রবিবার, জুন ১১, ২০১৭

৯ জুন ২০১৭।

একটা মনে রাখার মত দিন গেলো গতকাল। ৯ জুন ২০১৭।
সন্ধ্যায় গেলাম MCG তে, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল এর খেলা দেখতে। লিওনেল মেসি কে সরাসরি মাঠে বসে দেখার সুযোগ হারাতে ইচ্ছে হল না। এবং গিয়ে আসলেই খুব ভাল লাগলো, মেসি-র খেলা দেখা হল, আর্জেন্টিনাও জিতল ম্যাচ ১-০ তে।



তারপরে দেখতে বসলাম বাংলাদেশ আর নিউজিল্যান্ডের খেলা।
আমার বাজে স্বভাব, খেলার শেষ বল পর্যন্তও বাংলাদেশের উপরে ভরসা হারাই না। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও আমি তাই মেরুদণ্ড সোজা করে বসে খেলা দেখে গেলাম। এবং ওয়াও, এর চেয়ে ভালো প্রতিদান পাওয়া কি সম্ভব ছিল কোন? দেখলাম বাংলাদেশের অন্যতম সেরা জয়!
ধন্যবাদ মাহমুদুল্লাহ, অনেক অনেক ধন্যবাদ সাকিব, এই খান থেকে কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন শুরু হলো হয়তো আমাদের।

বুধবার, জুন ০৭, ২০১৭

ওয়ার্কশপ

 ১
 তাঁরা তিন ভাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুপরিচিত পরিবারই বলা চলে তাঁদেরকে।  বড় দুজন দেশের জনপ্রিয়তম লেখক, ছোট জন আমাদের দেশের কার্টুনিস্টদের কাছে গুরুপ্রতিম। তিনজনের লেখার  কল্যাণেই তাঁদের শৈশব, অদ্ভুত সুন্দর পরিবার বা বেড়ে ওঠার সময়টারও অনেক কিছুই পাঠকদের জানা। আমরা জানতে পারি, শৈশবে তাঁদের বাবা কবিতা শেখার বিনিময়ে তাঁদেরকে সম্মানী দিতেন, বড় কবিতায় আট আনা, ছোট কবিতায় সিকি পয়সা। বাজারের ফর্দ লেখার মত করে নিয়মিত তাঁরা গল্প-কবিতা লিখতেন ছোটবেলায়, কখনো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে, কখনও সেই, সম্মানীর বিনিময়ে।  যখন এই সব পড়েছিলাম, মাঝে মাঝে আপন মনে ভেবেছি, লেখক হবার বীজ এমন করেই শৈশবে তাঁদের মধ্যে বুনে দিয়েছিলেন তাঁদের বাবা। কী চমৎকার একটা ব্যাপার। 
আইবুক থেকে সপ্তাহে একদিন নিউজলেটার পাঠায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বই এর বিজ্ঞাপন, নতুন কী বই এলো, এখন কোনটা সবচেয়ে বেশি চলছে, এরকম সব কারবার। এমনই একটা নিউজলেটারে পেলাম Liane Moriarty-র নাম। নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার লেখিকা। বিশেষ আগ্রহ হল লেখিকা অস্ট্রেলিয়ার শুনে। আইবুক থেকেই কয়েকটা বই এর স্যাম্পল নামিয়ে কয়েকটা প্রথম চ্যাপ্টারও পড়া হয়ে গেলো। তরতর করে এগিয়ে চলা গদ্য, চমৎকার রসবোধ লেখায়, পড়তে খুবই সুস্বাদু। কী ভেবে লেখিকার ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। 
যে কোন বইয়ে আমার সবচেয়ে পছন্দের অংশ হচ্ছে লেখকের লেখা ভূমিকা এবং লেখক পরিচিতির অংশটুকু। আর এখনতো ওয়েবসাইটে লেখক-পরিচিতিটা বেশ বিশদে দেয়া থাকে। 
লিয়ান মরিয়ারটি ‘এবাউট মি’ পাতাটা পড়ে বেশ চমকে গেলাম। শুধু একটা প্যারা এখানে তুলে দিচ্ছি। 
‘লেখিকা প্রথম গল্প কবে লিখেছিলেন সেটা এখন আর মনে নেই, তবে প্রথম প্রকাশনা চুক্তির কথা খুব ভাল করেই তাঁর মনে আছে। বাবার জন্যে তিনি একটি উপন্যাস লিখে দিবেন, এই মর্মে চুক্তি করে বাবার কাছ থেকে অগ্রিম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি এক ডলার। বিনিময়ে তিন খণ্ডের এক মহাকাব্যিক উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি তখন, নাম ছিল- ‘ দি মিস্ট্রি অব ডেড ম্যান’স আইল্যান্ড।’’ 

৩ 
লিয়ান মরিয়ারটিরা ছয় ভাই বোন। 
তাঁদের মধ্যে তিনজনই এখন লেখিকা। লিয়ান এর ছোট দুই বোন জ্যাকলিন এবং নিকোলারও বেশ কয়েকটি করে বই প্রকাশিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। সেসব বই জনপ্রিয়ও হয়েছে বেশ। 

জ্যাকলিন এর ওয়েবসাইটে পরিচিতির পাতাটা সাম্প্রতিক সময়ে আমার পড়া সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও মজার লেখা, সন্দেহ নেই।  

শুক্রবার, জুন ০২, ২০১৭

অনুবাদ প্রচেষ্টাঃ রবিন হলের দি কার্টুনিস্ট'স ওয়ার্কবুক এর ভূমিকা


ভুমিকাঃ দি কার্টুনিস্ট’স ওয়ার্কবুক 
    কার্টুন আঁকার ব্যাপারটা আমার কাছে চিরকালই খুব আকর্ষণীয় মনে হয়েছে, কারণ আমার ধারণা ছিল অন্য চাকুরেদের মত কার্টুনিস্টদের নিশ্চয়ই রোজ রোজ  সকালে ঘুম ভেঙ্গে কাজে যেতে হয় না। অবশ্য, এটাই একমাত্র কারণ নয়। আমি রীতিমতন মুগ্ধ হই এই ভেবে যে, কেবল একটা কার্টুন দিয়েই কেমন করে আমাদের জীবনের প্রায় সব রকম দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা যায় - খুব সিরিয়াস কোন ব্যাপার থেকে শুরু করে  খুব মজার কিছু- অথবা দুনিয়া কাঁপানো কোন ঘটনাই হোক বা খুব সাধারণ কোন ব্যাপার- সব কিছু কেবল একটা ছবিতেই কেমন এঁকে ফেলা যায়।
        যাই হোক, আমি সেই ভাগ্যবানদের দলে পড়ি না যারা নানা রকম সৃজনীশক্তি নিয়ে জন্মেছে। সত্যি বলতে কি, আমার আঁকা ছবিও একেবারেই ভাল ছিল না; এমনকি খুব প্রাথমিক পর্যায়ের আঁকাআঁকিও দেখতে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং মনে হতো। সুতরাং কার্টুনিং যদি করতে চাই, আমাকে যে খুব ভালমতন উঠে পড়ে লাগতে হবে সেটা আমি বেশ বুঝেছিলাম। তাই হাতের কাছে আমি যা কিছু কার্টুন পেতাম সব ভাল করে দেখা শুরু করলাম, শত শত কার্টুন। আর সেগুলো দেখে দেখে আঁকা অনুশীলন করতাম কেবল, করেই যেতাম করেই যেতাম।
       অল্প অল্প করে যখন আমার আঁকা ভাল হতে শুরু করলো, আমি বুঝতে পারলাম যদি কার্টুন আঁকবার সময় আমি কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আর ধরাবাঁধা উপায় অনুসরণ করি, তাহলে সেগুলো সত্যিই ভাল হতে বাধ্য। সময়ের সাথে সাথে এই পদ্ধতি বা উপায়গুলোকেই আমি একটা কার্যপ্রণালীতে পরিণত করে ফেললাম, যেটা শেষমেশ আমাকে কার্টুনিং জগতের দরজা খুলে দিলো।
       এই বইটি মূলত সেই পদ্ধতিগুলোকে ভাগ করে নেবার একটা চেষ্টা, বিশেষত তাদের সাথে যাদের আমার মতই উৎসাহের কোন কমতি নেই, কমতি আছে সৃজনীশক্তিতে। যারা মাত্রই শুরু করতে যাচ্ছেন এবং যারা ইতিমধ্যেই পেশাদার কার্টুনিস্ট, তাদের সবার জন্যেই আমি বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক ছবি যোগ করে দিয়েছি, সেগুলো আশা করি সবার কাজে আসবে।
     সবশেষে সকল নব্য কার্টুনিস্টদের জন্যে আমার শুভ কামনা রইলো। 
সেই সাথে বলে রাখি ঐ কথাটি কিন্তু মিথ্যে নয়, কার্টুনিস্টদের কিন্তু আসলেই রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয় না।
- রবিন হল 



শুক্রবার, মে ২৬, ২০১৭

সন্ন্যাসীদা

সন্ন্যাসীদা নাকি আর নেই।
থ্রি কমরেডস অনুবাদের সেই অসাধারণ লেখনী, কামরাঙা ছড়াকার, সোভিয়েতস্কি কৌতুকভ পড়ে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়া, অথবা আমার খুব পছন্দের 'ক্রিকেটরঙ্গ'!
বিদায় মাসুদ মাহমুদ,  বড় অভিমানী ছিলেন আপনি...

পুনশ্চঃ
সকালে এটুকু লিখে বের হতে হল। গন্তব্য ডাক্তারখানা। সেখানে গিয়ে নাম লিখিয়ে অপেক্ষা করছিলাম বসে বসে। লম্বা সময়, কিছু একটা পড়বো ভেবে বইটা খুলেই দেখি এই, চমকে উঠলাম একেবারে। এই অনুবাদটার কথা জানা ছিল না আমার।
বুঝলাম, চলে যাওয়া মানে আসলেই প্রস্থান নয়।

শুক্রবার, মে ১৯, ২০১৭

কতটা অপচয়ের পর মানুষ চেনা যায়-

ঠিক জানি না, এক জীবনে আর কতবার, কত বার এই গানটার কাছে ঋণী হতে হবে, ফিরে ফিরে আসতে হবে বারবার, বারবার...। 
প্রশ্নটা কি আসলেই সহজ, আর উত্তরও কি সত্যিই জানা? 



