সোমবার, মার্চ ০৫, ২০০৭

বাংলাদেশ সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ-

গুরুচন্ডালির টইপত্তরে অরিজিৎদা বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক একটি পোষ্ট দিয়েছেন।
অনেকদিন বাদে সেখানে গিয়ে জনৈক 'B'- এর সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভুল তথ্যের ব্যপারে কিছু চিঠির আদান প্রদান হয়েছে।
এ ধরণের লেখাগুলো হারিয়ে যায় বিধায় সেগুলোকে এখানে তুলে রাখা দরকার বলে মনে হোল।

--------------
২ মার্চ, ২০০৭ ভারতীয় সময় সন্ধ্যে ৭টা ৩৬ এ 59.93.192.253 আইপি থেকে B লিখেছিলেন-

পুরোনো কচকচির পুনরাবৃত্তি :

বাংলাদেশে, আমার জ্ঞান অনুযায়ী, বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দুকে তাদের প্রয়োগ আর ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে বাংলা বর্ণমালা থেকে লুপ্ত করা হয়েছে৷

আমার মতে সনাতন ধর্মের সংস্কৃতির পূজা পার্বণের মন্ত্রে এই দুই অক্ষরের প্রয়োগ এত বেশী, সেই কারণে এব ংসনাতন ধর্মের প্রয়াত ব্যক্তির নামের পূর্ব্বে চন্দ্রবিন্দুর ব্যবহারে সংখ্যলঘুদের পূর্ব্বজদের বা প্রয়াত ব্যক্তির কল্পিত ঈশ্বরলোকবাসের চিন্তাকে মাথায় রেখে সংখ্যালঘুদের উপরে আঘাত হানার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷

আমার বক্তব্য ছিলো, আজও আছে, যে ঐ একই কারণে, অনুস্বার-এর লোপ পাওয়া উচিত ছিলো, কিন্তু সেই কাজ করলে বাংলাদেশ রাষ্টের্র নাম লেখায় বিরাট অসুবিধে হোত৷

সেরকমই খণ্ড ৎ-ও তো লোপ পাওয়া উচিত ছিলো!! প্রয়োগ নিতান্ত কম, নেইই প্রায়৷ থাকলেই যে সৎ ব্যক্তি বাড়বে এরকম কোন কথা নেই যদিও, আবার না থাকলেও অসৎ ব্যক্তিরা বৃহৎ বৃহৎ কাণ্ড বেশী ঘটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চিৎপাত করিয়েই চলবেন
....

বিসর্গের ব্যবহারও অত্যন্ত কম৷ কিন্তু এ না থাকলেই কি দু:খ কমবে? এর অপসারণ নি:শব্দে ঘটালে এখানে পচ্চিম বাংলায় অবশ্য 'পটলবাবু ফিল্মস্টার' গল্পটাই মারা পড়তো, কিম্বা হয়তো সেই "একটু জল পাই কোথায় বলতে পারেন?" গল্পটা৷

কিন্তু চন্দ্রবিন্দুর অপসারণের কোন যৌক্তিক কারণ নেই৷ এই মূহুর্ত্তেই অন্তত: ১৫০-টি শব্দ লিখে দিতে পারবেন এ পাতার যে কেউ৷ একদম নিজের ধাঁচে লিখে, কাউকে ফাঁদে না ফেলে, না কেঁদেকেটে এই যে কথাগুলো বললাম, তা, আঁচ করছি, কাঁচের মত পল্কা লাগবে না ভালোমানুষদের৷ যুক্তিটা বাঁচবেও অনেকদিন হয়তো৷

(বাংলাদেশীরা দু:খ পেলে মাফ করবেন)

----------------------

পরদিন রাত ১১ টা ৫ এ, আমি জানতে চেয়েছিলাম-

B ,
আমার জানা ছিল না বাংলাদেশে বর্ণমালা থেকে বিসর্গ আর চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে৷
এই সিদ্ধান্ত কারা নিলো? কবে থেকে কার্যকর করা হলো? একটু কষ্ট করে জানাবেন প্লীজ?
কোন তথ্যসূত্র উল্লেখ করলে সবচে' ভালো হয়৷

অবশ্য এইবার দেশে গিয়ে মামাতো বোনের জন্যে কেনা বর্ণমালার বইয়ে এই দুটো বর্ণকে "দেখি নি' বলে তো মনে পড়ছে না!
মনে হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক খবরাখবরে বেশ পিছিয়ে আছি!

আপনাকে আগাম ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম৷

-------------------------

তার উত্তরে ৪ মার্চ রাত ২ টা ৩ মিনিটে B লিখেছেন-

কনফু/তারেক

আশীর্বাদ করি তোমার বিবাহিত জীবন অপার সুখের হোক! বহুদিন পরে দেখা হোলো৷ তাও তুমি এখন "শাদিশুদা" তাই ওপরের নামে সে-এ-ই আদরের 'পিচ্ছি' ডাকটা লিখলাম না৷ যদিও সম্পর্কটা সেখানেই আছে৷

কাজের কথায় আসি৷ আমার লেখাতে আমি যেমন "আমার জ্ঞান অনুযায়ী" কথাটুকু লিখেছি, তোমার লেখাতেও তুমি তেমনই "দেখি নি" বলে মনে পড়ছে না-তে "দেখি নি" কথাটুকুকে চিহ্নিত করে রেখেছো৷ মনে হয়, আমার লেখায় 'আমার জ্ঞান অনুযায়ী' কথার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিশ্চিতভাবে তোমার মতামত দাও নি৷ সে যা হোক যখন প্রসঙ্গটার অবতারণা আমিই করেছি তখন আমার তরফে কিছু বলার দরকার৷

আমার প্রথম সূত্রটা লিখিত এব ংতা কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দ্বারা ২০০০ সালে প্রকাশিত বাংলা-কোরিয়া অভিধানে মুদ্রিত বাংলা বর্ণমালা, যাতে স্বরবর্ণের মধ্যে ৯ নেই, এব ংব্যাঞ্জনবর্ণের মধ্যে বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দু নেই৷ এটা দেখে আমি একটু বিস্মিত হই৷ ৯ নিয়ে নয়, কারণ "৯-কার যেন ডিগবাজি খায়" ছোটবেলাতেই তাকে ডিগবাজি খাইয়ে দিয়েছে৷ এর কারণ অনুধাবন করতে হাইকমিশনেও গিয়েছিলাম, খুব একটা সুবিধেজনক অভিজ্ঞতা হয় নি৷ সে অন্য প্রসঙ্গ৷ ওখানে বসবাসকারী বেশ কিছু বাংলাদেশী ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়েছিলো, যাঁদের মধ্যে শিক্ষিত বলে পরিচিত বেশ কিছু ব্যক্তি ছিলেন৷ তাঁরা কেউ বা ওখানে আওয়ামি লীগের শাখার কর্ণধার কেউ বি এন পি-র অথবা কেউ এরশাদের তৈরী পার্টির (জাতীয়তাবাদী দল কি? মনে পড়ছে না)৷ এঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রশ্ন তুলতে আমি যে উত্তর পাই, তা এরকম " বাংলাদেশে ঢাকার বাংলা অ্যাকাডেমি' দ্বারা প্রকাশিত বইয়ে মূল বাংলা বর্ণমালাকে সর্বশেষ সংশোধিত/পরিমার্জিত করে যে বর্ণমালা প্রকাশিত হয়েছে, তাতেও চন্দ্রবিন্দু আর বিসর্গ নেই৷" তাঁদের নাম আমি এখানে প্রকাশ করতে পারলাম না বলে দু:খিত৷

এই ব্যক্তিদের কাছে অনুরোধ করেও অবশ্য আমি ঢাকা বাংলা অ্যাকাডেমি-র সে বই পাই নি, তবে কোরিয়ান-বাংলা অভিধানটি, যেটিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী এব ংদূতাবাস-প্রধানের স্বাগতিক ভাষন মুদ্রিত আছে, আমার কাছে স্বীকৃত তথ্য বলেই মনে হয়েছে৷ "স্বীকৃত তথ্য" শব্দযুগল মোটা হরফে আর নীচে লালকালিতে দাগানো আছে বলে ধরে নিও৷

তুমি যদি চাও, আমি সে বই জোগাড় করে তোমায় দেখাতে পারি, যেদিন তোমার আমার সাক্ষাত্ হবে৷ সেটাই হোক না আমাদের সাক্ষাত্-এর একটা অলিখিত শর্ত৷

