... ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই- ভাবছো লোকে দিচ্ছে তোমায় হাততালিটাই। ভাবছো তুমি বাঁচবে তুমি একার চালে- ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে। .. সুমনের গান । ভেবে দেখলাম, ঘুরে ফিরে আমার একাকীতে¡র সঙ্গী আসলে গানেরাই। একটা সময় বই আর গানে কম্পিটিশান ছিলো। কিন্তু এখন হাতের কাছে বই অপ্রতুল। তাই , সিনেমাকে খুব অল্প খানিকটা ভাগ দিয়ে পুরো সাম্রাজ্যটা প্রায় একাই দখল করে নিয়েছে প্রিয় গানেরা । নিজের গানের গলা খুব খারাপ। আমার কর্কশ কবিতাগুলো ছাড়াও হঠাৎ করে মাঝে মাঝেই আনমনে যখন গান গুনগুন করি, কাকের কথা আরও বেশি মনে পড়ে যায়। অবশ্য কাক গান গায় কিনা জানা নেই, তবে আমি গাই। প্রায়শই, গুন গুন করে, অথবা হেঁড়ে গলায়। আজ শুনছিলাম সুমনের এই গানটা। আর গুন গুন করছিলাম। একটা সময়ে একটু মনোযোগ দিতেই কথাগুলো খুব আকৃষ্ট করলো। ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই - । বেশ অদ্ভূত একটা কথা। কিন্তু ভেবে দেখলাম আমরা প্রায় সবাইই ঠিক এরকমটাই আশা করি। পরের লাইনগুলো আরো অদ্ভুত! ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে! চট করে মনে হলো- সুমন কি এই গানটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন? নইলে গাইতে গাইতে আমার কেন মনে হলো, গানটা আসলে নিজের চোখে...
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বইটা আগে পড়া ছিল না। বাতিঘরের ধ্রুপদী সংস্করণের বইটা দেশ থেকে আনিয়েছে তিথি, সেটা হাতে নিয়ে দেখতে গিয়ে এত ভালো লাগছিল যে এক ছুটির দিনের সকাল থেকে সন্ধ্যা টানা পড়ে শেষ করে ফেললাম। পড়তে গিয়ে চট করে 'স্ট্রিম অব কনশাসনেস' টার্মটা মাথায় এলো। মানিকের নিজের লেখায়ও আগে এর ব্যবহার দেখেছি, তবে এত স্পষ্ট করে আগে কখনও চোখে পড়েছে বলে মনে পড়ছে না। গল্পের মূল চরিত্র রাজকুমার, কেন জানি সৈয়দ হকের বাবর আলীকে মনে করিয়ে দেয়। বিষয় হিসেবে রাজকুমারের ভাবনা সেই সময়ে যথেষ্ঠ বিতর্ক তৈরি করার কথা। সত্যিই করেছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে কখনও।