বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০০৯

গত কয় ঘন্টায় যা কিছু মাথায় এলো-

--> বিদ্রোহী বিডিআর-রা বলছে তাদের উপর অত্যাচারের কথা, তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা। অনেকেই ধারণা করছেন, ডালভাত কর্মসূচীর দুর্নীতি ও লাভের বখরা নিয়ে গোলযোগও এই বিষয়ে দায়ী।
--> জনমনে সমর্থন বা সহমর্মীতায় দেখা যাচ্ছে বিডিআর এগিয়ে আছে। কারণ স্পষ্টতই তাদের বিদ্রোহটা এখানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী জনগণের খুব পছন্দের কোন সেক্টর নয়। মিডিয়াতে বিদ্রোহী বিডিআরদের বক্তব্যও ভাল ভুমিকা রাখছে।

--> যদ্দুর জানি, বিডিআর সেনাবাহিনী বা সামরিক বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা আধা-সামরিক বাহিনী। তবে তাদের প্রশাসনের দায়িত্বে থাকে সেনাবাহিনীর অফিসাররা।
--> সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত নয় কিন্তু তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়, এরকম কোন প্রতিষ্ঠানই খুব একটা আনন্দে থাকে না। এটা আনসার বা বিডিআর হোক, সেনাচালিত ইশকুল কলেজ হোক অথবা ক্যামেরার আড়ালে আমাদের ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড়রাই হোক।

--> সেনাবাহিনী থেকেই কেন বিডিআরদের উচ্চপদস্থ অফিসারদের নিয়োগ দেয়া হয়, এ বিষয়ক সরল-মতটি হলো, তাদের অফিসারদের রিক্রুট বা তার পরবর্তী ব্যায়বহুল প্রশিক্ষণের জন্যে আলাদা কোন অবকাঠামো আমাদের দেশে নেই। বিডিআর পরিচালনার জন্যে যে সংখ্যক অফিসার দরকার, তাদের প্রশিক্ষণের জন্যে আলাদা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের যৌক্তিকতা তর্কসাপেক্ষ।

--> এই ঘটনার জন্যে পুরোপুরি দায়ী বিডিআরের অদক্ষ প্রশাসন। অসন্তোষ দানা বাঁধতে বাঁধতে এই পর্যায়ে যাওয়ার আগেই তাদের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিলো।

--> অপরাধীও এখানে অবশ্যই বিডিআর প্রশাসন ( তাদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে) এবং সেই সাথে বিদ্রোহী জওয়ানেরা। কারণ, কোন অবস্থাতেই অস্ত্র হাতে নিয়ে জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি করে বিদ্রোহ করাটা সমর্থনযোগ্য নয়।

-->স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নটি অমূলক। রাষ্ট্র ঠিক করে দেবে কারা কাদের অধীনে চলবে, কারা কোন প্রতিষ্ঠান চালাবে। বিডিআর জওয়ানেরা তাদের ইচ্ছে মতো কর্মকর্তা নিয়োগের আশা করতে পারেন না। চাকুরীর আবেদনের সময়ই তারা ওয়াকিবহাল যে বিডিআর কারা পরিচালনা করে। একটা দুর্বল ও দুর্নীতিপরায়ণ প্রশাসনের অদক্ষতার ফলে সেই ব্যাক্তিদের অপসারণ দাবী করা যেতে পারে, কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামো বদলের কোন যুক্তি নেই।

( সকাল ১০০৩)

আমার এক ছোট বোনের বাবার কোন খবর পাওয়া যাচ্ছে না, যিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। গত রাতের কোন একটা সময়ে পাওয়া তথ্য-

এই মাত্র ***** ফোন করেছিল। বেশ কিছুক্ষণ আগে ওদের বাসায় জওয়ানরা ঢুকে আলমারি হাতড়ে অলংকার যা পেয়েছে নিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পরপর জওয়ানরা বাসার দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। বাইরে থেকে কথা বলে চলে যায়। অরাজকতার চূড়ান্ত।

***** বাসার বাইরে এক আত্মীয়ের বাসায় আছে। ওদের বাসায় মা, ভাই এবং কাজের বুয়া আছে এই মূহুর্তে। বাবার খবর ***** বা ওর মা কেউই জানেন না।

( সকাল ১০১৩)

ডিসক্লেইমারঃ এটি একটি অসমাপ্ত পোস্ট। ব্যাক্তিগত কারণে আর সমাপ্ত করার ইচ্ছে নেই। সুতরাং, এটি একটি পরিত্যাক্ত পোস্টও বটে। ( ১৯/০৩/০৯)



বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০০৯

বাংলা ওসিআরঃ স্বপ্ন সম্ভব?