একটা অনুরোধ আছে৷ এই প্রসঙ্গে আগের আলোচনায় এই বইয়ের প্রসঙ্গ আসতেই তোমার বর্তমান প্রবাসের দেশের জনৈকা যথেষ্ট মৌলবাদী কথা অনাবশ্যক কারণে লিখেছিলেন, আর তাতে "হিন্দু"রা তাঁকে কেন "আপা" বলে না, ইত্যাদি বহু কথা বলেছিলেন৷ অনস্বীকার্য তার প্রত্যুত্তরও বেশ ক্ষারীয় পদার্থই ছিল৷ সে প্রসঙ্গে বেশ কিছু মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিলো, হঠাত্ করে আড্ডায় কিছু অদৃশ্য বিভাজন রেখা উপলব্ধি করা যাচ্ছিলো৷ শেষমেশ কেউ এ কথাও জিজ্ঞেস করেছিলেন, বাংলাদেশের গল্পসাহিত্যে দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে কোন বই বের হয় নি কেন, বা বের হয়েছে কি৷ প্রশ্নটা তোমাকেই করা হয়েছিলো৷

সেই দিনগুলোকে দয়া করে আর ফিরিয়ে এনো না, আমার অনুরোধ৷ আমি ওপার বাংলার ইশকুলের পাঠ্যে মূল লেখাকে পরিবর্তিত(বিকৃত?) করে অসংখ্য অনভিপ্রেত দু:খজনক মৌলবাদী সংশোধনের কথাগুলো এই গুরুর পাতায় আনতে চাই না৷ বা হয়ত ঐ অভিধানেই বাংলাদেশ হাইকমিশনের মুখবন্ধে বাংলা ভাষা বলা মানুষজনের সম্বন্ধে পরিসংখ্যানগত "ভুল"(মিথ্যা?) তথ্য পরিবেশনের দু:খজনক ঘটনাও৷ যা কিনা কোরিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়ে তার পরেই বিরাজ করছে৷

ভালো থেকো৷

-----------------

এ চিঠির উত্তরে ৫ মার্চ দুপুর ১টা ৩০ এ আমি লিখেছি-

B ,
প্রথমেই একটা সোজাসাপ্টা ডিসক্লেইমার দিয়ে নিই- গত কয়েক মাসে গুরুচন্ডালিতে অনিয়মিত হয়ে পড়ায়,
B মানে যে বাপ্পাদা এ ব্যপারটি আমি বুঝতে পারি নি৷ যদি বুঝতাম, তাহলে আমার আগের লেখাটি লিখতাম না৷ লিখতাম না, কারণ, আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, আপনার সাথে আলাপ আমার ঠিক পোষায় না৷ পুরোনো এব ংবহু পুরোনো প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে আপনি যেরকম দুর্দান্ত মুন্সীয়ানার সাথে আলোচনা বা তর্ক জমিয়ে নেন, তার সাথে দৌড়ে পেরে উঠার মত দক্ষতা আমার নেই৷ এব ংতার চেয়ে বড় কথা, যে কোন আলোচনায়ই মূল বিষয়ের বাইরে বেশি সময় দেয়াটা আমার পছন্দ নয়৷

তারপরেও এই লেখাটি লিখছি কারণ, আগের লেখায় আমি কিছু তথ্য জানতে চেয়েছি, এব ংআপনি সৌজন্যতা করে তার উত্তর দিয়েছেন৷
আমার এই লেখাটার অর্ধেক তাই
B এর জন্যে, বাকি অর্ধেক বাপ্পাদা-র জন্যে৷

আপনি লিখেছেন, বাংলাদেশে বর্ণমালা থেকে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে৷ কথাটি পুরোপুরি ভুল৷ ( এখানে ব্র্যাকেটে 'মিথ্যা' শব্দটি লিখতেও আমার বিন্দু মাত্র আপত্তি নেই৷)
বাংলা একাডেমি বা বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত কোথাও এমন কোন ঘোষনা দেন নি যে এই দুটি অক্ষরকে বর্ণমালা থেকে 'যে কোন কারণে' বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে৷ ২০০০ সালেও নয়, তার আগে কিংবা পরে কখনৈ নয়৷
বাংলা বর্ণমালার ইতিহাস জানার জন্যে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না৷ উইকিপিডিয়ার এই লিংকটিতে গেলেই একটা সারসংক্ষেপ জানা যায়৷
http://tinyurl.com/ywsnd7
তাতে বলা হয়েছে, বাংলা বর্ণমালায় সবচে' বড় পরিবর্তনটি করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৷ স্বরবর্ণের সংখ্যা ষোল থেকে কমিয়ে তিনি বারোটি করেন এব ংস্বরবর্ণের অনুস্বার ও বিসর্গকে তিনি ব্যঞ্জনবর্ণের মাঝে স্থান দেন৷
সেই পরিবর্তনের পর বাংলা বর্ণমালায় একটিমাত্র সংস্কার ঘটেছে সেটা হলো স্বরবর্ণ থেকে ৯ অক্ষরটি বাদ গেছে৷ আর কোন পরিবর্তন এখনো হয় নি৷


