সোমবার, ডিসেম্বর ২২, ২০০৮

দু' বছর

রোজ সকালে আড়মোড়া ভেঙে ওই একটা সবুজ তোয়ালেতেই মুখ মুছি প্রতিদিন।
রোজ একই জুতা জামা গায়ে, সেই একই রাস্তা ধরে-
একই গন্তব্যে পৌঁছে যাই বারবার।

দুয়েকটা রঙীন ফানুস এসে মাঝে মাঝে,
খানিকটা রঙধনু ধার দিয়ে যায় হয়তো-
আমাদের দুজনের চোখের জল আজ,
মিলেমিশে মুখ লুকিয়ে হাসে।

এরকম অভ্যস্ততায় কতগুলো দিন কেটে গেলো!
একটাই জানলা দিয়ে রোজ, দুয়েকটা চড়ুই এসে পড়ে-
কী আশ্চর্য, আমরা দুজন একটি ঘরে থাকি!
অথবা আমাদের একমাত্র সুখের আজ ঠিক দুবছর।

প্রতিনিয়তই আমাদের নিঃশ্বাসের সুর মিলে যায়-
তবু দেখ, সেই তোর জন্যেই কোন গান
আজও লেখা হয়ে উঠলো না আমার।

====
Tomar Jonyo.mp3

---------

গানঃ অন্জন দত্ত, তোমার জ‌ন্যে, এল‌বাম- হ্যালো বাংলাদেশ।

রবিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০০৮

একটা রূপকথা

দেখি, আজ একটা গল্প বলি বরং।
এক বাড়ির বড় ছেলে নতুন বিয়ে করে খুব লক্ষীমন্ত একটা মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসলো। দুইজনে খুব ভাব-ভালবাসা, খুব মিল-ঝিল। নিজেদের মত করে সুখেদুখে দিন কাটায়।
বাড়ির বাকি লোকজনের আবার এটা পছন্দ হলো না। রূপকথার কূটনী বুড়িদের মত তাদের চোখ টাটাতে লাগলো এত সুখ দেখে। তারা নানান মিটিং-টিটিং করে একসাথে নানান রকম ফন্দি-ফিকির করতে লাগলো। বৌ-টার লক্ষীপনাকে বললো ন্যাকামী, লাগাল সেটা ছেলেটার কানে। কিন্তু ছেলে সেসবে কানই দিলো না, বউটাকে যে সে খুব ভালমতন চেনে। বাড়ীর সবার সব কূট-বুদ্ধি বিফলে গেলো।
এদিকে কদিন পরে, মেয়েটার শরীর খারাপ হলো। কী ব্যাপার কী ব্যাপার? ছেলে ডাক্তার-বদ্যি ডেকে আনলো। ও মা, জানা গেলো, সে তো ভারী সুখের খবর। মেয়ে যে মা হবে!
ছেলে আর বৌয়ের মনে কী খুশি! আনন্দে তারা ডুবে ডুবে যায়। কিন্তু বাড়ির লোকের আবারো চোখ টাটায়। তারা ঠিক করলো এতদিন যেমন তেমন, এইবারে আর ছাড়াছাড়ি নেই। ওদের যেহেতু কিছু করতে পারেনি, ওদের সন্তানেরই অনিষ্ট করবে তারা।
তো, দিন যায়, মাস যায়। নয় মাস বাদে মায়ের প্রসব ব্যাথা ওঠে, আতুঁড় ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে, অনেক যন্ত্রণা আর কষ্টের পরে মা-টা একটা ফুটফুটে চাঁদের মত মেয়ের জন্ম দিলো। সেই ফুটফুটে মুখ দেখে পাখীদেরও মন ভরে যায়, ফুলেদেরও হাসি খেলে যায়।
কিন্তু বাড়ীর লোকেদের তা সইবে কেন, তারা করলো কী, সেই ছোট্ট পরীর মতন বাবুটার একটা হাত ভেঙে দিলো। বাবুটা আকাশ কাঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। সেই কান্নায় মেঘেদেরও চোখ ভিজে যায়। কিন্তু সেই পিশাচদের মন ভেজে না। তারা এবার বাবুটার আরেকটা পা ভেঙে দেয় মট করে। আর কষ্টে যন্ত্রণায় বাবুটা চিৎকার করে ওঠে, সারা পৃথিবী নিস্তব্ধ হয়ে যায় সেই দুখে।
এমনি করে জন্মের সময়ই সেই পিশাচেরা ছোট্ট বাবুটাকে পঙ্গু করে দেয়, যেন বেঁচে গেলেও সে পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে না পারে সহজে।

আচ্ছা, আপনাদের কী মনে হয়? অনেকবছর পরে যখন ঐ পঙ্গু মেয়েটার সন্তানেরা সেইসব পিশাচদের পরিচয় জানবে, তখন তারা কী করবে?

*

আপনারা হয়তো জানেন না, নাকি জানেন?
আজ থেকে অনেকবছর আগে, এই দিনে, এই ১৪ ডিসেম্বরে, আমাদের মা, এই মাতৃভূমি, এই বাংলাদেশের জন্মের ঠিক আগমুহুর্তে, আমাদের মাকেও পঙ্গু করে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। যে সন্তানদের উপর ভরসা করে জন্মের পরে এই দেশটা মাথা তুলে দাঁড়াবার চেষ্টা করতে পারতো, সেই সন্তানদের, সেই শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিকদের তালিকা বানিয়ে বানিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো।

এই পঙ্গু মায়েরই সন্তান আমি। সেই পিশাচদের পরিচয়ও জানি। কিন্তু আমার আসলে কিছুই করার নেই। কেবল প্রতি বছর এই দিনটিতে ভীষণ মন খারাপ করে বসে থাকা ছাড়া।

সোমবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০০৮

কামরুল-বন্দনা

(হেডনোট, অথবা শিরঃটীকা- এই লেখার মূল উদ্দেশ্য দুইটি।
এক- বন্ধুদের ঢোল বাজাতে আমার ব্যাপক ভাল লাগে। সুযোগ পেলেই বাজাই।
দুই- খেয়াল করে দেখলাম, এই ব্লগের হার্টথ্রব কামরুল একাই আমাদের বন্ধুদের নিয়ে লিখছে। আমি ভাবলাম, আজ নাহয় আমিই কামরুলকে নিয়ে কিছু লিখি। )

আমরা সবাইই কুমিল্লার ছেলেপেলে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, পড়েছি সবাই জিলা স্কুলে। তারপরেও কামরুলের সাথে আমাদের পরিচয় হতে খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছিলো। কারণ সম্ভবত এই যে, সেভেনের পর থেকে আমাদের কলেজ আলাদা হয়ে গিয়েছিলো।
সম্ভবত নাইন বা টেনের কোন একটা সময়ে কোন এক টিউটরের বাসায় দরজায় দাঁড়িয়ে আমি চেঁচামেচি করছি, এইসময় ছোটখাটো সাইজের একটা ছেলে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কী রে, কেমন আছিস?
আমি চিনলাম না।
ঐ সময়টায় এরকম আমার প্রায়ই হতো যে রাস্তায় কারও সাথে দেখা হলো, আমার কুশল জিজ্ঞেস করছে, কেমনাছি, কীকর্ছি, নানান হাবিজাবি। প্রথম দিকে দুয়েকবার লোকজনের মনে দুঃখ দিয়ে ফেলতাম। পরে শুধরে নিয়েছি, কোনভাবেই আর টের পেতে দিতাম না যে আমি আসলে মানুষটাকে চিনতে পারছি না।
এবারও তাই করলাম। চিনতে না পেরে, দুপলক শুধু, তারপরেই একদম স্বাভাবিক স্বরে বললাম, এই তো ভাল আছি, তোর কী খবর?
কামরুল আমার দুই নম্বুরী মূহুর্তেই ধরে ফেললো, বললো, আমারে চিনস?
আমি পুরাই বেকুব। মাথা টাথা চুলকে স্বীকার করলাম যে আসলে চিনি নাই।
সেই থেকে শুরু।

আমাদের হু আ
———————–
হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে এখন অবশ্য অল্প কিছু মুশকিল আছে। ভদ্রলোকের জনপ্রিয়তা কদিন সাইন কার্ভ হয়ে ওঠা নামা করে এখন মোটামুটি নেগেটিভে চলে গেছে।
কিন্তু আমরা যে সময়টায় বইয়ে মুখ গুঁজে বড় হয়েছি, আমাদের সময়ের অনেকটা জুড়ে ছিলেন হুমায়ুন আহমেদ। আমাদের খুব প্রিয় মানুষ ছিলেন তিনি।
তো, আসলে, কামরুল ছিলো আমাদের হুমায়ুন আহমেদ।
হুমায়ুন মানেই যেমন ছিলো, দারুণ রসিক কেউ, বা অনাবিল বিনোদন। কামরুলও তাই।
সিলেট ক্যাডেট কলেজের অসম্ভব মজার গল্পগুলো আমার ধারণা সিলেটের পোলাপানের চেয়ে আমরা ভালো জানি। ছুটিতে বাসায় এলেই কুমিল্লা টাউন হলের শহীদ মিনার বা লাইব্রেরীর সিঁড়িতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা চলতো। আমি মোটেও গল্পবাজ কেউ নই। যে কোন আড্ডায়ই আমার মূল ভূমিকা মনোযোগী শ্রোতা। কিন্তু সেই আড্ডাগুলোয় দেখা যেত একা আমিই কেবল নই, বাদ বাকি সবাইও আমার মতই শ্রোতায় পরিণত হয়ে গেছে। আর আমাদের মধ্যে এক এবং অদ্বিতীয় বক্তা হলো কামরুল।

একটু দেরিতে পরিচয়ের কারণেই হয়তো কামরুল দ্রুতই শুরুর ঘাটতিটুকু ধুমধাম পুষিয়ে দিতে শুরু করলো। আমাদের কুমিল্লা পার্টির সকল আড্ডার মধ্যমণি হয়ে গেলো কামরুল।
ওর গল্পের ঢং পুরাই জাদুকরী। যে কোন কথাই এমন সুন্দর করে ব্যাটা বলে যে, মুগ্ধ হয়ে শুনতে হয় বসে বসে। জিহাদ, রায়হান বা আর সব পিচ্চিগুলার মনে আছে কিনা জানি না, সিসিবি-র একদম শুরুর দিকে আমরা হাতে গোণা কজন যখন এখানে লিখতাম, তখনও আমি ওদের বলেছি, কোন মতে যদি পারো, কামরুলকে ধরে নিয়ে আসো। দেখবা গল্প কারে বলে।
আর বলে দিতে হয় না, আমার ধারণা এখানের সবাইই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, আমার কথা হাড়ে হাড়ে ফলেছে।

আবার নচিকেতাও
—————–
সিসিবি-র আড্ডায় ব্যাটা গান গেয়েছে কি না জানি না। কামরুল কিন্তু মারাত্মক গান গায়। হুমায়ুনের সাথে সাথে ও আমাদের নচিকেতাও। পৌলমী বা শতাব্দী গান দুটো কামরুলের কাছেই প্রথম শোনা, ওর গলাতেই। আবার নীলাঞ্জনাকে যখন খোলা বারান্দায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়, কামরুলের গলায় সেটা শুনতেও অদ্ভুত ভাল লাগে।
অল্প বিস্তর কৃতজ্ঞতাও রয়ে গেছে ওর প্রতি।
শিমুল মুস্তাফার একটা অসাধারণ আবৃত্তি আছে, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। দেশে এবং প্রবাসে এমন অনেক দিন গেছে, যে বহু বহুবার রিপিট করে এই আবৃত্তি শুনেছি।
দুর্দান্ত এই আবৃত্তিটাও প্রথম শোনা হয় কামরুলের কল্যাণে।

পুকুর পাড়ের কামরুল
——————–
কামরুলের এই নামকরণের পেছনে একটা কারণ আছে।
ঢাবি-র প্রথম বর্ষে আমি তখন একুশে হলে থাকি। কামরুল শহীদুল্লায়। তো কার্জনে ক্লাশ শেষে অথবা ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে আমরা ফিজিক্সের কিছু পোলাপান প্রায় সারাক্ষণই শহীদুল্লাহ-র পুকুর পাড়ে বসে থাকি। আর ওখানে গেলেই আমার কমন রুটিন ছিলো কোন এক ফাঁকে চট করে উঠে কামরুলের রুমে গিয়ে ওর সাথে দেখা করে আসা।
ব্যাপারটা এতই নিয়মিত ছিলো যে, প্রায় অনেকদিনের বাদে কামরুলকে যখন আমার ফিজিক্সের বন্ধুদের সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিলাম, আমার তৎকালীন ছায়াসঙ্গিনী (পরবর্তীতে প্রেমিকা ও অতঃপর বউ) বলে উঠলো, আচ্ছা! এই তাহলে পুকুর পাড়ের কামরুল!!!

এখন নাকি ফারুকী
——————
কামরুল এখন নাটক বানায়। দুর্ভাগ্য এই যে কেবলই শুনেছি, দেখার কপাল হয়নি। লোকমুখে শুনি নাটকগুলো নাকি বেশ ভাল হয়। অনেকবার ব্যাটারে বলেছি দুয়েকটা ইউটিউবে দয়া আপলোড কর, একটু দেখি। না, শালা দেখায় না।
তো বানাক নাটক, ফারুকী হোক, দিনে দিনে জহির রায়হান হোক। সিনেমা বানাক দারুন দারুণ।
ওহ, সিনেমার কথা বলতেই মনে পড়ে গেলো।
কলেজের ছুটিগুলোয় কোন কোন দুপুরে আমরা সবাই কামরুলের বাসায় জড়ো হতাম। অনেকগুলা কারণ ছিলো তার, সবচেয়ে আসল কারণ, আমাদের সবার মধ্যে ওর ভিসিআরটাই সবচেয়ে নতুন ছিলো। আর, দৈবক্রমে দুপুরগুলোয় ওদের টিভিটাই খালি পাবার সম্ভাবনা ছিলো বেশি। বাকি আর কিছু বলতে হবে?

…..তারপর
———–
কামরুল এরকমই আমাদের কাছে। গল্পবাজ, সারাক্ষণ হাসি আনন্দে ভরে থাকা, এবং চারপাশের সবাইকে ভরিয়ে রাখা একটা মানুষ।
আমি জানি, জীবনের একটা অংশ বা স্মৃতির একটা টুকরো শুধু আমরা কুমিল্লার বন্ধুরা ওর সাথে শেয়ার করেছি। এর মধ্যেই কামরুল আমাদের হুআ, নচিকেতা, ফারুকী বা পুকুর পাড়ের কামরুল।
সত্যি কথা বলতে কী, এই লেখাটা লেখার জন্যে আমি আসলে যোগ্য ব্যাক্তি নই। সিলেটের বন্ধুরা কামরুলের আরও কাছের, আরও আপন। এবং কামরুলের মাহাত্ম আসলে সবচেয়ে ভাল বলতে পারবে ওরাই।

আমি আসলে ঢোলে একটা বাড়ি দিয়ে গেলাম। বাকীরা এসে বাজাতে থাকুক এইবার, আমি দেখি।

রবিবার, ডিসেম্বর ০৭, ২০০৮

চাচামিয়া

আমি সোফার এক কোনায় পায়ের উপর পা তুলে আরেকটু আরাম করে বসে গলা উঁচিয়ে বললাম, চাচামিয়া, শেখ মুজিবরে নিয়াও কিছু বলেন, ওনারে আপনের কেমুন মনে হয়?

চাচা একটা গলা খাঁকারি দিলেন, তারপর প্রায় অদৃশ্য কোন একটা জায়গা থেকে একদম জুয়েল আইচের স্টাইলে একটা পান বের করলেন। তারপর শূন্যে সপাং সপাং খানিক্ষণ ঝেড়ে মুছে, পুরাই রজনীকান্ত স্টাইলে সেটা মুখে চালান করে দিলেন। পুরো পরিবেশটাই এমন সিনেমাময় যে, খানিকটা কান পাতলেই আমি ব্যাকগ্রাউন্ডে কোথাও দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ধিড়িম ধিড়িম বাজনা শুনতে পাচ্ছিলাম।

চাচামিয়ার গলা আরও কয়েকবার শব্দ করে উঠলো। আমি সোফায় পা বদলে বসলাম। আগ্রহে বেশ খানিকটা সামনে ঝুঁকে আছি, কি বলবেন শোনার অপেক্ষায়।

যে বাড়িতে এসেছি, আমাদের পরিচিত এক বাংলাদেশীর বাড়ি সেটা, কিবরিয়া ভাই-র। সদ্য পুত্রসন্তানের পিতা হয়েছেন। এই আনন্দে কিবরিয়া ভাই আশপাশের অনেককেই নিমন্ত্রণ করেছেন। যাবো না যাবো না ভেবেও শেষমেষ হাজির হলাম। এমনিতেই অসামাজিক হিসেবে অনেক দুর্নাম কামিয়ে ফেলেছি। শুনেছি আড়ালে আবডালে আমার অহংবোধ নিয়ে বেশ নাকি কানাঘুঁষা চলে। সেসব প্রাচীর অবশ্য এক দু'বারের হাজিরায় লোপাট হবার কোন সম্ভাবনা নেই, তবু আসা।

তো আসা ইস্তক একটু বেকায়দায় আছি। এই বাড়িটা একটু আজিব কিসিমের মনে হলো। বসবার ঘর আর তার ঠিক পাশের ঘরটার ঠিক মাঝবরাবর একটা পর্দা টানা। কিবরিয়া ভাবী পর্দানশীন বলে জানি। কিন্তু আসা মাত্রই আমার বউ ঐ পর্দার আড়ালে চট করে হারিয়ে গেলো, তার আর দেখা পাচ্ছি না। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা পাশাপাশি দুই রুমে বসেও এসএমএস চালাচালি করি, আজ চাচামিয়ার কথার তোড়ে সেটাও হচ্ছে না।
বসার ঘুরে ঢুকেই সামনে প্রমাণ আকৃতির একটা বুকশেল্ফ দেখে মনে ভরে গিয়েছিলো। কাছে যাবার উপায় নেই, দুর থেকে সেখানে জরির কাজ ওয়ালা কিছু বইয়ের ঝিলিক দেখতে পাচ্ছিলাম। লোকেদের ভিড় টিড় এড়িয়ে এক ফাঁকে কাছে গিয়ে দেখি, আঠারো খন্ড মওদুদী সমগ্র সেগুলো। মুখটা বিস্বাদ হয়ে গেলো সাথে সাথেই, এ তো একেবারে ডেরায় এসে পড়লাম দেখি! দুইবার চেয়ে নিয়ে পানি খেয়েছি, মুখের তেতো ভাব কমেনি তাতে একটুও, পানিতে কিছু মেশানো ছিলো কি না বসে বসে তাই ভাবছি।

তার মাঝে দেখা পেলাম এই চাচামিয়ার। ইনি কিবরিয়া ভাইয়ের বাবা। দেশ থেকে সদ্যই এসেছেন নাতিকে দেখতে, সাথে চাচীও আছেন। খানিক এদিক ওদিক তাকিয়ে আর কাউকে চেনা-জানা পেলাম না। তাই শেষমেষ কি বুঝে চাচামিয়ার ঘাড়েই চাপলাম।

আলাপ চালাতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো অবশ্য। উনি কানে বেশ খাটো। গলা চড়িয়ে চড়িয়ে কথা বলতে হয়। দুয়েকটা শব্দ দুম করে চেঁচিয়ে হয়তো বলে ফেলা যায়। কিন্তু পুরো একটা বাক্য এরকম উঁচু স্কেলে শেষ করে আনাটা বেশ কসরতের কাজ। আমি গান টান গাই না, গলাও সাধি না, তাই বিপাকে পড়েছি।

চাচামিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম, বৈদেশ কেমন লাগে চাচা?
সেই শুরু। চাচা এইবার ঠিক উপস্থিত বক্তৃতার বক্তার মত অদৃশ্য একটা মাইক্রোফোন ঠিক করে নিলেন। আমি খেয়াল করে দেখলাম, তাঁর সবকিছুতেই বেশ একটা স্টাইল আছে। লুংগি পড়া থেকে গলায় মাফলার জড়ানো বা কোন কথা বলার আগে মাথা পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রী বাঁকিয়ে খানিকটা ধ্যান করে নেয়া, সবকিছু মিলিয়ে বেশ একটা বলিউড বলিউড ভাব। তিনি হড়বড় করে বললেন, এই দেশটা বাবা বেশ ভাল। ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব আছে চারিদিকে। জন-মানু(ষ) কম, তাই বেশ আরাম লাগে। বাংলাদেশের মত ভিড় ভাট্টা নাই। দেশে যেরকম উঁচা উঁচা বিল্টিং, আর অনেক অনেক মানু, এইরকম তো এইখানে না, বোঝলেন না?
আমি বুঝলাম।
কানের ব্যাপারটা শুরুতে ধরতে পারিনি। চাচাকে পান সাজিয়ে দিতে এসে চাচী-ই হঠাৎ করে বললেন, বাবাজী, কালা মানুষ, একটু জোরে বলো ওনারে।
এইরকম অবলীলায় কাউকে কালা ডাকতে শুনিনি আগে, আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম।

কেমন করে কানের এই সমস্যা, এই নিয়েও উনি না জিজ্ঞেস করতেই বলে দিলেন। এই ঘটনা বেশ ইন্টারেস্টিং। তখন যুদ্ধের সময়। চাচামিয়ার বাড়ি সীমান্তের পাশেই কোথাও। কোন এক সকালে উনি খেজুর গাছে উঠেছিলেন রসের হাঁড়ি বদল করতে। হঠাৎ ভারত থেকে উড়ে এলো এক বিমান। একেবারে ভোমরা-ঘুড়ির মতন শব্দ করে। মাথার একদম বিশ হাত উপর দিয়ে চলে গেলো সেই বিশ হাত লম্বা বিমান। আর সেই বিমানের শব্দে চাচামিয়ার কানে তালা লেগে গেলো, সেটা আজও খুলে নাই।

আমার বেশ খারাপ লাগলো শুনে। যুদ্ধের কথা জিজ্ঞেস করলাম, চাচামিয়া, কিছু "ইয়াদ" আছে আপনার?
এইবার মনে হয় চাচামিয়ারে গল্পের মুডে পেলো। "তা আছে না আবার?" বলে শুরু করতেই থেমে যেতে হলো। নতুন মানুষ এলেন। তাদের সাথে সালাম বিনিময় হলো। চাচামিয়া নতুন গল্পে মজে গেলেন।
হুট করে নির্বাচন প্রসংগ এলো। বললাম, চাচা, কি মনে হয়, কে যাবে এইবার?
চাচা একবার চোখ বুজে কি যেন ভাবলেন, সম্ভবত বক্তব্য গুছিয়ে আনলেন একটু। তারপর হঠাৎ করে বললেন, জিয়ার ছেলেরাতো ভাল না বাবাজী। জিয়ার কথা চিন্তা করেন, উনি মারা গেলেন। ওনার বাম পকেটে পাওয়া গেলো তিন টাকা, ডান পকেটে পাওয়া গেলো কুরান শরীফ...। কিন্তু তাঁর ছেলেরা...।
আমার পেটে একটু মোচড় লাগে। এই ব্যাপারগুলা কোন বাংলাদেশের ইতিহাস বা কোন জিয়াউর রহমানের কথা ইনি বলছেন ঠিক ধরতে পারলাম না। তবে, বুঝতে পারছিলাম, উনার পাল্লা শেষমেষ দাঁড়িপাল্লার দিকে টানবে।

এর মাঝে দুয়েকবার মাঝের পর্দা কেঁপে ওঠে। আমি চাচামিয়ার তীব্র দৃষ্টি এড়িয়ে তার ফাঁকে ফোকরে উঁকি মারি, যদি আমার বউটারে এক নজর দেখতে পাওয়া যায়।
তার খানিক পরেই কোন একজন ভাবী বেরিয়ে আসেন, মাত্রই অফিস থেকে ফিরেছেন তিনি বোঝা গেলো, কাজের পোশাক পরনে। এইভাবেই নতুন বাবু দেখতে চলে এসেছেন। চাচামিয়ার কাছ থেকে বিদায় নিতে আসলেন, চাচামিয়া চশমাটা হাতে নিয়ে কাঁচ দুটো একটু মুছলেন। তার অবিকল সিনেমার জাজদের মত গম্ভীর গলায় বললেন, মা জননী, আমরা মুসলমানের জাত, আমাদের কাপড় চোপরে যদি সেইটার ছাপ না থাকে কেমুন হয় বলেন? আপনে কিছু মনে নিয়েন না, আমি বুড়া মানু, আপনার ভাল-র জন্যেই বলছি, একটু ঢোলাঢালা কাপড় পরবেন।
ভাবী প্রায় মাটির সাথে মিশে গেলেন। আমি বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার মত করে বেকুব হয়ে বসে রইলাম। ভাবী মাথা নেড়ে খুব দ্রুত বিদায় নিলেন। চাচামিয়ার নজরের জোর দেখে আমি চমৎকৃত হবো কি না বুঝলাম না!

আমি তখুনি, সোফায় পা বদলে বউয়ের জন্যে অপেক্ষার সময়টা কাটিয়ে দিতে বললাম, চাচামিয়া, শেখ মুজিবের কথা বলেন, উনারে আপনের কেমুন মনে হয়?

চাচামিয়া এইবার সাধু-সন্ন্যাসীদের মতন পাক্কা বিশ সেকেন্ড চুপ থাকেন। তারপরে বলেন, তার আগে একটা গল্প বলি বাবাজী। ফেরাউন আর তার বন্ধু গেছে এক রাজ্যে ঘুরতে, গিয়া দ্যাখে, সেইখানে সব জিনিসের দাম এক টাকা। কলার দামও এক, কাঁঠালের দামও এক। আবার ইলিশ মাছের দামও এক, কৈ মাছের দামও এক টাকা....।
আমি আবারও মাথা চুলকালাম। এইটা ফেরাউনের গল্প কেমনে হইলো? এটাতো আমাদের জসীমউদ্দীনের সেই "মুড়ি মুড়কির এক দর" এর গল্প। এই গল্পের ফেরাউন ভার্সন তো শুনি নাই।
চাচামিয়া ততক্ষণে বলে চলেছেন, তা বোঝলেন বাবাজী, তো মুজিব হইলো গিয়া ধরেন এই ফেরাউনের মতন...।

আমার তক্ষুনি একটা গায়েবী ফোন এলো। খুব জরুরী দরকারী ফোন। রিংটোনের বাজনা ছাড়াই আমি সেই ফোন ধরে অন্যপ্রান্তের কারও সাথে ব্যস্ত হয়ে কথা বললাম। তারপর অতি দ্রুত সেই পুলসিরাতের মতন কাঁপতে থাকা পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে বেশ কবার হাঁকাহাঁকি করে আমার বউকে বের করে আনলাম। ওর হাত ধরে কানে কানে ফিসফিস করে বললাম, চল, ভাগি।
বউ অবাক, হলো কী?
সিঁড়ি বেয়ে ছুটে নামতে নামতে আমি হাঁপানো গলায় বললাম, তেমন কিছু না, এই মাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসকে নতুন করে লেখা হবার হাত থেকে বাঁচালাম!

