পোস্টগুলি

November, 2007 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বেল পাকিলে কাকের কী?

ছবি
দৃশ্যত কোন লাভ নেই, কিছু যায় ও আসে না, তবু বেল গাছে বাসা বেঁধেছি কদিনের জন্যে, তাই বেল পাকার খবর নিই আর কি!
ঘটনা হল এই, জন হাওয়ার্ড হেরে গেছে। লেবার পার্টির কেভিন রাড আজ থেকে অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় মাস ছয়েকের বেশীদিন ধরে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সমাপ্তি ঘটলো আজ। আমি অবশ্য তেমন টের টুর পাই নি। আমাদের দেশের মতন নির্বাচনটা এখানে উৎসবে রূপান্তরিত হতে পারে নি। এ দেশের লোকজন নির্বাচন নিয়ে আদৌ কতটুকু সিরিয়াস, সেটা নিয়েও আমার কিঞ্চিত সন্দেহ আছে। আজ হাতে গুনে চারজন আমাকে এসে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা, আশপাশে ভোট কোথায় নেয়া হচ্ছে বলতে পারো? আমার ভোটটা এখনো দেয়া হয় নি!পত্রিকাগুলো অবশ্য আগেই ভবিষ্যৎবানী করেছিলো, কেভিন জিতে যাবে। নানা রকম জরিপ টরিপ করে তারপরেই এইসব আগাম ঘোষনা দেয়া হয়, তাই এসবের উপরে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করা যায়। একেবারে শেষমুহুর্তে অবশ্য বেশ জমে উঠেছিলো। হাওয়ার্ডকে বুড়ো বলে বাতিলের চেষ্টা ছিলো শুরু থেকেই। লেবার পার্টি এই নিয়ে কম প্রচারণা চালায় নি। কেভিন সেদিক দিয়ে বেশ এগিয়ে ছিলো। অবশ্য অল্পকদিন আগে প্রচার পাওয়া একটা ভিডিও খানিকটা গোলমালে ফেলে দিয়েছিলো। বেশ আগের একট…

প্রিয় সঞ্জীব চৌধুরী

ছবি
তো যেরকমটা হয়, এভাবেই মৃত্যু এসে হাত ধরে ডেকে নিয়ে যায় জেলে নৌকার মাঝিদের।
আউলা চুলের কাঁধে গামছা মাঝি, চান্নি রাতে গলায় জোয়ার উঠে, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ।
আমরা অন্ধ হই, নিঃস হই, বধির হই। আমাদেরই চোখের সামনে মৃত্যু এসে হাতছানি দেয়, মাঝি চলে যায়।
দোলে ভাটিয়ালি, এ নদী রূপালী, ঢেউয়ের তালে নৌকা বাজাও...
নদী দোলে, ঢেউ দোলে, ঢেউয়ের তালে আপনমনে দিগবিদিক নৌকা ভেসে যায়।
মাঝি নেই হায়, নৌকাও আর বাজে না।

না চাহিলে যারে পাওয়া যায়...

১।
আমায় এমন পাগল করে আকাশ থেকে মধ্য রাতে নামলে কেন,
নামলে যদি মধ্যরাতেই, চোখের দেখা না ফুরাতেই থামলে কেন?মাঝরাতের ঝুম ঝুম বৃষ্টি নিয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের তিন দিকপালই নানা কিছু ভেবেছেন। এক হলেন আমাদের ট্যাগোর আংকেল, তিনি লিখে গেছেন, আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা, এসো হে গোপনে...। তারপরে আছেন ডাকাত-কবি, মানে নির্মলেন্দু গুণ, কি অসাধারণ সব পংক্তি, নামতে তোমায় কে বলেছে, মেঘে মেঘে মেঘ গলেছে, অন্ধকারে।
আর তৃতীয়জন হলাম এই আমি। এখনো কিছু লিখিনি অবশ্য, তবে ইদানিং রাত বিরেতের বৃষ্টিটাকে যে হারে মিস করা শুরু করেছি, খুব শীঘ্রই যে একটা কিছু লিখে ফেলবো, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।২।
লাল কমলা আর গোলাপী, তিনটে রংকেই আমি লাল বলে চালিয়ে দিই। ফিরোজা, সবুজ, কলাপাতা অথবা লেবু- সবই আমার কাছে সবুজ। দুর্জনে আমাকে কালার-ব্লাইন্ড বললে দোষাই কেমনে?
আমি অবশ্য দাবি করি, কালার ব্লাইন্ড নয়, বড়জোর আমাকে কালার-ডাম্ব বলা যেতে পারে। রঙ টং যে চিনি না তাতো নয়। চিনি ঠিকঠাক, তবে বলবার কষ্টটুকু করতে ইচ্ছে করে না আর কি! সে জন্যে ব্লাইন্ড হতে রাজি নই, বড়জোর ডাম্ব হওয়া চলে!৩।
ভেবে দেখলাম, এই পোড়ার দেশের লোকেরা একেবারে পাকাপাকি …

চুলোচুলি

ছবি
প্রতিবার চুল কাটাতে গিয়ে যখন সেলুনের চেয়ারে বসি, হাসিমুখে প্রশ্ন শুনি, কিভাবে কাটাবেন? আমি তখন ভীষণ বিপদে পড়ে যাই।আমি আলাভোলা মানুষ নই। যদিও রঙ চং পছন্দ করি না, শুধু খানিকটা পরিপাটী থাকি। তবে সেই পরিপাটীত্বের সিলেবাসে আমার চুল নেই। চুলের জন্যে এমনকি চিরুনিও একটা বিলাসিতা যেন আমার কাছে, গোসলের পরে দু হাতের দশটা আঙুল দিয়েই কাজ চলে যায়। আলাদা ভাবে কখনোই ভাবা হয় না তাই চুলের চেহারা বা নক্সা কেমন হবে। আর সে জন্যেই প্রতিবার চুল কাটাতে গেলে কিভাবে কাটাবো, এই বহু পুরাতন প্রশ্নে আমি বারবারই নতুন করে বিপদে পড়ি।কপালের ওপরে চুলের শেষ সীমানায় আমার একটা লুকোনো ঘূর্ণি আছে। চুল ছোট রাখি বলে বুঝা যায় না। ব্যাপারটা জিনেটিক, সন্দেহ নাই, কারণ আমার বাবা আর ভাইয়ের মাথায় ঘূর্ণিগুলো স্পষ্ট। আমারো চুল খানিকটা বড় হলেই এই ঘূর্ণির কল্যাণে চুলে নানারকম ঢেউ খেলে যায়। এই ব্যাপারটা এড়ানোর জন্যে ছোটবেলা থেকেই সিঁথি করি ডানদিকে, ঐ ঘূর্ণির অনুকুলে। মাথায় চুল খানিকটা বড় হলেই আমার তাই অস্থির লাগা শুরু হয়। গত কদিন যেমন হচ্ছিল, ঘাড়ের কাছে আর কানের ওপরে চুলবুল করছিলো, বুঝছিলাম সময় ঘনিয়েছে। আরও নিশ্চিত হলাম যখন আমার সহকর্মী …

এখানে একা নাকি?

ছবি
একলা নারীরা পৃথিবীর কোথাও নিরাপদ নয়।
হোক সেটা ঢাকা, কি মেলবোর্ণ। অথবা হোক সেটা সত্যিকারের রমণী, অথবা তার ছবি, এমনকি কাঠের বুকে খোদাই করা কোন নারী-মূর্তি! এবারের ঈদের দিন তোলা ছবি। মূল শহর থেকে অনেক দূরের একটা বন আর গাছ-গাছালি ঘেরা পিকনিক স্পটে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
সেখানের নির্জন একটা জায়গায় এই টয়লেট সাইন খুঁজে পেলাম। পাশের পুরুষ মূর্তির তীব্র চাহনিকে উপেক্ষা করেই বেচারীর ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে।

আমি অবশ্য অবাক হয়েছি পুরুষ মুর্তিটির গায়ে একটাও আচড়ের দাগ না দেখে! ব্যাটা নির্ঘাৎ কাপুরুষ, সঙ্গিনীকে একবারও নিশ্চয় বাঁচাতে যায় নি!
সেলুকাস!

খাবি দাবি কলকলাবি

পেট দেখে ইদানীং আমাকে পেটুক বলে চেনা গেলেও, ছেলেবেলায় কিন্তু আমি এরকম ছিলাম না। এরকম, মানে যে পেটুক ছিলাম না, ব্যাপারটা তা নয়। সেটা ছিলাম ঠিকই, তবে পেটের আকৃতি তখনো দ্রষ্টব্য কিছু হয়ে ওঠে নি আমার।

বাসায় আমার যন্ত্রণায় বিস্কুট চানাচুর ঠিক জায়গায় রাখবার উপায় ছিলো না। নানা জায়গায় লুকিয়ে রাখতে হতো। তবে কিছুতেই আমাকে দমিয়ে রাখা যেত না। আমি খুঁজে টুজে বের করে, তাদের সবচেয়ে সঠিক জায়গায়, মানে আমার পেটের ভেতরে নির্দ্বিধায় চালান করে দিতাম। মাঝে মাঝে দু'এক পদের বিস্কুট যদিওবা লুকিয়ে রাখতে পারতো, কিন্তু আমিও তক্কে তক্কে থাকতাম। মেহমান বাসায় এলেই আমি খুশিতে বাগডুম। এ বারতো লুকোনো বিস্কুট বের করতে হবেই! এবং তাই হতো। মেহমানদের দেবার জন্যে লুকোনো ভান্ডার থেকে বের করা হতো সেসব। আর আমি শুধু ঘড়ি দেখতাম কখন তারা বিদায় নেবে। এবং যখন সত্যিই ওরা চলে যেত, বিস্কুট চানাচুর আবারো লুকোবার আগেই আক্ষরিক অর্থেই ঝাপিয়ে পড়তাম সেসবের উপরে।

এই খাদ্যপ্রীতি যে কেবল নিজের বাসায় বলবৎ ছিলো তা নয়। পরিচিত আত্মীয়দের বাসায় যাবার ব্যাপারেও আমি বাছ-বিচার চালাতাম। কোন বাসায় গেলে কোন মানের বিস্কুট খেতে দিবে, মনে মনে সে বিষয়ে আমার…

অবশেষে...

তাই হচ্ছে। একদম পার পেয়ে যাচ্ছে না বোধহয় ব্যাটারা।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা একসাথে হয়েছেন। দেশের সবচেয়ে জরুরি মুহুর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এখন আবার সেই সময় এসেছে।
ডিসেম্বরের ৩ তারিখে মিটিং ডাকা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতির ব্যাপার।
সবকিছু ভালোয় ভালোয় হলেই হলো।