পোস্টগুলি

2007 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দুঃখিত, আমিও।

ছবি
উপরের ছবিটা আজকের প্রথম আলো থেকে নেয়া। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ প্রেসক্লাবের এক সমাবেশের পরে সেখানকার কিছু আইনজীবি ও সাংবাদিকদের দেখানো ব্যানার এটা।
এই ব্যানার দেখে মনের ভেতর অনেক কথা জমে উঠলো। খানিকটা ভালো লাগলো, একটা দেশের জনগণ আর সরকার সম্ভবত সবসময় এক অর্থ করে না, বুঝা গেলো সেটা। এরকমটা আগেও দেখেছি, সেই ৭১এ-ই। একদিকে পাকিস্তানের সহায়তা করেছিলো আমেরিকান সরকার, অন্যদিকে জর্জ হ্যারিসনদের মতন মানুষেরা বাংলাদেশের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন মরিয়া হয়ে।
পাকিস্তানের এই মানুষদের মনোভাবকে শ্রদ্ধা করি। আমাদেরকে সমবেদনা জানিয়েছেন তারা, ঠিক আছে।
কিন্তু আর কিছু না, মনের ভেতর কোন মুক্তিযোদ্ধা অথবা বীরাংগনার স্মৃতি না এনেই, আমাদের লক্ষ শহীদদের কথা একবারও মনে না করেই আমি শুধু ব্যানারের 'জেনোসাইড' শব্দটার দিকে তাকাচ্ছিলাম। বারবার। সত্যি, মনে হলো অদৃশ্য কোন লাল রঙে লেখা ঐ শব্দটার পাশে ঐ 'স্যরি' শব্দটাকে বড্ড বেশি হাল্কা মনে হচ্ছিলো, অনেকটা দায়সারা আর খেলো লাগছিলো! একটা জেনোসাইডের জন্যে শুধুই একটা স্যরি?

আমি জানি, তারা দুঃখ প্রকাশ না করলেই বা আমরা কি করতাম? কিচ্ছু করার ছিলো না। 'ক্ষমা চাইতে…

আর্থ আওয়ারঃ প্রিয় পৃথিবীর জন্যে একটি ঘন্টা

ছবি
আর্থ আওয়ার-এর মূল ধারণাটা এরকমই। প্রিয় পৃথিবীর জন্যে একটা কিছু করা। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই এমন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ; যেটা আপাত দৃষ্টিতে খুব সামান্য হতে পারে, কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে এর অবদান হয়ে যাবে অনেক বড়।
পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হবে যে দেশগুলো, তাদের তালিকায় বাংলাদেশ যে অনেক উপরের দিকে, এটা আজকের নতুন কোন খবর নয়। কাগজ কলমের হিসাব অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি আর এক মিটার বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের ছোট্ট দেশটার পনের ভাগ এলাকাই ডুবে যাবে পানির নীচে। ঘরহারা হবে প্রায় ১৩ মিলিয়ন মানুষ। এই হিসাবের বাইরে এরকম দুর্যোগে আর কি কি হতে পারে, সিডরের পরের গত এক মাসে আমরা তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। মাঠের শস্য ভেসে যায় পানিতে,ক্রমশ বাড়তে থাকা মৃত মানুষের অংক আমাদের কাছে হয়ত কিছু সংখ্যা, কিন্তু অনেকের জন্যে তারাই তাদের আত্মীয়, আত্মার পরিজন।
তো, এই উষ্ণতা বাড়ার পেছনে কারা দায়ী? চোখবুজে আপনারা লাদেনকে দোষারোপ করতে পারেন, সাথে তার প্রিয় বন্ধু জর্জ ডব্লিউ বুশকেও। দুজনই পৃথিবী জুড়ে এত বেশি বিস্ফোরণ আর যুদ্ধ বাধিয়ে রেখেছে, উষ্ণতা বাড়বার ক্ষেত্রে এই দুই মাথামোটার অবদানও কিন্…

