মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৬

ভাবছো তুমি সুতোর টানে নাচবে সবাই


... ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই-
ভাবছো লোকে দিচ্ছে তোমায় হাততালিটাই।
ভাবছো তুমি বাঁচবে তুমি একার চালে-
ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে। ..

সুমনের গান
ভেবে দেখলাম, ঘুরে ফিরে আমার একাকীতে¡র সঙ্গী আসলে গানেরাই। একটা সময় বই আর গানে কম্পিটিশান ছিলো। কিন্তু এখন হাতের কাছে বই অপ্রতুল। তাই , সিনেমাকে খুব অল্প খানিকটা ভাগ দিয়ে পুরো সাম্রাজ্যটা প্রায় একাই দখল করে নিয়েছে প্রিয় গানেরা

নিজের গানের গলা খুব খারাপ। আমার কর্কশ কবিতাগুলো ছাড়াও হঠাৎ করে মাঝে মাঝেই আনমনে যখন গান গুনগুন করি, কাকের কথা আরও বেশি মনে পড়ে যায়।
অবশ্য কাক গান গায় কিনা জানা নেই, তবে আমি গাই। প্রায়শই, গুন গুন করে, অথবা হেঁড়ে গলায়।

আজ শুনছিলাম সুমনের এই গানটা। আর গুন গুন করছিলাম। একটা সময়ে একটু মনোযোগ দিতেই কথাগুলো খুব আকৃষ্ট করলো।
ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই - । বেশ অদ্ভূত একটা কথা। কিন্তু ভেবে দেখলাম আমরা প্রায় সবাইই ঠিক এরকমটাই আশা করি। পরের লাইনগুলো আরো অদ্ভুত! ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে!

চট করে মনে হলো- সুমন কি এই গানটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন? নইলে গাইতে গাইতে আমার কেন মনে হলো, গানটা আসলে নিজের চোখে চোখ ফেলে গাওয়া উচিৎ!

ভাবছো তুমি এই তো জীবন দিব্যি আছো
নাচাতে চাও দেখাও নিজে কেমন নাচো।
নাচছো তুমি নিজেই নিজের সূতোর টানে-
হয়তো জীবন তোমায় নিয়ে খেলতে জানে।

আমাদের সমাজ বা ব্যাক্তিজীবনের, আরও ভালো করে বললে ব্লগের বাইরের জীবনের অস্থিরতার খানিকটা ছোঁয়া এই ব্লগেও টের পাচ্ছি। বড় বেশি অসহনশীল হয়ে যাচ্ছি আমরা, দিনে দিনে।
এই গানটা আজ ব্লগের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।
পারলে শুনে নিবেন সবাই। হাতের কাছে আয়না পেলে ভালো। না পেলেও সমস্যা নেই। চোখ বুজেও নিজের চোখে চোখ ফেলা যায়।


ছবি নিয়ে কিছু কথা: বাচ্চারা নতুন খেলনা পেলে যা করে, আমার এখন ছবি আঁকার নতুন সফটওয়্যারটা পেয়ে ঠিক সেই অবস্থা। দুমদাম ছবি এঁকে যাচ্ছি। পঁচা হোক কি ভালো, কোনায় আবার নিজের নামও লিখে রাখছি! :-))
খুব আদর করে এই ছবিটার নাম দিয়েছি- আয়না।
আবারো গুনগুন-
ভাবছো তুমি ভাবনা নিয়ে কোথায় যাবে , ভয় পেওনা জীবন তোমায় পথ দেখাবে।

1 টি মন্তব্য:

Zico বলেছেন...

গানটা আমার অনেক প্রিয়। অনেক সত্যি আমার কাছে।

ভালো থাকবেন অনেক।