Posts

Showing posts with the label বাউলিয়ানা

অনুবাদ প্রসঙ্গেঃ এইবার তবে উলটো পথে চলো-

এখানকার একটা নামকরা দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতা পড়তে গিয়ে সম্ভবত প্রথম মাথায় আসে কথাটা। অথবা তারও আগে, হয়ত ঝুম্পা লাহিড়ি পড়ছিলাম যখন, তখন। অথবা, এখন মনে হচ্ছে আরও খানিক আগে, মার্কেজের গল্পগুলো যখন পড়ছিলাম, সম্ভবত তখনই। সাহিত্যপাতায় যে গল্পটা পড়ছিলাম, সেটা আবার সে পত্রিকার সাহিত্য আয়োজনে প্রথম পুরষ্কারপ্রাপ্ত। গল্পের শুরুতে আলাদা রঙ ও ফন্টে সে কথা বিশেষভাবে জানান দেয়া, গল্পের মাঝামাঝি আলাদা একটা বাক্সে লেখকের নাতিদীর্ঘ পরিচিতি, এবং গল্পের সাথে মানানসই চমৎকার একটা ছবি। বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, একজন লেখকের গল্প। ল্যাপটপে গল্প লিখতে গিয়ে তার কাছে গার্লফ্রেন্ডের ফোন আসে, গল্প না গার্লফ্রেন্ড এই দ্বিধায় কেটে যায় গল্পের বাকি অংশটুকু, সবশেষের লাইনে, দেখা যায় ল্যাপটপ খুলে রেখে লেখক বসে, মোবাইলটা সুইচ্ড অফ। গল্পটা খারাপ লাগে না, পড়ে নিয়ে ভাবি, গল্পটা মন্দ নয়; কিন্তু তারপরেই ভাবি, গল্পটা আসলে কতটুকু ভাল? ঝুম্পা লাহিড়ি পড়তে গিয়ে এমন হয়েছিলো। খুব ভাল লেগেছিলো ইন্টারপ্রেটার অব মেলাডিস, এই সহজ সরল বর্ণনা, বিষয় বাছাইয়ের সারল্য, সবই। কিন্তু মাথায় ঘুরছিলো ওয়ালীউল্লাহ বা হাসান আজিজুল হকের গল্পগু...

আপনার সন্তানকে অন্তত এই বইটি পড়তে দিন-

একদম পলকা একটা বই। বড় বড় হরফে ছাপা সবমিলিয়ে মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠা। তার নিজস্ব ওজনের সিংহভাগই হচ্ছে শক্ত বাঁধাইয়ের কল্যাণে। আমার খাবার টেবলের পাশে রাখা ওজন মাপার মেশিনটায় তুললে কাঁটা খুব একটা নড়ে চড়ে না, দেখেছি। কিন্তু পড়তে গিয়ে যতবারই বুকের ওপর রেখেছি, মনে হয়েছে, এর চেয়ে ওজনদার বা ভারী কিছু বোধহয় আর নেই! বইয়ের নাম, একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা। মেজর হামিদুল হোসেন তারেক বীর বিক্রমের লেখা বই। একাত্তর সালে লেখক নিজেও কমবয়েসী ছিলেন, হায়ার সেকেন্ডারীতে পড়তেন। তবু সেই সময়েই তিনি যুদ্ধে চলে যান; এবং দেশের নানা জায়গায় তিনি সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন। এই বইটি অবশ্য মেজর হামিদুল হোসেনের নিজের গল্প নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি বেশ কয়েকজন কিশোরের সংস্পর্শে আসেন যারা নানা ভাবে যুদ্ধের ময়দানে তাঁকে সহযোগীতা করেছিলো। সেইসব কিশোরদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেই এই বই। সাতটি আলাদা অনুচ্ছেদে সাতজন কিশোর কিশোরীর কথা আছে এখানে। রমজান আলী, শশীলাল চর্মকার, নুরু নাপিত, পুতুল, আজিজ মন্ডল, বারেক ও তোতা। মেজর হামিদুল হোসেন নিয়মিত সাহিত্যিক নন। এই বইটির ভাষায় তাই তেমন কোন মাধুর্য্য নেই। একদম সোজা সাপ্টা লেখা। লেখকের বাংলাও খুব...

যা হারিয়ে যায় তা আগলে বসে রইবো কত আর-

সূচীপত্রের সিঁড়ি বেয়ে আমি টপাটপ নামতে থাকি, আটাশে গিয়ে থামবার কথা, কিন্তু তেইশ পর্যন্ত গিয়েই থেমে যেতে হলো! মাওলা ব্রাদার্স থেকে বের হওয়া গাট্টাগোট্টা আকৃতির বই, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের রচনাসমগ্র প্রথম খন্ড। বইয়ের শেষের ফ্ল্যাপে প্রকাশক বলে দিয়েছেন ইলিয়াসের আটাশটা গল্প নিয়ে এই সমগ্র, এমনকি ভুমিকায় লেখকের ছোট ভাই খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের বক্তব্যও তাই, গল্প আছে এখানে আটাশটি। কিন্তু আসলে তা নেই! এক দুই তিন চার করে বেশ কবার আঙুল বুলিয়ে গুনে গুনে গেলাম, উচ্চারণ করে করে পড়তে গিয়ে দুয়েকবার কবিতা বলে ভ্রম হলো, কিন্তু কিছুতেই তেইশের ওপরে যেতে পারলাম না! পাঁচটি গল্প তাহলে কোথায় গেলো, নেই? আমার নিজেকে খানিকটা প্রতারিত মনে হলো। আটাশ সংখ্যাটা বেশ করে মাথায় গেঁথে গেছে। আমি কোথাও ভুল হচ্ছে ভেবে আবারও গুনতে থাকি। ফেইসবুকে কে একজন টোকা দিয়ে জানালো, মাযহার ভাইয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি গোনা থামাই। কলেজের গ্রুপ-ইমেইলে আরেকজন বললো, হায়দার ভাইও নাকি নিখোঁজ। আমি আবারও গুনি, একুশ বাইশ তেইশ। মাযহার ভাই আমাদের দুই ব্যাচ সিনিয়র। দুই তিন। আর হায়দার ভাই তিন ব্যাচ। মাযহার ভাই ভাল এথলিট ছিলেন। মাযহার ভাই দ্রুত দৌ...

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের "প্রেমের গপ্পো"

ইলিয়াস আমাদের কাছে খুব বেশি মালমশলা রেখে যান নাই, মাত্র ২৮ টা গল্প, অল্প কিছু প্রবন্ধ আর ২ টি উপন্যাস, সাকুল্যে এই আমাদের সম্পদ। কিন্তু অল্প সংখ্যক লেখা দিয়াই তিনি নিজের স্টাইল দাঁড় করে ফেলেছেন। যে কারণে ইলিয়াসের লেখা পড়েই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না এটা কার লেখা। তো কি সেই স্টাইল? আমি জেনারালাইজড করতে পারছি না। তবে নিজের পাঠানুভুতি বলতে পারি। ইলিয়াসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ লাগে বর্ণনা। আমি নিজে বর্ণনার খুব ভক্ত। গল্প যখন মাথার ভেতর সিনেমা হয়ে ওঠে, সেই মুহুর্তেই আমার গল্পরে ভালবাসতে ইচ্ছা করে। তার আগ পর্যন্ত দুরে ঠেলে বসিয়ে রাখি। ইলিয়াসের গল্পগুলান এই দিক দিয়ে একদম যা-তা রকমের ভাল। বর্ণনাগুলা এত সাবলীল যে মাত্র অল্প কিছু লাইনের পরেই মাথার ভেতরে গল্পের দৃশ্যগুলার চিত্রায়ন করে নিতে কোনরূপ সমস্যা হয় না। তারপরে ক্রমশ সেটা ফেনায়িত হতে থাকে, গরম কফির মত। তখন খানিকটা নেশাও লেগে যায়, বর্ণনার গুণেই। ইলিয়াস পড়তে গিয়া আমি যে সমস্যায় পড়েছি, সেটা সাধারণত অমনোযোগী/ নতুন পাঠকদের বেলায় ঘটে। কিন্তু আমি মনোযোগী পাঠক, তবু এই সমস্যার কারণ ধরতে পারি নাই বলে দোষটা ইলিয়াসের গদ্যের উপরই চাপিয়ে দিতে দ্বিধা করি নাই। সমস...

বইমেলায় বন্ধু-র বইঃ অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল

Image
বিখ্যাত লোকজনদের সাথে আমার কখনো বন্ধুত্ব হয়নি, বরং তার উল্টোটাই ইদানিং বেশি বেশি ঘটছে, আমার বন্ধুরাই বেশ বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। :) আর এই তালিকার সাম্প্রতিক দুটো নাম হচ্ছে অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল । এই দুইজনের সাথেই পরিচয় হয়েছে ব্লগে এসে। লম্বা সময় পাড়ি দিয়ে এখন দুজনেই আমার আত্মার খুব কাছের মানুষ, কখনও দেখা না হয়েও! এবারের বই মেলায় ডেব্যু করছে আনোয়ার সাদাত শিমুল , তার অথবা গল্পহীন সময় বইটি দিয়ে। এগারোটি ছোট গল্পের একটা সংকলন হবে এটা। শিমুলের গল্প বলার ভঙ্গি দুর্দান্ত। চারপাশের চেনাজানা ঘটনাকে তুলির টানে এমন অদ্ভুত সুন্দর করে তুলে ধরে যে, বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। ওর লেখা গল্পগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো নীলুফার যখন মারা গেলো , রীতিমতন চমকে গিয়েছিলাম পড়ে। লিংক করে দিলাম, যার ইচ্ছা পড়ে দেখতে পারেন। সাম্প্রতিক আরেকটা গল্পও খুব ভাল লেগেছে- আমরা সস্তায় ফ্ল্যাট কিনতে চেয়েছিলাম । অমিতের এবারে ২য় বই বের হচ্ছে। প্রথম বই ছিলো একটা উপন্যাস, নাম- গন্দম। অনেকদিন অপেক্ষার বাদে সেই বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, এবং পড়ে টড়ে আমি যারপরনাই মুগ্ধ! অমিত তার নামের মতই অমিত সম্ভাবনাময়। অমিতের গল্প পড়ল...

হা ঈশ্বর

যদি সত্যিই তুমি আমার কথা শুনতে পাও, ওদের বাগান তুমি ফুল শূন্য করে দাও দয়া করে, ওরা ফুল টিপে মেরে ফেলে। আর কোন বাবা যেন ওদের সংসারে না আসে। আর কেউ যেন মা, ভাই কিংবা বোন না হয় কারও। ওদের ঘরে তুমি আর কোন শিশুর জন্ম দিও না, প্লিজ। তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না যে, ওরা শিশুদের গুলি করে মেরে ফেলে! ---------------------------

দু' বছর

রোজ সকালে আড়মোড়া ভেঙে ওই একটা সবুজ তোয়ালেতেই মুখ মুছি প্রতিদিন। রোজ একই জুতা জামা গায়ে, সেই একই রাস্তা ধরে- একই গন্তব্যে পৌঁছে যাই বারবার। দুয়েকটা রঙীন ফানুস এসে মাঝে মাঝে, খানিকটা রঙধনু ধার দিয়ে যায় হয়তো- আমাদের দুজনের চোখের জল আজ, মিলেমিশে মুখ লুকিয়ে হাসে। এরকম অভ্যস্ততায় কতগুলো দিন কেটে গেলো! একটাই জানলা দিয়ে রোজ, দুয়েকটা চড়ুই এসে পড়ে- কী আশ্চর্য, আমরা দুজন একটি ঘরে থাকি! অথবা আমাদের একমাত্র সুখের আজ ঠিক দুবছর। প্রতিনিয়তই আমাদের নিঃশ্বাসের সুর মিলে যায়- তবু দেখ, সেই তোর জন্যেই কোন গান আজও লেখা হয়ে উঠলো না আমার। ==== Tomar Jonyo.mp3 --------- গানঃ অন্জন দত্ত, তোমার জ‌ন্যে, এল‌বাম- হ্যালো বাংলাদেশ।

বনফুলের গল্পসমগ্র-

কলিকালে এক ডাক্তার জন্মিয়াছিলেন বাঙালাদেশে। তাঁহার পসার ছিলো, সেই সাথে প্রাণের ভিতরে সাহিত্য করিবার প্রেসারও ছিলো। নিজের দাওয়ায় বসিয়া তিনি প্রেসক্রিপশানে রুগীদের কষ্টের হিস্টরী লিখিতেন। আর তাহাদের সহিত আলাপের অবসরে, মনের ভিতরের কোন এক খাতায় নানা প্রকারের নোট লইতেন, সংস্পর্শে আসা নানাবিধ জীবন আর তাঁহাদের কাছ হইতে পাওয়া এই সব অলৌকিক গল্প তিনি কোন দিন লিখিয়া উঠিবেন এই আশায়। সেই সব প্লটগুলান তিনি একখানা খাতায় লিপিবদ্ধও করিয়া ফালাইলেন, ভবিষ্যতে সেগুলা পূর্ণতা পাইবে, ইহাই ছিলো কামনা। কিন্তু তিনি ব্যস্ত‌ মানষ‌। মোটের ওপরে, তেমন করিয়া আর সময় করিয়া উঠিতে পারিলেন না। তখন ভাবিলেন, প্লটগুলান এই রূপেই গল্প হিসেবে ছাড়িয়া দিলে কিরূপ হয়? তো তিনি তাহাই করিলেন। এবং, নিজের অজান্তেই তিনি সৃষ্টি করিলেন গল্পের এক নতুন ধারা। গল্পিকা, গল্প-কণিকা বা আদিরূপ ছোটগল্প ঘুরিয়া অদ্যকার কলিযুগে সকলে যাহাকে অণুগল্প হিসাবে চেনে। * একটু হাসফাঁস লাগলো এইটুকু লিখতেই। তবে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। চলিত ভাষায় লিখতে গেলে সম্ভবত একটু বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে বেশি, সাধুতে সেটা অল্প কথায় সেরে ফেলা যায়! বলে রাখা ভাল, উপরের চিত্রটি পুরোপ...

ইলিয়াসের ঘোড়া

ভাল লেখা আসলে-যাকে বলে-খানিকটা বিটকেলে গন্ধের মত। সুগন্ধর আবেদন খুব বেশিক্ষণ থাকে না, নাকে হয়তো রয়ে যায় বেশ কিছু সময়, কিন্তু মাথা থেকে দুরে সরে যেতে সময় নেয় না একটুও। গোলাপ বা রজনীগন্ধা শুঁকলে পরে খানিক পরেই ভুলে যাই, তুলনায় খানিকটা পেট্রোল পোড়া গন্ধ, অথবা সদ্য জ্বালানো দিয়াশলাই কাঠি বা না জ্বালানো বারুদ- এই সব অদ্ভুত কিসিমের গন্ধই মাথায় রয়ে যায় অনেকক্ষণ। ধুপ বা ধুনোর ধোঁয়ার মত মাথায় ঘুরতে থাকে, চুলের গোড়া ঘিরে ঘিরে থাকে। ক'দিন, বেশ ক'দিন ধরেই আখতারুজ্জামান ইলিয়াসে ডুবে আছি। পড়তে পড়তে অদ্ভুত সব অনুভুতি হয়, মনে ও মাথায়। দরজা জানালা আটকে লুকিয়ে গাঁজা টানার মত একটা নিষিদ্ধ উত্তাপে ভরা আনন্দ লাগে, যতক্ষণ ইলিয়াস পড়তে থাকি। একদম প্রথম গাঁজা খাবার দিনটার কথা মনে আছে বেশ। নাখালপাড়ার রেললাইনের পাশের কোন একটা ঝুপড়ি ঘর থেকে কিনে এনে ওখানকারই কোন একটা দালানের একটা ঘরে আমি আর আমার প্রতাপশালী গাঁজাখোর বন্ধু যখন আমার ডেব্যু করছিলাম, আমি শুরুতেই বেশ কিছু লম্বা টান দিয়ে ফেলেছিলাম। আর বারে বারেই বলছিলাম, দেখিস, ওসব নেশা টেশা আমার হবে না। তারপর ক্রমশ টান দেবার ঘনত্ব বেড়ে বেড়ে যায়। আমি কথা বলতেই...

বাতের ব্যথা

কোন একটা অসুখকে আগে বড়লোকদের অসুখ বলে জানতাম, কী যে সেটা, ভুলে গেছি। যেমন জানতাম 'বাতের ব্যথা' হলো খাস গরিবী অসুখ। অসুখের খোঁজ খবর নিচ্ছি, তার একটা অগভীর কারণ আছে। ইদানীং কিছুই লেখা হচ্ছে না। দু'তিনটে গল্প সিনেমার মত করে অনবরত মাথার ভেতর পুনঃপ্রচারিত হয়ে চলছে। বিচ্ছিন্ন কিছু কিছু কবিতার লাইন মাথার ভেতর কাঠঠোকরার মতন ঠোকর মেরে মেরে যায়। মুশকিল হলো, এগুলোকে খাতার ভেতরে স্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলাটাই হচ্ছে না। এইরকম একটা অবস্থাকে বড়লোক লেখকেরা বলেন 'রাইটারস ব্লক'। কিন্তু এই শব্দ আমার বেলায় খাটবে না, আমি তো আর বড়লোক লেখক নই। আমি হলাম হত-দরিদ্র কলমবাজ। এখন তাই আমাকে কলম্বাসের মতই রাইটার্স ব্লকের সমার্থক বাতের ব্যথা জাতীয় নতুন কোন গরিবী শব্দ আবিষ্কার করতে হবে। কি মুশকিল!

পৌনঃপুনিক

প্রায়শই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে ভাবি, নাহ, আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব। তারপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে দিন শুরু করি। বেলা বাড়তে থাকতে, সূর্য্যের আগে আগে আমি ছুটে চলি নানা কাজে। ওপেনটি বাইস্কোপ, নাইন টেন ..., নাকি নাইন ইলাভেন এখন? সে যাকগে, চুলটানা বিবিয়ানা, আর আমার বৈঠকখানা রংবেরঙের বায়োস্কোপে ভরে ওঠে। তার থেকে বেছে বেছে কিছু নিয়ে আমি রংধনু বানাই। পৃথিবী তার আহ্নিক সারে। আমি মাঝামাঝি ক্লান্ত হয়ে এবং অনেকই রেগে মেগে লাগাম টেনে ধরি। ওরে বুবু সরে দাঁড়া, আসছে আমার পাগলা ঘোড়া। আমি বাড়ি ফিরবার অনেক আগেই দেখি সূর্য্য বাড়ি ফিরে গেছে, সারাদিনের শোধ তুলে নিয়ে অট্টহাসি দেয় যেন। তো দিক না! সেই তো আন-বাড়িতে ডিউটি তার এখন। আমার মতন সুখ সুখ সুখ কই পাবে সে? তো, সুখী হই, হয়ে আমি জাল টেনে বসি। আনাচে কানাচে কত আঁকাআঁকি, কত লেখাজোকা- সবগুলোর ভাঁজ খুলে খুলে রঙে ভেসে যাই, ডুবে ডুবে যাই। আর ডুবতে ডুবতে চোখ বুজে ভাবি, নাহ, কাল থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব।

আমি আগের ঠিকানায় নেই-

কুনোব্যাঙ আর আমি আগের জন্মে নির্ঘাৎ মামাতো ভাই ছিলাম। আমার ঘরকুনো স্বভাবটা যারা জানে, তারা সেটা একবাক্যে স্বীকার করবে। একটা ঘর পেলে তার কোনাকানিতে জীবন কাটিয়ে দিতে পারি আমি, কিন্তু কি আশ্চর্য, কোন খুঁজে নেবার ঘরটাকেই পালটাতে হয় আমাকে বারবার। সম্প্রতি আমার আবারো ঠিকানা পাল্টেছে। এবারের পালটানো, আগেরগুলোর মত বিষাদময় নয়। তেপান্তরের চেয়েও লম্বা সাগর পাড়ি দিয়ে বউ এসেছে আমার কাছে। দুই রূমের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে বাসা বেঁধেছি আমরা। প্রতিদিন দু'হাত ভরে সংসারের যাবতীয় সামগ্রী কিনে বাড়ি ফিরি, ভাবি এই বোধহয় শেষ, আর কিছুই কেনা বাকি নেই। পরদিন আবার বাজারে যাই, দুয়ে দুয়ে চার হাত ভরে যায়, তবু পরের দিনের স্বপ্ন কেনা বাকি থেকে যায়। বাড়ির সাথে সাথে, আধুনিক নাগরিকের মতন পাল্টেছে আমার ফোন নাম্বার। আর..., আর পাল্টেছে, আইপি এড্রেস। এটুকু পাল্টাতে অবশ্য একটু সময় লেগে গেল। আজকে বাসায় নেট-এর সংযোগ লাগার সাথে সাথেই টের পেলাম, আমার এই নতুন ঘরেও একটা ছোট্ট সুন্দর কোনা রয়েছে। পূর্বজন্মের সেই মামাতো ভাইয়ের মতন আজ থেকে আমিও তবে ঘরকুনো হয়ে যাবো!

