বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০০৬

সিংহপুরী আলাপ-

১।
এবার দেশে আসার পথে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের টিকেট না কাটার পেছনে প্রধান কারণ ছিল পছন্দের সময়ে রিটার্ন টিকেট না পাওয়া। ওটায় করে এলে আমাকে পনের দিন আগেই দেশ ছাড়তে হতো।
আরেকটা প্রচ্ছন্ন কারণ ছিল আমার বন্ধু রাজীব। ও আমাকে আগেই সাবধান করে দিয়েছিলো ভুলেও যেন মালয়েশিয়ান টিকেট না কাটি। মেলবোর্ন থেকে মালয়েশিয়া সার্ভিস খুব ভালো, কিন্তু তারপরে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকার সার্ভিস নাকি একদম যাচ্ছেতাই! ও যেবার ঢাকায় এসেছিলো, সেবারের প্লেন নাকি ঢাকার লোকাল বাসের কোয়ালিটির। আরো ভয়ংকর কথা, প্লেন জিয়া এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করার সাথে সাথে সব প্যাসেনজার নাকি দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া শুরু করেছিল। ল্যান্ডিংয়ের সময়ে সীট বেলট বাঁধা আবশ্যক, সুতরাং অনতিবিলম্বে বিমানবালারা চেঁচামেচি করে সেটা জানান দিতে থাকে, কিন্তু তবু নাকি কারো ভ্রুক্ষেপ ঘটেনা!
চোখ বুজে দৃশ্যটা কল্পনা করার চেষ্টা করতেই শিউরে উঠলাম। এবং এমন করেই কেটে ফেললাম সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের টিকেট।

২।
ভুল যে করিনি সেটা টের পাই প্লেনে ওঠার সাথে সাথেই।
প্রায় নিয়মিত বিরতিতে সিনেমার নায়িকাদের প্রেমে পড়ার ব্যাপারে আমার রেকর্ড আছে। উইনোনা রাইডার, ক্যাথারিন জেটা জোনস, পেনেলোপ ক্রুজ ঘুরে এই মূহুর্তে মনিকা বেলুচ্চি। কিন্তু তার আসনও টালমাটাল। সীটে বসে বেলট বাঁধতে বাঁধতেই সিনেমার নায়িকাদের তালিকার সাথেই প্রায় নির্দিধায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সব এয়ার হোষ্টেস এর নাম যোগ করে দিলাম। আহ, একেকজন যেন সাক্ষাৎ হুর-পরী! জান্নাতুল ফেরদৌসে যদি প্লেন সার্ভিস থাকে, নির্ঘাৎ তার এয়ারহোস্টেসদের নেয়া হবে সিঙ্গাপুর থেকে! কোনো সন্দেহ নাই।

৩।
জার্নি ভালো হলো। একদম নির্ঝনঝাট। খেয়ে দেয়ে আধাঘুমিয়ে আর সুপারম্যান রিটার্ণস দেখে সময় কেটে গেলো।
আমি অবশ্য খুব আশা করেছিলাম এরা 'স্নেক অন দ্য প্লেন' মুভিটা দেখাবে। কিন্তু অতটা রসিক মনে হয় এঁরা নন।

৪।
সিঙ্গাপুরে চার ঘন্টার ট্রানজিট। কথা ছিলো মাশীদাপু আসবে দেখা করতে। কিন্তু ওনারা তখন কুয়ালালামপুরে সংসার সাজাতে ব্যþত, তাই আসতে পারবে না। সাদিক ভাই আগেই জানিয়েছিলো সেটা। আমি তাই এয়ারপোর্টে বসেই নেটে ঢুকে মেইল করলাম কয়েকটা।
মাশীদাপুর ফোন নাম্বার জানা ছিলো। আমি অভ্যাসবশে শুরুতে জিরো লাগিয়ে সেই নাম্বারে ডায়াল করে দেখি যায় না। খুব মেজাজ খারাপ হলো। শেষে কি মনে করে জিরো বাদ দিয়ে ডায়াল করতেই লাইন পেয়ে গেলাম।
মাশীদাপুর গলা শুনতেই আমি বললাম, বস, কী খবর?
ও বলে কি, কে রে??
আমি হাসতে হাসতে আমার নাম বললাম। কিন্তু কপাল, আমার নিজের নামে আমারে কেউ চিনে না! তাই বললাম, আমি কনফু।
অবশেষে চিনিলেন।
বেশ খানিক্ষণ কথা হলো, প্রাণবন্ত এবং ছটফটে গলা মাশীদাপুর, ঠিক যেমনটা ভেবেছিলাম। তারপরে কথা হলো অরূপদার সাথে। টু বি অনেষ্ট, 'ভদ্্রলোকের' গলা শুনে আমি মুগ্ধ! অরূপদা গান, আবৃত্তি বা ডিবেট করে কি না জানি না। কিন্তু করলে যে খুব ভালো হয়, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। আমাকে আদুরে গলায় বললেন, 'আহারে ছেলেটা এত দূর থেকে এলো, আর দেখা করতে পারলাম না।' এইটুকু শুনেই আমি গলে গেছি।
অবশেষে, কঙ্কাবতীর সাথে প্রতিদিন ফুচকা খাবো- মাশীদাপুর কাছে প্রায় শতবারের মতন এই প্রমিস করে ফোন ছাড়লাম।
আমার সিঙ্গাপুর যাত্রাও স্বার্থক হলো।

সোমবার, ডিসেম্বর ১১, ২০০৬

কষ্টে আছি ইয়াজুদ্দিন-

১।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়া আমার ব্যক্তিগত ধারণা ছিল- প্রজাতিতে এনারা বেশ নীরিহ হন, করেন না কো ফোঁসফাঁস, মারেন নাকো ঢুসঢাস।
ইশকুলে থাকতে বিএড টিচার বলে একটা ব্যাপার ছিল। বৎসরের কোন একটা সময়ে এরা হাজির হতেন। কোন এক সুন্দর সকালে আমরা বাংলা ক্লাসে গিয়ে দেখতাম, আজ রবি ঠাকুরের কবিতা পড়া হবে, সেজন্যে বোর্ডে লাল চক দিয়ে কবিতার নাম, আর নীল চক দিয়ে লেখা হয়েছে কবির নাম। তারচেয়ে মজার কথা বোর্ডের এক কোনায় ক্যালেন্ডার থেকে কেটে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে রবিদাদুর ছবি। দাদাঠাকুর সেই ছবি থেকে দাড়ির ফাঁক দিয়ে অদৃশ্য হাসি হাসতেন, আর আমরা ক্লাশের সবাই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচতাম।
ঐ স্যাররা হতেন ভয়াবহ ক্যাটাগরির অমায়িক মানুষ। ক্লাশে যতই চিল্লাপাল্লা করতাম, কখনৈ ওনারা ধমকটা পর্যন্ত দিতেন না। বাসায় বেড়াতে আসা নতুন মামীর মতন অভিমানী গলায় বলতেন, প্লিজ, তোমরা দুষ্টামি কোরো না।

২।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার শুনলেই আমার কেন জানি বিএড টিচারদের কথা মনে হোত। তিনমাসের জন্যে এসে এনারা দেশটাকে সুন্দর ভাবে চালাবেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে, এমনটাই ভাবতাম।
কিন্তু এ বছর দেখি ঘটনা অন্যরকম।
গত একমাসে সবকিছু কেমন ভোজবাজির মত লাগছে। 'কি হইতে কি হইলো, হঠাৎ দেখি- ' আমাদের প্রেসিডেন্ট ইয়াজুদ্দিন নিজেই হয়ে গেলেন প্রধান উপদেষ্টা! তারপরে নানা কান্ড। অন্য উপদেষ্টারা যখন নানা প্যাকেজ নিয়া হাজির হন, আমরাও আশ্বস্ত হই, কিন্তু পরবর্তিতে পত্রিকায় দেখি, ইয়াজুদ্দিন নাকি অনীহা প্রকাশ করেছেন। তার এই অনীহার কোন কারণ খুঁজে পাই না।
গতকাল রাতে ইয়াজ সাহেব তৃতীয়বারের মত জাতির উদ্দেশ্যে ওয়াজ করিলেন। সেই ওয়াজ শুনে আমি বুঝিতে পারিলাম, তিনি বড়ই কষ্টে আছেন। সম্ভবত বিয়েনপি প্রধানের বক্তৃতাটা ভুল করে তার ফাইলে চলে এসেছে, তিনিও চোখ অর্ধে ক বোজা অবস্খায় সেটাই পাঠ করলেন। এবং আমার মত বোকাদের কাছেও এতদিনকার ভোজবাজিগুলার কারণ স্পষ্ট হয়ে গেল!

