Posts

Showing posts with the label নাটক

| আশফাক নিপুণের টেলিফিল্ম 'ভিক্টিম' |

|| স্পয়লার এলার্টঃ নাটকের গল্প বলে দেয়া নেই কিন্তু সমাপ্তি নিয়ে ইঙ্গিত আছে || গতকাল সন্ধ্যায় নাটক দেখা শেষ হওয়ার পরে প্রথমেই মাথায় এসেছিলো, সুন্দর একটা নাটক কিন্তু শেষটা আরও ভালো হতে পারতো। তখন মনে পড়লো কয়েকদিন আগে মার্গারেট এটউড এর 'ব্লুবেয়ার্ড'স এগ' গল্পটা পড়ে নিজের নোটসে এক লাইনে লিখে রেখেছিলাম, "সব গল্পকেই হয়তো সুনির্দিষ্ট কোনও সমাধান দেয়ার দরকার পড়ে না, বরং সমস্যা তৈরির সময়ের স্ট্রাগলকে বিষয়বস্তু করেও একটা গল্প খুব ভালো মানের হতে পারে।" এটউডের গল্পের জন্যে আমার এই উদার নীতি আর আশফাক নিপুণের গল্পের জন্যে এই খুঁতখুঁতানি মনোভাবের কারণে নিজের উপরেই বিরক্ত হলাম খুব। এটাকে আমার বাঙালী মনের সঙ্কীর্ণতা ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না! সে যাই হোক, শেষ কথা হলো, বহুদিন পরে খুব সুন্দর একটা বাংলা টেলিফিল্ম দেখলাম। যত্ন নিয়ে ভাবা গল্প আর সেই সাথে প্রত্যেকটি চরিত্রের অসাধারণ পরিমিত এবং সাবলীল অভিনয়ের ক্রেডিট নিঃসন্দেহে নির্মাতার। আশফাক নিপুণের করা কাজ এখন থেকে খুঁজে খুঁজে দেখবো বলে ঠিক করে ফেললাম।

অমিতাভ রেজার নাটক

বাংলাদেশি নাটকে পরিচালকের নাম দেখে নাটক বাছাই করার অভ্যেসের শুরু মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর কল্যাণে। কিন্তু সেই ঊষা লগ্ন এখন গত-প্রায়, এখনও তার নাটক দেখি, কেবল যদি পর্যাপ্ত সময় থাকে হাতে। তারপরেও কিছুটা একঘেয়েমিতে ভুগি, ফারুকীর নাটকের পাত্র-পাত্রীরা সবাইই কেন জানি খুব উচ্চ স্বরে কথা বলে। আর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবিরাম ঝগড়া করতে থাকে কেউ কেউ, এবং নাটকে মোবাইলের ব্যবহার দৃষ্টিকটু রকমের বেশি, বাংলাদেশে মোবাইলের প্রথম যুগের মত অনেকটা। যেন সবাইই গত পরশু মোবাইল ফোন কিনে গতকাল সারাদিন ব্যাটারি চার্জ দিয়ে আজ নাটকের শ্যুটিং করতে চলে এসেছে। তারপরেও নাটক দেখার অভ্যাস এখনও পাকাপোক্ত আছে অল্প কজন পরিচালকের গুণে, তাঁদের একজন অমিতাভ রেজা। সম্ভবত গত ঈদেই দেখেছিলাম [i]ইকুয়াল টু[/i]। ছিমছাম একটা নাটক, আরজে নওশীন ছিলো অভিনয়ে, নাটকেও আরজেরই ভুমিকা তার। গল্পটা চমৎকার, এবং দেখতে দেখতে বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নালু সময়টায় ফিরে যাচ্ছিলাম। অবশ্য, অমিতাভ রেজার ভক্ত হয়েছি তারও আগে, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের গল্প অবলম্বনে বানানো নাটক '[i]একটা ফোন করা যাবে প্লিজ?[/i]' দেখার সময়। (অবশ্য ধন্...

নাটকঃ মরটিন, মশা অথবা হাত

দৃশ্য-১ পর্দা উঠবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মশার পিন পিন শব্দ। মঞ্চের মাঝখানে একটা বিছানা, তাতে গোলাপী রঙের মশারী টানানো। পাশেই চেয়ার, সেখানে রমিজ আলী বসে থাকবেন। গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জী, চোখে চশমা। ভুরু কুচকে পত্রিকা পড়বেন। ডানপাশের কোনা থেকে একটা ফুটলাইট জ্বলবে। আলো পড়বে রমিজ আলীর গায়ের উপরে। পেছনের দেয়ালে তার ছায়া দেখা যাবে। দৃশ্য-২ আলো বদল। এবার মাঝের ফুটলাইট জ্বলে উঠবে। আগের বাতি নিভবে না। রমিজ আলী পত্রিকা পড়তে পড়তে মাথা দোলাবেন। এপাশ ওপাশ। হতাশা সূচক। পত্রিকার এ পাশটায় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের ছবি দেখা যাবে। দুজন টুপিওয়ালা থাকবে সে ছবিতে, একজনের লালচে দাঁড়ি। ব্যাকগ্রাউন্ডে মশার পিন পিন অব্যাহত। দৃশ্য-৩ মাথার ওপরের বাতি জ্বলে উঠবে। আলো রমিজ আলীর ওপর। রমিজ আলী উঠে দাঁড়াবেন। পত্রিকা চেয়ারে রেখে দু'হাত প্রসারিত করে হাই তুলবেন। তারপরে মশারির ভেতরে ঢুকে যাবেন। দৃশ্য-৪ মশারির পাশের ফুটলাইট জ্বলে উঠবে। মশার পিন পিন আওয়াজ একটু বেড়ে যাবে। রমিজ আলী দু হাতের চাপড়ে দু একটা মশা মারার চেষ্টা করবেন। তারপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়বেন বিছানায়। আলো কমে আসবে। খানিকপর রমিজ আলীর ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাবে।...