----------------
জনগুরুত্বপূর্ণ ডিসক্লেইমারঃ উপরে যাহা পড়িলেন, তার পুরোটাই চাপাবাজি। জীবিত বা প্রাক্তন-জীবিত কাহারো সাথে উক্ত ঘটনার কোনই মিল নাই। কেহ মিল খুঁজিয়া পাইলে, তাহা নিছকই কাকতাল বলিয়া জানিবেন।

বুধবার, নভেম্বর ২৬, ২০০৮

ফেইসবুক বিড়ম্বনা

আমার বউ রোজ সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মনোযোগ দিয়ে প্রথম যে কাজটা করে, সেটা হলো, ফেইসবুকের অজস্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ধরে ধরে গণহারে ইগনোর করে দেয়। ব্যাপারটা ওর জন্যে বেশ বিরক্তিকর, সন্দেহ নেই। আমার এসব জ্বালাতন নেই, তাই ওর দূর্ভোগ দেখে প্রায়শই মুখ টিপে হাসি। মাঝে মাঝে আমাকে ডেকে দেখায়, দুয়েকজন একদম প্রথম মেসেজেই বিয়ের প্রস্তাব পর্যন্ত দিয়ে বসে, এইরকম দুয়েকটা মেসেজ দেখে আমার চোখ কপালে উঠে গেছে!

আমি অন্তত মুখ চেনা না হলে কাউকে রিকোয়েস্ট পাঠাই না। সচলায়তন আর সিসিবি-র অনেককেই ওখানে দেখিবা-মাত্রই যোগ করে নিয়েছি, কাউকে কাউকে খুঁজে নিয়েছি, কাউকে ঘুরতে ঘুরতেই পেয়ে গেছি। ।
দুয়েকজনকে অবশ্য আমিও ইগনোর করেছি। কিছু রিকোয়েস্ট আসে এমন, একেবারেই চিনি না, কোন ফ্রেন্ডও কমন নেই কারও সাথে। প্রোফাইলে ঢুকেও কোনভাবে মনে হলো না যে চিনি। তাদের কিছুদিন রেখে দিই, তারপরেও চেনার কোন সুত্র না পেলে আস্তে করে বিদায় জানিয়ে দিই।

এক ভদ্রলোককে আমি সব মিলিয়ে ইগনোর করেছি পাঁচবার।
ওনার সাথে আমার অবশ্য ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই, ব্লগমন্ডলের বেশ পরিচিত একজন। সমস্যা হলো, উনি নানাবিধ কারণে সচলায়তনে লিখতে পারেননি, এ কারনে সব খানে খুব বাজে ভাষায় সচলায়তনের বদনাম গেয়ে বেড়ান। শুধু তাই না, মডুদেরকে শাপশাপান্ত করতেও সবখানে অগ্রগামী ভূমিকা রাখেন। সচলায়তন, এই মুহুর্তে আমার কাছে, এ পার্ট অব মি, আদর যত্নে ভালবাসায় আমাদের চোখের সামনে বেড়ে উঠছে সচল, তো এই ভদ্রলোক কেমন করে আমার বন্ধু হবে? প্রথম রিকোয়েস্টটাই তাই ইগনোর করলাম, কদিন পরে আবার এলো, আবারও বিদায়, এরকম করে পাঁচবার!

উল্টোদিকে আমার নিজের ইগনোর খাওয়ার অভিজ্ঞতা দুটো। অবশ্য বেশিও হতে পারে। কারন, ব্যাপারটা টের পেয়েছি কালই প্রথম। এর আগে বুঝিনি, কারন, আমি কি জানি যে এমনকি একটা হাঁচি দিলেও নোটিফিকেশান পাঠায় যে ফেইসবুক, সে ইগনোর হবার মত গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশানকে জাস্ট ইগনোর করে!
যে দুজনেরটা টের পেয়েছি, তার প্রথমজন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় লেখক। আমি এমনিতে ওনার ভক্ত নই। এমনকি দুয়েকটা ব্লগে ওনার বেশ কিছু লেখা ও কাজের কড়া সমালোচনা করেছি, কিন্তু পুরনো কিছু ভাললাগা এখনো অবশিষ্ঠ থেকে যাওয়ায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম। কাল টের পেলাম, সেটা একসেপ্টেড হয়নি। না হবার কারণ কি বুঝিনি, তবে উনি আমার মত একজন ছাপোষা ব্লগারের লেখা পড়ে রুষ্ট হয়েছেন, এমনটা ভাবছি না। তার কোন সম্ভাবনাই নেই, অত উপরের সারির লেখকদের পক্ষে আমাদের লেখা খুঁজে পাবার, পেলেও পড়বার, আর পড়লেও গুরুত্ব দেবার কোন কারণ নেই।

দ্বিতীয়জনের ব্যাপারটায় আমি খুবই লজ্জিত! তার পেছনে আবারও প্রথম ও প্রধান কারণ ঐ নোটিফিকেশান।
কোন একটা ব্লগে মুখ চেনা, ফেইসবুকে দেখে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি। তারপর ভুলেই গেছি। কদিন পরে আবার দেখি বন্ধু হিসেবে যোগ করার অপশানটা এখনো এক্টিভ। আমি বেকুব মানুষ, ভাবলাম ব্যাপার কি, কদিন আগেই না ওটায় ক্লিক করেছিলাম? আবার ক্লিক করলাম, এবং এবারেও বেমালুম ভুলে গেলাম! তারপর অনেকদিনের বাদে কাল আবার দেখি একই কাহিনি, সেই অপশান এখনো এক্টিভ, এবং এবারেই আমি টের পেলাম, বাছাধন, ইহাকেই বলে ইগনোর!
খুবই বিব্রত হলাম। ইগনোর বাটনে ক্লিক করার সময় বউয়ের বিরক্ত মুখটা মনে পড়লো, না বুঝে বোকার মতন আর কারও সেই একই বিরক্তির কারণ হয়েছি আমি, বুঝতে পেরে এখন সত্যিই খারাপ লাগছে।

অতঃপর মনে করার চেষ্টা করলাম আর কারও কাছ থেকে আমার ইগনোর জুটেছে কি না। খুঁজে পেতে এ দুটাই পেলাম। কিন্তু আমি নিশ্চিত আরও কিছু নিশ্চয়ই রয়ে গেছে, আমি ভুলে গেছি বা টের পাইনি।
যাকগে, জগতের সকল ইগনোরকারীদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, জেনে বা না জেনে যাদের বিরক্তির কারন হয়েছি, তাদের সবার কাছেই।
আপাতত, আমার মহা-বিব্রত মনটাকে লুকোনোর জায়গা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না! ধরণী দ্বিধা হও, প্লীজ!

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৩, ২০০৮

হাওয়াই মিঠাই ১২

তুমুল গরম নেমেছে এখানে। চোখের পাতায়, চামড়ায়, এমনকি চামড়া ভেদ করে একদম ভেতর পর্যন্ত অনুভুত হয় গরম। পুরো শীতকাল কাটিয়ে দিলাম ১৩/১৪-র আশপাশ দিয়ে। এখন দিন নেই রাত নেই- সারাক্ষণই ৩০!
গরম নেমেছে মাথায়, নেমেছে রাস্তায়, রাস্তার লোকেদের জামা কাপড়েও। মাথার চুল একদম ছোট করে ফেলবো ভাবছি, দিনের বেলা রাস্তায় আর বেরুবো না ভাবছি, রাস্তার মানুষদের দিকে, ও হরি, মেয়ে বলেই তাকাতে হবে? নাহ, আর তাকাবো না ভাবছি। পাপ হয়ে যাবার চান্স আছে বিস্তর।

বর্ষার দিনে তবু মনে হয়, এমন দিনে তারে বলা যায়। এমন গরমে কারে কী বলি?
সবচে মজায় আছেন যিনি, তার নাম আকাশ। রোজ সক্কাল থেকে তিনি রঙিলা হয়ে ওঠেন, সারা দিনমান ধরে সাজেন গুঁজেন, সন্ধ্যায় তিনি টকটকা রূপসী! সেই কবে কখন কোন কৈশোরে, ইশকুলের সিঁড়িতে কারে দেখে যেন হৃদয় থেমে গেছিলো, আজকাল আকাশ দেখলেও তাই কেন হবে? একপাশে গোলাপী একপাশে কমলা, মাঝে শুধু নীল নীল নীল, আর কি ভীষণ দেমাকী!
কাজ শেষে, বিকেলে, ভুল করে ওপরে তাকিয়েছি তো গেছি, আমি আর নেই নেই নেই। মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! তাপ্পর, পক্ষীরাজ নিয়ে দেই ছুট। আবারো ছেলেবেলা, যেন স্কুল-ড্রেস পরা কোন কিশোরীর রিকশার পিছু নিয়েছি, বুকের ভেতর দ্রিম দ্রিম দ্রিম। তেমন করেই পক্ষীরাজ ছোটাই, আজ আমি আকাশ ধরবোই ধরবো।
কিন্তু তিনি জোছনার ফুলের মতই মায়াময়, সন্ধে নেমে আসে, তবু ধরা দেন না। আমি দিক বদলে বাড়ি ফিরে আসি।
*

মিষ্টি আর খাবো না, মনে মনে পণ করেছি। কিন্তু তা রাখবার উপায় পাচ্ছি না। দোকান ঘুরে ঘুরে মিষ্টি চাখার অভ্যেস যাও বা যাই যাই, কিন্তু মিষ্টি খাওয়া কমেনি এক ফোঁটা।
সব দোষ আলমগীর ভাইয়ের। তিনি সচলে লিখেন বলেই না তার বাড়ি যাওয়া। তিনি ভাল গিটার বাজান বলেই না আসর জমিয়ে বসা সেখানে।
অথবা, সব দোষ ভাবীরও। ডেজার্টের উপরে পিএইচডি দেয় না এই দেশের সরকার, দিলে প্রথমটা নির্ঘাত ওনার কবলে চলে আসতো।
অথবা, সব দোষ অপনারও। নইলে আমার বউ কেন বলবে, চল, গিয়ে ওই পিচ্চিটাকে দেখে আসি আজ?
তো যাই আমরা। গীটার বাজে, ভাবী বাজান কী-বোর্ড, আমার বউ গান গায়। এত সব গুণীদের মাঝে আমরা দুই বেকুব শ্রোতা, আমি আর পিচ্চি অপনা, চুপচাপ শুনে যাই শুধু।
খেয়ে আসি, আসবার সময় ভাবী আবার বাক্সে ভরে দিয়ে দেন ফালুদা, রসগোল্লা। আমি চকচকে চোখে দেখি, আগামী দিন কুড়ির বন্দোবস্ত হয়ে যায় তাতে। মনে মনে ঠিক করে ফেলি, মিষ্টি শেষ হয়ে গেলে আবার হাজির হতে হবে এই বাড়িতে!

*

ধুমধাম মুভি দেখছি অনেক। দেখলাম ট্রেড। নারী পাচার নিয়ে সিনেমা, মেক্সিকান পটভূমিতে। গা শিরশির করে উঠলো দেখে। সিনেমার পর্দায় ভাইটা যখন কাঁদছিলো, ভাবছিলাম ভাগ্যিস, আমার কোন বোন নেই!
দেখলাম, ড্রাগন ওয়ার! একদমই ভুয়া! গ্রাফিক্সের কাজের কি দারুণ অপচয়। এত বাজে অভিনয়! এত বাজে কাহিনি!!
ডিভিডির কাভারে বড় করে লেখা, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এন্ডি ওয়েবস্টার লিখেছেন, ড্রাগন ওয়ার রকস! লিখেছেন, ইট ইস ইম্পসিবল নট টু বি এন্টারটেইন্ড।
এই নামটা ঝটপট মুখস্ত করে ফেললাম। এঁর ভাল বলা মুভি আর জীবনেও দেখা যাবে না!

বুধবার, নভেম্বর ১২, ২০০৮

অণুগল্পঃ বনসাঁই

থোকা থোকা আগুন ভর্তি গাছটার নিচে মুখ অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে আছে সজীব। ছটফটে একটা ভঙ্গি ওর সারা দেহে, ঘড়ি দেখছে বারবার। শিলা আজ খুব বেশি দেরি করে ফেলছে- টিউশানীতে ঠিক সময়ে পৌঁছতে হলে সজীবের এক্ষুনি উচিৎ বাস ধরতে ছোটা। কিন্তু সে উপায় নেই। ক্লাস শেষ হবার পরে এইটুকুই যা সময়, এখন চলে গেলে আজ আর দেখা হবে না।

শুরুতে অবশ্য এত ঝামেলা পোহাতে হতো না। ক-ইউনিটে পরীক্ষা দিয়ে এক সাবজেক্টেই পড়ছিলো দু'জনে, একসাথে। পরে মাইগ্রেট করে বিষয় বদলে শিলা চলে যায় অন্য ডিপার্টমেন্টে। আর তারপর থেকেই সজীবের রোজকার এই নতুন রুটিন, প্রতিদিন ক্লাস শেষে দু'পলকের এই দেখা!

আজ সকালে ছুটতে ছুটতে ক্লাসে যাবার সময় অবশ্য শিলাকে দেখেছে একটুখানি, কমলা রঙের একটা স্বপ্ন-স্বপ্ন জামা পড়ে রিকশা থেকে নামছিলো। কথা হয় নি, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই যেন আজ ক্লাসের পুরোটা সময় ওর মাথা কমলা রঙে শুধু ডুবছিলো আর ভাসছিলো।

কার্জন হলের পাশ দিয়ে টুংটাং ঘন্টা বাজিয়ে ছুটে চলা রিকশাগুলোর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটছে যেন ওর ঘড়ির কাঁটা। অল্প খানিকটা বাতাস দিচ্ছে, সেই হাওয়ায় মাথার ওপর থেকে টুপ করে খসে পড়ে একটা কৃষ্ণচূড়া, সজীবের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে অভিমানী মেয়ের মতন মুখ গুঁজে পড়ে সে মাটিতে। মাথা নীচু করে ফুলটা তুলতে যেতেই চোখের কোনা দিয়ে দেখতে পায় সজীব, শিলা আসছে।

কাঁধের ওপর বইয়ের ব্যাগ ঝোলানো, বাম হাতে ওটা ক্লাসেরই কোন বই হবে, আর ডান হাতে শাহেদের হাত ধরা মুঠি করে।
শাহেদ, বায়োকেমিস্ট্রির ভালো ছাত্র, ক্রিকেট খেলায় নির্বিচারে চার-ছয় মেরে যায়, বড় বড় হাতের আঙ্গুল চেপে খুব জোরে বলও করতে পারে। আকাশে বল উঠে গেলে নিরাপদে লুফে নেবার জন্যেও এরকম হাতেরই কদর আছে, সবসময়।

যেতে যেতে সজীবকে দেখতে পায় শিলা। দূর থেকে হাত নাড়ায়, ' কি রে, টিএসসি-তে যাবি? সিনেমা দেখাচ্ছে ফিল্ম সোসাইটি!'
মাথা নাড়ে সজীব, ' না রে, টিউশানী আছে, তোরা যা না, দ্যাখ গিয়ে'।

চলে যায় ওরা। ওদের রিকশাটা চোখের আড়ালে যেতেই জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসটা মুঠো করে ধরে ফেলে সজীব, কৃষ্ণচূড়া ফুলটার গায়ে আদর করে বুলিয়ে দেয় সেটুকু।
হাতের ইশারায় একটা রিকশা থামিয়ে তাতে চড়ে বসে সে, ভুরু কুঁচকে ভাবছে- আজ বোধহয় দেরি হয়েই যাবে ওর।

-----------
সচলায়তন অণুগল্প সংকলন "দিয়াশলাই"-এ প্রকাশিত।

শুক্রবার, নভেম্বর ০৭, ২০০৮

কপিরাইট বিষয়ে

ফ্রি ল্যান্স জার্নালিজমের উপরে লেখা একটা বই পড়তে গিয়ে বেশ কিছু মজার তথ্য জানলাম, মূলত কপিরাইট নিয়ে।
বাংলাদেশে কপিরাইটের ধারণাটা ঠিক কি ভাবে কাজ করে? ধারণা, কাজ করে বা এইরকম শব্দ ব্যবহারের কারণ আছে। আমি জানি এ সংক্রান্ত আইন কানুন আছে ঠিকই, কিন্তু সেসবের প্রয়োগ হয় বলে খুব একটা জানি না। কদিন আগে আনোয়ার সাদাত শিমুলের একটা পোস্টে পড়লাম, ফটোকপি বা অননুমোদিত প্রিন্ট করা যাবে না কোন কিছুর, কপিরাইট আইনের এটাই নাকি প্রাথমিক শর্ত।
আমি অবশ্য ঠিক এই লাইনে যাচ্ছি না। লেখকের দিক থেকে ভাবছি এবং পত্রিকার দিক থেকেও। মানে, ধরা যাক, একজন সাংবাদিক কোন একটা পত্রিকায় একটা লেখা ছাপালেন, তো ছাপানোর পরে ওই লেখাটার স্বত্ব কার হাতে? লেখকের কাছে, নাকি পত্রিকার কাছে?
বা, একবার একটা পত্রিকায় লেখা ছাপালে সেটা পরবর্তীতে অন্য পত্রিকায় ছাপানোর ব্যাপারটাকে কী বলা যায়? ভালো, না মন্দ? নৈতিক, নাকি অনৈতিক?

জুন ওয়েন নামের এই ভদ্রমহিলা, যিনি একজন ফ্রি-ল্যান্স লেখক, এই বইটি লিখেছেন মূলত অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপটে। তিনি উঠতি সাংবাদিকদের নানান রকম টিপস দিয়েছেন বইটাতে। তার মধ্যে কয়েকটা পড়ে আমি বেশ চমকিত হয়েছি।
এ দেশে একটা লেখার স্বত্ব দুভাবে বিক্রি হয়। লেখক বা সাংবাদিক সাধারণত কোন একটা পত্রিকায় লেখা বিক্রি করেন, তার মানে হলো, তিনি সেই পত্রিকাটিকে এই লেখাটি একবার ছাপানোর অনুমতি দিলেন। একবার ছাপানোর পরে লেখার ওপরে পত্রিকার আর কোন স্বত্ব থাকবে না, পুরোটাই চলে যাবে লেখকের কাছে।
জুনের অনেকগুলো পরামর্শের মধ্যে একটি হলো, একটা লেখাকে অনেক জায়গায় বিক্রি করো।
একটা পত্রিকায় লেখা গেলো, এবার অন্যদের কাছে সেটা পাঠাও, তবে অবশ্যই জানিয়ে দাও যে আগেও এটা একবার এখানে ছাপা হয়েছিল।
প্রয়োজনে নতুন করে ঘষামাজা করে লেখাটার ফরম্যাট বদলে অন্যদের কাছে বিক্রি করা যাবে। এই পর্যায়ে আরেকটা সাংঘাতিক পরামর্শ দেখলাম, যদি লেখাটি কোন সিজনাল বিষয়ের ওপরে হয়, যেমন ধরা যাক, ক্রিসমাস বা ইস্টার, তার মানে এই লেখার আবেদন প্রতি বছরই আছে। সুতরাং এই বছরে এই পত্রিকায় ছাপা হলে, পরের বছর লেখাটার উপরে আরেকবার কলম চালিয়ে প্রয়োজনে সেই একই পত্রিকায় আবার পাঠাও।

তবে কোন কোন পত্রিকা চায় যে লেখার পুরো স্বত্বটুকু কিনে নিতে। মানে, আর কোথাও ছাপা চলবে না, তাদের অনুমতি ছাড়া। এ ক্ষেত্রে জুনের পরামর্শ হলো, ভাল দাম পেলে ছেড়ে দাও।

এই ব্যাপারগুলো আমার কাছে বেশ নতুন ঠেকেছে। এমন নয় যে আগে থেকেই এই বিষয়ে আমার পূর্ণ ধারণা ছিলো, কিন্তু যতটুকু ছিলো, তার সাথে এদের কোন মিল নেই।
ভাবছি, বাংলাদেশের পত্রিকা আর সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো কীভাবে কাজ করে?

বুধবার, অক্টোবর ২৯, ২০০৮

বনফুলের গল্পসমগ্র-

কলিকালে এক ডাক্তার জন্মিয়াছিলেন বাঙালাদেশে। তাঁহার পসার ছিলো, সেই সাথে প্রাণের ভিতরে সাহিত্য করিবার প্রেসারও ছিলো। নিজের দাওয়ায় বসিয়া তিনি প্রেসক্রিপশানে রুগীদের কষ্টের হিস্টরী লিখিতেন। আর তাহাদের সহিত আলাপের অবসরে, মনের ভিতরের কোন এক খাতায় নানা প্রকারের নোট লইতেন, সংস্পর্শে আসা নানাবিধ জীবন আর তাঁহাদের কাছ হইতে পাওয়া এই সব অলৌকিক গল্প তিনি কোন দিন লিখিয়া উঠিবেন এই আশায়। সেই সব প্লটগুলান তিনি একখানা খাতায় লিপিবদ্ধও করিয়া ফালাইলেন, ভবিষ্যতে সেগুলা পূর্ণতা পাইবে, ইহাই ছিলো কামনা।
কিন্তু তিনি ব্যস্ত‌ মানষ‌। মোটের ওপরে, তেমন করিয়া আর সময় করিয়া উঠিতে পারিলেন না। তখন ভাবিলেন, প্লটগুলান এই রূপেই গল্প হিসেবে ছাড়িয়া দিলে কিরূপ হয়? তো তিনি তাহাই করিলেন। এবং, নিজের অজান্তেই তিনি সৃষ্টি করিলেন গল্পের এক নতুন ধারা। গল্পিকা, গল্প-কণিকা বা আদিরূপ ছোটগল্প ঘুরিয়া অদ্যকার কলিযুগে সকলে যাহাকে অণুগল্প হিসাবে চেনে।
*
একটু হাসফাঁস লাগলো এইটুকু লিখতেই। তবে ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। চলিত ভাষায় লিখতে গেলে সম্ভবত একটু বর্ণনার প্রয়োজন পড়ে বেশি, সাধুতে সেটা অল্প কথায় সেরে ফেলা যায়!
বলে রাখা ভাল, উপরের চিত্রটি পুরোপুরিই আমার কল্পনা। বাস্তবে এমনটাই ঘটেছিলো কিনা জানা নাই।
যাকগে, কথা সেটা না। ডাক্তার মশায়ের লেখা গল্পগুলো পড়ছিলাম কদিন ধরে, সেই নিয়েই কিছুক্ষণ আলাপ পাড়বো বলে বসলাম আজ।
ডাক্তার মশায়ের নাম ছিলো বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ভদ্রলোক তাঁর গল্পের মতই নামেরও অণু-করণ করে ফেলেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের পাঠকমাত্রই তাঁকে বনফুল নামে চেনে।
অল্প-বিস্তর কিছু গল্প আগেই পড়া ছিলো, এইবারে হাতে পেলাম পুরো গল্পসমগ্র! এবং গত কদিন ধরে বেশ চেটে-পুটে পড়লাম সেটা।

সবচেয়ে যেটা মজা লেগেছে, বইটার নাম "বনফুলের গল্প সমগ্র"। সোজা সাপ্টা "গল্প"ই, আগে পিছে কোন ছোট বা অণু নেই। এমনকি বইয়ের শেষের যুক্ত নানাজনের আলোচনায় বনফুলের গল্পের আকার অনুযায়ী এদের গল্পিকা বা গল্প-কণিকা বলে যে মত আছে, নামকরণে সেটা পেলাম না। অবশ্য, একটা কারণ হতে পারে, এই সংকলনে বনফুলের বেশ কিছু দীর্ঘ্য, মানে কেবল বনফুলের অনুপাতেই নয়, সত্যি সত্যিই লম্বায় বেশ কিছু দীর্ঘ্য গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধুই গল্প সমগ্র বলার সেটাও একটা কারণ হতে পারে।
তবে কথা সত্য, বনফুলের বড় গল্প আছে জানতে পারাটা আমার জন্যে একটা আবিষ্কারই বটে।

বরাবরের মতই সবার আগে আমার নজর কাড়লো এর ভূমিকাটুকু। এবং মজা হলো টেনেটুনে তিন প্যারার এই ছোট্ট ভূমিকাটুকুতেই বনফুলের রসিক মনের বেশ সুন্দর পরিচয় পাওয়া যায়। আমি শুধু প্রথম প্যারাটুকু তুলে দিচ্ছি এখানে-
" আমার গল্প যাঁহারা ভালবাসেন তাঁহাদের কাছে আমার লেখা সম্বন্ধে ভূমিকা নিষ্প্রয়োজন। যাঁহারা ভালবাসেন না তাঁহাদের কাছে আরও নিষ্প্রয়োজন। যাঁহারা আমার লেখার সহিত পরিচিত নহেন তাঁহারা গল্পগুলি পড়িলেই আমার স্বরূপ জানিতে পারিবেন। তাঁহাদের উদ্দেশ্যেও আমার বিশেষ কোন নিবেদন নাই। "
এই না হলে বনফুল!

তা সত্যিই, তাঁর স্বরূপ জানা গেছে বেশ।
এই সাইজের গল্পয় যেটা হয়, গল্পের শেষ হতে হবে অবশ্যই একটা চমকের সাথে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা হয় গল্পের শেষ লাইনটুকু। প্রথম বেশ কিছু গল্প পড়ার পরে মনের ভেতর এমন একটা অনুভূতি হলো আমার, যে, পরবর্তীতে যে গল্পটাই শুরু করতে যাই, আপনাতেই তার শেষ লাইনটুকুর জন্যে অপেক্ষা করি। কারণ, জানি যে ঐ লাইনটাতে এতক্ষণের সব ছবি উল্টে-পাল্টে যাবে।

কদিন আগেই আমরা অণুগল্পের একটা সংকলন করলাম সচলায়তন থেকে। সেই সময়ে অণুগল্প কী বা কেমন, এই নিয়ে বিস্তর আলাপ হয়েছিলো। একেবারে চুড়ান্ত কোন সংজ্ঞা শেষ অবদি পাওয়া যায়নি বলেই মনে পড়ছে, তবে তারপরেও একটা রূপরেখা আন্দাজ করা গিয়েছিলো।
বনফুলের গল্পগুলো পড়তে গিয়ে টের পেলাম, অণুগল্পের বর্তমান ধারা বা ধারণা থেকে সেসব একেবারেই আলাদা।
আমরা যেটা বুঝেছিলাম, এই আকৃতির গল্পের ক্ষেত্রে পুরো কোন ছবি তুলে আনা যাবে না, বরং একটা জীবনের ছোট একটা অংশের উপর তাৎক্ষণিক আলো ফেলার মত করে গল্প বর্ণিত হবে। তো এই বইটা পড়ে মনে হলো, অণুগল্পের গুরুমশায় এসবের ধার ধারেন নি। মাঝে মাঝে দু থেকে তিন লাইনের ভেতরই একটা জীবনকাল তিনি বর্ণনা করে ফেলেছেন!
অবশ্য বড় গল্পগুলোয় তিনি অনেক বর্ণনা টেনে এনেছেন, তবে তার মধ্যেও কোথায় যেন অল্প কথায় সেরে ফেলার মত একটা সুর সারাক্ষণই বাজছিলো।

গল্পগুলো ভাবায় বেশ। এরকম নয় যে পড়লাম, আকারে ছোট, তাই চট করে ভুলে গেলাম। উহুঁ, তার উপায় নেই। বেশ খানিকক্ষণ মনের ভেতরে টুংটাং করে বাজে এসব গল্প।
আরেকটা ব্যাপার খেয়াল করলাম, চমক আনতে গিয়ে প্রায়শই এমনভাবে গল্পগুলোর সমাপ্তি ঘটছে, যেটা হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। চট করে ভুলে যেতে না পারার এটাও একটা কারণ হতে পারে।

বনফুলের এই সমগ্রতে বেশ কিছু স্যাটায়ারও খুঁজে পাওয়া গেলো। এবং, বলতেই হয়, স্যাটায়ারে তাঁর দক্ষতা রীতিমতন ঈর্ষনীয় ছিলো।

তবে, বিশেষ করে একদম ছোটগল্পগুলো পড়ে আমার সত্যিই মনে হচ্ছিলো, যেন এগুলো তাঁর খেরোখাতায় টুকে রাখা কোন গল্পের প্লট। মানে অনেকেই যেমনটা করেন, গল্পের আইডিয়া মাথায় এলে নোটবুকে লিখে রাখেন দুএকটা শব্দ বা লাইন, বা গল্পের একটা মানচিত্র, অনেকটা যেন সেরকমই বনফুলের গল্পেরা। তবে, এ কথা অবশ্য স্বীকার্য, খেরোখাতায় টুকে রাখা প্লটের মত অসম্পূর্ণ নয় মোটেই তাঁর গল্পেরা। বরং একদম শতভাগ পরিপূর্ণ।

হার্ড কাভারে বাঁধাই করা প্রায় ৪৬৫ পৃষ্ঠার এ বই, কলকাতার গ্রন্থালয় প্রাইভেট লিমিটেড থেকে প্রকাশিত। প্রথম প্রকাশের তারিখ দেখাচ্ছে পৌষ ১৩৮৭। মূল্য সেই আমলেই একশত টাকা।
গল্পের আকৃতিগুলো এতই লোভনীয় যে আমার বেশ কবার ইচ্ছে হচ্ছিলো বেশ কিছু গল্প এখানে কম্পোজ করে তুলে দিই। কিন্তু এই মুহুর্তে তা সম্ভব নয়। আপাতত একটা গল্পের কিয়দংশ আপনাদের সাথে শেয়ার করা যাক । গল্পের নাম- বিধাতা।
------
বাঘের বড় উপদ্রব। মানুষ অস্থির হইয়া উঠিল। গরু বাছুর, শেষে মানুষ পর্যন্ত বাঘের কবলে মারা পড়িতে লাগিলো। সকলে তখন লাঠি সড়কি বর্শা বাহির করিয়া বাঘটাকে মারিল। একটা বাঘ গেল- কিন্তু আরেকটা আসিল। শেষে মানুষ বিধাতার নিকট আবেদন করিল-
"ভগবান, বাঘের হাত হইতে আমাদের বাঁচাও।"
বিধাতা কহিলেন- আচ্ছা।

কিছু পরেই বাঘরা আসিয়া বিধাতার দরবারে নালিশ জানাইলো- " আমরা মানুষের জ্বালায় অস্থির হইয়াছি। বন হইতে বনান্তরে পলাইয়া ফিরিতেছি। কিন্তু শিকারী কিছুতেই আমাদের শান্তিতে থাকিতে দেয় না। ইহার একটা ব্যবস্থা করুন। "
বিধাতা কহিলেন, - " আচ্ছা।" (.....)
সুশীল পরীক্ষা দিবে। সে রোজ বিধাতাকে বলে, "ঠাকুর, পাশ করিয়ে দাও।"
আজ সে বলিল, "ঠাকুর, যদি স্কলারশিপ পাইয়ে দিতে পার, পাঁচ টাকা খরচ করে হরির লুট দেব--"
বিধাতা কহিলেন, - "আচ্ছা"
হরেন পুরকায়স্থ ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান হইতে চায়। কালী পুরোহিতের মারফত সে বিধাতাকে ধরিয়া বসিল- এগারোটা ভোট আমার চাই। কালী পুরোহিত মোটা রকম দক্ষিণা খাইয়া ভুল সংস্কৃত মন্ত্রের চোটে বিধাতাকে অস্থির করিয়া তুলিল। ভোটং দেহি-- ভোটং দেহি--
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা, আচ্ছা--।( ....)
কৃষক দুই হাত তুলিয়া কহিল, "দেবতা, জল দাও --"
বিধাতা কহিলেন, আচ্ছা। (......)
দার্শনিক কহিলেন- "হে বিধাতা, তোমাকে বুঝিতে চাই-"
বিধাতা কহিলেন, - "আচ্ছা"
চীন দেশ হইতে চীৎকার আসিল, "জাপানীদের হাত হইতে বাঁচাও প্রভূ"।
বিধাতা কহিলেন, - "আচ্ছা"

একটু ফাঁক পড়িতেই বিধাতা পার্শ্বোপবিষ্ট ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, " আপনার বাসায় খাঁটি সর্ষের তেল আছে?"
ব্রহ্মা কহিলেন, "আছে, কেন বলুনতো?"
বিধাতা- আমার একটু দরকার। দেবেন কি?
ব্রহ্মা (পঞ্চমুখে) " অবশ্য, অবশ্য।"
ব্রহ্মার বাসা হইতে ভাল সরিষার তৈল আসিল। বিধাতা তৎক্ষণাৎ তাহা নাকে দিয়া গাঢ় নিদ্রায় অভিভূত হইয়া পড়িলেন।
আজও ঘুম ভাঙে নাই।

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০০৮

আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা - শেষ পর্ব

শহরগুলোর একটির সাথেও আগেকার স্মৃতির কোন যোগসূত্র খুঁজে পেলাম না। কোন একটা অদ্ভুত উল্টো প্রক্রিয়ায় বর্তমান ইউরোপের আর সব শহরের মতই তারা বিস্ময়কর হয়ে উঠেছিলো। সত্যিকারের স্মৃতিরা কেমন যেন
ভৌতিক হয়ে গিয়েছে, আর তার বদলে মিথ্যে স্মৃতিরা এত বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে যে তারাই বাস্তবতাকে প্রতিস্থাপিত করেছে। এর মানে দাঁড়ালো, আমি তাহলে বিভ্রম আর স্মৃতিকাতরতার মাঝের বিভেদরেখাকে আলাদা করতে পারিনি। যদিও এম‌ন ক‌র‌তে পারাটাই হ‌তো ঠিকঠাক সমাধান। অবশেষে আমি ঠিক তাই খুঁজে পেলাম, বইটি শেষ করার জন্যে আমার যা দরকার ছিলো এবং পার হতে থাকা বছরগুলো আমাকে একমাত্র যা দিতে পারতোঃ সময়ের এক‌টি প‌ট‌ভূমি।

দীর্ঘ দীর্ঘ বাক্য সব। একটার শেষের পরে অপরটার শুরুর মধ্যেকার যোগাযোগ বুঝে ওঠার জন্যে, মাঝে মাঝেই আমার এমন হয়েছে যে পুরো বাক্যটা বেশ ক"বার পড়তে হয়েছে। বাংলা করার পরে আমি আবার পড়ে দেখছিলাম, সেই একই সমস্যা এখনো হচ্ছে কি না। টের পেলাম যে তা এখনো হচ্ছে, তখন ইংরেজিটা মাথা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে বাংলার উপরে বেশ খানিকক্ষণ ঘষা মাজা চালালাম। বাক্যের গতিপথ মসৃণ হয়ে এলেই তবে থেমেছি।

আমি সেই কার্যকরী সফর সেরে ফিরে এসে প্রায় ঘোরের মধ্য দিয়ে আট মাস ধরে সব কটি গল্প আবার শুরু থেকে লিখলাম, এবং যেহেতু আমার মনে হচ্ছিলো আমার বিশ বছর আগের অভিজ্ঞতার কোন কিছুই এখন আর বাস্তবে নেই, তাই আমার কখনোই এ কথা নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হয়নি যে জীবনের শেষ আর কল্পনার শুরু আসলে কোত্থেকে। তারপরে আমার লেখা এমন তরতর করে এগুলো যে মাঝে মাঝে আমার মনে হচ্ছিলো আমি যেন গল্প বলার নির্ভেজাল আনন্দের জন্যেই লিখছিলাম কেবল, যার তুলনা হতে পারে একমাত্র নির্ভার হয়ে যাবার মানবীয় অনুভুতির সাথেই। আমি সবগুলো গল্পের উপর একই সাথে কাজ করছিলাম এবং ইচ্ছেমত একটা থেকে আরেকটায় ক্রমাগত যাওয়া-আসা করছিলাম, এর ফলে আমি বিস্তৃত একটা দৃশ্যপট আমার সামনে পেলাম যা আমাকে পরপর অনেকগুলো গল্প শুরু করার ক্লান্তি থেকে বাঁচালো। এবং সেই সাথে বর্ণনার বাহুল্য বা তীব্র বৈপরীত্য ধরে ফেলতে সাহায্য করলো। আমার বিশ্বাস, এভাবেই আমি এই বইটি লিখে ফেলতে পেরেছি, ঠিক যেরকমটা আমি সবসময়েই লিখতে চেয়েছি।

কি সব খটমটে কথাবার্তা, মার্কেজের ওপরে যদি আমি খানিকটা ক্ষেপে টেপেই যাই, খুব কি অন্যায় হবে? আপ‌নারা কী বলেন?

অবশেষে, এদিকে ওদিকে ছুটে বেড়ানো আর অনিশ্চিত বিচ্যুতির ধাক্কা কাটিয়ে এই বইটি পাতে তুলবার যোগ্য হয়ে উঠলো। প্রথম দুটি বাদে বাকি সবগুলো গল্পই একই সময়ে শেষ হয়েছিলো, এবং প্রতিটি গল্পের সাথেই তাদের শুরুর তারিখ লেখা আছে। এমনকি বইয়ের গল্পগুলোও আমার নোটখাতায় যেভাবে আছে, ঠিক সেই ক্রমানুসারেই সাজানো হয়েছে।

আমি সব সময়েই মনে করি যে, প্রত্যেক গল্পের সর্বশেষ রূপটাই তার ঠিক আগের অবস্থার চেয়ে শ্রেয়তর। তাহলে কেউ কী করে জানবে যে কোন রূপটি চূড়ান্ত? ঠিক যেভাবে রাঁধুনী জেনে যায় তার স্যুপ কখন প্রস্তুত, এটা তেমনই একটা গোপন পেশাগত কৌশল যা কোন নিয়ম বা কারণ মেনে চলে না, বরং সহজাত প্রবৃত্তির জাদুবলে জেনে ফেলা যায়। যাহোক, পরে অনুতাপ করতে হবে এই আশংকায় আমি আমার কোন বইই আর পড়ে দেখি না, তেমনি এই গল্পগুলোও পরবর্তীতে আর পড়িনি। নতুন পাঠকেরাই ভাল জানবে এদের নিয়ে কি করা উচিৎ। যদি আশ্চর্য এই তীর্থযাত্রীদের শেষমেষ ময়লার ঝুড়িতেই আশ্রয় নিতে হয়, সৌভাগ্যক্রমে সেটিও তাদের জন্যে ঘরে ফেরার আনন্দই বয়ে আনবে।

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
কার্টাহেনা দে ইনডিয়াজ
এপ্রিল, ১৯৯২।

তো শেষ‌ হ‌লো এই প‌থ‌ চ‌লা, অবশেষে। এবারের অংশ‌টুকু লিখে আমি প্রায় স‌প্তাখানেক ফেলে রেখেছি। প্র‌তিদিন এক‌বার ক‌রে এসে এক‌টা দুটা শ‌ব্দ‌ ব‌দ‌লে দিতাম। যেটাকে স‌ব‌চেয়ে ঠিক ম‌নে হ‌তো, ম‌নে হ‌তো এইটুকু প‌রিব‌র্ত‌নে সৌন্দ‌র্য‌ব্রৃদ্ধি ঘ‌ট‌বে, কিন্তু লেখার অঙ্গহানি ঘটবে না কোনমতেই। এই সময়টায় আমি মূল ইংরেজিটা পড়া থেকে বিরত থেকেছি। বার বার বাংলাটুকু পড়ে পড়ে একধরণের কোমলতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। নিজের কাছে একটা তাড়া ছিলো দ্রুত একটা সমাপ্তিতে পৌঁছার, তবু সেটা করিনি।

এই তীর্থযাত্রীদের গল্প বলতে এসে যখন শেষ দাড়ি টানলাম, আমি নিজেঅ সম্ভবত তীর্থে পৌঁছবার আনন্দই পেলাম। এবং অনুবাদে এই লেখাটা পড়তে গিয়ে আমার আরও মনে হলো, ইংরেজি পড়বার সময় এই লেখার অর্থটুকু বা বক্তব্য বুঝেছিলাম ঠিকই, কিন্তু আত্মীকরণ করা যাকে বলে সেটা ঘটলো এবারই, মানে পুরোপুরি বাংলায় পড়ার সময়।

একসাথে তিন পা হাঁটলে নাকি বন্ধু হয়ে যায়। তো ভাবছিলাম, আপনি আমি আর গ্যাবিতো মার্কেজ, এই যে এ কয়টা দিন ধরে গল্প করতে করতে এত লম্বা পথ হেঁটে এলাম, আমরাও তো বন্ধু হয়ে গেলাম! ব্যাপারটা বেশ আনন্দের। তাই না?

-
মু. নূরুল হাসান
২০/১০/২০০৯

-------------
পুনশ্চঃ
কেউ পুরো লেখাটা একসাথে পড়তে চাইলে-
অখন্ড সংস্করণ।

কৃতজ্ঞতা যাদের কাছেঃ
১। গ্যাবিতো মার্কেজ এবং আমার এলাকার স্থানীয় লাইব্রেরি
২। অভিধান ডট অরগ
৩। নজরুল (ইসলাম) ভাই, তাঁর অসাধারণ টাইপিং দক্ষতা এবং ভীষণ সুন্দর মন।
৪। আলী আহমেদের বাংলা অনুবাদ
৫। সচলায়তনের সব পাঠক, যারা আমার আলসেমীকে একদমই মাথায় চড়তে দেননি।

শুক্রবার, অক্টোবর ১০, ২০০৮

আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা ০৩

আমার মনে আছে, ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত আমার সেই নোটখাতাটা আমার ডেস্কের ওপরেই অনেকগুলো কাগজের নীচে ডুবে ছিলো। একদিন, অন্য কী একটা খুঁজতে গিয়ে আমি টের পেলাম, খাতাটা আমি বেশ কদিন ধরেই দেখছি না। তাতে অবশ্য তেমন কিছু যায় আসে না। কিন্তু যখন আমি নিশ্চিত হলাম যে খাতাটা সত্যিই ডেস্কে কোথাও নেই, আমি রীতিমতন আতঙ্কিত হলাম। বাড়ির প্রতিটি কোণ খুঁজে দেখা হলো। আমরা আসবাব সরিয়ে খুঁজলাম, এমন কি লাইব্রেরীর তাক সরিয়ে সরিয়ে দেখা হলো বইয়ের ফাঁকে কোথাও খাতাটা পড়ে যায়নি এ ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য। গৃহ পরিচারক এবং আমাদের বন্ধুদেরও জেরা করা হলো। কিন্তু কোথাও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। একমাত্র সম্ভাবনা এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা একটাই হতে পারে, প্রায়শই আমি যখন পুরনো কাগজ পাতি দুম করে ফেলে দিই, খাতাটাও হয়তো তখুনি ময়লার ঝুড়িতে চলে গেছে।

এখানে আমি বিরাট কারচুপি করলাম আবারও। বারবারই এই নতুন দ্বন্ধের সাথে আমার পরিচয় ঘটছে। পড়ে যা বুঝছি, মাথায় যেটা থাকছে, অনুবাদিত বাংলায় সেটা আসছে না। আরও অনেক ভাবা দরকার আমার বুঝতে পারছি, কিন্তু ধৈর্য্যে কুলাচ্ছে না। এটাকে চূড়ান্ত করবার আগে অবশ্যই আমার এ ব্যাপারগুলো নিয়ে আবার বসতে হবে। অথবা না-ও বসতে পারি। যেমন আছে তেমনই থেকে যেতে পারে।

আমার নিজের প্রতিক্রিয়া আমাকে বিস্মিত করলোঃ যে বিষয়গুলো আমি প্রায় চার বছর ধরে ভুলে বসে আছি সেগুলোই আমার সম্মানের রক্ষার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। যে কোন মূল্যেই তাদের পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে উদ্যোগ নিলাম, এবং লেখালেখির মতই কষ্টসাধ্য শ্রম দিয়ে আমি প্রায় ত্রিশটি গল্পের বিষয়গুলোকে আবারো লিখতে সমর্থ হলাম। মনে করে করে লিখবার এই প্রক্রিয়াটি অনেকটা পরিশোধন প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করছিল। এ কারণেই যে গল্পগুলো উদ্ধার করা অসম্ভব মনে হচ্ছিলো, আমি তাদের নির্দয়ভাবে বাদ দিয়ে দিয়েছি এবং শেষ মেষ আমার হাতে গল্প বাকি রইলো আর আঠারোটি। এবার আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলাম যে কোন বিরতি ছাড়াই সবগুলো গল্প আমি লিখে ফেলবো, কিন্তু শিগগিরই আমি ওদের প্রতি আবারো উৎসাহ হারিয়ে ফেললাম। এবং নতুন লেখকদের আমি সাধারণত যে উপদেশ দিই, নিজে করলাম তার ঠিক উল্টোটা, আমি সেগুলোকে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম না। তার বদলে যদি কখনো কাজে লাগে, এই ভেবে আমি তাদের ফাইলবন্দী করে রাখলাম।
১৯৭৯ সালে আমি যখন Chronicles of a Death Foretold লিখতে শুরু করি, তখন নিশ্চিত হলাম যে দুই বইয়ের মাঝের সময়টাতে আমি লেখার অভ্যাস হারিয়ে ফেলি, এবং আবার নতুন করে শুরু করাটা ক্রমশই আমার জন্যে কঠিনতর হতে থাকে। এ কারণেই ১৯৮০ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৮৪ এর মার্চ মাস পর্যন্ত আমি প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন দেশের পত্রিকার জন্যে একটি করে মন্তব্য-প্রতিবেদন লিখবো বলে ঠিক করলাম, অনেকটা লেখার অভ্যাসটাকে জিইয়ে রাখার জন্যেই। সে সময় আবার আমার হঠাৎই মনে হলো নোটখাতার এই বিষয়গুলো পুরোপুরি সাহিত্য-ধাঁচের নয়, এবং এদের গল্পের চেয়ে সংবাদপত্রের নিবন্ধ হিসেবেই বেশি মানাবে। সুতরাং নোটবইয়ের বিষয়বস্তু দিয়ে পাঁচটি মন্তব্য-প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরে আমি আবারও মত বদলালাম, মনে হলো তারচেয়ে ভাল হবে চলচ্চিত্র হিসেবেই। ঠিক এভাবেই পাঁচটি চলচ্চিত্র এবং একটি টেলিভিশন ধারাবাহিক তৈরি হয়েছিলো।

এই পর্যন্ত অনুবাদ করে ফেলার পর আমার হাতে এই লেখাটারই আরেকটা বাংলা অনুবাদ চলে এলো নজরুল ভাইয়ের কল্যাণে। আলী আহমেদের করা এই অনুবাদটার খোঁজ জানার পরে নজরুল ভাইয়ের কাছে চাইতেই উনি সাঙ্ঘাতিক একটা কাজ করলেন, পুরো অনুবাদটা আমাকে কম্পোজ করে পাঠিয়ে দিলেন! আমি রীতিমতন বিস্ময়াভিভূত!
আরেকটা অনুবাদের উপস্থিতি আমাকে বেশ খানিকটা অলস বানিয়ে ফেললো, ভাবছিলাম আর নাই বা করি। কিন্তু আবার মনে হচ্ছিলো, একেবারে অসমাপ্ত রাখাটাও ঠিক হবে না। শুরু যখন করেইছি, শেষ করে ফেলা যাক।
আলী আহমেদের অনুবাদটা পড়া শুরু করলাম। দু প্যারা পড়ার পড়েই বেশ সাবধান হয়ে গেলাম। ঠিক করলাম, আমার যেটুকু শেষ হয়েছে, কেবল সেটুকু পর্যন্তই আলী আহমেদের অনুবাদটি পড়বো, তার বেশি নয়। তবে পড়তে গিয়ে আমার জন্যে আসলে বেশ ভালই হলো, বেশ কিছু অংশে আমার অল্প-বিস্তর খটকা দুর হয়ে গেলো। আমার মনে হলো, পুরোটা অনুবাদের কাজ শেষ করে যদি আরেকবার আমার লেখাটাকে ঘষামাজা করে দাঁড় করাতে চাই, তাহলে আলী আহমেদের অনুবাদটি আমার বেশ কাজে আসবে।

আগে মাথায় আসেনি এরকমটা হবে, তবে শেষে তাই হলো যে চলচ্চিত্র আর সাংবাদিকতার কাজ গল্পগুলো নিয়ে আমার ধারণা কিছুটা পাল্টে দিলো। এবং যখন এদের চুড়ান্ত রূপ দিলাম, তখন চিত্রনাট্য লেখার সময়ে পরিচালকদের দেয়া আইডিয়াগুলো থেকে আমার নিজের আইডিয়াগুলোকে খুবই সতর্কতার সাথে আলাদা করে নিলাম। বাস্তবিক, পাঁচজন ভিন্ন ভিন্ন পরিচালকের সাথে কাজ করতে গিয়ে গল্পগুলো লিখে ফেলা নিয়ে আমি আলাদা একটি পদ্ধতি পেয়ে গেলামঃ অবসর পেলেই আমি একটা গল্প লিখতে শুরু করতাম, ক্লান্ত হয়ে পড়লে বা হঠাৎ আর কোন প্রকল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তখুনি তা থামিয়ে দিতাম, এবং তারপরে অন্য আরেকটা গল্প শুরু করে দিতাম। এক বছরের কিছু কম সময়ের মধ্যে আঠারোটির মধ্যে ছয়টি গল্পই ময়লার ঝুড়িতে জায়গা করে নিলো, তাদের মধ্যে একটি আবার ছিলো আমার নিজের শেষকৃত্যের গল্প নিয়ে, কারণ স্বপ্নের উদ্দাম আনন্দটুকু আমি কিছুতেই লেখায় তুলে আনতে পারছিলাম না। যাই হোক, বাকি গল্পগুলো দীর্ঘ যাত্রার জন্যে তৈরি হয়ে গেলো।

এই ছোট্ট অনুবাদের কাজটি করতে গিয়ে আমি আনমনেই নিজের জন্যে একটা, যাকে বলে, কার্যপ্রণালী ঠিক করে ফেলেছিলাম। মানে হেন করবো, কিন্তু তেন করবো না। বা এটা এড়িয়ে চলবো, কিন্তু ওটা ঠিকাছে।
তো, শেষ প্যারাটায় আমি নিজের বানানো কার্যপ্রণালী বেশ কিছু জায়গায় অমান্য করলাম। শেষের দুটি লাইন প্রথমে আক্ষরিক অনুবাদের পরে আমার সেগুলোকে ভিনগ্রহী ভাষা বলে মনে হচ্ছিলো। মানে, আলাদা করে শব্দগুলো বাংলাই, কিন্তু সব মিলিয়ে সেগুলো আসলে কোন অর্থ দাঁড়া করছে না। তাই বাক্যগুলোকে অর্থবহ করার জন্যে, আমি প্রথমে আক্ষরিক অনুবাদ করে ফেলে, ইংরেজী মূল বাক্যটাকে পুরোপুরি ভুলে গিয়ে বাংলা বাক্যটাকে নিয়েই কিছুক্ষণ লোফালুফি চালালাম, শব্দ এদিক ওদিক করে বা প্রতিশব্দ বসিয়ে শেষমেষ অর্থবহ করা গেলো।
একই সাথে আরেকটা কাজ করলাম, এই লোফালুফি পদ্ধতিটাকে আমার অদৃশ্য কার্যপ্রণালীর নতুন একটা পয়েন্ট হিসাবে যুক্ত করে দিলাম।

এই বইয়ের গল্পগুলোই ওই বাকি বারোটি গল্প। আরও দুবছর ধরে অল্প অল্প ঘষা-মাজার পরে গত সেপ্টেম্বরে এগুলো ছাপার জন্যে তৈরি হয়ে গেলো। এবং যদি চুড়ান্ত মুহুর্তে মনে জন্ম নেয়া একটি সন্দেহ আমাকে যন্ত্রণা না দিতো, তাহলে ওখানেই তাদের ময়লার ঝুড়িতে যাওয়া-আসার সীমাহীন অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটতো। যেহেতু গল্পগুলোয় আমি মূলত স্মৃতি থেকে ইউরোপিয়ান শহরগুলোর বর্ণনা দিয়েছি, আমার একটু যাচাই করে নেবার ইচ্ছে হলো যে বিশ বছর পরে স্মৃতি নির্ভুল ছিলো কি না। সুতরাং অতিসত্বর আমি বার্সেলোনা, জেনেভা, রোম এবং প্যারিসের সাথে আগের পরিচয় ঝালাইয়ের উদ্দেশ্যে জায়গাগুলো ঘুরে দেখে এলাম।

এই প্যারাটা লিখবার পরে বিরাট একটা ঝামেলা হয়ে গেলো। বাংলায় এটুকু পড়ার পরে নতুন একটা চিন্তা মাথায় এলো, মার্কেজ পুরো লেখাটায় মূলত গল্পগুলোর গল্প হয়ে ওঠার যাত্রাটুকু বর্ণনা করেছেন। শুরুতে গন্তব্য বিবেচনায় এটাকে তীর্থযাত্রা ভেবে নিতেই ভাল লাগছিলো, কিন্তু এখন আবার মনে হচ্ছে, যদি যাত্রাপথের বর্ণনাই অভীষ্ট হয়, তাহলে এদের অভিযাত্রী বলাটাই ভাল হবে কি না?
নাহ, এখনো বুঝছি না, পচুর গিয়ানজাম মনে হচ্ছে!

