পোস্টগুলি

December, 2008 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দু' বছর

রোজ সকালে আড়মোড়া ভেঙে ওই একটা সবুজ তোয়ালেতেই মুখ মুছি প্রতিদিন।
রোজ একই জুতা জামা গায়ে, সেই একই রাস্তা ধরে-
একই গন্তব্যে পৌঁছে যাই বারবার।

দুয়েকটা রঙীন ফানুস এসে মাঝে মাঝে,
খানিকটা রঙধনু ধার দিয়ে যায় হয়তো-
আমাদের দুজনের চোখের জল আজ,
মিলেমিশে মুখ লুকিয়ে হাসে।

এরকম অভ্যস্ততায় কতগুলো দিন কেটে গেলো!
একটাই জানলা দিয়ে রোজ, দুয়েকটা চড়ুই এসে পড়ে-
কী আশ্চর্য, আমরা দুজন একটি ঘরে থাকি!
অথবা আমাদের একমাত্র সুখের আজ ঠিক দুবছর।

প্রতিনিয়তই আমাদের নিঃশ্বাসের সুর মিলে যায়-
তবু দেখ, সেই তোর জন্যেই কোন গান
আজও লেখা হয়ে উঠলো না আমার।

====
Tomar Jonyo.mp3
---------

গানঃ অন্জন দত্ত, তোমার জ‌ন্যে, এল‌বাম- হ্যালো বাংলাদেশ।

একটা রূপকথা

দেখি, আজ একটা গল্প বলি বরং।
এক বাড়ির বড় ছেলে নতুন বিয়ে করে খুব লক্ষীমন্ত একটা মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসলো। দুইজনে খুব ভাব-ভালবাসা, খুব মিল-ঝিল। নিজেদের মত করে সুখেদুখে দিন কাটায়।
বাড়ির বাকি লোকজনের আবার এটা পছন্দ হলো না। রূপকথার কূটনী বুড়িদের মত তাদের চোখ টাটাতে লাগলো এত সুখ দেখে। তারা নানান মিটিং-টিটিং করে একসাথে নানান রকম ফন্দি-ফিকির করতে লাগলো। বৌ-টার লক্ষীপনাকে বললো ন্যাকামী, লাগাল সেটা ছেলেটার কানে। কিন্তু ছেলে সেসবে কানই দিলো না, বউটাকে যে সে খুব ভালমতন চেনে। বাড়ীর সবার সব কূট-বুদ্ধি বিফলে গেলো।
এদিকে কদিন পরে, মেয়েটার শরীর খারাপ হলো। কী ব্যাপার কী ব্যাপার? ছেলে ডাক্তার-বদ্যি ডেকে আনলো। ও মা, জানা গেলো, সে তো ভারী সুখের খবর। মেয়ে যে মা হবে!
ছেলে আর বৌয়ের মনে কী খুশি! আনন্দে তারা ডুবে ডুবে যায়। কিন্তু বাড়ির লোকের আবারো চোখ টাটায়। তারা ঠিক করলো এতদিন যেমন তেমন, এইবারে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ওদের যেহেতু কিছু করতে পারেনি, ওদের সন্তানেরই অনিষ্ট করবে তারা।
তো, দিন যায়, মাস যায়। নয় মাস বাদে মায়ের প্রসব ব্যাথা ওঠে, আতুঁড় ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে, অনেক যন্ত্রণা আর কষ্টের পরে মা-টা একটা ফুটফুটে চাঁদে…

কামরুল-বন্দনা

(হেডনোট, অথবা শিরঃটীকা- এই লেখার মূল উদ্দেশ্য দুইটি।
এক- বন্ধুদের ঢোল বাজাতে আমার ব্যাপক ভাল লাগে। সুযোগ পেলেই বাজাই।
দুই- খেয়াল করে দেখলাম, এই ব্লগের হার্টথ্রব কামরুল একাই আমাদের বন্ধুদের নিয়ে লিখছে। আমি ভাবলাম, আজ নাহয় আমিই কামরুলকে নিয়ে কিছু লিখি। )আমরা সবাইই কুমিল্লার ছেলেপেলে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, পড়েছি সবাই জিলা স্কুলে। তারপরেও কামরুলের সাথে আমাদের পরিচয় হতে খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো। কারণ সম্ভবত এই যে, সেভেনের পর থেকে আমাদের কলেজ আলাদা হয়ে গিয়েছিলো।
সম্ভবত নাইন বা টেনের কোন একটা সময়ে কোন এক টিউটরের বাসায় দরজায় দাঁড়িয়ে আমি চেঁচামেচি করছি, এইসময় ছোটখাটো সাইজের একটা ছেলে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কী রে, কেমন আছিস?
আমি চিনলাম না।
ঐ সময়টায় এরকম আমার প্রায়ই হতো যে রাস্তায় কারও সাথে দেখা হলো, আমার কুশল জিজ্ঞেস করছে, কেমনাছি, কীকর্ছি, নানান হাবিজাবি। প্রথম দিকে দুয়েকবার লোকজনের মনে দুঃখ দিয়ে ফেলতাম। পরে শুধরে নিয়েছি, কোনভাবেই আর টের পেতে দিতাম না যে আমি আসলে মানুষটাকে চিনতে পারছি না।
এবারও তাই করলাম। চিনতে না পেরে, দুপলক শুধু, তারপরেই একদম স্বাভাবিক স্বরে বললাম, এই তো ভাল আছি, তোর কী …

চাচামিয়া

আমি সোফার এক কোনায় পায়ের উপর পা তুলে আরেকটু আরাম করে বসে গলা উঁচিয়ে বললাম, চাচামিয়া, শেখ মুজিবরে নিয়াও কিছু বলেন, ওনারে আপনের কেমুন মনে হয়?চাচা একটা গলা খাঁকারি দিলেন, তারপর প্রায় অদৃশ্য কোন একটা জায়গা থেকে একদম জুয়েল আইচের স্টাইলে একটা পান বের করলেন। তারপর শূন্যে সপাং সপাং খানিক্ষণ ঝেড়ে মুছে, পুরাই রজনীকান্ত স্টাইলে সেটা মুখে চালান করে দিলেন। পুরো পরিবেশটাই এমন সিনেমাময় যে, খানিকটা কান পাতলেই আমি ব্যাকগ্রাউন্ডে কোথাও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ধিড়িম ধিড়িম বাজনা শুনতে পাচ্ছিলাম।চাচামিয়ার গলা আরও কয়েকবার শব্দ করে উঠলো। আমি সোফায় পা বদলে বসলাম। আগ্রহে বেশ খানিকটা সামনে ঝুঁকে আছি, কি বলবেন শোনার অপেক্ষায়।যে বাড়িতে এসেছি, আমাদের পরিচিত এক বাংলাদেশীর বাড়ি সেটা, কিবরিয়া ভাই-র। সদ্য পুত্রসন্তানের পিতা হয়েছেন। এই আনন্দে কিবরিয়া ভাই আশপাশের অনেককেই নিমন্ত্রণ করেছেন। যাবো না যাবো না ভেবেও শেষমেষ হাজির হলাম। এমনিতেই অসামাজিক হিসেবে অনেক দুর্নাম কামিয়ে ফেলেছি। শুনেছি আড়ালে আবডালে আমার অহংবোধ নিয়ে বেশ নাকি কানাঘুঁষা চলে। সেসব প্রাচীর অবশ্য এক দু'বারের হাজিরায় লোপাট হবার কোন সম্ভাবনা নেই, তবু আসা।তো…