পোস্টগুলি

2015 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জালালের গল্প

ছবি
সর্বশেষ ইমনের করা কাজ দেখেছিলাম আমাদের বসার ঘরের টিভিতে, সেটা ছিল আরএময়াইটি-র ফিল্ম কোর্সের জন্যে ওর বানানো একটা শর্ট ফিল্ম। ইমন আর তন্বীর মেলবোর্নে থাকাকালীন একটা বছর আমাদের জন্যে উল্লেখযোগ্য একটা সময় হয়ে থাকবে আজীবন, সেটা নিয়ে লিখেছি আগে এখানেই, নাম ছিল ‘গগন আজ দেশে ফিরছে”। সে দিন সকাল বেলা আমাদের বাসায় বসে দুইজনে ব্যাগ গোছাচ্ছে, আর পাশের ঘরে বসে আমি ভীষণ মন খারাপ করে লিখে চলেছি সেই ব্লগ, অতঃপর রাতে যখন ওদের প্লেনে তুলে দিয়ে আসলাম, মনে আছে তারপরের অনেকগুলো দিন আমার আর তিথি-র চারপাশ জুড়ে ছিল একটা অদ্ভুত শূন্যতা।
সেই প্লেন উড়ে চলে যাবার বছর চারেক বাদেই যে আমি আবু শাহেদ ইমনের পরিচালিত সিনেমা বড় পর্দায় দেখার জন্যে এই মেলবোর্নেরই এক সিনেমা হলের টিকেটের লাইনে দাঁড়াবো, সত্যি বলছি, এই কথা সেদিন ঘুর্নাক্ষরেও ভাবিনি! 
কিন্তু এই ছেলে আসলে চমকে দিতে জানে! প্রতিবার ওর সাথে কথা বলার সময় নতুন কোন চমকের জন্যে প্রস্তুত থাকি, চমকে দেয়াটাকেই একরকম নিয়মে পরিণত করেছে সে! 
জালালের গল্প- নিয়ে ওর ভাবনার কথা জানি অনেকদিন। শুরুর দিকের একটা স্ক্রিপ্ট রয়েছে আমার কাছে, যখন এই গল্পের নাম ছিল জালালের পিতাগণ, বিশ্ববি…

শ্রোতার আসর- কে শুভেচ্ছা

ছবি
শ্রোতার আসরের দশ বছর পূর্তির পরিবেশনা দেখে একটা চমৎকার সুখানুভূতি নিয়ে শনিবারের রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম আমার মেলবোর্ন জীবনেরও দশ বছর হয়ে গেলো। দশ বছর, একটা লম্বা সময় আসলে। 
এই দূর পরবাসে একটা বাংলা গানের দলের দশ বছর পূরণ করে ফেলাটা কিন্তু মুখের কথা নয়।  প্রবাসে বসে বাংলা ভাষা, সঙ্গীত বা সংস্কৃতির চর্চা করা কী পরিমাণ কষ্টসাধ্য একটা কাজ, এটা যারা না করেছেন, তারা আসলেই জানেন না। ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়ানো - এটা অনেকের কাছেই কেবলই একটা কথার কথা, কিন্তু এই কথাটির একদম শত ভাগ বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় এধরনের দলগুলোয়। নিজেদের চাকরি, সংসার, ছেলে পেলে, অন্যান্য সামাজিকতা এই সব কিছু করে তারপরে একেকটা প্রোগ্রামের জন্যে সময় বের করতে হয়। কাজের পরে প্র্যাকটিস, সবার সময় মিলানো, গায়কদের সাথে যন্ত্রশিল্পীদের সমন্বয়, মঞ্চের যোগাড়যন্ত্র, কখনো আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে ছোটা, কখনো সেটা ছাড়াই...। এই সব মিলিয়ে একটা এলাহি কারবার আসলে। এই এত কিছু করে করে একটা গানের দল আজকে দশ বছর পূর্ণ করে ফেললো, তাদের শুভেচ্ছা না জানিয়ে উপায় নেই। শ্রোতার আসরকে তাই শুভেচ্ছা জানাই। মেলবোর্নে গান শুনতে গিয়ে নিদারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছ…

আবারও বিজ্ঞাপন

ছবি
এক  বহু বছর আগে রহস্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার আহবান জানিয়ে দেয়া বিজ্ঞাপনে চমৎকার একটি কথা পড়েছিলাম, এতদিন বাদেও কথাটা পষ্ট মনে আছে, “ বিজ্ঞাপন না দিয়ে ব্যবসা করা আর অন্ধকারে কোন সুন্দরীর দিকে চেয়ে মিষ্টি করে হাসা একই কথা; তুমি জানো তুমি কী করছ, অথচ আর কেউ জানে না।’’ বলেছিলেন, Steuart Henderson Britt। এই লেখাটা লিখতে লিখতেই একবার গুগল করে নিশ্চিত হয়ে নিলাম, গুডরিডসে পাওয়া গেলো, মূল কথাটা এরকম- “Doing business without advertising is like winking at a girl in the dark. You know what you are doing but nobody else does.”। ইংরেজিটা পড়ে আরেকবার চমৎকৃত হলাম সেবা’র অনুবাদে, এত সুন্দর বাংলা অনুবাদ সেবা প্রকাশনী না হলে আসলেই পেতাম না আমরা।   একাডেমিক কিছু কাজে গত কিছুদিন দেশবিদেশের নানা বিজ্ঞাপন দেখে বেড়াচ্ছি। মজার এবং অদ্ভুত সব আইডিয়ার বিজ্ঞাপন দেখে ব্যাপক আনন্দ পেয়েছি বলা যায়। কয়েকটার কথা বলি এখানে।  ১/ এই বিজ্ঞাপনটা পৃথিবীর প্রাচীনতম বিজ্ঞাপনগুলোর একটি। একটি রোমান ব্রোথেলের বিজ্ঞাপন। বড় পায়ের পাতা দিয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে, কোন দিকে যেতে হবে।


২/ মাত্র এক শতাব্দী আগেও সিগারেটের বিজ্ঞাপন দেয়া হ…

আমার বন্ধু রাশেদ...

ছবি
যারা এখনো দেখেন নি, তারা এখান থেকে আমার বন্ধু রাশেদ সিনেমাটি দেখে ফেলতে পারেন। চমৎকার প্রিন্ট। আপনি দেখুন, সাথে আপনার সন্তানদেরও দেখান। দেখতে না চাইলে শর্ত জুড়ে দিন, বলুন, এটা না দেখলে হ্যারি পটার দেখাতে নিয়ে যাবো না কিন্তু। তবু কাজ না হলে, চকোলেটের লোভ দেখান। তারপরেও, যেভাবেই হোক, সিনেমাটি তাদের দেখতে দিন। এর প্রয়োজন আছে, বিশ্বাস করুন।

বইদ্বীপ বিষয়ক আপডেট এবং সুখবর।

ছবি
বইদ্বীপ নিয়ে আরও কিছু কাজ এগিয়েছি। বইয়ের ইল্লেগাল শেয়ারিং এর ব্যাপারটা আটকানো যাচ্ছিল না কিছুতেই। এবারে ভাল একটা বুদ্ধি পেয়েছি। এরকম একটা নোটিশ দিয়েছি আপাতত বইদ্বীপে।  '' বাংলা ইবইকে পাঠকদের মুঠোফোনে পৌঁছে দেবার জন্যে আমরা উদ্যোগী হয়েছি আরও। এই পর্যায়ে বইদ্বীপের প্রায় সকল বই গুগল প্লে এবং গুগল বুক স্টোরে তুলে দেয়া হয়েছে। দেশ ও বিদেশের সকল পাঠক গুগল বুকে আমাদের লেখক বা বইয়ের নাম ধরে সার্চ দিলেই বইদ্বীপের বইগুলোর খোঁজ পেয়ে যাবেন।  আরও সুখবর হচ্ছে ধীরে ধীরে আমরা আইবুক স্টোরেও আমাদের বই তুলে দিচ্ছি। বেশিরভাগ বইয়ের কাজ শেষ হয়ে যাবে শীঘ্রই।  ভবিষ্যতে আমাদের পরিকল্পনা আছে বইদ্বীপের বইগুলোকে কেবল মাত্র গুগল বুক এবং আইবুক স্টোরের মাধ্যমেই পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার। '' প্লে বুক এবং আইবুক এর মাধ্যমে বই বিতরণের ফলে অবৈধ শেয়ারিং এর ব্যাপারটা আর থাকবে না। এর ফলে লেখকেরা বেশ খানিকটা শান্তিতে থাকতে পারবেন বলে আশা করতে পারি।  আরও একটা ভাল সুবিধা হয়েছে দেশের পাঠকদের জন্যে।  বইদ্বীপ থেকে তুলে দিচ্ছি কারণটা ঃ বাংলাদেশ থেকে পাঠকেরা বইদ্বীপের বই কিনবেন কী ভাবে? বাংলাদেশ থেকে পাঠকেরা গুগল বুকস এব…

মুখ ঢেকে যায় ...