( ক্রমশঃ)

সোমবার, অক্টোবর ০৬, ২০০৮

আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা -০২

আমি জানি না কেন, কিন্তু আমি সেই দৃষ্টান্তমূলক স্বপ্নটিকে আমার নিজস্ব স‌ত্তার বিবেকীয় পরীক্ষা হিসেবেই ব্যাখ্যা করলাম।

এবারে একদম ঘেঁটে গেলো, খুবই দুর্বল হয়ে গেল এই বাংলাটা। পুরোটা পড়ে ফেলবার পরে আবার অবশ্যই এই লাইনটার কাছে একবার ফিরে আসতে হবে ব‌লে ম‌নে হ‌চ্ছে।

আমি জানি না কেন, কিন্তু আমি সেই দৃষ্টান্তমূলক স্বপ্নটিকে আমার নিজস্ব স‌ত্তার বিবেকীয় পরীক্ষা হিসেবেই ব্যাখ্যা করলাম, এবং আমার মনে হচ্ছিলো ইউরোপে ল্যাটিন আমেরিকানদের সাথে যে আজ‌ব ব্যাপারগুলি ঘ‌টে সেসব নিয়ে লেখার জন্যে এটা একটা উৎকৃষ্ট সময়।

নাহ, এবারেও হলো না পুরোপুরি। মূল কথাটা বুঝতে পারছি, কিন্তু লেখায় সেটা আনতে পারছি না কিছুতেই। আরেকটা কথা, এটা এভাবে বাংলা করে করে পড়তে গিয়ে মনে হলো, বাংলা শব্দভান্ডার আমার ভষ‌ণ‌ ক‌ম! এরকম অনুবাদ জাতীয় খেলাধূলা সম্ভবত প্রায়শই করা উচিত, শব্দভান্ডার বাড়াবার প্রয়োজনে।

এটা আমার জ‌ন্যে বেশ উৎসাহব্যাঞ্জক ছিলো, কারণ আমি মাত্রই আমার সবচেয়ে কঠিন এবং রোমাঞ্চকর লেখা The Autumn of The Patriarch শেষ করেছি, এবং আমি জানতাম না তারপরে আমার কি করা উচিৎ।

দু বছর ধরে গল্পের বিষয়বস্তু হিসেবে ভাবা যায়, এর‌ক‌ম যা কিছু ঘ‌ট‌ছিলো আমার সাথে আমি সেস‌ব টুকে রাখছিলাম, কিন্তু আমি জানতাম না সেসব নিয়ে আমি কি করবো। যে রাত থেকে লিখ‌তে শুরু করেছিলাম, বাড়িতে তখন আমার নিজের কোন নোটখাতা না থাকায় আমার বাচ্চারা তাদের খাতা আমাকে ধার দিয়েছিল লিখবার জন্যে। এবং প্রায়‌শ‌ই ভ্রমণে গেলে তারাই তাদের ইশকুলব্যাগে সেই খাতা বয়ে বেড়াত, সেটা হারিয়ে যাবে এই ভয়ে। আমি সব মিলিয়ে চৌষট্টিটি গল্পের আইডিয়া জমিয়েছিলাম এবং প্রতিটাই এত পুঙখানুপুঙখ বর্ণনা সহ যে, আমার কেবল সেগুলো লিখে ফেলাটাই বাকি ছিলো!

১৯৭৪ সালে, আমি যখন বার্সেলোনা থেকে মেক্সিকোয় ফিরে এলাম, এটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে এলো যে শুরুতে যেমন এই খাতাটিকে একটি উপন্যাস হিসেবে মনে হচ্ছিলো, আসলে এটি তা ছিলো না। বরঞ্চ এটিকে একটি ছোট গল্প সংগ্রহ বলা চলে, যেগুলো মূলত জার্নালিস্টিক বাস্তবতার উপরে ভিত্তি করে লেখা, কিন্তু কাব্যের বিচক্ষণ কৌশল দিয়ে তাদের নশ্বরতা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই আমার তিনটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে, যদিও তাদের কোনটিই পুরোপুরি একসাথে মাথায় আসেনি বা লেখাও হয়নি। বরং ঘ‌টেছে তার উল্টোটাই, প্রতিটি গল্পই আলাদা আর অনিয়মিত ভাবে তৈরি। তাই এটা অবশ্যই আমার জন্যে বেশ রোমাঞ্চকর অভিযান হয়ে উঠবে যদি আমি এই চৌষট্টিটি গল্প এক বসায় লিখে ফেলতে পারি, একটা নিজস্ব ঐক্যবদ্ধ সুর আর রীতিতে, যেন পাঠকদের স্মৃতিতে তারা অবিচ্ছেদ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

আমি ১৯৭৬-এ প্রথম দুটি গল্প লিখে ফেললাম- "the trail of your blood in the snow" আর " miss Forbes's summer of happiness"- এবং খুব তাড়াতাড়িই তারা কয়েকটি দেশের বিভিন্ন সাহিত্যপত্রিকায় প্রকাশিত হলো। আমি কোন বিরতি ছাড়াই লিখে চলেছিলাম, কিন্তু আমার তৃতীয় গল্পটি লিখবার সময়, যেটি কিনা আমার শেষকৃত্য নিয়ে লেখা, আমি ভীষণ ক্লান্তি বোধ করলাম, এমনকি কোন উপন্যাস লেখার চেয়েওবেশি ক্লান্ত‌। চতুর্থ গল্পটি লেখার সময়ও একই ব্যাপার হলো। সত্যি কথা বলতে কি, সেগুলোকে শেষ করার মত শক্তি পাচ্ছিলাম না। এখন আমি জানি কেন সেটা হয়েছিলোঃ ছোটগল্প লেখা শুরু করার শ্রম একটি উপন্যাস শুরুর মতই তীক্ষ্ণ, যেখানে প্রায় সব কিছুই প্রথম প্যারাগ্রাফে বলে দিতে হয়, এটার গঠন, সুর, ভঙ্গী, ছন্দ, দৈর্ঘ্য এবং কখনো কখনো কোন একটা চরিত্রের ব্যাক্তিত্বও বর্ণনা করতে হয়। বাকি থাকে কেবলই লেখার আনন্দ, সেই নির্জন আর অন্তরঙ্গআনন্দ যা কেউ কেবল কল্পনাই করতে পারে। এবং বাকি জীবনটা যদি কারো উপন্যাস কাঁটাছেড়া করতে করতে না শেষ হয়, সেটা কেবল সম্ভব যদি শুরুর উদ্যমটুকু উপন্যাস শেষ করার মুহুর্ত পর্যন্ত ধরে রাখা যায়। কিন্তু একটা গল্পের কোন শুরু নেই, শেষ নেই।

একটানা অনেকটুকু পড়ে ফেলা গেলো আবারো। আর পড়তে গিয়ে এবারে সত্যিই মনে হয় ইংলিশ-টু-বাংলা ট্রান্সলেশান পড়ছি। ব্যাপারটা আমি খেয়াল করেছি। বাংলা আর ইংরেজির বাক্যগুলোর গঠন মূলত আলাদা। এখন বাক্য ধরে ধরে অনুবাদ করতে গেলে এই ইংরেজি ভাবটুকু থেকেই যায়, এড়াবার উপায় নাই। কিন্তু যদি এই ফরম্যাট ভেঙ্গে ফেলি, অর্থ্যাৎ যদি বাংলা বাক্যের গঠন অনুযায়ী অনুবাদ করি, তাহলে খাঁটি বাংলা ভাব আসবে ঠিকই, কিন্তু তাতে গল্পকারের লেখার ভঙ্গীটা অটুট থাকবে কি না সেটা একটা বিরাট চিন্তার বিষয়।


এটা কখনো কাজ করে, কখনো করে না। যদি না-ই করে, তবে আমার নিজের ও অন্যদের অভিজ্ঞতা বলে, সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায় হচ্ছে অন্য কোন দিক থেকে গল্পটা শুরু করা, অথবা গল্পটা ম‌য়‌লা ফেলার ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলে দেয়া। কেউ একজন, আমি জানি না কে, এই স্বস্তিদায়ক মন্তব্য করেছিলেন, " ভালো লেখকেরা তাদের প্রকাশিত লেখার চেয়ে বেশি অভিনন্দিত হয় সেসব লেখার জন্যে, যেগুলো তারা ছিঁড়ে ফেলে।" এটা সত্যি যে আমি লেখার প্রথম খসড়া বা নোট ছিঁড়ে ফেলে দিতাম না, তবে মাঝে মাঝে তার চেয়েও খারাপটা করতাম, লেখাটাকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দিতাম।

এক‌টা নির্ভুল অনুবাদের ইচ্ছে থেকে এই কাজ শুরু ক‌রিনি আমি, আমার ব‌রং ইচ্ছে হ‌চ্ছিলো এই চ‌ম‌ৎকার লেখাটাকে কোন‌ভাবে বাংলায় লিখে রাখতে, যেন হুট ক‌রে অনেকদিন প‌রে য‌দি ক‌খ‌নো এই লেখাটাকে প‌ড়‌তে ইচ্ছে ক‌রে, ত‌খ‌ন যেন হাতের কাছে পাই লেখাটা। কিন্তু অনুবাদে অভ্যাস না থাকায় আমি বোধ‌হ‌য় খানিক‌টা হাঁপিয়ে উঠেছি। এদিকে আবার খুব দ্রুত‌ই শেষ‌ ক‌রার অস্থির‌তা পেয়ে ব‌সেছে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে দিল্লী ব‌হুত দুর- এখ‌নো!

নিজে মরতে চাইলে মরুন, দয়া করে অন্যদের মারবেন না-


ঊনিশ বছর বয়েসী এই ছেলেটির নাম পুনিত। ভারতীয় ছেলে, ছাত্র হিসেবে পড়তে এসেছে অস্ট্রেলিয়ায়। অনুতাপে ভরা এই কমবয়েসী মুখখানা দেখে অনেকেরই মনে মায়া জাগছে জানি, কিন্তু আমার জাগছে না, বদলে কেবলই তীব্র রাগ হচ্ছে ভেতরে।
এই ছেলেটি দুদিন আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে, ফলাফল- একজন পথচারী ওখানেই নিহত, অন্যজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে।
আমি জানি, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই, কারও হাত নেই সেখানে। কিন্তু দুর্ঘটনার পেছনে যদি থেকে থাকে কারো দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, কি বলবেন তখন?
পুনিত নামের এই ছেলেটি সেদিন রাতে তার কলিগদের সাথে পার্টি শেষ করে গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলো শহরে। পার্টিতে চার বোতল স্কচ আর কোলা পান করে সে। ফিরবার পথেই দুর্ঘটনায় পড়ে, গাড়ি নিয়ে সোজা ধাক্কা দেয় রাস্তার পাশের গাছে, তারপরে ট্রাফিক লাইটে, অতঃপর পাশের হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন মানুষের ওপরে পড়ে তার গাড়ি। তাদের একজন নিহত হলেও পুনিত প্রাণে বেঁচে গেছে।
পুলিশের জেরায় পুনিত শুনিয়েছে এক অদ্ভুত কাহিনি। সে বলেছে, গাড়ি চালানোর সময় তার চোখ ব্যথা করছিলো, খানিকক্ষণ চোখ বুজেও (!!) ছিল সে, চোখ খুলতেই দেখে গাড়ির সামনে কোথা থেকে একটা বিড়াল এসে পড়েছে, সেটাকে বাঁচিয়ে পাশ কাটাতে যেতেই ঘটে দুর্ঘটনা।
এই কথার সত্য মিথ্যা জানা যায়নি।
পুলিশ তার রক্ত পরীক্ষা করে তাতে এলকোহলের মাত্রা পেয়েছে দশমিক ১৬৫। যেখানে আইনী সীমা মাত্র দশমিক শূন্য পাঁচ। প্রায় তিনগুণ। পুলিশি তদন্তে আরো জানা গেছে, সর্বোচ্চ ৬০কিমি/ঘন্টা স্পিড জোনে পুনিত তখন গাড়ি চালাচ্ছিলো ১৫০ কিমি/ঘন্টায়!
মনের ভেতর থেকে একটা তীব্র গালিই শুধু বেরিয়ে আসছে কেবল- ব্যাটা আহাম্মক!
*
যে ছেলেটি মারা গেছে তার নাম ডিন হফস্টি। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলো সে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলো নিজ শহর থেকে মেলবোর্নে। এসে, লাশ হয়ে ফিরে গেল বাবা-মায়ের কাছে।
ডিনের বাবা-মায়ের দুঃখভরা কথামালা ছাপা হয়েছে পত্রিকার পাতায়। তার আত্নীয়েরা বলছে, ভীষণই প্রাণবন্ত ছিলো ডিন, ও ছিলো লার্জার দ্যান লাইফ।
*
পুনিতেরও পেছনের গল্প আছে একটা আমি জানি। সে গল্প শুনলে হয়তো আমার মনেও খানিকটা দয়া হবে তার জন্যে, মনে হবে, আহা বেচারা।
কিন্তু আমি কিছুতেই সেই গল্প শুনতে চাই না, তার প্রতি মায়া জন্মানোর কোন ইচ্ছে আমার নেই।

পুনিত নিজেও খুব অনুতপ্ত, বলছে, বাবা-মাকে মুখ দেখাতে পারবে না।
বলছে, নিহত মানুষটির পরিবারের কাছে সে ক্ষমাপ্রার্থী।
বলেছে, আর কখনই সে গাড়ি চালাবে না।

কিন্তু এ সবের আর কোনই কি মানে আছে আর এখন? একটা মানুষের জীবন শেষ করে দিয়ে তার এই যে উপলব্ধি, এর কি-ই বা মূল্য আছে ডিনের বাবা-মার কাছে?
নেই, কোন মূল্য নেই, কচুটিও নেই। আমি জানি। বুকের মানিককে উপড়ে মেরে ফেলে, এইসব মধুবর্ষী কথাবার্তায় আর মধু খুঁজে পাওয়া যায় না, কেবলই বিষের মতন লাগে।
*
ডিনের বাবা-মার জন্যে এই অখ্যাত বাংলাদেশী ছদ্মনামী ব্লগারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা রইলো। তিনবছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় বুক ভেঙেছিলো আমারও, আপনাদের কষ্ট আমি সম্ভবত বুঝতে পারি।

*
আর সবাইকে বলি, মদ খান গলা ডুবিয়ে, আমাদের আপত্তি নেই। মাতলামি করুন, আমরা গেলাস ঠুকে বা না ঠুকেই শুভেচ্ছা জানাবো- চিয়ার্স।
কিন্তু মাতাল হয়ে দয়া করে গাড়ি চালাবেন না।
দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনাই থাকুক, সেটাকে কাছে ডেকে না আনলেই আমরা খুশি হবো।
খুব ইচ্ছে হলে নিজে গিয়ে লাফিয়ে মরুনগে কোন দশতলা দালান থেকে, কিন্তু দয়া করে, মাতাল হয়ে গাড়ি চালিয়ে আমাদের মারবেন না।


ছবিঃ দি অস্ট্রেলিয়ান/ হেরাল্ড সান ।

শনিবার, অক্টোবর ০৪, ২০০৮

আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা -০১

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বারোটি ছোটগল্প নিয়ে একটা সংকলন, ইংরেজি নাম স্ট্রেইন্জ পিলগ্রিমস
পিলগ্রিমসের দুইটা মানে করা যায়। এক হলো পর্যটক, বা অভিযাত্রীও বলা যায়। অন্যটা হলো তীর্থযাত্রী। আমি ভাবছিলাম, এই বইয়ের বাংলানুবাদ কেউ যদি করতে চায়, কোন মানেটা বেছে নেবে?
ঠিক এই নামে বইয়ে কোন গল্প থাকলে খানিকটা সুবিধা হতো। তখন গল্পের গল্প বা ভাবগতিক দেখে বুঝে নেয়া যেত, অভিযাত্রা নাকি তীর্থযাত্রা, কোনটা আসল উদ্দেশ্য।

আমি অবশ্য ভেবে নিলাম, তীর্থযাত্রা-ই ভাল শোনাবে। কল্পনাটা এরকম যে, গল্পগুলো নানান চরিত্র, তাদের বর্ণনা এবং এইসব বিবরণের প্রয়োজনে একগাদা বাক্যের সমষ্টি- এই পুরো ব্যাপারটা শেষ-মেষ যেখানে যেতে চাইছে, সেটা হলো- একটা গল্প হয়ে ওঠা। অনেকটা তীর্থ-দর্শনের প্রতিজ্ঞা নিয়েই যেন গল্পগুলোর এগিয়ে যাওয়া। এইরকম ভাবনা মাথায় এনে আমি নিজের মনেই রায় দিলাম- স্ট্রেইন্জ পিলগ্রিমসের ঠিকঠাক বাংলা করতে বললে, আমি এটাই বলবো- আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা

বইয়ের গল্পগুলো পড়তে গিয়ে ভাল-মন্দ দুইই লাগছিলো। তবে সে সব নিয়ে আলাপ করা আমার উদ্দেশ্য নয় এখন। ঘটনা হলো, বইয়ের শুরুতে লেখক কর্তৃক লিখিত ভূমিকাটুকু পড়ে চমৎকার লেগেছিলো, এবং পড়তে পড়তেই ভাবছিলাম এটাকে বাংলা করে ফেললে কেমন হয়?

কেমন যে হয়, সেটা আসলেই চিন্তার বিষয়। অনুবাদ কখনো করিনি, অবশ্যই ইশকুলের ব্যাকরণ পরীক্ষার খাতা বাদে। আর, মার্কেজের লেখা বা এ জাতীয় ভাবগম্ভীর লেখা-পত্র নিয়ে এই দুঃসাহস দেখাতে গেলে আমার অল্পবিদ্যা ফাঁস হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে। পিস অব কেইক-কে আমি সত্যিই পিঠার টুকরো লিখে বসতে পারি। এইসব ভেবে টেবে বুঝে নিলাম, অনুবাদ আসলে আমাকে দিয়ে হবে না মনে হয়, যেটা হবে, তা হলো, এই যে পড়লাম, এই পড়া নিয়েই খানিক্ষণ বসে বসে গ্যাজানো আর কি!

যা বলছিলাম, এই বইটির মোট বারোটি গল্পের অন্তত তিনটি আমার কাছে চমৎকার লেগেছে, দুইটি একেবারেই ভাল লাগেনি আর বাকি সাতটি মোটামুটি। এইরকম নানান স্বাদ পাবার পেছনের কারণগুলি নিয়ে লিখতে পারলে খুব ভাল হতো, আলস্য কাটিয়ে কখনো যদি সময় পাই, লিখে ফেলবো বলে আশা করি, তবে আপাতত সেই প্রসংগ থাক, ভূমিকায় ফিরে আসি।

লেখক ভূমিকারও একটা শিরোনাম দিয়েছেন, এবং সেটাও বেশ কৌতুহলদ্দীপক। শিরোনাম হলো- কেন বারোটি, কেন গল্প, আর কেনই বা তীর্থযাত্রী?
এই শিরোনাম নিয়ে ভাবতে গিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়লাম। সম্ভবত এই প্রথম আবিষ্কার করলাম, বাংলা আর ইংরেজি এই দুই ভিন্ন ভাষায় বহুবচনের আচরণ বেশ আলাদা। ঠিকঠাক অর্থ বুঝে নেয়া যায়, কিন্তু লিখতে গেলে বেশ ভাবনায় ফেলে দেয়। যেমন - গল্পের বইয়ের নাম আমি "আশ্চর্য তীর্থযাত্রীরা" ভেবে নিয়েছি, পিলগ্রিমস এর বঙ্গানুবাদ হিসেবে, কিন্তু ভূমিকার শিরোনামে ওই একই পিলগ্রিমস-এর বিপরীতে তীর্থযাত্রীরা লিখতে মনে সায় দিলো না। এখানে মনে হলো, বহুবচনের বদলে একবচন ব্যবহার করাই ভাল হবে। তাই ঠিক করলাম, শিরোনামের বাংলা এভাবেই পড়বো- কেন বারোটি, কেন গল্প, কেনই বা তীর্থযাত্রী?

ভূমিকার শুরুতে লেখক সরল কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের রীতি অনুযায়ী ব্যাপারটা কি এরকম "নামকরণের স্বার্থকতা" জাতীয় কিছু দাঁড়ায়? হয়তোবা। শুরুটুকু এরকম-

এই বইয়ের বারোটি গল্প লেখা হয়েছে গত আঠারো বছর ধরে। বর্তমান অবস্থায় পৌঁছবার আগে এদের পাঁচটি ছিলো জার্নালিস্টিক নোট ও চিত্রনাট্য, এবং একটি ছিলো টেলিভিশনের ধারাবাহিক। বছর পনের আগে একটি সাক্ষাৎকার রেকর্ডের সময় আমি আরেকটি গল্পের বর্ণনা দিয়েছিলাম, পরে যেটি আমার বন্ধু অনুলিখন করে ছাপিয়েছিলো, এবং এবারে আমি সেটিকে তার বর্ণনা অনুসারেই পুনর্লিখন করেছি। এই পুরো প্রক্রিয়াটাই আমার জন্যে একটা আশ্চর্য সৃজনশীল অভিজ্ঞতা, যেটা ব্যাখ্যা করা দরকার। দরকার একারণেই যে, আজকের শিশু-কিশোররা যারা লেখক হতে চায়, তারা বড় হয়ে জানতে পারবে লেখার অভ্যাসে কতখানি অতৃপ্তি ভর করে থাকে আর কতখানি ঘষা-মাজার প্রয়োজন হয় তাতে।

এইটুকু পর্যন্ত বাংলা করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার সীমালংঘন করে ফেললাম। মার্কেজ প্রায়শই দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করেন, গল্পেতো বটেই, এমনকি ভূমিকাতেও তার ব্যাতিক্রম নয়। সেই দীর্ঘ বাক্যের সঠিক অনুভুতি বাংলায় আনতে গিয়ে আমি একটা বাক্যের মাঝখানে একটা দাড়ি বসিয়েছি, এবং ইংরেজিতে যেখানে পাশাপাশি দুটি শব্দ বসিয়েই একটা বিষয়কে বর্ননা করা হয়েছে, আমি সেখানে আলাদা ভাবে দুটি শব্দের তরজমা করে একটা দীর্ঘ বাক্যে রূপান্তর ঘটিয়েছি। এইরকম রকম কারিগরি অনুবাদে জায়েজ আছে কিনা কে জানে। যাকগে, আরেকটু এগুই, দেখা যাক কি হয়।

প্রথম গল্পটির পরিকল্পনা আমার মাথায় আসে সত্তরের দশকের শুরুতে, একটা প্রদীপ্ত স্বপ্নের ফলাফল হিসেবে, যেটি আমি দেখেছিলাম বার্সেলোনায় পাঁচ বছর থাকার পর।

এই লাইন নিয়ে একটু গোলমালে পড়েছিলাম। প্রথমবার পড়ছিলাম এভাবে যে, গল্পের পরিকল্পনা মাথায় আসে বার্সেলোনায় পাঁচ বছর থাকার পর একটা স্বপ্নের ফল হিসেবে। কিন্তু এভাবে পড়তে গিয়ে দেখি, গল্প আর স্বপ্নের মধ্যবর্তী দুরত্ব অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, যেটা ভাবটাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তখন এদের দুরত্ব কমিয়ে আনলাম, একটার বদলে দুটি কমা দিলাম, এবং এইবার এই বাক্যের চেহারা আমার বেশ পছন্দ হলো।

আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম যে আমি আমার নিজের শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছি, গম্ভীর শোকাবহের পোষাকে বন্ধুদের সাথে হেঁটে বেড়াচ্ছি কিন্তু খানিকটা যেন উৎসবের মেজাজে। একত্র হতে পেরে আমাদের সবাইকেই খুব খুশী দেখাচ্ছিলো। এবং অন্য যে কারো চেয়ে বেশী খুশী ছিলাম আমিই, কারণ মৃত্যু আমাকে আমার ল্যাটিন আমেরিকার বন্ধুদের সাথে মিলিত হবার সুযোগ করে দিয়েছিলো, আমার সবচেয়ে পুরনো আর সবচেয়ে ভালো বন্ধুরা, যাদের আমি বহুদিন ধরে দেখি না। অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে সবাই যখন বিদায় নিচ্ছিলো, আমিও চলে যেতে উদ্যত হলাম, কিন্তু তখন তাদের একজন আমাকে চূড়ান্তভাবে বুঝিয়ে দিলো যে আমার আনন্দ-অনুষ্ঠান ওখানেই শেষ। সে আমাকে বললো, " তুমিই একমাত্র ব্যক্তি যে এখান থেকে যেতে পারবে না।" আর কেবল তখুনি আমি বুঝতে পারলাম যে মরে যাওয়া মানে আর কখনোই বন্ধুদের সাথে একত্র হতে না পারা।

এই প্যারাটা বেশ তরতরিয়ে এগুলো দেখা যাচ্ছে, যদিও এবারই প্রথম আমি কমা দেবার পরিবর্তে মূল লাইন থেকে একটা কমা তুলে দিয়েছি। এবং এবারই প্রথম আমার খানিকটা সন্দেহ হলো, আমি কি এই লেখাটার অর্থ ঠিকঠাক ধরতে পারছি?


(ক্রমশঃ )

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৮

ঈদ মুবারক

ঈদের কথা মাথায় এলেই একসাথে তিন-চারটে ছবি ফ্ল্যাশব্যাকের মত করে মনে পড়ে যায়।
এক। দৈনিক পত্রিকা। প্রায় সবগুলোর হেডিং হয়- আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। একদম ছেলেবেলা থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি বছর একই কাহিনি, কোন ব্যাতিক্রম পাইনি। কালকের পত্রিকা খুললেই আশা করি প্রমাণ মিলবে।
দুই। বিটিভি। সার বেঁধে দাড়িয়ে থাকা বাচ্চা কাচ্চা। শরীর আর ঘাড় বিপরীত দিকে প্রায় ১২০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে চিৎকার করে গাইছে- ঘুরে ফিরে, বারে বারে ( এইখানে শরীর বাঁকানোর সাথে সাথে মাথায়ও একটা সেইরকম ঝাঁকি হবে), ঈদ আসে ঈদ চলে যায়.....
তিন। এইখানেও সার বাঁধা মানুষ, তবে বাচ্চা নয়, বড়ো। এরা গাইছেন, ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ।
চার। টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকা বা সংবাদ পাঠিকাদের প্রায় ডুমুরের ফুলের মতন মাথায় লেগে থাকা একটু খানি ঘোমটা এই দিনে পুরোপুরি গায়েব হয়ে যায়! চান রাতের খুশীতে তারা পরিপুর্ণ চাঁদ বদন নিয়ে টিভি পর্দায় হাজির হন!

*
ঈদের সালামীর কথাও ভুলবার নয় কিছুতেই। সালামী পেতে মারাত্মক ভাল লাগতো। ঈদের আগে আগে সেবা প্রকাশনীর ক্যাটালগ দেখে দেখে বেছে রাখতাম কোন কোন বই কিনবো। ঈদ শেষে সালামীর টাকা পকেটে নিয়ে সোজা বইয়ের দোকানে হাজির।
আমার জীবনের স‌ব‌চেয়ে দুঃখের স্মৃতি হ‌লো - সালামী-গ্র‌হিতার গ্রুপ থেকে সালামী-দাতার গ্রুপে চ‌লে যাওয়াটা। ক্র‌ম‌শ‌ লেজ খ‌সে গিয়ে মানষে বিব‌র্তিত‌ হ‌য়ে বান‌র‌ও ম‌নে হ‌য় এত‌ দুঃখ‌ পায় নাই, য‌ত‌টা আমি পেয়েছিলাম আমার এই গ্রুপ বিব‌র্ত‌নের কার‌ণে। মন খারাপ

*
ঈদগুলো বড় হতে হতে কেন যেন ছোটবেলার জৌলুশ হারিয়ে ফেলতো।
কলেজে পড়বার সময় শেষের দিকে মোটামুটি বোরিং ঈদ কাটাতাম। বন্ধুরা সবাই মিলে একসাথে ঘোরা, শহরের নতুন সুন্দরীদের হাল-হকিকত জানা, এইই ছিলো বিনোদন।
এক ঈদের কথা মনে আছে, আহমেদের গাড়িতে সবাই ঘুরতে গেছি কুমিল্লার বিশ্বরোড। সাথে ক্যাসেট নিয়ে গেছি গান শুনবো বলে। কিন্তু কিছুদুর গিয়ে টের পাওয়া গেলো গাড়ির প্লেয়ারটা বিগড়ে আছে, গান শুনবার উপায় নেই। কি মুশকিল। পরে সবাই মিলে ক্যাসেটের খাপ দেখে দেখে নিজেরাই গান গাইতে লাগলাম। একদম সিরিয়ালি, প্রথমে সাইড এ, পরে সাইড বি। মাঝে অপছন্দ হলে মুখ দিয়েই কিম্ভুত শব্দ করে ফাস্ট ফরয়ার্ড করে দেয়া হলো গান। এইভাবে পুরো ক্যাসেট শেষ!

*
এখন সেই রাম আর অযোধ্যা বহুদিন ধরেই নেই নেই। আমাদের ছেলেবেলাও কবেই ফুড়ুৎ। আজ বসে বসে নিজের মনেই লিস্টি মিলিয়ে স্মৃতির জাবর কাটছি, সাইড এ, সাইড বি। রান্নাঘর থেকে হাড়ি-পাতিলের খুটখাট আর বউয়ের রান্নার সুবাস ছেলেবেলার চাঁদ রাতের কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে কেবলই।

আজ চাঁদ দেখা গেছে কি যায় নাই, জানা নাই, তবে কাল এখানে ঈদ।
সবাইকে জানাই ইদ মুবারক!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৮

জুবায়ের ভাই...

অর্ধেকটা জীবন পেরিয়ে এসে আত্মীয়-অনাত্মীয় নানা জনের বিদায়ে শোকাহত হয়েছি, কিন্তু বন্ধু বিয়োগের ব্যথা এই প্রথম পেতে হলো। অনেক দিন বাদে আজ কারো বিদায়ে তীব্র কষ্ট হচ্ছে, হু হু কান্নায় ভরে যাচ্ছে চোখ।

সচলায়তনের পাতা উলটে পুরনো লেখায় চোখ বুলিয়ে যাচ্ছি, কেমন করে বিশ্বাস করি এত প্রাণবন্ত লেখাগুলোর পেছনের মানুষটা এখন আর নেই!
ব্যক্তিগত মেসেজে যেটুকু আলাপ, খুঁজে খুঁজে পড়ছি বারবার, আর চোখ ভিজে আসছে কেবলই।

সচলের পাতায় কার যেন কোন একটা গল্পে আদর করে ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন কিছু। আমি একদম পেয়ে বসি তারপরে, বললাম, এই প্র্যাকটিসটা চালু রাখা দরকার, আপনি নিয়মিত করুন এই কাজটা। হেসে আমাকে মেসেজ দিলেন, আমি কি তবে কানাই মাস্টার? তবে কখনোই তাঁর কথায় মাস্টারি ছিলো না কোন কালে, এত বড় একটা মানুষ, তবু কি অদ্ভুতভাবে কেবলই একজন ভাল বন্ধুর মতন মন্তব্য করতেন প্রতিটি লেখায়।

সচলে আসা তার একটা উপন্যাসের খুব কড়া সমালোচনা করেছিলাম একবার। আর কেউ হলে ওরকম কঠিন করে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতাম কি? মনে হয়, না। জুবায়ের ভাই বলেই পেরেছি। এবং শান্তি পেয়েছি তার প্রতিক্রিয়া পড়ে, তিনি ভীষণ খুশি এরকম সমালোচনায়- মন্তব্যে পাঁচ তারা দিতে চাইলেন!

আমাকে ফাঁকিবাজ বলেছেন বেশ কবার, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে। তাঁর অনেকগুলো সিরিজ লেখা পড়তে পড়তে মাঝপথে থেমে গেছি, মন্তব্য করবো বলে মেসেজে জানিয়ে আর করিনি, সময় পাইনি নানা কারণে। আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমি সময়ের দোহাই দিতেই প্রশ্রয় দিয়ে বলেছেন, ঠিকাছে। বেশ কদিন আগে আমার ঝুম্পা লাহিড়িকে নিয়ে লেখা পোস্টটায় জানালেন, ঝুম্পার গল্প নিয়ে কিছুমাত্র দ্বিমত নেই আপনার সাথে, আমার কথাগুলোও আপনি বলে দিয়েছেন। আমি তাঁকে ধরলাম এবার ফাঁকিবাজ বলে, বললাম, এ কথা বললে চলবে না, আপনার পোস্টও পড়তে চাই।
কিন্তু জুবায়ের ভাই এবার সত্যিই ফাঁকি দিয়ে গেলেন!

সচলায়তনের শুরুতে মনে আছে, কোন কোন বিষয়ে তর্ক হতো তখন। সে সময়গুলোয় জেনেছি তিনি বেশ একরোখাও আছেন। তারপরে দিন যেতে থাকলে, ক্রমশ সচলায়তনের সবচেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের একজন হয়ে যান তিনি। চাইলেই পরামর্শ পাওয়া যেত যে কোন বিষয়ে, নিজে থেকে খবর নিতেন কোথাও কোন সমস্যা হলেই। সবসময়ে বন্ধুর মত পাশে থেকেছেন।
আমার গল্পগুলো নিয়ে ব্যক্তিগত মেসেজে লিখেছিলেন অনেক কিছু। তাঁর মন্তব্যগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে কেবল- সমান্তরাল নিয়ে বলেছিলেন, এই গল্পটি উপন্যাসের উপাদানে ঠাসা। ভেবে দেখবেন উপন্যাসের বিস্তৃতি দিতে চান কি না। অথবা পুরো গল্প থেকে একটা লাইন কোট করে মন্তব্য করেছিলেন, “বাবাকে সেদিন শীতের কুয়াশা কেটে কেটে নদীর ওপার থেকে ক্রমশ কাছে এগিয়ে আসা ডিঙি নৌকার মাঝির মত লাগছিল আমার কাছে - মনে আছে৷” – এই বর্ণনাটি অসাধারণ। - ভীষণ সম্মানিত বোধ করেছিলাম তখন।
লেখা পড়ে ভাল লাগলে জিজ্ঞেস করতেন, পত্রিকায় কেন পাঠাই না লেখা? আমি হেসে বলতাম, আমাকে দিয়ে হবে না। কিন্তু তিনি সাহস দিতেন, আবার পরামর্শও। বলেছেন ছদ্মনামে না লিখে আসল নামে লিখতে, গল্পলেখক হিসেব কনফুসিয়াস-এর বদলে নূরুল হাসানকে পাঠক বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করবে বলে আমার বিশ্বাস। এরকম সদয় মন্তব্য আর কার কাছ থেকে পাবো!

ব্লগের পাতায়, মেসেজের ভিড়ে এত এত আলাপের স্মৃতি আজ কেবলই দুর্বল করে দিচ্ছে বারে বারে। জুবায়ের ভাই নানা বিষয়েই বারে বারে চমকে দিয়েছেন আমাকে। নিজেকে কম্পুকানা প্রজন্মের প্রতিনিধি বলতেন, তবু ব্লগিং করতেন নিয়মিত। লেখা নিয়ে উচ্ছ্বাস বা পরামর্শ জানাতে চাইলে, বিব্রত যেন না হই, এই চিন্তায় মেসেজে টোকা দিয়ে জানাতেন। এইরকম স্বজনসুলভ ব্যবহার ব্লগে প্রথম ওনার কাছ থেকেই পেয়েছি।
হায়, আজ স্বজন হারাবার বেদনাও প্রথম পেতে হলো এই জুবায়ের ভাইয়ের কাছ থেকেই!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৮

হাওয়াই মিঠাই ১১

কদিন আগে, সম্ভবত প্রায় বছর দশেক বাদে, মাঝরাতের শো শেষ করে সিনেমা দেখে ফিরতে ফিরতে এক্স ফাইলসের সুরটা শিস দিয়ে বাজালাম। এক নাগাড়ে অনেকক্ষণ, থেমে থেমে লম্বা সময়। দেখলাম, এত দিনের অনভ্যাসে ভুলিনি তবু, ভালই বাজাতে পারলাম।

সিনেমাটা খারাপ লাগেনি। অনেক আগে টিভি পর্দায় দেখা পর্বগুলোর সাথে তেমন কোন পার্থক্য নেই অবশ্য। আমার মনে হলো, শ্লথ গতির কারণে একদম নতুন দর্শকেরা হয়তো হতাশ হবে, কিন্তু আমাদের মত কিছু দর্শক, যারা পুরোনো স্মৃতি খুঁড়ে ভাললাগা জাগাতে চাইবে, তাদের খুব একটা খারাপ লাগবে না।
অবশ্য মুভিটা নয়, আমি ভাবছিলাম অন্য কথা।
ভাবছিলাম, টিভি পর্দায় যখন খুব উত্তেজনা নিয়ে এক্স ফাইলস দেখার জন্যে অপেক্ষা করতাম, সেটা সত্যিই কি দশ বছর আগের কথা?

বড় হয়ে যাচ্ছি, হতে হতে বুড়োর পথে যাচ্ছি, এইরকম একটা ভাবনা প্রতিনিয়তই আমাকে বিমর্ষ করে। আমার সত্যিই আর বড় হতে ইচ্ছে করে না, ঠিক এইখান থেকে যদি এবাউট টার্ণ নেয়া যেতো, নিয়ে নিতাম। ইতিমধ্যেই জীবনের এতটা পথ পেরিয়ে এসেছি যে, সেখান থেকে যখন তখন দশ বা বারো বছরের এক-একটা টুকরো তুলে নিয়ে পরে স্মৃতিচারণ করতে পারছি, এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে?

এরকম করে ভাবতে চাই না, তবু বারবার এইরকম ভাবনাগুলোই ঘুরে ফিরে হাজির হয়।

আমার এক বাল্যবন্ধুর জন্মদিন গেল কদিন আগেই। রাত দুপুরে ফোন করেছি শুভেচ্ছা জানাতে, হাবিজাবি নানা কথা হতে লাগলো। বিয়ে করিস না ক্যান, বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস- এইসব বলে খুব ক্ষ্যাপাতে লাগলাম, বন্ধুদের জন্মদিনগুলোয় উইশ করার এটাই এখন সবচেয়ে স্বাভাবিক পন্থা। তারপরে হঠাৎই জিগেস করলাম, আচ্ছা বয়েস কত হলো রে? উত্তর পেলাম, সাতাশ! শুনে চমকে উঠি! সাতাশ হয়ে গেছে আমাদের বয়েস! বছর ঘুরে যায়, কিন্তু কখনো আলাদা ক‌রে বয়েস হিসেব করি না, দরকার পড়ে না। তাই আচম্বিতে সঠিক সংখ্যাটার উচ্চারণ শুনে হজম হলো না। ইস, কেন সাতাশ হলো? এর চেয়ে পনেরো কত ভালো ছিলো, সেই সময়ের হঠাৎ ছোট হয়ে যাওয়া হাফপ্যান্টের মতই ছিলো বয়েসটা, এদিকে টানলে যেন ওদিকে কম পড়ে!
আর আঠারো? হায়, বুঝবার আগেই শালিক পাখির মত ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল সেটা, টেরই পেলাম না।

ব্লগে বা ফেইসবুকে কলেজের ছোট ভাইদের যখন গুরুগম্ভীর আলাপ করতে দেখি, অথবা আমাদের বন্ধুরাই যখন মেসেজে জানায়, অমুক অফিসের বিরাট পোস্টে সদ্যই ঢুকলো আজ, বা অমুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন ডে-র ছবিতে শিক্ষকের সারিতে যখন দেখি বন্ধুর মুখ, বা এইসবই বাদ দিলাম, এই আমিই যখন দশটা পাঁচটা কাজের শেষে পাক্কা সংসারীর মতন ভিয়েতনামিজ বাজারে গিয়ে পাকা টমেটোর কেজির দর জিজ্ঞেস করি, তখন সত্যিই মনে হয়, কি-বা দরকার ছিলো এসবের? এর চেয়ে কত ভাল ছিলো বছর শেষে পুরনো বই ফেলে দিয়ে নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে নিতে অপেক্ষা করতে থাকা ছেলেবেলার সময়গুলো!

সচলায়তনেই মাঝে মাঝে পোল ছাড়া হয় নানা রকম, আমি উৎসাহভরে সেসবে ভোট দিই। কদিন আগেই এলো নতুন জরিপ, কোন বয়স-গ্রুপে আপনি? তো, আর কি, ওই পাতা খুলে চোখ বুজে "আঠারো থেকে পঁচিশ" গ্রুপে ক্লিক করতে যেতেই মনে পড়লো, নাহ, মেঘে মেঘে বেলা অনেক বেড়েছে হে বৎস, এইখানে তোমার আর প্রবেশাধিকার নাই! মন খারাপ করে পরেরটায় ক্লিক করলাম।

জীবনে জটিলতা বাড়ে শুধু। ভিনদেশে থাকি, নানান কাগজ পত্রের জোগান দিয়ে চলতে হয় সারাক্ষণ, মহাযজ্ঞসম ব্যাপার স্যাপার, মাঝে মাঝেই অস্থির লাগে এসবে। দেশে ফোন করলে টের পাই, বয়সের অংক শুধু বুড়োই করেনি আমাকে, নানা র‌ক‌ম দায়িত্বের প্যাকেট এনে তুলে দিয়েছে ঘাড়ে, গ‌ম্ভীর হ‌য়ে সেস‌ব নিয়ে মাথা ঘামাই। কাজের জায়‌গায় দায়িত্ব বাড়ে, প‌ড়াশোনাকে বিদায় জানাচ্ছি শিঘ্রী, তার‌প‌রে ন‌তুন জ‌ব নিয়ে ছুটোছুটি- এত‌স‌ব ঝামেলা না চাইলেও যেন আমাকে জোর ক‌রে আমার ব‌য়‌সের ক‌থা ম‌নে ক‌রিয়ে দেয়, কানের পাশে চেঁচিয়ে ব‌ল‌তে থাকে, বেলা বয়ে যায়!

এটা আজব একটা দুনিয়া। এর কাছ থেকে লুকোবারও কোন উপায় নেই। মাগনায় এর আলো-হাওয়া খেয়ে বেঁচে থাকছো, তার শোধ এইভাবেই তোলে এই পৃথিবী, পদে পদে তোমাকে মনে করিয়ে দেয় সময়ের কথা। আমি দরজা জানলা আটকে তাই ঘাড় গুঁজে বসে বই পড়ি। ব্যাটারি শেষ হয়ে ঘড়ির টিক টিক থেমে যায়, আমি তাতেই সময় আটকে দিয়েছি ভেবে উল্লাসে নেচে উঠি। পৃথিবীর যাবতীয় গোলমাল আমার ভাল লাগে না, সময় বয়ে যাওয়া ভাল লাগে না, বয়েস বেড়ে যাওয়াও ভাল লাগে না। উল্টো ঘুরে হাঁটা দিতে চাই, কিন্তু পারি না।
তারচেয়ে বরং সচলই ভাল। জরিপের ভোট তবু তো সে ফিরিয়ে নিতে দেয়। মাউস হাতে নিয়ে আমি ভোট ফিরিয়ে নিই, তারপরে চকচকে চোখে ক্লিক করে দিই "আঠারো থেকে পঁচিশ"-এর ঘরে, সচলায়তন রাগ করে না।

বাইরের ছুটে চলা দুনিয়াকে কাঁচকলা দেখিয়ে আমি এইভাবেই বয়স কমিয়ে যাই, কেউ টের পায় না।

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২১, ২০০৮

ইতাক তুকে মানাইছেনাই রে

এই মিঠে-মন্দ রোদ আর বাতাসে পথ হাঁটতে গেলেই গা জুড়িয়ে আসে আরামে। খুব সাদা, অনেক কালো আর আমার মতন বাদামী রঙের মানুষদের মাঝখান দিয়ে অনায়াস দক্ষতায় গা বাঁচিয়ে পাশ কেটে কেটে হেঁটে বেড়াই। পথ চলতে, কানে ভেসে আসে নানান ভাষার কিচির-মিচির। তবু হঠাৎ কেউ যখন বাংলায় কথা কয়ে ওঠে, আনমনেই পা থেমে যায়। চিড়িয়াখানায় অনেক দিন আগে দেখা বন্দি সেই চিত্রল হরিণের মত কান খাড়া করে ফেলি, আরো খানিকটা কথা বলুক মানুষটা, আরও খানিকটা বাংলা না হয় শুনি।

আমাদের প্রতিবেশী হলো একটা ছোট্ট শিশু-পার্ক। গাছ-গাছালি তেমন নেই, মাঝখানে অনেকগুলো দোলনা, বেয়ে বেয়ে উঠে যাবার বা গড়িয়ে নেমে যাবার ছেলেমানুষী কাঠামো সব। প্রতি বিকেলে অনেকগুলো মানবশিশু, ঠিক যেন স্বর্গ থেকেই নেমে আসে এখানটায়। বাথটাবের ওপরে বহু যত্নে উঠে দাঁড়িয়ে একদিন আবিষ্কার করি, সেই স্বর্গছেড়াদের কেউ কেউ আধো আধো বোলে বাংলায় অভিমান করে তাদের বাবা-মায়ের সাথে। আমার আড়িপাতার হার দিনে দিনে বেড়ে যায়, ছোট্ট আর আদুরে সেই মুখগুলো থেকে মধু মাখা বাংলা শুনে শুনে মন জুড়িয়ে যায়।

বাড়ির পাশের পাঠাগার খুব অল্প সময়েই আমার প্রিয় জায়গা হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের দারুণ টানাটানি, তবু সপ্তাহে একদিন গিয়ে ঢুঁ মারি ওখানে। একগাদা বই নিয়ে আসি, কিছু পড়ি কিছু পড়ি না, পড়া বইই বারে বারে পড়ি। এরকম চলতে চলতে মনে পড়ে আরেক পাঠাগারের কথা, বাংলা বই মেলে ওখানে। যেতে আসতে কমসে কম সত্তর কিলোমিটারের হ্যাপা, তবু মন টানে, একদিন ঠিকই সময় করে চলে যাই। নিয়ে আসি পড়া না পড়া অনেক বই। তারপরে রুটিন বদলে যায়, ওখানে যাওয়া আসার ঘনত্ব বেড়ে যায় আমার, বাড়ির পাশের পাঠাগার পর হয়ে যায়, পয়ত্রিশ মাইল দুরবর্তী কোন এক সতীনের অভিশাপে মশগুল সে তখন।

কোন এক রোদ্দুর ভরা দুপুরে শহরের মাঝ দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎই চমকে উঠি। অফিসফেরতা একগাদা মানুষ। কোট-স্যুট-টাই, পরিপাটী, অথবা কালো স্কার্ট আর সাদা শার্ট। এর মাঝেই, কি আশ্চর্য, গোলাপী রঙের সালোয়ার-কামিজ পরা এক কমবয়েসী মেয়ে দাঁড়িয়ে। ঠোঁটে টুকটুকে লাল লিপস্টিক, চোখে বিহ্বল দৃষ্টি। বুকের ওপরে হাতের ফাইলটা এমন করে ধরা, যেন কার্জন হলের গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হওয়া কোন সদ্য তরুনী।

আমাকে অবাক করে এই ভর দুপুরেই ওর সামনে এসে দাঁড়ায় চৈতালী বা শ্রাবণের লাস্ট বাস, ভেলপুরী হাতে নিয়ে ছুটতে ছুটতে বাস-মামার চোখে পড়ার চেষ্টায় ছুটছে সেই মেয়ে...।

এইসব দেখে আমি প্রতিনিয়ত চোখ বুজি। সমুদ্র পেরিয়ে কোন এক দুরবর্তী সবুজ দেশের কোন একটা লাল পাহাড় আমার মনের ভেতর গুন গুন করে গাইতে থাকে, ইতাক তুকে মানাইছেনাই রে, ইক্কেবারে মানাইছেনাই রে।

আমি মনের ভেতরে কান চেপে বসে থাকি, এইসব মিথ্যে গানের কী-ই বা মানে হয়!

শুক্রবার, আগস্ট ১৫, ২০০৮

প্রিয় বাংলাদেশ ২

চাঁদের শেষ মাথায় কেবলই ধূসর আর ধূলো
তার প্রান্ত রেখায় দাঁড়িয়ে-
ঘামে-কালো-চকচকে বাবা আমার-
গলায় মুয়াজ্জিনের আবেগ ভিড়িয়ে এনে
মেঘস্বরে ডেকে ওঠে- কানুরে, বাপ, ও কানুউহ--

আমি চকিতেই হাতের তালুতে লুকিয়ে ফেলি
আমার অলৌকিক ইস্টিমার।
আসাদের ছেঁড়া-ফাঁড়া শার্টের বুকপকেটে
ডুবে ডুবে উঁকি দেয়- দুএকটা জোনাকি।

বিলের পাথুরে কালো পানির উপর দিয়ে
তরতর আমি ছুটে গিয়ে হাঁকি- বাবাআ।

স্বপ্নদৃশ্যের জাল এভাবেই রোজ ছিঁড়ে গেলে,
শোল মাছের মরণ যন্ত্রণায় আমিও জেগে উঠি শয্যায়।

বুকের যে পাশটায় ফাঁকা ফাঁকা লাগে,
আমাকে আশ্বস্ত করে সেখানেই শুয়ে থাকে
বাবার পিঠে আঁকা একফালি সবুজ মানচিত্র।

১৪/০৮/০৮

( কোন সিরিজ টিরিজ না, অনেক আগে প্রিয় বাংলাদেশ নামে আরেকটা কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলাম, এ কারণেই এবারেরটা পরে ২ যুক্ত হলো।
আমি অবশ্য এই নম্বর-টম্বর নিয়ে খুব একটা ভাবিত নই, আজ অনেক দিনের বাদে আমার সেই প্রিয় কাকের ঘাড়ে চড়ে একটা কবিতা শেষমেষ আমার কাছ এসে পড়েছে, আমি তাতেই খুশি! )

ঝুম্পার সাথে দেখা-

আগে থেকে কোন রকম প্ল্যানিং ছিলো না, অন্য কি একটা বই খুঁজতে গিয়ে এখানকার লোকাল লাইব্রেরীর কোন একটা শেলফে একদম হঠাৎই চোখে পড়লো বইটা। ইনটারপ্রেটার অব মেলাডিজ। বইটার নাম শুনেছি আগে, কিন্তু আমার তখন অন্য লেখকের বই শেষ করার চিন্তা মাথায়, তাই নিবো না ঠিক করে দরকারী বইটা সাথে নিয়ে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে পার্কিং-এ পৌঁছে যাই, তারপর হঠাৎ কি মনে করে আবার ওখান থেকে ফিরে এসে বইটা ইস্যু করে ফেলি।

ঝুম্পার সাথে শেষ মেষ আমার দেখা হলো এইরকম আচমকাই, নেহায়েত অনিচ্ছায়, অনেকটা দুইটা কিনলে একটা ফাউয়ের স্টাইলে দোকান থেকে তুলে নেয়ার মত।

তো, এই পরিচয়টা নিবিঢ় হতে খুব বেশি সময় লাগলো না। একটু অবশ্য লাগলো। আমি শুরুতেই বইটা পড়লাম না। অন্য যে বইটা পড়ছিলাম, ওটা বেশ দীর্ঘ একটা উপন্যাস। পড়তে পড়তে ক্লান্তি চলে এলে আমি মাঝে মাঝেই অন্য লেখায় ডুব দেই। এরকম অনেকবার হয়েছে যে একসাথে আমি দুই বা তিনটে বইও পড়া শুরু করেছি, এবং প্রায় একই সাথে সবগুলো পড়া শেষ করেছি। আমার তাতে কোন সমস্যা হয় না। অনেক উল্টা পাল্টাও করি। মাঝে একবার ইলিয়াসের নেশায় পেয়েছিলো, তো পড়তে পড়তে মাথা মাঝে মাঝে ভোঁ ভোঁ করতো, তখন হাল্কা কি পড়া যায় ভাবতে ভাবতে টেনে নিয়েছিলাম সিডনি শেলডন। কাজ হয়েছে এই যে ইলিয়াস মাথায় জমে গেছে, সিডনির বইটা শেষ করেছি অবশেষে, তবে ভদ্রলোকের সাথে আর কখনো আমার সাক্ষাৎ হবে কি না সেরকম একটা সন্দেহ আমার রয়েই গেছে।

