Posts

কাগজের জার্নাল

Image
  অনেকদিন পরে কাগজে লিখতে গিয়ে খেয়াল করলাম, লেখায় বাংলা-ইংরেজির মিশেল তেমন একটা হচ্ছে না, কথা বলতে গেলে যেটা এড়ানো খুব মুশকিল হয়। এর পেছনে কারণ কী হতে পারে? একটা কারণ সম্ভবত, লিখতে গিয়ে ভাবনার সময় বেশি পাচ্ছি, কথা বলার তুলনায়। তার মানে, কথা যদি আরেকটু ধীরে বলি, তাহলে কি এটা এড়ানো সম্ভব? চেষ্টা করে দেখতে হবে।

I have more souls than one | Fernanndo Pessoa

Image
  সমুদ্রের বুকে বয়ে চলা নৌকারা নিজেকে ভাবে পাখি, আর পালগুলো যেন ডানার মতন। তাদের দেখে মনে পড়ে যায়, কী যেন একটা হবার কথা ছিল আমার, যা হতে পারিনি। সেই বেদনা আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়...। (আমি বুঝতে পারি, নিজেকে পাখি ভাবতে থাকা একটা বিষণ্ণ নৌকা আমি।) I See Boats Moving by Fernando Pessoa I see boats moving on the sea. Their sails, like wings of what I see, Bring me a vague inner desire to be Who I was without knowing what it was. So all recalls my home self, and, because It recalls that, what I am aches in me. Translated from Portugese by Johnathan Griffin.

এটা আমার দর্শনের নোটখাতা নয় | আরিফ রহমান

Image
আগ্রহ নিয়ে পড়া হল বইটা। ছোট করে বলতে গেলে, এখানে বলা হয়েছে আমাদের আরও সহমর্মী হবার কথা, ভিন্ন বিশ্বাসের (এবং মতের) মানুষদের ব্যাপারে সহনশীল হবার সদিচ্ছা থাকার কথা। মুখে এ কথাগুলো অনেকেই বলে থাকি, তবে নিজেদের কাজে তার প্রতিফলন আনা সহজ নয়। আর সহজ নয় বলেই একটা পুরো বই লিখে ফেলতে হল। ছাপার গন্ডগোলে মাঝের কয়েকটা পাতা ফাঁকা পেয়েছি, পরের সংস্করণে ঠিক হয়ে যাবে হয়ত। লেখকের ভাবনার গতিপথ, সুন্দর করে আলাপের ভঙ্গিতে বুঝিয়ে লেখার কারনে, অনুসরণ করে যাওয়া সহজ হয়েছে।

সুহান রিজওয়ান-এর জার্নাল

Image
দু হাজার পনের থেকে বিশ, এই ছয় বছরে লেখা সুহানের দিনলিপির বাছাইকৃত ভুক্তির সংকলন এই বই। ফেসবুক টুইটারের এই যুগে দিনলিপি লিখে রাখার মত মানুষ খুব বেশি আছে বলে মনে হয় না; সুহান সেই বিরল মানুষদের একজন। ব্যক্তিগত জার্নাল হলেও লেখার গুণে, সেই সাথে, 'আমি' বা 'আমার' শব্দের বাহুল্য নেই বলে (যেটা আসলে লেখারই আরেক গুণ) এই বইটির বক্তব্য ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে, হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়ের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটা নতুন বছর শুরুর সাথে সাথে চোখ বুজে একবার ভাবার চেষ্টা করলাম, ওই সময়টায় কোথায় ছিলাম আমি। যেনবা দেশ থেকে বহুদূরে বসে যে শূন্যতা অনুভব করি প্রতিনিয়ত, পাজলের একটা টুকরোর মত এই বইটা যেন কিছুটা তা পূরণে সাহায্য করে আমায়। ভালো লাগার মত অংশ রয়েছে অনেক, দারুণ সব উক্তি, কোটেশন, বই বা লেখকের উল্লেখ, পেন্সিলে দাগিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছি। তবে, উপন্যাস তৈরির সময়টায়, তৈরি হতে থাকা উপন্যাসিকের অন্তরে যে টানা পোড়েন, এ অংশগুলোই মনে জায়গা করে নিয়েছে বেশি।  All reacti

ছোটগল্প সমগ্র | মতি নন্দী

Image
মতি নন্দীর উপন্যাস পড়েছি আগে, ছোটগল্প পড়া ছিল না। প্রায় সত্তরটার মত গল্প রয়েছে এই বইয়ে। হাতে গোনা তিন চারটে বাদে বেশিরভাগই ভাল লেগেছে। এরকম হয় না সাধারণত। এমন সব মানুষের সাথে দেখা করিয়ে দিলেন মতি নন্দী, যাদের সাথে সাধারণত দেখা হয় না আমাদের। অবাক হয়েছি নিজের গণ্ডিবদ্ধ জীবনের কথা ভেবে। একটা গল্প কয়েকবার পড়া হল, 'শহরে আসা'। কী দারুণ গল্পটা! লেখায় কোথাও ভাষার মারপ্যাঁচ বড় একটা নেই। প্রতিটা গল্প যেন হাতে ধরা যায়, ছোঁয়া যায়, চেনা যায়।