ছবি
রাজপ্রাসাদের সৈন্যরা সব শেষ, উজিরের মরল খানিক আগেই, বীরবেশে আমি রাজার ঘরে ঢুকতে যেতেই রাজকন্যা ফোন দিলো, আমার মুঠোফোনের স্ক্রিনে ছবি সমেত নাম ভেসে উঠলো তার, কঙ্কাবতী! আমি তো চমকে উঠলাম। হাতের চকচকে খোলা তলোয়ার সাই করে বগলে চেপে অন্য হাতে কল রিসিভ করেই বললাম, হাআআলোওওও, নেমজ কুমারস, ডালিমস কুমারস! ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কেউ একজন উদগ্রীব গলায় ডেকে উঠলো, কনফু, ঘুমাচ্ছিস?
ঘুম? আমি? ঘুউউম?
আরে তাই তো! বেঘোরে ঘুমুচ্ছিলাম, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই রাজা উজির মারছিলাম বেশ। এবারে একদম ধপাস করে ঘুম ভেঙ্গে গেলো। রাজ্য রাজপাট সিংহাসন সব গায়েব। আমি ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলাম, কানে তখনও সোনার কাঠি রূপার কাঠি, আই মিন, ফোন।
অফিস-ফেরতা বউ কল দিয়েছে, শহর থেকে ফিরবার ট্রেন মাঝপথে আটকা পড়েছে, নিয়ে আসতে হবে গিয়ে।
খুব দ্রুতই রূপকথার ঘুম কাটিয়ে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করলাম। ঠিকানা জেনে নিলাম ঝটপট, তারপরে গুগল ম্যাপে সার্চ, ম্যাপ জানালো ২৮ মিনিটের পথ। চিরকালীন অভ্যাসে নিচের বাটনে চাপ দিয়ে মোবাইলটা উইন্ডস্ক্রিনের হোল্ডারে চাপিয়ে দিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিলাম, এবার গুগলই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে।
পৌঁছতে যখন মিনিট …

আমার শহরে...

রীতিমতন কাকভেজা হয়ে গেছি, পেছন থেকে মামা তাড়া দিচ্ছিল তাড়াতাড়ি ঢুকে যেতে ঘরে, তবু দরজার সামনে পৌঁছে আনমনে দাঁড়িয়ে গেলাম হঠাৎ।
বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে অবিরল, মাথা মৃদু ঝাঁকিয়ে খানিকটা বৃষ্টি ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করি আমি, কিছু ক্লান্তিও ঝরে পড়ে সাথে। কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে অবশেষে বাসার দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ি ভেতরে, বহুবার দেখা সিনেমার ছবিদের মতন পরিচিত ঘরদোর সব।
ডান হাতের ভারি ব্যাগটা বাহুল্যের মত জড়িয়ে ছিল যেন এতক্ষণ, সেটা নামিয়ে রেখে ধীর পায়ে আম্মার বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়াই আমি।
কেউ একজন এসে ইতিমধ্যেই বলে গেছে যে আমি এসেছি, আম্মা তাই তাকিয়েই ছিল এদিকে। আমি এসেছি বলে জ্বলজ্বল করছে তার চোখ দুটা। মুখে হাসির মত একটা ভঙ্গি করা, আমি দেখতে পাই তবু অনেক যন্ত্রণা মিশে আছে তাতে।
তোমার ছেলে ফিরে এসেছে আম্মা। কেউ বলে না, তবু মনে মনে শুনতে পাই আমি বলছি যেন ফিসফিসিয়ে, ফিরে এসেছে তোমার ছেলে, আম্মা।
গত কুড়ি বছর ধরে এভাবে বার বার ফিরে আসা আম্মার কাছে। কখনো কিছু মাসের বিরতিতে, কখনো কিছু দিনের, আর ইদানীং সেটা গড়িয়েছে কিছু বছরে। এই ফিরে আসার অনুভূতি তবু কখনও পুরনো হয় না। হাসিমুখ থেকেই আচমকা কান্না বেরিয়ে আসে তার। আমি প…

প্রকাশিত বই এর তালিকা