তো, ঝুম্পার ব্যপারটা এরকমও হতে পারতো। খানিকটা রিস্ক তো ছিলোই। যে বিশাল বইটা পড়ছিলাম, পড়তে গিয়ে থামতে হচ্ছিলো প্রচুর। এরকম আগেও থেমেছি বহুবার হুমায়ুন আজাদ পড়ার সময়। বেশ যন্ত্রণা পেতে হতো আজাদ পড়তে গেলে। আমি চিরকালই দেখেছি আজাদ পাঠে কোন আরাম নেই, তবে আনন্দ আছে, আবার সেই আনন্দটা যন্ত্রণাদায়ক আনন্দ, খানিকটা পারভার্টেড আনন্দও বলা যায়।

কথা সেটা না, বলছিলাম ঝুম্পার কথা। তো, পড়ার ক্লান্তি কাটাতে ঝুম্পা লাহিড়িকে টেনে নিলাম, নিয়ে বুঝলাম ভুল করিনি।

ইন্টারপ্রেটার অব মেলাডিজ সব মিলিয়ে নয়টি গল্পের একটা সংকলন। বিভিন্ন সময়ে নিউ ইয়র্ক ও তার বাইরের নানা পত্রিকায় গল্পগুলো ছাপা। ঝুম্পার বাংগালি ব্যাকগ্রাউন্ড শুনেও বোধকরি আমি আরেকটু আগ্রহী হয়েছি।

বইয়ের প্রথম গল্পের নাম "এ টেম্পোরারি ম্যাটার"। একটা ছোট নোটিশ দিয়ে গল্পের শুরু, নোটিশের বক্তব্য অনেকটা এরকম- অত্র এলাকায় আগামী পাঁচদিন সন্ধ্যার পরে ঘন্টা দুয়েকের জন্যে বিদ্যুত থাকবে না। ব্যাপারটা সাময়িক, পাঁচদিন পরে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।

এখানে, মেলবোর্নে, মাঝে মাঝেই এরকম সব নোটিশ পাওয়া যায় পোস্ট বাক্স হাতালেই, রাস্তার কাজ হবে বা পানির কাজ বা হাবিজাবি আর কিছু, সিটি কাউন্সিল থেকে জানায় আমার সমস্যার জন্যে তারা অনেক দুঃখিত, বা এরকমই সব।

তো, এইরকম একটা নোটিশ নিয়ে গল্পটা কতদুর এগোয়, এটা দেখতে গিয়ে আমি বেশ চমকে গেলাম। ঝুম্পা অনেকটা সুড়ঙ্গের মত করে একটা বাড়িতে আমাকে টেনে নিয়ে গেলো, যেন ঠিক সামনে থেকে ডেকে ডেকে, যেন হারিকেন হাতে করে পথ দেখিয়ে।
এক জোড়া ভারতীয় দম্পতির পাঁচদিনের জীবন নিয়ে সেই কাহিনি, যেখানে তারা অতীত নিয়ে ব্যাথাতুর হয়, ভবিষ্যতের ভাবনায় চমকে ওঠে পরস্পরকে ভালবাসে বা ঘৃণা করে।

এই গল্পটা পড়ার পরে আমি এইবার বইটা নেড়ে চেড়ে দেখলাম। বইয়ের ফ্ল্যাপে অনেক সমালোচকদের ভাল ভাল কথা লেখা আছে, বইয়ের প্রচ্ছদে কালো হরফে লেখা আছে বেস্ট সেলার। এইসব কথাগুলোকে অবশ্য আমি খুব একটা বিশ্বাস করি না, প্রায় সব বইয়েই ভাল ভাল কথা লেখা থাকে, সব বইই কেমন করে জানি বেস্ট সেলার হয়ে যায়।

দ্বিতীয় গল্পটা আরও একটা চমক আমার জন্যে। গল্পের নাম- হোয়েন মি.পীরজাদা কেইম টু ডাইন। চমকাবার কারণ- এই গল্পের পটভূমি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ, তবে ঢাকা নয়। নিউইয়র্কে পড়াতে বা পড়তে যাওয়া কোন এক বাংলাদেশির গল্প এটা, যার নাম পীরজাদা। যুদ্ধের পুরোটা সময় এই ভদ্রলোক পরবাসে বসে কি এক অস্থিরতায় দিন কাটিয়েছেন, তারই গল্প এটা। আমার খুবই ভাল লাগল গল্পটা। সরাসরি যুদ্ধের তেমন কোন বর্ণনা নেই, তবু এটা একরকম আমাদের যুদ্ধেরই গল্প।

বাকি গল্পগুলোর প্রতিটিই বেশ চমৎকার। এ রিয়েল দারওয়ান- যেমন। এই গল্পটার ভঙ্গি অনেকটা রূপকথার গল্পের মতন। একদম শুরুটুকু পড়েই শেষটুকু জেনে গিয়েছিলাম যে কী হবে, তবু ঝুম্পার কাছ থেকে শোনার লোভেই পুরোটা পড়ে গেছি। অথবা "সেক্সি"- ছোট্ট এক বাচ্চার চোখে নিজেকে দেখার চেষ্টা। "মিসেস সেন'স", প্রবাসে থাকেন ভদ্রমহিলা, কিন্তু কিছুতেই গাড়ি চালানোটাকে বাগে আনতে পারছেন না, এই অদ্ভুত মনোদৈহিক টানাপোড়েন। বাকি গল্পগুলোও বেশ।

আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে- যে গল্পটার নামে বইটার নাম- সেই ইন্টারপ্রেটার অব মেলাডিজ গল্পটাই।
ভারতে বেড়াতে যায় এক দম্পতি, তাদের ট্যুর গাইডের পার্ট-টাইম জব হচ্ছে স্থানীয় এক ডাক্তারের সহকারী হিসেবে কাজ করা। ডাক্তার লোকাল ভাষা বুঝে না, রোগীরা তাই এসে তার কাছে রোগের বর্ণনা দেয়, আর ট্যুর-গাইড সেটাকে ইন্টারপ্রেট করে বলে ডাক্তারকে। এই অদ্ভুত দোভাষীর চাকরির কথা আমি কখনো শুনিনি। এটা জানাটা একটা আবিষ্কারই বটে। তারপরে গল্পের বুনোটে আরও বেশি জমে গেছি।

সব পড়ে টড়ে ভীষণই ভাল লাগলো। খুব ঝুট ঝামেলা নেই বর্ণনায়। চরিত্রের ভিড় ভাট্টা নেই। এমন করে গল্প বলে ঝুম্পা যেন আমাদের ঠিক পাশের বাড়ির মানুষদের গল্পই বলছে, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে নামতে যাদের সাথে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হয় আমাদের। এবং গল্প বলায় কোন জমাটি মেজাজ নেই। আসরে বলার মত করে গল্প বলা নয় সেটা। বরং- ব্যস্ততায় ছুটে যাবার ফাঁকে পরিচিতের সাথে যখন দেখা হয়, তখন দম ফেলার ফাঁকে হাত ধরে চট করে কুশল জিজ্ঞেস করার মত করে গল্প বলে যাওয়া- এমনই নির্লোভ নিপাট বর্ণনা।

সম্ভবত এই প্রথম বইয়ের মলাটে লেখা কোন একজন সমালোচকের একটা কথা আমার পছন্দ হলো। তিনি বলেছেন, ঝুম্পার গল্পগুলো এমনই যে পড়া শেষ করে ঠিক পাশের লোকটাকেই ধরে হাতে বইটা ধরিয়ে দিয়ে বলতে ইচ্ছে হবে, পড়ো এটা!

কথাটা ভীষণই সত্য। ঘরের লোককে ইতিমধ্যেই জোর করে পড়িয়েছি। এবার আশপাশে তাকিয়ে দেখি সবচে কাছে আছে সচলায়তন। এবার তাহলে আপনাদের পালা।
পড়ে ফেলুন দেখি বইটা।

শুক্রবার, আগস্ট ০৮, ২০০৮

সামহোয়্যারইনব্লগে দেয়া সাক্ষাৎকার

কনফুসিয়াসের সাথে করি বাংলায় চিৎকার

১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৩


".... করি বাংলায় চিৎকার..." না লিখে "বাংলায় চিৎকার করি" লেখা যেত। কিন্তু কনফুসিয়াস যখন লেখে তখন শব্দ-দ্যোতনা তৈরী হয়, হৃদয় খাবলে খায়, আর এমনি করে বাংলাব্লগস্ফিয়ারে "করি বাংলায় চিৎকার" বাংলাভাষার ব্রান্ড এম্বেসেডার হয়ে ওঠে। বুকফাঁটা চিৎকারে মাতম তুলে জানায়, বাংলায়, হ্যা বাংলায় আমি হাসি, কাঁদি, চিৎকার করি! এ মাতম ছুয়ে যায় জৈষ্ঠ্যের কৃষ্ণচুড়া, লালে সয়লাব হয়ে ওঠে চেরিরকুঞ্জে, হয় রাধাচুড়ার উৎসব, বরফের বুকে বাংলায় শ্যামলিমা, উহ! এই একটা উচ্চারণ কি স্ফুর্তি তোলে প্রবাসে, পরবাসে আর দেশের মাটিতে!

আগুণের পরশমনিতে বিখ্যাত কনফুসিয়াসের আবির্ভাব তাই নিঃসন্দেহে একটা মাইলফলক। জন্মযুদ্ধ, বীক্ষণসহ অসংখ্য বাংলা প্লাটফর্ম তৈরীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি। তার ব্লগের লেখায় একটা নির্মল টলমলে স্ফটিকস্বচ্ছতা রয়েছে। আজকে তার জীবনের ভাবনা আর বিশ্লেষনে আমরা অবগাহন করবো।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): আগুনের পরশমনিআগুনের পরশমনিআগুনের পরশমনি আগুনের পরশমনি ;
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৬

  • ১০৮ টি মন্তব্য
  • ১১০৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print





পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৫
comment by: হনুমানজী বলেছেন: যদি ম্যাতখার না করো তাইলে সব ফাইন
২. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৬
comment by: সুমন চৌধুরী বলেছেন: জার্মানী থেকে সুপ্রভাত!
৩. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৭
comment by: অমিত বলেছেন: কনফুসিয়াস নাম কেন ??
৪. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৭
comment by: কৌশিক বলেছেন: কনফুসিয়াস, আপনাকে অভিনন্দন। আপনার কাছে প্রথমেই আপনার নামের বিষয়ে জানতে চাইবো। কেন এ নাম?
৫. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৮
comment by: এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন: ১। কনফুসিয়াসের লেখা লেখির অনুপ্রেরনা কে (বউ বাদে)?
২। লেখালেখির জীবিত এবং মৃত (যদি থাকে) আইডল কে?
৩। ব্লগিং কখন শুরু কেন শুরু?
৪। জীবনের লক্ষ্য কি?
৫। বড় কোন লেখার ইচ্ছে আছে?
৬. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩২
comment by: অমিত বলেছেন: ছদ্মনামের আড়ালে আসল মানুষটা নিজেকে কতখানি লুকাতে পারে ??
৭. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৩
comment by: দ্রোহী বলেছেন: ১. আপনার একটা পোষ্ট লিখতে কতটুকু সময় লাগে?পোষ্ট করার আগে কতবার রিভিউ করেন? কতটুকু সময় নিয়ে করেন?

২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে আপনি যখন প্রজাপতি কে সাথে নিয়ে ক্যাফেটারিয়াতে খেতে যেতেন, তখন কি অন্য মেয়েদের দিকে তাকাতেন? (আমি প্রজাপতিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, উনি সঠিকভাবে বলতে পারেন নি। বরং বলেছেন, তাকানোর সম্ভাবনাই বেশী।)

৩. যতদুর জানি আপনার বসের নাম "সত্যজিৎ রায়"- আপনার লেখায় কোন লেখকের ছায়া সবচাইতে বেশী পাওয়ার সম্ভাবনা?
৮. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৪
comment by: হনুমানজী বলেছেন: ছাগুর কোন কার্যকলাপটি আমাকে বিষম আনন্দ দেয়
৯. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩৪
comment by: দ্রোহী বলেছেন: ৪. আপনার ক্যাডেট জীবনে যদি রুমমেট হিসাবে ত্রিভুজকে পাইতেন তাহা হইলে কি করিতেন?
১০. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৪
comment by: কৌশিক বলেছেন: ১. ব্লগস্পট ও সামহোয়ার দুটোতেই আপনি প্রচুর সময় দেন। নিজস্ব লেখালেখির ক্ষেত্রে দুটোর তুলনামূলক বিচার করুন?

২. আমার দেখা মতে পশ্চিমবংগীয় ব্লগারদের মধ্যে আপনার পরিচিতি ব্যাপক। বাংলা ব্লগীং এ বাংলাদেশ ও পশ্চিমবংগের ধারার মধ্যে কি কি সাদৃশ্য ও পার্থক্য লক্ষ করেন?

৩. বীক্ষণ নিয়ে পরবর্তি চিন্তাভাবনা কি?

৪. জন্মযুদ্ধ নিয়ে এ মুহূর্তে আপনার আর কি কি পরিকল্পনা রয়েছে?
১১. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫২
comment by: হিমু বলেছেন: কনফুসিয়াসের জন্য শুভ কামনা দিয়ে প্রশ্ন শুরু করি।

১. সামহোয়্যার ইন ব্লগের মূল সমস্যাগুলি কী কী বলে আপনার মনে হয়?

২. বাংলা ব্লগচর্চা ছোট গল্পের ধারায় একটা বড়সড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে বলে মনে করেন কি?

৩. ব্লগে কিছু লিখে তার প্রায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লাভ কি কোন নির্দিষ্ট ছকের দিকে ঠেলে দিতে পারে একজন ব্লগারকে?

৪. ব্লগে মডারেটরগোষ্ঠীর নিঃশব্দ পদচারণাকে কিভাবে দেখেন?

৫. বাংলাদেশ এবং ভারতীয় বাংলার ব্লগারদের মধ্যে ব্লগিংগত মূল পার্থক্যগুলো কী কী বলে আপনার মনে হয়েছে?
১২. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫৫
comment by: কৌশিক বলেছেন: ১. ব্লগের কি কি সামাজিক দিকনির্দেশনা অভিনব ও অনুকরণীয় মনে হয় যা সমাজে অনুপস্থিত?
২. আমাদের সমাজব্যবস্থার কোন বিষয়টা আপনি পরিবর্তনে ইচ্ছুক?
৩. সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোতে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন রাখলে একটা দার্শনিক শূণ্যতা তৈরী হয় বলে অনেক আইডিওলজিস্ট মনে করেন। কিছুক্ষেত্রে তারা ধর্মকে পাশ্চত্য বা সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার অবলম্বন হিসাবেও মনে করে থাকেন। বিষয়টাকে কিভাবে দেখেন?
৪. সামাজিক অবস্থানের ক্ষেত্রে নিজের বিবাহিত ও অবিবাহিত রূপটির কি কি বৈশিষ্ট্য আপনার কাছে পরিলক্ষিত হচ্ছে?
১৩. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৬
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: খেলুম না।আমি আইবার আগেই সবাই আমার কোশ্চেন গুলা জিগাইলা কেন তোমরা?
আমার প্রশ্ন পত্র কে ফাস করছে?
১৪. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৬
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: সবাইকে শুভেচ্ছা।
আমি হাজিরা দিতে এলাম। আস্তে ধীরে পড়ে উত্তর দিচ্ছি। কিন্তু শুরুতেই একটা কথা, প্রশ্ন কঠিন হলে কিন্তু আমি উত্তর দিবো না। এখন কোন কোন প্রশ্ন আমার কাছে কঠিন লাগবে, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। :-)
১৫. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১০
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: কনফু,আপনাকে প্রশ্ন শুরু করছি ।

১/ ছদ্মনামে লেখাকে কিভাবে দেখেন?আসল নামে না লেখার কারন কী?

২/ব্লগে অনেক ভালো ভালো লেখকের দেখা পাই,যারা খুব মনোযোগ দিয়ে ব্লগিং করেন কিন্তু মূলধারায় লিখেন না।এটার কারন কী হতে পারে?

৩/বাংলা ব্লগিংয়ে ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য করুন।

৪/ মন্তব্য করুন :"৫ বছর পরের সামহোয়্যার ইন। কী অর্জিত হবে ,কী হবে না"
১৬. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: নাম প্রসঙ্গেঃ
আমার নাম নিয়ে তেমন কোন রহস্য নেই। বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের ভক্ত ছিলাম। ওখানের ঐ স্লোগানটা খুব প্রিয়- ' মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।' মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সেটা। খুঁজে পেতে জানলাম এটা নাকি কনফুসিয়াসের কথা। এসব ক্ষেত্রে আমি লিংকের মত কাজ করি। কনফুসিয়াস নিয়ে আরো কিছু পড়াশোনা করলাম। ব্যাটার কথাবার্তা বেশ পছন্দ হলো।
সে সময় নেটে নানারকম আড্ডা-র সাইটে ঘুরঘুর করতাম। ওখানে নামের জায়গায় নিজের নাম না দেয়াটাই নিরাপদ মনে হচ্ছিলো, তার বদলে লিখতে লাগলাম- কনফুসিয়াস।
এটাই শানে নূযুল।
১৭. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ মাহবুব মুর্শেদ,
১। অনুপ্রেরণা অনেকে। তবে খানিকটা সম্ভবত জিনেটিক্যালি পাওয়া। বাবা-র এই সমস্ত ক্ষেত্রে উৎসাহ ছিলো। এখনো আছে।
( বউয়ের কথা বাদ দেয়া ঠিক না। কৌশিকদার নোটিশ দেখে ইচ্ছা করছিলো ওনারে ধরে মাইর লাগাই। এ কথা বউরে বলতেই উলটা ঝাড়ি খাইলাম। আমি সুবোধ ছেলের মত এখন বসে বসে উত্তর দিচ্ছি, তার পেছনেও বউয়ের অবদান! )

২। তেমন কোন আইডল নেই। একেকসময় একেকজনের লেখা ভাল লাগে।
৩। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ব্লগিং শুরু। সারাজীবনই লিখতে চেয়েছি, দেশের বাইরে এসে ব্লগের চেয়ে সহজলভ্য কোন মাধ্যম খুঁজে পেলাম না। তাই-ই ব্লগিং ।
৪। জীবনের লক্ষ্য- ঝামেলাহীন ভাবে খানিকটা শান্তিতে জীবনটা কাটিয়ে দেয়া।
৫। বড় লেখার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে একসময় শুধুই লিখবো, আর কিছু করবো না।
১৮. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২০
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ অমিত,
ছদ্মনামের আড়ালে অনেকেই লুকাতে পারে। আমি একেবারেই পারি নি। সবাই আমারে চিনে! :-((
১৯. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২১
comment by: এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন: ৫। তোমার মত ভাল লেখক না হলেও, আমারও সেরম ইচ্ছে করে। :(
২০. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৪
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ দ্রোহী,
১। সাধারণ পোষ্ট লিখতে খুব বেশি সময় লাগে না। রিভিউও করি সাধারণত পোষ্ট করে ফেলার পরে। তার আগে না।
২। চারপাশের মেয়েদের দিকে অবশ্যই তাকাতাম! প্রজাপতি জানবে কি করে বলেন? ওর চোখ আমার দিকে থাকলে তো! :-০
৩। হু, সত্যজিৎ-রে বস মানি। লেখা, আঁকা এবং সিনেমা, তিনটের ভূত একসাথে মাথায় ঢুকে বসে আছে অনেকদিন, সেটাই মূল কারণ।
আমার লেখায় কার ছাপ আছে সেটা আমার পক্ষে বলা মুশকিল। লিখতে তো চাই নিজের মত করেই, হয়তো পারি, হয়তো পারি না।
২১. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৫
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: হনুমানজী,
ছাগুর বেশিরভাগ কার্যকলাপই আমাকে বিষম বিরক্ত করে। আনন্দ দেয় এরকম কিছু একেবারেই খুঁজে পাচ্ছি না!
২২. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৭
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: দ্রোহী,
ক্যাডেট লাইফে যদি ত্রিভূজরে রুমমেট পাইতাম, আপনাদের তাইলে বহু আগেই আমার মাগফেরাত কামনার জন্যে হাত উঠাইতে হইতো।
নির্ঘাত সুইসাইড খাইতাম!
২৩. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৮
comment by: দ্রোহী বলেছেন: ৫. প্রজাপতিকে না পেলে কি করতেন?
২৪. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩৬
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কৌশিকদা,
১। ব্লগস্পটে খুব একটা সময় দিতে হয় না এখন। সামহোয়্যারে লিখে ওখানে কপি মেরে দিই।
এখানে ব্লগিংটা অনেক মজার কারণ ইন্টারএকশানের জন্যে মানুষ প্রচুর। তবু ব্লগস্পটও আমার খুব প্রিয় জায়গা, মাঝে মাঝে ভিড়ে দমবন্ধ লাগলে ওখানে গিয়ে নির্জনে ব্লগিং করি। :-))

২। পশ্চিমবংগে বাংলায় ব্লগিং-টা বাংলাদেশের মত জনপ্রিয় হয় নি এখনো। অনুপাত খুঁজলে এখনো সেটা ১:৫ বা আরো বেশি হবে হয়তো।
ওখানে আমি পরিচিত, কারণ- বছর তিনেক আগেও বাংলাদেশিদের এরকম সাইট একটাও ছিল না। যেখানে বাংলালাইভ বা গুরুচন্ডালি অনেক আগে থেকেই অনলাইনে আছে। বাংলায় কথা বলবার লোভেই ওখানে বসে থাকতাম অবসর সময়ে। তাই সবাই সবার পরিচিত।

৩। ও ৪।
এই সব ক্ষেত্রে আমি খুব খারাপ মানুষ। দায়িত্ব ভাল লাগে না। গাছে তুলে মই কেড়ে নিয়ে ভেগে যাই। জন্মযুদ্ধের জন্যে পিয়াল ভাই আছে জানি, আর বীক্ষণের জন্যে সুচেতাদি। আমি তাই 'লাগলে আছি'।
এমনিতে আমার নিজের প্ল্যান হইলো- এসব নিয়ে যেকোন নতুন উদ্যোগের সাথে ঢুকে পড়া। কারণ, আমি জানি, শুরুটা করে দিলে সেটা একসময়ে হালে পানি পেয়ে যায়।
২৫. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৭
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ হিমু ভাই,
১। কারিগরি সমস্যা অনেক। ওগুলা আস্তে আস্তে ঠিক হবে আশা করি।
অন্য সমস্যার মধ্যে বলা যায়, ব্লগিং ব্যাপারটাকে অনেকে না চাইতেও খুব সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলে। পারসোন্যাল লাইফেও সেটার খুব প্রভাব পড়ে যায়।
আমি চেষ্টা করি দুটার মধ্যে ক্ল্যাশ না করতে। ব্লগ জায়গাটা একটা মিছিলের মত। মিছিলের সবাই এক মন নিয়ে থাকে না, হেলাল হাফিজের কথা- মিছিলের সব হাত, কন্ঠ পা এক নয়, এখানে সংসারী থাকে, সংসার বিবাগীও থাকে। আমি তাই যতক্ষণ মিছিলে থাকি, মিছিলের স্লোগান দিই, সেখান থেকে বের হলে একদম নিজের মানুষ।

২। ব্লগচর্চা নতুন কোন ধারার সৃষ্টি করছে, এরকমটা এখনো জোর দিয়ে মনে হয় নি। তবে সব কিছুরই তো কিছু না কিছু প্রভাব আছেই। আগে থেকে যারা লিখেন, তাদের মধ্যে খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। এখানেই যারা লিখতে লিখতে উঠছেন, তারা কিছু করলেও করতে পারেন।
২৬. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪৯
comment by: সুমন চৌধুরী বলেছেন: না লিখতে পারলে কেমন লাগে?
২৭. ১৯ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৫০
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ হিমু ভাই,
৩। নির্ভর করবে ব্লগারের উপর। অনেককে পারবে ছকে ফেলে দিতে। অনেককে পারবে না।
৪। মডারেটিং আমার ভাল লাগে না। সেটা যেখানেই হোক।
৫। ভারতীয় ব্লগারদের মধ্যে সিরিয়াস টাইপ লেখার চল বেশি দেখেছি। তুলনায় এ দেশীয়রা পাঁচমিশালী বিষয়ে লিখেন।
২৮. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:০২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কৌশিকদা,
১। ব্লগটাকে সমাজ থেকে আলাদা মনে হয় নি কখনো। একইরকম মানুষ দু জায়গায়। তাদের হাসি কান্না বা প্রতিক্রিয়ায় তেমন পার্থক্য পাই না।
২। সব মানুষকে সৎ বলে ভাবার সুযোগ পেতে চাই।
৩। এটা একটু কঠিন বিষয়।
অল্প কথায় বলি। সবকিছু পুরোপুরি অনুসরণ করা গেলে সমস্যা থাকে না আসলে। যদি পুরোপুরি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র করা যেত, তাহলে দেখতেন সবাই খুব শান্তিতে আছে। আবার পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদি সিস্টেমের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। সমস্যা বাধে যখন এক সিস্টেমের মধ্যে অন্যটা উঁকি দেয়।
বর্তমান সময়ে শুধু ধর্মিভিত্তিক সিস্টেম চলবে কি না, সেটা সমাজবিদেরা ভাল জানবেন। তবে আমার নিজস্ব ধারণা, ব্যাপারটা সম্ভব নয়। আমরা এতদিনে অনেক রকম স্বাদ পেয়ে গেছি। কোন একটায় আটকে থাকা সম্ভব হবে না আমাদের পক্ষে।
৪। নিজের বিবাহিত ও অবিবাহিত রূপের তুলনা করার সুযোগ পাই নি এখনো ভাল করে।
তবে আমার কাছে তেমন একটা পরিবর্তন মনে হচ্ছে না। আগে যারে বউ ডাকতাম, এখনো তারেই ডাকি। :-))
২৯. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:১৭
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ জেবতিক আরিফ,
১। ছদ্মনামে লেখাটায় সমস্যা দেখি না। একজন মানুষ একটা ছদ্মনামে লিখতেই পারেন। তবে একই জন যখন বিভিন্ন ছদ্মনামে কয়েকজন মানুষ হয়ে আসেন, তখন একটু অস্বস্তি বোধ করি।
আমারটা আসলে ছদ্মনাম নয়। বড়জোর 'নিক' বলা যায়- আমার আসল নামও প্রায় সবাই জানেন।

