Posts

অনীক দত্তের অপরাজিত (দি আনডিফিটেড)

Image
অনীক দত্তের অপরাজিত (দি আনডিফিটেড) দেখলাম গত সপ্তাহে। বেশ ভালো লাগল।  (স্পয়লার রয়েছে। মুভি দেখা না থাকলে আর না পড়াই ভালো।)  . . . . . . . সিনেমা দেখার আগে ট্রেলার বা অন্যান্য খবর খুব বেশি দেখিনি বলে, সিনেমায় বসে যখন প্রথম টের পেলাম, এটা সত্যজিতের ওপরে নয়, বরং পথের পাঁচালীর ওপরে বানানো সিনেমা, বেশ মজা পেলাম।  সবার অভিনয় দারুণ একেবারে। চরিত্র অনুযায়ী কাস্টিং একেবারে ফুলমার্কস পেয়ে যাবে, মেকআপও দুর্দান্ত।  শুধু সব কিছুর নাম বদলে দেয়াটা ভালো লাগেনি। পরিচালকের নিশ্চয়ই কোনও ব্যাখ্যা আছে এ নিয়ে, আমার এখনও চোখে পড়েনি যদিও, কিন্তু সিনেমা দেখার সময় দর্শক হিসেবে বেশ বিরক্ত হচ্ছিলাম এটা নিয়ে। এক শুধু সত্যজিতের অপরাজিত রায় হওয়াটাই মানতে সমস্যা হয়নি, কিন্তু পাঁচালীর ‘পদাবলী’, বিন্দুকে ‘বৃন্দা’, কৃষ্ণকান্তের উইলের ‘উকিল’ অথবা রবিশংকরের সূর্যবাবু হয়ে যাওয়া কেমন স্যাটায়ার হয়ে যাচ্ছিল বারে বারে। আর এই নাম বদলের ফর্মূলাই বা কী ছিল? বাইসাকেল থিভস ঠিক কীভাবে বাইসাইকেল ‘রাইড’ হয়? একেকটা নতুন চরিত্র আসছিল পর্দায়, আর আমার কুইজ খেলার মত করে ‘সেটা আসলে কে’ এই গেমে জড়িয়ে পড়তে ভালো লাগছিল না।  আমার কাছে মনে হয়েছে

The Collected Short Stories by Satyajit Ray

Image
সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্পের আমি সাঙ্ঘাতিক ভক্ত। তাঁর ‘গল্প ১০১’ বইটার বেশিরভাগ গল্পই প্রায় মুখস্ত হয়ে গেছে পড়তে পড়তে। সেগুলো থেকে বাছাই করা ঊনপঞ্চাশটি গল্পের ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে এই বই- ‘The Collected Short Stories by Satyajit Ray.’  অনুবাদ অনেকটা পাজ্‌ল এর মত ব্যাপার বলে মনে হয় আমার কাছে। সেখানে শুধু শব্দের অর্থ বসিয়ে গেলেই চলে না, বরং উদ্দিষ্ট পাঠকের মন বুঝে বাক্য সাজানো লাগে। ধাঁধাঁর চেয়ে কম নয় তা কোনও অংশে! সত্যজিতের লেখা এত পছন্দের গল্পগুলির ইংরেজি চেহারা কেমন হল, সেই আগ্রহ থেকেই বইটি সংগ্রহ করা।  কেনার সময় জানতাম গল্পগুলো অনুবাদ করেছেন গোপা মজুমদার । এখনও সব গল্প পড়ে উঠতে পারিনি, প্রথম দিকের কয়েকটা কেবল। কিন্তু তাতেই অনুবাদের মান নিয়ে খুব ভালো বোধ করছি। খুবই মসৃণ, কোথাও হোঁচট না-খাওয়া অনুবাদ। সত্যজিতের বাংলা-র ঝরঝরে ভাবটা এই অনুবাদগুলোয় খুঁজে পেতে সমস্যা হয় না। এটা একটা বিরাট সাফল্য বলে মনে করি।  তবে বইটি হাতে পেয়ে যে সারপ্রাইজটা পেলাম তা হল, কিছু গল্প দেখলাম সত্যজিতের নিজেরই অনুবাদ করা! এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত পাওনা। এক লাফে খুব প্রিয় গল্প ‘ খগম ’ খুলে বসলাম। সাপের ভাষা সাপের বিষ, ফি

