বুধবার, এপ্রিল ২৬, ২০০৬

আমার পছন্দের লিংক

আমার পছন্দের লিংক বলা যায়। অথবা বলা যায় যেসব সাইটে আমি বেশি বেশি যাই।
সবগুলো একসাথে এখানে রেখে দিলাম। যেন, হুট করে এখানে এসে এক ক্লিকে চলে যেতে পারি।
পছন্দের ক্রমানুসারে নয়, মাথায় যেটার পর যেটা এসেছে, সেই সিরিয়ালে সাজালাম।
নতুন কোন সাইট পছন্দ হলে তুলব এখানে, আবার হয়ত কিছু বাদ পড়ে যাবে।
নিয়মিত আপডেট হবে- এটা ঠিক।

এক- ব্লগ বা পার্সোনাল সাইট

১- এইটা তোমার গান -
( আমাদের পছন্দের গান, কবিতা বা গল্পাংশগুলোকে একসাথে করে রাখার জন্যে এই ব্লগ)।
২- দ্য কমস -
(আমাদের বন্ধুদের ব্লগ। মূলত আড্ডাবাজির জন্যে, সেই সাথে অনেক কিছু শেয়ার করার জন্যে।)
৩- সামহোয়্যার ইন ব্লগ সাইটটিতে আমার পছন্দের কিছু পেজ-, সবার সব কথার সাথে যে একমত তা নয়, কিন্তু প্রত্যেকের লেখাই পড়তে ভাল লাগে।
- শুভ (মুক্তিযুদ্ধের অসাধারন দলিল )
-হাসান মোরশেদ
-অমি রহমান পিয়াল - (আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু দারুন প্রতিবেদন আছে এখানে।)
- মাশীদ আপু -( )
- অরূপ দা -( )
- সাদিক মোহাম্মদ আলম -( চিন্তার ধরণটা বেশ ভাল লাগে, তাই পড়ি ।)
- মুখফোড় -( ইন্টারেস্টিং! )
- লুনা রুশদি -( )
- ব্রাত্য রাইসু -( )
- জুয়েল -( তথ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে অনেক জানবার বিষয় আছে এখানে- )
- হিমু -( ইন্টারেস্টিং! )
- দীক্ষক দ্রাবিড় -( ইন্টারেস্টিং! )
- রাসেল (...) -( ইন্টারেস্টিং! )
- ইশতিয়াক জিকো -( ইন্টারেস্টিং! )
- অপবাক ()
- উৎস ()
- আস্ত মেয়ে -( ইসলাম বিষয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং চিন্তা ভাবনা। )
-

৪- অরিজিৎ-দা'র ব্লগ ।
-
-অরিজিৎ-দার বাংলা ব্লগ ।

৫- সুচেতাদির ব্লগ ।
৬- রোহন কুদ্দুস-এর ব্লগ।
৭- শমিত রায় - এর ব্লগ।
- শমিত রায়- এর সাইট।
৮- বিবর্ণ আকাশ -
৯- তুলি'র সাইট
১০- কমলেশ পালের নির্বাচিত কবিতা
১১- মাকসুদ ( ঢাকা ব্যান্ড ) এর ব্লগ
১২-
শমীকদার ব্লগ
১৩-

দুই- বাংলা পত্রিকা ও সাইট-
১- গুরুচন্ডালি
২- প্রথম আলো
৩- সাপ্তাহিক ২০০০
৪- বাংলা লাইভ
৫- সৃষ্টি
৬- সৃষ্টি সাপ্তাহিক
৭- সুলেখা পত্রিকা
৮- কৌরব
৯- সামহোয়্যার ইন ব্লগ
১০- বইপাড়া
১১- পরবাস
১২- রবীন্দ্র রচনাবলি
১৩- বাঙালি আড্ডা গল্প সংগ্রহ
১৪- ই-কোলকাতা
১৫- র'নবী-র টোকাই
১৬- অংকুর বাংলা সাহিত্য আর্কাইভ
১৭- কবিতা


তিন- অন্যান্য সাইট-
১- মাই বাংলা মিউজিক
২- ইয়াহু আনন্দমেলা
৩- অর্কুট
৪- আরশি ডট কম - ( নাটক ও মিউজিক ভিডিও)
৫- বাংলা বই এর পিডিএফ কালেকশন ( কিছু মুভিও রয়েছে ডাউনলোড এর জন্যে)
৬- ত্রিভুজ ডট কম
৭- গুগল লোগো ( গুগলের সবগুলো লোগো একসাথে রাখা এখানে )
৮- বিজ্ঞানী ডট কম -
( দারুন একটা সাইট। কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও নানারকম বিষয় নিয়ে নিয়মিত আপডেট করা হয়)
৯-

অন্যান্য বাংলা ব্লগ

বুধবার, এপ্রিল ১৯, ২০০৬

বাংলায় কি করে ব্লগ বানানো যায়

বাংলায় কি করে ব্লগ বানানো যায় ।

এটা খুব সোজা। কি করে বানানো যায় এভাবে না লিখে বরং এটা কি করে বানালাম সেটা লিখি। একদম সহজ আর ছোট্ট করে লিখব।
১। প্রথমে ব্লগার সাইটে একটা একাউন্ট খুলেছি। ওদের হোমপেজে গিয়ে খুব সহজেই সেটা খোলা গেছে। যে কোনো মেইল একাউন্ট খোলার মতই সোজা এটা।
২। পছন্দের নাম সিলেক্ট করে তারপর এটার গেট-আপ সিলেক্ট করলাম। template - এ গিয়ে এটা করেছি। প্রথমে যেটা করেছি সেটা অবশ্য পরে বদলেছি আবার। তবে শুরুতেই খুঁজে পেতে ভালো একটা বেছে নেয়া বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে। সেটা কেন? একটু পরে বলছি।
৩। রেজিস্ট্রি করা হয়ে গেলে settings এ গিয়ে ব্লগের টাইটেল লিখেছি। আর তার নীচেই description।
settings - এ নানা রকম ব্যাপার ঠিক করে নিয়েছি। যেমন , যে কেউ কমেন্টস করতে পারবে কি না, নাকি শুধু মেম্বাররা পারবে। এসব। ব্লগে শুধু আমিই লিখব নাকি আন্যরাও, সেটাও ওখানেই সিলেক্ট করা যায়।
৪। সব ঠিক করা হয়ে গেলে posting - সেকশনে গিয়ে লেখা পোষ্ট করা শুরু করেছি। compose অথবা edit html - দুই ভাবেই লেখা যায়।

এবার হল আসল ব্যাপার।
কি করে বাংলায় লেখা যায় ।
আমি ইউনিকোড ফন্টে লিখেছি।দুটা সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি। এক হল গুরুচন্ডালি-তে পাওয়া যায় যেটা। ওখানে বাংলা লেখার সময় ফন্ট হিসেবে বাংলাপ্লেইন সিলেক্ট না করে সোলাইমানলিপি সিলেক্ট করতে হবে। তারপরে লেখাটা কপি করে ব্লগের পোষ্ট সেকশনে পেস্ট করে দিলেই হবে।
বাংলা এডিটর কি করে ব্যবহার করতে হয়, সেটা জানতে পারবেন গুরুচন্ডালিতে গেলে।
যাদের এর মধ্যেই বাংলা এডিটর আছে, কিন্তু ইউনিকোড এ লিখতে পারছেন না, তাদের অনুরোধ করব এই সাইট থেকে আবারো এডিটরটি নামিয়ে এটা দিয়ে চেস্টা করুন।
বলা ভাল- অবশ্যই আপনার কম্পিউটারে সোলাইমানলিপি ফন্টটি ইন্সটল করা থাকতে হবে। না থাকলে সেটিও এখান থেকে নামিয়ে নিতে পারেন।
এই কপি-পেস্ট পদ্ধতিতে আপনার নিজের সাইটের টাইটেল, বর্ণনা ও অন্য সব পোষ্ট করতে পারবেন। এমনকি অন্য যে কোনো সাইটে মন্তব্য ও করতে পারবেন।

এবার দ্বিতীয় পদ্ধতি।
কপি পেস্ট না করে সরাসরি পোষ্ট করতে চাইলে অভ্র ব্যবহার করতে পারেন। এটার ব্যবহার খুব সোজা। অভ্র ইন্সটল করে help মেনুতে গিয়ে ব্যবহার করা শিখে যাবেন। আমি শুধু ইন্সটলারটার খোঁজ দিতে পারি।

শেষ কথা।
পোষ্ট বা টাইটেল বাংলায় লেখাটা অনেক সোজা। কিন্তু আপনার পেজ-এর আর কিছু লেখা, যেমন- favorite link কে পছন্দের লিংক , অথবা, previous post কে আগের পোষ্ট - এরকম করে লিখতে চাইলে আপনাকে একটু কষ্ট করতে হবে। আপনাকে খুবই স্বল্প পরিমানে html editing জানতে হবে। ধরে নিলাম সেটা আপনি জানেন। তাহলে যেটা করতে হবে- template সেকশনে গিয়ে ওই নামগুলোকে বাংলায় লিখে দিতে হবে। মনে রাখবেন, বারবার ব্লগের গেট-আপ ( অর্থাৎ template )বদলালে এই নামগুলোও আপনাকে বারবার বদলে দিতে হবে। এটা হয়ত কঠিন নয়, তবে বিরক্তিকরতো বটেই। এ জন্যেই শুরুতে বলেছিলাম, অনেক দেখে শুরুতেই একটা template পছন্দ করাটাই ভাল হবে।

আর একটা পরামর্শ - যদিও আমি সব কাজে মজিলা ফায়ারফক্স ব্যবহার করি, তবে নানা জটিলতার কারনে বাংলা সাইটের জন্যে আমার ধারনা, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার- ব্যবহার করাই ভাল হবে।

এবার দিচ্ছি প্রয়োজনীয় কিছু লিংক।
১। বাংলা এডিটর
২। সোলাইমানলিপি
৩। অভ্র কি বোর্ড
৪। গুরুচন্ডালি সাইট
৫। ব্লগার ডট কম


তো? সমর পরিকল্পনা শেষ, অস্ত্র-শস্ত্রও মজুদ, শুরু করে দিন তাহলে।
খুব শীঘ্রই আপনার ব্লগের ঠিকানা পেয়ে যাব আশা করি ।
বেস্ট অব লাক।

বাংলা লেখা

সামু'পা, আর শুচিদি, দুজনে শোনো।
অরকুট বা যে কোনো ওয়েবসাইটে বাংলায় লিখতে হলে ইউনিকোড ফন্ট ব্যবহার করাই ভাল। ইউনিকোড ফন্টের সুবিধা কি তা এখানকার আগের কিছু পোষ্ট পড়লে জানতে পারবে।
ঈশানদা'র বাংলা এডিটর দিয়ে ইউনিকোড ফন্টে লিখে অরকুটে কপি-পেস্ট করে দিতে পারো। সেক্ষেত্রে তোমরা লিখবার সময় বাংলাপ্লেইন ফন্ট সিলেক্ট না করে সোলাইমানলিপি ফন্ট সিলেক্ট করে লিখবে। তারপরে সেটা কপি করে পেস্ট করে দিতে পার।
সোলাইমান লিপি ফন্ট পাবে - এই সাইটের ডানদিকে, দেখ- ফন্ট ডাউনলোড বলে একটা লিংক আছে, ওটায় ক্লিক করলে পাবে।

আর, কপি-পেস্ট না করে সরাসরি বাংলায় লিখতে চাইলে তোমাদের আভ্র কি বোর্ড ইন্সটল করতে হবে।
অভ্র পাবে কোথায়? দেখি- বুদ্ধি করে বের করতে পারো কি না!
দেখো ট্রাই করে। ঃ-)

বাংলা আসছে না

কোন এক আজব কারনে আমি আজ মজিলা দিয়ে এখানে বাংলা দেখতে পারছি না।
অথচ এক্সপ্লোরারে ঠিকই বাংলা দেখছি সুন্দর ।
আবার, আমার অন্য দুটো ব্লগেও বাংলা দেখা যাচ্ছে ।
এরকমটা হবার কথা নয় ।
কেন এরকম হচ্ছে?

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৮, ২০০৬

আজ খুব ঝড়-বৃষ্টি হলো



আজ খুব ঝড়-বৃষ্টি হলো এখানে ৷ পুরো মেলবোর্নে ৷
বিপি-তে কাজ শেষ করে ফিরবার পথে দেখি রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ে আছে !
অল্পের জন্যে পাশে রাখা গাড়িটা বেঁচে গেছে !
ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললাম ৷ কিন্তু হেডলাইটের আলোয় ভালো আসেনি ৷ তাই পরে বীম মেরে তুললাম ৷
মোটামুটি এসেছে এবার ৷

আরো খানিকদূর এসে দেখি রাস্তার সিগন্যাল কাজ করছে না ৷ চারপাশে গাড়ি জমে গেছে ৷ কে কোনদিক দিয়ে যাবে ঠিক করতে না পেরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে ৷ আমি কোন এক ফাঁকে পাশ কাটিয়ে বের হয়ে এলাম ৷

এখানে আসবার পরে এরকমটা দেখিনি ৷ কালকের পেপার পড়তে হবে ৷

তিতলি -


তিতলি -
----------------
আমার আকাশসীমা বেঁধে দেয়া আছে ৷
তবু,
সংকোচ পায়ে নিয়ে তোমার নিকটে গিয়ে ,
যখনি দাঁড়াই -

আশার পাখিকে নিয়ে সীমানা ছাড়াই !


***************

তিতলি সিরিজের এটা প্রথম কবিতা ৷
বাকিগুলো তুলে দিবো আস্তে আস্তে ৷

রবিবার, এপ্রিল ০৯, ২০০৬

কবিতা ৩ - যুযুধান

যুযুধান

সেই বর্ষালগ্ন থেকে শুরু করেছি
আজ আমার বসন্ত-দিন ৷

বিন্দু বিন্দু বিষপানে
আমি আজ নীলকন্ঠ ৷
অবসাদে অবসন্ন ৷
পৃথিবীর সব বিষ শুষে নিয়ে
আমি পরিশ্রান্ত ৷

তবু - -, সুকঠিন প্রতিজ্ঞা - -
বিষমুক্ত করব আমার পৃথিবীকে , সুধাময় ৷

মূমুর্ষু আমি, শরীরে অনল-জ্বালা;
তবু আকাশে বাতাসে আজ নেচে বেড়াব
-- কোথাও এতটুকু বিষ
লুকিয়ে নেইত!

কবিতা ২ - প্রিয় বন্ধু

প্রিয় বন্ধু -

সেদিন হঠাত্ সে বলে, অনেকদিন তো তোমার কাছে,
এবার তবে যাই ৷
দৃষ্টিতে বিষন্নতা নিয়ে আমি তাকালাম তার দিকে -
সে চলে যাবে !!
আমায় সে বুঝতে পারে ৷
হেসে বলে- কত দিন, মাস, কত বছরই না পেরিয়ে গেল;
কত স্মৃতি, কত সময়, আর কত !
এবারে যাই?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি-
হ্যা, আর কত, আশি বছরতো বটেই ৷
একটা সময়ে কত স্বপ্নই না ছিল- হেন করব , তেন করব;
করা হয়নি কোন কিছুই,
অনেক কিছুই করেওছি আবার !

