শুক্রবার, জুন ০২, ২০১৭

অনুবাদ প্রচেষ্টাঃ রবিন হলের দি কার্টুনিস্ট'স ওয়ার্কবুক এর ভূমিকা


ভুমিকাঃ দি কার্টুনিস্ট’স ওয়ার্কবুক 
    কার্টুন আঁকার ব্যাপারটা আমার কাছে চিরকালই খুব আকর্ষণীয় মনে হয়েছে, কারণ আমার ধারণা ছিল অন্য চাকুরেদের মত কার্টুনিস্টদের নিশ্চয়ই রোজ রোজ  সকালে ঘুম ভেঙ্গে কাজে যেতে হয় না। অবশ্য, এটাই একমাত্র কারণ নয়। আমি রীতিমতন মুগ্ধ হই এই ভেবে যে, কেবল একটা কার্টুন দিয়েই কেমন করে আমাদের জীবনের প্রায় সব রকম দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তোলা যায় - খুব সিরিয়াস কোন ব্যাপার থেকে শুরু করে  খুব মজার কিছু- অথবা দুনিয়া কাঁপানো কোন ঘটনাই হোক বা খুব সাধারণ কোন ব্যাপার- সব কিছু কেবল একটা ছবিতেই কেমন এঁকে ফেলা যায়।
        যাই হোক, আমি সেই ভাগ্যবানদের দলে পড়ি না যারা নানা রকম সৃজনীশক্তি নিয়ে জন্মেছে। সত্যি বলতে কি, আমার আঁকা ছবিও একেবারেই ভাল ছিল না; এমনকি খুব প্রাথমিক পর্যায়ের আঁকাআঁকিও দেখতে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং মনে হতো। সুতরাং কার্টুনিং যদি করতে চাই, আমাকে যে খুব ভালমতন উঠে পড়ে লাগতে হবে সেটা আমি বেশ বুঝেছিলাম। তাই হাতের কাছে আমি যা কিছু কার্টুন পেতাম সব ভাল করে দেখা শুরু করলাম, শত শত কার্টুন। আর সেগুলো দেখে দেখে আঁকা অনুশীলন করতাম কেবল, করেই যেতাম করেই যেতাম।
       অল্প অল্প করে যখন আমার আঁকা ভাল হতে শুরু করলো, আমি বুঝতে পারলাম যদি কার্টুন আঁকবার সময় আমি কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি আর ধরাবাঁধা উপায় অনুসরণ করি, তাহলে সেগুলো সত্যিই ভাল হতে বাধ্য। সময়ের সাথে সাথে এই পদ্ধতি বা উপায়গুলোকেই আমি একটা কার্যপ্রণালীতে পরিণত করে ফেললাম, যেটা শেষমেশ আমাকে কার্টুনিং জগতের দরজা খুলে দিলো।
       এই বইটি মূলত সেই পদ্ধতিগুলোকে ভাগ করে নেবার একটা চেষ্টা, বিশেষত তাদের সাথে যাদের আমার মতই উৎসাহের কোন কমতি নেই, কমতি আছে সৃজনীশক্তিতে। যারা মাত্রই শুরু করতে যাচ্ছেন এবং যারা ইতিমধ্যেই পেশাদার কার্টুনিস্ট, তাদের সবার জন্যেই আমি বেশ কিছু প্রাসঙ্গিক ছবি যোগ করে দিয়েছি, সেগুলো আশা করি সবার কাজে আসবে।
     সবশেষে সকল নব্য কার্টুনিস্টদের জন্যে আমার শুভ কামনা রইলো। 
সেই সাথে বলে রাখি ঐ কথাটি কিন্তু মিথ্যে নয়, কার্টুনিস্টদের কিন্তু আসলেই রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয় না।
- রবিন হল 



কোন মন্তব্য নেই: