শুক্রবার, মার্চ ১৬, ২০০৭

সামহোয়্যারইনব্লগ ও গুরুচন্ডালি এবং দুই বাংলার মানুষ নিয়ে কিছু কথা-

ইদানীং সময়াভাবে ভুগছি। ক্লাশ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সারাদিন। সবকিছুর পরে খানিক বিশ্রামটাই অনেক বেশি লোভনীয় হয়ে পড়ে।
সেসবের ফাঁকে ফাঁকেও দুটা জায়গায় নিয়ম করে ঠিকই হাজিরা দিই। সামহোয়্যারইনব্লগগুরুচন্ডালি
সামহোয়্যারের পরিবেশ সবসময়েই মরুভুমির টেম্পারেচারের মতন। খুব ঘন ঘন উঠে আর নামে। গুরুচন্ডালি সেই হিসেবে অনেক বেশি স্টেবল। এক সুরে চলে যায় বেশ কিছুদিন।

ইদানীং এমন হয়েছে দেশের খবর জানার জন্যেও পত্রিকা থেকে বেশি ভরসা করি সামহোয়্যারের উপর। খুব দ্রুতই খবর চলে আসে ওখানে। কারওয়ান বাজারে আগুনের সময়ে সেটা খুব বেশি বোঝা যাচ্ছিল। পত্রিকার গোছানো ভাবটা সেইসব খবরে নেই বলে একদম আসল খবরটা পাওয়া যায় সরাসরি দেখেছে এমন কারো কাছ থেকে। সেই সাথে জানা যায় দেশি-বিদেশি বাংলাদেশিদের প্রতিক্রিয়া।
সামহোয়্যারে অবশ্য বিস্তর আজেবাজে পোষ্ট হয়, সাথে গালাগালি বা অন্যান্য অস্বস্তিকর বিষয় তো রয়েছেই। কিন্তু কয়েকদিন ঘোরাফেরা করলেই আসলে একটা ধারণা হয়ে যায় কোন লেখাগুলো মন দিয়ে পড়তে হবে, আর কোনগুলোকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। এই অভ্যাসটা গড়ে নিলেই আর সমস্যা হয় না। বেশ একটা এনজয়েবল জায়গা হয়ে ওঠে সামহয়্যারইনব্লগ।

গুরুচন্ডালির সাথে পরিচয় অনেকদিনের । সেখানকার মানুষদের সাথেও। আমার অনেক আনন্দ-বেদনার সংগী তাঁরা অনেকদিন ধরে। বাংলা পড়া বা বাংলায় লেখা ও আড্ডা দেবার যে তীব্র আকুতি ছিল প্রবাস জীবনের শুরুর দিকে, একাধারে মজলিশ ও পরে পুরোপুরিভাবে গুরুচন্ডালিতেই মেটাতাম সেটা।

মজা হয়েছে এই যে, এই দুটো জায়গায় পাশাপাশি দুই দেশের মানুষদের প্রাধান্য থাকায় পারস্পরিক সম্পর্ক ও ধারণা নিয়ে খুব ভাল একটা আইডিয়া পাওয়া যায়। এদিকের মানুষদের নানারকম অভিযোগ পশ্চিমবাংলা নিয়ে, আবার ওখানের বাঙালীদেরও অনেক অভিযোগ আমাদের নিয়ে। মাঝে মাঝে অবশ্য সেসব সহনশীলতার মাত্রা ছেড়ে যায়, কিন্তু সেসবও আসলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের বাইরে নয়।
গুরু-তে নিয়মিত যাওয়ায় আমাদের অনেক অভিযোগের জবাব আপনা থেকেই পেয়ে গেছি। আবার ওখানে বাংলাদেশ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা টের পেয়ে সেসব ভাঙার চেষ্টা করেছি নিয়মিত। ওপাশের ধারণা রমনায় মন্দির ভাঙা নিয়ে আমাদের এখানে কোন প্রতিবাদ হয় না, আর এপাশের ধারণা গুজরাটে মানুষ মরলে সেখানে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু দু'টাই যে চরম ভুল, সেটা জানে ক'জন?

এই দু'জায়গায় নিয়মিত যাবার কারণে, আমার মানসিক অবস্থার ওপরেও বেশ ভাল প্রভাব ফেলছে ওরা। কখনো হয়তো কারো লেখা পড়ে ভাল লাগলো খুব, সারাটা দিন আনন্দে কেটে যায় তখন। কারো লেখা পড়ে অনেকটা সময়ে বিষাদে কাটিয়েছি, অথবা তীব্র রাগে অস্থির হয়ে আছি, এভাবেও কেটেছে দিন।

প্রবাসের এই নিঃসঙ্গ জীবনে এরকম দু' দু'টো জলজ্যান্ত সঙ্গী পাওয়াটা সৌভাগ্যই বলতে হবে! ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু'পাশে তাকাবার জন্যে এদের কোন তুলনা নেই।

দুঃখ শুধু এই যে, আমার মনে হয়, বার্লিনের মত শক্ত এবং বাস্তবিক কোন দেয়ালের অস্তিত্ব না থাকলেও দুই বাংলার মানুষের মনের ভেতর এখন তারচেয়েও অনেক কঠিন দেয়াল উঠে গেছে।

আমাদের মনের ভেতরকার সেই দেয়াল ভাঙাটা খুব জরুরি বলে মনে হয় আমার। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগটা বাড়ানো খুব জরুরি আসলে। সেই কাজটা করা যেতে পারে এই দু'জায়গায় মত বিনিময়ের মাধ্যমে।
প্রাথমিক অনেক জড়তা থাকবে জানি, কিন্তু সেসব কেটে যেতে সময় লাগবে না মোটেও। দু'টো ওয়েবসাইট, কোথাও যেতে কোন পাসপোর্ট বা ভিসা লাগে না, শুধু নেট খুলে খানিকটা সময় ব্যয়ের সদিচ্ছা থাকলেই হলো। কথা শুরু হতে পারে যে কোন বিষয়েই। নিজেদের মধ্যেকার অভিযোগগুলো দিয়েই শুরু করি না হয়! পরে আস্তে ধীরে আমাদের কানসাটের দুঃখের ভাগী হবেন ওরা, আর ওদের নন্দীগ্রামের কথা ভেবে বুক মুচড়ে উঠবে আমাদের।

ঠিক কেমন করে সম্ভব জানি না, স্বপ্ন দেখতে ভালোই লাগে শক্ত হাতুড়ির ঘা পড়ছে সেই দেয়ালে, আস্তে আস্তে চিড় ধরছে সেখানে এবং ক্রমশঃ সেটা ভেঙে যাচ্ছে...।

আমরা, গুরুচন্ডালি ও সামহোয়্যারের মানুষেরাই হাতুড়ির প্রথম ঘা-টা দিতে পারি। সুযোগটা যেমন করেই হোক আমাদের সামনে চলে এসেছে আসলে। সেটা অবহেলায় হারানোটা উচিৎ হবে কি?

২টি মন্তব্য:

Hasibul Haque বলেছেন...

স্রিলন্কার কাছে খুব খারাপ ভাবে হার্লো
রিলাএবল টিম হোইনি এখোনো

saif বলেছেন...

সাইট এ ভিজিটর নাই । একটু মন দিন এদিইকে। নিয়মিত আপডেট করুন । ধ্যন্যবাদ