পোস্টগুলি

September, 2007 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডাম্পিং: যদি সুখী হতে চান-

ডাম্প অথবা ডাম্পিং শব্দটা আগেও জানা ছিল বটে, তবে ঠিকঠাক চেনা ছিলো না।
পুরোনো কাপড় চোপড় জমে গেলে বাসা থেকে খানিকদুরে সরকারের বেঁধে দেয়া জায়গায় গিয়ে ফেলে দিয়ে আসি। এই দেশে ইহাকেই ডাম্পিং বলে। তালিকায় আরো থাকে পুরোনো টেলিভিশান, ফ্রীজ, মাইক্রোওয়েভ, বাইসাইকেল থেকে শুরু করে আরো নানান হাবিজাবি। মোটের ওপর, যে কোন অবাঞ্চিত যন্ত্রণা থেকে সহজেই মুক্তি দেয় এই ডাম্পিং।

এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন দেখে অনেকটা চমকে উঠেছিলাম অল্প কিছুদিন আগে। ঘটনা বেশ গুরুতর।
মা দিবসের ভোরবেলায় মেলবোর্ণ হাসপাতালের বাইরে কোন এক মা তার সদ্যোজাত শিশুকে বাক্সের ভেতরে কাপড়ে মুড়ে ফেলে রেখে চলে যান। বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে এই সব সহজলভ্য খবরে চমকানোটা আমাদের জন্যে রীতিমতন লজ্জার বিষয়। তবু যে চমকালাম, তার কারণ পত্রিকার ভাষা। সরল ইংরেজীতে তারা হেডলাইন করেছে, " বেবী ডাম্পড অন মাদার্স ডে"
ও হরি, জলজ্যান্ত মানুষের বাচ্চাও যে 'ডাম্প' করা যায়, এটা জানা ছিলো না!

এই লেখাটা এখন পর্যন্ত হাল্কা চালে লিখে যেতে পারছি, তার কারণ, এই ঘটনার শেষটা মধুরেণ সমাপয়েত।
নিজের আগ্রহেই পরের কিছুদিন পত্রিকা ঘেঁটেছি, ক্যাথেরিন নামের এই ছোট্…

প্রতিবাদ জানাই-

প্রতিবাদের সঠিক ভাষা জানা নেই, ঠিক কোন দরজায় ঠক ঠকালে ঠিক জায়গায় আমার কণ্ঠস্বর পৌঁছাবে জানি না, তবু তীব্র প্রতিবাদ জানাই বিশ বছর বয়েসী কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমানকে গ্রেপ্তারের!
সেই সাথে তীব্র ঘৃণা বরাদ্দ রইলো প্রথম আলো নামের পত্রিকার ও তার সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি। নিজেদের গা বাঁচানোর তাগিদে যারা সত্য প্রকাশের দায়িত্বজ্ঞানকে কাঁচকলা দেখালো।
আর করুণা রইলো এক দূর্ভাগা দেশের অপরিপক্ক সরকারের জন্যেও।
বড় হও দাদাঠাকুর!

পৌনঃপুনিক

প্রায়শই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে ভাবি, নাহ, আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব।
তারপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে দিন শুরু করি। বেলা বাড়তে থাকতে, সূর্য্যের আগে আগে আমি ছুটে চলি নানা কাজে। ওপেনটি বাইস্কোপ, নাইন টেন ..., নাকি নাইন ইলাভেন এখন? সে যাকগে, চুলটানা বিবিয়ানা, আর আমার বৈঠকখানা রংবেরঙের বায়োস্কোপে ভরে ওঠে। তার থেকে বেছে বেছে কিছু নিয়ে আমি রংধনু বানাই।
পৃথিবী তার আহ্নিক সারে। আমি মাঝামাঝি ক্লান্ত হয়ে এবং অনেকই রেগে মেগে লাগাম টেনে ধরি। ওরে বুবু সরে দাঁড়া, আসছে আমার পাগলা ঘোড়া।
আমি বাড়ি ফিরবার অনেক আগেই দেখি সূর্য্য বাড়ি ফিরে গেছে, সারাদিনের শোধ তুলে নিয়ে অট্টহাসি দেয় যেন। তো দিক না! সেই তো আন-বাড়িতে ডিউটি তার এখন। আমার মতন সুখ সুখ সুখ কই পাবে সে?
তো, সুখী হই, হয়ে আমি জাল টেনে বসি। আনাচে কানাচে কত আঁকাআঁকি, কত লেখাজোকা- সবগুলোর ভাঁজ খুলে খুলে রঙে ভেসে যাই, ডুবে ডুবে যাই।
আর ডুবতে ডুবতে চোখ বুজে ভাবি, নাহ, কাল থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব।