মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪

একটি হাউ-টু ব্লগঃ যেভাবে আপনার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাবেন-

শুরু-
-----------------
গত বছর ডিসেম্বরে  দেশে যাবার পরে একটা অচিন্ত্যনীয় ব্যাপার হলো।

সারা দেশে তখন নির্বাচন পূর্ববর্তী আন্দোলন আর অবরোধ, সেই সাথে লেগে আছে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও...। দেশে যাবার আগে আগে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই বললেন এরকম পরিস্থিতিতে না যেতে, নির্বাচন শেষ হোক, পরিস্থিতি শান্ত হোক, তারপর যাওয়া যাবে।
আমি তেমন একটা গা করলাম না। নিজের দেশে যাচ্ছি, সেটার জন্যে আবার পরিস্থিতি বিবেচনা কী? অনেককেই দেখেছি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে যাবার আগে ‘ওয়েদার’এর খোঁজ নেন, তা না হলে দেশে গিয়ে অসুখে পড়েন, আমার এখনও এরকম হয়নি। একবার শুধু অতিরিক্ত নিমন্ত্রণের চাপে পেটের বারোটা বেজে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে ছিলাম কদিন, এ ছাড়া আমার এতদিনকার চিরচেনা ‘ওয়েদার’ কখনোই আমাকে বিপদে ফেলেনি। আর এইসব হরতাল, অবরোধ এসব তো আমাদের নির্বাচনী কালচার, ডরাইলেই ডর, নইলে তেমন কিছু না।
এরপরও অনেকের প্রশ্নের জবাবে মজা করে বলেছি, বেশি খারাপ পরিস্থিতি হলে ঘরের মধ্যেই শুয়ে বসে কাটিয়ে দিবো না হয়, তাতেই বা কী আসে গেল?
আমার সেই মজা করে বলা কথা-ই যে সত্যি হয়ে যাবে সেটা তখন বুঝিনি। দেশে যাবার পরে আমার আগমন উপলক্ষেই কি না কে জানে, হরতাল অবরোধের ঘনত্ব ও পুরুত্ব দুইই বেড়ে গেলো, আমি পুরো তিন সপ্তাহ ঢাকায় আটকে রইলাম, একবারের জন্যেও আমার নিজের শহর কুমিল্লায় যেতে পারলাম না!

এরকম কিছু আসলে স্বপ্নেও ভাবিনি। কুমিল্লায় যেতে পারছি না, আমি?!?
সৌভাগ্য এই যে আমার দুই মা-ই তখন ঢাকায়, মানে আমার আম্মু আর নানু। আম্মুর চিকিৎসার জন্যে মীরপুরে একটা অস্থায়ী ডেরায় উঠেছেন, তাঁকে দেখভাল করতে রয়েছেন নানু। কিন্তু এদিকে কুমিল্লায় আমার বাকি সব আত্মার আত্মীয়রা, আমার মামা, খালা আর সব পিচ্চি পিচ্চি কাজিনরা, যারা আমার অপেক্ষায় মোটামুটি পাগল-প্রায়।
সপ্তাহে একদিনের জন্যে অবরোধ তোলা হয়, কিন্তু যানজট ঠেলে দিনে দিনে কুমিল্লায় গিয়ে ফিরে আসার উপায় নেই। একবার গেলেও ফিরতে হলে পরের সপ্তাহের অবরোধ-হীন দিনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে, সেটাও সম্ভব না কারন আম্মু-নানু ঢাকায়।
এই দোটানার মধ্যে থেকেও একবার অবরোধ না-থাকার আগেরদিন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে আমরা দুই ভাই বাস স্টপে গিয়ে বসে থাকলাম, আজ যদি কোন ভাবে বাস ছাড়ে তাহলে রাতে গিয়ে কাল রা্তেই ফিরে আসার চেষ্টা করা যাবে হয়তো। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও লাভ হলো না, সরকারী বাসের কাউন্টার থেকে বলা হলো যাত্রাবাড়ির পরে কোথায় যেন ব্যাপক ভাংচুর হয়েছে, বাস যাবে না!
এরকম হতাশার মধ্যে দিয়েই দেখি ছুটি প্রায় শেষ,  আমারও মেলবোর্নে ফেরার সময় হয়ে গেলো। মুঠোফোনের অপর-প্রান্তে আমার দুখী দুখী কাজিন ভাই-বোনেদের গলা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়।