পরবাসে তাবলীগের বশে

ইউনিভার্সিটি হলগুলোয় পরিচিত এক দৃশ্য ছিলো, আমাদের স্বাভাবিক বহুল তরংগায়িত জীবনে আরেক তরংগ আর কি। সেটা হলো, দুপুরের খাবারের পরে হয়তো সবাই চুপচাপ, বেডে শুয়ে আরাম করছে, কোথাও কোন রুমে হয়তো চলছে আড্ডা, এরকম অবস্থায় হুট করেই পুরো ফ্লোরে ফিসফাস করে ছড়িয়ে পড়লো খবর, "ঐ আইছে, আইছে রে, ভাগ সবাই!"
ব্যস, সবাই শোয়া বসা ছেড়ে হুড়মুড় করে গায়ে শার্ট চাপিয়ে পড়িমড়ি করে দে ছূট।
তা কে সেই সুধীজন, যার আগমনে এই পলায়ন নাটিকা?
না,ক্যাডার বা ঐ গোত্রীয় কেউ নন, তারা হলেন তাবলীগী জামাতের মানুষ।
লাঞ্চের পরপরই মূলত তারা 'হামলা' চালাতেন। মুখে অমায়িক হাসি, কথার শুরুতেই হাত মিলানোর জন্যে হাত চেপে ধরেন, এবং অলৌকিক ভাবে সেই হাত ছাড়ার কথা পুরোপুরি ভুলে যান। একদম মাগরিবের নামাজের পরে আজকের জমায়াতে হাজির থাকবো- এইরকম একটা অদৃশ্য সনদে সম্মতিসূচক দস্তখত না করা পর্যন্ত মুক্তি মিলে না।
তাবলীগি জামাতের পেছনের মূল কাহিনিটা আমার জানা নেই। তবে ধারণা করতে পারি, বিপথে যাওয়া মুমিনদের যায়-যায়-ঈমানকে পাকাপোক্ত করতেই তারা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। আমার অবশ্য কোনই আপত্তি নেই তাতে। তবে বার তিনেক প্রায় একই ধরণের লম্বা লেকচারের ম…

বেল পাকিলে কাকের কী?

ছবি
দৃশ্যত কোন লাভ নেই, কিছু যায় ও আসে না, তবু বেল গাছে বাসা বেঁধেছি কদিনের জন্যে, তাই বেল পাকার খবর নিই আর কি!
ঘটনা হল এই, জন হাওয়ার্ড হেরে গেছে। লেবার পার্টির কেভিন রাড আজ থেকে অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় মাস ছয়েকের বেশীদিন ধরে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সমাপ্তি ঘটলো আজ। আমি অবশ্য তেমন টের টুর পাই নি। আমাদের দেশের মতন নির্বাচনটা এখানে উৎসবে রূপান্তরিত হতে পারে নি। এ দেশের লোকজন নির্বাচন নিয়ে আদৌ কতটুকু সিরিয়াস, সেটা নিয়েও আমার কিঞ্চিত সন্দেহ আছে। আজ হাতে গুনে চারজন আমাকে এসে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা, আশপাশে ভোট কোথায় নেয়া হচ্ছে বলতে পারো? আমার ভোটটা এখনো দেয়া হয় নি!পত্রিকাগুলো অবশ্য আগেই ভবিষ্যৎবানী করেছিলো, কেভিন জিতে যাবে। নানা রকম জরিপ টরিপ করে তারপরেই এইসব আগাম ঘোষনা দেয়া হয়, তাই এসবের উপরে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করা যায়। একেবারে শেষমুহুর্তে অবশ্য বেশ জমে উঠেছিলো। হাওয়ার্ডকে বুড়ো বলে বাতিলের চেষ্টা ছিলো শুরু থেকেই। লেবার পার্টি এই নিয়ে কম প্রচারণা চালায় নি। কেভিন সেদিক দিয়ে বেশ এগিয়ে ছিলো। অবশ্য অল্পকদিন আগে প্রচার পাওয়া একটা ভিডিও খানিকটা গোলমালে ফেলে দিয়েছিলো। বেশ আগের একট…

প্রিয় সঞ্জীব চৌধুরী

ছবি
তো যেরকমটা হয়, এভাবেই মৃত্যু এসে হাত ধরে ডেকে নিয়ে যায় জেলে নৌকার মাঝিদের।
আউলা চুলের কাঁধে গামছা মাঝি, চান্নি রাতে গলায় জোয়ার উঠে, আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ।
আমরা অন্ধ হই, নিঃস হই, বধির হই। আমাদেরই চোখের সামনে মৃত্যু এসে হাতছানি দেয়, মাঝি চলে যায়।
দোলে ভাটিয়ালি, এ নদী রূপালী, ঢেউয়ের তালে নৌকা বাজাও...
নদী দোলে, ঢেউ দোলে, ঢেউয়ের তালে আপনমনে দিগবিদিক নৌকা ভেসে যায়।
মাঝি নেই হায়, নৌকাও আর বাজে না।

না চাহিলে যারে পাওয়া যায়...

