মঙ্গলবার, জুন ১৯, ২০০৭

তারেক মাসুদ-এর অন্তর্যাত্রা


এখানকার বাংলাদেশী দোকান থেকে অনেকদিন আগেই কিনে এনেছিলাম সিডি-টা। কিন্তু এতদিন সময় করে উঠতে পারি নি। অবশেষে গত পরশু দেখে ফেললাম তারেক মাসুদ-এর অন্তর্যাত্রা।

সিনেমার শুরুতে যখন এ ছবির ইংরেজী নাম দেখালো 'হোমল্যান্ড'- অর্থটা বুঝি নি ভাল করে। কিন্তু পুরোটা দেখবার পরে মনে হলো, এর চেয়ে সুন্দর নাম আর হয় না।

গল্পটা অনেক সুন্দর। একদম সুলভ (নাকি সহজলভ্য) কোন কাহিনি নয় এটা, তবে সেরকম অনেকগুলো কাহিনিকে জোড়া দিয়ে বানানো বলা চলে। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেছে এ ছবির পাত্র-পাত্রীরা। আমি সিলেটী ভালো বুঝি না, তারপরেও যখন কারো সংলাপ বুঝতেই কোন কষ্ট হয় নি, ভাবছিলাম, আসল সিলেটী কথাবার্তা এরকমই তো ? নাকি সিনেমার খাতিরে খানিকটা প্রমিতকরণ করা হয়েছে?

সিনেমাটা, এককথায়, সাবলীল নয়। দৃশ্যান্তরে যাবার সময়গুলোকে প্রায়শই জাম্প-কাট মনে হয়েছে। ঘড়ি দেখি নি, কিন্তু খুব বেশি লম্বা নয় বোধহয় দৈর্ঘ্যে, শেষ হতে তাই সময় লাগলো না বেশি। এবং হয়তো একারণেই শেষ হবার পর মনে হচ্ছিলো, শেষ করার তাড়াহুড়ায় ছিলেন না তো পরিচালক?

কোন চরিত্রই পূর্ণতা পাবার সুযোগ পায় নি যেন, এবং পুরো সিনেমার প্রতিটি চরিত্রের পেছনে যে নিজস্ব গল্প থাকে, তার কোনটাই স্পষ্ট হয় নি এখানে, কোনটা শেষও হয় নি। বাড়ির ভৃত্য লক্ষণকে দেখে মনে হয়েছিলো একটা কিছু গল্প আছে এখানে, খানিক বাদে তাঁকে আর পাওয়া গেল না। খুব অল্প সময় পর্দায় ছিলেন জয়ন্ত, এখানেও একটা গল্পের জন্যে মন উৎসুক হবার আগেই নিভে গেল। এরকম আরো আছে, জয়ন্ত-র স্ত্রীর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, আমি গল্প খুঁজেছিলাম সেখানেও, অথবা প্রাচী ও তার ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটা, সবাই কেমন করে যেন দূর থেকে বুড়ি ছুয়ে গেল, ভাল করে স্পর্শ করার আগেই।

তবু শেষমেষ ভাল লেগেছে, মনোলগের মত করে সারা যাকের, ও তাঁর ছেলের ভাবনাগুলো জানতে পেরেছি বলে। কোন কোন মৃত্যু মানুষকে কাছে টেনে আনে, নাকি বিচ্ছেদে পোড়ায়, এই জিজ্ঞাসাটুকু মনে জমে ওঠে। রামের জন্মস্থান অযোধ্যা নয় জানি, কবির মনভূমেই, তবু নিজেকে রামের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে যখন চমকে যাই, তখন হোমল্যান্ড আর তার ভেতরে আমাদের অন্তর্যাত্রা একাকার হয়ে যায়। কোথাও এতটুকু স্পর্শ না করেও তবু সেটা গভীর কোন দাগ রেখে যায়।


৩টি মন্তব্য:

telapoka বলেছেন...

কনফু ভাই, মিস করি আপনারে। ব্লগে আমার অবস্থান যদিও একটু বিতর্কিতই। যাকগা, এখানেতো পড়তে পারতাছি।

অন্তর্যাত্রা নিয়ে কিছু বলার জন্য কমেন্ট করতে হলো।
আপনাকে আদর্শ সিনেমা দর্শক বলা যায় :) হুম, ঠিক ধরেছেন, কম বাজেটের ছবি। ব্যক্তিগত ঘটনাগুলো জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে। সময় বেশি নেন নাই @ তারেক মাসুদ। লন্ডনের দৃশ্যায়ন নিজের ড্রইংরুমেই বসে করেছেন ;)

তারেক মাসুদের প্রতিভা আছে, কিন্তু ব্যবসায়ীক চিন্তাধারার সাথে তার প্রতিভার সংঘাত রয়েছে। তার সাথে কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার উপর ভর করে বলছি, ভেতরের ব্যপারগুলো আমি জানি।

তিনি এ ছবি নিয়ে যথেষ্ঠ প্রচারণা করেছেন, বলেছেন কালার কারেকশনের কথা। অ্যামেরিকায় নিয়ে গিয়ে একে অন্য জীবনদান করার কথাও বলেছেন, ব্যাপারটা ভূয়া। কেবলমাত্র ভিন্ন ফ্ল্যাটফর্মে কাজ করে যে সুবিধাটা ক্যাথরীন মাসুদ পেয়েছেন সেটাই লাভের উপর লাভ। অন্য কিছু নহে।

তাদের আরো একটু পোক্ত হতে হবে, আমি যতদূর মনে করি। ক্যাথরীন মুভি এডিটিংয়ের ব্যাপারটা একাই সামলান, কিন্তু আমি মনে করিনা তিনি অত দক্ষতার সাথে তা করতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক ছেলে এই কাজটা খুব ভালো ভাবে করতে পারতো আমার বিশ্বাস।

আরো কিছু কথা বলতে ইচ্ছা করতাছে, একটু বাইরে যেতে হবে, ফিরে শেষ করতে পারি।

ভালো থাকবেন। আবারো বলেছি, আপনারে মিস করি ;)

ইতি
না-মানুষ

telapoka বলেছেন...

যা!!!

:(

konfusias বলেছেন...

এতদূরে এসে ভেতরের সব তথ্যাদি জানিয়ে গেলেন, সেজন্যে ধন্যবাদ আপনাকে অনেক। ভাল লাগলো।
তারেক মাসুদের মাটির ময়না-তে কিন্তু অনেক যত্নের ছাপ ছিলো, এবারেরটার মত এলেবেলে মনে হয় নি সেটাকে।
ওনার ব্যবসায়ীক চিন্তাটাকে এই মুহুর্তে দোষও দিতে পারছি না, তৌকির আহমেদকে দেখেন, বেচারা সিনেমা বানিয়ে ফতুর হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পড়তে চান না বোধহয় তারেক মাসুদ!
আবারো ধন্যবাদ আপনাকে।
সামহোয়্যারে ইদানীং লেখা হচ্ছে না। তবে সচলায়তনে রেগুলার যাই, ওখানেই স্বচ্ছন্দ বোধ করছি অনেক বেশি।
ভাল থাকবেন।