ডিকশনারির ক্ষেত্রে যেটা হয়, ওখানে শব্দের শুরুর অক্ষর অনুযায়ি শব্দগুলো সোর্ট করা থাকে৷ বিসর্গ বা অনুস্বার বা চন্দ্রবিন্দু দিয়ে কোন শব্দ শুরু হয় বলে মনে করতে পারছি না৷ সে কারণেই হয়ত ডিক্শনারির সিরিয়ালে ঐ অক্ষরগুলোকে খুঁজে পান নি৷ আসলে, আপনি যে বাংলা-কোরিয়া ডিকশনারির কথা বললেন, তাতে কি দেখেছেন আমি নিশ্চিত নই৷ মানুষ আসলে সেরকমটাই দেখে যেরকমটা সে দেখতে চায়৷
কারণ, বাংলাদেশে এখন বাংলা একাডেমির যে ডিক্শনারিগুলো প্রচলিত রয়েছে সেখানে বর্ণমালার যে তালিকা রয়েছে তাতে বিসর্গ এব ংচন্দ্রবিন্দু মহাশয় - দু'জনেই বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছেন৷ কারৈ এখন অবধি শিরোচ্ছেদ হয় নি৷
বাংলা একাডেমি হতে বা বাংলাদেশে প্রকাশিত যে কোন বই খুললেই তাতে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু সম্বলিত অন্তত হাজারখানেক শব্দ স্বাভাবিক নিয়মেই খুঁজে পাওয়া যাবে৷ এব ংএই সাধারণ ব্যপারটিই আপনার বক্তব্যের অসারতা প্রমাণের জন্যে যথেষ্ঠ৷

এরকম একটি ভুল বা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে আপনি বাংলাদেশ রাষ্টের্র নাম নিয়ে যে রসিকতাটি করার চেষ্টা করেছেন, সেটা আমার কাছে অত্যন্ত নির্লজ্জতার একটি জ্যান্ত উদাহরণ বলে মনে হয়েছে৷

আপনি ব্র্যাকেটে লিখেছেন বাংলাদেশিরা যেন দু:খ পেলে মাফ করেন৷
আমি একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখাটি পড়ে দু:খ পেয়েছি, এব ংআমি দু:খিত যে, আমি আপনাকে মাফ করতে পারছি না৷


বাপ্পাদা, গুরু-তে যতবার আড্ডা দিতে এসেছি, কখনো কোন 'হিন্দু' দাদা-দিদির সাথে কথা বলবো ভেবে আসি নি, কোন ভারতীয়ের সাথেও না৷ প্রতিবারই এসেছি নিখাদ বাংলায় প্রাণ খুলে কথা কইতে৷ দেশ বা সম্প্রদায়ের সীমাবদ্ধতা মাথায় নিয়ে কথা বলি নি কখনো৷

কোন 'মহিলা' আপনাকে কবে কী বলছে সেই পাঁচালি শুনতে আমি আগ্রহী নই৷ আমি সেসব নিয়ে কথা বলতেও আগ্রহী নই৷ আপনার দেয়া তথ্য 'ভুল' মনে হওয়ায় আমি সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছি শুধু, পুরোনো কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করি নি৷ কী কী প্রসঙ্গ আমার তোলা উচিত্ নয়- এ অনুরোধ করে- মূলত সেই প্রসঙ্গ গুলোকেই টেনে আনাটাকে আমার হিপোক্রেসী মনে হয়েছে৷ পরবর্তীতে আপনার উত্তর পেয়ে নিশ্চিত হলাম যে আপনার দেয়া তথ্যটিও ভুল নয়, মিথ্যে৷

