সোমবার, জুন ২০, ২০১১

হাওয়াই মিঠাই ১৮: প্রতি সোমবারে-

১/
সোমবারে ছুটি থাকলে খানিকটা বিপদে পড়তে হয়। বউ থাকে অফিসে, আমি একা সারাদিন বাসায়। একা থাকাটা এম্নিতে মন্দ নয় অবশ্য। কিন্তু গত সাড়ে চার বছর একত্রে থেকে থেকে অভ্যেস বদলে গেছে। আমরা দু’জনেই এখন একসাথে ‘একা একা’ থাকাটাই বেশি পছন্দ করি। তাই, সোমবারের ছুটিটাকে ছুটি বলে মনে হয় না আর। বরং আমার সোমবারগুলোকে যদি কোন নামে ডাকা যায়, নিঃসঙ্গতাই সম্ভবত সবচেয়ে সঠিক হবে।

২/
চশমা চোখে নিয়ে চা খেতে গেলে একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়। গরম চায়ের ধোঁয়া উঠে এসে চশমার কাঁচ ঘোলা করে দেয়। এরকম হলে আমি প্রায়শই কাঁচ পরিষ্কার করি না অনেকক্ষণ। ঘোলা কাঁচে চারপাশ দেখার একটা অদ্ভুত মজা আছে, অনেকটা লুকিয়ে কোন কিছু করে ফেলার মজা। বা নিষিদ্ধ কিছু দেখে ফেলার আনন্দের মতন সেটা।

৩/
ছোটবেলায় রাতঘুমে অনেক উদ্ভট স্বপ্ন দেখতাম বলে মনে পড়ে। একটা স্বপ্নের কথা এখনও মনে আছে, যেন কোন একটা বিশাল মাঠের এক কোণায় আমি দাঁড়ানো। নরম মাটির মাঠ, অনেকটা টিস্যু কাগজের মত অনুভুতি দেয় সেটা পায়ের তলায়। তারপর হুট করে অন্য কোণ থেকে একটা বিরাট পিপড়াঁ ক্রমশ হেঁটে আসতে থাকে আমার কাছে। প্রতি পদক্ষেপে টিস্যু কাগজের মাঠটা দলা পাকিয়ে যেতে থাকে, মাঠের পরিধি কমে যেতে থাকে। অন্য পাশে দাঁড়ানো আমি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে অপেক্ষা করতে থাকি পিঁপড়েটার জন্যে।
প্রায় বছর কুড়ি বাদে এই স্বপ্নটা সেদিন রাতে আমার কাছে আবার ফিরে এলো। ছোটবেলার মতই ঘাম দিয়ে উঠলো সারা গায়ে, ছটফট করতে করতে ঘুম ভেঙে গেল আমার।
৪/

৫/
তিথির অবসরের সময়টুকু আজকাল বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইটগুলোয় ঘুরে ঘুরে কাটে। আমার বাৎসরিক ছুটির ক্যালেন্ডার আমার চেয়েও বেশি বেশি মুখস্থ থাকে ওর। আমাদের দুজনের অবসর বিনোদন অথবা মন ভার হয়ে থাকার মূল কারণ এখন অনেক দুর তেপান্তরের ওপারের একটা জনবহুল, ঘিঞ্জি লালসবুজের দেশ।
৬/
প্রতি সোমবারে চায়ের ধোঁয়া ছাড়াই ঝাপসা হয়ে থাকা চশমার কাঁচ মুছতে মুছতে আমি ভাবি, এমনকি দুঃস্বপ্নেরাও ঘরে ফেরে একদিন, আমাদেরই কেবল ফেরা হয় না।