বুধবার, নভেম্বর ২৬, ২০০৮

ফেইসবুক বিড়ম্বনা

আমার বউ রোজ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মনোযোগ দিয়ে প্রথম যে কাজটা করে, সেটা হলো, ফেইসবুকের অজস্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ধরে ধরে গণহারে ইগনোর করে দেয়। ব্যাপারটা ওর জন্যে বেশ বিরক্তিকর, সন্দেহ নেই। আমার এসব জ্বালাতন নেই, তাই ওর দূর্ভোগ দেখে প্রায়শই মুখ টিপে হাসি। মাঝে মাঝে আমাকে ডেকে দেখায়, দুয়েকজন একদম প্রথম মেসেজেই বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়ে বসে, এইরকম দুয়েকটা মেসেজ দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে!

আমি অন্তত মুখ চেনা না হলে কাউকে রিকোয়েস্ট পাঠাই না। সচলায়তন আর সিসিবি-র অনেককেই ওখানে দেখিবা-মাত্রই যোগ করে নিয়েছি, কাউকে কাউকে খুঁজে নিয়েছি, কাউকে ঘুরতে ঘুরতেই পেয়ে গেছি। ।
দুয়েকজনকে অবশ্য আমিও ইগনোর করেছি। কিছু রিকোয়েস্ট আসে এমন, একেবারেই চিনি না, কোন ফ্রেন্ডও কমন নেই কারও সাথে। প্রোফাইলে ঢুকেও কোনভাবে মনে হলো না যে চিনি। তাদের কিছুদিন রেখে দিই, তারপরেও চেনার কোন সুত্র না পেলে আস্তে করে বিদায় জানিয়ে দিই।

এক ভদ্রলোককে আমি সব মিলিয়ে ইগনোর করেছি পাঁচবার।
ওনার সাথে আমার অবশ্য ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই, ব্লগমন্ডলের বেশ পরিচিত একজন। সমস্যা হলো, উনি নানাবিধ কারণে সচলায়তনে লিখতে পারেননি, এ কারনে সব খানে খুব বাজে ভাষায় সচলায়তনের বদনাম গেয়ে বেড়ান। শুধু তাই না, মডুদেরকে শাপশাপান্ত করতেও সবখানে অগ্রগামী ভূমিকা রাখেন। সচলায়তন, এই মুহুর্তে আমার কাছে, এ পার্ট অব মি, আদর যত্নে ভালবাসায় আমাদের চোখের সামনে বেড়ে উঠছে সচল, তো এই ভদ্রলোক কেমন করে আমার বন্ধু হবে? প্রথম রিকোয়েস্টটাই তাই ইগনোর করলাম, কদিন পরে আবার এলো, আবারও বিদায়, এরকম করে পাঁচবার!

উল্টোদিকে আমার নিজের ইগনোর খাওয়ার অভিজ্ঞতা দুটো। অবশ্য বেশিও হতে পারে। কারন, ব্যাপারটা টের পেয়েছি কালই প্রথম। এর আগে বুঝিনি, কারন, আমি কি জানি যে এমনকি একটা হাঁচি দিলেও নোটিফিকেশান পাঠায় যে ফেইসবুক, সে ইগনোর হবার মত গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশানকে জাস্ট ইগনোর করে!
যে দুজনেরটা টের পেয়েছি, তার প্রথমজন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় লেখক। আমি এমনিতে ওনার ভক্ত নই। এমনকি দুয়েকটা ব্লগে ওনার বেশ কিছু লেখা ও কাজের কড়া সমালোচনা করেছি, কিন্তু পুরনো কিছু ভাললাগা এখনো অবশিষ্ঠ থেকে যাওয়ায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। কাল টের পেলাম, সেটা একসেপ্টেড হয়নি। না হবার কারণ কি বুঝিনি, তবে উনি আমার মত একজন ছাপোষা ব্লগারের লেখা পড়ে রুষ্ট হয়েছেন, এমনটা ভাবছি না। তার কোন সম্ভাবনাই নেই, অত উপরের সারির লেখকদের পক্ষে আমাদের লেখা খুঁজে পাবার, পেলেও পড়বার, আর পড়লেও গুরুত্ব দেবার কোন কারণ নেই।

দ্বিতীয়জনের ব্যাপারটায় আমি খুবই লজ্জিত! তার পেছনে আবারও প্রথম ও প্রধান কারণ ঐ নোটিফিকেশান।
কোন একটা ব্লগে মুখ চেনা, ফেইসবুকে দেখে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি। তারপর ভুলেই গেছি। কদিন পরে আবার দেখি বন্ধু হিসেবে যোগ করার অপশানটা এখনো এক্টিভ। আমি বেকুব মানুষ, ভাবলাম ব্যাপার কি, কদিন আগেই না ওটায় ক্লিক করেছিলাম? আবার ক্লিক করলাম, এবং এবারেও বেমালুম ভুলে গেলাম! তারপর অনেকদিনের বাদে কাল আবার দেখি একই কাহিনি, সেই অপশান এখনো এক্টিভ, এবং এবারেই আমি টের পেলাম, বাছাধন, ইহাকেই বলে ইগনোর!
খুবই বিব্রত হলাম। ইগনোর বাটনে ক্লিক করার সময় বউয়ের বিরক্ত মুখটা মনে পড়লো, না বুঝে বোকার মতন আর কারও সেই একই বিরক্তির কারণ হয়েছি আমি, বুঝতে পেরে এখন সত্যিই খারাপ লাগছে।

অতঃপর মনে করার চেষ্টা করলাম আর কারও কাছ থেকে আমার ইগনোর জুটেছে কি না। খুঁজে পেতে এ দুটাই পেলাম। কিন্তু আমি নিশ্চিত আরও কিছু নিশ্চয়ই রয়ে গেছে, আমি ভুলে গেছি বা টের পাইনি।
যাকগে, জগতের সকল ইগনোরকারীদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, জেনে বা না জেনে যাদের বিরক্তির কারন হয়েছি, তাদের সবার কাছেই।
আপাতত, আমার মহা-বিব্রত মনটাকে লুকোনোর জায়গা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না! ধরণী দ্বিধা হও, প্লীজ!

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৩, ২০০৮

হাওয়াই মিঠাই ১২

তুমুল গরম নেমেছে এখানে। চোখের পাতায়, চামড়ায়, এমনকি চামড়া ভেদ করে একদম ভেতর পর্যন্ত অনুভুত হয় গরম। পুরো শীতকাল কাটিয়ে দিলাম ১৩/১৪-র আশপাশ দিয়ে। এখন দিন নেই রাত নেই- সারাক্ষণই ৩০!
গরম নেমেছে মাথায়, নেমেছে রাস্তায়, রাস্তার লোকেদের জামা কাপড়েও। মাথার চুল একদম ছোট করে ফেলবো ভাবছি, দিনের বেলা রাস্তায় আর বেরুবো না ভাবছি, রাস্তার মানুষদের দিকে, ও হরি, মেয়ে বলেই তাকাতে হবে? নাহ, আর তাকাবো না ভাবছি। পাপ হয়ে যাবার চান্স আছে বিস্তর।

বর্ষার দিনে তবু মনে হয়, এমন দিনে তারে বলা যায়। এমন গরমে কারে কী বলি?
সবচে মজায় আছেন যিনি, তার নাম আকাশ। রোজ সক্কাল থেকে তিনি রঙিলা হয়ে ওঠেন, সারা দিনমান ধরে সাজেন গুঁজেন, সন্ধ্যায় তিনি টকটকা রূপসী! সেই কবে কখন কোন কৈশোরে, ইশকুলের সিঁড়িতে কারে দেখে যেন হৃদয় থেমে গেছিলো, আজকাল আকাশ দেখলেও তাই কেন হবে? একপাশে গোলাপী একপাশে কমলা, মাঝে শুধু নীল নীল নীল, আর কি ভীষণ দেমাকী!
কাজ শেষে, বিকেলে, ভুল করে ওপরে তাকিয়েছি তো গেছি, আমি আর নেই নেই নেই। মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! তাপ্পর, পক্ষীরাজ নিয়ে দেই ছুট। আবারো ছেলেবেলা, যেন স্কুল-ড্রেস পরা কোন কিশোরীর রিকশার পিছু নিয়েছি, বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম দ্রিম। তেমন করেই পক্ষীরাজ ছোটাই, আজ আমি আকাশ ধরবোই ধরবো।
কিন্তু তিনি জোছনার ফুলের মতই মায়াময়, সন্ধে নেমে আসে, তবু ধরা দেন না। আমি দিক বদলে বাড়ি ফিরে আসি।
*

মিষ্টি আর খাবো না, মনে মনে পণ করেছি। কিন্তু তা রাখবার উপায় পাচ্ছি না। দোকান ঘুরে ঘুরে মিষ্টি চাখার অভ্যেস যাও বা যাই যাই, কিন্তু মিষ্টি খাওয়া কমেনি এক ফোঁটা।
সব দোষ আলমগীর ভাইয়ের। তিনি সচলে লিখেন বলেই না তার বাড়ি যাওয়া। তিনি ভাল গিটার বাজান বলেই না আসর জমিয়ে বসা সেখানে।
অথবা, সব দোষ ভাবীরও। ডেজার্টের উপরে পিএইচডি দেয় না এই দেশের সরকার, দিলে প্রথমটা নির্ঘাত ওনার কবলে চলে আসতো।
অথবা, সব দোষ অপনারও। নইলে আমার বউ কেন বলবে, চল, গিয়ে ওই পিচ্চিটাকে দেখে আসি আজ?
তো যাই আমরা। গীটার বাজে, ভাবী বাজান কী-বোর্ড, আমার বউ গান গায়। এত সব গুণীদের মাঝে আমরা দুই বেকুব শ্রোতা, আমি আর পিচ্চি অপনা, চুপচাপ শুনে যাই শুধু।
খেয়ে আসি, আসবার সময় ভাবী আবার বাক্সে ভরে দিয়ে দেন ফালুদা, রসগোল্লা। আমি চকচকে চোখে দেখি, আগামী দিন কুড়ির বন্দোবস্ত হয়ে যায় তাতে। মনে মনে ঠিক করে ফেলি, মিষ্টি শেষ হয়ে গেলে আবার হাজির হতে হবে এই বাড়িতে!

*

ধুমধাম মুভি দেখছি অনেক। দেখলাম ট্রেড। নারী পাচার নিয়ে সিনেমা, মেক্সিকান পটভূমিতে। গা শিরশির করে উঠলো দেখে। সিনেমার পর্দায় ভাইটা যখন কাঁদছিলো, ভাবছিলাম ভাগ্যিস, আমার কোন বোন নেই!
দেখলাম, ড্রাগন ওয়ার! একদমই ভুয়া! গ্রাফিক্সের কাজের কি দারুণ অপচয়। এত বাজে অভিনয়! এত বাজে কাহিনি!!
ডিভিডির কাভারে বড় করে লেখা, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এন্ডি ওয়েবস্টার লিখেছেন, ড্রাগন ওয়ার রকস! লিখেছেন, ইট ইস ইম্পসিবল নট টু বি এন্টারটেইন্ড।
এই নামটা ঝটপট মুখস্ত করে ফেললাম। এঁর ভাল বলা মুভি আর জীবনেও দেখা যাবে না!

বুধবার, নভেম্বর ১২, ২০০৮

অণুগল্পঃ বনসাঁই

থোকা থোকা আগুন ভর্তি গাছটার নিচে মুখ অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে আছে সজীব। ছটফটে একটা ভঙ্গি ওর সারা দেহে, ঘড়ি দেখছে বারবার। শিলা আজ খুব বেশি দেরি করে ফেলছে- টিউশানীতে ঠিক সময়ে পৌঁছতে হলে সজীবের এক্ষুনি উচিৎ বাস ধরতে ছোটা। কিন্তু সে উপায় নেই। ক্লাস শেষ হবার পরে এইটুকুই যা সময়, এখন চলে গেলে আজ আর দেখা হবে না।

শুরুতে অবশ্য এত ঝামেলা পোহাতে হতো না। ক-ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে এক সাবজেক্টেই পড়ছিলো দু'জনে, একসাথে। পরে মাইগ্রেট করে বিষয় বদলে শিলা চলে যায় অন্য ডিপার্টমেন্টে। আর তারপর থেকেই সজীবের রোজকার এই নতুন রুটিন, প্রতিদিন ক্লাস শেষে দু'পলকের এই দেখা!

আজ সকালে ছুটতে ছুটতে ক্লাসে যাবার সময় অবশ্য শিলাকে দেখেছে একটুখানি, কমলা রঙের একটা স্বপ্ন-স্বপ্ন জামা পড়ে রিকশা থেকে নামছিলো। কথা হয় নি, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই যেন আজ ক্লাসের পুরোটা সময় ওর মাথা কমলা রঙে শুধু ডুবছিলো আর ভাসছিলো।

কার্জন হলের পাশ দিয়ে টুংটাং ঘন্টা বাজিয়ে ছুটে চলা রিকশাগুলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটছে যেন ওর ঘড়ির কাঁটা। অল্প খানিকটা বাতাস দিচ্ছে, সেই হাওয়ায় মাথার ওপর থেকে টুপ করে খসে পড়ে একটা কৃষ্ণচূড়া, সজীবের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে অভিমানী মেয়ের মতন মুখ গুঁজে পড়ে সে মাটিতে। মাথা নীচু করে ফুলটা তুলতে যেতেই চোখের কোনা দিয়ে দেখতে পায় সজীব, শিলা আসছে।

কাঁধের ওপর বইয়ের ব্যাগ ঝোলানো, বাম হাতে ওটা ক্লাসেরই কোন বই হবে, আর ডান হাতে শাহেদের হাত ধরা মুঠি করে।
শাহেদ, বায়োকেমিস্ট্রির ভালো ছাত্র, ক্রিকেট খেলায় নির্বিচারে চার-ছয় মেরে যায়, বড় বড় হাতের আঙ্গুল চেপে খুব জোরে বলও করতে পারে। আকাশে বল উঠে গেলে নিরাপদে লুফে নেবার জন্যেও এরকম হাতেরই কদর আছে, সবসময়।

যেতে যেতে সজীবকে দেখতে পায় শিলা। দূর থেকে হাত নাড়ায়, ' কি রে, টিএসসি-তে যাবি? সিনেমা দেখাচ্ছে ফিল্ম সোসাইটি!'
মাথা নাড়ে সজীব, ' না রে, টিউশানী আছে, তোরা যা না, দ্যাখ গিয়ে'।

চলে যায় ওরা। ওদের রিকশাটা চোখের আড়ালে যেতেই জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসটা মুঠো করে ধরে ফেলে সজীব, কৃষ্ণচূড়া ফুলটার গায়ে আদর করে বুলিয়ে দেয় সেটুকু।
হাতের ইশারায় একটা রিকশা থামিয়ে তাতে চড়ে বসে সে, ভুরু কুঁচকে ভাবছে- আজ বোধহয় দেরি হয়েই যাবে ওর।

-----------
সচলায়তন অণুগল্প সংকলন "দিয়াশলাই"-এ প্রকাশিত।

শুক্রবার, নভেম্বর ০৭, ২০০৮

কপিরাইট বিষয়ে

ফ্রি ল্যান্স জার্নালিজমের উপরে লেখা একটা বই পড়তে গিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য জানলাম, মূলত কপিরাইট নিয়ে।
বাংলাদেশে কপিরাইটের ধারণাটা ঠিক কি ভাবে কাজ করে? ধারণা, কাজ করে বা এইরকম শব্দ ব্যবহারের কারণ আছে। আমি জানি এ সংক্রান্ত আইন কানুন আছে ঠিকই, কিন্তু সেসবের প্রয়োগ হয় বলে খুব একটা জানি না। কদিন আগে আনোয়ার সাদাত শিমুলের একটা পোস্টে পড়লাম, ফটোকপি বা অননুমোদিত প্রিন্ট করা যাবে না কোন কিছুর, কপিরাইট আইনের এটাই নাকি প্রাথমিক শর্ত।
আমি অবশ্য ঠিক এই লাইনে যাচ্ছি না। লেখকের দিক থেকে ভাবছি এবং পত্রিকার দিক থেকেও। মানে, ধরা যাক, একজন সাংবাদিক কোন একটা পত্রিকায় একটা লেখা ছাপালেন, তো ছাপানোর পরে ওই লেখাটার স্বত্ব কার হাতে? লেখকের কাছে, নাকি পত্রিকার কাছে?
বা, একবার একটা পত্রিকায় লেখা ছাপালে সেটা পরবর্তীতে অন্য পত্রিকায় ছাপানোর ব্যাপারটাকে কী বলা যায়? ভালো, না মন্দ? নৈতিক, নাকি অনৈতিক?

জুন ওয়েন নামের এই ভদ্রমহিলা, যিনি একজন ফ্রি-ল্যান্স লেখক, এই বইটি লিখেছেন মূলত অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপটে। তিনি উঠতি সাংবাদিকদের নানান রকম টিপস দিয়েছেন বইটাতে। তার মধ্যে কয়েকটা পড়ে আমি বেশ চমকিত হয়েছি।
এ দেশে একটা লেখার স্বত্ব দুভাবে বিক্রি হয়। লেখক বা সাংবাদিক সাধারণত কোন একটা পত্রিকায় লেখা বিক্রি করেন, তার মানে হলো, তিনি সেই পত্রিকাটিকে এই লেখাটি একবার ছাপানোর অনুমতি দিলেন। একবার ছাপানোর পরে লেখার ওপরে পত্রিকার আর কোন স্বত্ব থাকবে না, পুরোটাই চলে যাবে লেখকের কাছে।
জুনের অনেকগুলো পরামর্শের মধ্যে একটি হলো, একটা লেখাকে অনেক জায়গায় বিক্রি করো।
একটা পত্রিকায় লেখা গেলো, এবার অন্যদের কাছে সেটা পাঠাও, তবে অবশ্যই জানিয়ে দাও যে আগেও এটা একবার এখানে ছাপা হয়েছিল।
প্রয়োজনে নতুন করে ঘষামাজা করে লেখাটার ফরম্যাট বদলে অন্যদের কাছে বিক্রি করা যাবে। এই পর্যায়ে আরেকটা সাংঘাতিক পরামর্শ দেখলাম, যদি লেখাটি কোন সিজনাল বিষয়ের ওপরে হয়, যেমন ধরা যাক, ক্রিসমাস বা ইস্টার, তার মানে এই লেখার আবেদন প্রতি বছরই আছে। সুতরাং এই বছরে এই পত্রিকায় ছাপা হলে, পরের বছর লেখাটার উপরে আরেকবার কলম চালিয়ে প্রয়োজনে সেই একই পত্রিকায় আবার পাঠাও।

তবে কোন কোন পত্রিকা চায় যে লেখার পুরো স্বত্বটুকু কিনে নিতে। মানে, আর কোথাও ছাপা চলবে না, তাদের অনুমতি ছাড়া। এ ক্ষেত্রে জুনের পরামর্শ হলো, ভাল দাম পেলে ছেড়ে দাও।

এই ব্যাপারগুলো আমার কাছে বেশ নতুন ঠেকেছে। এমন নয় যে আগে থেকেই এই বিষয়ে আমার পূর্ণ ধারণা ছিলো, কিন্তু যতটুকু ছিলো, তার সাথে এদের কোন মিল নেই।
ভাবছি, বাংলাদেশের পত্রিকা আর সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো কীভাবে কাজ করে?