২। ভাল ব্লগাররা কেন মূল ধারায় লিখেন না, আমি ঠিক শিওর না। আমার ধারণা সবারই ইচ্ছে আছে, ইচ্ছে নেই এরকমতা মনে হয় না। তবে নিশ্চয়ই সেরকম সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না।
৩। বাংলা ব্লগিং-এর ভবিষ্য এই মুহূর্তে ফিলিপ্স বাত্তির মত ফকফকা মনে হচ্ছে! :-))
৪। পাঁচ বছর অনেক লম্বা সময়। সেই সময় পর্যন্ত যদি সামহোয়্যার থাকতে পারে, তবে আসলে অনেক কিছুই অর্জিত হবে। অনেক ভাল লেখক পাবো আমরা, এবং সম্ভবত অনেকগুলো ভাল বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীও পাবো।
৩০. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ দ্রোহী,
৫। প্রজাপতিকে পাবো না বা পেতাম না, এ ব্যাপারটা এখন আর বিশ্বাস করি না। আমি জানি, যেখানেই থাকতাম বা যেতাম, একটা সময়ে আমাদের দেখা হতই। সেটা ফিজিক্স ল্যাব না হয়ে হয়তো পত্রিকা অফিস হতো, অথবা বইয়ের দোকান, অথবা পাবলিক লাইব্রেরির ফিল্ম শো! আমাদের দেখা হওয়াটা আমাদের অদৃষ্টেই ছিলো। পস্পরকে পাওয়াটা-ও।
৩১. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২৪
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ বদ্দা,
নিজের ইচ্ছায় লিখতে পারি নাই, এরকমতা সাধারণত হয় নাই। তবে অন্য কেউ লেখা দিতে বলেছে কিন্তু আমি লিখতে পারছি না এরকম প্রায়শই হয়।
তখন অবশ্য আমার নিজের খুব একটা খারাপ লাগে না, যে লেখা চেয়েছে তার জন্যে খারাপ লাগে। :-))
৩২. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২৯
comment by: সুমন চৌধুরী বলেছেন: বুঝলাম।
৩৩. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৯
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: ধন্যবাদ কনফু।
৩৪. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:০১
comment by: হাসান মোরশেদ বলেছেন: কনফুঃ
১।লেখায় নিজের উপস্থিতি, কোন ফরমেটে তোমার কাছে সহজ? গল্পের একজন হয়ে গল্প বলে যাওয়া নাকি গল্পের বাইরের একজন হিসেবে?
২।কেনো লিখো?
৩।লেখার কোন ধরনটা তোমার কাজে সহজ? যা দেখছি তা লিখে যাওয়া নাকি দেখা শেষে নিজের প্রেসক্রিপ্সন দেয়া?
আরেকটা কথা, কোনো প্রশ্ন নয় অবশ্য। শুধু সুযোগে জানিয়ে দেয়া । আমি তোমার মুগ্ধ পাঠক, সামহোয়ার যুগের আগে থেকেই । বাংলা লাইভে, ইশ্বরের রংধনু কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারীর লেখাগুলোর জন্য ।
শুভ কামনা ।

৩৫. ১৯ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৮
comment by: সন্ধ্যাবাতি বলেছেন: আমার প্রশ্ন: প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করছে, কি প্রশ্ন করা যায় খুঁজে পাচ্ছি না। এখন? :(
৩৬. ১৯ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:১৩
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ হাসান ভাই,
১। আমার কাছে সহজ লাগে গল্পের একজন হয়ে গল্প বলে যাওয়াটা। এ পর্যন্ত অল্প বিস্তর যে কয়টা গল্প লিখেছি, বেশিরভাগই উত্তম পুরুষে।
২। কেন লিখি? - এমনিতে আমি বাকপটু নই। কথা শুনতে বেশি ভালবাসি, বলি কম। সম্ভবত সেটা ব্যালেন্স করার জন্যেই লিখি । আমার সবরকমের স্বাচ্ছন্দ আমার লেখার মধ্যে। কথায় আমি দারুন কাঁচা!
৩। প্রেসক্রিপশান দিতে পারি না খুব একটা। সাধারণত দর্শক হিসেবে বর্ণনা করে যাই, ওটাই সহজ লাগে। এই ক্ষেত্রে আমি সম্ভবত রিপোর্টার শ্রেণীর। :-))

-----------
আপনার মত পাঠক পাওয়াটা সৌভাগ্যের ব্যাপার! এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে সংকোচ লাগছে।
আপনার লেখার আমি কেমন পাঠক, সেটা সুযোগ পেলেই জানিয়ে দিবো। ;-))
৩৭. ১৯ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪১
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: সন্ধ্যাবাতি,
খুঁজে পেলে জানাবেন।
৩৮. ১৯ শে মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫২
comment by: হযবরল বলেছেন: সুপ্রভাত কনফুসিয়াস।

আমার বন্ধু মানুষ, তাই এত সকালে কোশ্চেন করে বিব্রত করবো না। রাতে হবে জাঝাঁলো কোশ্চেন।
৩৯. ১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১১:৪৬
comment by: প্রজাপতি বলেছেন: একটা সময় কবিতা দিয়েই শুরু, কবিতায় বসবাস। সেই জায়গা থেকে এখন গদ্যেই বেশি বিচরণ। কেন? কাক উড়ে গেলো কিন্তু ফিরে আসবে তো?
৪০. ১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১১:৫২
comment by: লাল মিয়া বলেছেন: আইচ্ছা খারাপ কথা না বলা কি ভালো?
৪১. ১৯ শে মে, ২০০৭ রাত ১১:৫৪
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: আপনি বোধহয় জানেন না প্রজাপতি।কনফুসিয়াস বিয়ে করে ফেলেছে।
আর বিয়ে করলে প্রতিভারা নষ্ট হয়ে যায়।হা:হা:হা:
৪২. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:০১
comment by: ধূসর ছায়া বলেছেন: কনফুসিয়াস কে? আমি চিনি না উনাকে । এমনকি উনার কোন লেখাও পড়িনি আমি । তাই আমিসহ যারা উনাকে চিনেন না তাদের হয়ে আপনার কাছে জানতে চাই, বিশদভাবে কি আপনার পরিচয়টা দিবেন ?
৪৩. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:০৬
comment by: প্রজাপতি বলেছেন: যদিও জেবতিক ভাইয়ের কাছে এখানে প্রশ্ন করার কথা না। কিন্তু উনি যেহেতু একটা উত্তর দিয়েছেন, তাই আরেকটা প্রশ্ন? ভালো গদ্য লিখাকে কি তাহলে প্রতিভা মনে করছেন না? হা হা হা।
৪৪. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:৩২
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: গদ্য লেখা মানে হইল মনিটরের দিকে অনেক্ষন চেয়ে থাকা।এতে করে বউয়ের কথা বেশি সময় ভুলে থাকা যায়।
এখন যে ভালো লেখে সে লেখলে তো ভালো লেখাই বের হবে,এতে তো তার কোন ক্রেডিট নাই।সে বাই ডিফল্ট ভালো লেখে,তাই ভুল করে লেখলেও ভালো হয়ে যায়।

কবিতা লিখতে যে মানসিক শান্তি লাগে,গদ্য লিখতে ততোটুকু লাগে না।
৪৫. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:৪০
comment by: প্রজাপতি বলেছেন: :-) তাই তো বলি, দুনিয়ার সব কবিই অবিবাহিত কেন? (তাই নাকি?)
৪৬. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১২:৪৫
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: যাদের লেখা খুব মন দিয়ে পড়ি তবে কমেন্ট করার সাহস পাই না তাদের একজন হলো কনফু।
৪৭. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১:৪১
comment by: কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন: কি প্রশ্ন করা যায় কন তো ... অনেক ভাইবাও তো কিছু মাথায় আসতেছে না ...

আচ্ছা ঢুইকাই যখন পড়ছি তখন একটা প্রশ্ন কইরাই যাই ... :-)

"কেউ যদি ভালো লিখতে চায় তাহলে তার কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?"

(আগে যখন পোলাপান স্ট্যান্ড করত তখন সাম্বাদিকরা আপনার সাফল্যের গোপন রহস্য টাইপ প্রশ্ন করতো, সেই রকম একটা করলাম আরকি :-) )
৪৮. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:০২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: এই সুযোগে একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে নিই। করি বাংলায় চিৎকার- কথাটা আমার নিজের নয়। প্রতুল মুখার্জীর বিখ্যাত গান আমি বাংলায় গান গাই-এর একটা অংশে আছে, আমি সব দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার, এখান থেকেই এই অংশটুকু নেয়া।
৪৯. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:০৩
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: হযু ভাই,
ভয় দ্যাখান ক্যান গুরু?
৫০. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:০৮
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: প্রজাপতি,
কবিতা আছে এখনো। অনেকদিন লেখা হয় নি, তা ঠিক। তবু এখনো মনের গভীরতম কথা ঠিকঠাক বলতে গেলে কবিতাই হয়ে ওঠে।
কবিতা কখনো আমাকে ছেড়ে গেলে নিঃস্ব হয়ে যাবো নিশ্চিত। সেরকম দিন যেন দেখতে না হয়!
কাক এখনো উড়ে চলে যায় নি, এমনটাই ভাবি আমি।
৫১. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:০৮
comment by: হনুমানজী বলেছেন: জনাব আপনার বউবিনা জীবন আর কতদিন?
আর আপনার কি মনে হয় আমাদের দেস কোন দিকে যাচ্চে
৫২. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:১৫
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ লাল মিয়া,
খারাপ কথা না বলা ভাল, তবে বলাটা মাঝে মাঝে জরুরি হয়ে দাঁড়ায়।

ধূসর ছায়া,
নতুন সিস্টেমে লিংক দিতে পারছি না। আপনি একটু কষ্ট করে গুগলে কনফুসিয়াস লিখে সার্চ দিন। পেয়ে যাবেন।

@ মাহবুব সুমন,
কমেন্ট করার সাহস পান না কেন রে ভাই? আমি বাঘও না ভাল্লুকও না। টেনেটুনে সাড়ে পাঁচ ফিটের ছোটখাটো মানুষ।
এরপর থেকে নির্ভয়ে কমেন্ট করবেন।

@ হনুমানজী,
বউ বিনা জীবন কয়দিন সেইটা এই মুহুর্তে অজি এম্বেসী জানে। ব্যাটারা কোন ঝামেলা না করলে আর বেশিদিন নাই।
আমাদের দেশ আহ্নিক গতির সমান বেগে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে যাচ্ছে।
৫৩. ২০ শে মে, ২০০৭ ভোর ৫:২০
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কিংকর্তব্য,
লজ্জা দিলেন? স্বপ্নবাজির মত দারুন একটা লেখার লেখক হয়ে এই কথা বলা ঠিক না আপনার। :-))

যাক, তবু উত্তর দেই- কেউ যদি খুব ভাল লিখতে চায় তার সম্ভবত খুব বেশি বেশি পড়া উচিৎ। আমি যেহেতু খুব ভাল লিখি না, তাই সঠিক উত্তরটাও জানি না। :-((
৫৪. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ৭:৫১
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: ৫৪ নম্বর কমেন্ট আমার!
কপাল খারাপ, দেরী করে ফেললাম। আগে সিরিয়াস প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি:
১) ফিফটি ফোর অর্থাৎ ৫৪ ধারা (বিশেষ ক্ষমতা আইন) নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
২) কুমিল্লার রসমালাই নাকি টাঙ্গাইলের চমচম বেশী ভালো লাগে? দুটো মিশালে কেমন মনে হয়?
৩) ভাত ছাড়া আপনার অন্য প্রিয় খাবার কী?
৪) 'কাক' ভালো লাগার কারণ কী?
৫) 'স্বপ্নবাজ' মানুষ হিসেবে রাতে কী কী স্বপ্ন দ্যাখেন?
-----------------
আপাতত: এগুলো।
বিকেলের দিকে আরো ডজন খানেক প্রশ্ন নিয়ে হাজির হবো। :-)
৫৫. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৩
comment by: কৌশিক বলেছেন: ১. অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন আগে নাকি সামাজিক মূল্যবোধ বিনির্মান আগে? বিশেষত, যখন দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত বেশীর ভাগ সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ?

২. বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের উপার্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করেছে বলে অনেকের অভিমত। কারণ মানি মবিলাইজেশন কমে যাওয়ায় ডেভলপিং কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি?

৩. দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির পরেও মানুষ খেয়ে পড়ে আছে এমন কথা বলেছিলেন খালেদা জিয়া তার ক্ষমতায় থাকাকালিন। তিনি এ দিয়ে বুঝাতে চেয়েছিলেন, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। এ চিত্রের সাথে বর্তমান সরকারেরর ভূমিকাতে দ্রব্যমূল্যের যে উর্ধ্বগতি ঘটেছে সেখানেও দরিদ্র মানুষের উন্নতী হচ্ছে বলে ধরা নেয়া যায় কি? তারা তো খেতে পারছে!

৪. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সরকার বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে কি কি লাভ, ক্ষতি হতে পারে বলে করেন?
৫৬. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৫২
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: অভিযুক্ত কনফুসিয়াস র কাছে সাময়িক প্রশ্নমালা :

১. ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ?
বিশ্বাস করলে, কেন?
(উত্তর দিতে ইচ্ছে না করলে বাদ দিয়েন)

২. প্রতিভা আর পরিশ্রম - সাফল্যের জন্যে দুটো জিনিষের কোনটা কতটুকু দরকার - বলে মনে করেন?
আপনার ইডিওলজি টা জানতে চাচ্ছি এই ব্যাপারে ?


৩. লেখালেখি তে কতটা সময় দেন ? (দিনের কত ভাগ অথবা সপ্তাহর কতটা - এভাবে বললেই হবে )

৪. আপনার নিজস্ব শৈশব নিয়ে লেখা তুলনামূলকভাবে কম - কেনো?
শৈশব নিয়ে কোন অদ্ভূতুড়ে নস্টালজিয়া অনুভব করেন না ?



::(আপাতত এই, পরের দিকে আবার হাজির হবো .. .

আর "আপনি", "আপনি" দেখে টাসকি খাওয়ার কোন কারণ নাই )
৫৭. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:০৪
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: একটু চামচামি করি ।

কনফু, প্রথম তোমার লেখা পড়ার পর - অদ্ভূত মুগ্ধ হয়েছিলাম - সেই মুগ্ধতাটা কখনোই কাটে নাই ।

তুমি "তুচ্ছ বিষয়" নিয়ে লিখলেও সেটা হয়ে ওঠে মহাকাব্যসম আর ছন্দময়।

(তুমিও তুচ্ছ জিনিষ নিয়ে লেখো - এইটা তোমার "একটি আইটি বিষয়ক কল্পকাহিনী" পড়ার আগে বিশ্বাস করতাম না ।)


সত্যি বলি - তোমার যে কোন লেখা পড়ার সময় আমার মনে হয় যে - কবিতা পড়ছি ।
শক্তিশালি গাথুঁনির সুর দিয়ে বাঁধা কবিতা !

কনফু রে ৫ এ ৫, সব কিছু মিলিয়ে - কোন বিশেষ লেখার জন্যে নয়।
৫৮. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:০৪
comment by: তেলাপোকা বলেছেন: প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করছে না। চিন্তাধারা জানা আছে। কাগজে কলমে নাকি সবাই নিউটন। তাই সেসব প্রশ্ন বাদদদ। আপাতত, আপনার প্রিয় ফুলের নাম বলেন ;)
৫৯. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৩
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: প্রথম প্রশ্নটা সংশোধন করবো ।
(প্রকাশভঙ্গি কিছুটা বায়াসড মনে হতে পারে, তাই ..)
-------------------------------
১. ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ?
বিশ্বাস করলে, কেন?
বিশ্বাস না থাকলে, কেন?
----------------------------------
(উত্তর দিতে ইচ্ছে না করলে বাদ দিয়েন)
৬০. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৫
comment by: অঃরঃপিঃ বলেছেন: আমি লক্ষীবাজার-বনশ্রীতেই কাহিল। ফোন-এসএমএসো যথেষ্ট লাগে না। তুমি ক্যামনে পারো দূর পরবাসে এত বিরহে কাটাইতে?
৬১. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:২৯
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: কনফু,
মাশীদ-এর মত আপনিও একটা মিনি সিরিজ দেবেন নাকি কোন বাগানে কখন বিশেষ কোন এক প্রজাপতি'র সাথে আপনার কিভাবে সামাজিক ও মানবিক বিশেষণ যুক্ত হলো এবং অবশেষে প্রেম রসায়নে তা তরলায়িত হলো বিয়ে নামক স্ফটিকে রূপান্তরিত হলো?
প্রজাপতি,
দুনিয়ার সব কবিই যদি অবিবাহিত হয় তবে ধরে নিতে আমি কবি নই। আমি বিবাহিত। তবে মৃত নই।
৬২. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩৮
comment by: কৌশিক বলেছেন: ১. বোঝা যাচ্ছে আপনি কনফুসিয়াস প্রভাবিত। কনফুসিয়াসের দর্শনের কোন বিষয়টা আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?

২. বাংলাদেশের ধর্ম নিজস্ব সংস্কৃতির আবহে সংস্কার হয়ে দেশীয় দর্শন হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি বলে আমাদের জাতীয়তাবাদ সে অর্থে শক্তিশালী নয় বলে অনেকে মনে করেন। যেমন আমাদের ধর্ম বলতে আমরা বিশ্বব্যাপী এই একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে একটা বন্ধন অনুভব করি, বাস্তবে যেটা একদমই ঠুনকো। আমাদের দেশীয় কৃষ্টি অনুযায়ী ধর্মীয় দর্শনগুলোর সংস্কার হওয়া উচিত বলে কি আপনি মনে করেন?

৩. আপনার জীবনপদ্ধতি কেমন? একজন বাঙালী হিসাবে সব পরিচয়গুলো স্পষ্ট করতে পছন্দ করতে চান নাকি পরিবর্তিত হয়ে যে রূপ গ্রহণ করে তেমনই হবে টাইপের দৃষ্টিভংগী পোষণ করেন?
৬৩. ২০ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৪৬
comment by: অঃরঃপিঃ বলেছেন: জন্মযুদ্ধ নামটা তোমার দেওয়া। মাথায় ক্যামনে আসল এমন যুতসই একটা নাম? (অশেষ কৃতজ্ঞতা)
৬৪. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:১৯
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: আরো কয়েকটা প্রশ্ন করে রাখি:
৬) আপনি যেমনটা বলেছেন - পশ্চিমবাংলার চেয়ে বাংলাদেশে ব্লগিং এগিয়েছে বেশী, সাথে এটাও সত্যি যে পশ্চিমবাংলায় ইন্টারনেট আড্ডায় সাহিত্যের প্রভাব বেশী। এক্ষেত্রে আপনার মতামত কী? - বাংলাদেশের গদ্য চর্চার সাথে পাশ্চিমবাংলার গদ্য চর্চার কীভাবে তুলনা করবেন? কারা বেশী এগুচ্ছে?
৭) একই প্রেক্ষিতে - গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে দুই বাংলাতেই নতুন এক জেনারেশন সৃষ্টি হচ্ছে, যারা সাহিত্যকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ঠ আগ্রহী এবং শক্তিশালী। তাহলে - ইলিয়াস-সমরেশ, সেলিনা-সুচিত্রা কিংবা হুমায়ুন-সুনীলের পর আরেক প্রজন্মে শমিত-তারেক, শ্যাজা-অনুপমা কিংবা এরকম আরো সম্ভবনার আগামীকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
৮) সাহিত্য কী আসলেই দুই বাংলার সেতুবন্ধ হয়ে উঠবে? নাকি 'ভাষা আজ অন্তরায়' হয়ে বেনাপোল বর্ডার প্রাধান্য পাবে?
৯) রাজনৈতিক ঘটনা কিংবা ইতিহাসকে অবলম্বন করে কোলকাতায় সাহিত্য অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। সে তুলনায় বাংলাদেশের ৭১ নিয়ে লেখালেখি কেমন হয়েছে বলে মনে করেন? সমরেশ মজুমদারের লেখায় বিশেষ করে উপন্যাসগুলোয় নকশাল আন্দোলন যেভাবে এসেছে সেভাবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখকরা ৭১ নিয়ে কতটুকু লিখেছে বলে আপনার ধারণা? হুমায়ূন আহমদের 'জোছনা ও জননীর গল্প' সাহিত্যমানে কোন পর্যায়ের বলে আপনি মনে করেন? বেশী দামের কারণে বইটি অনেক পাঠক কিনতে পারেনি, এটাও সত্য। অথচ তুলনামূলকভাবে কোলকাতায় বইয়ের দাম কম। এ বাণিজ্যের ইস্যুটি কী আমাদের লেখকদের মনন নির্মাণে প্রতিবন্ধক?
১০) আমি যদি অভিযোগ করি - বাংলাদেশের তরুণ লেখকরা যেভাবে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে লেখালেখি করছেন, পশ্চিমবাংলায় তেমনটি হচ্ছে না। ডেইলী সোপের মতো সাহিত্যেও ধর্ম বড় প্রভাব রাখছে। আপনি আমার সাথে কতটুকু একমত অথবা দ্বিমত পোষণ করবেন?
৬৫. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৯
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: ওরে, কত প্রশ্ন করে রে...!

@ শিমুল,
১। দেশের আইন অবশ্যই সার্বজনীন মানে সবার জন্যে হওয়া উচিৎ। আইন কানুনের আগে 'বিশেষ' শব্দ যুক্ত হওয়াটা আমার পছন্দ নয়। কারণ, তার ব্যবহারও যে 'বিশেষ' হবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
২। অবশ্যই কুমিল্লার রসমালাই অনেক বেশি মজা!
মিশালে ভাল কিছু হবে না মনে হয়। রসমালাইই খেতে বেশি ভাল লাগে।
৩। খিচুড়ি, সাথে বুটের ডাল দিয়ে গরুর মাংস।
৪। আমার কবিতাগুলোর সাথে কাকের কা-কা- র মিল খুঁজে পাই। তাই কাক পছন্দ! ( সিরিয়াস উত্তরঃ কাকের মধ্যে একটা ড্যামকেয়ার ঋষিসুলভ ভাব আছে, সেটা ভাল লাগে।)
৫। সুখ স্বপ্ন দেখি।
৬৬. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৮
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: কনফু , প্রিয় লেখকদের তালিকায় চূড়াস্পর্শী ছিলে , আছো । তোমার কবিতায় কিছু চমকে দেওয়া ছন্দ মিল পাই আর আনন্দে নেচে উঠতে ইচ্ছে করে । সজোরে নয় , খুব উদাসী কাউকে কাঁধে আলতো ছুঁয়ে চমকে দেওয়ার মত - খুব মৃদু কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী ভালো লাগা তৈরী করে তোমার কবিতা । আবার গদ্য গুলোও শিল্প গুনে কাব্য হয়ে ওঠে , দাদীর গল্প বলা মনে পড়ে । সহজিয়া ছন্দ ।

গদ্য , পদ্য দুটোরই ভক্ত আমি । তবু জানতে চাই, আবার কবে কবিতা লিখবে?
৬৭. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:০২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: কৌশিকদারে এই পাতায় ব্যান করা উচিৎ। আঁটঘাট বাইধা কঠিন কঠিন সব প্রশ্ন করে! অল্প কথায় এগুলার উত্তর দেয়া মুশকিল। প্রতিটার জন্যে আলাদা আলাদা পোষ্ট দরকার। :-((
তবু চেষ্টা করি-

@ কৌশিকদা,
১। কোনটাই আগে পরে নয়। দুটারই একসাথে শুরু হওয়া দরকার।
২। আমার ধারণা নেই এই ব্যাপারটা নিয়ে।
৩। গরীব মানুষ মরে যাবার আগ পর্যন্ত 'খেতে পায়' বলেই সবাই ধরে নেয়। এটাকে জীবনযাত্রার মানের সূচক বলে ধরে নেয়াটা আমাদের রাজনীতিকদের পক্ষেই কেবল সম্ভব।
৪। সরকারের লাভ হচ্ছে না। এখন যেটা হবে সরকারের জানার বাইরে থেকেই যা হবার হবে, কিন্তু কালো টাকা সাদা হওয়াটা থামবেনা, সেটা চলতেই থাকবে।
৬৮. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:১৮
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ সৌরভ,
১। ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।
করি- কারণ এই নাতিদীর্ঘ জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতির সামনে পড়েছি, যখন মনে হচ্ছিল যে কেবলই ডুবে যাচ্ছি এবং আঁকড়ে ধরে থাকবার মতন এমনকি একটা খড়কুটোও নেই, সেই সময়গুলোতে ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধরেছিলাম।
ব্যাক্তিগত শান্তির জন্যেই ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। স্বার্থপরের মত শোনালেও কথাটা সম্ভবত মিথ্যে নয়।
২। প্রতিভা ও পরিশ্রম, দুটাই এক চিমটি করে দরকার।
তবে প্রতিভাবানরা স্বভাবে অলস বলে পরিশ্রমীরাই বেশি সফল হয় বলে মনে হয়।
৩। এই মুহুর্তে ব্লগের বাইরে লেখালেখির জন্যে আলাদা সময় দেয়া হয় না। বাকি যেটুকু সময় পাই পড়ি। যা পাই তা-ই পড়ি।

৪। শৈশবের স্মৃতি ইচ্ছে করে ভুলে থাকি। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা আমার শৈশবের পুরোটা জুড়ে আছেন, যতদিন বেঁচে ছিলাম এবং থাকবো, তার প্রতিটা মুহুর্ত আমি যার কাছে ঋণী , আমার ছোটমামা, তাঁর বিয়োগব্যথাকে ভুলে থাকবার আর কোন উপায় আমার জানা নেই।

৬৯. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ তেলাপোকা,
কাগজে কলমে সবাই নিউটন- কথাটা পছন্দ হয়েছে।

প্রিয় ফুল গাছ- কৃষ্ণচূড়া। প্রিয় ফুলও সম্ভবত কৃষ্ণচূড়া-ই।
৭০. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৪
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কালপুরুষ,
আলাদা করে সিরিজ করার ইচ্ছে নেই। এমনিতেই তো প্রায়শই, টুকটাক চলে আসে কথায় কথায়।
৭১. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:২৭
comment by: অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন: সব বল ই তো ভালো খেলছো দেখি !

কমরেডস, কেউ একটা গুগলি-টুগলি জাতীয় বল দেন তো !
৭২. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৩২
comment by: দলা পাকানো গু বলেছেন: কাস্টোমাইজেবল ফ্রন্ট পেজ সম্বন্ধে আপনার বক্তব্য এককথায় বলুন ।
৭৩. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৪৩
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ পিয়াল ভাই,
১। বিরহের ধাক্কাটা যায় ফোন বিলের উপর দিয়া! :-((
২। আগে এরকম হতো, একটা গল্প বা কবিতা লিখে কয়েকবার পড়ার পর মনে হতো এটা আমার আগেও কেউ একজন লিখেছেন, আগেও আমি কোথায় যেন পড়েছি!
জন্মযুদ্ধ- নামটা দেয়ার পর আমার এই কথাটাই বারবার মনে হচ্ছে, যেন এই নামটা আমার দেয়া নয়, আগে কোথাও পড়েছি!
কেমন করে মাথায় এলো? হৃদয় থেকে মাথার দূরত্ব কিন্তু খুব বেশি নয়! :-))
৭৪. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫৪
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কৌশিকদা,
১। কনফুসিয়াসিজম কিন্তু এখন একটা ধর্মমত হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত!
আমার ভাল লাগে তার সহজ প্রকাশটা। খুব জটিল সব ব্যাপারের দিকেও তিনি সহজ দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন, ব্যাখ্যাও করেছেন একদম আটপৌরে ভাবে। আমার মতন স্বল্পশিক্ষিতরাও খুব সহজেই রিলেট করতে পারে তার দর্শনের সাথে, এটাই বেশি ভাল লাগে।
২। বাংলাদেশের ধর্মীয় দর্শন একটা নির্দিষ্ট শ্রেণী বাদে বাকি সব মানুষের কাছে বর্তমানেও একটা সংস্কার হওয়া অবস্থাতেই আছে। এই ব্যাপারটা আসলে কারো হাতে নেই, সময় ও পরিবেশই মানুষের মাধ্যমে এই সংস্কারগুলো করিয়ে নেয়।
৩। আমার বাঙালী পরিচয়টাই সবার উপরে। আরো স্পেসিফিকভাবে, আমি মনে প্রাণে বাংলাদেশি।
জীবন পদ্ধতি একেবারেই সাধারণ। হাই এম্বিশাস নই, মরে যাবার আগ পর্যন্ত বেঁচে বর্তে থাকতে চাই।
৭৫. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৮
comment by: শুভ বলেছেন: কনফুসিয়াস,
আপনার স্মৃতি শক্তি কেমন?
চৈনিক দার্শনিক যে সব বাণী টানী দিয়েছিলেন সবগুলো কি আপনার মনে থাকে?
ধরা যাক, এই বাণীটা কি চৈনিক দার্শনিকের, নাকি অন্য কারও?
জাস্ট, হ্যাঁ বা না বললেই হবে।

`আমার প্রশ্ন: যে আঙ্গুলে টাইপ করেন, তার কোন ইন্সুরেন্স করা আছে কি?
(না করলে বস, এখুনি কইরা ফালান! শেন ওয়ার্নের বল ঘুরানো আঙ্গুলের চেয়েও আপনার ঐ একটা আঙ্গুল আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান।'Õ

হা হা হা।
৭৬. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:২৭
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ শিমুল,
আপনার প্রশ্নগুলোও কঠিন। কম কথায় ক্যামনে কি লিখি? :-((

৬। পশ্চিমবাংলার ইন্টারনেট আড্ডায় শুধু সাহিত্যের প্রভাব আছে বলে মনে করি না, আমি দেখেছি কারেন্ট এফেয়ার্স, মূলত পলিটিক্সের প্রভাব অনেক বেশি।
কারা বেশি এগুচ্ছে- এরকম তুলনায় যাওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা একটা ব্যাপারে বেশি সুবিধা পাচ্ছি- ওখানে বাংলাটাকে সার্ভাইভ করতে হচ্ছে অন্য অনেক কিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে, আর আমরা এখানে সেই সময়টা পার করে এসে হাত খুলে লিখতে পারছি।
৭। শমিত-তারেক লিখলে আমি তো খুশিই, তবে শমিতদা নির্ঘাৎ দুঃখ পাবেন। :-), ওটা শমিত-রাসেল, অথবা সুমেরু-হিমু করে দিন। :-)
নতুন প্রজন্ম চিরকালই আশা জাগানীয়া।
৮। সাহিত্য দুই বাংলার সেতু বন্ধন হয়ে ওঠার দরকার ছিল। সীমান্তের নিয়ন্ত্রনে আছেন যারা, তাদের সদিচ্ছা নেই বলেই সম্ভব হচ্ছে না- এরকমটাই ভাবতাম। কিন্তু ইন্টারনেটে, যেখানে সীমান্তের বাঁধা নেই, সেখানেও ডাক দিয়ে আশানুরুপ সাড়া পাওয়া গেছে বলে মনে করি না।
আসলে, আমাদের সদিচ্ছার দরকার, এবং সহনশীলতারও দরকার।
৯। জোছনা ও জননীর গল্প পড়ার সুযোগ হয় নি এখনো।
পশ্চিমবাংলায় যেটা হয়েছে, জনপ্রিয় ঘরানার সাহিত্যিকেরাই তাদের ইতিহাস আশ্রয় করে লিখেছেন প্রচুর, আমাদের এখানে সেটা হয় নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা লিখেছেন তারা সাধারণের কাছে পাঠকপ্রিয় নন হয়তো। এই ট্রেন্ডটা ভেঙে ফেলতে পারলে খুব ভাল হতো।
স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন দশক গেছে, এখনো হয় নি বলে ভবিষ্যতেও হবে না এরকমটা ভাবছি না। হবে, খুব শীঘ্রিই হবে।
বইয়ের দাম, একটা ইস্যু হয়ে ওঠা উচিত মনে বলে করি।
১০। অনেকটুকু দ্বিমত পোষন করবো। আমি নিজে যতটুকু দেখেছি, দু দিকেই এই অনুপাতটা কাছাকাছি।
৭৭. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩০
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: শুভ!,
মনে থাকবে না আবার! আপনাকে দেখে খুব খুশি হলাম। আপনি ডুব মেরে আছেন ক্যান বলেন দেখি? আপনারে না পাইয়া পাবলিক আমার মত 'চীনাপুটি'রে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়!
বুঝেন!
৭৮. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩১
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: রাগ ইমন,
আবার হয়তো দেখা হবে অন্য গানের ভোরে...।
৭৯. ২০ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৩২
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। একটু বিরতি দিলাম। পরে আরো প্রশ্ন নিয়ে হাজির হবো।
৮০. ২০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৩:২০
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: কমন প্রশ্নটা করে ফেলি:
২০২০ সালে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক - এ ৩ প্রেক্ষিতে বলুন। আপনার ভাবনার সাথে বাস্তবে কতটুকু মিলবে বলে মনে করেন?
-------
আরো আছে...
৮১. ২০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: আগেরটা ১১ নম্বর প্রশ্ন ছিল।
আজকে আরো কয়েকটা -
১২) নিজের লেখা নিয়ে আপনি কতটুকু সন্তুষ্ট? কখনো মনে হয়েছে - যা লিখছেন তার চেয়ে ভালো লেখার ক্ষমতা আপনার আছে, ব্যস্ততা কিংবা অবহেলা করে গুছানো হচ্ছে না, এরকম কিছু?
১৩) জীবনে প্রথম কী লিখেছিলেন? কোনোটা কোথায় ছাপা হয়েছিল? সেইসব দিনের লেখালেখি নিয়ে অনুভূতি কি?
১৪) ক্যাডেট জীবন নিয়ে অনেকেই লেখালেখি করেছেন। কেউ কেউ উপন্যাসও লিখেছেন। আপনার লেখায় এ ব্যাপারটি আসে না কেন? (খুব ব্যক্তিগত প্রশ্ন হলে এড়িয়ে যেতে পারেন)
১৫) পাঠক হিসেবে 'প্রজাপতি'-র লেখার মূল্যায়ন করুন।
--------
আজ এ পর্যন্ত।
৮২. ২০ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৬
comment by: সুমেরু বলেছেন: আমারো কিসু কথা আসে...

১) মানুষের সম্পর্কে তোমার কি ধারণা?
২) তোমার লেখায় রেফারেন্স কম। এতটা স্ববলম্বী কি হওয়া সম্ভব?
৩) আমি জানি তুমি খুবই কম লেখ। ব্লগিং কি তোমার লেখালিখির ক্ষতি করেছে?
৪) তোমার লেখায় বোনার একটা ব্যপার আছে। সেটা তুমি কতটা কনসাসলি বানাও?
৫) বাস্তবতা বলতে কি বুঝ? (থিয়োরি শুনতে চাই না)
৬) এস এম এস লিখতে কেমন লাগে? সেখানে ইউনিকোডের প্রয়োগ নিয়া তোমার ভাবনা কী ( রাগ করিস নে, সিরিয়াসলি জিগাই)?
৭) নিজস্ব কুমিল্লিয় ডায়ালেক্টে লেখ না কেন?
৮)দশ দিন না লিখতে পারলে কেমন লাগবে?
৯) তোমার বড় লেখা চাইছি তো অনেকদিন।কর্ম ব্যস্ততা ও মানসিক শান্তি ব্যতীত অন্য কোন অসুবিধা হয় বড় লেখা লিখতে ?
১০) ধ্বংস কেমন লাগে?



ব্যস আপাতত।
৮৩. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:২৬
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ শিমুল,
১১। ২০২০ মানে এখন থেকে এক যুগ পরে। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ পুরোপুরি সঠিক ট্র্যাকে চলে আসবে এরকম আশা করছি না। তবে খুব ভাবতে ইচ্ছে করে, এরকম কাছাকাছি ভবিষ্যতেই আমরা উন্নতির পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবো।
১২। নিজের লেখা নিয়ে সন্তুষ্টি নেই একেবারেই। যেটা আছে সেটা হলো নিখাদ সংকোচ। আমার লেখায় নাকি কনফিডেন্সের ছাপ আছে, কানে কানে বলি, সেটা আসলে পুরোটাই ভাব! নার্ভাসনেস কাটানোর একটা উপায় আর কি!
প্রতিবারই আগেরবারের চেয়ে ভাল লেখার চেষ্টা করি। পারবো, এমনটা আশা করেই করি।
১৩। প্রথম বোধহয় লিখেছিলাম কোন একটা ছড়া। পুরোনো ডায়রি খুঁজলে পাওয়া যেতে পারে।
স্কুল ম্যাগাজিনের বাইরে প্রথম ছাপা হয়েছিল 'নিমন্ত্রণ' নামে একটা ভুতুড়ে গল্প, রহস্যপত্রিকায়, সেটা ব্লগেও পোষ্ট করেছিলাম কোন এক সময়।
রহস্যপত্রিকায় লিখে সত্তর টাকা পেয়েছিলাম, ভীষন মজা পেয়েছিলাম সেটায়। ভার্সিটিতে ঢুকে কিছুদিন যুগান্তরের ফান ম্যাগাজিনে লিখেছিলাম নেহাৎ বাড়তি কিছু পকেট মানির জন্যে। পরে অফ মেরে গেছি।
১৪। ক্যাডেট লাইফটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। উপন্যাস ঠিক নয়, লিখতে হলে আসলে মহাকাব্য লিখতে হবে! সেই ভয়েই কিছু লিখি না! :-))
মজা করলাম। আসলে খুব সচেতন ভাবেই কিছু বলি না। ঐ সময়ের গল্প বললেও 'হোষ্টেল' বা 'স্কুল-কলেজ' বলে চালিয়ে দেই। কারণ, অনেক ছোটবেলা থেকেই দেখেছি ক্যাডেট বললেই বাড়তি কিছু মনোযোগ আকর্ষন করা হয়। সেটা সবসময় ভালো কিছু হয় না, সবসময়ে মন্দও নয়। কিন্তু আমি জাস্ট ওই মনোযোগটা এড়িয়ে চলতে ভালবাসি।
আরেকটা কারণ আছে, আমার এক বন্ধু বলে, একশ ছেলের মধ্যে যখন একটা ক্যাডেট থাকে সে তখন ঐ ছেলে গুলার মধ্যে সবচেয়ে সামাজিক, সবার সবচেয়ে ভাল বন্ধু! আর যদি দুইটা ক্যাডেট থাকে, ঐ দু'জন তখন সবার মধ্যে সবচেয়ে অসামাজিক মানুষ! বুঝে নিন তাহলে!
( বলি না বলি না করেও কত কথা বলে ফেললাম!!! )
১৫। পাঠক হিসেবে বলি, প্রজাপতি- খুব ভাল লিখে। খুব অল্প কথায় ও অনেক কিছু বলে দিতে পারে, আমাকে দিয়ে যেটা প্রায় কখনোই হয় না, আমি সবসময়েই বেশি কথা বলে ফেলি। খুব ভাল গান গায়, গান ভাল বুঝে, সে কারণেই হয়তো ওর লেখাগুলোও আমার কাছে প্রায়শই সুরময় মনে হয়।
সবসময়েই ওর লেখা পড়তে চাই, আরো নিয়মিত লিখুক, এটাই চাইবো ওর কাছে।
--------
আপনার প্রশ্নের কোটা শেষ! আমারে এবার ছাড়ান দ্যান!
৮৪. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩৭
comment by: সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন: ১. লেখক কনফুসিয়াসের লেখার পেছনে কেমন দর্শন কাজ করে?

২. ঝাল বেশি ভালো লাগে নাকি মিষ্টি? মানে এক থালায় দুটোই এগিয়ে দিলে কনফু কোনটার দিকে হাত বাড়াবে (এই মহুর্তে)?
৮৫. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩৯
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ সুমেরুদা,
১। মানুষ সম্পর্কে আমার খুব উঁচু ধারণা। বিশ্বাস করি, স্রষ্টার পরে মানুষই অসীম ক্ষমতাবান।
২। বেশিরভাগ সময়েই নিজের কথা গালগল্পের মত করে বলে যাই। নিরেট তথ্য দেয়ার কাজটা খুব একটা করি না, তাইই বোধহয় রেফারেন্সের প্রয়োজন হয় না।
৩। ব্লগিং এর কারণে সিরিয়াস লেখালেখি খানিকটা কমেছে ঠিক, তবে এটাকে ক্ষতি বলবো না।
৪। বোনার ব্যাপারটা কনসাসলি হয় না বোধহয়। সবাই গল্প বলে, আমি পুরোপুরি গল্পও বলি না, মাথার মধ্যে পুরো দৃশ্যটা বানিয়ে ফেলি, পরবর্তীতে শুধু সেই দৃশ্যটা বর্ণনা করে যাই।
এটাই!
৫। যেটার মাঝে প্রতিনিয়ন বেঁচে আছি সেটাই বাস্তবতা। আলাদা কিছু বলে মনে হয় না।
৬। সারাক্ষণই এসএমএম লিখি। লিখতে ভাল লাগে। দেশে গিয়ে এবারে ইউনিকোডে বাংলা এসএমএস করে এলাম, আমার মজা-ই লেগেছে!
৭। এখনো সেরকম সুযোগ পাই নি। সময়ে অবশ্যই কুমিল্লার ডায়ালেক্ট অনেক ব্যবহার করবো।
৮। দশদিন লিখতে না পারলে সম্ভবত আমার পেটে পিলে হবে এবং আমি মরে যাবো!
৯। বড় লেখায় পরিশ্রম অনেক। অলসতা কাটিয়ে সেটুকু করতে পারাটাও আমার জন্যে বিরাট একটা সমস্যা!
১০। ধ্বংস ব্যপারটাকে রীতিমতন এনজয় করি!

--------
আপাতত না! তোমার কোটা-ও শেষ। নো মোর প্রশ্ন ফ্রম ইউ। আলবিদা।
৮৬. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৪১
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ সাদিক ভাই,
১। বড় কিছু নয়, নিজের প্রতি ও লেখার প্রতি সৎ থাকার সহজ দর্শন কাজ করে।
২। এখন কিংবা তখন নয়, সবসময়েই মিষ্টির দিকে হাত বাড়াবো! :-))
৮৭. ২০ শে মে, ২০০৭ রাত ১১:১৬
comment by: কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন: ওয়াও, আমিও মিষ্টি-ফ্রীক ... যদি কখনো দেখা হয় তাইলে পাল্লা দিয়া খামুনে ... দেখমু কে কত খাইতে পারে ...

আচ্ছা আর দুইটা কোশ্চেন:
১. নিজের লেখায় যদি কখনো কোন সত্যি ঘটনা নিয়া (অথবা পাঠক যাতে সত্যি ঘটনা ভাবে এমন কইরা) লেখেন তাহলে তার মাঝে চাপাবাজি থাকে কি? থাকলে কতটুকু? (খেইপেন না, জাফর ইকবালই বলছেন, সিলি ফ্যাক্ট যোগ কইরা উনি কোন ভাল গল্পরে নষ্ট করেন না ... তাই জিগাইলাম আপনেও ঐ দর্শনে বিশ্বাসী কিনা )

২. নেক্সট আগুনের পরশমনিতে কারে ভাজি হইতে দেখতে চান?
৮৮. ২১ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:৫৪
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: ১৬ নম্বর প্রশ্ন দিয়ে ষোলো আনা পূর্ণ করি -
আজকের কনফুসিয়াসের মধ্যে আগামীর সৈয়দ শামসুল হককে খুঁজে পাচ্ছি। আগামী দিনগুলোয় সব্যসাচী লেখক হিসেবে পাঠকের কাছে কনফুসিয়াসের কেমন দায়বদ্ধতা থাকবে?
৮৯. ২১ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: নিশ্চয়ই জমছে ... পরে সময় নিয়া পড়ব ... এখন কিছু প্রশ্ন করি

১. অর্থ বা সময় যদি কোন ফ্যাক্টর না হয়, তাহলে একমাসের জন্য পৃথিবীর কোনদেশে ঘুরতে যাবেন?
২. প্রজাপতির সাথে গেলে আর একা গেলে কি দেশগুলো ভিন্ন হবে?
৩. আপনার শখ কি? কতটুকু ফ্রিকোয়েন্সীতে শখ বদলায়?
৪. রিসেন্টলি পড়ে মজা পেয়েছেন এমন কোন টপিকের নাম বলুন।
৫. (সিরিয়াস) জন্মযুদ্ধের ব্যাপারে -- ধরুন দশ বছর পর সর্বজনস্বীকৃত একটা কথা হলো, 'জন্মযুদ্ধ প্রজেক্টটা সার্থক', আপনার কাছে এটা বলতে পারার জন্য কি কি রেজাল্ট নেসেসারী কন্ডিশন হবে?
৯০. ২১ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:১১
comment by: কৌশিক বলেছেন: ১. প্রিয় গান কি? কার গান ভাল লাগে? প্রিয়জনের কণ্ঠে কোন গানটি সবচেয়ে ভাল লাগে?

২. আপনার জীবনসংগীকে স্ত্রী নাকি পার্টনার কোন বিশেষণে বেশী আকর্ষণীয় মনে হয়?

৩. আপনি কিভাবে সংসারের কাজগুলো শেয়ার করতে চান?

৪. সন্তান জন্মদানের সময় স্ত্রীকে চাকুরী ছাড়তে বলবেন কি?
৯১. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১:৫১
comment by: আলভী বলেছেন: ১. নেশা এবং পেশা এক হলে সমস্যা আছে বলে মনে করেন?
২. 'যে কোন শিল্প, যতক্ষণ পর্যন্ত না শিল্পী জীবিকা হিসাবে গ্রহণ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই শিল্পীর শিল্পের বিকাশ হয় না' - কতটুকু একমত?
৯২. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ২:১১
comment by: কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন: কুংফু ভাই ভাগল নাকি?
৯৩. ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৩
comment by: সুমেরু বলেছেন: আর কি!
৯৪. ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৫৩
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কনফু গেল কই?
৯৫. ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:০৩
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: কনফু, কই গেলেন? দেরী করলে আরো ডজন খানেক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবো!
৯৬. ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:০৭
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: কনফুর কাছে আমার শেষ প্রশ্ন:

১/ব্লগের মাধ্যমে সহজে প্রকাশ করা যাচ্ছে লেখা।'জাগো বালক'' জাতীয় কবিতা চোখের সামনে আসছে এবং বুঝে হোক না বুঝে হোক অনেকেই তাকে ৫ দিয়ে এবং ভালো হয়েছে বলে কমেন্ট দিচ্ছেন। এটা
কি প্রকারান্তরে সেই লেখকের ক্ষতি করছে না?

(আমার ব্যক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি,পত্রিকায় লেখালেখি করার সময়,লেখার পর কয়েকবার কাটাকুটি করতাম,কারন মনে হতো আরেকটু গুছিয়ে না লিখলে আমার লেখা ছাপা হবে না।
কিন্তু ব্লগে কী লিখছি বুঝার আগেই উচ্চগতির ইন্টারনেট লেখাটিকে উড়িয়ে নিয়ে ফেলছে পাঠকের সামনে।গত ১ সপ্তাহে আমি অন্তত:আগের পোস্টগুলো থেকে ২০টি মুছেছি।ওগুলো আসলেই কিছু হয় নি,অথচ বেশ লিখে ফেলেছিলাম।)
৯৭. ২২ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১:১৫
comment by: নাহিদ বলেছেন: এত মন্তব্য পড়তে পড়তে সময় গেল..তাই মন্তব্য করতে পারলাম না।।
৯৮. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:০৪
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: হাজিরা দিয়ে গেলাম।
শনি-রবিবার বাদে আসলে সময় বের করা খুব শক্ত। তবু টুকটাক উত্তর দিয়ে যাব।
৯৯. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:৫৩
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কিংকর্তব্য-
১। ওরকম করে ভাবি নি কখনো। তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভবত মূল ঘটনাটা না বদলে খানিকটা তেল-জল মেশানো যেতে পারে। পোয়েটিক রাইট আর কি!
২। আগুনের পরশমণি বড়ই যন্ত্রণার জিনিস! নেক্সট পর্বে কাকে ভাজি হবার অভিশাপ দিব তাই ভেবে দেখছি।
১০০. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:৫৮
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ শিমুল,
১৬ ( গররররররর! )।
সৈয়দ শামসুল নামটা চেনা চেনা লাগে, কিন্তু সব্যসাচী ভাইজান কোনজন? ওনারে তো চিনলাম না! :-))
( সৈয়দ হককে সাহিত্যিক হিসেবে খুব পছন্দ করি। গদ্যে পদ্যে আসলেই অনন্য। এরকম তুলনা করায় ভীষন সংকোচ লাগছে। :-))
পাঠকের কাছে দায়বদ্ধতা নিয়ে আলাদা করে ভাবি নি, তবে ভাল লেখার চেষ্টা করবো নিজের জন্যেই।
ধন্যবাদ।
১০১. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:০৯
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ জ্বিনের বাদশা,
১। প্রবাসে আসবার পর থেকে কোথাও যাবার কথা ভাবলেই বাংলাদেশের কথা মনে হয়!
আর যদি সেটাকে লিষ্টে না রাখি, তবে সম্ভবত ফ্রান্সে যাবো।
২। শখ যে কি সেটা এই মুহুর্তে ভেবে পাচ্ছি না। বই পড়াটা একসময় শখ ছিলো, কিন্তু এখন বোধহয় সেটা অন্ন বস্ত্রের মতন মৌলিক চাহিদা হয়ে গেছে!
৩। মজা পাওয়া উচিৎ ছিল না- তবু পড়ে ভীষন মজা পেয়েছি কৌশিকদার কবিতা সমালোচনার প্রথম পর্ব পড়ে।
৪। জন্মযুদ্ধের সর্বেসর্বা হচ্ছেন পিয়াল ভাই। উনি যে কেন তাতে আমার নাম ঢুকালেন আমি সেটা এখনো ভেবে পাই নি। বলতে গিয়ে একবার ঝাড়ি খেয়েছি তাই এখন বলিও না। যাকগে,
প্রজেক্ট সফল হবে তখুনি যখন মুক্তিযুদ্ধের রেফারেন্স দিতে গিয়ে সবাই সবার আগে জন্মযুদ্ধের নাম বলবে।
আরো অনেক কথা আছে, কিন্তু সেসব অনেক বিস্তৃত...।
১০২. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:১২
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ ... আপাতত কামনা করি নিকট অতীতেই প্যারিস ঘুরে আসবেন
আর লংটার্ম শুভকামনা জন্মযুদ্ধের জন্য
১০৩. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:২২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ কৌশিকদা, ( আপনার কোটা শ্যাষ! )
১। প্রিয় গান অনেক, প্রিয় শিল্পী অনেক। আমি টানা কয়েকদিন একই ধরণের গান শুনি।
এক নাম না জানা শিল্পীর একটা গান খুব শুনছি ক'দিন ধরে, ' আজ ঝড় ভালবাসা আনন্দে ভেসে যাওয়া, ডুবি ডুবি ভেসে উঠি, অঙ্গনে আমার... '।
এই মুহূর্তে এটাই আমার প্রিয় গান।
প্রিয়জনের কণ্ঠে সব গান ভাল লাগে।
২। কারো সাথে পরিচয় করাতে গেলে এখনো 'বন্ধু'-ই বলি। তাই মনে হয়, স্ত্রী বা পার্টনার নয়, বন্ধুই বেশি আকর্ষণীয়।
৩। সংসার এখনো শুরু করি নি। করলে ভাবা শুরু করবো। :-))
৪। এখনো জানি না।
১০৪. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:২৭
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ আলভী,
১। আমি কোন সমস্যা দেখি না। বরং এরকম হওয়াটা সৌভাগ্যই মনে করি।
২। একমত নই। আমি এরকম 'জোরাজুরি'-তে বিশ্বাসী নই। মানুষ অনেক বেশি পটেনশিয়াল, শিল্পীরা আরো বেশি। এরকম যে কোন সম্পাদ্য বা উপপাদ্য তারা ভুল প্রমাণ করতে পারেন হেসে খেলে।
১০৫. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৩২
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: @ জেবতিক আরিফ,
খুব বড় একটা পয়েন্ট এটা। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমিও অনেক ভেবেছি। আপনার মত করেই, নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে। এবং আমারো মনে হয়েছে, এরকমটা হয়তো আসলেই খুব ভাল কোন ফল আনবে না।
কিন্তু শেষমেষ একটা কথা ভেবে মনে হলো, এই ব্যাপারটাও সার্বজনীন নয়। মানে সব লেখকের জন্যে খাটবে না সেটা। যদি সেরকম শক্ত মানসিকতার মানুষ হয়, তবে ৫ বা 'ভাল হয়েছে'-র পরেও নিজের ভুল ত্রুটি সে নিজেই দেখতে পাবে। অন্তত আমার মনে হয়েছে, আমি পারছি আমার নিজের লেখা থেকে অনেক লেখাকে নির্দয় ভাবে 'খারাপ লেখা' ভেবে ফেলে দিতে।

ধন্যবাদ আপনাকে। এবং বাকি সবাইকে।
১০৬. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৪১
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আপনার প্রশ্নোত্তর পড়ে একটা জিনিষ খেয়াল হলো।
আগুনের পরশমনি আসলেই বিশাল ঝামলার ব্যাপার।
১০৭. ২২ শে মে, ২০০৭ রাত ১০:৪৯
comment by: কনফুসিয়াস বলেছেন: এই ব্যাপারে কোন দ্বিমত নাই।
:-((
১০৮. ২৩ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: কনফুসিয়াস:
ধন্যবাদ। খুব ভালো লাগলো আলাপ এ আলাপচারিতা। বিনয় এবং বিদ্রোহের সংমিশ্রণ আপনার ভাবনায়। অনেক শুভকামনা।