জানালার বাইরে দৃষ্টি থমকে যায়;
সারি সারি কৃষ্ঞচূড়া, মাঝে একফালি চাঁদ ৷
বিষন্ন জোছনার নূপুর পায়ে কে যেন ছুটে চলে গেল ৷
আমি তার দিকে তাকালাম,
মুখে ম্লান হাসি তার ৷
সে বলে- অসুবিধে কি, পাবে নতুন বন্ধু ৷
তার চোখে মুক্তির উচ্ছলতা খেলা করছে ৷
দূরে কোথাও বিরহের সানাই বেজে উঠে,
" নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে- "
কোথায় যেন পড়েছিলাম ৷

আরও একটি নি:শ্বাস,
তারপর আবার,
তারপর আবার ৷
অস্ফূটে বলে উঠি- বিদায় !

অত:পর-
জীবন বিদায় নেয়-
জীর্ণ এই আমার কাছ থেকে ৷

২৬/০৭/১৯৯৭

শুক্রবার, এপ্রিল ০৭, ২০০৬

গদ্য ১ - প্যাচাল

প্যাঁচাল


এইচএসসির পর কোচি ংকরতে আমরা যারা " ফরেইনার ' অর্থাত্ ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসি,থাকার জন্য " এক টুকরো ' জায়গার খোঁজে আমাদের যে কি ঝক্কি পোহাতে হয় সে শুধু আমরাই জানি৷ ঐ যে বলে না, " কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে৷৷৷ ' সত্যিই সে এক বিষময় যাতনা!

তো ধন নয়,মান নয়,এতটুকু বাসা ... থুক্কু বাসা নয়,মেস৷ সেই মেস খোঁজার জন্য আমি আর আমর বন্ধু চপল পুরো ফার্মগেট এলাকা চষে বেড়াচ্ছি৷ ফার্মগেট কেন? কারণ,কোচি ংসেন্টারগুলো সব ওখানে গিয়েই " উত্পাদিত ' হয়েছে৷ কিন্তু কোথাও ভ্যাকেন্সি নাই৷ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করি; কিন্তু কাজ হয় না৷ পরে ঠিকানা টুকে নিয়ে হাঁটা দিলাম৷ যেখানেই দেখি " টু-লেট ' অথবা " রুম ভাড়া দেয়া হবে ' - সেখানেই একবার করে ঢু ঁমারি৷ কিন্তু হায়! বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হয় আরও আজব অভিজ্ঞতা৷ প্রথমেই জিজ্ঞেস করে " আপনারা কি স্টুডেন্ট?'

ঘাড় কাত করে স্টুডেন্ট হওয়ার অপরাধ স্বীকার করি৷ হ্যা,ঁতাই৷ মেস খুঁজে বেড়াতে হয়েছে এমন ছাত্র মাত্রই জানেন ঢাকা শহরে " স্টূডেন্ট ' হওয়া বিরাট অপরাধ৷

" না ভাই,আমরা স্টুডেন্টকে ভাড়া দেই না৷ '

হতাশ হই এব ংঅবাক লাগে৷ পৃথিবীতে এমন কোন " শালার ব্যাটা ' আছে যে " স্টুডেন্ট ' না থেকে সরাসরি চাকরি পেয়ে গেছে!! তবু হাল ছাড়লে তো চলবে না৷ খুঁজে যাই৷ বিচিত্র সব বাড়ি,বিচিত্র সব ব্যাপার স্যাপার৷

একটা বাসায় গেলাম,টিনের ঘর ভাড়া দেবে৷বাড়িওয়ালার অসীম দয়া- আমরা "স্টুডেন্ট ' জেনেও তিনি রাজি হয়েছেন! বেশ ভাল৷ সবই ঠিক আছে কিন্তু লাগোয়া কোন টয়লেট নেই৷ সেট হল ভেতর বাড়িতে৷ মানে বাড়িওয়ালার টয়লেট৷ তাতে কি? ঘর পেয়েছি এই ঢের৷ কিন্তু না,শর্ত আছে৷ তা হল রাত দশটার পরে সামনের গ্রিলে তালা দেয়া হবে তাই ভেতরের টয়লেটে যাওয়া যাবে না৷

মেজাজ খারাপ হয়ে গেল৷ কি আচানক কথা৷ মানুশের টয়লেটের কি কোন ঠিক-ঠিকানা আছে নাকি! প্রকৃতির খেয়াল৷ কখন যে সে " ডাক ' দিবে আর কখন আমাদের বদনা হাতে দৌড় দিতে হবে তা আগে থেকে কি করে বলব! পেট তো জানবে না যে রাত দশটার পর টয়লেট বন্ধ!

তাই " ইচ্ছা নাহি হয় হায়,তবু৷৷৷

অন্য বাসা খুঁজতে বের হলাম৷

স্টুডেন্টদের ব্যাপারে এত আপত্তি কেন? এক ঠোঁট কাটা বাড়িওয়ালা জানিয়ে দিলেন," ওদের কোন গ্যারান্টি থাকে না,কখন যে টাকা না দিয়েই চলে যায় তার ঠিক নেই৷ '

আমরা তখন তাকে তেল দেয়া শুরু করলাম৷ আমাদের পূর্ব ইতিহাস জানালাম, কলেজ থেকে দেয়া " চারিত্রিক ' সনদপত্র দেখালাম, পৃথিবীর কোন প্রান্তেই যে বহু খুঁজেও আমাদের মত " ভদ্র ' ," শান্ত ' , এব " ংভাল ' ছেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না তা-ও বোঝালাম৷

এক পর্যায়ে থাকতে না পেরে চপল বলল৷৷৷ " দরকার হলে আপনি আমার মেইন মার্কশীট জমা রাখেন৷৷৷ ৷ '

কিন্তু শিকে ছিড়ল না৷ মেইন মার্কশীটের মর্ম ঐ পাষাণ কেমন করে বুঝবে!

খুঁজতে খুঁজতে এমনি এক হতাশ দুপুরে গিয়ে উপস্থিত হলাম এক একতলা বাড়ির সামনে৷ " টু-লেট ' লেখা দেখে গেট ধাক্কাতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো সুবহানাল্লাহ সাক্ষাত্ এক ডানাকাটা পরী! আমাদের বুকের ভেতরের ছোট্ট হার্ট দুটো ততক্ষনে টগবগে দু'খানা অ্যারাবিয়ান ঘোড়া হয়ে ছুটতে শুরু করেছে৷

" কাকে চাই '

জানালাম৷৷৷ বাড়িওয়ালাকে চাই৷

" দাঁড়ান,আব্বাকে ডেকে দিচ্ছি৷ '

খানিক পরে " আব্বাজান ' এলেন৷ এসেই উনি প্রথমে জিজ্ঞেস করলেন," আপনারা কি ব্যাচেলার ? '

ঘোড়া নয়৷ হার্ট ততক্ষনে জেট ইনি হয়ে উড়ছে আকাশে৷ কি শুভক্ষনেই না এসেছি এখানে৷ ঘরে এত সুন্দর " মেয়ে ' আর উনি খুঁজছেন ব্যাচেলার - আমরা দু'জনে সবেগে উপর-নিচে মাথা ঝাঁকাতে লাগলাম ৷ এক মুহুর্তের জন্যে মনে হল , ছিঁড়ে না যায় আবার৷

বাড়িওয়ালা বললেন," সরি, আমি ব্যাচেলারদের ভাড়া দেই না৷৷৷ ৷ '

জেট ইন্জিন ক্র্যাশ করল! দু'জনেই আবার মাটিতে ফিরে এলাম৷

আর কি! আবার খোঁজা শুরু হল৷ এরকম কয়েকটা জায়গায় ব্যাচেলার হওয়ার দায়ে ভাড়া না পেয়ে ঠিক করলাম আজই বাবা-মাকে পত্র লিখব- " তোমাদের ছেলের জন্য একজন "পুত্রবধূ' এই মুহুর্তে অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ যেমন করেই পারো৷৷৷ '

অবশেষে পেলাম৷ না, বাবা-মার জন্য পুত্রবধূ না,আমাদের দুই বন্ধুর জন্য একটা মেস৷ রাজাবাজারে সেটা ভুপেন আংকেলের মেস৷ ছয়তলা বাড়ির পাঁচতলায় মেস ভাড়া দিয়ে রেখেছেন৷ বসে বসে ইনকামের এমন সুন্দর প্রসেস আর নাই৷ মনে মনে নিজের এইম ইন লাইফ ঠিক করে ফেললাম৷ ঢাকা শহরে একটা মেসবাড়ির মালিক হতে হবে যে করেই হোক৷

মেস পেতেই আরেক বন্ধু এসে হাজির হল, তৌহিদ৷ তিন বন্ধু মিলে একগাদা জিনিসপত্র কিনে রুম ঠিক করলাম৷ সাজিয়ে-গুছিয়ে ভাল করে তাকিয়ে দেখি- এক "বউ' ছাড়া আর যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসই সেখানে উপস্থিত৷

রুম ছিল বটে একখানা৷ ঘুপচি অন্ধকার৷ এটা কি রোদভরা দিন না অমাবস্যার রাত রুমে বসে বোঝার কোন উপায়ই নেই৷
মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙ্গে ঘড়িতে ছয়টা বজে দেখে দ্বিধায় পড়ে যেতাম,কোন "ছয়',ভোর না সন্ধ্যা?

বারান্দা আছে অবশ্য একটা৷ তবে সেখানে দাঁড়ালে আকাশ নয়,পাশের বাড়ির দেয়াল চোখে পড়ত৷ সেটা এতই কাছে- , রোদ দূরে থাক,বৃষ্টি পড়লেও টের পেতাম না৷

তেলাপোকার ছড়াছড়ি,মেসের অখাদ্য-কুখাদ্য,এসব নিয়ে ভালই ছিলাম৷ কোচি ংশেষ করে অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে রুমে এসে শুয়ে পড়তাম৷

ফ্লোরের উপর বিছানো তোশক; তার ওপর চিটচিটে চাদর,সেখানেই শুয়ে হাতটাকে বালিশ বানিয়ে,সদ্য কেনা সিলি - ংফ্যানটার ঘুরতে থাকা পাখাগুলোর দিকে তাকিয়ে,তিনজনেই; কি জানি কার কথা ভেবে হেঁড়ে গলায় এক সঙ্গে গেয়ে উঠতাম- " চন্দন পালংকে শুয়ে,একা একা কী হবে,জীবনে তোমায় যদি পেলাম না৷ '

*********************

দৈনিক যুগান্তরের সাপ্তাহিক ফান ম্যাগাজিন "বিচ্ছু'-তে প্রকাশিত৷

গল্প ১ - নিমন্ত্রন

নিমন্ত্রণ


ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর মুখ থেকে শোনা৷

তাদের গ্রামের নাম নোয়াগাঁও৷ মাঘ মাসের এক কুয়াশাঘেরা রাতে সেই গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটছিল সে৷ কুমিল্লা থেকে যাবার আগে সে আমাকে নিমন্ত্রণ করে যায় তাদের গ্রামে যাবার জন্যে৷ অফিসে যথেষ্ট ছুটি পাওনা ছিল আমার৷ তাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, ঠিক এক সপ্তাহ পর তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাব আমি৷ সে রাজি হয়েছিল৷

বাজারে গিয়েছিল সে৷ আজই এসে পৌঁছেছে কুমিল্লা থেকে৷ পরিচিত অনেকের সাথেই দেখা হয়েছে৷ কল্যানের চায়ের দোকানের আড্ডায়ও যোগ দিয়েছিল৷ কয়েকজন ওর জন্য আফসোস করেছে- আর কিছুদিন আগে এলেও নাকি "রসের বাইদানী' পালাটি দেখতে পেত৷ এরপর চলেছে তাসের আসর৷ মোটামুটি ভালই কেটেছে সময়৷ অনেক নতুন পুরাতন খবর শুনেছে৷ আসবার সময় কল্যান আবার দু'টি সিগারেটও গছিয়ে দিয়েছে হাতে৷

বাড়ি থেকে বাজার তিন মাইলের পথ৷ ঠিকমত হাঁটতে পারলে এক ঘন্টাও লাগে না৷ কিন্তু শীতের রাতে অনেকক্ষন লেগে যায়৷

হাঁটছে সে৷ গাঁয়ের এ পথটা একটু নির্জন৷ অসময়ের বৃষ্টি হয়েছে এক পশলা৷ এখানে সেখানে পানি জমে আছে৷ এঁটেল মাটির রাস্তা, কাদা হয়ে আছে৷ সেরকমই একটা কাদায় ওর স্যান্ডেল দেবে গেল৷ টেনে উঠাল৷ তারপর পাশের ভেজা ঘাসে স্যান্ডেল ঘষে নেবার জন্যে উবু হতেই ঘটে ব্যাপারটা৷ কে যেন ঠিক ঘাড়ের ওপর নি:শ্বাস ফেলল৷ শীতল দীর্ঘশ্বাস৷ যেন কারও বুক থেকে বিশাল পাথর নেমে গেছে৷ পাব কি পাব না,এরকম একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে হঠাত্ পেয়ে যাওয়ার ফলে সুখের একটা নি:শ্বাস৷

তবে তার জন্য ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই সুখকর ছিল না৷ বরং গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল৷ ঝট করে মাথা তুলল বিষ্ঞু- আমার বন্ধু৷ এদিক ওদিক তাকায়-নাহ্,কিছু নেই তো,কিছুই নেই৷ স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ায় আবার৷ শিস দিতে দিতে,আকাশের তারা গুনতে গুনতে যাচ্ছে সে,হঠাত্ মনে হলো নিচের দিকে তাকানো দরকার৷ বলা বাহুল্য,বিষ্ঞু তাকাল৷ দেখল ছোট্ট একটা সাদা বেড়াল ওর পায়ের ঠিক একহাত সামনেই শুয়ে আছে৷ ওর মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলে যায়৷ ছোট বেলার বদ অভ্যাসটা তখনও যায়নি তার৷ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে বিষ্ঞু৷ আলতো করে সাদা কালোয় ডোরা কাটা লেজের আগাটা ধরল,পুরোটা নয়৷ কয়েকটা লোম মাত্র৷ তারপরই মারল হ্যাঁচকা টান৷ "ম্যাও' করে দাঁড়িয়ে গেল বিড়ালটা৷ একবার বিষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল বিষ্ঞুর দিকে৷ তারপর সোজা রাস্তা ধরে ছুটতে শুরু করল৷ আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার হেসে ওঠে বিষ্ঞু৷ তারপর আবার সামনে তাকায়৷ নেই বেড়ালটা৷ আশ্চর্য,এত তাড়াতাড়ি চলে গেল! একটু অবাক হয়ে আবার হাঁটা দেয়৷

সামনের বাঁকা রাস্তা পেরোলেই পড়বে পুরানো ভাঙা কালী মন্দিরটা৷ তার পাশেই কালীপুকুর,জানে ও৷ হঠাত্ খেয়াল হতেই মনে মনে মা কালীকে স্মরণ করতে লাগল৷ ধর্মে কোথাও না থাকলেও ওর বাবা বিশ্বাস করতেন,মা কালী নাকি পুরানো মন্দিরের পাশ দিয়ে যাওয়া একলা পুরুষ পথিককে দেখা দেন৷ নিজ হাতে স্বামী-হত্যার অপরাধবোধের কারণেই খুব সম্ভব,পুরুষ পথিকদের অমূল্য বর দেন৷ তার বাবা এ আশায় সারা জীবনই মন্দিরের আশেপাশে কাটিয়েছিলেন৷ তবে বোধহয় বর পাননি৷ পেলে মৃত্যুর সময় তিনি প্রাপ্ত বয়স্ক তিন সন্তানের জন্যে নিশ্চয়ই শুধুমাত্র একটি কুঁড়েঘর এবং মাটির ব্যাংকে জমানো আড়াইশো টাকা রেখে যেতেন না৷

কালী মন্দিরটা চোখে পড়তেই বিষ্ঞু প্রণাম করল৷ এদিক ওদিক তাকাল মা কালীর খোঁজে৷ তখনই দেখল,পুকুর ঘাটে কে যেন বসে আছে৷ আরেকটু এগোল সে৷ আরে,বিমলদা না? বিমলদা-ই তো! সেই শাল,সেই বাবরি চুল,স্বল্প আলোয় ঘাড়ের দাদের সাদা দাগগুলূ স্পষ্ট৷ বিমলদার দিকে এগিয়ে যায় বিষ্ঞু৷

পাঠক,আমার বিশ্বাস - আমার অতীব বুদ্ধিমান বন্ধু বিষ্ঞু যদি কল্যানের দোকানে বসে গল্পের ছলে বলা কালীপুকুরে ডুবে বিমলের মৃত্যুর খবরটায় একটু মনোযোগ দিত৷ তবে ও এভাবে এগিয়ে যেত না৷

কিন্তু নিয়তি ঠেকাবে কে? নিয়তি তাকে টেনে নিয়ে গেল বিমলের কাছে৷ সেই নিয়তিই আবার তার মুখ দিয়ে বলাল,"কেমন আছ,বিমলদা?'

বিমল ঘাড় ফেরাল৷ বিষ্ঞু লক্ষ্য করল সেই আগের মতই আছে বিমলদা৷ সেই চেহারা,সেই নাক,মেয়েদের মত সেই পাতলা ঠোঁট৷ কিন্তু চোখ দু'টি কেমন যেন নিষ্পাণ বলে মনে হয়৷ ছমছমে গলায় বিমল বলে ওঠে," আয়,বস৷ কখন এসেছিস? '

" এই তো আজই,' বলে বসে পড়ল বিষ্ঞু বিমলের পাশে৷

দু'জনে গল্প করতে লাগল৷ ছোটবেলার গল্প; কত মজারই না ছিল সেসব দিন৷ চেয়ারের পায়ায় লেগে বিপিন স্যারের ধুতি খুলে যাবার কথা মনে করে পেট চেপে হাসতে লাগল দু'জন৷ শেষ মুহুর্তে হাত দিয়ে গোলপোস্টে বল ঢুকিয়ে দিয়ে নিজেদের দলকে জিতিয়ে দেয়ার আনন্দ স্মৃতিও রোমন্থন করল৷

এক সময় হঠত্ বিমল বলে উঠল," চল,বিষ্ঞু,চান করি৷ '

বিমলের প্রস্তাবে অবাক হয়ে গেল বিষ্ঞু৷ "তুমি কি পাগল হয়ে গেলে বিমলদা,এখন স্নান করবে? এই শীতে? '

"আরে ধ্যুত্,আয় তো!' বলে বিষ্ঞুর হাত ধরে টান দিল বিমল৷ বিষ্ঞু অনুভব করল একটি বরফ শীতল হাতের স্পর্শ৷

পাঠক,এর ঠিক এক সপ্তাহ পর এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বিষ্ঞু আমাকে বলেছিল এই ঘটনা৷ বলেছিল তার পরদিনই নাকি লোকে কালীপুকুরে ওর লাশ খুঁজে পায়৷ ফুসফুসে পানি ঢুকে মারা গিয়েছিল সে৷

ওর গল্প এখানেই শেষ৷

কিন্তু আমার নয়৷

আমি এখন বহুরাত ধরে অপেক্ষা করছি,আমার গল্পটা কাউকে শোনাব,কেউ শুনতে আসবে,এমনই কোন কুয়াশা ঘেরা শীতের রাতে,একা,কালীপুকুরের ঘাটে বসে তাকে শোনাব আমি আমার গল্প৷

আসবেন নাকি আপনি?

আসুন না একবার৷ মাত্র একটি বার ৷৷৷ ৷

আমার নিমন্ত্রণ রইল৷

*********************
রহস্য পত্রিকা, জুন 2000- সংখ্যায় প্রকাশিত৷

আজ কি শুক্রবার ?