ফিরবার আগের দিন এক কাজ করলাম। অনলাইনে বই কেনার একটা ওয়েবসাইট থেকে ওদের সবার জন্যে নানা রকম বই অর্ডার করলাম। একই বইয়ের চার/পাঁচ কপি করে প্রতিটি, সব মিলিয়ে আটটি বা নয়টি করে বই প্রত্যেকের জন্যে। আমি যেতে পারছি না কিন্তু এই বইগুলো যাচ্ছে ওদের কাছে, এই ভেবে খানিকটা হলেও শান্তি পেলাম।
মেলবোর্ন ফিরে আসার মাস তিনেক পরেই শুনি ওদের প্রায় সবারই সব বই পড়া হয়ে গেছে। খুব খুশি হলাম শুনে। পুরস্কার হিসেবে আরো নতুন নতুন বই পাবে, এরকম আবদারে আমি এত সহজেই রাজি হয়ে গেলাম যে ওরা খুশিতে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না।

স্বপ্ন-
----
অনেকদিন ধরেই মনে মনে ভেবে আসছিলাম আমাদের গ্রামের কিশোর/তরুন বয়েসী ছেলে-মেয়েদের জন্যে একটা কিছু করবো।
নানা পরিকল্পনা করি, বন্ধুদের বলি, কিন্তু স্থবিরতা কাটাতে পারি না। তিথি নিজেই ওদের গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর একটা বৃত্তি-মতন দিয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে, কিন্তু আমার কেন যেন বড় কিছুই করা হয়ে উঠছিলো না।
তো, এবারে দেশে গিয়ে এই বই পাঠানোর পরে একটা বুদ্ধি মাথায় এলো, কেন না আমাদের গ্রামের স্কুলে একটা লাইব্রেরির অন্তত শুরুটা করে দেয়া যাক! আমাদের গ্রাম নয় শুধু এমনকি আশপাশের কোন গ্রামেও লাইব্রেরি বলে কিছু নেই, সেখানকার মানুষেরা লাইব্রেরি বললে বুঝে উপজেলা শহরের বইয়ের দোকান!

তিথিকে বলতেই সানন্দে রাজি হয়ে গেলো। আমি আমার বড় মামার সাথে কথা বললাম, মামা জানালেন ব্যাপারটা অসম্ভব নয়, কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে।
খানিকটা আশার আলো দেখতে পেয়ে আমি এবারে কোমর বেঁধে লাগলাম একটা ঝকঝকে প্ল্যান করে ফেলার জন্যে। যেন বেশ তো, ধরা যাক দু’একটা ইঁদুর এবার। :)

বাজেট-
--------
আমরা দু’জনেই সীমিত আয়ের মানুষ। এর ভেতরে থেকেই যা করার করতে হবে ভেবে নিলাম। দুয়েকজন পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধব ডোনেট করতে চাইলো, কিন্তু আমি ভাবলাম ব্যাপারটা শুরু হোক আগে, দেখি কেমন দাঁড়ায়, তারপরে বড় আকারে করা যাবে। তাই আপাতত ডোনেশান নেয়ার চিন্তা বাদ দিলাম।
আগেও বলেছি, বছরে এক বা দু’বার আমরা দেশ থেকে বাংলা বই আনাই। সেটা, ইদানিংকালে আরও বেশি খরচান্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবু প্রতি বছরই আমরা অল্প কিছু টাকা জমানোর চেষ্টা করি এই খাতে।
ভাল খবর হচ্ছে, এই করে করে গত কয়েক বছরে আমরা আমাদের চাহিতামতন অনেক বই নিয়ে এসেছি এখানে। সেগুলো পড়ে শেষ করে উঠতে আরও কিছু বছর চলে যাবে আশা করি। আপাতত নিজেদের জন্যে অনেক বেশি বই আনানোর প্রয়োজন পড়বে না।
তাই, এই বইয়ের পেছনের বাজেটটুকু আমরা নির্দ্ধিধায় লাইব্রেরির জন্যে বরাদ্দ করে দিলাম। শুধু তাতে কুলাবে না বলেই মনে হলো, তাই এদিক সেদিকের সাংসারিক খরচ কাটাকুটি করে বরাদ্দ করা হলো আরও কিছু অর্থ।

প্রক্রিয়া
--------
একবার ভাবা হলো গ্রামের বাজারে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে করা হবে লাইব্রেরি।
কিন্তু আমার মাথা থেকে কেন যেন স্কুলের ব্যাপারটা যাচ্ছিলো না। অবশেষে, আমাদের গ্রামের হাই স্কুলের হেডমাস্টারকে প্রস্তাব দেয়া হলো, যদি স্কুলের একটা ছোট ঘর উনি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হন, আমরা তাহলে সেখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং গ্রামবাসীদের জন্যে একটা লাইব্রেরি শুরু করে দিবো। তিনি সানন্দে রাজি হলেন তাতে।
স্কুলের একটা বড় হলঘরের একপাশে বেড়া দিয়ে নতুন একটা ঘর তৈরি হলো। মাটি ফেলে, এবং আরও কিছু মেরামতের পরে সেটা ব্যবহার উপযোগী করা হলো।
এর মধ্যেই আমি বই অর্ডার করতে শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে অর্ডার দিলাম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পছন্দের বইগুলো, প্রছুর কিশোর-উপযোগী বই, এবং সেবা প্রকাশনীর প্রচুর বই। অন্যদিকে যোগাযোগ করলাম ঢাকা-কমিক্সের মেহেদী হক-এর সাথে। সেখান থেকে বের হওয়া সবগুলো কমিক্সও অর্ডার করে দিলাম।
লাইব্রেরির জন্যে বানানো হলো বুকশেলফ, আলমিরা, পড়ার জন্যে চেয়ার টেবিল। সব আয়োজন শেষ করে আমার দুই মামা গিয়ে হাজির হলেন আমাদের গ্রামে, একটা স্বপ্নের সূচনা করে দিয়ে আসতে।