শনিবার, এপ্রিল ০৮, ২০১৭

এইটা তোমার গান

চন্দ্রবিন্দুর গান গুলোর একটা ব্যাপার হচ্ছে , গানগুলো সব মায়ায় ভর্তি|
বিষয় যাই হোক, প্রেয়সী বা কোন হৃদয়হীনা, রিকশাওয়ালা বা ভিনদেশি কোন তারা, বিকেলবেলার গান, সব, সব কিছুর জন্যেই তাদের অসীম মায়া |
গানগুলো শুনতে এ কারণেই হয়তো এতো বেশি ভালো লাগে, এতো বেশি মনে লাগে |

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০১৫

জালালের গল্প

সর্বশেষ ইমনের করা কাজ দেখেছিলাম আমাদের বসার ঘরের টিভিতে, সেটা ছিল আরএময়াইটি-র ফিল্ম কোর্সের জন্যে ওর বানানো একটা শর্ট ফিল্ম। ইমন আর তন্বীর মেলবোর্নে থাকাকালীন একটা বছর আমাদের জন্যে উল্লেখযোগ্য একটা সময় হয়ে থাকবে আজীবন, সেটা নিয়ে লিখেছি আগে এখানেই, নাম ছিল ‘গগন আজ দেশে ফিরছে”। সে দিন সকাল বেলা আমাদের বাসায় বসে দুইজনে ব্যাগ গোছাচ্ছে, আর পাশের ঘরে বসে আমি ভীষণ মন খারাপ করে লিখে চলেছি সেই ব্লগ, অতঃপর রাতে যখন ওদের প্লেনে তুলে দিয়ে আসলাম, মনে আছে তারপরের অনেকগুলো দিন আমার আর তিথি-র চারপাশ জুড়ে ছিল একটা অদ্ভুত শূন্যতা।

সেই প্লেন উড়ে চলে যাবার বছর চারেক বাদেই যে আমি আবু শাহেদ ইমনের পরিচালিত সিনেমা বড় পর্দায় দেখার জন্যে এই মেলবোর্নেরই এক সিনেমা হলের টিকেটের লাইনে দাঁড়াবো, সত্যি বলছি, এই কথা সেদিন ঘুর্নাক্ষরেও ভাবিনি! 

কিন্তু এই ছেলে আসলে চমকে দিতে জানে! প্রতিবার ওর সাথে কথা বলার সময় নতুন কোন চমকের জন্যে প্রস্তুত থাকি, চমকে দেয়াটাকেই একরকম নিয়মে পরিণত করেছে সে! 

জালালের গল্প- নিয়ে ওর ভাবনার কথা জানি অনেকদিন। শুরুর দিকের একটা স্ক্রিপ্ট রয়েছে আমার কাছে, যখন এই গল্পের নাম ছিল জালালের পিতাগণ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কিছু ছেলেমেয়ে ছিল গল্পের গুরুত্বপুর্ন চরিত্র। কিন্তু ইমনের মজা হল এই, ওর মাথায় গল্পেরা সারাক্ষণই বদলে বদলে যায়। এই অভ্যাস দেখেছিলাম ইমন যখন এখানে ছিল, তখুনি। তাই ওর জালালের গল্প দেখতে গিয়ে যখন দেখি শুরুর সেই গল্প একেবারে আগাগোড়া বদলে গেছে, একেবারেই অবাক হইনি, মনে হয়েছে, এটাই আসলে ইমন, ওর ট্রেডমার্ক।  

সিনেমার শুরুটা দুর্দান্ত! একটা রান্নার হাঁড়িতে করে ভাসতে ভাসতে আমাদের জালাল এসে পড়ে  গ্রামের মিরাজের ঘরে। সেখানে ঘটনাক্রমে সে হয়ে যায় শিশু-পীর। তার পা ধোয়ানো পানি খেয়ে রোগ সেরে যাচ্ছে দুরারোগ্য রোগীর, এইরকম এক গুজব রটে যায় গ্রামে গ্রামে, ভাগ্য ফিরে যায় মিরাজের। সেখান থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয় গ্রাম্য-রাজনীতি। সেই রাজনীতির চাপে পড়ে জালালকে আবার ভেসে যেতে হয় হাঁড়িতে করে। 
শৈশবের এই অংশটুকুর নাম দি এরাইভাল। এভাবে এমনি করেই আরও দুটি পর্বে আমরা দেখি জালালের কৈশোর ও যুবক বয়সের গল্প। 

পুরো গল্প এখানে বলে দিতে চাইছি না আসলে, তারচেয়ে বরং সিনেমার অন্য কিছু দিক নিয়ে কথা বলি। 

পুরো সিনেমাটাই চমৎকার গতিময়। কোথাও এতটুকু থেমে যায়নি, প্রতি মুহুর্তেই অপেক্ষা করে ছিলাম পরমুহুর্তে কী হবে তা দেখার জন্যে। জালাল হিসেবে কিশোর ও তরুণ বয়েসী দুজনের অভিনয় খুবই ভাল ছিল। প্রয়োজনমত মজার কিছু সংলাপ দর্শকদের হাসিয়েছে নিয়মিতই। মিরাজের বউ যখন মিরাজকেই পানিপড়া খেতে বলে, সেই সংলাপ শুনতে শুনতে এটা যে ইমনেরই লেখা সংলাপ সেটা মিলিয়ে নিয়েছি মুহুর্তেই। অথবা যেখানে নিঃসন্তান তৌকির তার নবপরিণীতা স্ত্রীকে বলে, ‘কালো হয়ে যাবা তো’, বা সেই স্ত্রী যখন তার দেবরতুল্য তরুণটিকে দুধের গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে, ‘তুমি খাইবা না?’ - পুরো সিনেমা হল জুড়েই দর্শকেরা হা হা শব্দ করে হেসে উঠেছিলো! 

পরের দু’পর্বে গল্প বদলে যায় যদিও। কখনো কখনো বিষণ্ণতা ঘিরে ধরে, কখনো হাসির নির্ভারতা, কখনো গল্পের গতিপথ হঠাত বদলের চমক! 
মিউজিক খুবই ভাল লেগেছে পুরো ছবিতেই। চিরকুট খুব যত্ন নিয়ে করেছে মিউজিকের কাজ, বেশ বোঝা যায় সেটা। লোকেশান বাছাই অপূর্ব ছিল। বিশেষ করে নদী-পাড়ের কিছু দৃশ্য, সাথে মাছ ধরার জাল, এরকম অতুলনীয় কিছু ছবি এখনও মাথায় গেঁথে আছে। 

তৌকির, মৌসুমি, শর্মীমালা, মিতালি দাশ এরা প্রত্যেকেই অসাধারণ অভিনয় করেছেন। মোশাররফ করিম যদি তার নিজস্ব অভিনয়ধারা থেকে বেরিয়ে এসে গল্পের সাথে আরেকটু মিশে যেতে পারতেন, তবে আরও ভালো হতো। মিরাজের শ্যালকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যিনি, আমি সম্ভব হলে তাকেই পুরস্কৃত করতাম। এরকম দুলাভাই ভক্ত শ্যালক পাওয়া দুষ্কর। ছবিটি দেখতে দেখতেই মনে মনে ইমনকে বাহবা দিয়েছি এই চরিত্রটি নিয়ে আসার জন্যে। তেমনি করে বিভিন্ন রঙের হাঁস কিংবা ঘরভর্তি গাছপালা-র ডিটেইল পরিচালকের প্রতি মুগ্ধতা বাড়িয়েই দেয় কেবল। 

একটা চমৎকার গল্পের সাফল্য নির্ভর করে তার সমাপ্তির ওপরে। শুধু এইটুকু বলি, এর শেষটার জন্যেই জালালের গল্প-কে মনে থাকবে অনেক অনেক দিন। ব্রাভো ইমন! 

যতদূর শুনলাম, জালালের গল্প- ইতিমধ্যেই দিগ্বিজয়ী বীরের ভূমিকা নিয়ে ফেলেছে। ভারতের সপ্তম জয়পুর চলচ্চিত্র উৎসবে এটি আবু শাহেদ ইমন-কে এনে দিয়েছে সেরা নবাগত নির্মাতার পুরস্কার। পর্তুগালের আভাঙ্কা উৎসবে এটি একেবারে সেরা ছবি-র পুরস্কারই জিতে নেয়। ওর ছবি নিয়ে ইমন ইতিমধ্যেই জার্মানির পথে রয়েছে শুনলাম, সেখানকার বিভিন্ন উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হবে। এবং সবচেয়ে দুর্দান্ত খবর হল, এবারের অস্কারেও বাংলাদেশ থেকে অংশ নিতে যাচ্ছে এই ‘জালালের গল্প’ই, এর চেয়ে দারুণ খবর আর কীইবা হতে পারে! 

চার বছর আগের লেখাটি শেষ করেছিলাম ইমনের জন্যে শুভকামনা দিয়ে, আজকে তার সাথে রইলো উঠে দাঁড়িয়ে ওর জন্যে একটা জোরসে করতালি! বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আবু শাহেদ ইমনদের হাত ধরে আরও পরিণত হয়ে উঠুক, বিশ্ব-চলচ্চিত্রে মাথা উঁচু করে থাকুক, এটাই প্রত্যাশা আমাদের। 

তারেক নুরুল হাসান
মেলবোর্ন, ২০/১০/২০১৫ 



রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০১৫

শ্রোতার আসর- কে শুভেচ্ছা

শ্রোতার আসরের দশ বছর পূর্তির পরিবেশনা দেখে একটা চমৎকার সুখানুভূতি নিয়ে শনিবারের রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম আমার মেলবোর্ন জীবনেরও দশ বছর হয়ে গেলো। দশ বছর, একটা লম্বা সময় আসলে। 