১।
আমায় এমন পাগল করে আকাশ থেকে মধ্য রাতে নামলে কেন,
নামলে যদি মধ্যরাতেই, চোখের দেখা না ফুরাতেই থামলে কেন?মাঝরাতের ঝুম ঝুম বৃষ্টি নিয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের তিন দিকপালই নানা কিছু ভেবেছেন। এক হলেন আমাদের ট্যাগোর আংকেল, তিনি লিখে গেছেন, আমার নিশীথ রাতের বাদল ধারা, এসো হে গোপনে...। তারপরে আছেন ডাকাত-কবি, মানে নির্মলেন্দু গুণ, কি অসাধারণ সব পংক্তি, নামতে তোমায় কে বলেছে, মেঘে মেঘে মেঘ গলেছে, অন্ধকারে।
আর তৃতীয়জন হলাম এই আমি। এখনো কিছু লিখিনি অবশ্য, তবে ইদানিং রাত বিরেতের বৃষ্টিটাকে যে হারে মিস করা শুরু করেছি, খুব শীঘ্রই যে একটা কিছু লিখে ফেলবো, সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।২।
লাল কমলা আর গোলাপী, তিনটে রংকেই আমি লাল বলে চালিয়ে দিই। ফিরোজা, সবুজ, কলাপাতা অথবা লেবু- সবই আমার কাছে সবুজ। দুর্জনে আমাকে কালার-ব্লাইন্ড বললে দোষাই কেমনে?
আমি অবশ্য দাবি করি, কালার ব্লাইন্ড নয়, বড়জোর আমাকে কালার-ডাম্ব বলা যেতে পারে। রঙ টং যে চিনি না তাতো নয়। চিনি ঠিকঠাক, তবে বলবার কষ্টটুকু করতে ইচ্ছে করে না আর কি! সে জন্যে ব্লাইন্ড হতে রাজি নই, বড়জোর ডাম্ব হওয়া চলে!৩।
ভেবে দেখলাম, এই পোড়ার দেশের লোকেরা একেবারে পাকাপাকি …

চুলোচুলি

ছবি
প্রতিবার চুল কাটাতে গিয়ে যখন সেলুনের চেয়ারে বসি, হাসিমুখে প্রশ্ন শুনি, কিভাবে কাটাবেন? আমি তখন ভীষণ বিপদে পড়ে যাই।আমি আলাভোলা মানুষ নই। যদিও রঙ চং পছন্দ করি না, শুধু খানিকটা পরিপাটী থাকি। তবে সেই পরিপাটীত্বের সিলেবাসে আমার চুল নেই। চুলের জন্যে এমনকি চিরুনিও একটা বিলাসিতা যেন আমার কাছে, গোসলের পরে দু হাতের দশটা আঙুল দিয়েই কাজ চলে যায়। আলাদা ভাবে কখনোই ভাবা হয় না তাই চুলের চেহারা বা নক্সা কেমন হবে। আর সে জন্যেই প্রতিবার চুল কাটাতে গেলে কিভাবে কাটাবো, এই বহু পুরাতন প্রশ্নে আমি বারবারই নতুন করে বিপদে পড়ি।কপালের ওপরে চুলের শেষ সীমানায় আমার একটা লুকোনো ঘূর্ণি আছে। চুল ছোট রাখি বলে বুঝা যায় না। ব্যাপারটা জিনেটিক, সন্দেহ নাই, কারণ আমার বাবা আর ভাইয়ের মাথায় ঘূর্ণিগুলো স্পষ্ট। আমারো চুল খানিকটা বড় হলেই এই ঘূর্ণির কল্যাণে চুলে নানারকম ঢেউ খেলে যায়। এই ব্যাপারটা এড়ানোর জন্যে ছোটবেলা থেকেই সিঁথি করি ডানদিকে, ঐ ঘূর্ণির অনুকুলে। মাথায় চুল খানিকটা বড় হলেই আমার তাই অস্থির লাগা শুরু হয়। গত কদিন যেমন হচ্ছিল, ঘাড়ের কাছে আর কানের ওপরে চুলবুল করছিলো, বুঝছিলাম সময় ঘনিয়েছে। আরও নিশ্চিত হলাম যখন আমার সহকর্মী …

এখানে একা নাকি?

