবের উদয় হইল। মাথা খানিকটা চুলকাইয়া ভাবিলাম, আহা, রবীন্দ্রনাথ বেচারা কি অভাগাই না ছিলেন!
সেই দেড় শতক বর্ষ পূর্বে দোয়াতে কলম ডুবাইয়া তিনি কাব্য রচনা করিতেন। অতীব সময়ক্ষেপক ব্যাপার। কিন্তু ঐরূপ গতি নিয়াই তিনি যেই পরিমাণ সাহিত্য সৃষ্টি করিয়া গিয়াছেন, আজ ভাবিতেছি, কোনক্রমে একখান বলপেন হাতে পাইলে তাহার কি সুবিধাই না হইত! আমাদিগের লেকচার তুলিবার গতিতে না হোক, তাহার অর্ধেক গতিতে যদি তিনি লিখিয়া যাইতেন, তবে নিশ্চিত জীবদ্দশায় প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ সাহিত্য তিনি রচনা করিতে পারিতেন।

বলপেন আবিষ্কারকদের নির্বুদ্ধিতায় বাংলা সাহিত্যের কি পোচোন্ডো ক্ষতি সাধিত হইয়া গেল, ইহা ভাবিয়া আজ আমার বুক ফাটিয়া অশ্রু নির্গত হইতেছে।
আহা, বেচারা রবীন্দ্রনাথ!




আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটগুলো-

মোটামুটি দৌড়ের উপর আছি। সেমেস্টারের মাঝামাঝি। হাতে হারিকেন পেছনে বাঁশ টাইপ অবস্থা!
বেশ কিছু কাজ একসাথে শুরু করে এখন কোনটাই করা হচ্ছে না। সব ঝুলে আছে। কিন্তু দেশে যাবার আগে অবশ্যই শেষ করে যেতে হবে সব। ভাবছি প্রতিদিন ঘড়ি ধরে বসব এসব নিয়ে, আধা ঘন্টা করে হলেও।

সেরকমই একটা কাজে কদিন ধরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনলাইনে যতগুলো সাইট আছে, ঘুরে ফিরে দেখছি তাদের।
প্রাথমিক মূল্যায়ন হলো, ওখানে বেশিরভাগই বেসিক তথ্যগুলো রাখা আছে, ডিটেইলস নেই তেমন। অল্পবিস্তর ছবি আছে।
ইংরেজিতে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বেশিরভাগই সামারাইজড করা। “মুরগী বাচ্চা পাড়িল’ টাইপ। মাঝের ডিম পাড়ার খবর নেই।
নিজের সুবিধার জন্যে এখানে সাইটগুলোর একটা লিষ্ট করে রাখছি।

১।প্রথম লিনক হিসেবে দিতেই হবে উইকিপিডিয়ার সাইটটার। পরিমাণের দিক দিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে এখানে। পুরোটা পড়ে দেখা হয় নি, তবে, উইকির প্রতি আস্থা রয়েছে আমার।
২।ফরচুনসিটিতে হোষ্ট করা সাইটটিতে তথ্য কম রয়েছে, সাইটের ডিজাইন ভালো হয়নি যদিও, তবে এখানে প্রচুর পরিমাণে ছবি দেয়া আছে।
৩।তালিকার তৃতীয় সাইটকে মরুদ্যান বলে আখ্যা দেয়া যায়। সবচে গোছানো এবং সুন্দর। নাম হলো বাংলাদেশ ডট ন…

আউলা মাথা, বাউলা পোষ্ট-

তখন হলে থাকি। দুইটা টিউশানি করি। কপাল মন্দ, দুইজনই ছাত্র, ছাত্রী নাই।
আমার রুমমেট নতুন টিউশানিতে যায় কয়দিন হইলো। যাবার সময় দেখি পারফিউম মারে, শার্টে, গলায়, ঘাড়ে। আমাগো চোখ টনটন করে। আবার পড়ানো শেষে রুমে ফিরা গুন গুন গান গায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায়...। আমাগো বুকে জ্বালাপোড়া!

একদিন দেখি বালিশে হেলান দিয়া সিগারেট টানে। সাথে গুন গুন তো আছেই।
আমরা জিগাই, কি রে? নতুন টিউশানি কেমন? ছাত্রী ভালো?
কয়, আর কইস না।বড় জ্বালায় আছি।
আমরা বলি, কি হইছে?
ও বলে, মাইয়া জানি কেমুন কেমুন। পড়া পারে না। আমি ঐদিন চেইতা গিয়া কই, একটা চড় দিবো তোমারে, বুঝছো?

আমরা তো হা! কি সাংঘাতিক। জিগাই, তারপর?
ও একটা সুখটান দেয়, তারপরে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে কয়, মেয়ে আমারে বলে, দিয়ে ফেলেন স্যার। কেউ দেখবেনা, আম্মুও ঘুমাচ্ছে!

রাং দে বাসান্তি !

আব ভি জিসকা খুন না খোলা, খুন নেহি ও পানি হ্যায়;
জো দেশকে কাম না আয়ে, ও বেকার জওয়ানি হ্যায়।

বাংলায় কি হবে?
নাহ, নতুন অনুবাদের প্রয়োজন নেই, হেলাল হাফিজ অনেক আগেই লিখেছেন,

এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়,
এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়!


হুমম।

সারফারোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়,
দেখতাহু জোর কিতনা বাজুএ কাতিল মে হ্যায়!


ধন্যবাদ, প্রজাপতি


বেহেশতে যাচ্ছি-

ছবি
মনের মধ্যে কতরকমের হাউশ!
ম্যাকগাইভার দেইখা একসময় ভাবতাম, এই ব্যাটার মত বুদ্ধি না হইলে তো জীবনটাই বৃথা! বোম্বাই সিনেমা 'গুরু' দেইখা মোনাজাতে কইতাম, আল্লাহ , আমারে মিঠুনের মতন মারামারি শিখাইয়া দাও।
বেহেশতে যাওনের একটা খায়েশ মনের মধ্যে উঁকি ঝুকি মারে বহু আগে থেইকা। না না, জান্নাতুল ফিরদাউশ চাই না, ঠেলাঠেলি কইরা চামে চুমে কোন একটা ছোটখাট বেহেশতে জায়গা পাইলেই হইলো!
সাড়ে তিন বছর বয়েসে ইশকুলে ভর্তি হওনের পর একা একা জীবনেও কেলাশে যাইতাম না। আম্মু যাইতো লগে, আম্মুর আঙুল ধইরা বইসা বইসা কেলাশ করতাম।
সেভেনে ওঠার পর থেইকা ঘরছাড়া হইছি। শুনলাম বেহেশতে নাকি পরিবার নিয়া থাকার সু-বন্দোবস্ত আছে, সেইজন্যেও যাইতে সাধ হয়। মায়ের লগে থাকতে মন চায়।

কোন সিনেমায় জানি দেখছিলাম, শিল্পা শেঠি তাহার চিক্কন কোমর দুলাইয়া সঞ্জয়রে কয়, চল। সঞ্জয় জিগায়, কাহা? বেটি হাতে টান মাইরা চোখে নাচুনি দিয়া কয়, জান্নাত মে!
আহা!

অধম কনফু কহে, পূণ্যবানেরা শোনেন, শেষমেষ বেহেশতে যাইতাছি। টিকেট ফাইনাল, নভেম্বরে।
বাংলাদেশ ছাড়া এই মুহুর্তে আর কোন বেহেশত চিনি না!


-

টিভি দেখা

এই মুহুর্তে আমার প্রিয় চ্যানেল নিঃসন্দেহে ইউটিউব ডট কম
সার্চ দিলেই অগুনতি বাংলা নাটক সিনেমা চলে আসছে। দেখা যাচ্ছে মজার সব বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও।
লাবন্য প্রভার বেশ কিছু পর্ব দেখলাম। মোস্তফা ফারুকীর কয়েকটা নাটক, এবং সর্বশেষ দেখলাম হুমায়ুনের সিনেমা- নিরন্তর। সবই ফ্রিতে!

জাম্প টিভি নামের একটা সাইট ওয়েব এ টিভি দেখার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে। নানা দেশের চ্যানেল আছে সেখানে। বাংলাদেশের চ্যানেল আছে তিনটি। চ্যানেল আই, আরটিভি, আর এনটিভি।
কাল এনটিভি-র জন্যে সাবস্ক্রাইব করে ফেললাম, মাঝে মাঝে নিউজ দেখা যাবে।

খুব একটা পয়সাও লাগে না। এমনিতে ১৫ ডলারের মত লাগে মাসে। তবে ওরা একটা সুযোগ দিচ্ছে, প্রথম মাসে লাগবে মাত্র দেড় ডলার!

ভালই তো!


জেসমিন মানে কি জুঁই?

ছবি
ছোটবেলায় কেউ যখন বাবার নাম জিজ্ঞেস করত, উত্তরে পুরো নাম বলতাম। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করত, আম্মুর নাম কি? খুব সিরিয়াস মুখ করে বলতাম,আম্মুর নাম হচ্ছে আম্মু।
এটাই তখন নিয়ম ছিল, বাসা থেকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল, কখনো আম্মুর নাম বলবে না। আম্মুর নাম বলতে হবে আম্মু।
কাল অনেকদিন পরে সেই কথা মনে পড়ে গেল।

বিকেলে বের হয়েছি, আমি আর আমার হাউসমেট, বাসা থেকে খানিকটা সামনে এগুতেই দেখি পিচ্চি একটা মেয়ে, দুই বা আড়াই হবে বয়েস, দু রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে!
ওখানে কারো দাঁড়িয়ে থাকার কথা না। পাশ দিয়ে ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। তারচেয়ে বড় কথা মেয়েটার আশপাশে কেউ নেই, এমনকি যতদূর দেখা যাচ্ছে, অভিভাবক টাইপের কাউকেই দেখছি না।
অগত্যা গাড়ি থামালাম। সন্দেহ হলো, সম্ভবত হারিয়ে গেছে।
কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই এই মহা কিউট মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতেই চোস্ত অজি উচ্চারণে বললো, আম্মুর কাছে যাব! বুঝলাম যা সন্দেহ করেছি তাই। হারিয়ে গেছে যেমন করেই হোক।
বললাম, আম্মু কোথায়, রাস্তার এক দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দিল। ওখানে কেউ নেই। বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করতেই আবারো সেই একই দিকে আঙ্গুল। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, বাসা কোথায় তোমাদের? আব…

মাতা-পুত্র

ছবি
বলা হয়ে থাকে, নেসেসিটি আর ইনভেনশান - এর সম্পর্ক নাকি মাতা আর পুত্রের।
আমার দেশের অভাগা মানুষের চেয়ে ভাল এটা আর কে-ই বা জানে।


প্রথম আলো থেকে নেয়া ছবি।

চার এবং পাঁচের কাল্পনিক হিসাব-

ছবি
কাল সারাদিনে আমি ২ টা সেদ্ধ ডিম খেয়েছি। দুপুরে আর রাতে মিলে মুরগীর ঠ্যাং খেয়েছি মিনিমাম ৪ পিস। ৫ নম্বরটার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম, কিন্তু খাওয়া হয় নি।

৯/১১ হামলায় মোট মারা গেছিলো ২৯৭৬ জন মানুষ।
ইরাকে মারা যাওয়া আমেরিকান সৈন্যের সংখ্যা মে মাসের ২ তারিখে ছিল ১৫৮৬। এখন কি সংখ্যাটা ২০০০ পেরিয়েছে?
একটা ওয়েবসাইট বলছে , একই যুদ্ধে সাধারন ইরাকি নাগরিক মরেছে, ৪৩১৫৪ জন। এটা সর্বনিম্ন সংখ্যা।

ছোটবেলায় টিভিতে দেখতাম, প্রতি মিনিটে বাংলাদেশে জন্মায় ৪ টি শিশু। কেউ কি জানে কতজন মরে? হয়ত মিনিটে ১ জন। বা, ঘন্টায় ২ জন।
শিশু নয়, সব মিলিয়ে কতজন মানুষ মারা যায় প্রতিদিন বাংলাদেশে? ২০০ জন, বা ৪০০ জন? কে জানে!
কতজন দূর্ঘটনায় মরে, তাও জানি না। হয়ত ১০০ জন।

চিকিৎসার অভাবে মরে কতজন? ৭০? নাকি ৮০?
আচ্ছা, চিকিৎসার জন্যে এম্বুলেন্স এ হাসপাতালে যেতে যেতে মারা যায় কজন? রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়তে পারে এম্বুলেন্স, অথবা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর যাবার মতন অতি গুরুত্বপূর্ণ কোন কারনে হয়ত তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতে পারে। পারে না?

আচ্ছা, ধরে নিলাম, গতকাল এম্বুলেন্স এ মারা গেছে ৪ জন মূমুর্ষু মানুষ।
৪ , সংখ্যাটা ৪ ই। কিন্তু যদি ৫ জ…

প্রথম আলোয় লেখা।

আজকের প্রথম আলোর ছুটির দিনে -তে আমার আরো একটা লেখা ছাপা হলো। লোপামুদ্রাকে নিয়ে যেটা লিখেছিলাম- ভালোলাগায় লোপামুদ্রা।
পাওয়া যাবে এখানে

আর, বলতে ভুলে গেছিলাম, ছুটির দিনে-তে কদিন আগে আমার অন্য একটা লেখাও ছাপা হয়েছিল- অবশেষে আলেকজান্ডার কহিলা বিষাদে।
ওটা পাওয়া যাবে এখানে।

বেশ ফুরফুরে টাইপ একটা মজা লাগছে!

রত্নভান্ডার-

ছবি
এটাকে রত্নভান্ডার ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।
আজ সকালে ইউনি যাবার সময় স্টেশন থেকে বের হতেই একজন হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল। নিতান্ত অনাগ্রহে নিলাম সেটা, সবসময় যেটা করি। তাকিয়ে দেখি একটা বইয়ের দোকানের বিজ্ঞাপন। যে কোন বইয়ে আজ ওরা ২০% ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।
ক্লাশ শেষে তাই সেই দোকান খুঁজতে বের হলাম। জায়গামত যাবার আগেই পরিচিত আরেকটা বইয়ের দোকান দেখে অলসতায় পেয়ে বসলো, ঢুকে গেলাম সেটাতেই।
হাজার হাজার বই সেখানে, কিন্তু সবগুলোরই ভীষন দাম। এ দেশে এসে এই দামের কারনেই বই কেনার অভ্যাসটা একেবারেই চলে গেছে। প্রতিবারের মতই তাই বইয়ের গন্ধ নিয়েই সময় কাটাচ্ছিলাম। হাত দিয়ে ছুয়ে ছুয়ে দেখছিলাম।
চট করে আর্ট এন্ড কালচার সেকশনে গিয়ে দেখি এই বই! লিওনার্দো দা ভিন্সি- দি কমপ্লিট ওয়ার্কস! সাংঘাতিক ব্যাপার! যেন এক সিডিতে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ!
হাতে নিয়ে পাতা ওল্টালাম। ছোট ছোট নোটসহ লিওনার্দো-র আঁকা সবগুলা পেইন্টিং আর ড্রয়িং! মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! অবধারিতভাবে একদম শেষে গিয়ে দামটাও দেখে নিলাম। ত্রিশ ডলার! এখানে এসে সবাই ডলারের সাথে ৫০ দিয়ে গুণ দেয়। তারপরে ভিরমি খায়।
এই অভ্যাসটা সাউথ আফ্রিকায়ই ফেলে এসেছি আমি। এখানে এসে ৫০ দিয়ে গ…

ইউনিকোডে ব্লগাই যারা-

ছবি
ইউনিকোডে যারা ব্লগিং করেন, তাদের একটা কমন প্ল্যাটফর্ম নেই বলে তারা নিজেরাও ঠিক বেশিরভাগ ইউনিকোড ব্লগের খোঁজ জানেন না৷ সুতরাং আমাদের ব্লগিংটা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে নিজেদের পরিচিতদের মধ্যেই৷
এসব কারণে ইউনিকোড ব্লগারদের জন্যে কমন একটা প্ল্যাটফর্ম করার চিন্তা মাথায় আসে৷ এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্যেই বানালাম এই বাংলা ইউনিকোড ব্লগ৷
কি আছে এখানে?
বাম পাশে আছে ব্লগরোল, সেখানে প্রায় সমস্ত বাংলা ইউনিকোড ব্লগের ঠিকানা আছে৷
কিন্তু তার চেয়ে জরুরি কথা হচ্ছে, প্রতিদিন যে ব্লগগুলো আপডেট হয়, সেই আপডেটেড ব্লগ তাদের পোষ্টের কিছু অংশ সহ অটোমেটিক্যালি এই ব্লগে চলে আসে৷
সুতরাং, যারা একটা পেজে এসে দেখতে চান যে আজ কোন কোন ব্লগ আপডেট হলো- তারা এখানে আসলেই সেই খোঁজ পেয়ে যাবেন৷ তারপর ইচ্ছেমতন চলে যেতে পারবেন পছন্দের ব্লগ বা আর্টিকেলে৷

লিংকটি আবারো দিলাম: http://banglaunicode.blogspot.com/
অথবা ক্লিক করুন এখানে: বাংলা ইউনিকোড ব্লগ
আমরা যারা ইউনিকোডে ব্লগাই- তাদের জন্যে এই ব্লগটা খুব কাজে লাগবে, এই আশাই করছি৷


মায়ামি ভাইসঃ যত গর্জায় ততই কি বর্ষায়?

ছবি
দেখতে গিয়েছিলাম লাগে রাহো মুন্নাভাই।
বড় পর্দায় হিন্দি ছবি দেখাটা আমার কাছে অপচয় বলে মনে হয়। কিন্তু এ ছবিটা আসতে না আসতেই অনেক প্রশংসা শোনা হয়ে গেছে। মংগলবারদিন পরিচিত কয়েকজন বন্ধুদের সবাই ফ্রি। একসাথে সবার এরকম কাজ ছাড়া দিন সহজে পাওয়া যায় না। একটা ছবি দেখতে যাব প্রস্তাব করলাম। ছবির নাম ভেবে বের করার আগেই দলের রমণীরা প্রস্তাব দিলেন- লাগে রাহো মুন্না ভাই দেখতে হবে, হবেই। সুতরাং ঢেঁকি গেলো।
গিললাম। খুব তাড়াহুড়ো করে গেলাম সিনেমা হলে, দাঁড়ালাম চীনের প্রাচীরের মতন লম্বা একটা লাইনের পেছনে। সে প্রাচীর বেয়ে উঠে যখন কাউন্টারের সামনে যাবার সৌভাগ্য হল- জানা গেল- টিকেট নেই।
অন্য একটা হিন্দি কি যেন চলছে। সবাই সেটাই দেখতে চাইল, আমি রাজি হলাম না। ( হেলায় হারিওনা সুযোগ! ) চট করে বললাম মায়ামি ভাইস দেখব।
একটাও ট্রেলার দেখিনি, কেমন হয়েছে কিছুই জানি না, তবু পুরনো মায়ামি ভাইসেরনাম ডাকের অপর ভরসা করে এই নাম প্রস্তাব করলাম।
খানিকটা গাইগুইয়ের পরে সবাই রাজি হল। ঢুকলাম গিয়ে হলে। এবং আবিষ্কার করলাম, আমরা সাতজনের দলটা বাদে পুরো হলে দর্শকের সংখ্যা দুই!
সেটার কারনও বোঝা গেল খানিক পরেই। ছবি শুরু হবার আধা ঘন্টা বাদেও কা…

মেঘদল

ছবি
গতকাল এখানে যাচ্ছেতাই ওয়েদার ছিল।
সারাদিন কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি। দেশ ছেড়ে আসার সাথে সাথে বৃষ্টির প্রতি ভাললাগাও ফেলে এসেছি নির্ঘাৎ। এখানে বৃষ্টি একেবারেই দেশের মত নয়। একদমই আলাদা, দেশের বৃষ্টির মতন আকাশ থেকে ভালবাসা ঝরে পড়ে না এখানে।
তার মধ্যে কাল ছিল ড্রাইভিং টেষ্ট। কাগজ কলম নিয়ে বসে থাকা কোন মাষ্টারনীকে পাশে নিয়ে গাড়ি চালাতে ভাল লাগে না। তার ওপর সে যদি শকুনের মত চোখ নিয়ে শুধু আমার ভুল ধরার জন্যে বসে থাকে!
এত কিছুর মধ্যেও হঠাৎ চোখ পড়লো আকাশের দিকে। মেঘেরা যেন অনেক নীচে নেমে এসেছে, ঐ দালানগুলোর মাথায় চেপে বসেছে যেন।
এটা অতি অবশ্যই মেঘ নয়। ভারি কুয়াশা হতে পারে। বা মেঘের ছোট ভাই- ঘন জলীয় বাষ্প। তবু ভাবতে মজা লাগছিল মেঘেরা হঠাৎ আমাদের খুব কাছে চলে এসেছে- এত কাছে যে, লিফটের বোতাম চাপলেই চড়ে বসা যায় তাদের উপর।

মোবাইল ক্যামটাকে কালই প্রথম প্রয়োজনীয় মনে হলো।

মিরুজিন নদীটির তীরে-

ছবি
কোন কোন মানুষ থাকেন পাহাড়ের মতন।

সাগর বয়ে যায়, দিনান্তে ঘরে ফেরে পাখি, বাতাসের সাথে অবিচল সখ্যতায় কখনো কখনো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে আজন্ম স্থির থাকবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গাছেরা। শুধু পাহাড়ই যেন একঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে |

সেই পাহাড়ের পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটা রাস্তাটুকু প্রতিদিন নিশ্চিত নির্ভরতায় পার হয়ে যাই হেঁটে। ছায়াটুকু গায়ে মেখে নিই, দমকা হাওয়ায় নির্ভয়ে পথ চলার সুবিধাটুকুও।

তবু কোন এক দুঃস্বপ্নের রাতে ছোট কুটীরে জ্বলতে থাকা মাটির পিদিম নিবে যায় ঝড়ো বাতাসে। শঙ্কায় কেঁপে ওঠে মন। এবং সত্যিই চোখ মেলে দেখে, পাহাড়টা নেই আর সেখানে।

বুকের কাছ থেকে বয়ে চলে নোনা নদীর জল।
পাবে না জেনেও বাতাসে কান পাতে হৃদয়- যদি ভেসে আসে তবু ইলেক্ট্রার গান !
---------------------

প্রিয় কবি, আপনাকে বিদায় বলবার স্পর্ধা আমার নেই। আপনি শিখিয়েছিলেন, স্বাধীনতা মানে রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
পৃথিবী জানুক, আমাদের কাছে কবিতা মানে শামসুর রাহমান ।

--------------
বাংলালাইভে মুল লিংক


ব্লগ দিবস

৩১ অগাস্ট ব্লগ দিবস গেল।
সবাই তাঁদের পছন্দের পাঁচটা ব্লগের নাম দিয়েছিল সেদিন।
একটু দেরি করে আমিও দিলাম। যেগুলোর নাম মনে আসবে ঠিক পাঁচটা হলে থেমে যাব।

-হারে রেরে রেরে
-মেঘদল
-স্লোগান দিতে গিয়ে
- বিবর্ণ আকাশ এবং আমি
- জিকোবাজি

আরো অনেক বাকি থেকে গেল। থাক, ওগুলোতো আছেই জায়গামতন। এখানে এই পাঁচটাই থাক।

আপন দেশে -

কদিন খুব কোলাহলে ছিলাম।
কোলাহল ভালো লাগে না এমনটা নয়। একটা টান আছে ব্যাপারটায়। ভিড়ের মাঝে নিজেকে ঠেলে দেবার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে।
কিন্তু সেই আনন্দ হঠাৎ করে আতিশয্য মনে হলো। তাই, কিছুদিন নির্জন বাসের জন্যে ফিরে এলাম এখানে।
নিজেকে নিজেই উইশ করছি- বিরতির পরবর্তী যাত্রা শুভ হোক।
সুন্দর হোক।

মহামতি আকামেরডিসঃ প্রত্যাবর্তন ও ইউরেকা বিষয়ক জটিলতা

ছবি
মাথার পাশের ক্যাটক্যাটে কমলা রঙের আলোগুলো হঠাৎ জ্বলে উঠলো। তিনটা জ্বলার কথা, জ্বললো দুইটা। একটা মনে হয় কোন কারণে ফিউজ হয়ে গেছে। একটু পরেই টাইম ক্যাপসুলের ঢাকনা দুইটা ক্যাচক্যাচ শব্দে খুলে গেলো। ধোলাই খালে বানানো জিনিস- কোনই ভরসা নাই- মাত্র কয়েকশ বছরেই মরিচা ধরে গেছে!

দরোজা খুলতেই তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি তারস্বরে চিৎকার করতে লাগলো, " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হয়ে গেছে। ও ওস্তাদ ওঠেন।'
কিন্তু মহামতি আকামেরডিস উঠবার কোন লক্ষনই দেখালেন না। তিনি গরিলার মত বিশাল হা করে, আ-আ-আ শব্দ করে একটা হাই তুলেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।
তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দিলো- " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হইয়া গেছে! আরে ও ওস্তাদ- ওঠেন না! সময় হইয়া গেছে তো!'
কিন্তু তবুও মহামতি আকামেরডিসের কাছ থেকে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে হঠাৎ ঘড়িটা ঘোঁতঘোঁত করে তীব্র স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো- " ধুৎ, তোর ওস্তাদের খ্যাতা পুড়ি! ওঠ হারামজাদা! ওঠ!'

মহামতি আকারমেডিস ধড়মড় করে উঠে বসলেন! উফ, কি ভয়ংকর এক দু:স্বপ্নই না দেখছিলেন তিনি। মিশমিশে কালো কিছু মিচকা বদমাশ তার আজানুলম্বিত দাঁড়ি …

বাংলাদেশের জন্যে গানঃ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

ছবি
Bangla Desh, Bangla Desh
Where so many people are dying fast
And it sure looks like a mess
I've never seen such distress
Now won't you lend your hand and understand
Relieve the people of Bangla Desh

খুব চেনা গান। কমবেশি সবাই শুনেছি।
শুভ-র একটা পোষ্ট পড়ে অসাধারন লাগলো- সব যুদ্ধ স্টেনগান দিয়ে হয় না
আমিও ভাবি- অস্ত্র হাতে যারা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন, শুধু তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা নন। সে সময় যাঁদের বুকের ভেতরেই বাংলাদেশের জন্যে জন্ম নিয়েছিলো বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসা- তাঁরা সবাই-ই মুক্তিযোদ্ধা।
আমি তাই বলি- রবি শংকরও আসলে মুক্তিযোদ্ধা-ই। অথবা আমাদের পরম ভালোবাসার জর্জ হ্যারিসন।
'৭১ -এ নিউইয়কের্র ম্যাডিসন স্কয়ারে এই দু'জনের প্রচেষ্টাতেই হয়েছিলো - কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
প্রস্তাবটা করেছিলেন রবিশংকর। বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের কাছে বলেছিলেন, দেখো, বাংলাদেশে একটা অন্যায় গণহত্যা হয়েছে। এখন চলেছে যুদ্ধ। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। আমাদের কিছু একটা করা উচিৎ।
বন্ধু সায় দিয়েছিলেন সে আহবানে। গানের লিরিকেই আছে সেটা।

My friend came to me, with sadness in his eyes
He told me that he wanted help
Before his country di…

ভাবছো তুমি সুতোর টানে নাচবে সবাই

ছবি
... ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই-
ভাবছো লোকে দিচ্ছে তোমায় হাততালিটাই।
ভাবছো তুমি বাঁচবে তুমি একার চালে-
ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে। ..

সুমনের গান
ভেবে দেখলাম, ঘুরে ফিরে আমার একাকীতে¡র সঙ্গী আসলে গানেরাই। একটা সময় বই আর গানে কম্পিটিশান ছিলো। কিন্তু এখন হাতের কাছে বই অপ্রতুল। তাই , সিনেমাকে খুব অল্প খানিকটা ভাগ দিয়ে পুরো সাম্রাজ্যটা প্রায় একাই দখল করে নিয়েছে প্রিয় গানেরা

নিজের গানের গলা খুব খারাপ। আমার কর্কশ কবিতাগুলো ছাড়াও হঠাৎ করে মাঝে মাঝেই আনমনে যখন গান গুনগুন করি, কাকের কথা আরও বেশি মনে পড়ে যায়।
অবশ্য কাক গান গায় কিনা জানা নেই, তবে আমি গাই। প্রায়শই, গুন গুন করে, অথবা হেঁড়ে গলায়।

আজ শুনছিলাম সুমনের এই গানটা। আর গুন গুন করছিলাম। একটা সময়ে একটু মনোযোগ দিতেই কথাগুলো খুব আকৃষ্ট করলো।
ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই - । বেশ অদ্ভূত একটা কথা। কিন্তু ভেবে দেখলাম আমরা প্রায় সবাইই ঠিক এরকমটাই আশা করি। পরের লাইনগুলো আরো অদ্ভুত! ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে!

চট করে মনে হলো- সুমন কি এই গানটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন? নইলে গাইতে গাইতে আমার কেন মনে হলো, গানটা আসলে নিজের চোখে চোখ ফেলে গা…

ফাইভ হান্ড্রেড মাইলস এওয়ে ফ্রম হোম-

ছবি
If you missed the train I'm on
You will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles.

... গান শুনি, তার সবই বাংলা গান। ইংলিশ গান খুব বেশি শোনা হয় না। অল্প কিছু, বাছাই করা। তার বেশিরভাগই পরিচিত, সবাই শোনে বা শুনেছে- এরকম।
ফাইভ হানড্রেড মাইলস- এই গানটা খুব ভালো লাগে।
অঞ্জন দত্তের একটা গান আছে- মিষ্টার হল।
... কানে বাজে এখনো পুরোনো সে পিয়ানোর সুরটা, নিকোটিনে হলদে হয়ে যাওয়া দশটা আঙুল... সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে একশ মাইলের গানটা....
ওখানেই এটা প্রথম শোনা।
মূল গানটা অনেক বেশি স্লো, অঞ্জনেরটার চেয়ে।
এখন আমার কাছে মূল গানটাই আছে, অঞ্জনেরটা হারিয়ে গেছে- তবু, ওটাই এখনো ভালো লাগে, মনে মনে।

----------------------

And the land that I once loved is not my own
Lord I'm one, Lord I'm two,
Lord I'm three, Lord I'm four
Lord I'm five hundred miles away from home

...। দেশে কবে যাবো তার ঠিক নাই।
অনেক রাতে কাজ থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে, কখনো ট্রাফিক লাইটে থেমে গিয়ে- নিজের মনে গুনগুন করে উঠি- লর্ড আয়্যাম ফাইভ হানড্রেড মাইলস অ্যাওয়ে ফ্রম হোম- ।

প্রিয় মানুষদের প্রতিদিন নতুন করে কথা দেই। …

বেসিক ইন্সটিক্টঃ ১ এবং ২

ছবি
প্রথমটা দেখেছিলাম লুকিয়েলুকিয়ে। তখনো যৌনতা বিষয়ক কিশোরসুলভ চিত্তচাঞ্চল্য বিদ্যমান আমাদের মধ্যে। মানুষের বেসিক ইনস্টিংক্ট কি এটাই নাকি নিষ্ঠুরতা- এরকম কোন জটিলতর ভাবনা তখনো আমাদের কাছে অকারন।
লুকিয়ে দেখা আরো অনেক কিছুর লিষ্টে বেসিক ইন্সটিংক্ট নামক সিনেমাটিও ছিলো। মাহেন্দ্রক্ষণে যখন শ্যারোন স্টোন তার পা বদলালেন, সামনে বসে থাকা ডিটেকটিভদের পেছনে তখন আমরাও ছিলাম, আমরা-কিছু উদভ্রান্ত কিশোর, গলায় আটকানো গন্ধম ফলের অস্তিত¡ অস্বিকারের চেষ্টায় বারে বারে ঢোক গিলছি সবাই।
আটকানো দরজার এপাশে, কমানো ভলিউমে, একসাথে বসে দেখতে দেখতেও নানা দৃশ্যে নিজেদের মাইকেল ডগলাস ভেবে ফেলবার মত স্বার্থপর নি:সঙ্গতায় আমরা কমবেশি সবাই আক্রান্ত। শ্যারোন স্টোনের তীব্রতায় ডুবতে ডুবতে আমরা নিষিদ্ধ গন্ধ পাই। সেই গন্ধ আমাকে বহু বছর আগে কেনা আমাদের ছোট্ট-নতুন-কাঠের শো-কেসটির কথা মনে পড়িয়ে দেয়। কি অদ্ভুত ঝাঁঝালো একটা গন্ধ ছিলো তাতে, আর কি সুন্দরই না সেই বাদামী রঙের পলিশ করা গা তার, শ্যারোন স্টোনের মতই।

দ্বিতীয় পর্ব দেখলাম গতকাল।
অনাবশ্যক জটিলতা কাহিনিতে। সেই জম্পেশ সাইকো-থ্রিলার ভাবটি অনুপস্থিত সেখানে, বরং খানিকটা যেন সাই-ফাই। যে…

... অবশেষে আলেকজান্ডার কহিলা বিষাদে ...

ছবি
ইতিহাসের সন-তারিখ মনে থাকেনা, রাখার প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট অভাব চিরকাল আছে আমার মধ্যে। তবে ঘটনাগুলো প্রায়শই মনে থেকে যায় গল্পের মত করে।
সেইসব গল্প হাতড়েও কোথাও যখন পেলাম না- আলেকজান্ডারের বিজয়রথ আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে এসেই পিছন ফিরেছিলো- মুভিতে সেটা দেখে তাই খানিকটা পুলকিত হলাম।
এই সিনেমাটিকেই সর্বং সত্য বলে ভাবার কোন কারন নেই, ভাবছিও না, কিন্তু সত্যের কাছাকাছি কোন জায়গার বলে ভাবতে ভালো লাগছিলো শুরু থেকেই।
মহাবীর জাতীয় মানুষদের নিয়ে ছোটবেলা থেকে শুনে আসা কল্পকথাগুলো শেষমেষ তাদের মানুষের সীমানা থেকে খানিকটা উপরে তুলে ছেড়ে দেয়। আমাদের ছা-পোষা দূর্বল মানব-মনের মাধ্যাকর্ষন শক্তির ধরাছেঁায়ার বাইরেই থেকে যান তাঁরা। সা¤প্রতিক কুড়িয়ে পাওয়া প্রগতিশীলতার ব্যাজ বুকে আটকে সিনেমায় বাস্তবতার ছোঁয়া খুঁজে বেড়ালেও - আমরা আসলে সেই মহাবীরদের মধ্যে এখনো মানুষ নয়, কোন একজন সুপারম্যানকেই দেখতে চাই।

মনের সেই চাওয়ার সাথে সঙ্গতি রেখে বালক আলেকজান্ডার যখন কারো পোষ না মানা ঘোড়ার পিঠে চেপে দাপিয়ে বেড়ালেন, অথবা শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের কাছে ব্যক্ত করলেন পৃথিবী জয়ের বাসনা- অবাক হইনি। তবে হোঁচট খেয়েছি- অবশ্যই- যুবক আলেজান্ড…

... আমরা যারা বাংলা বই পড়তে চাই...

ছবি
পড়তে শেখার পর থেকেই পড়ি।
তারো আগে পড়তে জানতাম না। কি জানি, নইলে হয়তো তখন থেকেই পড়তাম। :-)
অল্প-বিস্তর বানান করতে শেখার পর থেকেই যন্ত্রনা শুরু করে দিয়েছিলাম। বাবার সাথে বের হলে রিকশা থামিয়ে দোকানের সাইনবোর্ড পড়তাম, অথবা দেয়াল লিখন।
এটা শুধু আমার কথা নয়। আসলে আমাদের সবার ছোটবেলাই প্রায় এরকম। মানে,যারা পড়তে আগ্রহী- তাদের কথা বলছি।
প্রতি বছর একটা করে "আমার বই'- সেই সাথে চলতে থাকতো ঠাকুমার ঝুলি, গোয়েন্দা রাজু, তিন গোয়েন্দা, কুয়াশা, মাসুদ রানা, ফেলুদা, টেনিদা, কাকাবাবু.. সময়ের সাথে সাথে উত্তরন। কোন এক ফঁাকে পড়েছি মণির পাহাড়। রাশিয়া থেকে ছাপা হওয়া বই। অসাধারণ।
তারপর একসময় বুদ্ধদেব সুনীল শীষর্েন্দু সমরেশ দুই হুমায়ুন নির্মলেন্দু সৈয়দ শামসুল আব্দুল মান্নান সৈয়দ, জীবনানন্দ রবীন˜্র মাইকেল, আরো বড় হলে নজরুল।
থামেনি তবু- ও হেনরী, সমারসেট ম্যাক্সিম এরিখ মারিয়া .... হেলাল হাফিজ রু˜্র আহমেদ ছফা ওয়ালীউল¬াহ মানিক ... এ যেন জীবনের সাথে বয়ে চলা এক রেলগাড়ি, থামবার নয়। নতুন নতুন স্টেশন ছঁুয়ে চলতে থাকে, থাকে, থাকেই। জীবন থেমে যাবার আগে থামবে না কখনো।

--------------

থামেনি। কিন্তু একটা বিরতি পড়েছে ঠিক।
দেশ ছ…

বাবা জানো, আমাদের ময়না পাখিটা না ...

একদম ছেলেমানুষি হয়ে যাচ্ছে সন্দেহ নেই।
কিন্তু এই পিচ্চিটার কথা গুলো এত সাঙ্ঘাতিক পছন্দ হয়ে গেছে যে বারবার দেখতে ইচ্ছে করে।
প্রতিবার আলাদা করে না খুঁজে এখানেই এলেই যেন দেখতে পাই, সে ব্যাবস্থা করলাম।

মজার ব্যাপার হলো- এটার জন্যে দীঘি নামের এই পিচ্চি আবার পুরস্কারও পেয়েছে।
মেরিল-প্রথম আলো সেরা নারী মডেল!
সেটার ভিডিও নীচে।

অপারগতার গ্লানি- কাক কবির কবিতা

ছবি
অপারগতার গ্লানি-
--------------

ঝুম বৃষ্টি নামে।

অফিস ফেরতা আমি
হাঁটতে হাঁটতে পথ চলতে চলতে
দেয়ালে বসা দাঁড় কাকটার সঙ্গে
কাকভেজা ভিজতে থাকি।।

আমি শীতে শিউরে উঠি,
দাঁড় কাকটা নির্বিকার।।

ছোট্ট একটা আড়াল খুঁজে পাই।
ছাতার মতন ডাল ছড়িয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলো ছাতিম গাছ।
তারই আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে
ভিজে ভিজে ভিজে
আমি তাকাই কাকটার দিকে।
ধ্যানমগ্ন ঋষির মতন, মাথা
খানিকটা হেঁট করে
ভিজেই চলেছে সে।।

মেঘেরা হঠাৎ নড়ে চড়ে ওঠে-
বৃষ্টিও থেমে যায় খানিক পরে।

এই এতক্ষণে যেন ধ্যান ভাঙে ঋষির।
টলটলে চোখ দু'টিতে স্পন্দন...;
আর কি গবর্িত ভঙ্গিতেই না সে মাথা দোলায়!

তারপর,
দারুন ক্ষিপ্রতায় গা ঝাড়া দিয়ে
অবলীলায় ঝেড়ে ফেলে সে,
ছোট্ট কালো শরীরে লেগে থাকা
এতক্ষনের অনাবশ্যক সিক্ততা।

অত:পর পলিশ করা ডানা দু'টো ছড়িয়ে
বাতাসে ভাসিয়ে দেয় রাজকীয় শরীরটা।
একটা ঘুরপাক খায়-
ছোট্ট একটা সুখের শব্দ করে
উড়ে চলে যায় সেই দাঁড়কাক।

তাবৎ অনাবশ্যকতা গায়ে জড়িয়ে রেখে
আমি সেদিকে তাকাই।
কিছুটা শীতে কাঁপতে থাকি আমি;
কিছুটা ঈর্ষায় ...।




কাক কবির কবিতা: ৩
----------------------
## সেই একই ফুটনোট।
বালকবয়েসে লেখা। তবে, এখন সুযোগ পেলেও আমি বদলাবো না। সে সময় যে অনুভুতি নিয়ে লিখেছিলাম এটা, তা প্রকাশ …

প্রিয় বন্ধু - কাক কবির কবিতা

ছবি
প্রিয় বন্ধু -

সেদিন হঠাৎ সে বলে, অনেকদিন তো তোমার কাছে,
এবার তবে যাই ?
দৃষ্টিতে বিষন্নতা নিয়ে আমি তাকালাম তার দিকে -
সে চলে যাবে ..!
আমায় সে বুঝতে পারে ।
হেসে বলে- কত দিন, মাস, কত বছরই না পেরিয়ে গেল;
কত স্মৃতি, কত সময়, আর কত !
এবারে যাই?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি-
হ্যা, আর কত, আশি বছরতো বটেই !
একটা সময়ে কত স্বপ্নই না ছিল- হেন করব , তেন করব;
করা হয়নি কোন কিছু,
অনেক কিছুই করেওছি আবার !