অর্ধেক জানুয়ারি-

Image
লিলি-রোজ বিনতে জ্যাক স্প্যারো দারুণ অভিনয় করে। এতটা আশা করিনি। মতি নন্দী-র ছোট গল্পও, এতটা আশা করিনি। কে জানত এত ভাল গল্প লেখেন তিনি। কোনো অং বং চং নেই, গল্প বলছি বলে অহেতুক টালবাহানা নেই, সলিড সব গল্প একেবারে। সেগুলো পড়ার ফাঁকে ফাঁকে তবু হেলাল হাফিজকে মনে পড়ল অনেকবার। বড় বেদনার মত বেজে গেলেন তিনি বুকে, বারবার, বারবার। 'পান্তাভাতে' পড়তে পড়তেও মনে হল একবার, গুলজার যদি চিনতেন হেলাল হাফিজকে, কত ভালই না হতো। পান্তাভাতে বইটায় নিজের নামে একটা চ্যাপ্টারের মালিক হয়ে যেতেন তিনি হয়ত। অথবা, যেমনটা ফিটজেরাল্ড বা এজরা পাউন্ড জায়গা পেয়েছেন হেমিংওয়ের প্যারিসের স্মৃতিতে। অবশ্য স্মৃতিতে জায়গা পেলেই বা কী আসে যায়। ইমতিয়ার শামীম চিরসত্যের মত তবু বলে যান, কোভিডে মরুক বা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে লাগা আগুনে, সেই মরাকে আরও একবার করে মারে চেনা জানা মানুষেরাই। মানুষ তাই বাঁচাবে মানুষকে, এতটুকুও হয়ত আশা করি না আর।

পান্তাভাতে । গুলজার

Image
  গুলজারকে কত ভূমিকায়ই না দেখি। সবচেয়ে বেশি চেনা হলেন গীতিকার গুলজার। অথবা কবি। পান্তাভাতে পড়তে পড়তে পরিচালক আর চিত্রনাট্যকার গুলজারকেও জানা হলো ভালো করে। পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম নেওয়া গুলজারের বাংলা প্রীতি অসামান্য, এতটাই যে নিজেকে বাঙালী বলে পরিচয় দিতে দ্বিধা করেন না। তাঁর দীর্ঘ জীবনে সঙ্গী হওয়া আরও কিছু মানুষ, যাদের সবাই আমাদের চেনা, তাঁদের কথা উঠে এসেছে এই বইয়ের লেখাগুলোয়। বিমল রায়, সলীল চৌধুরী, কিশোর কুমার, সঞ্জীব কাপুর, শর্মিলা, ঋত্বিক ঘটক, রাহুল দেব বর্মন, মহাশ্বেতা দেবী, ভীমসেন যোশী, রবিশংকর, এরকম আরও অনেকে। টুকরো টুকরো স্মৃতির মত লেখাগুলো, কোনোটাকেই পূর্ণাঙ্গ বলা যাবে না হয়ত। বরং অনেকটা স্ন্যাপশটের মত। ছবির অ্যালবামের মতই, জমিয়ে রাখা যায়। 

হলুদের গাঢ় সমাচার | ইমতিয়ার শামীম

Image
এই বছর ইমতিয়ার শামীমের আরও কয়েকটি বই আনা হলো দেশ থেকে। বাতিঘরের কাছে লিস্ট দেয়া ছিল, ছোটভাই মেলবোর্নে আসার সময় নিয়ে এলো সাথে করে।  হলুদের গাঢ় সমাচার একটা ছোটগল্প সংকলন। সব মিলিয়ে ১৫ টা গল্প। গল্পগুলো প্রায় সবই সাম্প্রতিক, গল্পের বিষয়বস্তুতেও সমসাময়িক ঘটনা ও চরিত্র প্রাধান্য পেয়েছে।    কোভিড, কোনো কারখানায় লাগা আগুন, ধর্মকে ব্যবহার করে জমিদখল, একটা বোমা হামলার ষড়যন্ত্র - এরকম সব বিষয়। ইমতিয়ার শামীমের গল্প পড়লে মনে হতে থাকে, একটা ঘটনাই কত ভিন্ন ভিন্ন চোখেই না দেখা যায়! 

হেলাল হাফিজ

" বড়ো বেদনার মতো বেজেছ তুমি হে  আমার প্রাণে, মন যে কেমন করে মনে মনে  তাহা মনই জানে। "  ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ 

গল্প

Image
 গল্প দু'রকম।  ভুলে যাওয়ার মত গল্প, আর মনে রাখার মত গল্প।