শুক্রবার, জুলাই ২০, ২০০৭

ঢেঁকি


শেল-এর সার্ভিস স্টেশানে পার্টটাইম জব করি।
সেদিন গিয়ে, রাতে, কাউন্টারে দাঁড়াতেই খুব ব্যস্ত হয়ে গেলাম। পরিচিত এক ক্রেতা এসে নিয়ম-মাফিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরেই জিজ্ঞেস করলো, আজকে ডাকাত আসে নি তো? কুশল জিজ্ঞাসার এই পর্বগুলোর সাথে এখন পরিচিত আমি, হেসে বলি, না, এখনো নয়।

একজন, দুইজন, তিনজন। চতুর্থ ক্রেতা একই ভাবে ডাকাতের কথা বলায় আমি ভাবলাম, কোথাও নির্ঘাৎ গন্ডগোল আছে। বললাম, আজ সবাই ডাকাতের কথা জিজ্ঞেস করছো কেন বলো তো?
ও অবাক! তুমি জানো না?
জানলাম। দু'দিন আগে, রাতে, এখানে ডাকাতি হয়ে গেছে! বিশাল একটা কিচেন-চাক্কু নিয়ে এসে ক্যাশ টাকা নিয়ে গেছে ডাকাত।

নির্ঘাৎ ড্রাগি বা জাংকিজ-গুলো হবে। তবু স্টোরে একা হতেই খানিকটা ভয়-ভয় করলো। ডায়রি খুলে দেখি, কোথাও ডাকাতির উল্লেখও নেই! কি আশ্চর্য, কেউ আমাকে কিছু জানালো না কেন?
বিশাল রেগে মেগে ডায়রিতে বড়সড় একটা নোট রাখবো, ভাবতেই ভাবতেই ম্যানেজার ফোন করলো। এ কথা সে কথার পরে বললো, ডাকাতির কথা। আমাকে সাহস জোগালো। আমি বললাম, ঠিকাছে। আমি ভীত নই।

শেষমেষ এলো আসল কথায়।
যে ছেলেটা ছিলো ডাকাতির দিন, ও নাকি একটু ডিপ্রেশানে ভুগছে, কাজ করতে পারবে না কিছুদিন, আমি যদি ওর শিফটগুলো করি, তবে খুব ভাল হয়।
একদম ইচ্ছে হলো না। রাতে কাজ ভালো লাগে না, তারউপর এই সব, মানা করলাম, পারবো না বললাম, তবু ম্যানেজার দেখি নাছোড়বান্দা, সেই একই কথা বলেই যাচ্ছে বলেই যাচ্ছে।
অনুরোধে ঢেঁকি গিলবার ব্যাপারে সুনাম আছে আমার, অবশেষে মনে হলো, অনুরোধে এবার ডাকাতও গিলতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই: