স্লটারহাউজ ফাইভ, অথবা, দি চিলড্রেন’স ক্রুসেড/ কার্ট ভনেগাট জুনিয়র
যুদ্ধবাজ মানুষদের এই পৃথিবীতে ক্লান্ত-শ্রান্ত এক পাঠক ভনেগাটের এই বইয়ের মধ্যে আশ্রয় খুঁজে নেওয়া ছাড়া আর কী-ইবা করতে পারে! এই বইটাকে ভালো লাগার অনেক কারণ থাকতে পারে, মন্দ লাগারও। তবে আমি এটিকে মনে রাখব যে-কোনও যুদ্ধ যে মহিমান্বিত কিছু নয়, বরং খুব নৃশংস আর কুৎসিত একটা ব্যাপার, এটা শেখার প্রথম পাঠ হিসেবে।
পছন্দের একটা পৃষ্ঠা অনুবাদ করে ফেললাম চট করে।
***
“... মেরি তারপরে আমার দিকে ঘুরে তাকালো, দেখলাম খুব রেগে আছে সে, এবং রাগটা আমারই ওপর।
অনেকক্ষণ ধরেই নিজের সাথে কথা বলছে সে, তাই পরের কথাটা শুনেই বোঝা গেলো, একটা লম্বা আলাপের খণ্ডাংশ সেটা।
'তোমরা তখন একেবারে শিশু ছিলে,' সে বললো।
'কী?' আমি বললাম।
'যুদ্ধের সময় তোমরা একদম শিশু ছিলে, ওপরতলায় যেসব বাচ্চারা খেলছে, ওদের মতন। '
আমি মাথা নেড়ে সায় জানালাম। এটা সত্যি আমরা সদ্য কৈশোর পেরনো যুবা ছিলাম ওই সময়, আমাদের শিশুত্ব আমাদের ছেড়ে যায়নি তখনও।
'কিন্তু তুমি একথা তোমার বইয়ে লিখবে না, তাই না?' এটা প্রশ্ন ছিল না, ছিল অভিযোগ।
'আমি- আমি ঠিক জানি না,' বললাম আমি।
'কিন্তু আমি জানি,' মেরি বলে, 'তুমি ভান করবে যে তোমরা আসলে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছিলে, শিশু নও। আর নিজেদের তুমি লিখবে ওই, ওই ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা বা জন ওয়েনের সিনেমাগুলোর নায়কদের মতন করে। অথবা ওই যুদ্ধবাজ চতুর বুড়ো শয়তানদের মধ্যে আর কারো মতন। আর তাই তখন আমাদের মনে হবে, যুদ্ধ কী দারুণ একটা ব্যাপার! তারপর আমরা আরও অনেক অনেক যুদ্ধ পাবো। আর সেসব যুদ্ধে লড়াই করবে আরও কিছু শিশু, ওপরতলার বাচ্চাগুলোর মত আরও কিছু শিশু।’'
তখন আমি বুঝতে পারলাম, ওর রাগের মূল কারণ আসলে যুদ্ধ। মেরি চায় না কোনও যুদ্ধেই তার কোনো সন্তান বা আর কারো সন্তান মারা যায়। ওর ধারনা ছিল এ ধরনের বই বা সিনেমা আসলে যুদ্ধকে উস্কে দেয়।…”
(স্লটারহাউজ ফাইভ, অথবা, দি চিলড্রেন’স ক্রুসেড/ কার্ট ভনেগাট জুনিয়র/ পৃষ্ঠা ১২)
(১৯ মার্চ, ২০২৬)
