Posts

আজ জানলার কাছে ডেকে গেল এক পাখির মতন সকাল-

Image
 

ভার্জিনিয়া উলফ ও জীবনানন্দ-

  ভার্জিনিয়া উলফের গল্পের বর্ণনায় কবিতার ছোঁয়া প্রচুর। গদ্যে কবিতার আমেজ পেলে আমার পড়তে ব্যাপক ভালো লাগে এমনিতেই।   Monday or Tuesday বইয়ের একটা গল্প Kew Gardens. মজার ব্যাপার হলো, মেলবোর্নেও একটা সাবার্বের নাম আছে কিউ। অবশ্য এখানকার বেশিরভাগ এলাকার নামেই ব্রিটিশ প্রভাব অনেক।   এই গল্পের শুরুতে চমৎকার একটা বর্ণনা রয়েছে, যেখানে রোদের আলো এসে ফুলের পাপড়ির ওপরে পড়ে, সেখান থেকে ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়ে নিচ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া একটা শামুকের খোলের ওপরে। বর্ণনা আরও এগিয়ে গেলে একটা অংশে উলফ লিখেছেন, “… and the light now settled upon the flesh of a leaf…” অনেক বছর আগে জীবনের প্রথম কোনও কবিতার লাইন পড়ে পুরো একটা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছিলাম। জীবনানন্দের “অবসরের গান” কবিতার একটা লাইন, “শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে…।”   উলফের লেখাটায় সেই পুরনো কবিতার খোঁজ পেয়ে বেশ ভালো লাগলো।  

কৃষ্ণচূড়াদের গান-

Image
  কৃষ্ণচূড়াদের গান- গরম কফির ধোঁয়ায় জেগে ওঠে আমাদের সকাল দূরের কোনও রেলগাড়ির কুহু ডাক, নাকি সেটা কোকিল কোনও, সে ডাকে ভাঙ্গে এক শালিকের ঘুমও, আমাদের হাতে ধরা থাক আমাদের হাত। আমাদের হাতে আমাদের হাত ধরা থাক। আগুনপাখিদের মতন কৃষ্ণচূড়ার চোখে আজ জল, মেঘ নিশ্চল। ভাঙ্গা কম্পাসে ভুল গানের ছবি দেশ শহর বাড়ি বদলে গেছে সবই, তবুও আমাদের - হাত ধরা থাক, আমাদের হাতে আমাদের হাত ধরা থাক। দূরের কোনও রেলগাড়ির কুহু ডাক, নাকি সেটা কোকিল কোনও, সে ডাকে ভাঙ্গে এক শালিকের ঘুমও, আমাদের হাতে আমাদের হাত ধরা থাক। আমাদের হাতে ধরা থাক আমাদের হাত। ----- গানের কথাঃ তারেক নূরুল হাসান সুর, সংগীতায়োজন ও কণ্ঠঃ নিঘাত সুলতানা তিথি

বইদ্বীপ বৈঠক ৪ | আপনার সন্তানকে অন্তত এই বইটি পড়তে দিন | একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা | মেজর হামিদুল হোসেন তারেক বীরবিক্রম |

Image
 অডিও পডকাস্টঃ  ১/ গুগল পডকাস্ট   ২/ স্পটিফাই   ৩/ অ্যাপল পডকাস্ট  ভিডিওঃ 

উইলিয়াম ট্রেভর-এর গল্প

Image
প্রথম চশমা নেয়ার কথা খুব মনে আছে। রাস্তার স্পিডলিমিটের সাইন দেখার জন্য চোখ ছোট ছোট করে তাকাতাম, পড়তে পড়তে হাতের বইটা হয়ত অজান্তেই তুলে আনতাম একেবারে চোখের সামনে। ডাক্তারের কাছে গেলে পরে চশমা ধরিয়ে দিলো। তারপরে দেখি, বাহ, চারপাশ তত ঘোলাটে নয় আসলে যেমনটা ভেবেছি এতদিন। উইলিয়াম ট্রেভর যেন আমার 'পাওয়ার' লাগানো নতুন চশমা। একঘেয়ে পৃথিবীর ততোধিক একঘেয়ে গল্পকারদের অযথা ঘোলাটে ছবির মাঝখানে হঠাতই স্পষ্টতর, নতুনতর কোনও দুনিয়ার ছবি এই গল্পগুলো। পড়ছি আর কেবলই মুগ্ধ হচ্ছি। আমার বুকশেলফে ইলিয়াসের পাশের জায়গাটা এতদিন ফাঁকা পড়ে ছিল, ট্রেভর সাহেব সেখানে পাকাপাকি জায়গা করে নিলেন সহসাই।

বাংলায় ইবুক ফরম্যাট করার সহজ টিউটোরিয়াল

Image
এই ভিডিওতে হাতে কলমে দেখানো হয়েছেঃ ১/ ওয়ার্ড ডকে লেখা বাংলা পান্ডুলিপিকে কীভাবে ইবুকের জন্যে ফরম্যাট করতে হয়। ২/ ফরম্যাটিং শেষে সেটিকে কী করে ইবুকে (ইপাব, মোবি) ফাইলে কনভার্ট করা যায়।

The Luncheon | মধ্যাহ্নভোজ | William Somerset Maugham | বইদ্বীপ

Image
 

মধ্যাহ্নভোজ | উইলিয়াম সমারসেট মম্‌ | রূপান্তরঃ তারেক নূরুল হাসান

  ক্লাস ইলেভেন-এর পাঠ্যবইয়ে প্রথম পড়েছিলাম সমারসেট মম্‌-এর The Luncheon গল্পটা।   এখনও মাঝে মাঝেই মনে হয়, পাঠ্যসূচী কার তৈরি করা ছিল জানি না, কিন্তু আমাদের ইন্টারের ইংরেজি বইয়ের সবগুলো লেখাই দুর্দান্ত ছিল আসলে। বিশাল ইংরেজি সাহিত্য-জগতের প্রতি ভালোলাগার দরজা খুলে দেয়ার জন্যে, অন্তত আমার ক্ষেত্রে, খুবই কার্যকরী ভূমিকা রেখেছিল সেগুলো।   সেই দারুণ গল্পটা অনুবাদের চেষ্টা করবো ভেবে রেখেছিলাম অনেকদিন ধরেই। তবে অনুবাদের নিয়ম-কানুন নিয়ে সদা সংশয়ে ভুগি। বাংলাদেশে প্রচলিত ধারার অনুবাদ পড়ে তেমন আরাম পাই না আমি। আমার এখনও সবচেয়ে বেশি পছন্দ সেবা প্রকাশনী আর সত্যজিৎ রায়ের করা অনুবাদগুলোই।   এই গল্পটা অনুবাদ করতে বসার আগে নিজের জন্যে একটা চেকলিস্টের মত করে নিয়েছিলাম; সেবা আর সত্যজিতের অনুবাদ সামনে রেখে একটা হোমওয়ার্কের মতন ব্যাপার। অনুবাদের সময় চেষ্টা করেছি সেগুলো মেনে চলতে।   শেষমেশ যা দাঁড়িয়েছে সেটাকে অনুবাদ না বলে রূপান্তর বলাই সমীচীন হবে বোধহয়।   গল্পটি পড়া যাবে এই লিংক থেকে।  

সিজন্স অব বিট্রেয়াল | দময়ন্তী

Image
সাতচল্লিশ সালের দেশভাগ নিয়ে লেখাপত্র আমি আদতে এড়িয়ে চলি। যা কিছু পড়েছি, নন-ফিকশান অথবা গল্প-উপন্যাসে, কোনো অভিজ্ঞতাই স্বস্তিকর হয়নি আমার জন্যে। পড়তে চাই, কিন্তু পেয়েও পড়িনি, এরকম টেক্সটের সংখ্যাও কম নয়। হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি শুরু করেই থামিয়ে দিয়েছিলাম, আজও শেষ করা হয়নি। মাহমুদুল হকের লেখায় অবশ্য দেশভাগ এসেছে, তবে তিনি তার ওপরে একটা মায়ার পর্দার আড়াল টেনে লিখে গেছেন, তাই সেসব পড়ে ফেলতে পেরেছি শেষমেশ। কিন্তু সেগুলোও আমার মনোজগতে বিশাল ঝামেলা করে রেখে গেছে।   এসবই একান্তই আমার ব্যক্তিগত অপারগতা অবশ্য, ঢোল পিটিয়ে বলার মত কিছু নয়।   আমি আজ অব্দি এই দেশভাগের ব্যাপারটা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারিনি। লক্ষ কোটি মানুষ একরাতের ব্যবধানে হঠাৎ করে ঘরছাড়া হয়ে গেছে, দেশহীন হয়ে গেছে; শুধু ভিন্ন ধর্মের বলে জন্মাবধি প্রতিবেশী তার সব কিছু ছিনিয়ে নিতে উদগ্রীব; চেনা হোক কি অচেনা, প্রাণে মেরে ফেলতে একটুও দ্বিধা হচ্ছে না শুধুমাত্র ভিন্ন নামের বলে … । আমি কিছুতেই মানুষের এই তীব্র কদর্য চেহারা মেনে নিতে পারি না।   দময়ন্তী-র লেখা “ সিজনস অব বিট্রেয়াল ” অনেক আগে হাতে এলেও, এতদিন সেটা পড়া হয়ে উঠছিল না এ কারণেই। সম্