রবিবার, নভেম্বর ২৬, ২০১৭

সিনেমাঃ ডুব

      ‘ডুব’ দেখা হলো অবশেষে।
      মেলবোর্নের সিনেমা হলে বসে বাংলা সিনেমা দেখবার আনন্দ অন্যরকম, সুযোগ এত কম আসে যে যখন আসে তখন মিস করতে ইচ্ছে করে না। দেশের ছবি হলে গিয়ে যদি না দেখি তাহলে সিনেমা শিল্পই বা বেঁচে থাকবে কী করে? 
       এবারে তবু দ্বিধায় ছিলাম অনেক। যাবো কি যাবো না, ট্রেলার দেখে আমার মনে একটা অদ্ভুত ভয়ও কাজ করছিলো, মনে হচ্ছিলো মুভি দেখা শেষে হয়তো ভয়ংকর একটা মন খারাপ নিয়ে বাড়ি ফিরবো। মনে হচ্ছিল এই গল্পের চিত্ররূপ দেখবার জন্যে আমি হয়তো আসলে এখনও প্রস্তুত হতে পারিনি, হয়তো আরও কিছু বছর লেগে যাবে আমার। 
তবু দেখতে গেলাম। সব দ্বিধা পাশ কাটিয়ে, গল্পের জানা পটভূমিকে মাথা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেখতে গেলাম ‘ডুব’। 
সিনেমা শেষ করে মনে হলো, মাত্র এক লাইনেই ডুব নিয়ে লিখে ফেলা যায় আসলে, সেটা হচ্ছে, It didn’t make any sense at all. 

গল্পের প্রাচুর্যের সম্ভাবনা যেখানে ছিল, সেখানে ডুব এর কাহিনী বিন্যস্ত হয়েছে অতি দুর্বল গল্পের উপরে। পর পর দৃশ্যের মধ্যিখানে কোন ধারাবাহিকতা নেই, সামঞ্জস্য নেই। পেছনের সব কিছু জানা থাকার পরেও সিনেমাতে গল্প খুঁজে নিতে যুদ্ধ করতে হয়েছে আসলে। ইরফান বা তিশা দুজনেই কি দুর্দান্ত অভিনেতা, তবু ঝর্ণার পারে বসে দুজনের প্রথম দৃশ্যটাকে রোমান্টিক দৃশ্য মনে হয়েছে, বাবা-মেয়ের বলে মনে হয়নি! পুরো মুভিতেই অজস্র কেন-র কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যের সংখ্যা অগুনতি। ধারাবাহিকতার অভাব এতটাই যে, অবধারিত মৃত্যুদৃশ্যটি পর্দায় আসার পরে আমার মনে প্রশ্ন এলো, ‘কে মারা গেল?’ 

টুকরো কিছু দৃশ্য ভালো লেগেছে। বাবার জন্যে পানি নিয়ে ছুটে যাওয়ার অংশটুকু ভালো লেগেছে। মায়ের জন্মদিন উদযাপনের পুরো দৃশ্যটাও অনেক সুন্দর ছিল। মেয়েকে ফোন করে বাবা-র আকুতির অংশটুকুও খুব মনে লেগেছে। 

কিন্তু একটা দুটো দৃশ্য দিয়ে তো আর পুরো সিনেমা হয় না। তাই মনে হয়েছে, ডুব আসলেই পরিপূর্ন কোন সিনেমা হয়ে উঠতে পারেনি শেষমেশ। বহুদিন আগে মুগ্ধ হয়ে দেখা নাটক ‘প্রতি চুনিয়া’ বা সদ্য নেটফ্লিক্সের কল্যাণে দেখা ‘টেলিভিশন’ এর মত ভালো সিনেমার নির্মাতার জন্যে ‘ডুব’ আসলে একটা ‘এফ’ গ্রেড মুভি, পাশ মার্ক না পাওয়া একটা মুভি। ভালো সিনেমার দর্শকদের জন্যে যেটা কেবল হতাশা আর বিরক্তিই বয়ে নিয়ে আসে শুধু, আর কিছু না।