লোপা এলেন, লোপা গেলেন-

Image
কিন্তু যাবার আগে জয় করতে পারলেন কি না, সেটা আমি বাদে অডিটরিয়মে উপস্থিত বাকি সব দর্শক শ্রোতারা জানেন। আমি জানি না, কারণ বহু আগেই তিনি আমাকে জয় করে ফেলেছেন। অন্য সবাই যখন তাই ফুলগুলো বুকপকেটে লুকিয়ে এনেছিলো, যদি পছন্দ হয়, তবেই তাঁকে পরাবেন ভেবে, আমি তখন ঢাকঢোল সহ লাল গালিচা নিয়ে উপস্থিত সেখানে! তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক থাকতে পারি নি শুনে। বাকি সবার সাথে তাই প্রায়শই চেঁচিয়ে উঠেছি, আরেকবার হবে, ওয়ান মোর! তো গাইলেন লোপামুদ্রা, পুরো শরীর আর মন দিয়ে, আমিও দেখলাম তাঁকে, শুনলাম মাত্র পনের গজ সামনে বসে। পনের গজ অনেক দূর ভাবছেন নাকি? উঁহু, ভুলে যাবেন না, ক্রিকেট পিচের দৈর্ঘ্যও মিনিমাম বাইশ গজ। তারই দু'প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে কতই না আন্ডারস্ট্যান্ডিং! পনের তার চেয়ে কম হলো না?!? মেলবোর্ণের মূল শহর থেকে দূরে, কোন একটা খটোমটো নামের অডিটরিয়ামে দাঁড়িয়ে, তিনি সর্বমোট বিশ বা বাইশটি গান গাইলেন। গানের পছন্দগুলো এলোমেলো ছিল না। সেটা বুঝলাম যখন দর্শকদের নিজস্ব পছন্দ জানবার পরেও তিনি পুরোটা সময়েই তাঁর মত করে নিজের সিরিয়ালেই গান গাইলেন। এর ফলে যেটা হলো, সারাক্ষণই একটা উত্তেজ...

দূরালাপনী-

কাল কি জানি কি হলো, রাতে ঘুমুবার আগে খু-উ-ব মন কেমন করে উঠলো! বালিশের তলায়, বিছানার নীচে- আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজি, কিন্তু কোথাও পেলাম না আমার কেন মন খারাপ! বাইরের মাঠে, ঘাসের ডগার আড়ালেও খুঁজলাম অনেকক্ষণ। কি মুশকিল! সেখানেও নেই নেই নেই। মুখ তুলে তাকাতেই দেখি ঘাসফড়িং, তাঁকে দেখে যেই না লুকাবো, ও মা, সে দেখি আমার দিকে চেয়ে ফিক ফিক হাসে! আমি তার ডানা ধার নিয়ে উড়ে উড়ে উড়ে সো-জা- মেঘের ওপরে! ওখান থেকে উঁকি দিয়ে দেখি, না তো, সেই নদীটার গায়েও লেখা নেই কেন আমার মন খারাপ। এমনকি ওই বদমাশ পাহাড়টাও জানে না! আমি ধ্যুত্তোরি বলে রাগ দেখালাম। তারপরে রংধনু বেয়ে নেমে এলাম ঘরের ভেতর। বিছানার কাছটায় এসে মনে পড়লো- আরে, চাঁদকে তো জিজ্ঞেস করি নি! জানালা খুলে যেই না ডাকতে যাবো, ওমনি ব্যাটা আমার ঘরে এসে হাজির। আর কি নির্লজ্জ! বসলো গিয়ে ঠিক তোর মাথার কাছটাতে। আমি চোখ রাঙিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলি, চুপ! শব্দ কোরো না! ঘুমাচ্ছে তো! তারপর জোছনার আলো সরিয়ে চাদরটা তোর গায়ে টেনে দিতে দিতে হঠাৎই মনে পড়লো, তাই তো! কাল যে তুই আমাকে গুড নাইট না বলেই ঘুমিয়ে গেলি! আমার মন খারাপ হবে না বল?

তবু মুখোমুখি এক আশাতীত ফুল আছে-

যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের , মানুষের সাথে তার হয় না কো দেখা...। হবেও না কখনো, জানি, তবু ইদানীং যখন প্রতিটা সকাল থেকে প্রতিটা দুপুর বা প্রতিটা বিকালকে আলাদা করতে পারি না, প্রায় একই রকমভাবে যখন সময়েরা আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, যাচ্ছে, দু:স্বপ্নের মত করেই হঠাৎ আবিষ্কার করি আমার জীবনটা যেন ঢেঁকিতে পাড় দেয়ার মতন বড় বেশি নিয়মিত, বড় বেশি একসুরে বাঁধা পড়ে গেছে। জীবনানন্দের কবিতা কখনোই শুধু মুখে পড়ে নিস্তার পাই নি, সে কবিতার আবেশ এরকমই তীব্র ছিলো যে বইয়ের পাতায় ছাপানো কালো অক্ষরগুলোয় আঙুল বুলিয়ে চলতাম পড়ার সময়, যেন ছুঁতে চাইতাম শব্দগুলোকে, শব্দের প্রানস্পন্দনকে। একেকটা দিন ছিলো, যখন, শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে, আমার প্রিয়তম এই লাইনটি ঠিক কেমন করে লেখা হলো, কোন সেই তীব্র পার্থিব চোখ নিয়ে তাকিয়েছিলেন কবি যে এরকম একটি লাইন তার মাথায় চলে এলো- এই সব ভাবনা ভাবতে ভাবতে সারাটাদিন কাটিয়ে দিতে পারতাম, লিখে ফেলতে পারতাম হয়তো হাজার দশেক শব্দের চেয়েও দীর্ঘ কোন প্রবন্ধ। সেইসব দিন গুলোকে আজকাল অনেক দূরের দেশ বলে মনে হয়। আয়নায় না তাকিয়েই ভয় পাই, সেখান থেকে যদি অন্য আমি বলে ওঠে, বুড়ো হয়ে গেছ তুমি বুড়ি পৃ...