এই তথ্যটি 'কল্পনা' করে নিয়ে আপনি তার পেছনে যে যুক্তি খুঁজে পেয়েছেন, সেটা নিয়ে কি লিখব বুঝে উঠতে পারছি না৷ আপনি বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর আঘাত হানার জন্যেই বর্ণমালা থেকে বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বাদ দেয়া হয়েছে! সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি তথ্যকে সাথে নিয়ে যে এতদূর ভেবে ফেলা যায়, আমার সেটা জানা ছিলো না৷ আমার চেয়ে কম বয়েসী কেউ এরকম চিন্তা করলে বড়জোর তার মাথার পেছনে ছোট্ট একটা আদুরে চাপড় মেরে বলতাম, 'ব্যাটা বেকুব!'
কিন্তু মানুষটা যখন বয়সে অনেক বড়- তখন কি করব বুঝে পাই না৷ খানিকটা হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কাঁধ ঝাকিয়ে হাসি দেয়া ছাড়া , এব ংএই চিন্তাধারাকে ভয়ানক একটি মানসিক ব্যাধি ভেবে একাধারে শিউরে উঠা ও করুণা বোধ করা ছাড়া আর তেমন কিছুই করার নেই৷

আপনার বোধহয় জানা নেই বাংলাদেশের মুসলমান ছেলেদের আশিভাগের নামের আগেই মোহাম্মদ যুক্ত আছে৷ এব ংতাদের প্রায় নব্বই ভাগই সেটা পুরোপুরি না লিখে সংক্ষেপে 'মো:' লিখে৷ এব ংহ্যা, সেটা ঐ বিসর্গ যুক্ত করেই!
ভাবতেই হাসি পাচ্ছে, কোন মুসলমান মৌলবাদী যদি আপনার মত করে চিন্তা করতো- তাহলে নিশ্চয় বিসর্গ বাদ দেয়ার পেছনে মুসলিম বিরোধী কোন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেত!

কনফিডেন্টলি প্রলাপ বকা বলে একটি কথার সাথে সদ্য পরিচয় ঘটেছে আমার এই ইন্টারনেটেই৷ এই দূর্লভ গুণ যে সকলের মধ্যে থাকে না- আপনার লেখা আমাকে সে কথাই মনে করিয়ে দিলো আবার!
মুশকিল এই যে আমি দীর্ঘক্ষণ এরকম প্রলাপ সইতে পারি না, নার্ভে বেজায় চাপ পড়ে৷ তাই এই শেষবারের মতই আপনার সাথে আমার সর্বশেষ আলোচনার ইতি টানলাম৷

সকল বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে আপনার জন্যে শুভ কামনা রইলো৷
ধন্যবাদ৷

----

কনফু-



৩টি মন্তব্য:

ইফতেখার বলেছেন...

দারুণ জবাব। খুব ভাল লাগল কনফু।

তোমার সল্যুশান কাজে এসেছে। থ্যাঙ্কু এগেইন।

Ragib Hasan বলেছেন...

বাংলাতে প্রবাদ আছে না, "যারে দেখতে নারি, তার চরণ বাঁকা"। ঐটাই হয়েছে।

কিছুদিন আগে আমার বাবা মা ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশী শুনে কয়েক ভারতীয় বাঙালি প্রশ্ন করলেন, বাংলাদেশে এখন নাকি মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের "জানা মতে"। (আমার মা ষাটের দশকে বিএ পাস করেছিলেন, আমার সব খালা সে সময়ই স্নাতক বা তদোর্ধ পড়াশোনা করা)

এরকম "জানা মতে" নিয়েই যারা থাকেন, তাদের সাথে তর্ক করা বৃথা। "জানা" নিয়েই তাঁরা বসে থাকবেন, যতোই বোঝানো হোকনা কেনো।

বাংলা উইকিপিডিয়াতে কেনো বাংলাদেশের প্রাধান্য, এই কথাও শুনতে হয়েছে। অথচ এক বছর ধরে চিল্লাফাল্লা করেও পশ্চিমবঙ্গ নিবাসী কাউকে আনতে পারিনি। (প্রবাসী বাঙালি কয়েকজনকে পেয়েছি, কিন্তু ভারতে থাকে, এমন কেউ বাংলা উইকিপিডিয়াতে লিখতে আগ্রহী নয়)।

konfusias বলেছেন...

রাগিব ভাই,
হুম, যারে দেখতে নারি... টাই এ পরিস্থিতি বুঝানোর জন্যে সবচেয়ে পারফেক্ট!
অবশ্য সব ভারতীয়ের এরকম মানসিকতা এরকমটা কখনোই ভাবছি না। বরং এগুলো একজন ব্যক্তির নিজস্ব-ভাবনা বলেই মেনে নিচ্ছি।