যাযাবরের সেই বিখ্যাত লাইন স্মরণীয়- বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ।
আবেগের দিকে এখন আর না যাই, বেগ নিয়ে যদি বলি, তো বলতেই হবে, কথা সত্য। প্রাত্যহিক সব কাজ-কর্ম নিঃসন্দেহে গতি-প্রাপ্ত হয়ে গেছে বিজ্ঞানের কল্যাণে। আর আমার মত কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষজন নিজের আলসে স্বভাবটাকে এই সুযোগে পাখির ডিমের মত তা দিয়ে দিয়ে বাড়তে দিয়েছে।
লিখবার জন্যে কাগজ কলমের ব্যবহার অনেক আগেই কমিয়ে দিয়েছি। লেখাজোকা-র প্রায় পুরোটাই এখন গুগল ডকে সেরে ফেলি, এ জন্যে চেয়ার টেবলে বসে খটখট কী-বোর্ড নিয়ে বসতে হয়, খাতা কলম নয়।
বেশিদিন এই আরামে পোষালো না। তাই বিছানায় আরাম করে হেলান দিয়ে কোলের উপরে ফেলে টাইপ করার জন্যে ল্যাপি কেনা হলো।
কিন্তু কদিন ধরেই এভাবেও মন জুৎ পাচ্ছে না। ইচ্ছে করছে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাই, আবার কাগজ কলম নিয়ে বসি।
কিন্তু লিখবা মাত্রই ছাপার মত চকচকে ফন্টে সেটা কম্প্যুতে সেইভ হয়ে যাওয়া, এই সুবিধার কী উপায় হবে? কাগজে কলমে লিখলে তো এটা পাওয়া যাবে না।

বাজার ঘুরে দেখলাম নানান রকম যন্তর পাতি এর মধ্যেই বের হয়ে গেছে। স্লেটের মত একটা টাচস্ক্রিন পাওয়া যায়। ওখানে লিখলে ছবি হিসেবে পাতার পর পাতা সেইভ হবে যায়। কিন্তু এটা বেশ ঝকমারি মনে হলো। সারাক্ষণ ওরকম একটা জিনিস বয়ে নিয়ে বেড়ানো!
বেশ কিছু কলম পাওয়া গেলো, কাগজের ওপরে লিখলেও হয়, স্লেট লাগে না, কিন্তু কলমের পেছন দিকটা কম্প্যুর সাথে তার দিয়ে জুড়ে দিতে হবে, তাহলেই লেখা সরাসরি কম্প্যুতে উঠে যাবে।
কিন্তু সারাক্ষণ যদি কম্পিউটার বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়, তবে আর এসব কিনে কী কাজ?

তখন পেলাম এই মজার জিনিসটা। নাম হলো ইন্টেলিপেন
দারুন জিনিস। যে কোন কাগজে লিখো, সামনে শুধু ছোট এই ক্লিপটা আটকে রাখতে হবে, তারপর যত ইচ্ছা লিখো। কোন এক ফাঁকে এই ইউএসবি-ক্লিপটা কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করে সব লেখা ইমেইজ হিসেবে সেইভ করে রাখলেই চলবে।
দাম মোটামুটি। অজি ডলারে ১৫০ নিলো। কিন্তু আসলেই বেশ কাজের। সারাদিনের লেখাজোকা বা আঁকিবুকি সব স্টোর করে ফেলা যায়!

কিন্তু লেখাগুলোকে টেক্সট হিসেবে সেইভ করতে গিয়ে মুশকিলে পড়তে হলো। ইন্টেলিপেনের সাথে একটা সফটওয়ার দেয়, ইংরেজি ওসিআর। সেটা ইংরেজি লেখা মুহুর্তেই চিনে নেয়। কিন্তু আমি তো লিখি বাংলায়, তো বাংলার উপায় কী?
গুগল কাকুকে জিজ্ঞেস করলাম। জানলাম, বাংলা ওসিআরের কাজ তেমন একটা এগুয়নি।
আমাদের সচল আলমগীর ভাই একটা প্রাথমিক পর্যায়ের বাংলা ওসিআর বানিয়েছেন, যেটা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
তবে ব্রাক ইউনিভার্সিটির একটা প্রোজেক্ট হিসেবে বাংলা ওসিআরের একটা খোঁজ পেলাম, আজই রাতে ওটা নামিয়ে চালিয়ে দেখলাম, জিনিসটা বেশ কাজের হয়েছে। মোটামুটি ৪০০ ডিপিআই হিসেবে কোন ছাপা পাতা স্ক্যান করে ওটায় চালালে সেটা লেখা হিসেবে প্রায় ৯০ শতাংশ চিনে নিতে পারে। নিঃসন্দেহে এটা বেশ উৎফুল্ল হবার মত ব্যাপার!
তবে খানিক দুঃখ পেলাম, হাতের লেখা চিনবার মত উপযোগী এখনো সেটা হয়ে উঠেনি দেখে। জানি ব্যাপারটা সোজা নয়, সময় লাগবে। তাই নিরুপায় হয়ে আপাতত অপেক্ষায় আছি একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলা ওসিআরের।

পুনশ্চঃ এসব নিয়ে গুগলি করতে করতে মজার একটা লিংক পেলাম, বাংলায় টেক্সট টু স্পিচ সফটওয়ার। অনলাইনে টেস্ট করা যায়। বেশ মজার। যান্ত্রিক একটা কনঠে এভাবে বাংলা শুনতে বেশ মজাই লাগে।

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০০৯

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের "প্রেমের গপ্পো"

ইলিয়াস আমাদের কাছে খুব বেশি মালমশলা রেখে যান নাই, মাত্র ২৮ টা গল্প, অল্প কিছু প্রবন্ধ আর ২ টি উপন্যাস, সাকুল্যে এই আমাদের সম্পদ। কিন্তু অল্প সংখ্যক লেখা দিয়াই তিনি নিজের স্টাইল দাঁড় করে ফেলেছেন। যে কারণে ইলিয়াসের লেখা পড়েই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না এটা কার লেখা।
তো কি সেই স্টাইল?
আমি জেনারালাইজড করতে পারছি না। তবে নিজের পাঠানুভুতি বলতে পারি।
ইলিয়াসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ লাগে বর্ণনা। আমি নিজে বর্ণনার খুব ভক্ত। গল্প যখন মাথার ভেতর সিনেমা হয়ে ওঠে, সেই মুহুর্তেই আমার গল্পরে ভালবাসতে ইচ্ছা করে। তার আগ পর্যন্ত দুরে ঠেলে বসিয়ে রাখি। ইলিয়াসের গল্পগুলান এই দিক দিয়ে একদম যা-তা রকমের ভাল। বর্ণনাগুলা এত সাবলীল যে মাত্র অল্প কিছু লাইনের পরেই মাথার ভেতরে গল্পের দৃশ্যগুলার চিত্রায়ন করে নিতে কোনরূপ সমস্যা হয় না। তারপরে ক্রমশ সেটা ফেনায়িত হতে থাকে, গরম কফির মত। তখন খানিকটা নেশাও লেগে যায়, বর্ণনার গুণেই।
ইলিয়াস পড়তে গিয়া আমি যে সমস্যায় পড়েছি, সেটা সাধারণত অমনোযোগী/ নতুন পাঠকদের বেলায় ঘটে। কিন্তু আমি মনোযোগী পাঠক, তবু এই সমস্যার কারণ ধরতে পারি নাই বলে দোষটা ইলিয়াসের গদ্যের উপরই চাপিয়ে দিতে দ্বিধা করি নাই। সমস্যাটা হলো- বর্ণনার এই অস্বাভাবিক গুণের কারণেই মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলতে হয়। দৃশ্য বা দৃশ্যচিত্রে এমন করে ডুবে যেতে হয় যে, গল্প থেকে সরে যাই মাঝে মাঝে, ছবিটাই মাথা জুড়ে আসন গাড়ে। তখন খানিকটা গা ঝাড়া দিয়ে মনে করে নিতে হয়- গল্পটা আসলে এই ছিলো!
*