পুরোনো লেখাগুলো লিখেছিলাম বাংলাপ্লেইন ফন্টে৷ ওগুলোকে এখন আবার ইউনিকোডে কনভার্ট করতে বেশ ঝামেলা হচ্ছে৷
তবে খুব তাড়াতাড়িই করে ফেলব আশা করি, তারপরে তুলে দিতে পারব এখানে৷


আজ ইউনিভার্সিটিতে এসে এখান থেকে বাংলায় পোস্ট করা যায় কিনা ট্রাই করে দেখ্লাম৷ এখানে কোন ফন্ট ইন্সটল করা যায় না৷ তবে উইন্ডোজের সার্ভিস প্যাক ২ ব্যবহার করে বলে ভ্রিন্দা ফন্টটি আগে থেকেই দেয়া আছ্হ৷ ৷
ইউনিকোডে লিখতে এই একটা কারনেই খুব মজা লাগছ যে যে কোন একটি ইউনিকোড ফন্ট থাকলেই যে কেউ এই লেখা দেখতে পারবে৷
সোলায়মান লিপি নেই বলে একটূ অন্যরকম লাগছে, তবে ভ্রিন্দাও মনে হচ্ছে খারাপ নয়৷ আরো সুন্দর একটা ইউনিকোড ফন্ট কোথায় পাবো বুঝছি না৷
সময় পেলে কি করে বাংলায় ব্লগ করা যায় এই নিয়ে একটা পোষ্ট তুলে দিব ভাবছি৷ নিশ্চয় অন্যরাও উপকার পাবে, মানে যারা আমার মতো বাংলায় চিত্কার করতে চায়!

কবিতা ১ - দুই শিল্পী -

দুই শিল্পী -


কোন এক রূপসী ভোরে ক্যানভাস সামনে
ক্ষেপে ওঠেন এক চিত্রশিল্পী,
সৃষ্টিকর্তার আঁকা ছবি কি
তার চেয়েও সুন্দর?
আত্মম্ভরী জবাব তার -
"হতেই পারে না!'

পাল্লা দিয়েই দেখা যাক্ না!

রং তুলি নিয়ে বসে যান তিনি,
দিন-রাত শুধু এঁকেই চলেন৷
নিজেকে উজাড় করে দেন ক্যানভাসে৷
পাহাড় - নদী - সূর্যাস্ত -
আকাশ - মেঘ - ঝরণাধারা -
সবই আঁকেন৷

কিন্তু
সবুজ গাছ আঁকতে গিয়ে থমকে গেলেন -
সে গাছের ডালে বসে এক মা শালিক
ক্রন্দনরত তার এইটুকুন বাচ্চাদের মুখে
তুলে দিচ্ছে আহার৷
প্রথম সূর্যের মিঠে আলোর পটে,
সে এক অদ্ভূত সুন্দর ছবি৷
-- সৃষ্টিকর্তার আঁকা!

ছবির ক্যানভাস লুটিয়ে পড়ে,
শিল্পী শুধু চেয়েই থাকেন৷

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০৬, ২০০৬

কেমন করে --

বাংলায় ব্লগ করার ইচ্ছে থেকেই এই সাইটটি বানানো৷
বাংলায় সাইট তৈরি করা এখনো খুব একটা সহজ হয় নি৷ যে ফন্টগুলো ওয়েবে পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে যেগুলো সুন্দর, সেগুলো ওপেন টাইপ নয়৷ আর ওপেন টাইপ ফন্টগুলো বড় অবস্থায় সুন্দর দেখা গেলেও, ছোট হলে প্রায় পড়াই যায় না৷
তবু সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই সাইটটি ওপেন টাইপ, মানে ইউনিকোড ফন্ট দিয়েই বানাবো৷ কারন শেষমেষ এরাই বেঁচে থাকবে৷ তাইই সোলায়্মান লিপি বেছে নেয়া৷

বাংলা লেখার সফটওয়্যারেও রয়েছে হাজার ঝামেলা৷ খুঁজে পেতে দেখা যাবে ওয়েবে প্রায় শ'খানেকেরও বেশি বাংলা এডিটর আছে৷ একেকজন একেকটাকে ভালো বলে, এবং প্রত্যেকেই যেটাতে অভ্যস্ত, তার কাছে সেটাই ভালো৷
আমি নিজে ব্যবহার করেছি গুরুচন্ডা৯ ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া সফটওয়্যার৷ এটাই সবচে' ভালো, এমন দাবি করবো না, তবে আমার কাছে সবচে' ভালো লাগে৷ তার প্রধান কারন এই এডিটর দিয়ে ইউনিকোডেও বাংলা লেখা যায়৷
সুধীজনেরা 'টেরাই' করে দেখতে পারেন৷

ফন্ট আর এডিটর এর ঝামেলা শেষ হলে পরে আর রইলো ওয়েব হোস্টের জায়গা৷ ভেবেছিলাম আলাদা করে খুঁজে নেব, কিন্তু মনে হলো ঠিক ওয়েব সাইট নয় , মনে হয় ব্ল্গ করাটাই ভালো হবে৷

এভাবেই , আপাতত এই ব্লগ সাইটের আত্মপ্রকাশ!