হোমমেইড মিম ১: বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস

Image
 

অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া-

Image
গানেরা কেমন করে ফিরে ফিরে আসে!   তখন কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়ি। ফাইভ অথবা সিক্সে। স্কুলের সামনের ছোট মার্কেটের সিঁড়ি ঘরটাকেই কায়দা করে বদলে নিয়ে একটা ‘ক্যাসেটের দোকান’ চালু হল। গান মানেই তখন ‘ক্যাসেট’- আমাদের কাছে। দোকানের নামটাও একেবারে সেইই- জিপসী! আমাদের কিশোর মনে একটা নতুন ধুমদাড়াক্কা কিছুর  ডুগডুগি বাজিয়ে দিলো দোকানটা। ঈদ উপলক্ষে তখন প্রচুর এলবাম বের হতো। এখন কী হয় জানি না। তো কোনও এক ঈদের আগে আগে আমি আর ছোটমামা সম্ভবত ৩৫ টাকা পকেটে নিয়ে গেলাম সদ্য বের হওয়া একটা এলবাম কিনতে। শক্তি, নাকি স্টারজ, নাকি স্রোত- ভুলে গেছি। কিন্তু এরকম কোনও নাম নিশ্চিত।  সেই ছোট্ট দোকানে ঢুকে আমরা নানা রকম ক্যাসেট দেখছি। বাইরে বিশাল সাউন্ডবক্সে দারুণ কোনও ব্যান্ডের গান বাজছে।  সেই সময় দরজা ঠেলে এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক ঢুকলেন দোকানে। দেখলাম বাইরে যে রিকশা থেকে তিনি মাত্র নামলেন, সেখানে আরেকজন স্নিগ্ধ চেহারার ভদ্রমহিলা বসে আছেন।  তিনি ঢুকে দোকানের ঝকমারি দেখে একটু থমকে গেলেন। তারপরে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনাদের কাছে কি অমল ধবল পালে ক্যাসেটটা আছে?’  দোকানী বুঝলেন না, আবার জিজ্ঞেস করলেন ক্যাসেটের নাম। ভদ্রলোক

মাসুদ রানা-র কপিরাইট এবং চুক্তিপত্রের গুরুত্ব

খবরে দেখলাম, প্রয়াত লেখক শেখ আব্দুল হাকিম-কে মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের স্বত্বাধিকারী বলে ঘোষণা করেছে দেশের কপিরাইট কর্তৃপক্ষ।  মাসুদ রানা, কাজী আনোয়ার হোসেন এবং শেখ আব্দুল হাকিম, এই সবগুলো নামই বাংলাদেশী পাঠকদের আবেগের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, এই মামলা, অভিযোগ এবং তা থেকে আসা সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক রকমের মতামত দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন শেখ আব্দুল হাকিম-ই বইগুলোর ন্যায্য দাবীদার, আবার কেউ বলছেন কাজী আনোয়ার হোসেন এগুলোর প্রকৃত স্বত্বাধিকারী।  স্বল্পজ্ঞানে যতটুকু বুঝি, কপিরাইট কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় কোনও ভুল নেই;  আইন অনুযায়ী এগুলোর স্বত্বাধিকারী শেখ আব্দুল হাকিম। আবার একই সাথে আমি মনে করি, এই বইগুলোর স্বত্ব আসলে কাজী আনোয়ার হোসেনের হওয়া উচিত, হাকিমের নয়।   কেন?  সহজ কথায়, যে কোনও সৃজনশীল কাজের কপিরাইট নিজে থেকেই তার স্রষ্টার কাছে থাকে। মানে, কেউ যদি একটা গান তৈরি করে, অথবা নিজের লেখা কোনও বই প্রকাশ করে, তাহলে সেটির কপিরাইট হবে সেই সঙ্গীতশিল্পী কিংবা লেখকের। এই স্বত্ব দাবী করার জন্যে আলাদা করে কোথাও নিবন্ধন করার দরকার পড়ে না। বইয়ে অথবা এলবামের কোথাও কোনও ঘোষণার দরকার হয় না