প্রেমের গপ্পো- আমি বলবো- ইলিয়াসের অন্যগুলার চেয়ে একটু আলাদা।
ভাষা একদম সহজ সরল, ইলিয়াসের অন্যগুলোর তুলনায়। ইলিয়াস যেটা করেন, চরিত্রগুলার চিন্তা-চেতনারে সাথে নিয়ে গল্প এগুতে থাকেন। অনেকে এই ক্ষেত্রে স্বগতোক্তি ব্যবহার করেন, কিন্তু ইলিয়াস সেইটার ধার ধারেন না। উনি নিজেই চরিত্রের মনের কথা, অলমোষ্ট, চরিত্রের ভাষায়ই গল্পে তুইলা আনেন।
সংলাপ গুলায় কোন অবাস্তবতা নাই। নতুন বিয়ার পরে স্বামী-স্ত্রী যেভাবে আলাপ করে, ঠিক সেই সুরে পুরা গল্পের সংলাপ আর বয়ান এগিয়ে যায়, কোন ছন্দপতন ছাড়াই।
একটা সংলাপ যেমন, " আমার থ্রো দেখে বলে, আপনার হাতের মুভমেন্ট খুব ম্যাজেস্টিক, আবার খুব ফাস্ট।"- এইখানে আমরা হয়তো ইংরেজি শবদগুলারে ঠিক এইভাবে লিখতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম, কিন্তু তাহলে যেটা হইতো, এইটা ঠিক রিয়েল হয়ে উঠতো না। আবার যদি শুধু সংলাপে এইরকম সাবলীলতা রাইখা বর্ণনায় বিশুদ্ধ বাংলা ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো বাংলা গল্প লেখার নিয়ম মানা হইতো, শুদ্ধ গল্প লেখা হইতো, কিন্তু আবারো সেইটা রিয়েলিটি থেকে সরে যেত।
যেমন এইখানে-
বুলা ফের হাসে, 'আবার ঢাকাইয়া ল্যাংগুয়েজ।'
কিন্তু জাহাংগীরের তখন ফ্লো এসে গেছে। ' এক্কেরে লাইন। বনানী, গুলশান...'
এই যে বর্ণনাতেও গল্পের চরিত্রগুলার মতনই কথা ব্যবহার করা, এইটাই আমার কাছে ভাল লাগলো। ইলিয়াসের অন্য গল্পগুলার মতন, এই গল্পটাও পড়ার পর মনে হইলো, যেন একটা সংগীতসন্ধ্যার শুরুতে কোন একজন ওস্তাদ তার যন্ত্রপাতি গুলা টিউন করে রাখছেন, তারপর সেই সুরেই পুরো বাজনা বাজাইলেন। কোথাও সুর কাটে নাই।
*