ছবি
একলা নারীরা পৃথিবীর কোথাও নিরাপদ নয়।
হোক সেটা ঢাকা, কি মেলবোর্ণ। অথবা হোক সেটা সত্যিকারের রমণী, অথবা তার ছবি, এমনকি কাঠের বুকে খোদাই করা কোন নারী-মূর্তি! এবারের ঈদের দিন তোলা ছবি। মূল শহর থেকে অনেক দূরের একটা বন আর গাছ-গাছালি ঘেরা পিকনিক স্পটে ঘুরতে গিয়েছিলাম।
সেখানের নির্জন একটা জায়গায় এই টয়লেট সাইন খুঁজে পেলাম। পাশের পুরুষ মূর্তির তীব্র চাহনিকে উপেক্ষা করেই বেচারীর ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে।

আমি অবশ্য অবাক হয়েছি পুরুষ মুর্তিটির গায়ে একটাও আচড়ের দাগ না দেখে! ব্যাটা নির্ঘাৎ কাপুরুষ, সঙ্গিনীকে একবারও নিশ্চয় বাঁচাতে যায় নি!
সেলুকাস!

খাবি দাবি কলকলাবি

পেট দেখে ইদানীং আমাকে পেটুক বলে চেনা গেলেও, ছেলেবেলায় কিন্তু আমি এরকম ছিলাম না। এরকম, মানে যে পেটুক ছিলাম না, ব্যাপারটা তা নয়। সেটা ছিলাম ঠিকই, তবে পেটের আকৃতি তখনো দ্রষ্টব্য কিছু হয়ে ওঠে নি আমার।

বাসায় আমার যন্ত্রণায় বিস্কুট চানাচুর ঠিক জায়গায় রাখবার উপায় ছিলো না। নানা জায়গায় লুকিয়ে রাখতে হতো। তবে কিছুতেই আমাকে দমিয়ে রাখা যেত না। আমি খুঁজে টুজে বের করে, তাদের সবচেয়ে সঠিক জায়গায়, মানে আমার পেটের ভেতরে নির্দ্বিধায় চালান করে দিতাম। মাঝে মাঝে দু'এক পদের বিস্কুট যদিওবা লুকিয়ে রাখতে পারতো, কিন্তু আমিও তক্কে তক্কে থাকতাম। মেহমান বাসায় এলেই আমি খুশিতে বাগডুম। এ বারতো লুকোনো বিস্কুট বের করতে হবেই! এবং তাই হতো। মেহমানদের দেবার জন্যে লুকোনো ভান্ডার থেকে বের করা হতো সেসব। আর আমি শুধু ঘড়ি দেখতাম কখন তারা বিদায় নেবে। এবং যখন সত্যিই ওরা চলে যেত, বিস্কুট চানাচুর আবারো লুকোবার আগেই আক্ষরিক অর্থেই ঝাপিয়ে পড়তাম সেসবের উপরে।

এই খাদ্যপ্রীতি যে কেবল নিজের বাসায় বলবৎ ছিলো তা নয়। পরিচিত আত্মীয়দের বাসায় যাবার ব্যাপারেও আমি বাছ-বিচার চালাতাম। কোন বাসায় গেলে কোন মানের বিস্কুট খেতে দিবে, মনে মনে সে বিষয়ে আমার…

অবশেষে...

তাই হচ্ছে। একদম পার পেয়ে যাচ্ছে না বোধহয় ব্যাটারা।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা একসাথে হয়েছেন। দেশের সবচেয়ে জরুরি মুহুর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, এখন আবার সেই সময় এসেছে।
ডিসেম্বরের ৩ তারিখে মিটিং ডাকা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতির ব্যাপার।
সবকিছু ভালোয় ভালোয় হলেই হলো।

নাটকঃ মরটিন, মশা অথবা হাত

দৃশ্য-১
পর্দা উঠবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে মশার পিন পিন শব্দ।
মঞ্চের মাঝখানে একটা বিছানা, তাতে গোলাপী রঙের মশারী টানানো।
পাশেই চেয়ার, সেখানে রমিজ আলী বসে থাকবেন। গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জী, চোখে চশমা। ভুরু কুচকে পত্রিকা পড়বেন।
ডানপাশের কোনা থেকে একটা ফুটলাইট জ্বলবে। আলো পড়বে রমিজ আলীর গায়ের উপরে। পেছনের দেয়ালে তার ছায়া দেখা যাবে।দৃশ্য-২
আলো বদল। এবার মাঝের ফুটলাইট জ্বলে উঠবে। আগের বাতি নিভবে না।
রমিজ আলী পত্রিকা পড়তে পড়তে মাথা দোলাবেন। এপাশ ওপাশ। হতাশা সূচক। পত্রিকার এ পাশটায় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের ছবি দেখা যাবে। দুজন টুপিওয়ালা থাকবে সে ছবিতে, একজনের লালচে দাঁড়ি। ব্যাকগ্রাউন্ডে মশার পিন পিন অব্যাহত।দৃশ্য-৩
মাথার ওপরের বাতি জ্বলে উঠবে। আলো রমিজ আলীর ওপর।
রমিজ আলী উঠে দাঁড়াবেন। পত্রিকা চেয়ারে রেখে দু'হাত প্রসারিত করে হাই তুলবেন। তারপরে মশারির ভেতরে ঢুকে যাবেন।দৃশ্য-৪
মশারির পাশের ফুটলাইট জ্বলে উঠবে। মশার পিন পিন আওয়াজ একটু বেড়ে যাবে।
রমিজ আলী দু হাতের চাপড়ে দু একটা মশা মারার চেষ্টা করবেন। তারপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়বেন বিছানায়।
আলো কমে আসবে।
খানিকপর রমিজ আলীর ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাবে। মশার শব্দ নেই।
এক…

আমি গাইবো বিজয়েরই গান...

মানুষের মানসিক গঠনটাই আসলে এরকম, বিশেষ করে অপরাধী মন যাদের। নিজের অপরাধ ঢাকবার জন্যে আপন মনেই নিজেকে প্রবোধ দেয়, নিজের কৃতকর্মকে অস্বীকার করে। একটা পর্যায়ে এসে ঐ প্রবোধটাই বিশ্বাস বনে যায় আপনাতেই।
জামাতে ইসলামী নামে ঘৃণ্যতম রাজনৈতিক দলটির কুখ্যাত নেতা, একাত্তরের স্বীকৃত রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদ ঠিক এরকম কোন বিশ্বাস থেকেই মন্তব্য করেছিলো, ' বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।'
কতখানি ঔদ্ধত্য পেয়ে বসলে মানুষ এরকম বলতে পারে এটুকু কল্পনার কোন অবকাশ আর নেই এখন। ঠিক যেন আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার জন্মকে, আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মতন তীব্রতর জ্বালা ধরানো কোন অনুভূতির জন্ম হয় মনে এই কথা শুনে।
জামাতী নেতা ও তাদের সমর্থকদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টার কোন কমতি ছিলো না এতদিন। কিন্তু এরকম করে পুরো ইতিহাসকে অস্বীকার করার মতন স্পর্ধা এর আগে দেখা যায় নি।
মুজাহিদের বক্তব্য নিয়ে পুরো দেশে যখন আলোড়ন হচ্ছে, তখন পর্দায় হাজির হলেন আরেক গোপাল ভাঁড়, জনান শাহ আব্দুল হান্নান। ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে পরিচিত, কিন্তু জামাতে ইসলামীর অনুগত পরামর্শক হিসেবে নিজের জায়গা করেছেন অনেক আগেই।
একুশে টিভির এক টক শোতে …

