পোস্টগুলি

2011 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কোলা ব্যাঙ সোনা ব্যাঙ

এবারে দেশে গিয়ে পুঁচকা কাজিনদের আবদারে আমার আর তিথি-র যৌথ প্রযোজনা। বলাই বাহুল্য, মূল গায়িকা এখানে তিথি, আমি নেহাতই ব্যাঙ-মাত্র! :)
Kola beng Shona beng by Nighat Tithi by mnhtareq

অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই

ছবি
হায়, রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি!

হাওয়াই মিঠাই ১৮: প্রতি সোমবারে-

ছবি
১/
সোমবারে ছুটি থাকলে খানিকটা বিপদে পড়তে হয়। বউ থাকে অফিসে, আমি একা সারাদিন বাসায়। একা থাকাটা এম্নিতে মন্দ নয় অবশ্য। কিন্তু গত সাড়ে চার বছর একত্রে থেকে থেকে অভ্যেস বদলে গেছে। আমরা দু’জনেই এখন একসাথে ‘একা একা’ থাকাটাই বেশি পছন্দ করি। তাই, সোমবারের ছুটিটাকে ছুটি বলে মনে হয় না আর। বরং আমার সোমবারগুলোকে যদি কোন নামে ডাকা যায়, নিঃসঙ্গতাই সম্ভবত সবচেয়ে সঠিক হবে।

২/ চশমা চোখে নিয়ে চা খেতে গেলে একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়। গরম চায়ের ধোঁয়া উঠে এসে চশমার কাঁচ ঘোলা করে দেয়। এরকম হলে আমি প্রায়শই কাঁচ পরিষ্কার করি না অনেকক্ষণ। ঘোলা কাঁচে চারপাশ দেখার একটা অদ্ভুত মজা আছে, অনেকটা লুকিয়ে কোন কিছু করে ফেলার মজা। বা নিষিদ্ধ কিছু দেখে ফেলার আনন্দের মতন সেটা।

হাওয়াই মিঠাই ১৭: নেপালি পরিবার

ছবি
ডারবানে পৌঁছে এয়ারপোর্ট থেকে নেমেই সোজা আমার ডিপার্টমেন্টে চলে গেলাম। সব সময়ের মত ওখানেও আমি লেইট, ক্লাশ শুরু হয়ে গেছে এক সপ্তাহ আগেই। আমার ভিসা অফিসার কুম্ভকর্ণের মত দ্রুতগতিসম্পন্ন হওয়ায় আমার প্লেনে চাপতেও দেরি হয়ে গেলো।
ইউনি-র কোন একটা হল-এ থাকবো আমি। জানা আছে আগেই, কিন্তু তার আগে ডিপার্টমেন্টে গিয়ে কাগজ পত্রের ফর্মালিটি সারতে হবে।
অফিসের করণিক মহিলা হাসিমুখে আমাকে একটা ফরম দিলো, সেই ফরম পূরণ করতে গিয়েই লাগলো প্রথম গোলযোগ। নাম-ধাম ঠিকানা পরিচয়ের পরে একটা ঘর আছে সেখানে, এথনিসিটি। পৃথিবীর আর কোন দেশে এই অদ্ভুতুড়ে তথ্য জানতে চায় কি না জানি না, কিন্তু ওদের ওখানে এটাই স্বাভাবিক।
অপশান মাত্র চারটা। সাদা, কালো, কালারড এবং ইন্ডিয়ান।

'বই'কালিক গাল-গল্পঃ ২

ছবি
অপু ভাই’র কথা বলছিলাম, যে কারণে ওনাকে আমার প্রকাশক হিসেবে চাইছিলাম না সেই কারণটা একদম সোজাসাপ্টা, তা হলো- ঊনি মানুষ বেজায় ভাল!
আরে, জানি রে ভাই জানি, আপনারা বলবেন এই তো আগের লেখাতেই না বললাম অপু ভাই লুক খ্রাপ? হু, তা বলেছি, তো একজন লুক খ্রাপ হলেই যে ভাল মানুষ হবে না এইটা কোন কথা হলো? দুনিয়া থেকে কি ইনসাফ উঠে গেছে? নাহ, উঠে নাই।
তো, এই ভাল মানুষ অপু ভাই’র সাথে সম্পর্কটা আমার ঠিক লেখক-প্রকাশকসুলভ নয়, অর্থ্যাৎ কি না, পেশাদারিত্বের লেশমাত্র নেই। আমার ঠিক এ ব্যাপারটাতেই ঘোর আপত্তি ছিল।