এই গল্প নিয়া আলাপ করতে গিয়ে (আনোয়ার সাদাত) শিমুল একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, হাসপাতাল ও তার পরবর্তী বিশ্লেষণের স্পষ্টতা কী?
আমি মনে করি, সুনীলদাকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া এবং তার পরবর্তী ঘটনাগুলা আসলে জাহাংগীরের চরিত্র নির্মাণের জন্যেই দরকার ছিলো।
জাহাংগীর আসলে কেমন মানুষ। আপাতত সৎ, এবং একটু সহজ সরল মানুষ। জীবনের খুব বেশি উন্নতি করতে পারে নাই, এখনো স্ট্রাগলিং। এই ধরণের মানুষগুলা খুব বেশি কল্পনা বিলাসে ভোগে আসলে। তারা বাস্তবে যা পারে নাই, কল্পনায় সেটা অধিকার বা দখল করার চেষ্টা করে। এ কারণেই, চাকরিতে সমস্যার পরেও জাহাংগীরের এটা ভেবে নিতে ভাল লাগে, অফিসে সবাই তারে খুব সম্মান করে। কলেজ জীবনে কোন মেয়ের সাথে কখনোই কথা বলে নাই। এই অতৃপ্তিটা পোষানোর জন্যে তার কাছে আসলে কল্পনার আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোন গতি থাকে না। সে তাই কোন এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা মাত্র এক লাইন শুনেই শাহীন বা শাহনাজের পুরো চরিত্র দাঁড় করে ফেলে। যেখানে সে নিজেই হিরো। কল্পনা বিলাসী মানুষ এই রকম কল্পনাগুলা নিজে খুব বিশ্বাস করে, এবং এই বিশ্বাসটাকে ভিত্তি দেবার জন্যে যাদের সাথে ঐ ঘটনার কোন যোগ নাই, তাদের কাছে সত্যের মত করেই গল্প করে। হিপ হিপ হুররে-র প্রসঙ্গে তার ভাবনা-চিন্তাগুলো এরকম হবার কারণও এই।
সুনীলদার হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন মুশতাক আর বুলা কান্না করে, তখন জাহাংগীরের একটা ঈর্ষা হয়, সে টের পায়, ও ঠিক বুলা-মুশতাকের লেভেলের মানুষ না। বুলা-মুশতাক কোন লেভেলের? যে লেভেলে যাবার কল্পনা সে করে। কিন্তু বাস্তবে পারে নাই।
এই কারণেই বুলা-মুশতাক যখন একসাথে কান্নাকাটি করে, তখন জাহাংগীর নিজের ভেতরে টের পায়, কারো সাথে আসলে স্মৃতি নিয়া তার কোন ভাগাভাগি নাই। কল্পনায় সে নিজেই নিজের নায়ক, ঐখানে নানা মেয়ে তাকে প্রস্তাব দেয়, ওইখানে সে হিরোর মতন সবাইকে রক্ষা করে, কিন্তু বাস্তবে সে আসলে বড় একা। এই সুখকল্পনাগুলা একান্তই তার নিজের, একার।
একজন আধা-সফল ( প্রকারন্তরে আধা-ব্যার্থ ) মানুষের চরিত্রের একটা পার্ফেক্ট ছবি হলো এই জাহাংগীর।
*

ইলিয়াসের এই গল্পটা তাই আমার খুব প্রিয় গল্প। পড়ার পরেই আমার মনে হয়েছিলো, আরেসশালা! কেউ কইবো এইটা ইলিয়াসের গল্প?
কিন্তু, তারপরেই মনে হইছে, এই কারুকার্যময় গল্পটা পড়ার পরে যে কেউই বুঝে যাবে- এই গল্প কেবল ইলিয়াসেরই!

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ০৯, ২০০৯

বইমেলায় বন্ধু-র বইঃ অমিত আহমেদ ও আনোয়ার সাদাত শিমুল

বিখ্যাত লোকজনদের সাথে আমার কখনো বন্ধুত্ব হয়নি, বরং তার উল্টোটাই ইদানিং বেশি বেশি ঘটছে, আমার বন্ধুরাই বেশ বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। :)
আর এই তালিকার সাম্প্রতিক দুটো নাম হচ্ছে অমিত আহমেদআনোয়ার সাদাত শিমুল
এই দুইজনের সাথেই পরিচয় হয়েছে ব্লগে এসে। লম্বা সময় পাড়ি দিয়ে এখন দুজনেই আমার আত্মার খুব কাছের মানুষ, কখনও দেখা না হয়েও!


এবারের বই মেলায় ডেব্যু করছে আনোয়ার সাদাত শিমুল, তার অথবা গল্পহীন সময় বইটি দিয়ে। এগারোটি ছোট গল্পের একটা সংকলন হবে এটা।
শিমুলের গল্প বলার ভঙ্গি দুর্দান্ত। চারপাশের চেনাজানা ঘটনাকে তুলির টানে এমন অদ্ভুত সুন্দর করে তুলে ধরে যে, বারবার পড়তে ইচ্ছে করে। ওর লেখা গল্পগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হলো নীলুফার যখন মারা গেলো, রীতিমতন চমকে গিয়েছিলাম পড়ে। লিংক করে দিলাম, যার ইচ্ছা পড়ে দেখতে পারেন। সাম্প্রতিক আরেকটা গল্পও খুব ভাল লেগেছে- আমরা সস্তায় ফ্ল্যাট কিনতে চেয়েছিলাম


অমিতের এবারে ২য় বই বের হচ্ছে। প্রথম বই ছিলো একটা উপন্যাস, নাম- গন্দম। অনেকদিন অপেক্ষার বাদে সেই বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো আমার, এবং পড়ে টড়ে আমি যারপরনাই মুগ্ধ! অমিত তার নামের মতই অমিত সম্ভাবনাময়। অমিতের গল্প পড়লে মনে হয় ও একজন সত্যিকারের লেখক, দারুণ মুন্সিয়ানার ছাপ তার সবকয়টা গল্পেই।
বলা ভালো, আমি অমিতকে ডাকি সু-লেখক। একই সাথে সু মানে ভাল, আবার সু মানে সুদর্শনও।
অমিতের বইটাও গল্প সংকলন, নাম বৃষ্টিদিন রৌদ্রসময়।

সাহিত্যের সময়গুলো আপনাতেই একেক প্রজন্মের নামে পরিচিত হয়ে যায়, অথবা একেক সময়ের লেখকেরা পরিচিত হন একেকটা দশকের পরিচয়ে।
আমার ধারণা, আমাদের দশকের, অথবা আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে শক্তিশালী লেখকদের নাম কখনো লিপিবদ্ধ করা হলে অমিত আহমেদ আর আনোয়ার সাদাত শিমুলের নাম সেখানে সবচেয়ে ওপরের দিকেই থাকবে।

ওদের লেখার সাথে সিসিবি-র মানুষদের কতটা পরিচয় আছে জানা নেই, আমি তাই খুঁজে পেতে দুজনের দুটা ইবুকের লিংক তুলে দিলাম। আর বইমেলায় দুজনের বই বের করছে শস্যপর্ব প্রকাশনী, পাওয়া যাবে শুদ্ধস্বরের স্টলে।

ই-বুকের লিংকঃ
১। ফেলে আসা গল্প যত- অমিত আহমেদ
২। ছাদের কার্ণিশে কাক- আনোয়ার সাদাত শিমুল

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০০৯

শান্তর বাসা

মাঝখানের কিছু বছর আমাদের বন্ধুদের এমন একটা সময় গিয়েছিলো, যখন আমাদের সবার ২য় ঠিকানা ছিলো শান্তর বাসা।
শান্তর বাসার খোঁজ কখন কেমন করে যে পাই, এতদিন পরে আমার আর সেসব কিছু মনে নেই। কিন্তু পাবার পর থেকে এমন হতো যে, প্রায়শই আমরা, বন্ধুরা, নিজেদের সবাইকে আবিষ্কার করতাম শান্তর বাসায়। কারন সহ বা কারণ ছাড়াই। খিদে পেলে বা না পেলে। আড্ডা দিতে চাইলে বা না চাইলেও। বাবা-মা র সাথে অভিমান করে দিনের পর দিন শান্তর বাসায় কাটিয়েছে, এমন বন্ধুও আছে আমাদের!
ঐ বাসায় যাওয়ার শুরুটা সম্ভবত হয়েছিলো সুমী আপুর বিয়ের সময়। সুমী আপু আসলে আমাদের বোন। আসলে শান্তরও বোন। আরও ভালভাবে বললে বলি, সুমী আপু ছিলো শান্তরই বাবা-মার মেয়ে, কিন্তু যতটা সে শান্তর বোন, তারচেয়ে কোন অংশে কম বোন ছিলো না আমাদের। আমি অনেকদিন পর্যন্ত ভেবেছি, পৃথিবীতে এই একটা অসীম আশ্চর্য পরিবার।
শান্তর আম্মু, স্বভাবতই আমাদের আন্টি, আমাদের ডাকতেন শিয়ালের বাচ্চা। আমরা কেউ রাত বিরেতে অথবা সকালে অথবা, দিনের যে কোন সময় একেবারে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার ভঙ্গিতে সেই বাসায় হাজির হতাম, হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে লানচ অথবা ডিনার সেরে ফেলতাম। আন্টি বলতেন, শিয়ালের বাচ্চা, এতদিন পরে আসলি? যদিও, আমরা হয়তো ঠিক সপ্তাখানেক আগেই ওনার পোলাওয়ের হাড়ি শেষ করে গিয়েছিলাম।
শান্তর আরেক বোন সাথী আপু। মৌসুমী ভৌমিকের ঐ গল্প লেখার গানটা প্রথম শুনি সাথী আপুর কাছেই। শান্তর একটা সিডি প্লেয়ার ছিল তখন, আমার ছিলো না তখনো। আমি তখন শান্তর সিডি-ওয়াকম্যানটা কোলের উপরে রেখে গান বাজিয়ে শুনতাম, আর মনে মনে হিসেব করতাম, কত দাম এটার? এবার টিউশানীর টাকাটা পেলেই আমি কিনে ফেলবো ঠিক এরকমই একটা রূপালী যন্ত্র।
তো, শুনতে শুনতে ভাবতে ভাবতে একদিন মৌসুমী ভৌমিকের গানটাও শোনা হলো। আর আমরা সবাই আশ্চর্য হয়ে গেলাম। কি অদ্ভুত সুন্দর গান, কি আশ্চর্য তার কথা, তার সুর।

সুমী আপুর বিয়ের কথা এলেই, আমরা বন্ধুরা, যখন গল্প করি নিজেদের মধ্যে, তখন বেশ গর্ব করে বলি, ঠিক এইভাবে, আমরা যে বছর সুমী আপুর বিয়ে দিয়েছিলাম - -। কথাটা মিথ্যে নয় এক বিন্দুও। একটা প্রাপ্তবয়স্ক প্রশান্তি চলে আসে আমাদের সবার মুখে, চোখে, আর আমরা পান চিবুনোর মত আয়েশ আর তৃপ্তি নিয়ে ভাবি, আমরাই তো বিয়ে দিয়েছিলাম সুমী আপুর!
আমরা প্রায় ডজনখানেক ছেলে পেলে, আমরা যারা শান্তর বন্ধু ছিলাম, অথবা সুমী বা সাথী আপুর ভাই ছিলাম, আমরা সবাই টানা এক হপ্তা শান্তর বাসায় কাটিয়ে দিয়েছিলাম বিয়ের আয়োজনে। আমাদের কেউ ফুল কিনতে দৌড়েছিলো, কেউ ডেকোরেটর, কেউ কম্যুনিটি সেন্টারের বুকিং দিতে আংকেলকে সাথে নিয়ে ছুটেছিলো, কেউ বরের জন্যে উপহার কিনতে। সব আমরাই করেছিলাম।
আমার এখনো মাঝে মাঝে অবাক লাগে, সেই সময় বা সেই বছরগুলোর কথা ভাবতে। সত্যি সত্যিই মাঝে মাঝে, শিয়ালের বাচ্চার মতই ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে বসে বসে সেইসব দিনের কথা ভাবি, শান্তর বাসার কথা ভাবি।

*
দেশের বাইরে প্রায় পাঁচ বছর কেটে গেলো।
শান্তর বাসার আমরা, সেই বাচ্চা শিয়ালেরা নানান জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছি, নানান দেশে। শান্তও দেশে নেই এখন, ইংল্যান্ডে থাকে বউ নিয়ে।
গত হপ্তায় আমাদের বন্ধু চপল দেশ ছাড়া হলো। বাসা বদলের হ্যাপা সামলে আমি বেশ কদিন নেট-হীন ছিলাম। তাই কারও সাথে যোগাযোগ নেই। ইমেইল এমনকি এসএমএসও ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে এখন, লোকে আজকাল পাশের রুমে গেলেও ফেইসবুকে স্ট্যাটাস রেখে যায়, ঐ ঘরে যাই।
তো, সেই ফেইসবুকে কদিন না ঢোকায় আমি খবর পাইনি, চপল দেশ ছাড়া হয়ে ইতিমধ্যে লন্ডনও পৌছে গেছে। গিয়ে বরফ নিয়ে ক্যালাকেলি করে প্রোফাইলে সেই ছবিও ঝুলিয়ে দিয়েছে!
আমি দেখে বেজায় রাগ, কবে গেলি, জানালিও না। তো, হাবিজাবি কথা শেষ করে জিজ্ঞেস করি, উঠছিস কই? ডর্মে?
চপল অবাক হয়ে বললো, না, কই আবার, শান্তর বাসায়!

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ০৪, ২০০৯

techiটাকি : VoIP / ভয়েপ

০৪/০২/০৯
লিংকসিস ATA
---------------------
বাসার ফোন বদলে ভয়েপ করে নিয়েছি। ব্যবহার করছি Linksys ATA.
আজ এটা সেটাপ করতে গিয়ে হঠাৎ মুশকিলে ফেললো। কিছুতেই কনফিগারেশানের পাতাটা খুলছিলো না। বারবার ইউজার নেইম আর পাসওয়ার্ড চাইছিলো। অথচ, এই পাতার জন্যে কোন লগইন তথ্যের প্রয়োজন হয় না।
পরে একটা উপায় বের করলাম। ব্রাউজারে সরাসরি ইউজারের পাতা চলে গেলে আর এসব ঝামেলা করতে হয় না। যেমন, ধরা যাক, জিনিসটার আইপি 162.198.1.743 , তাহলে ব্রাউজারে লিখতে হবে- 162.198.1.743/admin/basic . তাহলেই কনফিগারেশান পাতায় এটা সরাসরি চলে যাবে, কোনরকম তথ্য জিজ্ঞেস না করেই।

techiটাকি: দরকারী সফ্টওয়র/ প্রোগ্রাম

১১/১০/০৮
পিডিএফ রাইটার
----------------

এ জিনিসের এখন খুব বেশি দরকার হয় বলে মনে হয় না।
একদম শুরুতে যখন ইউনিকোডে লেখার প্রচলন হয়নি, তখন কোথাও লেখা পাঠালে ওয়ার্ড ফাইলের সাথে ফন্টও পাঠিয়ে দিতে হতো। তখন ঝামেলা এড়াতে আমি লেখাটাকে পিডিএফ বানিয়ে পাঠিয়ে দিতাম ই-মেইল করে।
উইন্ডোজের জন্যে সবচেয়ে ভাল লেগেছে প্রাইমো পিডিএফ।
ওয়ার্ড ফাইলটাকে পিডিএফ বানানোই শুধু নয়, যে কোন ওয়েবপেইজকে পিডিএফ বানিয়ে সংরক্ষণ করে ফেলা যায় এটা দিয়ে।

ইদানীং অবশ্য ওপেনঅফিস দিয়ে সরাসরি পিডিএফ বানানো যায়। উবুন্তুতে যখন থাকি, ফায়ারফক্সের সাথে একটা এড-অন নামিয়ে নিয়েছি, কাপস পিডিএফ জেনারেটর বলে ওইটাকে, এটাও বিশেষ কাজের।
তবে, উইন্ডোজের জন্যে আমার একমাত্র পছন্দ ওই প্রাইমো-ই

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ০২, ২০০৯

হা ঈশ্বর

যদি সত্যিই তুমি আমার কথা শুনতে পাও,
ওদের বাগান তুমি ফুল শূন্য করে দাও দয়া করে,
ওরা ফুল টিপে মেরে ফেলে।

আর কোন বাবা যেন ওদের সংসারে না আসে।
আর কেউ যেন মা, ভাই কিংবা বোন না হয় কারও।

ওদের ঘরে তুমি আর কোন শিশুর জন্ম দিও না, প্লিজ।
তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না যে,
ওরা শিশুদের গুলি করে মেরে ফেলে!

---------------------------