এই দূর পরবাসে একটা বাংলা গানের দলের দশ বছর পূরণ করে ফেলাটা কিন্তু মুখের কথা নয়।  প্রবাসে বসে বাংলা ভাষা, সঙ্গীত বা সংস্কৃতির চর্চা করা কী পরিমাণ কষ্টসাধ্য একটা কাজ, এটা যারা না করেছেন, তারা আসলেই জানেন না। ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানো - এটা অনেকের কাছেই কেবলই একটা কথার কথা, কিন্তু এই কথাটির একদম শত ভাগ বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় এধরনের দলগুলোয়। নিজেদের চাকরি, সংসার, ছেলে পেলে, অন্যান্য সামাজিকতা এই সব কিছু করে তারপরে একেকটা প্রোগ্রামের জন্যে সময় বের করতে হয়। কাজের পরে প্র্যাকটিস, সবার সময় মিলানো, গায়কদের সাথে যন্ত্রশিল্পীদের সমন্বয়, মঞ্চের যোগাড়যন্ত্র, কখনো আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে ছোটা, কখনো সেটা ছাড়াই...। এই সব মিলিয়ে একটা এলাহি কারবার আসলে।
এই এত কিছু করে করে একটা গানের দল আজকে দশ বছর পূর্ণ করে ফেললো, তাদের শুভেচ্ছা না জানিয়ে উপায় নেই। শ্রোতার আসরকে তাই শুভেচ্ছা জানাই।
মেলবোর্নে গান শুনতে গিয়ে নিদারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রায়ই। কখনো পুরো অনুষ্ঠান দেখে মনে হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিশুকিশোরের ট্যালেন্ট শো দেখছি, যে যা পারছে, অথবা যা পারছে না, সব কিছু নিয়েই মঞ্চে উঠে যাচ্ছে। কেউ কেউ এক সময় গাইতেন, এখন মঞ্চে মাইক দেখে ভাবলেন দিই না একটা গান গেয়ে- এরকম মনোভাব নিয়ে গেয়ে দিলেন একটা গান, এমনও হয়েছে। এক অনুষ্ঠানে একবার আবেগতাড়িত এক ভদ্রলোক হারমোনিয়াম টেনে হঠাত ‘এবার একটা পুজোর গান শোনাই’ বলে গেয়ে উঠলেন ‘আমার পূজার ফুল ভালবাসা হয়ে গেছে... ’! বিশ্বাস করুন, আমার হৃদযন্ত্র তার ক্রিয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল সেদিন!
এই এত কিছুর মাঝখানে শ্রোতার আসর অনেকটা সুবাসের মতন। ওদের সবচেয়ে যেটা বেশি ভাল লাগে, তা হচ্ছে অভিনবত্ব। একটা পুরো অনুষ্ঠান সলীল চৌধুরীকে নিবেদন করে করা, এই প্রবাসে বসে ভাবা যায় এরকম? অথবা কখনো শচীন দেব বর্মনের গান দিয়ে সাজানো, কখনো থিম বেছে নেয়া হয় চিঠি, কখনো বাদল দিনের গান। এরকম চমৎকার সব অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ করে দিয়েছে আমাদের শ্রোতার আসর।
চমৎকার সব যন্ত্রশিল্পী রয়েছে এই দলটায়। পরিচিত গান, কিন্তু নতুন নতুন এরেঞ্জমেনটে গেয়ে কী শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে শেষমেশ।
ইউটিউবে গিয়ে গিয়ে পছন্দের গান শুনি আমরা প্রায় সবাইই। কিছু গান বারবার শোনা হয়। দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই গানগুলো হয় সুপরিচিত শিল্পীদের গাওয়া। অথচ শ্রোতার আসরের অনুষ্ঠান দেখে এসে এমন হয়েছে, আমি ইউটিউব ঘুরে ঘুরে বার বার হয়ত শুনছি আমার অসম্ভব ভাল লাগা গান ‘কে যাস রে’, কিন্তু অবাক হয়ে দেখি, আমি হয়ত শুনছি শ্রোতার আসরের সিমিনের গাওয়া ভার্সনটাই। একই ভাবে বার বার শুনি কাঁকনের গাওয়া ‘কেউ কোন দিন আমারে তো’। এই ব্যাপারটা আমার নিজের কাছেও ভাল লাগে, মনে হয়, একজন শিল্পীর এটাই তো সত্যিকারের প্রাপ্তি, শ্রোতার মনের ভেতরে ঢুকে পড়াটা।
আজকের অনুষ্ঠানটাও এক কথায় চমৎকার হয়েছে। অনেক ভাল লেগেছে শমী-র ‘তখন তোমার একুশ বছর...।’  গায়কদের মঞ্চে নিয়ে এসে তাদের সাথে কথা বলে বলে দর্শকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রচলন অন্তত এই প্রবাসে খুব বেশি দেখিনি। এ ব্যাপারটা কত যে হয়েছে, একটা লম্বা অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভেবেছি, আচ্ছা ওই গানটা খুব ভাল লেগেছিল, কে যেন গেয়েছিল? দেখি সেটা আর মনে নেই। এত কম মানুষদের মাঝেও গানের শিল্পীরাই কেমন করে যেন আড়ালে থেকে যায়। তাই, এভাবে শিল্পীদের সামনে নিয়ে আসা, দর্শকদের মাঝে নিয়ে আসার ব্যাপারটা প্রশংসার যোগ্য। এই খানে বলে ফেলি, অন্তত আজকের পরিবেশনার স্টাইলের জন্যেই, গায়ক বা বাদ্যযন্ত্রীদের সাথে সাথে প্রায় সমান কৃতিত্ব দিতেই হবে উপস্থাপক আতিক রহমানকে। ওনার সাবলীলতা এবং রসবোধ আজকের অনুষ্ঠানের প্রাণ ভোমরা হয়ে ছিলো।
আরও ভাল লেগেছে মালা-র একদম হৃদয় নিংড়ানো গান ‘বলি মা তোর চরণ ধরে...’। কী যে ভাল লাগে কেউ যখন একদম অন্তর থেকে গায়! ভাল লেগেছে মৌলী, হিমানী, অনিন্দ্য, চঞ্চলজাকি আমানের গানও।
শ্রোতার আসরকে বলি, দশ বছর পরে আপনাদের প্রাপ্তি  আসলে কী জানেন? আমরা গান-প্রেমীরা মেলবোর্নের প্রায় সব অনুষ্ঠানেই হাজিরা দেই। সব অনুষ্ঠানে যাই এক ধরণের জুয়া খেলার মত করে, হয়ত গান ভাল লাগবে, হয়ত লাগবে না। হয়ত সন্ধ্যাটা সুন্দর কাটবে হয়ত কাটবে না। কিন্তু শ্রোতার আসরের অনুষ্ঠান দেখতে যখন যাই, আমরা সেই আশা নিয়ে যাই যে আজকে একটা ভাল অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছি, ভাল কিছু গান শুনতে যাচ্ছি। 

সেই আশা দিনে দিনে আরও বেড়ে উঠুক, আপনাদের জন্যে রইলো শুভকামনা। 

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০১৫

বাংলা ভুলে গেছি!

সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের কী কী মনে হতে পারে? 
সবচেয়ে প্রচলিত যেটা হয়, গভীর ঘুম ভাঙ্গার পরে হঠাত বুঝে উঠতে খানিক সময় লেগে যায় যে, এখন কোথায় আছি। ছোটবেলায় এরকম হতো, আমি কি গ্রামের বাড়িতে আছি নাকি নিজের বিছানায় শুয়ে সেটা বেশ খানিকক্ষণ বুঝতে পারতাম না।
হোস্টেলে থাকাকালীন সকালে ঘুম ভাঙ্গতো বাঁশির শব্দে। ছুটিতে বাসায় ফিরতাম যখন মাঝে মাঝে কোথা থেকে যেন বাঁশির শব্দ শুনতে পেতাম, ঝট করে ঘুম ভেঙ্গে কিছুক্ষণ বুঝতে পারতাম না কোথায় আছি এখন, বাসায় নাকি কলেজে!
এখন এই মাঝবয়সে এসে মাঝে মাঝেই সকালে উঠে আয়নায় তাকিয়ে মনে হয় বুড়ো হয়ে যাচ্ছি বেশ। মেটামরফোসিস গল্পের কথা মনে পড়ে যায়, যে গল্পে একদিন সকালে হঠাত উঠে গ্রেগর দেখে যে সে একটা পোকা হয়ে গেছে, মানুষ নেই আর।
স্কুল জীবনে কোন কোন কঠিন বিষয়ের পরীক্ষার দিন সকালে উঠেই সবার আগে আমার মনে হতো, কাল কী কী পড়েছি সব ভুলে গেছি, কিচ্ছু মনে নেই! সাংঘাতিক আতঙ্কে কাটতো কিছু মুহুর্ত। 

আজ সকালে উঠে, হাতে কিছু সময় পেয়ে, পত্রিকা খুলে বসলাম। প্রথম আলো। সেখানে চিত্র সমালোচনার পাতাটি পড়তে গিয়ে আমার পরিষ্কার মনে হল, আমি নির্ঘাত বাংলা ভুলে গেছি।
ভাল করে পড়ে দেখলাম লেখাটি আসলে বাংলাতেই লেখা, কিন্তু পড়ে সত্যিই অনেক কিছু বুঝতে পারছি না। লেখকের নাম মতিন রহমান, পরিচিত লাগলো নামটি, এই নামে একজন সিনেমা পরিচালক আছেন বলে মনে পড়ছে, জানি না তিনিই লেখক কিনা। লেখাটির কিছু শব্দের ব্যবহার বুঝিনি, কিছু বাক্য মনে হয়েছে অসমাপ্ত, কোন অর্থ দাঁড় করাতে পারেনি। কিছু শব্দের অর্থও জানি না মনে হল। লেখা থেকেই কিছু উদাহরণ তুলে দিচ্ছি, অর্থ বুঝিয়ে দিতে যদি কেউ এগিয়ে আসেন তাঁকে আগাম ধন্যবাদ! 
 


‘গল্পের আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যে ধৃত হয়েছে ভারতীয় পরিবারের ছেলেমেয়ে যারা উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গিয়ে হোটেল, রেস্তোরাঁয়, রেলস্টেশনে প্রেমখেলায় সময় কাটায়।’ - এ বাক্যটায় প্রথম চারটা শব্দের অর্থ করতে পারছি না, শেষটুকুও না। 

‘অজয়ের চরিত্রভাবে প্রশ্ন জুড়ে গল্পে বিরতি ঘোষিত হয়।’ - মানে বুঝিনি। 

‘বেশ কিছু কৌতুক ও উপভোগ্য রহস্য দৃশ্যের মাঝ দিয়ে গল্পটি নায়ক-নায়িকার ভাবমূলক দাবি থেকে অজয়ের বাবা বোধমূলক প্রাপ্তির দিকে নিয়ে যায়। অজয়ের বাবার নাট্য রসানুভূতিমূলক দৃশ্য বেশ উপভোগ্য।’ - ভাবমূলক দাবি, বোধমূলক প্রাপ্তি, রসানুভূতিমূলক দৃশ্য- এই ব্যাপারগুলো আসলে কী?  

‘গীতদৃশ্যে শিল্পীদের অঙ্গমুদ্রার বর্ণনাত্মক ভঙ্গি সুসামঞ্জস্য।’-  মিলছে না মনে হচ্ছে। 

‘ক্যামেরার অহেতুক কারিগরি কৌশলগতি থেকে আশিকী ভারমুক্ত।’ - কৌশল, ঠিক আছে, গতি কেন?
‘বৃষ্টিভেজা সকাল’সহ প্রতিটি গানের গীতসংলাপ শ্রুতিমধুর।’ - গীতসংলাপ, এটা কী, এবং কেন?
রাহুল ও শ্রুতির চুম্বনপূর্ব দৃশ্যে ক্লোজড শটে নীরবতা উভয়ের স্পটে যোগসূত্রের নির্মাণ।’- এ বাক্যের কোথায় শুরু, কোথায় শেষ, স্পট কী? পুরো বাক্যের কী মানে দাঁড়ায়?
অজয়কে উদ্ধার করতে রাহুলের গাড়ি চালিয়ে আসা ইন্টারকাট রীতিতে গড়ে তোলা দৃশ্যটি সম্পাদকের মস্তিষ্ক–প্রসূত করতে বাসনা। তবে স্টিম ইঞ্জিন ট্রেনের আগুয়ান গতিময় শটের সঙ্গে কম্পার্টমেন্ট দৃশ্যের স্টোটিক শটগুলোর সংযোগ ধারাবাহিকতা বিভ্রাট ঘটায়।’ - মস্তিষ্ক-প্রসূত করতে বাসনা কী জিনিস? স্টোটিক শট কী?
যৌথ দেশের যৌথ মেধাশ্রমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে নির্মিত আশিকী প্রথাবদ্ধ প্রেম কাহিনির চর্বিতচর্বণ। দর্শকের দৃষ্টিতে সময় কাটানো সিনেমা খোলা। এম এ আজিজ ও অশোকপতি পরিচালকদ্বয়ের ‘হিস্টরি রিপিট’।’ - সিনেমা খোলা এটা কী? খায় না মাথায় দেয়?
পুরোটা কয়েকবার পড়লাম। বুঝিনি ভাল করে এখনো। আরও ক’বার পড়বো কিনা ভাবতে ভাবতেই  মনে হল তার চেয়ে সিনেমাটাই দেখে ফেলা ভাল হবে। আমার অবুঝমূলক ভাবনা আগুয়ানিত হয়ে মস্তিষ্ক গীতসংলাপে সুসামঞ্জস্য হয়ে যাবে! 

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৫

আবারও বিজ্ঞাপন


এক 
বহু বছর আগে রহস্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আহবান জানিয়ে দেয়া বিজ্ঞাপনে চমৎকার একটি কথা পড়েছিলাম, এতদিন বাদেও কথাটা পষ্ট মনে আছে, “ বিজ্ঞাপন না দিয়ে ব্যবসা করা আর অন্ধকারে কোন সুন্দরীর দিকে চেয়ে মিষ্টি করে হাসা একই কথা; তুমি জানো তুমি কী করছ, অথচ আর কেউ জানে না।’’ বলেছিলেন, Steuart Henderson Britt। এই লেখাটা লিখতে লিখতেই একবার গুগল করে নিশ্চিত হয়ে নিলাম, গুডরিডসে পাওয়া গেলো, মূল কথাটা এরকম- “Doing business without advertising is like winking at a girl in the dark. You know what you are doing but nobody else does.”। ইংরেজিটা পড়ে আরেকবার চমৎকৃত হলাম সেবা’র অনুবাদে, এত সুন্দর বাংলা অনুবাদ সেবা প্রকাশনী না হলে আসলেই পেতাম না আমরা। 
 একাডেমিক কিছু কাজে গত কিছুদিন দেশবিদেশের নানা বিজ্ঞাপন দেখে বেড়াচ্ছি। মজার এবং অদ্ভুত সব আইডিয়ার বিজ্ঞাপন দেখে ব্যাপক আনন্দ পেয়েছি বলা যায়। কয়েকটার কথা বলি এখানে। 
১/ এই বিজ্ঞাপনটা পৃথিবীর প্রাচীনতম বিজ্ঞাপনগুলোর একটি। একটি রোমান ব্রোথেলের বিজ্ঞাপন। বড় পায়ের পাতা দিয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে, কোন দিকে যেতে হবে।



২/ মাত্র এক শতাব্দী আগেও সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেয়া হতো ডাক্তারদের রেফারেন্স দিয়ে, এই সিগারেট খেলে গলা চুলকায় না, খেয়ে দেখুন ভাইসকল! 