'বই'কালিক গাল-গল্পঃ ১

ছবি
সে অনেক কাল আগের কথা।
আরবের লোকেরা অবশ্য ততদিনে গুহা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, তারপর গঙ্গা বইতে বইতে পদ্মা হয়েছে, পদ্মার চরে কুঁড়েঘর বানিয়ে আমরা উপরে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছিলাম “সচলায়তন”।
তো, অনেকের মনে আছে, অনেকে হয়ত ভুলেই গেছেন- সচলায়তনে একসময় অমিত আহমেদ নামে একজন সু-লেখক নিয়মিত লিখতেন। সু, মানে, ভাল লেখক তো তিনি অবশ্যই ছিলেন। কিন্তু আমার তাঁকে সু-লেখক ডাকার কারণ অন্য, সুদর্শন লেখক-কে সংক্ষিপ্ত করে আমি এই শব্দ হাজির করেছিলাম।
বইমেলায় অমিত আহমেদের বই বের হবে শোনার পরই আমরা কিছু পাপী বান্দা কল্পনা করেছিলাম, মেলায় গিয়ে স্টলে অমিত একটু দাঁড়ালেই হলো, ব্যস, আর পায় কে, বই সব হু হু করে সুন্দরী ললনাদের বগলদাবা হয়ে যাবে! এবং সেই আনন্দে হয়তো ফরিদ রেজা সাহেব তখন সত্যজিতের নকল করে নতুন বই বের করে ফেলবেন, “বগলবন্দী বই”।

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া...

ছবি
ঘর হইতে এমনকি দুই পা ও ফেলিতে হয় না, তবু শর্মিলা বোসেরা দেখে না কিছুই।

গগণ আজ দেশে ফিরছে

১/
প্রায় বছর ছয় আগের কথা।
আমি তখন ডারবানে, গোবেচারা বৈদেশি ছাত্র হিসেবে প্রথম ভিনদেশে প্রবাসী। সেসময় আমার একটা কম্পিউটার কিনবার দরকার হলো।
ডারবানের কিছুই চিনি না আমি, সুপারস্টোর বা ইলেক্ট্রিক্যাল স্টোর কোনটা কী বা কেমন সেসব নিয়ে কোন ধারণাই নেই। আরও মুশকিল হলো, ডারবান শহরের রাস্তায় একা একা চলাফেরা করাও নিরাপদ নয়। তবু এর মধ্যেই বেশ কয়েকবার নিজে নিজে কম্প্যুর দোকান খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে বিফল হলাম। অতঃপর সেখানকার সদ্য পরিচিত বাঙালীদের এ সমস্যার কথা জানাতেই তারা ব্যাপক সাহায্য করলেন। অতি দ্রুত আমার জন্যে একটা কম্পিউটার কিনে ফেললেন, এবং সেটা বয়ে নিয়ে এসে আমার হোস্টেলের রুমে সেট করে দিয়ে গেলেন। আমি তো মহা খুশি!

কিন্তু দুদিন পরেই বাঁধলো গোলযোগ। কম্প্যু মহাশয় বিগড়ে গেলো, নট নড়ন নট চড়ন। আমি তখন ডাক পাঠালাম, কেমন করে এটা ঠিক করা যায়। সেই বাঙালী বন্ধুরা এসে এবার কম্প্যু সহ আমাকে নিয়ে শহরে চললেন বিক্রেতার কাছে। সেই দোকানে গিয়ে আমার কলম্বাসের মত অনুভুতি হলো, আমি আবিষ্কার করলাম বিক্রেতা একজন পাকিস্তানী!