শুক্রবার, মার্চ ২৩, ২০০৭

সাহানার গানঃ নতুন করে পাবো বলে-


এতদিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে...।
গত কদিন ধরে একটানা শুনে যাচ্ছি সাহানার গান। বাইরে যতক্ষন আছি, সারাক্ষনই কানে বাজছে । বাসায় ফিরেও শুনেই চলেছি।
পুরো এলবামটাই ভাল লাগার মতন। গানগুলো বেছে নেয়া হয়েছে অনেক যত্ন করে। রবীন্দ্রনাথের অল্প কিছু গানই ঘুরে ফিরে শুনতে পাওয়া যায়। যারা রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশেষ ভক্ত, তাঁরা বাদে বাকিদের জন্যে কিছু অপ্রচলিত গানও গেয়েছেন সাহানা।
এমনিতে অর্ণব-সাহানা জুটি আমার খুব পছন্দের। সাহানার লেখা অর্ণবের সব কয়টা গান খুব প্রিয় আমার। দু'জনে মিলে ইতিমধ্যেই বাংলা গানকে অনেক দিয়েছেন, নতুন করে পাবো বলে- নামের এই এলবামটা নিঃসন্দেহে তার সাথে খুব ভাল একটি সংযোজন।
সাহানার গলা অদ্ভুত ভাল। খানিকটা ছেলেমানুষী ভাব রয়ে গেছে, এবং একটুখানি বিষন্ন যেন, খুব মনোযোগে শুনতে থাকলে বুকের ভেতরে কোথাও যেন হুট করে ফাঁকা লাগা শুরু করে। কিছু গানের বিশেষ কিছু জায়গা বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..., এখানে মাতালো বলে যে টানটা দেয়, আমি বারবার পিছিয়ে গিয়ে শুনি। তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে... এ গানটাও অদ্ভূত ভাল গেয়েছে সাহানা। আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে- এ গানটার শুরুতে বেশ খানিক্ষণ মিউজিক বেজে চলে, এ কাজটাও অনেক সুন্দর। একেই কি কম্পোজিশান বলে? তাহলে অর্ণব আসলেই গ্রেট।

এমনিতে যারা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনে না, বিশেষ করে নতুনরা, তাঁরা খুব পছন্দ করবে গানগুলো। সাহানার কারণে বেশ কিছু শ্রোতা রবিবাবু পেয়ে যাবেন বলে মনে হচ্ছে। আমি সুর বা লয়ের কোথাও কোন পরিবর্তন পাই নি, কম্পোজিশান খুবই ভালো, প্রজাপতি স্পষ্ট করে জানিয়েছে নোটেশান নাকি বদলায় নি, এটা যে কি জিনিস, তাও ভাল করে বুঝি না, তবে ওর কথা শুনে বুঝতে পেরেছি, রবীন্দ্র সঙ্গীতের ব্যাপারে বিশুদ্ধতাবাদীরা সাহানাকে নিয়ে আপত্তি করবেন না হয়তো।

একনাগাড়ে শুনতে শুনতে একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করলাম, লম্বা বাক্যগুলোয় সাহানা মাঝে মাঝে দম টেনে নেন। অথবা যেখানে খুব বেশি টান দিতে হয়, সেখানে, একটু খেয়াল করলেই তাঁর নিঃশ্বাস টানার শব্দ শোনা যায়। সাধারণত অনেকদিন চর্চ্চা না থাকলে ভালো গায়কদেরও এই সমস্যাটা হয়। সাহানা নিশ্চয় চর্চ্চা ছাড়াই এই এলবাম বের করেন নি, তার মানে, ওঁর গলার বৈশিষ্টই এই। মজা হচ্ছে- এ ব্যাপারাটা খুব খারাপ লাগে না কিন্তু, বরং বেশ মিষ্টি লাগে শুনতে।

একটা সাহানা, একটা লোপামুদ্রা- এমন করে সাজিয়েও শুনলাম টানা দু'দিন। ভালো গানের কথা এলেই আমি লোপামুদ্রাকে টেনে আনি বলে আমার বউ মাঝে মাঝেই ক্ষেপে যায়। কিন্তু সামলাতে পারি না।
কোন তুলনায় যাওয়াই ঠিক নয়। তবু মনে হলো- সাহানার গানে লোপামুদ্রার মতন স্বচ্ছতা নেই। লোপার গান শুনলেই পরিষ্কার বা ঝরঝরে যে অনুভূতি জাগে মনে, সেরকমটা হয় না সাহানার গান শুনলে। তবে যেটা হয়- খানিক্ষণ একলা বসে থাকতে ইচ্ছে করে সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে। দরজা আটকে অনেক আগের ভুলে যাওয়া কোন দুঃখের স্মৃতি মনে করে মন খারাপের মাঝে ডুবে যেতে ইচ্ছে করে। কি দারুণ করেই না গেয়েছেন সাহানা- তুমি কোন পথে যে এলে, আমি দেখি নাই তোমারে- শুনতে শুনতে পৃথিবীরে আসলেই মায়াবী নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়, সে নদীর পাশের নির্জনতায় যে মানবী অপেক্ষা করে আছে আমার জন্যে, তাকে কাছে না পাওয়ার বেদনা তখন খুব বড় হয়ে বেজে ওঠে মনের ভেতর।
এবং বলতে দ্বিধা নেই, এই অনুভুতিটাকেও আমার ভীষন ভাল লেগে যায়। ভাল লাগে সাহানার গান।

1 টি মন্তব্য:

ইফতেখার বলেছেন...

তালব্য-স হবে না তুমি কি নিশ্চিত ? একটা গান শুনছিলাম অনেকদিন ধরে। প্রজাপতির পোস্টে পুরো এ্যালবাম পেলাম। এই লিখাটা পড়বার পর মনে হল, অনেকদিন বাদে দম নিলাম। খুব ভাল লাগল সুরের সাথে তোমার সহাবস্থানের অনুভূতিটুকু ।