বাতের ব্যথা

কোন একটা অসুখকে আগে বড়লোকদের অসুখ বলে জানতাম, কী যে সেটা, ভুলে গেছি। যেমন জানতাম 'বাতের ব্যথা' হলো খাস গরিবী অসুখ।
অসুখের খোঁজ খবর নিচ্ছি, তার একটা অগভীর কারণ আছে। ইদানীং কিছুই লেখা হচ্ছে না। দু'তিনটে গল্প সিনেমার মত করে অনবরত মাথার ভেতর পুনঃপ্রচারিত হয়ে চলছে। বিচ্ছিন্ন কিছু কিছু কবিতার লাইন মাথার ভেতর কাঠঠোকরার মতন ঠোকর মেরে মেরে যায়। মুশকিল হলো, এগুলোকে খাতার ভেতরে স্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলাটাই হচ্ছে না।
এইরকম একটা অবস্থাকে বড়লোক লেখকেরা বলেন 'রাইটারস ব্লক'। কিন্তু এই শব্দ আমার বেলায় খাটবে না, আমি তো আর বড়লোক লেখক নই। আমি হলাম হত-দরিদ্র কলমবাজ। এখন তাই আমাকে কলম্বাসের মতই রাইটার্স ব্লকের সমার্থক বাতের ব্যথা জাতীয় নতুন কোন গরিবী শব্দ আবিষ্কার করতে হবে।
কি মুশকিল!

প্রিয় সেগুন বাগান

খুব সিরিয়াসলি সত্যজিৎ রায় হতে চাইবার আগে আমি তারচেয়ে সিরিয়াসলি হতে চেয়েছি ম্যাকগাইভার কিংবা মিঠুন চক্রবর্তী। এই দুইয়ের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বন্ধুদের নিয়ে গোয়েন্দা দল বানিয়ে আমি প্রায় হয়েই গিয়েছিলাম কিশোর পাশা। গোয়েন্দা রাজু খুব বেশিদিন আমার সহচর ছিলো না। কাকাবাবু বা ফেলুদা পড়েছি, তবে হতে চাই নি কোনদিন। এখন এই আধাযুবক বয়সেও ছেলেবেলার যে হিরোর আবেদন একটুও কমেনি আমার কাছে, সেই দুর্দান্ত ছোকরার নাম 'মাসুদ রানা'। হু, ইনি তিনিই, যে 'টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না।'
এইরকম স্বার্থপর একটা বর্ণনাই বোধকরি আমাদের মাসুদ রানার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিলো। আরো অনেক কারণও ছিলো। সদ্য কিশোর তখন আমরা, এরকম একটা সময়ে প্রতিবার বিপদে পড়া বাংলাদেশকে বাঁচাতে, অথবা কোন বন্ধুরাষ্ট্রকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে যখন কাঁচা পাকা ভুরুর মেজর জেনারেল রাহাত খান অফিসে ডেকে পাঠাতেন মাসুদ রানা-কে, আমরা সেই সময় আরো একটি চমৎকার স্পাই থ্রিলারের আশায় বসের সামনে বসা মাসুদ রানার কানের পাশে সমানে ফিসফিস করে বলে যেতাম, 'রাজি হয়ে যা ব্যাটা, রাজি হয়ে যা।'
সোহানা চৌধুরির আদুরে ভালোবাসার লোভ ছিলো হামেশাই। সে…

ডাম্পিং: যদি সুখী হতে চান-

ডাম্প অথবা ডাম্পিং শব্দটা আগেও জানা ছিল বটে, তবে ঠিকঠাক চেনা ছিলো না।
পুরোনো কাপড় চোপড় জমে গেলে বাসা থেকে খানিকদুরে সরকারের বেঁধে দেয়া জায়গায় গিয়ে ফেলে দিয়ে আসি। এই দেশে ইহাকেই ডাম্পিং বলে। তালিকায় আরো থাকে পুরোনো টেলিভিশান, ফ্রীজ, মাইক্রোওয়েভ, বাইসাইকেল থেকে শুরু করে আরো নানান হাবিজাবি। মোটের ওপর, যে কোন অবাঞ্চিত যন্ত্রণা থেকে সহজেই মুক্তি দেয় এই ডাম্পিং।

এই তালিকার সর্বশেষ সংযোজন দেখে অনেকটা চমকে উঠেছিলাম অল্প কিছুদিন আগে। ঘটনা বেশ গুরুতর।
মা দিবসের ভোরবেলায় মেলবোর্ণ হাসপাতালের বাইরে কোন এক মা তার সদ্যোজাত শিশুকে বাক্সের ভেতরে কাপড়ে মুড়ে ফেলে রেখে চলে যান। বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে এই সব সহজলভ্য খবরে চমকানোটা আমাদের জন্যে রীতিমতন লজ্জার বিষয়। তবু যে চমকালাম, তার কারণ পত্রিকার ভাষা। সরল ইংরেজীতে তারা হেডলাইন করেছে, " বেবী ডাম্পড অন মাদার্স ডে"
ও হরি, জলজ্যান্ত মানুষের বাচ্চাও যে 'ডাম্প' করা যায়, এটা জানা ছিলো না!