সাহানার গানঃ নতুন করে পাবো বলে-

Image
এতদিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে...। গত কদিন ধরে একটানা শুনে যাচ্ছি সাহানার গান। বাইরে যতক্ষন আছি, সারাক্ষনই কানে বাজছে । বাসায় ফিরেও শুনেই চলেছি। পুরো এলবামটাই ভাল লাগার মতন। গানগুলো বেছে নেয়া হয়েছে অনেক যত্ন করে। রবীন্দ্রনাথের অল্প কিছু গানই ঘুরে ফিরে শুনতে পাওয়া যায়। যারা রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশেষ ভক্ত, তাঁরা বাদে বাকিদের জন্যে কিছু অপ্রচলিত গানও গেয়েছেন সাহানা। এমনিতে অর্ণব-সাহানা জুটি আমার খুব পছন্দের। সাহানার লেখা অর্ণবের সব কয়টা গান খুব প্রিয় আমার। দু'জনে মিলে ইতিমধ্যেই বাংলা গানকে অনেক দিয়েছেন, নতুন করে পাবো বলে - নামের এই এলবামটা নিঃসন্দেহে তার সাথে খুব ভাল একটি সংযোজন। সাহানার গলা অদ্ভুত ভাল। খানিকটা ছেলেমানুষী ভাব রয়ে গেছে, এবং একটুখানি বিষন্ন যেন, খুব মনোযোগে শুনতে থাকলে বুকের ভেতরে কোথাও যেন হুট করে ফাঁকা লাগা শুরু করে। কিছু গানের বিশেষ কিছু জায়গা বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..., এখানে মাতালো বলে যে টানটা দেয়, আমি বারবার পিছিয়ে গিয়ে শুনি। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে... এ গানটাও অদ্ভূত ভাল গেয়েছে সাহানা। আজ জোছনা রাতে সব...

রাইট অর রং-

Image
মাই কান্ট্রি!!!

শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তিঃ মকবুল সমুদ্রে যাবে-

শিমুল মুস্তাফার প্রসঙ্গে কে যেন একবার বলেছিলেন, সম্ভবত লুৎফর রহমান রিটন, নাকি অন্য কেউ ভুলে গেছি, যে, এত ছোট্ট একটা শরীর থেকে এত জোরালো শব্দ কেমন করে বের হয় ভাবতেই অবাক লাগে! গানের মতই আবৃত্তি বিষয়ক কোন জ্ঞান নাই আমার। শুনে শুনেই যতটুকু বুঝি সেটুকুই, মানে হলো, শোনার জন্যে তৈরি দু'খান কানের কল্যাণে বুঝবার জন্যে তৈরি একটা প্রাণ পেয়ে গেছি আমি, সেটাই ভরসা! আবৃত্তির জন্যে পাগল আরো অনেক আগে থেকেই। আমি আর আমার পিঠাপিঠি ছোটমামা একসাথে বড় হয়েছি। আমি যখন সেভেন বা এইটে, ঐ সময় ওনার মনে অনুরাগের আবির্ভাব হয়েছিলো- তখন তিনি সারাদিন আবৃত্তি শুনতেন। মাহিদুল ইসলাম আর শমী কায়সারের বিনাশ ও বিন্যাসে শুনতে শুনতে প্রায় মুখস্খ হয়ে গেছিলো- আমার আবৃত্তি-প্রেমও আসলে তখন থেকেই। পরবর্তিতে কার্জন হলের ছাত্র হবার সুবাদে টি.এস.সি যখন আমার সেকেন্ড হোম, তখন অনেকগুলো আবৃত্তি সংগঠনকে কাছ থেকে দেখেছি, অনেকগুলো প্রোগ্রামে গিয়েছি। ঐ সব আবৃত্তি সংগঠন গুলার প্র্যাকটিসে যাওয়াটা আমার কাছে ভীষন লোভনীয় লাগতো- নিজে যদিও কখনো আবৃত্তি করি নাই কিন্তু পাশে থেকে শুনেও শান্তি লাগতো! তখুনি টের পেয়েছি যে প্রতিষ্ঠিত অনেক আবৃত্তিকারের চ...

