পোস্টগুলি

December, 2007 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দুঃখিত, আমিও।

ছবি
উপরের ছবিটা আজকের প্রথম আলো থেকে নেয়া। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ প্রেসক্লাবের এক সমাবেশের পরে সেখানকার কিছু আইনজীবি ও সাংবাদিকদের দেখানো ব্যানার এটা।
এই ব্যানার দেখে মনের ভেতর অনেক কথা জমে উঠলো। খানিকটা ভালো লাগলো, একটা দেশের জনগণ আর সরকার সম্ভবত সবসময় এক অর্থ করে না, বুঝা গেলো সেটা। এরকমটা আগেও দেখেছি, সেই ৭১এ-ই। একদিকে পাকিস্তানের সহায়তা করেছিলো আমেরিকান সরকার, অন্যদিকে জর্জ হ্যারিসনদের মতন মানুষেরা বাংলাদেশের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন মরিয়া হয়ে।
পাকিস্তানের এই মানুষদের মনোভাবকে শ্রদ্ধা করি। আমাদেরকে সমবেদনা জানিয়েছেন তারা, ঠিক আছে।
কিন্তু আর কিছু না, মনের ভেতর কোন মুক্তিযোদ্ধা অথবা বীরাংগনার স্মৃতি না এনেই, আমাদের লক্ষ শহীদদের কথা একবারও মনে না করেই আমি শুধু ব্যানারের 'জেনোসাইড' শব্দটার দিকে তাকাচ্ছিলাম। বারবার। সত্যি, মনে হলো অদৃশ্য কোন লাল রঙে লেখা ঐ শব্দটার পাশে ঐ 'স্যরি' শব্দটাকে বড্ড বেশি হাল্কা মনে হচ্ছিলো, অনেকটা দায়সারা আর খেলো লাগছিলো! একটা জেনোসাইডের জন্যে শুধুই একটা স্যরি?

আমি জানি, তারা দুঃখ প্রকাশ না করলেই বা আমরা কি করতাম? কিচ্ছু করার ছিলো না। 'ক্ষমা চাইতে…

আর্থ আওয়ারঃ প্রিয় পৃথিবীর জন্যে একটি ঘন্টা

ছবি
আর্থ আওয়ার-এর মূল ধারণাটা এরকমই। প্রিয় পৃথিবীর জন্যে একটা কিছু করা। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই এমন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ; যেটা আপাত দৃষ্টিতে খুব সামান্য হতে পারে, কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে এর অবদান হয়ে যাবে অনেক বড়।
পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে যে দেশগুলো, তাদের তালিকায় বাংলাদেশ যে অনেক উপরের দিকে, এটা আজকের নতুন কোন খবর নয়। কাগজ কলমের হিসাব অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি আর এক মিটার বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের ছোট্ট দেশটার পনের ভাগ এলাকাই ডুবে যাবে পানির নীচে। ঘরহারা হবে প্রায় ১৩ মিলিয়ন মানুষ। এই হিসাবের বাইরে এরকম দুর্যোগে আর কি কি হতে পারে, সিডরের পরের গত এক মাসে আমরা তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। মাঠের শস্য ভেসে যায় পানিতে,ক্রমশ বাড়তে থাকা মৃত মানুষের অংক আমাদের কাছে হয়ত কিছু সংখ্যা, কিন্তু অনেকের জন্যে তারাই তাদের আত্মীয়, আত্মার পরিজন।
তো, এই উষ্ণতা বাড়ার পেছনে কারা দায়ী? চোখবুজে আপনারা লাদেনকে দোষারোপ করতে পারেন, সাথে তার প্রিয় বন্ধু জর্জ ডব্লিউ বুশকেও। দুজনই পৃথিবী জুড়ে এত বেশি বিস্ফোরণ আর যুদ্ধ বাধিয়ে রেখেছে, উষ্ণতা বাড়বার ক্ষেত্রে এই দুই মাথামোটার অবদানও কিন্…

পরবাসে তাবলীগের বশে

ইউনিভার্সিটি হলগুলোয় পরিচিত এক দৃশ্য ছিলো, আমাদের স্বাভাবিক বহুল তরংগায়িত জীবনে আরেক তরংগ আর কি। সেটা হলো, দুপুরের খাবারের পরে হয়তো সবাই চুপচাপ, বেডে শুয়ে আরাম করছে, কোথাও কোন রুমে হয়তো চলছে আড্ডা, এরকম অবস্থায় হুট করেই পুরো ফ্লোরে ফিসফাস করে ছড়িয়ে পড়লো খবর, "ঐ আইছে, আইছে রে, ভাগ সবাই!"
ব্যস, সবাই শোয়া বসা ছেড়ে হুড়মুড় করে গায়ে শার্ট চাপিয়ে পড়িমড়ি করে দে ছূট।
তা কে সেই সুধীজন, যার আগমনে এই পলায়ন নাটিকা?
না,ক্যাডার বা ঐ গোত্রীয় কেউ নন, তারা হলেন তাবলীগী জামাতের মানুষ।
লাঞ্চের পরপরই মূলত তারা 'হামলা' চালাতেন। মুখে অমায়িক হাসি, কথার শুরুতেই হাত মিলানোর জন্যে হাত চেপে ধরেন, এবং অলৌকিক ভাবে সেই হাত ছাড়ার কথা পুরোপুরি ভুলে যান। একদম মাগরিবের নামাজের পরে আজকের জমায়াতে হাজির থাকবো- এইরকম একটা অদৃশ্য সনদে সম্মতিসূচক দস্তখত না করা পর্যন্ত মুক্তি মিলে না।
তাবলীগি জামাতের পেছনের মূল কাহিনিটা আমার জানা নেই। তবে ধারণা করতে পারি, বিপথে যাওয়া মুমিনদের যায়-যায়-ঈমানকে পাকাপোক্ত করতেই তারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। আমার অবশ্য কোনই আপত্তি নেই তাতে। তবে বার তিনেক প্রায় একই ধরণের লম্বা লেকচারের ম…