৩।
ইদানীং আমার শুধু-শুধুই রাগ লাগে।
কেন ১৪ দল খালি অবরোধ দ্যায় সে জন্যে রাগ হয়। সারা দেশের জনগণ মুহিনকে না দিয়ে কেন যে শুধু সালমাকেই সব ভোট দেয় আমি সেটারও কোন কারণ খুঁজে পাই না। এই ভয়াবহ বাংলা উচ্চারণ নিয়েই এই মেয়েটাই যে ক্লোজআপওয়ান হয়ে যাবে, এটা বুঝে ফেলার পর থেকে এই প্রোগ্রামটার প্রতি আমার আর কোন আকর্ষণই নেই।
স ম জাকারিয়া কেন ছুটিতে যাবেন না সেটা ভেবেও রাগ লাগে, আবার তাকে কেন যেতেই হবে সেটা ভেবেও রাগ লাগে। এতজন জ্ঞানীগুণী উপদেষ্টারাও আসলে কতটা অসহায়, সেটা ভেবে অস্খির লাগছে।
আজ সকালে উঠে ইন্ডিয়ান ইটিভি বাংলার নিউজে দেখলাম বলা হয়েছে- বাংলাদেশে সেনা অভ্যুথান! মোতায়েন এবং অভ্যুথান শব্দ দুটোর অর্থগত পার্থক্য এরা কবে বুঝবে? এ দেশের মিডিয়াগুলো এটার প্রতিবাদ করবে? জানি না।
এইসব রাগ আর অস্খিরতা প্রকাশের জায়গা পাচ্ছি না, তাই শেষমেষ ব্লগে এসে লিখে যাচ্ছি, কষ্টে আছি, জনাব ইয়াজুদ্দিন, বড়ই কষ্টে আছি।

সোমবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০০৬

বীক্ষণ সম্পর্কিত ঘোষনা-



নেটে বসে আছি প্রায় ঘন্টাখানেক হবে। এর মধ্যে অনেক সময় নিয়ে ৩ টা পেজ খুলতে পেরেছি। সেজন্যে অবশ্য আমি মোটেও দু:খিত নই। কোন লিংকে ক্লিক করে নতুন পেইজ খুলবার সময়টুকু কাজে লাগানোর জন্যে বাসা থেকে সাথে করে মুহম্মদ জাফর ইকবালের 'আমি তপু“ বইটা নিয়ে এসেছি। একটা লিংকে ক্লিক করে ৩ বা চার পাতা পড়া শেষ করে মনিটরে তাকাই, ততখনে পেজটা চলে আসে।
লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, বইটা প্রায় শেষ করে ফেলেছি, আর বোধহয় ২০/২৫ পৃষ্ঠা বাকি!

-------------------
দেশে আসবার আগেই একটা ঘোষনা দেবার কথা ছিল, তাড়াহুড়ায় দিতে পারি নি।
নতুন একটা ওয়েবম্যাগাজিনের কাজ শেষ করেছি। আসবার আগের দিনেও অনেক রাত জেগে নানা কারেকশান করতে হয়েছে। এখনো শেষ হয়নি। নানারকম ভুল-ভ্রান্তি এখনো রয়ে গেছে। কিন্তু সবই আস্তে আস্তে শুধরে ফেলবো। খানিকটা সময় লাগবে যদিও।

ম্যাগাজিনের নাম হলো বীক্ষণ
লিংকটি এরকম http://www.beekkhan.com
ম্যাগাজিনটির মূল বৈশিষ্ঠ হচ্ছে পুরোটাই ইউনিকোডে বানানো। সম্পাদনা করেছেন সুচেতা মিশ্র। লেখা ঝাড়াই, বাছাই এবং ডিজাইন ভাবনার সবটুকু কৃতিত্বই তাঁর। আমি শুধু সফটওয়্যারে বসিয়ে সেগুলোকে ওয়েবে তুলে দিয়েছি। সুতরাং, ভুল-ভ্রান্তির সবটুকু দায় আমি মাথা পেতে নিচ্ছি।
আমাদের ব্লগের পরিচিত অনেকেই লিখেছেন সেখানে। হাসান মোরশেদ, সুমেরু, রাগ ইমন, শরৎ চৌধুরি, কৌশিক আহমেদ।
লিখবার কথা ছিল রাসেল ভাই এবং হযু ভাইয়েরও। কিন্তু দুজনেই শেষমেষ আমাকে পাত্তা দেন নি।
মাহবুব সুমন ভাইকে স্পেশাল ধন্যবাদ। উনার বানানো ওয়েবটুলটা ছিনতাই করে সেখানে বসিয়ে দিয়েছি, উনি তাতে কোন আপত্তিই করেন নি!

ম্যাগাজিনটি সবার ভালো লাগবে বলে আশা করি। কারণ, একেবারে আনকোরা নতুন হলেও মানের দিক দিয়ে এটা বেশ উঁচু মানের হয়েছে বলেই আমার ধারণা।
সবাই লেখা এবং মন্তব্য দিয়ে প্রয়াসটাকে সফল করবেন বলে আশা করছি।