হোয়াট আ ডে!!!

Image
রাতে ভালো ঘুম হয় নাই তাই সকালে যখন ক্লাসে যাবার জন্যে উঠতে হইলো মেজাজ গেলো বিলা হইয়া। বিলা হওয়া মেজাজে পি.সি.র সামনে বইসা দেখি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডরে শোয়াইয়া ফালাইছে! মনটা খুশিতে আনচান কইরা উঠলো কিন্তু ক্লাশে গিয়া পাইতে লাগলো বেজায় ঘুম। যাওয়ার সময় হাউজমেটের গাড়িতে চইড়া গেছিলাম তাই সীটের মধ্যে আরাম কইরা চোখ বুইজা ছিলাম। কিন্তু আসার সময় ও আর আসবো না এদিকে আমার গাড়ি আনি নাই তাই বাসে যাইতে হইবো। বাসের লাইগা লাইনে দাঁড়াইয়া দেখি গত সাত বছরে এই প্রথম আমি মানিব্যাগ বাসায় ফেইলা বাইর হইছি! মানিব্যাগের মইধ্যে আমার ব্যাংক কার্ড বাসের টিকেট সব কিছু। এখন ঐসব বাদ দিয়া কেমন কইরা কি দিয়া টিকেট কাটুম বুঝতাছি না কিন্তু ভাগ্য ভালো যে আমার আরেক হাউজমেট একই বাসে কইরা সিটিতেই ল'ইয়ারের লগে দেখা করতে যাইবো। আমি ওর কাছ থেইকাই তিন টাকা ধার লইয়া আমার কাছ থেইকা ২০ সেন্ট দিয়া একটা দুই ঘন্টার টিকেট কাইটা বাসে চইড়া আমার সাবআর্বে হাজির হইলাম। ঐখানে গিয়া আবার বাস বদলাইতে হইবো কারন এই বাস আমার বাসার সামনে দিয়া যায় না কিন্তু ঐ বাস যাইবো। বাসের লাইগা গালে হাত দিয়া বইসাই আছি বইসাই আছি কিëতু বাস আর আসে না। যাক অবশেষে ব...

রোজনামচা-

Image
সূর্যোদয়- --------- আকাশ ভরা মেঘমালা। কালো কালো আর বাদামী। বৃষ্টি হতেও পারে, আবার নাও পারে। তবে আকাশের মেঘের একটা বিশাল অংশ মনের মাঝে গিয়ে ঢুকে বসে আছে। বাইরে বৃষ্টি নেই, কিন্তু ভেতরে অঝোরে ঝরে যাচ্ছে কেবল- । মুষলধারে। টুপুর টাপুর, টাপুর টুপুর। “আদরে সোহাগে প্রেমের পরশ দিয়া- কবির বেদনা বহন করে কি প্রিয়া?'' কার কবিতা? ভুলে গেছি, ভুলেই যাই শুধু- নির্মলেন্দু কি? তাই হবে! মধ্যাহ্ণ- ------ শিলাজিৎের গান শুনে চমকে গেছিলাম প্রথম। আজগুবি টাইপের ভাষা। তবে দূর্দান্ত হলো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক! কোন একটা গানে, পেছনে খবর বাজতে থাকে, রেলের শব্দ, পাশেই কোন এক হকার, একটা সিনেমার দৃশ্য যেন, এবং তার মাঝ থেকেই হঠাৎ শিলাজিৎ গেয়ে ওঠে জটিল সব গান। এটা যেরকম: এক্স=প্রেম ! এই মূহুর্তে আরো একটা গান শুনছি- তুমি যা জিনিস গুরু আমি জানি আর কেউ জানে না। মজার গানটা। অপরাহ্ণ- ------- ঘোষনা জিনিসটা আমাদের জীবনে খুব প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে মনে হয়। ছোটবেলায় মাইকে বেজে উঠতো- একটি ঘোষনা- সাথে সাথে কান পাততাম, আবার কার কী হলো? বেশিরভাগি দেখা যেত বিদ্যুত বা গ্যাস বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা দেয়াট...