সোমবার, মে ১৪, ২০০৭

বিবাহনামা-

[ বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোষ্ট কেবলমাত্র বিবাহিতদের জন্যে। যুবক ও অবিবাহিত ভাইয়েরা শত হস্ত দূরে থাকুন। তবে... কথা আছে, সদ্য বিবাহিতরা পড়িতে পারেন। আপনাদের জন্যে জরুরী অবস্থা আপাতত শিথিল:-) ]

জানুয়ারির কোন এক রাত। সদ্য দেশ থেকে ফিরেছি, বিবাহ করে মোটামুটি যুদ্ধ জয়ী সেনাপতির মতন নূরানী হাসি সারাক্ষণ আমার চোখে মুখে। কারো সাথে দেখা হলেই খানিক কথাবার্তার পর পেটের মধ্যে ভুটভাট শুরু হয়ে যায়, কেবলই উশখুশ করতে থাকি কি করে নিজের বিয়ের গল্প বলা যায়। হাওয়া অনুকূল দেখলে শেষ মেষ গলা খাঁকারী দিয়ে বলেই ফেলি, ' তা শুনেছেন নাকি, কাহিনি তো একটা ঘটিয়ে ফেলেছি!' শ্রোতা তখন আগ্রহী হয়ে বলেন, তাই নাকি? কি করেছেন?
আমি তখন প্রসন্ন হাসি দিয়ে বলি, 'আর বইলেন না, বিয়ে করে ফেলছি!'
তারপরে শুরু হয় আমার প্যাচাল। এর আগে বহুবার বলে বলে আমি যেটাতে বিশাল দক্ষতা অর্জন করে বসে আছি। আমার সেই প্রাঞ্জল বর্ণনায় শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে যান, আমিও গল্প শেষে আয়েসী ভঙ্গিতে একটা ঢেকুর তুলি।

তো, তেমনি একদিন, আলাপের কেউ নেই, তাই ইয়াহু চ্যাটে লগইন করে বসে আছি, এমন সময়ে অনলাইনে এলো আমার কলেজের এক বছরের জুনিয়ার এক ছোট ভাই। ও কানাডায় থাকে, অনেকদিন ধরে, পড়ছে, প্রেম করে ইউএস এ থাকা এক মেয়ের সাথে।
আমি তো তারে দেখে মহা খুশি। নক করে নানা কথা বার্তা বললাম, তারপরে আস্তে ধীরে রসিয়ে রসিয়ে বললাম, 'তা, শুনছো নাকি? কান্ড তো একটা ঘটাইয়া ফেলছি!'
সেই ছোট ভাই আমাকে বলে, 'আপনেরটা পরে শুনমু, আমি যে একটা কান্ড ঘটাইছি সেইটা জানেন নাকি?'
আমি একটু থমকে গেলাম। আলাপটা এগোলনা! :-(
জিজ্ঞেস করলাম, 'তাই নাকি? কি করছো?'
ও অতি উৎসাহে বলে, 'আর বইলেন না ভাই, লাস্ট সামারে ইউ এস গেছিলাম, ঐখানে গিয়া তো ওরে বিয়া করে ফেলছি!'
আমি চুপসে গেলাম। বলে কি! এইটা তো দেখি আমার চেয়ে বড় কাহিনি! বললাম, 'খাইসে! গ্রেট ব্যাপার! কেমনে কি হইলো?'
ও খুব মজাসে নিজের কাহিনি বলা শুরু করলো। মেয়ের বাবা কেমন করে বাগড়া দিচ্ছিলো প্রেমে, কিন্তু কেমন করে সে মা-কে ম্যানেজ করে তাদের বাসায় হাজির হয়। অতঃপর ওখানে একা একাই পুরা ফ্যামিলিকে ম্যানেজ করে বিয়ে করে ফেলে!
আমি নিজের কাহিনি গেলাম ভুলে, ওর কাহিনি শুনে নিজেই টাসকি খেয়ে বসে আছি! বলি, 'ভাল ভাল, খুব ভাল। এখন কি অবস্থা? কেমন আছো?'
ও বলে, 'এখন কঠিন অবস্থা! খুব মজা করছি দুইজনে। ক্যান ইউ ইমাজিন ম্যান দুইজনে টানা দুই সপ্তাহ একসাথে ছিলাম! এক রুমে!'

আমি একটু গলা খাঁকারি দিলাম। ছেলে বলে কি! তারপরে আমতা আমতা করে বলি, 'না না, তাতো হবেই। বিয়ে করছো..., এখন তো একসাথেই...।'
কীয়ের কি! আমারে পাত্তাই দিলো না। এক নাগাড়ে বলতে থাকলো, 'এখন বস ভাল কইরা আপনার লাইগা দোয়া করেন!'
আমার তো জান শুকিয়ে গেলো! ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'ক্যান, আমি আবার কি করলাম!?'
ও মুহাহাহা টাইপ একটা ভিলেনের হাসি দিয়া কইলো, 'আরে না, আপনে কি করবেন? করছি তো আমি! এখন মনে প্রাণে দোয়া করেন এত অল্প বয়সে আপনি আবার চাচা-কাকা না হইয়া যান!'

আমি বিরাট এক ঢোঁক গিললাম। আস্তে ধীরে লিখতে থাকলাম, 'ছি ছি, তোমরা আজকালকার বৈজ্ঞানিক যুগের পোলাপান, কী সব যে বলো না... ।'
ওর উচ্ছাসের ঠেলায় আমার এইসব কথাবার্তা মেসেঞ্জারের কোন চিপায় যে হারাইয়া গেলো, পরবর্তী কয়েক দিবস-রজনীও তাহাদের খুঁজিয়া পাইলাম না!

কোন মন্তব্য নেই: