পোস্টগুলি

January, 2007 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নাটকের গান

যখন শুধু একটাই চ্যানেল ছিলো, সবেধন নীলমণি আমাদের বিটিভি, তখন অখন্ড মনোযোগে সেটায় প্রাচারিত প্রায় সব নাটকই দেখা হতো। এখনো ভালো নাটক নিয়ে কথা বলতে চাইলে বুড়ো মানুষদের মতো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি, একে একে মনে আসে ছোটবেলায় দেখা নাটকগুলোর কথা।
আজ আনমনে ভাবতে গিয়ে অনেক আগে দেখা অনেকগুলো নাটকের বিচ্ছিন্ন কিছু দৃশ্য, সংলাপ আর গানের কথা মনে আসছিলো এক এক করে।
সংশপ্তকের ডায়ালগ মনে পড়ে, টাকা আমার চাই, নইলে জমি! মধু পাগলা, হুরমতী আর কানকাটা রমজানের কথাই বা ভুলি কেমনে?
সম্ভবত বারো রকম মানুষ নাটকের একটা বহুল প্রচলিত সংলাপ ছিলো- ছিটগ্রস্ত বালিকা। রূপনগরের খালেদ খানের মুখে- ছি ছি, তুমি এত খারাপ- সেই ছোটবেলায়ও বলতাম বন্ধুদের।
রূদ্্েরর লেখা গান- ভালো আছি ভালো থেকো- প্রথম শুনেছিলাম কোন একটা নাটকে। নাম ভুলে গেছি, কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে- শংকর সাঁওজাল ছিলেন সেই নাটকে।
নাটকের গান কথা ভাবলেই আমার সবচে বেশি মনে পড়ে অয়োময়ের কথা। বেশ কিছু সুন্দর গান ছিলো তাতে, যেমন,

-> আউলা চুলে নাচোরে,
বাউলা গলায় গাও,
নাচিতে নাচিতে বন্ধু-
এদিক ওদিক চাও।

এটা মনে হয় আবুল হায়াতের গলায় চিত্রিত হয়েছিলো। তাই কি?
আরো একটা গানের খন্ডাংশ মনে পড়ে-

-…

বউ

ছবি
বউ
--------------

তোকে প্রথম ডেকেছিলাম “তুমি''-
তুই হেসে করেছিলি দুষ্টুমী-
তারপর হঠাৎ কখন “তুই'' বলে-
কত্ত কাছে এলাম দু'জন চলে।।

এখন আবার ডাক বদলের পালা-
কিন্তু ভাবি, কি বলে যে ডাকি-
আচ্ছা যদি ডাকি “বউ'' বলে-
তুই সত্যিই সায় দিবি নাকি!!


-----------------------------
ডিসক্লেইমার: যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বই মিথ্যা বলিবো না। :-)

তিতলি- ২

ছবি
তিতলি-
-----------

আমি একটা স্বপ্ন আঁকি বসে,
পেন্সিলেতে- মনের ক্যানভাসে-।।
আঁকা শেষে তাকিয়ে দেখি সেথা,
কোথায় যেন কীসের অপূর্ণতা।

ঠিক তখুনি রঙের বাকসো হাতে,
তুই এসে বসলি ছবিটাতে।
রঙের ছোঁয়ায় করলি তাকে পূর্ণ,
-তুই আর আমি, এই আমাদের স্বপ্ন।


--------------------------
ডিসক্লেইমার ১: ঘটনা ও চরিত্র পুরাপুরি কাল্পনিক।
ডিসক্লেইমার ২: কাল্পনিক না হইলেই বা আপনের কি?

গল্পঃ সমান্তরাল

ছবি
১।
মাঝে মাঝে এমন হয় যে, গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে চোখ দুটো না খুলেই যখন অন্ধকারের গায়ে কান পাতি, নিস্তব্ধ রাতের ভেতরের কোন একটা উৎস থেকে খুব মৃদু ভাবে তবলার বোলের মত শব্দ ভেসে আসতে থাকে। একটা বা দুটো আঙুল দিয়ে খুব আদুরে ভঙ্গিতে যদি বাজানো হয় - সেটা ঠিক তেরে কেটে ধিন হয় না, বদ্ধ ঘরের দরজার এপাশ থেকে ভেতরের গুম-গুম শব্দ শুনতে পেলে যেমন লাগে, অনেকটা সেরকম।
প্রথম প্রথম হৃৎপিন্ডের শব্দ ভেবে ভুল করতাম; পরে বুঝেছি, ওটা আসলে রাতেরই নিজস্ব শব্দ। দেয়ালের গায়ে অবিচল বসে থাকা টিকটিকি যেমন শুধু রাত হলেই টিকটিক করে উঠে; অথবা দেয়াল ঘড়িটা, সারাদিন চুপচাপ অবিরাম ঘুরে যায়, শুধু রাত গভীর হলেই যেন সেটাও টিকটিকির সাথে গলা মেলায়, তেমনি করে কেবল রাত হলেই যেন অন্ধকারের শব্দ শুনতে পাই আমি।
এখন যদিও বিকেল, আকাশে মেঘ তাই সন্ধ্যে বলে ভুল হয়। অবিরাম ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে- থামবার লক্ষণ নেই দেখে খানিকটা অপেক্ষা করার পর হাল্কা পায়ে দৌড়ে আমরা ক'জন প্রায় ধ্যানমগ্ন মানুষ এই গাছটার তলায় এসে আশ্রয় নিয়েছি। সামনে তাকালে কেবলই বৃষ্টি, চেয়ে থাকার কোন মানে হয় না, তবুও আমরা সবাই সেদিকে তাকিয়ে থাকি। এক দৃ…

আকাশ ছড়ায়ে আছে-

ছবি
পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে
------------------
রয়েছি সবুজ মাঠে- ঘাসে-
আকাশ ছড়ায়ে আছে নীল হয়ে আকাশে আকাশে।

ভালো গদ্য লিখতে চাইলে নাকি বেশি করে পদ্য পড়তে হয়, কে বলেছিলেন? মনে নেই। তবে খুব সঠিক কথা। কবিতা পড়লে শব্দ নিয়ে রংবাজিটা খুব ভালোভাবে চোখে পড়ে, মনে গাঁথে। এই ক্ষেত্রে একদম টপ রংবাজ বলে মানি জীবন-দাশ-বাবুরে। প্রায়শই তাই তার রংবাজি-সমগ্র টা হাতে নিয়ে বসি, পাতা উলটে যাই আর বিপন্ন বিস্ময় বোধ করি।

যায় দিন, যায় একাকি...।
------------------------------
গতকাল, রাতে, সিংহপুরী পংখীরাজ যখন মেলবোর্নের রানওয়ে স্পর্শ করলো, ছাদের কোন এক কোনা থেকে একজন সুকণ্ঠী স্বাগতম জানালেন, এবং বললেন, বাইরে আজ ৩৫ ডিগ্রি গরম। স্কুল-বালিকাদের একটা গ্রুপ সম্ভবত ট্যুরে গিয়েছিল, প্রায় সব কজন এক সংগে হৈ হৈ করে হাতে তালি দিয়ে উঠলো। এরা সামারটাকে এত বেশি পছন্দ করে! আর আমি মরি গরমে!! ধুর!

ভালো লাগে রে সবই
---------------
কদিন খুব আজব কাটলো।
জোহানেসবার্গ থেকে দুবাই হয়ে যেবার মেলবোর্ণে প্রথম এসেছিলাম, মাঝপথে প্লেনের জানালা দিয়ে দেখলাম সূর্য ডুবে গেল। মজা হলো, ঠিক তার ছ'ঘন্টা বাদেই সূর্য আবার উঁকি দিলো। আমার জীবনের সবচে দ্্রুততম রাত ছিল…

লাট্টু!

পঁচিশতম জন্মদিনে এসে আমার মনে হয়, যদি পঞ্চাশ বছর বাঁচি, তবে অর্ধেক পথ এরই মাঝে পার হয়ে এসেছি।
বড় নির্দয়ভাবে এই ভাবনাটাই কেবল মাথার ভেতর লাটিমের মত ঘুরতে থাকে। কিছুক্ষন এদিক ওদিক ডিগবাজি খেতে খেতে একটা কেন্দেন্স এসে ভাবনাটা স্খির হয়, এবং একই কেন্দেন্স ঘুরপাক খায় বলে সেটা ক্রমশ: গভীরে যেতে থাকে- আর সেখানে যেন কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে যায়, পঁচিশ, চব্বিশ, তারপর তেইশ বাইশ একুশ...।

সতেরতম জন্মদিনে ঠিক এরকম একটা ভাবনার উদয় হয়েছিল মনে। ধারণা হচ্ছে, সেদিনও সম্ভবত আজকের মতই কিছু খরচ না করা অলস সময় জমে গিয়েছিল। শীতের সকালে খুব আরাম নিয়ে রোদ পোহানোর মত করে আদুরে ভঙ্গিতে আমি তাই ভাবনার লাটিম চরিয়ে বেড়াই। মনে পড়তে থাকে- সে দিনেও আমার এমনি মনে হয়েছিল যে সতের বছর পার হয়ে এসেছি!
আজকের দিনের সাথে তার পার্থক্য একটাই, সামনের অর্ধেক জীবনের কথা তখন মাথায় এসে বসেনি।
এই রকমের ভাবনাগুলোর ব্যাকগন্সাউন্ডে ফ্ল্যাশব্যাকের মত করে পুরনো স্মৃতিরা উঁকিঝুকি দেয়া শুরু করলে বেশ জমে ওঠে।
আমিও তাই ভাল মতন জমিয়ে যাই। মস্তিষ্কের মজাটাই এই- সে পন্সায় সব স্মৃতিই জমা করে রাখে। ডেস্কটপে ফেলে রাখা আনইউজড আইকনের মত মাঝে কিছু কিছু ডিলিট কর…