বুধবার, জুন ০৭, ২০১৭

ওয়ার্কশপ

 ১
 তাঁরা তিন ভাই। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুপরিচিত পরিবারই বলা চলে তাঁদেরকে।  বড় দুজন দেশের জনপ্রিয়তম লেখক, ছোট জন আমাদের দেশের কার্টুনিস্টদের কাছে গুরুপ্রতিম। তিনজনের লেখার  কল্যাণেই তাঁদের শৈশব, অদ্ভুত সুন্দর পরিবার বা বেড়ে ওঠার সময়টারও অনেক কিছুই পাঠকদের জানা। আমরা জানতে পারি, শৈশবে তাঁদের বাবা কবিতা শেখার বিনিময়ে তাঁদেরকে সম্মানী দিতেন, বড় কবিতায় আট আনা, ছোট কবিতায় সিকি পয়সা। বাজারের ফর্দ লেখার মত করে নিয়মিত তাঁরা গল্প-কবিতা লিখতেন ছোটবেলায়, কখনো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে, কখনও সেই, সম্মানীর বিনিময়ে।  যখন এই সব পড়েছিলাম, মাঝে মাঝে আপন মনে ভেবেছি, লেখক হবার বীজ এমন করেই শৈশবে তাঁদের মধ্যে বুনে দিয়েছিলেন তাঁদের বাবা। কী চমৎকার একটা ব্যাপার। 
আইবুক থেকে সপ্তাহে একদিন নিউজলেটার পাঠায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বই এর বিজ্ঞাপন, নতুন কী বই এলো, এখন কোনটা সবচেয়ে বেশি চলছে, এরকম সব কারবার। এমনই একটা নিউজলেটারে পেলাম Liane Moriarty-র নাম। নিউইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার লেখিকা। বিশেষ আগ্রহ হল লেখিকা অস্ট্রেলিয়ার শুনে। আইবুক থেকেই কয়েকটা বই এর স্যাম্পল নামিয়ে কয়েকটা প্রথম চ্যাপ্টারও পড়া হয়ে গেলো। তরতর করে এগিয়ে চলা গদ্য, চমৎকার রসবোধ লেখায়, পড়তে খুবই সুস্বাদু। কী ভেবে লেখিকার ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। 
যে কোন বইয়ে আমার সবচেয়ে পছন্দের অংশ হচ্ছে লেখকের লেখা ভূমিকা এবং লেখক পরিচিতির অংশটুকু। আর এখনতো ওয়েবসাইটে লেখক-পরিচিতিটা বেশ বিশদে দেয়া থাকে। 
লিয়ান মরিয়ারটি ‘এবাউট মি’ পাতাটা পড়ে বেশ চমকে গেলাম। শুধু একটা প্যারা এখানে তুলে দিচ্ছি। 
‘লেখিকা প্রথম গল্প কবে লিখেছিলেন সেটা এখন আর মনে নেই, তবে প্রথম প্রকাশনা চুক্তির কথা খুব ভাল করেই তাঁর মনে আছে। বাবার জন্যে তিনি একটি উপন্যাস লিখে দিবেন, এই মর্মে চুক্তি করে বাবার কাছ থেকে অগ্রিম পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি এক ডলার। বিনিময়ে তিন খণ্ডের এক মহাকাব্যিক উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি তখন, নাম ছিল- ‘ দি মিস্ট্রি অব ডেড ম্যান’স আইল্যান্ড।’’ 

৩ 
লিয়ান মরিয়ারটিরা ছয় ভাই বোন। 
তাঁদের মধ্যে তিনজনই এখন লেখিকা। লিয়ান এর ছোট দুই বোন জ্যাকলিন এবং নিকোলারও বেশ কয়েকটি করে বই প্রকাশিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। সেসব বই জনপ্রিয়ও হয়েছে বেশ। 

জ্যাকলিন এর ওয়েবসাইটে পরিচিতির পাতাটা সাম্প্রতিক সময়ে আমার পড়া সবচেয়ে প্রাঞ্জল ও মজার লেখা, সন্দেহ নেই।  

কোন মন্তব্য নেই: