পোস্টগুলি

April, 2008 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

লেখাচুরির গল্প

তো, এটা আসলে আপনাতেই হয়ে যায়। পঞ্চাশটা ছেলে-পেলে একসাথে থাকলে, সবার দোষগুণ একদিকে ধায় না, একেকজনের প্রতিভা একেকদিকে স্ফূরিত হয়।
ব্যাতিক্রম কেবল আমি, মোটামুটি প্রতিভাহীন অবস্থাতেই আমি পুরো কলেজলাইফ কাটিয়ে দিয়েছি।

আমি খেলাধূলায় কখনোই ভাল না। রুম ক্রিকেট বা করিডোর ক্রিকেটে প্লেয়ার শর্ট পড়লে আমার ডাক পড়ে, আর তা না হলে আমার কোন গুরুত্বই নেই। আমিও অলস মানুষ, মাথা গুঁজে কোনমতে একটা বই শেষ করে কখন আরেকটা গল্পের বই ইস্যু করবো, সারাক্ষণ এই নিয়েই আছি।
ক্লাসে যারা ভাল খেলোয়াড়, সেভেনের থার্ড টার্ম পেরুবার আগেই তাই তারা সুপার-স্টার। কঠিন ভাব নিয়ে ঘোরাফেরা করে।

এই অপরিসীম ভাবের কিয়দংশ পরিমান অর্জন করতে আমাকে আমাদের ক্লাশের প্রথম দেয়াল পত্রিকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে! সারা বছরে শুধু এই দেয়ালপত্রিকা বা কলেজ ম্যাগাজিনের সময়টুকুতেই আমি খানিকটা আলগা-মুডে থাকতাম। স্যার প্রুফ দেখার কাজ দিতেন, আমি খুব ব্যস্ত ভঙ্গিতে সে সব কাজ করতাম। যত না করতাম, তার চেয়ে বেশি ভাব নিতাম। জুনিয়র ক্লাশে থাকতে একটা গল্প জমা দিলাম, কলেজ কালচারাল প্রিফেক্ট ছিলেন রহমান ভাই, উনি ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এইটা তুমি লিখছো? আমি হ্…

অসুখের দিনলিপি ( হাওয়াই মিঠাই ৭)

কদিন আগেই ঘাড়ের ব্যথায় কাতর হয়ে দু’দিন ধরে বাসায় শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছিলাম। অনেকদিন ছুটি নেয়া হচ্ছিলো না জগৎ-সংসার থেকে, মহামতি ঘাড়-ব্যথা আমাকে তাই বাধ্যতামূলক ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো, আর আমি বসে বসে পুরনো অসুখের দিনগুলোর কথা জাবর কাটছিলাম।

কলেজ-হোস্টেলে থাকবার সময় অসুখ বিসুখ বাধিয়ে ফেলাটা দস্তুরমতন সুখকর ছিলো। বেশ কয়েকদিনের জন্যে পিটি-প্যারেড-গেমস থেকে মুক্তি, এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? সেই সক্কাল ভোরে বিছানা-বালিশকে অনাগত বউয়ের মতই জড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করতো তখন, মনে-প্রাণে জপতে থাকতাম "এ বাঁধন যাবে না ছিঁড়ে," তবু হায় বেরসিক বাঁশীর ডাকে সেই ঘুম ভেঙে উঠে কলেজ মাঠে চক্কর লাগাতে হতো। যন্ত্রণার একশেষ!
ক্লাস সেভেনের শেষের দিকে পক্স বাঁধিয়ে একবার এইরকম লম্বা আরামে ছিলাম। আরেকবার দুনিয়ার সবার উপর বিরক্তিতে না খেয়ে খেয়ে হিমোগ্লোবিন কমিয়ে ফেলেছিলাম অনেক, শেষে ড্রাকুলা হয়ে ক্লাসমেটদের কাছ থেকে রক্ত খেয়ে বেঁচে গিয়েছিলাম। অনেকদিন তখন সিএমএইচে থাকতে হয়েছিলো, সেটাও একটা অভিজ্ঞতাই বটে, কিন্তু সে আলাপ পরে। আজ বলবো অন্য এক দিনের কথা।

কোন এক গরমের সকাল ছিলো সে দিন। ঘন্টা দেড়েকের দুর্বিষহ …

হাওয়াই মিঠাই ৫

ঢাকা মেডিক্যালের কোন একটা জনবহুল ওয়ার্ডে প্রায় মাসখানেক কাটিয়ে ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠে যেবারে বাসায় ফিরি, তারপরে অনেকদিন ডাক্তারের কাছে আর অসুখ নিয়ে আমাকে যেতে হয় নি।
গতকাল হলো, সম্ভবত বছর সাতেক বা তারও বেশি কিছু সময় বাদে।

অসুখ মানে সাংঘাতিক কিছু নয়। কাল দুপুরে মূল শহর থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে হঠাৎ দেখি ডানে-বামে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতে পারছি না। ঘুম থেকে উঠে মাঝে মাঝে এরকম বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার ঘটে, কিন্তু সে তো সাত সকালে! ভর দুপুরে হঠাৎ কোত্থেকে এই জিনিস উড়ে এসে জুড়ে বসলো আমার ঘাড়ে, মালুম করতে পারলাম না। সোজা রাস্তায় চোখ রেখে গাড়ি চালানোই নিয়ম, কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় ডানে-বামে তাকানোটাও কি ভীষন জরুরি, সেটা গতকালের আগে আর এত ভাল করে কখনো আমাকে বুঝতে হয় নি!

কোন মতে বাসায় ফিরে সিলিং-এর দিকে লম্বালম্বি তাকিয়ে ছোটখাটো একটা ঘুম দিলাম, সন্ধ্যায় ঘুম ভেঙ্গে দেখি ঘাড় আরো শক্ত হয়ে গেছে! চোখের মণি শুধু এদিক ওদিক করতে পারি, এত বড় মুন্ডুর আর কোন কিছুই নড়ছে না কোন দিকে। শুনেছি প্যাঁচা নাকি চোখের মণি নাড়াতে পারে না, এই জন্যে সৃষ্টিকর্তা তাকে অবিশ্বাস্যভাবে ২৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘাড় ঘুরাবার অনুমতি দিয়েছেন। আর বেচারা…