বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০০৭

দুঃখিত, আমিও।



উপরের ছবিটা আজকের প্রথম আলো থেকে নেয়া। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ প্রেসক্লাবের এক সমাবেশের পরে সেখানকার কিছু আইনজীবি ও সাংবাদিকদের দেখানো ব্যানার এটা।
এই ব্যানার দেখে মনের ভেতর অনেক কথা জমে উঠলো। খানিকটা ভালো লাগলো, একটা দেশের জনগণ আর সরকার সম্ভবত সবসময় এক অর্থ করে না, বুঝা গেলো সেটা। এরকমটা আগেও দেখেছি, সেই ৭১এ-ই। একদিকে পাকিস্তানের সহায়তা করেছিলো আমেরিকান সরকার, অন্যদিকে জর্জ হ্যারিসনদের মতন মানুষেরা বাংলাদেশের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন মরিয়া হয়ে।
পাকিস্তানের এই মানুষদের মনোভাবকে শ্রদ্ধা করি। আমাদেরকে সমবেদনা জানিয়েছেন তারা, ঠিক আছে।
কিন্তু আর কিছু না, মনের ভেতর কোন মুক্তিযোদ্ধা অথবা বীরাংগনার স্মৃতি না এনেই, আমাদের লক্ষ শহীদদের কথা একবারও মনে না করেই আমি শুধু ব্যানারের 'জেনোসাইড' শব্দটার দিকে তাকাচ্ছিলাম। বারবার। সত্যি, মনে হলো অদৃশ্য কোন লাল রঙে লেখা ঐ শব্দটার পাশে ঐ 'স্যরি' শব্দটাকে বড্ড বেশি হাল্কা মনে হচ্ছিলো, অনেকটা দায়সারা আর খেলো লাগছিলো! একটা জেনোসাইডের জন্যে শুধুই একটা স্যরি?

আমি জানি, তারা দুঃখ প্রকাশ না করলেই বা আমরা কি করতাম? কিচ্ছু করার ছিলো না। 'ক্ষমা চাইতেই হবে' এরকম চোখ রাঙানোর মতন মেরুদন্ড বাংলাদেশের এখনও নেই, ঠিক কবে যে সেরকম 'বড়' হয়ে উঠবো আমরা, জানি না।

দলছুট কিছু পাকিস্তানীকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমি আমার পূর্বপুরুষদের রক্তের গন্ধ শুঁকে বড় হয়েছি, আমাদের মায়েদের কান্নায় ভিজে ভিজে।
স্যরি, আপনাদের 'স্যরি'তে আমার মন ভরলো না।

1 টি মন্তব্য:

দৃপ্ত বলেছেন...

সত্য কথা। চোখা রাঙানোর মত মেরুদন্ড নেই। আরও অনেক কিছুই নেই। কিন্তু, মাথা উঁচু করে কথা বলার গর্ব ও সম্মানটুকু আছে। ত্রিশ লাখ বাবা-মা-ভাই-বোনের রক্ত দিয়ে আমরা এটা আদায় করেছি।

হায়! ওদের তো তাও নেই! যে লজ্জা নিয়ে তারা বেঁচে আছে, তার কিছুটা যদি তাদের জাতি অনুভব করতে পারে, ওদের জন্যে অনেক বড় একটা শাস্তি।