Posts

Showing posts with the label গল্প-বুড়ো

গল্পঃ কাঠের সেনাপতি

আব্বার সাথে রাশেদের আজ আশ্চর্য শত্রুতা। আজ সারাদিন, দিনমান। ছোট্ট চায়ের টেবলের দু'পাশে ওরা দু'জন ঠিক দুই যুযুধানের মতন দাবার গুটি নিয়ে বসে আছে সকাল থেকে। কখনও গালে হাত, কখনও বাঁকানো ভ্রু, কখনও চুপচাপ। আব্বার অফিস ছুটি আজ, রাশেদের ইশকুলও তাই। ওদের সারা ঘরে ছুটির আমেজ এলিয়ে আছে, বসার ঘর থেকে রান্নাঘর, সেখান থেকে বারান্দায়, সবখানে। আপাতত শুধু ছুটি নেই দুজনের মাথার ভেতর, তুমুল তান্ডব তাতে, যুদ্ধ পরিকল্পনায় ব্যস্ত, আর বাইরে তবু বেশ নিরাবেগ, অথবা ভঙ্গিটা সেরকমই, খাঁজ কাটা সুন্দর কাঠের সাদা কালো সৈন্যদের ওরা লেলিয়ে দেয় একে অপরের দিকে। একটা অদ্ভুত দৃশ্য যেন টুপ করে বসে পড়ে টেবলের চারপাশ ঘিরে, যেন ঢাল-তলোয়ার হাতে দুই সৈন্য, যুদ্ধের ময়দানে পরস্পরের মুখোমুখি। দাবা, আসলে বুদ্ধিরই খেলা, দু'জনের কেউই তাই হার মানতে রাজি নয়। কেউ কেউ জানে, কেউ জানে না, দাবার ছক কাটা বর্গাকার ঘরগুলোকে পেরিয়ে যেতেও বাস্তবিক, যোদ্ধাসুলভ একটা দক্ষতার খুব প্রয়োজন হয়। আব্বার সাদা গুটি হয়ত পেছন থেকে তাড়া করে আসতে থাকে রাশেদের কালোর দিকে, আর রাশেদ তখন তার অলক্ষ্যে কাগজের ময়দানের অন্য কোন পার্শ্বে হয়তো তার অন্য কোন ...

বইমেলায় বন্ধু-র বইঃ অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল

Image
বিখ্যাত লোকজনদের সাথে আমার কখনো বন্ধুত্ব হয়নি, বরং তার উল্টোটাই ইদানিং বেশি বেশি ঘটছে, আমার বন্ধুরাই বেশ বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। :) আর এই তালিকার সাম্প্রতিক দুটো নাম হচ্ছে অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল । এই দুইজনের সাথেই পরিচয় হয়েছে ব্লগে এসে। লম্বা সময় পাড়ি দিয়ে এখন দুজনেই আমার আত্মার খুব কাছের মানুষ, কখনও দেখা না হয়েও! এবারের বই মেলায় ডেব্যু করছে আনোয়ার সাদাত শিমুল , তার অথবা গল্পহীন সময় বইটি দিয়ে। এগারোটি ছোট গল্পের একটা সংকলন হবে এটা। শিমুলের গল্প বলার ভঙ্গি দুর্দান্ত। চারপাশের চেনাজানা ঘটনাকে তুলির টানে এমন অদ্ভুত সুন্দর করে তুলে ধরে যে, বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। ওর লেখা গল্পগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো নীলুফার যখন মারা গেলো , রীতিমতন চমকে গিয়েছিলাম পড়ে। লিংক করে দিলাম, যার ইচ্ছা পড়ে দেখতে পারেন। সাম্প্রতিক আরেকটা গল্পও খুব ভাল লেগেছে- আমরা সস্তায় ফ্ল্যাট কিনতে চেয়েছিলাম । অমিতের এবারে ২য় বই বের হচ্ছে। প্রথম বই ছিলো একটা উপন্যাস, নাম- গন্দম। অনেকদিন অপেক্ষার বাদে সেই বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, এবং পড়ে টড়ে আমি যারপরনাই মুগ্ধ! অমিত তার নামের মতই অমিত সম্ভাবনাময়। অমিতের গল্প পড়ল...

গল্পঃ সমান্তরাল

Image
১। মাঝে মাঝে এমন হয় যে, গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে চোখ দুটো না খুলেই যখন অন্ধকারের গায়ে কান পাতি, নিস্তব্ধ রাতের ভেতরের কোন একটা উৎস থেকে খুব মৃদু ভাবে তবলার বোলের মত শব্দ ভেসে আসতে থাকে। একটা বা দুটো আঙুল দিয়ে খুব আদুরে ভঙ্গিতে যদি বাজানো হয় - সেটা ঠিক তেরে কেটে ধিন হয় না, বদ্ধ ঘরের দরজার এপাশ থেকে ভেতরের গুম-গুম শব্দ শুনতে পেলে যেমন লাগে, অনেকটা সেরকম। প্রথম প্রথম হৃৎপিন্ডের শব্দ ভেবে ভুল করতাম; পরে বুঝেছি, ওটা আসলে রাতেরই নিজস্ব শব্দ। দেয়ালের গায়ে অবিচল বসে থাকা টিকটিকি যেমন শুধু রাত হলেই টিকটিক করে উঠে; অথবা দেয়াল ঘড়িটা, সারাদিন চুপচাপ অবিরাম ঘুরে যায়, শুধু রাত গভীর হলেই যেন সেটাও টিকটিকির সাথে গলা মেলায়, তেমনি করে কেবল রাত হলেই যেন অন্ধকারের শব্দ শুনতে পাই আমি। এখন যদিও বিকেল, আকাশে মেঘ তাই সন্ধ্যে বলে ভুল হয়। অবিরাম ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে- থামবার লক্ষণ নেই দেখে খানিকটা অপেক্ষা করার পর হাল্কা পায়ে দৌড়ে আমরা ক'জন প্রায় ধ্যানমগ্ন মানুষ এই গাছটার তলায় এসে আশ্রয় নিয়েছি। সামনে তাকালে কেবলই বৃষ্টি, চেয়ে থাকার কোন মানে হয় না, তবুও আমরা সবাই সেদিকে তাকিয়ে থাকি। এক দ...

গদ্য ১ - প্যাচাল

প্যাঁচাল এইচএসসির পর কোচি ংকরতে আমরা যারা " ফরেইনার ' অর্থাত্ ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসি,থাকার জন্য " এক টুকরো ' জায়গার খোঁজে আমাদের যে কি ঝক্কি পোহাতে হয় সে শুধু আমরাই জানি৷ ঐ যে বলে না, " কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে৷৷৷ ' সত্যিই সে এক বিষময় যাতনা! তো ধন নয়,মান নয়,এতটুকু বাসা ... থুক্কু বাসা নয়,মেস৷ সেই মেস খোঁজার জন্য আমি আর আমর বন্ধু চপল পুরো ফার্মগেট এলাকা চষে বেড়াচ্ছি৷ ফার্মগেট কেন? কারণ,কোচি ংসেন্টারগুলো সব ওখানে গিয়েই " উত্পাদিত ' হয়েছে৷ কিন্তু কোথাও ভ্যাকেন্সি নাই৷ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করি; কিন্তু কাজ হয় না৷ পরে ঠিকানা টুকে নিয়ে হাঁটা দিলাম৷ যেখানেই দেখি " টু-লেট ' অথবা " রুম ভাড়া দেয়া হবে ' - সেখানেই একবার করে ঢু ঁমারি৷ কিন্তু হায়! বাড়িওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হয় আরও আজব অভিজ্ঞতা৷ প্রথমেই জিজ্ঞেস করে " আপনারা কি স্টুডেন্ট?' ঘাড় কাত করে স্টুডেন্ট হওয়ার অপরাধ স্বীকার করি৷ হ্যা,ঁতাই৷ মেস খুঁজে বেড়াতে হয়েছে এমন ছাত্র মাত্রই জানেন ঢাকা শহরে " স্টূডেন্ট ' হওয়া বিরাট অপরাধ৷ ...

গল্প ১ - নিমন্ত্রন

নিমন্ত্রণ ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর মুখ থেকে শোনা৷ তাদের গ্রামের নাম নোয়াগাঁও৷ মাঘ মাসের এক কুয়াশাঘেরা রাতে সেই গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটছিল সে৷ কুমিল্লা থেকে যাবার আগে সে আমাকে নিমন্ত্রণ করে যায় তাদের গ্রামে যাবার জন্যে৷ অফিসে যথেষ্ট ছুটি পাওনা ছিল আমার৷ তাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম, ঠিক এক সপ্তাহ পর তাদের বাড়িতে বেড়াতে যাব আমি৷ সে রাজি হয়েছিল৷ বাজারে গিয়েছিল সে৷ আজই এসে পৌঁছেছে কুমিল্লা থেকে৷ পরিচিত অনেকের সাথেই দেখা হয়েছে৷ কল্যানের চায়ের দোকানের আড্ডায়ও যোগ দিয়েছিল৷ কয়েকজন ওর জন্য আফসোস করেছে- আর কিছুদিন আগে এলেও নাকি "রসের বাইদানী' পালাটি দেখতে পেত৷ এরপর চলেছে তাসের আসর৷ মোটামুটি ভালই কেটেছে সময়৷ অনেক নতুন পুরাতন খবর শুনেছে৷ আসবার সময় কল্যান আবার দু'টি সিগারেটও গছিয়ে দিয়েছে হাতে৷ বাড়ি থেকে বাজার তিন মাইলের পথ৷ ঠিকমত হাঁটতে পারলে এক ঘন্টাও লাগে না৷ কিন্তু শীতের রাতে অনেকক্ষন লেগে যায়৷ হাঁটছে সে৷ গাঁয়ের এ পথটা একটু নির্জন৷ অসময়ের বৃষ্টি হয়েছে এক পশলা৷ এখানে সেখানে পানি জমে আছে৷ এঁটেল মাটির রাস্তা, কাদা হয়ে আছে৷ সেরকমই একটা কাদায় ওর স্যান্ডেল দেবে গেল৷ টেনে উ...