জানালার বাইরে দৃষ্টি থমকে যায়;
সারি সারি কৃষঞচূড়া, মাঝে একফালি চাঁদ ।
বিষন্ন জোছনার নূপুর পায়ে কে যেন ছুটে চলে গেল ।
আমি তার দিকে তাকালাম,
মুখে ম্লান হাসি তার ,
সে বলে- অসুবিধে কি, পাবে নতুন বন্ধু !
তার চোখে মুক্তির উচ্ছলতা খেলা করছে ।
দূরে কোথাও বিরহের সানাই বেজে উঠে,
" নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে- "
কোথায় যেন পড়েছিলাম ?

আরও একটি নি:শ্বাস,
তারপর আবার,
তারপর আবার !
অস্ফূটে বলে উঠি- বিদায় !

অত:পর-
জীবন বিদায় নেয়-
জীর্ণ এই আমার কাছ থেকে ।


--------------------
# অনেক পুরোনো কবিতা এটা। একদমই বালক বয়সে লেখা। ভাষায় দূর্বলতা অনেক। আবারো লিখতে হলে আমি অনেক অনেক কিছু পালটে দেব, সন্দেহ নেই।
তবে, ইচ্ছে করলো না সেরকম কিছু করতে। প্রথমবারে…

আসুন, আমরা একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি...

ছবি
প্রতিটা পোষ্টে সেই একই নাটকের পুনরাবৃত্তি হয়। কুশীলবও আমরাই। একদল আস্ফালন করেন, প্রমান করা হোক!!
আমরা নতজানু হয়ে নিজেদের প্রমান হাজির করি। একগাদা ওয়েবসাইট, কিছু ইতিহাসের দলিল, অনেকগুলো বই, কিছু পেপার কাটিং..।
কিন্তু আমরা কি জানি, সেইসব প্রমান যে আসলে ভ্রান্ত? আসলে কিছু উর্বর মস্তিষ্কের মানুষের লেখা থ্রিলার?
না জানি না। ভ্রান্ত তো হবেই, ওগুলো তো গোলাম আযম তার স্মৃতিতে লিখে রাখেন নাই। মুক্তিযুদ্ধে নিহতের পরিবার মিথ্যে বলেছেন, এটাই তো সত্য, কারন গোলাম আযম তো মিথ্যে বলেন নাই!

এই নাটক এখানেই শেষ হবে।
কদিন পর আরেকটি পোষ্ট হবে।
সেখানে আবারো বলা হবে প্রমাণ করা হোক! আমরা বাবার রক্তভেজা শার্ট আর মায়ের ছেঁড়া শাড়ি বুকের মধ্যে লুকিয়ে আবারো আমাদের প্রমান নিয়ে হাজির হবো।

এইভাবেই, মুক্তিযুদ্ধের পৌন:পুনিক অপমান চলতেই থাকবে, চলতেই থাকবে...। যতদিন না গোলাম আযম তার পবিত্র স্মৃতিকথা নতুন করে লিখবেন!

আসুন, তার চেয়ে আমরা বরং একটি প্ল্যানচেটের আয়োজন করি। ওখানে ডেকে আনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, লক্ষ লক্ষ অসহায় মানুষ আর হতভাগা বুদ্ধিজীবিদের। ওদের আত্মা এসে আমাদের হাত ধরে বলুক, বাবারা, এইবারটি থামো, আর কত অপমান করবে আমাদের?

ভাললাগায় লোপামুদ্রা ...

ছবি
লোপামুদ্রার গলায় আমার শোনা প্রথম গান বেনীমাধব।
এইচএসসি-র পরে তখনো ঢাকায় নতুন। ঢাকা যে আসলে ঠিক বাংলাদেশের ভেতরের কোন শহর নয়, সেটা বুঝে গেছি ততদিনে। সব কিছুতেই যেন যোজন যোজন ফারাক আমাদের ছোট্ট মফস্বল শহর কুমিল্লার সাথে। সেই বোধটা আরেকটু দৃঢ় করতে সে বছর গুলশানে আমাদের এক বন্ধুর বাসায় গেলাম থার্টিফার্স্ট নাইটের মজা নিতে। আমরা প্রায় ১০/১২ জন। বিকেলের দিকেই পৌঁছে গেছি ওর গুলশান-২ নম্বরের বাসায়।
কিন্তু রাত হতেই বন্ধুর মা নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন, বেরুনো যাবে না। কোথা থেকে খবর পেয়েছেন, রাস্তায় পুলিশ আছে, ১২ টায় কেউ বের হলেই ধরে নিয়ে যাবে। আমাদের অনেক কাকুতি মিনতিও গলাতে পারলো না তাঁকে।
কি আর করা, এক ডজন টগবগে নওজোয়ান আমরা তখন ওর রুমে বসে আড্ডা দিতে লাগলাম। কবিতা থেকে ক্রিকেট আর মোনালিসা থেকে পামেলা কেউই বাদ নেই।
আড্ডার ফাকে মাঝে কার যেন একবার টয়লেট চেপেছিল। সে বাইরে গিয়ে ফিরে এসে ফিকফিক করে হাসতে লাগলো। কি হলো কি হলো? না, আন্টি খুব আজিব কিসিমের গান শুনছেন পাশের রুমে বসে, খালি নাকি শোনা যাচ্ছে- তোমার বাড়ি যাব, তোমার বাড়ি যাব...।
এধরনের আড্ডার কোন আগামাথা থাকে না। চরম সিরিয়াস ব্যাপারও হয়ে যায় নিছক রস…

মামা বাড়ির আবদার

ছবি
মামাবাড়ির আব্দার-
----------------
আরে ভাই, ৩৫ বছর পরে ঐসব চেচামেচি করার কি দরকার? সব ভুলে যান। নিজেদের ঐক্য নষ্ট করবেন না। আসেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি।

আমার কথা-
----------
বন্ধুদের মধ্যে একটা রসিকতা প্রচলিত আছে- " কলা ছিলছো কেন, আবার বুজাইয়া দাও''!
আব্দারের চরমসীমা বুঝাতে আমরা এই বাক্য ব্যবহার করি।
বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক দূরে আছি। আড্ডাও হয় না- কিন্তু এই আব্দারের কথা মনে পড়ল আবার। মামাবাড়ির আব্দার!

৩৫ বছর কি অনেক লম্বা সময়, ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত ধুয়ে মুছে ফেলবার জন্যে? কেন আমাদের ইতিহাসকে ভুলে যেতে হবে? কেনই বা আমাদের ভুলে যেতে বলা হবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের কথা?
না, আমরা ভুলবোনা। ভুলতে চাইবে তারাই যাদের জন্যে মুক্তিযুদ্ধ মানে লজ্জা, মানে পরাজয়, মানে নিজেদের নীচতা আর বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলজ্বলে দলিল। ভুলে যেতে চাইবে রাজাকাররা, আমরা না।

কি করেনি তারা?
একটা দেশের জন্মলগ্নে যতভাবে সম্ভব তার বিরোধীতা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে পাকসেনাদের হাতে, নিজেরা অস্ত্র তুলে নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে, হাজার হাজার নারীদের ঠেলে দিয়েছে পাকসেনাদের বিকৃত লালসার সামনে!! যখন টের পেয়েছে…

ভাষাই ধর্ম ভাষাই দেশঃ আরেক ফাল্গুনের গল্প।

ছবি
কমলা ভট্টাচার্য্য।
মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়া এক কিশোরী। এখনো রেজাল্ট বের হয় নি, তার আগেই ইতিহাসের পাতায় নাম।
সম্ভবতঃ ইতিহাসের প্রথম নারী ভাষা শহীদ।
সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের বোন এই কমলা।
১৯৬১ সালের ২১ মে।
আসামের ছোট্ট শহর শিলচর। রাজ্যের প্রধান ভাষা অসমীয়া হলেও বরাক ভ্যালির এই অঞ্চলে বাংলা ভাষাভাষীদেরই আধিক্য। পাকিস্তান হবার এক বছর পর ১৯৪৮ সালে রেভারেন্ডেমের মাধ্যমে সুরমা ভ্যালি (বর্তমানে সিলেট বিভাগ ) পুর্বপাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু বৃহত্তর সিলেটের তিন-চতুর্থাংশ নিয়ে বরাক ভ্যালি থেকে যায় আসামে। ১৯৬১ সালে আসাম প্রাদেশিক সরকার শুধু অসমীয়াকেই রাজ্যের একমাত্র সরকারী ভাষা ঘোষনা দিলে ক্ষোভ দানা বাঁধে বাংগালিদের ভেতরে। ক্রমশঃ রুপ নেয় তা আন্দোলনে। প্রথমে সত্যাগ্রহ। তারপর সহিংস। আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্বে , ১৯ মে, পুলিশ গুলি চালায় মিছিলে। শহীদ হন কমলা ভট্টাচার্য্য সহ মোট ১১ জন। রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হয়।
দেয়াল গড়ে ওঠে মানচিত্র বদলে যায়। তবু রফিক জব্বার কমলার মত ভাইবোনেরা আমাদের মাথা নত না করতে শেখায়।

আভুমি আনত - শ্রদ্ধা একুশে-ঊনিশের সকল ভাষা শহীদদের জন্য।
--- হাস…

আমার প্রতিবাদ

ছবি
এক খাবলা মাটি হাতে লইয়া
নিজের গায়ে মাখ-
মাটিতে লাগাইয়া নাক;
ঘ্রান নে রে ব্যাটা নিশ্বাস ভইরা নে,
মায়ের দুধের গন্ধ পাবি সেখানে।

এই সবুজ জমিনে একবার-
তোর বাপের লাংগলের লগে গড়াগড়ি দে,
এই নদীতে তিনখান ডুব লাগা, শুশুকেরা
যেমন কইরা ডুবে।

এই যে ক্ষেতের আইল,
তার মইধ্যে দিয়া দৌড় লাগা একখান।
আসমানে উড়তাছে ভো-কাট্টা ঘুড়ি,
হ দেখি তার সমানে সমান!

তারপর,
মাথাখান উঁচা কইরা
আসমানের দিকে তাকা দেহি একবার।
কি দ্যাখা যায়? চাঁন-তারা??
আরে বেকুব, সর্বহারা-
সিনা টান কইরা দ্যাখ,
চক্ষু দুইটা খুইলা দ্যাখ-
সুর্য দেখবি খালি,
টকটইক্যা লাল সূর্য !

আসমান আর জমিন একাকার কইরা-
লালে আর সবুজে মাখামাখি...
আমার মায়ের আঁচলের লাহান-
আঁচলের মতন পতাকার লাহান।

৭।০৬।২০০৬



----------
এই কবিতার একটা প্রেক্ষাপট আছে। ( অবশ্য সব কবিতারই একটা প্রেক্ষাপট থাকে।)
সামহোয়্যার ইন ব্লগে কোনো এক পাকিস্তান প্রেমিক হুট করে পাকিস্তানের পতাকা সহ কিছু পোষ্ট দেয়া শুরু করে। ভীষন অশ্লীল মনে হয়েছিল আমার সেটা। তারই প্রতিবাদে লেখা এই কবিতা।
এটা একদম র'- কপি। পরে কখন সুযোগ পেলে এডিট করব হয়তো, বা হয়তো করবো না।

করি বাংলায় চিৎকার

ছবি
করি বাংলায় চিৎকার
...... অতঃপর বছর গড়িয়ে যায়।গড়াতেই থাকে বছরের পর বছর।শহীদের রক্তে ভেজা জায়গা ধুয়ে-মুছে আমরা সেখানে মিনার বানাই।হৃদপিন্ডের মধ্য থেকে ভালবাসার লাল সুর্যটাকে খুলে এনে শক্ত নাইলনের দড়ি দিয়ে বেঁধে দেই মিনারের গায়ে।প্রতিবছর- ফুলে ফুলে সাজাই তাকে।মধ্যরাতে খালি পায়ে এসে গান গেয়ে যাই।কি সুমধুর সেই গান- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি - ।গাইতে গাইতে গলা বেয়ে অশ্রু ঝরে পরে।আহা, সেই অশ্রু যদি মাখিয়ে দিতে পারতাম ভাইয়েদের বুলেট-বিদ্ধ বুকের ক্ষতে! একুশের সংকলনের পাতা উল্টাই আজ।অজস্র শ্রদ্ধাঞ্জলি সেখানে মুখের ভাষা ফিরিয়ে দেয়া সেই বীর শহীদদের জন্যে।দেখে-পড়ে-শুনে ভাল লাগে।ভাল লাগা বাড়িয়ে যাই আমি।পাতা উল্টে চোখে পড়ে - একুশের গল্প।জহির রায়হানের।কোন এক হবু ডাক্তার একুশের মিছিলে তার বন্ধুকে হারায় পুলিশের গুলিতে।কপালের ঠিক মাঝখানটায় গুলি লাগে বন্ধুর।লাশ তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনির লোকেরা। প্রায় বছর তিনেক বাদে তারই রুমমেট এনাটমি পড়ার জন্যে কঙ্কাল নিয়ে আসে।বাক্স খুলে সবাই দেখে প্রয়াত বন্ধুর মতন এর কপালেও একটা মসৃন ফুটো, ডান পায়ের হাড়টা তেমনি এক ইঞ্চি ছোট বাম পায়ের চেয়ে। পড়তে পড়তে শিউ…