বইদ্বীপ গ্রন্থাগার
--------------------
লাইব্রেরির একটা নাম দরকার ছিলো। বই সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অনেক ভেবেও আর কোন নাম পেলাম না খুঁজে, তাই ভাবলাম আমার ইবুকের সাইট বইদ্বীপেরই একটা প্রজেক্ট হিসেবে এটাকে সাথে রাখা যায়।
লাইব্রেরির নাম তাই বইদ্বীপ গ্রন্থাগার।
মাস দুয়েক ধরে চালু রয়েছে এটা। সদস্য হবার জন্যে ফি হিসেবে টাকা নেয়া হয় না এই লাইব্রেরিতে। আমি বলেছি, সদস্য ফি হচ্ছে একটা বই। ওখানে বসে পড়তে সদস্য হবার দরকার নেই, কিন্তু বই বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে যে কোন মূল্যের একটা বই জমা দিয়ে সদস্য হতে পারবে যে কেউ।
গ্রামের মুরুব্বীদের দাবি অনুযায়ী একটা বাংলা পত্রিকা রাখা হচ্ছে সেখানে। যেন লোক সমাগম বাড়ে।

আমাদের পরিকল্পনা হলো, বাজেট অনুযায়ী বছরে এক বা দু’বার নতুন বই কেনা হবে এ লাইব্রেরির জন্যে। সেই সাথে আশপাশের গ্রামের অন্তত অল্প কয়েকটা স্কুলে আস্তে আস্তে করে দেয়া হবে লাইব্রেরি।
নানা রকম স্বপ্ন দেখি মনে, ভেবেছি, কোন স্কুলে আগে দেয়া হবে, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পরিচ্ছন্নতা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা যেতে পারে স্কুলগুলোর মধ্যে, বিজয়ী স্কুল সবার আগে পাবে লাইব্রেরী ঘর।
বিজ্ঞান মেলা ধরণের কিছু আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে, এ জন্যে বিজ্ঞান প্রজেক্ট বিষয়ক বেশ কিছু বইও আছে লাইব্রেরিতে।
সেই সাথে ভালো রেজাল্ট ও আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে একটা বাৎসরিক বৃত্তি দেয়া হবে আগামী বছর থেকেই। সবচেয়ে বেশি বই-পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করার একটা পরিকল্পনাও মাথায় আছে এখনো।
ব্যাপারটা শেষমেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বা কেমন হবে, সেটা এখুনি বলা মুশকিল। কিন্তু খুব ভাল কিছুই যে হবে এ বিষয়ে আশা করতে দোষ দেখছি না কোনও।

হইলো না শেষ-
-----------------
আমি কথা বলে দেখেছি, ‘একটা কিছু’ করার মানসিকতা রাখেন আমাদের পরিচিত মানুষদের অনেকেই, যাদের অনেকেই সেটাকে বাস্তবায়িত করতে পারেন না সময়, সুযোগ, পরিকল্পনা ও বাস্তব ধারণার অভাবে।
এই পোস্টটি আসলে তাদেরকে ভেবেই লেখা। কেউ যদি পড়ে উৎসাহিত হয়ে আরও বিশদ জানতে চান, আমি সানন্দে তাঁদেরকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে রাজি।


অর্থের হিসাব লিখে পোস্টটাকে জটিল করতে চাইনি বলে লিখিনি, কিন্তু জেনে অবাক হবেন এই পুরো ব্যপারটা করতে খুব বেশি খরচের প্রয়োজন হয় না আসলে। যে কোন স্বচ্ছল পরিবারই এরকম একটা প্রোজেক্ট চালাতে পারেন মন চাইলে, অথবা দু’তিনটে পরিবার মিলে এক সাথে।
একটু সদিচ্ছা, খানিকটা যোগাযোগ আর অল্প একটু সময় দিলেই এরকম কিছু করা আর অসম্ভব থাকে না।

---- তারেক নূরুল হাসান ০৯/০৯/২০১৪

নতুন বইঃ ইবই রন্ধন প্রণালী



ইবইয়ের ধারণা এখনো আমাদের অনেকের কাছেই নতুন। বইদ্বীপ নামের সাইটটি শুরু করার পরে যখন লেখকদেরকে ইবই ফরম্যাট করার ব্যাপারে সাহায্য করা শুরু করলাম, তখন দেখি আমাকে অনেক সহজ যেমন একবার চুটকি বাজিয়েই উত্তর দেয়া যায়, এরকম থেকে শুরু করে অনেক কঠিন, যেগুলোতে মাথা দিয়ে প্রায়-দৃশ্যমান জলীয় বাষ্প বের হয়, এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সেসব প্রশ্ন মাথায় রেখে এই বইটি তৈরি করা।
আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সহজবোধ্যভাবে এবং সাধারণ উপায়ে ইবই এর জন্যে পান্ডুলিপি প্রস্তুতের উপায় বলে দেয়া  সবাইকে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো, এ বইটি কোন স্বতসিদ্ধ নির্দেশিকা নয়। নানা রকম ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে চেষ্টা করতে করতে অবশেষে এখন ইবুক তৈরির জন্যে একটি নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালি অনুসরণ করি, এটি একান্তই আমার নিজস্ব এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি।
নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে বা নতুন প্রযুক্তির খোঁজ পেলে এই বইটি নিয়মিত নতুন সংস্করণের মাধ্যমে হালনাগাদ করার আশা রাখি।
সবাইকে শুভেচ্ছা, শত ইবুকের মালিক হোন সবাই, এই আশা রাখি। :)
বইটি পেতে এখানে ক্লিক করুন।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৮, ২০১৪

কবিতাঃ তোমাকে নয়-

তোমাকে নয়-
-----------------
আমার কেবলই কেড়ে নেবার স্বভাব-
যা কিছু ভাল লাগে কিংবা লাগার,
তার সব, সব কিছুই চাই আমার।
ঐ দোকানীর রাংতা মোড়ানো স্বপ্ন ভরা বয়াম,
ও পাড়ার ঐ দুরন্ত ব্যাটসম্যানটির সুনাম,
অদ্ভুত সব চকমকি মার্বেল, আর-
অগোছালো চুলে মায়ের অনিচ্ছুক বিলি কাটার আরাম।
আরও, আরও কত কী-ই,
পত্রিকার রঙীন নর্তকী-
দূর সমুদ্রের সেই রাগে ফুঁসে ওঠা ঢেউ,
ভরা বর্ষায় পাশের ছাতার বিহবল কেউ।
কেড়ে নিয়েছি আমি সবই, যখন যা চেয়েছি নিজের করে।
আজ তবু এতদিনের পরে-
যখন জীবন নিচ্ছে একটা অহেতুক বিরতি,
দ্বিধার কাঁটায় চোখে পড়ছে শুধুই তোমার অনুপস্থিতি।
স্বভাবের বাইরে দাঁড়িয়ে নির্নিমেষ দেখে গেছি,
আমাদের হৃদয়েরা হয়ত মন ভুলে খেলেছিলো কানামাছি।।
তবু, আজ জেনো, সত্যি এটাই-
আমার কেড়ে নেয়া সুখের তালিকায়-
তুমি নাই।
-----
তারেক নূরুল হাসান
১৪/০৭/২০১৪
মেলবোর্ন

কবিতাঃ অপ্রকাশ

অপ্রকাশ
প্রণয় সে গোপন গভীর থাকা ভালো।
শহরের উষ্ণতম সরোবরের অভিমানী জলে-
শীত-দুপুরে কোন ঘুম ভাঙানিয়া স্নান,
তারও চেয়ে ভালো, ডুবে ডুবে ডুবে
পানকৌড়ির অলৌকিক আহবান।
ডাহুক পাখীর প্রেমের মতন জেনো,
আমাদের সংক্ষিপ্ত অবকাশ।
ভালো বাসা না বাসার দোলাচলে,
সংশয়ে আকুল আশ্বাস।
তারচে’ বরং এসো, দূরে সরে যাই।
দেখো ঢের ভাল এই নীরবতা,
এ মাঝির মন ভাঙা গানে,
সহসা ব্যাকুল হয়, বৈঠায় মাপা গভীরতা।
গভীরতা শোনো, গোপনীয় থাক।
এ প্রণয় না হয়, না হোক সবাক।।
যে নদীর না ওঠা সে ঢেউ,
অথবা সে নদীটির সুগভীর জল;
ভালোবেসে চুপ থাকা ভালো,
ছুঁয়ে থেকেও না-ছোঁয়া অতল।।
-----
তারেক নূরুল হাসান
২২/০৫/২০১৪
মেলবোর্ন