শুক্রবার, মার্চ ১৬, ২০০৭

যায়যায়দিন ও ব্লগ বিষয়ক লেখা নিয়ে হাবিজাবি কথা-

এমনিতে যায়যায়দিন পত্রিকা পড়ি না। ওদের কার্যকলাপ পছন্দ নয়। আমার একজন প্রিয় ব্লগার, যার একটা বৃহৎ স্বপ্নের বাস্তবায়নে নিজের ক্ষুদ্্র অবদান রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম, তিনি সে পত্রিকায় কাজ করেন জানতে পেরে আমি বেশ কদিন দ্বিধায় ভুগেছি এই ভেবে যে, আমাদের মতের মিল হবে তো?
ভাগ্য ভালো যে প্রাকৃতিক ভাবেই সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম।

যায়যায়দিনের ওপর নানা কারণে রাগ। ওদের বানানরীতি নিয়ে অনেক আপত্তি করা যায়, আনন্দবাজারের চেয়ে কোন অংশে কম যায় না তারা। তারচেয়ে বড় কথা, একটা দীর্ঘসময় ধরে যায়যায়দিন আমাকে বোকা বানিয়ে এসেছে! আওয়ামীলীগের ক্ষমতার পুরোটা সময়ে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত যায়যায়দিন পড়তাম। সে সময়ে সরকারের ধারালো সব সমালোচনা করতো পত্রিকাটি। নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো- এরকম ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ভাবতাম, কি দারুন সাহস এদের, সরকারকেও ছাড়ে না, কি দারুন দেশপ্রেম!
পরবর্তীতে বিএনপির আমল শুরু হলে মাসকয়েক যাবার পরেই আমি যায়যায়দিনের আসল চরিত্র বুঝতে পেরে সে পত্রিকা পড়া ছেড়ে দিলাম। এখন একেবারেই পড়ি না।

ব্লগ নিয়ে ইদানীং নানা পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক ব্যপার। আমাদের ব্লগের কৌশিক আহমেদ এরকম লেখকদের মধ্যে একজন। তাঁর সর্বশেষ লেখা- “ যেমন ইচ্ছে লেখার আমার ব্লগ-এর খাতা“ পড়বার জন্যেই সর্বশেষ যায়যায়দিনে ঢুঁ মারলাম।
বেশ ভালো লাগলো লেখাটি। কৌশিক আহমেদের আগের লেখাদুটিও পড়েছিলাম। নতুন একটা কিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে যে সহজবোধ্যতা দরকার, ঐ লেখাগুলোয় সেটার খুব অভাব ছিলো। এবারেরটাতে তা নেই। ইতিমধ্যেই সেই লেখা পড়ে বেশ কয়েকজন এই ব্লগ ঘুরে গেছেন, তার মানে হলো সেই লেখার কার্যকারিতাও প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। এটাও বেশ আশাপ্রদ।
লেখাটি পড়ে আমিও অনেক নতুন তথ্য জানলাম। কোন কোন বিখ্যাত মানুষদের সাথে খুব শিঘ্রই আমাদের এই ব্লগে দেখা হবে, সে তালিকা পড়লে খানিকটা পুলকিত হতে হয়!
ব্লগার কনফুসিয়াসপ্রজাপতির বিয়ের খবরও আছে দেখলাম, এবং দেখে খানিকটা লজ্জিতও হলাম। এইখানে, কৌশিক আহমেদ এবং বাকি সব পাঠকের জন্যে খানিকটা তথ্য সংযোজন করা আবশ্যক বলে মনে হচ্ছে। লেখাটিতে বিয়ের খবরটি উপস্খাপনার “গুণে'' অথবা “দোষে'' মনে হতে পারে যে কনফুসিয়াস ও প্রজাপতির পরিচয় সম্ভবত এই ব্লগের সূত্র ধরেই। বাস্তবিক তা নয়। এই দুইজন মানুষ পরস্পরকে চিনেন গত সাত বছর ধরে। এই পরিচয়, বন্ধুত্ব ও প্রেম ইত্যাদি পর্যায়ের পর তার পরিনতিতেই তারা বিয়ে করেছেন। সামহোয়্যারইনব্লগ তাঁদের জীবনের একটা অংশ বটে, তবে ব্লগই তাঁদের জীবনের এত বড় একটি সিদ্ধান্তের প্রধানতম ক্যাটালিষ্ট নয়।
তথ্যের উপস্খাপনায় অবশ্য বড় কোন সমস্যা নেই। তবে কিছু স-হৃদয় রোমান্টিক পাঠক এই বেলা সামহোয়্যারইন ব্লগকে ঘটক পাখী ভাইয়ের ভুমিকায় দেখতে না চাইলেই হলো!
লেখককে ও বাকি সব বোদ্ধা পাঠককে শুভেচ্ছা।


কোন মন্তব্য নেই: