মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৪

একটি হাউ-টু ব্লগঃ যেভাবে আপনার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাবেন-

শুরু-
-----------------
গত বছর ডিসেম্বরে  দেশে যাবার পরে একটা অচিন্ত্যনীয় ব্যাপার হলো।

সারা দেশে তখন নির্বাচন পূর্ববর্তী আন্দোলন আর অবরোধ, সেই সাথে লেগে আছে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও...। দেশে যাবার আগে আগে শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই বললেন এরকম পরিস্থিতিতে না যেতে, নির্বাচন শেষ হোক, পরিস্থিতি শান্ত হোক, তারপর যাওয়া যাবে।
আমি তেমন একটা গা করলাম না। নিজের দেশে যাচ্ছি, সেটার জন্যে আবার পরিস্থিতি বিবেচনা কী? অনেককেই দেখেছি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে যাবার আগে ‘ওয়েদার’এর খোঁজ নেন, তা না হলে দেশে গিয়ে অসুখে পড়েন, আমার এখনও এরকম হয়নি। একবার শুধু অতিরিক্ত নিমন্ত্রণের চাপে পেটের বারোটা বেজে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে ছিলাম কদিন, এ ছাড়া আমার এতদিনকার চিরচেনা ‘ওয়েদার’ কখনোই আমাকে বিপদে ফেলেনি। আর এইসব হরতাল, অবরোধ এসব তো আমাদের নির্বাচনী কালচার, ডরাইলেই ডর, নইলে তেমন কিছু না।
এরপরও অনেকের প্রশ্নের জবাবে মজা করে বলেছি, বেশি খারাপ পরিস্থিতি হলে ঘরের মধ্যেই শুয়ে বসে কাটিয়ে দিবো না হয়, তাতেই বা কী আসে গেল?
আমার সেই মজা করে বলা কথা-ই যে সত্যি হয়ে যাবে সেটা তখন বুঝিনি। দেশে যাবার পরে আমার আগমন উপলক্ষেই কি না কে জানে, হরতাল অবরোধের ঘনত্ব ও পুরুত্ব দুইই বেড়ে গেলো, আমি পুরো তিন সপ্তাহ ঢাকায় আটকে রইলাম, একবারের জন্যেও আমার নিজের শহর কুমিল্লায় যেতে পারলাম না!

এরকম কিছু আসলে স্বপ্নেও ভাবিনি। কুমিল্লায় যেতে পারছি না, আমি?!?
সৌভাগ্য এই যে আমার দুই মা-ই তখন ঢাকায়, মানে আমার আম্মু আর নানু। আম্মুর চিকিৎসার জন্যে মীরপুরে একটা অস্থায়ী ডেরায় উঠেছেন, তাঁকে দেখভাল করতে রয়েছেন নানু। কিন্তু এদিকে কুমিল্লায় আমার বাকি সব আত্মার আত্মীয়রা, আমার মামা, খালা আর সব পিচ্চি পিচ্চি কাজিনরা, যারা আমার অপেক্ষায় মোটামুটি পাগল-প্রায়।
সপ্তাহে একদিনের জন্যে অবরোধ তোলা হয়, কিন্তু যানজট ঠেলে দিনে দিনে কুমিল্লায় গিয়ে ফিরে আসার উপায় নেই। একবার গেলেও ফিরতে হলে পরের সপ্তাহের অবরোধ-হীন দিনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে, সেটাও সম্ভব না কারন আম্মু-নানু ঢাকায়।
এই দোটানার মধ্যে থেকেও একবার অবরোধ না-থাকার আগেরদিন ব্যাগ কাঁধে নিয়ে আমরা দুই ভাই বাস স্টপে গিয়ে বসে থাকলাম, আজ যদি কোন ভাবে বাস ছাড়ে তাহলে রাতে গিয়ে কাল রা্তেই ফিরে আসার চেষ্টা করা যাবে হয়তো। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থেকেও লাভ হলো না, সরকারী বাসের কাউন্টার থেকে বলা হলো যাত্রাবাড়ির পরে কোথায় যেন ব্যাপক ভাংচুর হয়েছে, বাস যাবে না!
এরকম হতাশার মধ্যে দিয়েই দেখি ছুটি প্রায় শেষ,  আমারও মেলবোর্নে ফেরার সময় হয়ে গেলো। মুঠোফোনের অপর-প্রান্তে আমার দুখী দুখী কাজিন ভাই-বোনেদের গলা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়।

ফিরবার আগের দিন এক কাজ করলাম। অনলাইনে বই কেনার একটা ওয়েবসাইট থেকে ওদের সবার জন্যে নানা রকম বই অর্ডার করলাম। একই বইয়ের চার/পাঁচ কপি করে প্রতিটি, সব মিলিয়ে আটটি বা নয়টি করে বই প্রত্যেকের জন্যে। আমি যেতে পারছি না কিন্তু এই বইগুলো যাচ্ছে ওদের কাছে, এই ভেবে খানিকটা হলেও শান্তি পেলাম।
মেলবোর্ন ফিরে আসার মাস তিনেক পরেই শুনি ওদের প্রায় সবারই সব বই পড়া হয়ে গেছে। খুব খুশি হলাম শুনে। পুরস্কার হিসেবে আরো নতুন নতুন বই পাবে, এরকম আবদারে আমি এত সহজেই রাজি হয়ে গেলাম যে ওরা খুশিতে বিশ্বাসই করতে পারছিলো না।

স্বপ্ন-
----
অনেকদিন ধরেই মনে মনে ভেবে আসছিলাম আমাদের গ্রামের কিশোর/তরুন বয়েসী ছেলে-মেয়েদের জন্যে একটা কিছু করবো।
নানা পরিকল্পনা করি, বন্ধুদের বলি, কিন্তু স্থবিরতা কাটাতে পারি না। তিথি নিজেই ওদের গ্রামের স্কুলে প্রতি বছর একটা বৃত্তি-মতন দিয়ে আসছে কয়েক বছর ধরে, কিন্তু আমার কেন যেন বড় কিছুই করা হয়ে উঠছিলো না।
তো, এবারে দেশে গিয়ে এই বই পাঠানোর পরে একটা বুদ্ধি মাথায় এলো, কেন না আমাদের গ্রামের স্কুলে একটা লাইব্রেরির অন্তত শুরুটা করে দেয়া যাক! আমাদের গ্রাম নয় শুধু এমনকি আশপাশের কোন গ্রামেও লাইব্রেরি বলে কিছু নেই, সেখানকার মানুষেরা লাইব্রেরি বললে বুঝে উপজেলা শহরের বইয়ের দোকান!

তিথিকে বলতেই সানন্দে রাজি হয়ে গেলো। আমি আমার বড় মামার সাথে কথা বললাম, মামা জানালেন ব্যাপারটা অসম্ভব নয়, কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে।
খানিকটা আশার আলো দেখতে পেয়ে আমি এবারে কোমর বেঁধে লাগলাম একটা ঝকঝকে প্ল্যান করে ফেলার জন্যে। যেন বেশ তো, ধরা যাক দু’একটা ইঁদুর এবার। :)

বাজেট-
--------
আমরা দু’জনেই সীমিত আয়ের মানুষ। এর ভেতরে থেকেই যা করার করতে হবে ভেবে নিলাম। দুয়েকজন পরিচিত ও বন্ধু-বান্ধব ডোনেট করতে চাইলো, কিন্তু আমি ভাবলাম ব্যাপারটা শুরু হোক আগে, দেখি কেমন দাঁড়ায়, তারপরে বড় আকারে করা যাবে। তাই আপাতত ডোনেশান নেয়ার চিন্তা বাদ দিলাম।
আগেও বলেছি, বছরে এক বা দু’বার আমরা দেশ থেকে বাংলা বই আনাই। সেটা, ইদানিংকালে আরও বেশি খরচান্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবু প্রতি বছরই আমরা অল্প কিছু টাকা জমানোর চেষ্টা করি এই খাতে।
ভাল খবর হচ্ছে, এই করে করে গত কয়েক বছরে আমরা আমাদের চাহিতামতন অনেক বই নিয়ে এসেছি এখানে। সেগুলো পড়ে শেষ করে উঠতে আরও কিছু বছর চলে যাবে আশা করি। আপাতত নিজেদের জন্যে অনেক বেশি বই আনানোর প্রয়োজন পড়বে না।
তাই, এই বইয়ের পেছনের বাজেটটুকু আমরা নির্দ্ধিধায় লাইব্রেরির জন্যে বরাদ্দ করে দিলাম। শুধু তাতে কুলাবে না বলেই মনে হলো, তাই এদিক সেদিকের সাংসারিক খরচ কাটাকুটি করে বরাদ্দ করা হলো আরও কিছু অর্থ।

প্রক্রিয়া
--------
একবার ভাবা হলো গ্রামের বাজারে একটা ঘর ভাড়া নিয়ে করা হবে লাইব্রেরি।
কিন্তু আমার মাথা থেকে কেন যেন স্কুলের ব্যাপারটা যাচ্ছিলো না। অবশেষে, আমাদের গ্রামের হাই স্কুলের হেডমাস্টারকে প্রস্তাব দেয়া হলো, যদি স্কুলের একটা ছোট ঘর উনি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হন, আমরা তাহলে সেখানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী এবং গ্রামবাসীদের জন্যে একটা লাইব্রেরি শুরু করে দিবো। তিনি সানন্দে রাজি হলেন তাতে।
স্কুলের একটা বড় হলঘরের একপাশে বেড়া দিয়ে নতুন একটা ঘর তৈরি হলো। মাটি ফেলে, এবং আরও কিছু মেরামতের পরে সেটা ব্যবহার উপযোগী করা হলো।
এর মধ্যেই আমি বই অর্ডার করতে শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে অর্ডার দিলাম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পছন্দের বইগুলো, প্রছুর কিশোর-উপযোগী বই, এবং সেবা প্রকাশনীর প্রচুর বই। অন্যদিকে যোগাযোগ করলাম ঢাকা-কমিক্সের মেহেদী হক-এর সাথে। সেখান থেকে বের হওয়া সবগুলো কমিক্সও অর্ডার করে দিলাম।
লাইব্রেরির জন্যে বানানো হলো বুকশেলফ, আলমিরা, পড়ার জন্যে চেয়ার টেবিল। সব আয়োজন শেষ করে আমার দুই মামা গিয়ে হাজির হলেন আমাদের গ্রামে, একটা স্বপ্নের সূচনা করে দিয়ে আসতে।





বইদ্বীপ গ্রন্থাগার
--------------------
লাইব্রেরির একটা নাম দরকার ছিলো। বই সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অনেক ভেবেও আর কোন নাম পেলাম না খুঁজে, তাই ভাবলাম আমার ইবুকের সাইট বইদ্বীপেরই একটা প্রজেক্ট হিসেবে এটাকে সাথে রাখা যায়।
লাইব্রেরির নাম তাই বইদ্বীপ গ্রন্থাগার।
মাস দুয়েক ধরে চালু রয়েছে এটা। সদস্য হবার জন্যে ফি হিসেবে টাকা নেয়া হয় না এই লাইব্রেরিতে। আমি বলেছি, সদস্য ফি হচ্ছে একটা বই। ওখানে বসে পড়তে সদস্য হবার দরকার নেই, কিন্তু বই বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে যে কোন মূল্যের একটা বই জমা দিয়ে সদস্য হতে পারবে যে কেউ।
গ্রামের মুরুব্বীদের দাবি অনুযায়ী একটা বাংলা পত্রিকা রাখা হচ্ছে সেখানে। যেন লোক সমাগম বাড়ে।

আমাদের পরিকল্পনা হলো, বাজেট অনুযায়ী বছরে এক বা দু’বার নতুন বই কেনা হবে এ লাইব্রেরির জন্যে। সেই সাথে আশপাশের গ্রামের অন্তত অল্প কয়েকটা স্কুলে আস্তে আস্তে করে দেয়া হবে লাইব্রেরি।
নানা রকম স্বপ্ন দেখি মনে, ভেবেছি, কোন স্কুলে আগে দেয়া হবে, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পরিচ্ছন্নতা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা যেতে পারে স্কুলগুলোর মধ্যে, বিজয়ী স্কুল সবার আগে পাবে লাইব্রেরী ঘর।
বিজ্ঞান মেলা ধরণের কিছু আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে, এ জন্যে বিজ্ঞান প্রজেক্ট বিষয়ক বেশ কিছু বইও আছে লাইব্রেরিতে।
সেই সাথে ভালো রেজাল্ট ও আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে একটা বাৎসরিক বৃত্তি দেয়া হবে আগামী বছর থেকেই। সবচেয়ে বেশি বই-পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করার একটা পরিকল্পনাও মাথায় আছে এখনো।
ব্যাপারটা শেষমেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বা কেমন হবে, সেটা এখুনি বলা মুশকিল। কিন্তু খুব ভাল কিছুই যে হবে এ বিষয়ে আশা করতে দোষ দেখছি না কোনও।

হইলো না শেষ-
-----------------
আমি কথা বলে দেখেছি, ‘একটা কিছু’ করার মানসিকতা রাখেন আমাদের পরিচিত মানুষদের অনেকেই, যাদের অনেকেই সেটাকে বাস্তবায়িত করতে পারেন না সময়, সুযোগ, পরিকল্পনা ও বাস্তব ধারণার অভাবে।
এই পোস্টটি আসলে তাদেরকে ভেবেই লেখা। কেউ যদি পড়ে উৎসাহিত হয়ে আরও বিশদ জানতে চান, আমি সানন্দে তাঁদেরকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে রাজি।


অর্থের হিসাব লিখে পোস্টটাকে জটিল করতে চাইনি বলে লিখিনি, কিন্তু জেনে অবাক হবেন এই পুরো ব্যপারটা করতে খুব বেশি খরচের প্রয়োজন হয় না আসলে। যে কোন স্বচ্ছল পরিবারই এরকম একটা প্রোজেক্ট চালাতে পারেন মন চাইলে, অথবা দু’তিনটে পরিবার মিলে এক সাথে।
একটু সদিচ্ছা, খানিকটা যোগাযোগ আর অল্প একটু সময় দিলেই এরকম কিছু করা আর অসম্ভব থাকে না।

---- তারেক নূরুল হাসান ০৯/০৯/২০১৪

নতুন বইঃ ইবই রন্ধন প্রণালী



ইবইয়ের ধারণা এখনো আমাদের অনেকের কাছেই নতুন। বইদ্বীপ নামের সাইটটি শুরু করার পরে যখন লেখকদেরকে ইবই ফরম্যাট করার ব্যাপারে সাহায্য করা শুরু করলাম, তখন দেখি আমাকে অনেক সহজ যেমন একবার চুটকি বাজিয়েই উত্তর দেয়া যায়, এরকম থেকে শুরু করে অনেক কঠিন, যেগুলোতে মাথা দিয়ে প্রায়-দৃশ্যমান জলীয় বাষ্প বের হয়, এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সেসব প্রশ্ন মাথায় রেখে এই বইটি তৈরি করা।
আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সহজবোধ্যভাবে এবং সাধারণ উপায়ে ইবই এর জন্যে পান্ডুলিপি প্রস্তুতের উপায় বলে দেয়া  সবাইকে। তবে এ ক্ষেত্রে বলে নেয়া ভালো, এ বইটি কোন স্বতসিদ্ধ নির্দেশিকা নয়। নানা রকম ট্রায়াল এন্ড এরর পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে চেষ্টা করতে করতে অবশেষে এখন ইবুক তৈরির জন্যে একটি নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালি অনুসরণ করি, এটি একান্তই আমার নিজস্ব এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি।
নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে বা নতুন প্রযুক্তির খোঁজ পেলে এই বইটি নিয়মিত নতুন সংস্করণের মাধ্যমে হালনাগাদ করার আশা রাখি।
সবাইকে শুভেচ্ছা, শত ইবুকের মালিক হোন সবাই, এই আশা রাখি। :)
বইটি পেতে এখানে ক্লিক করুন।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৮, ২০১৪

কবিতাঃ তোমাকে নয়-

তোমাকে নয়-
-----------------
আমার কেবলই কেড়ে নেবার স্বভাব-
যা কিছু ভাল লাগে কিংবা লাগার,
তার সব, সব কিছুই চাই আমার।
ঐ দোকানীর রাংতা মোড়ানো স্বপ্ন ভরা বয়াম,
ও পাড়ার ঐ দুরন্ত ব্যাটসম্যানটির সুনাম,
অদ্ভুত সব চকমকি মার্বেল, আর-
অগোছালো চুলে মায়ের অনিচ্ছুক বিলি কাটার আরাম।
আরও, আরও কত কী-ই,
পত্রিকার রঙীন নর্তকী-
দূর সমুদ্রের সেই রাগে ফুঁসে ওঠা ঢেউ,
ভরা বর্ষায় পাশের ছাতার বিহবল কেউ।
কেড়ে নিয়েছি আমি সবই, যখন যা চেয়েছি নিজের করে।
আজ তবু এতদিনের পরে-
যখন জীবন নিচ্ছে একটা অহেতুক বিরতি,
দ্বিধার কাঁটায় চোখে পড়ছে শুধুই তোমার অনুপস্থিতি।
স্বভাবের বাইরে দাঁড়িয়ে নির্নিমেষ দেখে গেছি,
আমাদের হৃদয়েরা হয়ত মন ভুলে খেলেছিলো কানামাছি।।
তবু, আজ জেনো, সত্যি এটাই-
আমার কেড়ে নেয়া সুখের তালিকায়-
তুমি নাই।
-----
তারেক নূরুল হাসান
১৪/০৭/২০১৪
মেলবোর্ন

কবিতাঃ অপ্রকাশ

অপ্রকাশ
প্রণয় সে গোপন গভীর থাকা ভালো।
শহরের উষ্ণতম সরোবরের অভিমানী জলে-
শীত-দুপুরে কোন ঘুম ভাঙানিয়া স্নান,
তারও চেয়ে ভালো, ডুবে ডুবে ডুবে
পানকৌড়ির অলৌকিক আহবান।
ডাহুক পাখীর প্রেমের মতন জেনো,
আমাদের সংক্ষিপ্ত অবকাশ।
ভালো বাসা না বাসার দোলাচলে,
সংশয়ে আকুল আশ্বাস।
তারচে’ বরং এসো, দূরে সরে যাই।
দেখো ঢের ভাল এই নীরবতা,
এ মাঝির মন ভাঙা গানে,
সহসা ব্যাকুল হয়, বৈঠায় মাপা গভীরতা।
গভীরতা শোনো, গোপনীয় থাক।
এ প্রণয় না হয়, না হোক সবাক।।
যে নদীর না ওঠা সে ঢেউ,
অথবা সে নদীটির সুগভীর জল;
ভালোবেসে চুপ থাকা ভালো,
ছুঁয়ে থেকেও না-ছোঁয়া অতল।।
-----
তারেক নূরুল হাসান
২২/০৫/২০১৪
মেলবোর্ন

শনিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১২

বইদ্বীপ প্রকাশনীর সাইট-


বাংলা ইবই নিয়ে আলাদা একটা সাইট তৈরি করলাম। ঠিকানা এখানে- বইদ্বীপ প্রকাশনী। 
মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলায় ইবই প্রকাশনা সম্পর্কিত সুবিধা, অসুবিধা, জটিলতা ইত্যাদি বিষয়ে মতবিনিময় করা। কেউ ইবই প্রকাশ করতে চাইলে নিজেরাই নিজেদের সহযোগিতা করা যাবে এই ব্লগের মাধ্যমে।
বাংলায় প্রকাশিত ইবইগুলোর একটা তালিকামতন রাখাও আরেকটা উদ্দেশ্য। যদিও মনে করি, কদিন বাদে বাংলা ইবই-এর জোয়ারে তালিকা রাখা আর সম্ভবপর হবে না। :)
ইবই নিয়ে নিজেদের চিন্তা-ভাবনা, প্রশ্ন ইত্যাদি শেয়ারের জন্যে চলে আসুন বইদ্বীপ প্রকাশনীর  সাইটে

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০১২

ইলিয়াসের ঘোড়া: আমার নতুন বই


বেশ কিছুদিন ধরেই সময় দিচ্ছিলাম এটার পেছনে। অবশেষে আজকে জিনিসটা ফাইনাল হলো। আমার নতুন বইটা প্রকাশিত হলো স্ম্যাশওয়ার্ডস থেকে। এটি পুরোপুরিই ইবুক। আপাতত প্রিন্টেড ভার্সানে যাবার কোন পরিকল্পনা নেই।
বইটি বিনামূল্যে নামানো যাবে নিচের লিংক থেকে। 
বইটি যারা পড়বেন, তাদের মতামত জানবার জন্যে অপেক্ষায় রইলাম। 

সহী দিননামা

৭১
একাত্তর নামে নতুন একটা চ্যানেল হয়েছে দেখছি।
এখানে বাংলা টিভি দেখা বেশ হ্যাপার কাজ। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নানা প্যাকেজ নিতাম একসময়, কিছু বিজ্ঞাপন আর স্প্যাম ভরা ফ্রি সাইট দিয়েও কাজ চলেছে একদা, আপাতত সব ঘুরে টুরে আইপিটিভি বাক্সে থিতু হয়েছি। বেশ ভালই সার্ভিস দিচ্ছে। যদিও সবগুলো বাংলা চ্যানেল আসে না। অনেকগুলো ভালো চ্যানেলই নেই, সময়, ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেই, মাছরাঙাও নেই। কিন্তু একাত্তর কেমন করে যেন চলে এলো। এবং আসার পর থেকেই, ক্রিকেটের জন্যে যদি চ্যানেল নাইন খুলে বসে না থাকি, তাহলে যে চ্যানেলটা এখন বেশি দেখা হয়, তার নাম একাত্তর।

দেশের প্রথম ফুল হেইচডি চ্যানেল বলে দাবি করছে প্রায়শই, ছবির মানও আসলেই চমৎকার। ওদের দুটা ডকুমেন্টারি দেখলাম, দুটোই বেশ ভাল লেগেছে। ঘুরে ফিরে যদিও দেখাচ্ছে বারেবারেই। অনুষ্ঠান নির্মাণেও খানিকটা ভিন্নতা চোখে পড়ছে। হঠাৎ করে সেই একুশের সামিয়া জামান আর সামিয়া রহমানকে একসাথে আবার দেখতে পেয়েও ভাল লাগছে বেশ।

আমার শুধু একটা ব্যাপারেই খটকা, নামটা নিয়ে। একুশ চলে, বায়ান্নও, হয়তা বিজয় বা স্বাধীনতা-র মত শব্দগুলোও বহুব্যবহারে জৌলুশ হারিয়ে সর্বসাধারণের পকেটের রুমাল হয়ে গেছে। কিন্তু, আমার মনে হচ্ছে, একাত্তর নাম দিয়ে কাউকে অনুমোদন না দিলেই পারতো সরকার। আমাদের দেশেতো কোন কিছুই ধ্রুব নয়। এ টিভির মালিকপক্ষ কে বা কারা জানি না, ধরে নিলাম যোগ্য লোকেরাই মালিক এখন। কিন্তু সরকার বদলালে যে সেটাও বদলাবে না তার নিশ্চয়তা কী? অথবা, সময়ের সাথে সাথে মালিকের চরিত্রও বদলে যাবে না তারই বা গ্যারান্টি কী?

একাত্তর নামের চ্যানেল যদি একসময় জামাতপন্থী আচরণ শুরু করে সেটা মেনে নিতে খারাপই লাগবে।

টু ডু, টা ডা

অনেক কিছু করবো করবো বলে ভাবি। একটা লিস্ট ঝুলিয়ে রাখা আমার ঘরের নোটিশ বোর্ডে। মোবাইলেও নানা রকম লিস্ট। সপ্তায় অন্তত একটা ব্লগ লিখবো বলে ভাবি, হয় না। বেশ কিছু গল্প লেখা শুরু করে মাঝপথে আটকে আছে, শেষ করা হয়ে উঠছে না।

তবে হবে নিশ্চয়। সেদিন লিস্টের শেষে গোটা গোটা হরফে বড় করে লিখে দিলাম, ফিনিশ সামথিং!!

কিছু একটা তো শেষ কর বাপ!

তালাশ
আমির খানের মুভি দেখা হয় নিয়মিত। রাং দে বাসান্তির পরে আমির খান কোন না কোন ভাবে জড়িত আছেন এরকম ছবি মিস না করার চেষ্টা করি। খুব একটা লস হয়নি এখন পর্যন্ত। এমনকি অফ ট্র্যাকের কিছু ছবি যেমন ডেলহি বেলি অথবা ধোবিঘাটও বেশ ভাল লেগেছে।
সম্প্রতি দেখলাম তালাশ।

আমার কাছে মনে হয়, ভুতের সিনেমার সবচেয়ে বড় মাইনাস পয়েন্ট হলো যে তারা ভুতের সিনেমা। এটুকু যদি মেনে নেয়া যায়, তাহলে তালাশ আসলে বেশ ভাল একটা ছবি। সাসপেন্স ছিল যেখানে যেটুকু দরকার, একদম ঠিক সময়ে রহস্যের জট খুলেছে। ছবির সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো অতৃপ্ত আত্মা বিষয়ক লজিক এবং সেটুকু প্রতিষ্ঠা করার অংশটুকু। কিন্তু এখানেও ব্যাক টু স্কয়ার ওয়ান, মানে ওই যে, যদি আমরা এটা মেনে নিয়ে দেখা শুরু করি যে এটি আসলে একটি ভুতের সিনেমা...।

সবমিলিয়ে মন্দ লাগেনি।

গ্রিশাম
রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি পড়া শেষ হলো। যে ভাললাগা নিয়ে শুরু করেছিলাম বইটা, শেষ করলাম সে পরিমাণ মুগ্ধতা নিয়েই। এমন কিছু আহামরি গল্প নয়, সেই সময়ের কয়েকজন যুবক যুবতীর প্রাত্যহিক জীবনের খন্ডচিত্র নিয়ে লেখা। কিন্তু মুগ্ধ হয়েছি ভাষার ব্যবহার দেখে, ঐ অল্প পরিসরেই লেখকের চিন্তার গভীরতা দেখেও চমকে উঠেছি বারকয়েক।

সমান্তরালে শেষ করলাম জন গ্রিশামের দি ফার্ম। পড়া শেষে খানিক ভেবেছি নানা বিষয়ে।
দেখলাম যে, বড় হয়ে আসলে খুব বেশি থ্রিলার পড়িনি। থ্রিলারের নব্বই-ভাগই পড়া হয়েছে কিশোর বয়সে, সেবা প্রকাশনীর বদৌলতে। সে সময়ে ঘটনার গলিঘুঁপচিতে হারিয়ে যেতাম থ্রিলার পড়তে পড়তে। নায়কের মৃত্যু আশঙ্কায় একেবারে জায়গামতন গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো তখন। লাস্যময়ী নায়িকার লাল টুকটুকে অধরের কল্পনায় কত রাত নির্ঘুম কেটে গেছে। পড়ার জগতের দরজা খুলে দিয়ে থ্রিলার ব্যাপারটা কেমন করে যেন মাঝে লম্বা সময় ডুব মেরে ছিলো।

সম্প্রতি আবার ফিরে এসেছে সে বিপুল বিক্রমে। জেফরি আর্চারের দুটা বই দুমাদুম পড়া হয়ে গেলো। এ প্রিজনার অব বার্থ এবং ফলস ইম্প্রেশান। পড়তে পড়তেই গল্পের গাঁজাখুরিত্ব নিয়ে বেদম হাসি পেয়েছে। এ প্রিজনার অব বার্থ এর মত এরকম হাস্যকর অবাস্তবতা এমনকি থ্রিলারেও দেখা যায় না। কিন্তু আশ্চর্য এই, এটা টের পাওয়ার পরেও বইটা শেষ না করে উঠতে পারিনি। পড়ছি আর লেখককে গাল মন্দ করছি, ধুর ব্যাটা কী সব লিখছে, কিন্তু রাতের খাবার পরে মাথার পাশে ল্যাম্প জ্বেলে পড়তে পড়তে রাত ভোর করে ফেলেছি। থ্রিলারের মজা আবার ফিরিয়ে আনলো এই আর্চার মশাই।

তুলনায় গ্রিশাম পড়ে আরও ভাল লাগলো। গ্রিশামের আরও কিছু বই টপাটপ পড়ে ফেলতে হবে।
লিস্টে আরও কিছু ভাল বইও আছে। আজ থেকে ধরলাম মঈনুল আহসান সাবের এর ঠাট্টা। মণিকা রশিদকে ক্রমাগত জ্বালাতন করে করে অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু বই পেলাম। ওগুলো পড়া ধরতে হবে। হিমু ভাই একেবারে আচমকাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন উদয়ন ঘোষের লেখার সাথে। আগে পড়িনি, এমনকি শুনিওনি। আপাতত তার ছোটগল্পের বইটির ভূমিকা পড়ে কাছা মেরে বসলাম।

ভ্রমণ আনন্দময় হবে সন্দেহ নেই।

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৫, ২০১২

ইদানিং বেশ কিছু নতুন বই পড়ছি

ইদানিং
---------


বছর-খানিক ধরেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না ব্যাটাকে। অথচ খুঁজছিলাম, অনেকদিন ধরেই। আমার বুকশেলফের আড়ালে, বালিশের পাশে জমে থাকা অলস অন্ধকারে, অথবা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে জমাটি করে বসে থাকা সোফার আরামে। কিন্তু বাস্তবিক প্রায় হারিয়েই ফেলেছিলাম তার খোঁজ। শেষমেষ একটা ষড়যন্ত্র করতে হলো। নিজের সাথে নিজেই চোখ রাঙাতে হলো। একদিন সকালে উঠে আয়নায় নিজেকে জোরসে ধমক লাগালাম, চোপ রাও বদমাশ, যা বলি তা-ই করো।

তো, করলাম। চুপচাপ। বাধ্য মানুষটির মতো ফেইসবুকের ডিএকটিভেট বাটন চেপে দিলাম। জুকারবার্গের নীল দৈত্য কঁকিয়ে উঠলো, কেন কেন?
বললাম, না হে, এটা সাময়িক বিচ্ছেদই কেবল, পাকাপাকি ছাড়াছাড়ি নয়, আবার আসিব ফিরে, সহসাই।


তারপর বুকশেলফের বইগুলোকে ওলট পালট করে ঝাড়াঝাড়ি করে নিলাম। একটা করে বই জায়গা করে নিলো আমার সবকটা চারণভূমিতে। গাড়িতে একটা, সোফার পাশে একটা, একটা ডাইনিং টেবিলে, বিছানায় বালিশের পাশে একটা, আঁকাআঁকির টেবিলে একটা।
ড্রপবক্সের একাউন্ট থেকেও ঝেড়ে মুছে বিদায় জানিয়ে দিলাম সব কটা অনাবশ্যক ফাইলকে। তার বদলে সেটা ভর্তি হয়ে গেলো হাজার-খানেক ই-বুকে।

এবং, তারপরে, সহসাই খুঁজে পেলাম তাকে। আমার হারিয়ে যাওয়া বই পড়ার তুমুল অবসরকে। ওহ, মাই প্রেশাস, এতদিন কোথায় ছিলে?

বেশ কিছু নতুন বই
------------------------


বছরে অন্তত একবার বই আনাবার একটা বদভ্যাস গড়ে উঠেছে আলগোছে। প্রবাসী হবার পর থেকেই। বইয়ের জন্যে আমি আর আমার বউ মনে মনে অল্প অল্প করে টাকা জমাই। আনানোর পরিমাণ নির্ভর করে কত জমাতে পারলাম তার উপরে। কোনবার নিজেদের ফাঁকি দিয়ে খানিক বেশি জমাতে পারলে বই আসে পঁচিশ কেজি। আর টানাটানির বছরে আসে মেরে কেটে দশ কেজি।
এই দশ আর পঁচিশের সীমানা আমাদের নিজেদের করা নয়। এটা ফেডেক্সের বদান্যতা। ওদের দুটা প্যাকেজে, হিসেবে করে দেখেছিলাম, পোস্ট অফিসের ইএমএসের খরচের চেয়ে খানিকটা বেশি লাগে। কিন্তু পাবার গ্যারান্টি আর দ্রুততার সাথে সেটুকু আপোষ করা চলে।
কিন্তু এবারে বই আনাতে গিয়ে ব্যাপক ধরা খেলাম। ফেডেক্সের খরচ বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। এটুকু আমাদের সাধ্যের বাইরে। ফেডেক্স দিয়ে হয়তো এই শেষবারের মত কিছু বই আনানো হলো, পরের বছর থেকে পোস্টাপিসের দুয়ারে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে নিশ্চিত।

পড়ছি
---------------



একসাথে কয়েকটি বই পড়তে শুরু করা আমার স্বভাব। গত সপ্তা নাগাদ শেষ করে উঠলাম কিছু। মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘ও’ পড়া হলো। মোটামুটি লাগলো পড়ে। সব কটি গল্পের শুরুই চমৎকার, কিন্তু শেষটুকু আর সুন্দর থাকেনি কেন জানি। প্রথম দু’টি গল্প পড়ে আমার এমনও মনে হলো, হায়, শেষমেষ জাফর ইকবাল স্যারও বাজে গল্প ছাপাতে শুরু করলেন?

অতীন বন্ধ্যোপাধ্যায়ের পঞ্চাশটি গল্পের সংগ্রহ শুরু করেছিলাম, পড়ছি এখনও। এনার লেখা আগে পড়িনি। এখন পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছে, লেখার ভঙ্গি রীতিমতন মনোমুগ্ধকর। ছেঁড়া পাজামা নামের গল্পটি পড়ে একদম শিউরে উঠলাম! একেবারে অন্তর ছুয়ে গেলো! গল্পের শেষ লাইন বা শেষ প্যারায় চমক দেয়ার একটা অভ্যাস খেয়াল করলাম লেখকের, কিন্তু এটা নিয়মিত কিনা সেটা আরো পড়ার পরে বলতে পারবো।

রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি পড়ছি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সদস্য হবার প্রথম দিকের কোন মাসে পড়েছিলাম তাঁর দিলুর গল্প। গল্পটা এখন আর সঠিক মনে নেই, কিন্তু সেই কিশোর বয়সে সাংঘাতিক ভাল লেগেছিলো এটুকু মনে আছে। অমল ধবল চাকরি পড়তে পড়তে লেখককে মনে মনে লম্বা সেলাম ঠুকলাম। এত স্মার্ট ভাষা, এত স্মার্ট ভাবনা সেই আদ্যিকালে কোন জাদুবলে যে আমাদের রাহাত খান আর মাহমুদুল হকেদের পকেটস্থ ছিলো কে জানে! বইটা শেষ করতে করতেই রাহাত খান যে আমার প্রিয় লেখকদের তালিকায় উঠে আসবেন সন্দেহ নেই।

স্টিফেন কিং এর লেখা একটা নন-ফিকশান বই পড়লাম- ‘অন রাইটিং’।  
কিং মূলত হরর থ্রিলার লেখক। আমার পড়াপড়ির অভ্যেসের শুরু রূপকথা আর সেবার থ্রিলারগুলো দিয়েই। তাই এখনও চটপট চানাচুর-ভাজার মত থ্রিলার পড়ে ফেলতে বেশ পছন্দ করি। অন রাইটিং বইটা লেখালেখির উপরে। ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর উপরে এর আগেও বেশ কিছু বই পড়েছি, কিন্তু সেসবের সাথে এই বইটার অনেক পার্থক্য রয়েছে। ঐ বই গুলো মূলত উপদেশে ভরপুর। এটা করা চাই, ওটা কিন্তু নয়। কিন্তু কিং এই বইটায় সেসব থেকে অনেক দূর দিয়ে হেঁটেছেন। বইটার প্রথম ভাগে তার নিজের লেখকজীবনের শুরুর কথা আছে। কেমন করে, এবং কোন পারিপার্শ্বিকতার ভেতর থেকে তার ভেতরের লেখক স্বত্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো সেসবেরই বর্ণনা সেখানে। এটুকু বেশ আত্মজীবনীর মত করে পড়ে ফেলা যায়। বইয়ের শেষভাগে কিছু না-দিলেই-নয় উপদেশ রয়েছে। কিন্তু সেটাও এমনই আপন আপন স্টাইলে দেয়া যে পড়ে মনে হয় না লেখালেখির ক্লাস করছি। সবমিলিয়ে বেশ ভাল একটা বই।

অতীন আর রাহাত খানের সাথে ব্যালেন্স করার জন্যে কাল থেকে শুরু করেছি জন গ্রিশামের ‘দি ফার্ম’।

টানটান উত্তেজনা একেবারে যাকে বলে। আপাতত ৬২ পৃষ্ঠায় আছি। পড়ছিলামই খানিক আগেও, এর মাঝে হঠাৎই মনে হলো, যাই লোকজনদের খানিক বিরক্ত করে আসি গিয়ে।
অতঃপর আর কি, তাই হেতু এই জ্বালাতন-ধর্মী ব্লগের জন্মলাভ। :)

বুধবার, নভেম্বর ০৭, ২০১২

বাংলা ইবুক

বাংলা ইবুক নিয়ে নানারকম পরীক্ষা নিরিক্ষা চালিয়েই যাচ্ছি। হাতে অবশ্য গিনিপিগ আছে একটাই, আমার সবেধন নীলমণি কাঠের সেনাপতি
ইবুকের বাজারে বাংলা বই একসময় সদর্পে ঘুরে বেড়াবে, এরকমটাই প্রত্যাশা করি। এখনকার ইন্টারনেট আর টেকি যুগে ব্যাপারটা খুবই সহজ। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পরবর্তীতে কখনও বই বের করলে প্রিন্টেড এডিশানের সাথে সাথে ইবুক এডিশানেও বই প্রকাশ করবো। 

আমি যেটা করেছি, সেটা একটু লিখে রাখি, উৎসাহী কারো কাজে লাগবে আশা করি।

কিন্ডল ফর আইপ্যাড
প্রথমেই স্ম্যাশওয়ার্ডস ডট কমে একটা একাউন্ট করে নিয়েছি। এটা ফ্রি। ওদের ওখান থেকে বই বিক্রি করলে কিছু কমিশন কেটে রাখে ওরা, এমনই সহজ শর্তে একাউন্ট খুলে ফেলা যায়। আমার কাছে খুবই ব্যবহার-বান্ধব লেগেছে সাইটটি। আরেকটা কারণ হলো, বইটা যদি ওদের প্রিমিয়াম ক্যাটালগে অন্তর্ভুক্ত হবার জন্যে কোয়ালিফাই করে তাহলে সেটা শুধু ওদের সাইটেই নয়, একই সাথে কিন্ডল, আইবুক বা ন্যুক এর স্টোরেও ওরা বইটা বিক্রির জন্যে পাঠিয়ে দেয়। কোয়ালিফাই করাটা অবশ্য কষ্টসাধ্য কিছু নয়, ওদের বলে দেয়া নিয়মগুলো মেনে বই প্রকাশ করলেই সাধারণত হয়ে যায়।

একাউন্ট খোলার পরে মূল বইটাকে এমএসওয়ার্ডের ডক ফাইলে কিছু ঘষামাজা করে নিতে হয়। বেস্ট আউটপুট যেন আসে, সেটা নিশ্চিত করতে ওদের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু ফর্ম্যাটিং করে নিতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটায় ঘন্টাখানেকের বেশি দরকার হয় না। ফর্ম্যাটিং এর মূল বিষয়গুলোও একেবারেই সোজা।

 আমি খানিকটা লিখে রাখি-
১। ফন্ট- পুরো বইয়ের ফন্ট সাইজ একই করে নেয়া ভালো। 
২। প্যারাগ্রাফ স্টাইল- এটা যেন পুরো বইয়ে একই থাকে। প্রতি প্যারাগ্রাফের শুরুতে এন্টার কী- চেপে দেয়া স্পেসগুলো না রাখাই ভাল। বরং ওয়ার্ডের অপশানে গিয়ে প্যারাগ্রাফ স্টাইলে এটা ঠিক করে দিতে হয়।
৩। ছবি- কাভার বা আর কোন ছবি যোগ করতে চাইলে খেয়াল রাখতে হবে যেন এটা ফ্লোটিং ইমেজ না হয়। অর্থ্যাৎ, ছবি প্রোপার্টিজে গিয়ে এটাকে ইন লাইন উইথ টেক্সট হিসেবে সেট করে দিতে হবে। 
৪। পেইজ ব্রেক- এটা অবশ্য আমার নিজের বুদ্ধিতে করা। এক চ্যাপ্টারের শেষের সাথে পরের চ্যাপ্টারের শুরু গুলিয়ে ফেলতে না চাইলে ওয়ার্ডের পেইজ ব্রেক অপশান ব্যবহার করাই ভালো। এটা কাজে লাগে প্রিন্টার্স লাইন বা লেখক পরিচিতির পাতাটাকে আলাদা করার জন্যেও। 

আসলে যারা ইবুক প্রকাশ করতে চাইবেন তাঁদের উচিৎ পুরো ম্যানুয়ালটি একবার পড়ে ফেলা। 

আইবুক
ফর্ম্যাটিং এর পরে ফাইলটি প্রস্তুত হয়ে গেলে স্ম্যাশওয়ার্ডের একাউন্ট থেকে আপলোড করে দিলে ওটা নিজে থেকে বিভিন্ন ফর্ম্যাটে কনভার্ট হয়ে যায়। ইপাব, মোবি, পিডিএফ, আরটিএফ, টেক্সট, পামডক ইত্যাদি নানা ফর্ম্যাট, এমনকি অনলাইনের পড়ার উপযোগি ভার্সানেও। বইয়ের দাম নিজের ইচ্ছেমতো ঠিক করা যায়, এমনকি চাইলে ফ্রি-ও করে দেয়া যায়। সম্ভাব্য পাঠকেরা যেন বইটির কিছু পাতা স্যাম্পল হিসেবে নামিয়ে দেখতে পারেন, সেই সুবিধাও আছে সেখানে।

বাংলা ফন্ট নিয়ে সবসময়েই কিছু গোলমাল থেকে যায় অবশ্য। এখানেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আমার বইটার ইপাব ফর্ম্যাট খুবই চমৎকার এসেছে, কিন্তু স্ম্যাশওয়ার্ডের করা মোবি ফাইলটায় দেখি কিছু ফন্ট ভেঙ্গে গেছে। পরে অবশ্য এই সমস্যারও সমাধান করতে পেরেছি। ক্যালিব্রে সফটওয়্যার দিয়ে স্ম্যাশওয়ার্ডের করা ইপাব থেকে মোবি-তে কনভার্ট করতেই দেখি কী তামশা, সব ফকফকা! একদম চমৎকার ইবুক হয়ে দাঁড়িয়েছে বইটা। 

আমার কিন্ডল রিডার নেই অবশ্য, পড়াপড়ির সব কাজ আইপ্যাড দিয়েই চালিয়ে দিই।
দুটা স্ক্রিণশট দিলাম আইপ্যাড থেকে। 

পরিশেষে, বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার সকল লেখক ও প্রকাশকদের ইবুকের অপার সম্ভাবনাময় জগতটি ঘুরে ফিরে দেখার অনুরোধ জানাই।