পোস্টগুলি

November, 2008 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ফেইসবুক বিড়ম্বনা

আমার বউ রোজ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মনোযোগ দিয়ে প্রথম যে কাজটা করে, সেটা হলো, ফেইসবুকের অজস্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ধরে ধরে গণহারে ইগনোর করে দেয়। ব্যাপারটা ওর জন্যে বেশ বিরক্তিকর, সন্দেহ নেই। আমার এসব জ্বালাতন নেই, তাই ওর দূর্ভোগ দেখে প্রায়শই মুখ টিপে হাসি। মাঝে মাঝে আমাকে ডেকে দেখায়, দুয়েকজন একদম প্রথম মেসেজেই বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়ে বসে, এইরকম দুয়েকটা মেসেজ দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে!

আমি অন্তত মুখ চেনা না হলে কাউকে রিকোয়েস্ট পাঠাই না। সচলায়তন আর সিসিবি-র অনেককেই ওখানে দেখিবা-মাত্রই যোগ করে নিয়েছি, কাউকে কাউকে খুঁজে নিয়েছি, কাউকে ঘুরতে ঘুরতেই পেয়ে গেছি। ।
দুয়েকজনকে অবশ্য আমিও ইগনোর করেছি। কিছু রিকোয়েস্ট আসে এমন, একেবারেই চিনি না, কোন ফ্রেন্ডও কমন নেই কারও সাথে। প্রোফাইলে ঢুকেও কোনভাবে মনে হলো না যে চিনি। তাদের কিছুদিন রেখে দিই, তারপরেও চেনার কোন সুত্র না পেলে আস্তে করে বিদায় জানিয়ে দিই।

এক ভদ্রলোককে আমি সব মিলিয়ে ইগনোর করেছি পাঁচবার।
ওনার সাথে আমার অবশ্য ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই, ব্লগমন্ডলের বেশ পরিচিত একজন। সমস্যা হলো, উনি নানাবিধ কারণে সচলায়তনে লিখতে পারেননি, এ কারনে সব খানে খুব বাজে ভ…

হাওয়াই মিঠাই ১২

তুমুল গরম নেমেছে এখানে। চোখের পাতায়, চামড়ায়, এমনকি চামড়া ভেদ করে একদম ভেতর পর্যন্ত অনুভুত হয় গরম। পুরো শীতকাল কাটিয়ে দিলাম ১৩/১৪-র আশপাশ দিয়ে। এখন দিন নেই রাত নেই- সারাক্ষণই ৩০!
গরম নেমেছে মাথায়, নেমেছে রাস্তায়, রাস্তার লোকেদের জামা কাপড়েও। মাথার চুল একদম ছোট করে ফেলবো ভাবছি, দিনের বেলা রাস্তায় আর বেরুবো না ভাবছি, রাস্তার মানুষদের দিকে, ও হরি, মেয়ে বলেই তাকাতে হবে? নাহ, আর তাকাবো না ভাবছি। পাপ হয়ে যাবার চান্স আছে বিস্তর।বর্ষার দিনে তবু মনে হয়, এমন দিনে তারে বলা যায়। এমন গরমে কারে কী বলি?
সবচে মজায় আছেন যিনি, তার নাম আকাশ। রোজ সক্কাল থেকে তিনি রঙিলা হয়ে ওঠেন, সারা দিনমান ধরে সাজেন গুঁজেন, সন্ধ্যায় তিনি টকটকা রূপসী! সেই কবে কখন কোন কৈশোরে, ইশকুলের সিঁড়িতে কারে দেখে যেন হৃদয় থেমে গেছিলো, আজকাল আকাশ দেখলেও তাই কেন হবে? একপাশে গোলাপী একপাশে কমলা, মাঝে শুধু নীল নীল নীল, আর কি ভীষণ দেমাকী!
কাজ শেষে, বিকেলে, ভুল করে ওপরে তাকিয়েছি তো গেছি, আমি আর নেই নেই নেই। মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! তাপ্পর, পক্ষীরাজ নিয়ে দেই ছুট। আবারো ছেলেবেলা, যেন স্কুল-ড্রেস পরা কোন কিশোরীর রিকশার পিছু নিয়েছি, বুকের ভেতর দ্রিম …

অণুগল্পঃ বনসাঁই

থোকা থোকা আগুন ভর্তি গাছটার নিচে মুখ অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে আছে সজীব। ছটফটে একটা ভঙ্গি ওর সারা দেহে, ঘড়ি দেখছে বারবার। শিলা আজ খুব বেশি দেরি করে ফেলছে- টিউশানীতে ঠিক সময়ে পৌঁছতে হলে সজীবের এক্ষুনি উচিৎ বাস ধরতে ছোটা। কিন্তু সে উপায় নেই। ক্লাস শেষ হবার পরে এইটুকুই যা সময়, এখন চলে গেলে আজ আর দেখা হবে না।

শুরুতে অবশ্য এত ঝামেলা পোহাতে হতো না। ক-ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে এক সাবজেক্টেই পড়ছিলো দু'জনে, একসাথে। পরে মাইগ্রেট করে বিষয় বদলে শিলা চলে যায় অন্য ডিপার্টমেন্টে। আর তারপর থেকেই সজীবের রোজকার এই নতুন রুটিন, প্রতিদিন ক্লাস শেষে দু'পলকের এই দেখা!

আজ সকালে ছুটতে ছুটতে ক্লাসে যাবার সময় অবশ্য শিলাকে দেখেছে একটুখানি, কমলা রঙের একটা স্বপ্ন-স্বপ্ন জামা পড়ে রিকশা থেকে নামছিলো। কথা হয় নি, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই যেন আজ ক্লাসের পুরোটা সময় ওর মাথা কমলা রঙে শুধু ডুবছিলো আর ভাসছিলো।

কার্জন হলের পাশ দিয়ে টুংটাং ঘন্টা বাজিয়ে ছুটে চলা রিকশাগুলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটছে যেন ওর ঘড়ির কাঁটা। অল্প খানিকটা বাতাস দিচ্ছে, সেই হাওয়ায় মাথার ওপর থেকে টুপ করে খসে পড়ে একটা কৃষ্ণচূড়া, সজীবের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে অভিমানী মেয়ের…

কপিরাইট বিষয়ে

ফ্রি ল্যান্স জার্নালিজমের উপরে লেখা একটা বই পড়তে গিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য জানলাম, মূলত কপিরাইট নিয়ে।
বাংলাদেশে কপিরাইটের ধারণাটা ঠিক কি ভাবে কাজ করে? ধারণা, কাজ করে বা এইরকম শব্দ ব্যবহারের কারণ আছে। আমি জানি এ সংক্রান্ত আইন কানুন আছে ঠিকই, কিন্তু সেসবের প্রয়োগ হয় বলে খুব একটা জানি না। কদিন আগে আনোয়ার সাদাত শিমুলের একটা পোস্টে পড়লাম, ফটোকপি বা অননুমোদিত প্রিন্ট করা যাবে না কোন কিছুর, কপিরাইট আইনের এটাই নাকি প্রাথমিক শর্ত।
আমি অবশ্য ঠিক এই লাইনে যাচ্ছি না। লেখকের দিক থেকে ভাবছি এবং পত্রিকার দিক থেকেও। মানে, ধরা যাক, একজন সাংবাদিক কোন একটা পত্রিকায় একটা লেখা ছাপালেন, তো ছাপানোর পরে ওই লেখাটার স্বত্ব কার হাতে? লেখকের কাছে, নাকি পত্রিকার কাছে?
বা, একবার একটা পত্রিকায় লেখা ছাপালে সেটা পরবর্তীতে অন্য পত্রিকায় ছাপানোর ব্যাপারটাকে কী বলা যায়? ভালো, না মন্দ? নৈতিক, নাকি অনৈতিক?জুন ওয়েন নামের এই ভদ্রমহিলা, যিনি একজন ফ্রি-ল্যান্স লেখক, এই বইটি লিখেছেন মূলত অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপটে। তিনি উঠতি সাংবাদিকদের নানান রকম টিপস দিয়েছেন বইটাতে। তার মধ্যে কয়েকটা পড়ে আমি বেশ চমকিত হয়েছি।
এ দেশে একটা লেখার স্বত্ব দ…