আ ফেয়ারওয়েল টু গ্যাবো অ্যান্ড মার্সিডিস | রড্রিগো গার্সিয়া

Image
  অডিও ভার্সন শুনুন এখানে।  গতকাল রাত জেগে রড্রিগো গার্সিয়া-র এই বইটা পড়ে ফেললাম। আ ফেয়ারওয়েল টু গ্যাবো অ্যান্ড মার্সিডিস।     ঠিক কী আশা করেছিলাম বইটা থেকে, জানি না। তবে পড়া শেষে মন খারাপ হলো বেশ। ঘড়িতে তখন চারটার বেশি বাজে, বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। আমি বিছানা ছেড়ে উঠে শুধু শুধুই ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা হাঁটাহাঁটি করলাম কিছুক্ষণ।    সত্যি বলতে কী, সন্তানের কাছে বাবা-মায়ের মৃত্যুর অভিজ্ঞতায়, পৃথিবীর আর সব আটপৌরে ব্যাপারের মতই, কোনও নতুনত্ব নেই আসলে।     রড্রিগো-র লেখার হাত ভালো। ওর দীর্ঘশ্বাসের সাথে তাই নিজেরগুলো মিলিয়ে নেয়া গেল।   মার্কেজের সাতাশি বছরের দীর্ঘ জীবন নিয়ে তেমন কিছু বলা নেই এই বইয়ে। শুধু তাঁর মৃত্যুর আগে-পরের কিছুদিনের গল্প এখানে। আর হঠাৎ হঠাৎ অল্প কিছু স্মৃতিচারণ।     সেটুকু থেকেই জানা গেলো তাঁর প্রতিদিনের লেখার রুটিন। সকাল নয়টা থেকে দুপুর আড়াইটা। একটা ঘোরের মধ্যে চলে যেতেন মার্কেজ, লেখার সময়টায়। ডাকলে ফিরে তাকাতেন, কিন্তু কিছু শুনতেন বলে মনে হতো না। প্রতিদিনের লেখা শেষে তিনি ঘোষণা দিতেন, রাশান কালজয়ী উপন্যাসগুলোর পরে সবচেয়ে দারুণ উপন্যাসটি তিনিই এখন লিখছেন বসে বসে। যদিও

উইলিয়াম ট্রেভর-এর 'আফটার রেইন' | বইদ্বীপ বৈঠক ৯

Image
 

এমিলি ব্রন্টি-র উদারিং হাইটস | বইদ্বীপ বৈঠক ৮

Image
 

আজ জানলার কাছে ডেকে গেল এক পাখির মতন সকাল-

Image
 

ভার্জিনিয়া উলফ ও জীবনানন্দ-

  ভার্জিনিয়া উলফের গল্পের বর্ণনায় কবিতার ছোঁয়া প্রচুর। গদ্যে কবিতার আমেজ পেলে আমার পড়তে ব্যাপক ভালো লাগে এমনিতেই।   Monday or Tuesday বইয়ের একটা গল্প Kew Gardens. মজার ব্যাপার হলো, মেলবোর্নেও একটা সাবার্বের নাম আছে কিউ। অবশ্য এখানকার বেশিরভাগ এলাকার নামেই ব্রিটিশ প্রভাব অনেক।   এই গল্পের শুরুতে চমৎকার একটা বর্ণনা রয়েছে, যেখানে রোদের আলো এসে ফুলের পাপড়ির ওপরে পড়ে, সেখান থেকে ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়ে নিচ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া একটা শামুকের খোলের ওপরে। বর্ণনা আরও এগিয়ে গেলে একটা অংশে উলফ লিখেছেন, “… and the light now settled upon the flesh of a leaf…” অনেক বছর আগে জীবনের প্রথম কোনও কবিতার লাইন পড়ে পুরো একটা রাত নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছিলাম। জীবনানন্দের “অবসরের গান” কবিতার একটা লাইন, “শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে…।”   উলফের লেখাটায় সেই পুরনো কবিতার খোঁজ পেয়ে বেশ ভালো লাগলো।