৩/ বউ কীভাবে পেটানো হয় এ নিয়ে বই বের হতো একসময়, সেসবের বিজ্ঞাপনও হতো। 



মজার বিজ্ঞাপন লিখে সার্চ করলে আরও অনেকগুলোর খোঁজ পাওয়া যাবে, বেশ ভাল রকমের অবসর বিনোদন, সন্দেহ নেই। 

দুই 
সাধারণত পত্রিকার ইভার্সনটা পড়া হয় এখন। মানে, স্ক্যান করে যে পাতা গুলো তুলে দেয়া হয় সেগুলো। সত্যিকারের পত্রিকার একটা আমেজ আসে তাতে, এ জন্যেই মূলত। সুবিধা হচ্ছে, শুধু খবরই নয়, খবরের সাথে সাথে মূল পত্রিকায় ছাপা হওয়া বিজ্ঞাপন দেখা যায় স্ক্যানের কল্যাণে। সেদিন প্রথম আলোর চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পাতায় একটা অদ্ভুত বিজ্ঞাপন দেখলাম! 
সেই বিজ্ঞাপনের কথা বলছি, তার আগে একটা গল্প বলে নিই। 
দেশে গেলে আত্মীয়দের সাথে আলাপের সময় অদ্ভুত সব কথা শুনতে হয়, যেহেতু বহুদিন পর পর দেশে যাই, নিজেকে ব্যাকডেটেড ধরে নিয়ে প্রায় বেশিরভাগ কথাই গিলে ফেলি কোন প্রতিবাদ ছাড়া। 
এবারে এক আত্মীয়ের বাসায় যেতে হল, উনার ছেলে সম্প্রতি গাড়ি কিনেছেন একটা। পেশায় ডাক্তার। পরিশ্রমী ছেলে, অল্প সময়ে উন্নতি করছে বেশ। অনেক ভাল লাগে দেখে। 
আমি যাবার পরে খানিক আলাপ- সালাপের পরেই সেই আত্মীয় জিজ্ঞেস করলেন, “ তা অস্ট্রেলিয়ায় যেতে এখন কত টাকা লাগে?” 
আমি প্রশ্ন বুঝতে পারলাম না, প্রথমে ভাবলাম মেলবোর্ন থেকে ঢাকার প্লেনের টিকেটের দাম জানতে চাইছেন বোধহয়। এটা ওনার কী কাজে লাগবে বুঝতে না পারলেও উত্তর দিলাম সুন্দর করে, “জ্বি, ষাট হাজার টাকার মতো লেগেছে এবার, কমবেশি হয় মাঝে মাঝে।” 
উনি হাত নেড়ে আমাকে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, “আরে না না, সেটা না, ওখানে একবারে গিয়ে থাকার জন্যে কত লাগে এখন? শুনেছি তো দশ-পনের লাখ টাকা হলেই নাকি এখন চলে যাওয়া যায়।” 
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে রইলাম, আমার অনেক বন্ধুই সম্প্রতি ওদেশে থাকবার জন্যে আবেদন করেছে এবং করছে, তাদের নানা ঝুট-ঝামেলার গল্প শুনি, নানা নিয়মের বেড়াজাল নিয়ে অভিযোগ শুনি। বেকুবগুলা কোন মতে পনের লাখ টাকা যোগাড় করতে পারে না? ধুর! 
গত বছর দশেকের মেলবোর্ন-স্মৃতি এক পলকে চোখের সামনে দিয়ে ভেসে গেলো, পড়াশোনার সেই দৌড়ের ওপর থাকার দিনগুলো থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নানা স্মৃতি। শুনেছি মৃত্যুর আগে নাকি এরকম ফ্ল্যাশব্যাক দেখা যায়, ওই সোফায় বসেই ঘেমে নেয়ে গেলাম, মরে টরে যাচ্ছি না তো? 
নাহ, মরছি না সহজে, মরে গেলে পরের লাইনটা শুনতে পেতাম বলুন? 
সোফায় এক পা তুলে দিয়ে আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আমার আত্মীয় ভদ্রলোক বললেন, “এত করে বললাম এখন কিনিস না, তা না, গাড়ি কিনবেই। পনের লাখ টাকা চলে গেলো। গাড়িটা না কিনলে তো অস্ট্রেলিয়ায় চলে যেতে পারতো!” 


তিন
প্রথম আলোর সেই পাতায় নিচের বিজ্ঞাপনটা দেখে আমার এই স্মৃতি মনে পড়লো। 

আমার আত্মীয় ভদ্রলোক আগেই এই বিজ্ঞাপন দেখেছিলেন কি না বলতে পারবো না, এরকম সাঙ্ঘাতিক বিজ্ঞাপন কেমন করে পত্রিকায় ছাপা হয় জানি না। দেশে বিজ্ঞাপন নিয়ে নীতিমালা বলবত আছে কি না তাও জানি না, কিন্তু এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে ধোঁকাবাজি করার উদাহরণ খুব একটা চোখে পড়ে না। 
কিছুদিন আগে হলে শুধু হেসেই উড়িয়ে দিতাম এটাকে। কিন্তু আমরা এক আজব দেশের বাসিন্দা, যে দেশের লোকে চাঁদের বুকে সাঈদীকে দেখে প্রতিবেশীর ঘর ভেঙ্গে দিয়ে এসে নাক ডেকে ঘুমায় রাতে, কোন অপরাধবোধ ছাড়াই। সে দেশের লোকে এরকম বিজ্ঞাপন দেখে ছুটবেনা এরকম গ্যারান্টি কে দিবে? আর এই বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব কে নিবে? পত্রিকা, নাকি সরকার? 

জানা নেই।