এই লেখাটা এখন পর্যন্ত হাল্কা চালে লিখে যেতে পারছি, তার কারণ, এই ঘটনার শেষটা মধুরেণ সমাপয়েত।
নিজের আগ্রহেই পরের কিছুদিন পত্রিকা ঘেঁটেছি, ক্যাথেরিন নামের এই ছোট্…

প্রতিবাদ জানাই-

প্রতিবাদের সঠিক ভাষা জানা নেই, ঠিক কোন দরজায় ঠক ঠকালে ঠিক জায়গায় আমার কণ্ঠস্বর পৌঁছাবে জানি না, তবু তীব্র প্রতিবাদ জানাই বিশ বছর বয়েসী কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমানকে গ্রেপ্তারের!
সেই সাথে তীব্র ঘৃণা বরাদ্দ রইলো প্রথম আলো নামের পত্রিকার ও তার সম্পাদক মতিউর রহমানের প্রতি। নিজেদের গা বাঁচানোর তাগিদে যারা সত্য প্রকাশের দায়িত্বজ্ঞানকে কাঁচকলা দেখালো।
আর করুণা রইলো এক দূর্ভাগা দেশের অপরিপক্ক সরকারের জন্যেও।
বড় হও দাদাঠাকুর!

পৌনঃপুনিক

প্রায়শই গা ঝাড়া দিয়ে উঠে ভাবি, নাহ, আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব।
তারপর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে দিন শুরু করি। বেলা বাড়তে থাকতে, সূর্য্যের আগে আগে আমি ছুটে চলি নানা কাজে। ওপেনটি বাইস্কোপ, নাইন টেন ..., নাকি নাইন ইলাভেন এখন? সে যাকগে, চুলটানা বিবিয়ানা, আর আমার বৈঠকখানা রংবেরঙের বায়োস্কোপে ভরে ওঠে। তার থেকে বেছে বেছে কিছু নিয়ে আমি রংধনু বানাই।
পৃথিবী তার আহ্নিক সারে। আমি মাঝামাঝি ক্লান্ত হয়ে এবং অনেকই রেগে মেগে লাগাম টেনে ধরি। ওরে বুবু সরে দাঁড়া, আসছে আমার পাগলা ঘোড়া।
আমি বাড়ি ফিরবার অনেক আগেই দেখি সূর্য্য বাড়ি ফিরে গেছে, সারাদিনের শোধ তুলে নিয়ে অট্টহাসি দেয় যেন। তো দিক না! সেই তো আন-বাড়িতে ডিউটি তার এখন। আমার মতন সুখ সুখ সুখ কই পাবে সে?
তো, সুখী হই, হয়ে আমি জাল টেনে বসি। আনাচে কানাচে কত আঁকাআঁকি, কত লেখাজোকা- সবগুলোর ভাঁজ খুলে খুলে রঙে ভেসে যাই, ডুবে ডুবে যাই।
আর ডুবতে ডুবতে চোখ বুজে ভাবি, নাহ, কাল থেকে প্রতিদিন অন্তত এক পাতা হলেও কিছু লিখব।

আমি আগের ঠিকানায় নেই-

কুনোব্যাঙ আর আমি আগের জন্মে নির্ঘাৎ মামাতো ভাই ছিলাম।
আমার ঘরকুনো স্বভাবটা যারা জানে, তারা সেটা একবাক্যে স্বীকার করবে। একটা ঘর পেলে তার কোনাকানিতে জীবন কাটিয়ে দিতে পারি আমি, কিন্তু কি আশ্চর্য, কোন খুঁজে নেবার ঘরটাকেই পালটাতে হয় আমাকে বারবার।
সম্প্রতি আমার আবারো ঠিকানা পাল্টেছে। এবারের পালটানো, আগেরগুলোর মত বিষাদময় নয়। তেপান্তরের চেয়েও লম্বা সাগর পাড়ি দিয়ে বউ এসেছে আমার কাছে। দুই রূমের ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে বাসা বেঁধেছি আমরা। প্রতিদিন দু'হাত ভরে সংসারের যাবতীয় সামগ্রী কিনে বাড়ি ফিরি, ভাবি এই বোধহয় শেষ, আর কিছুই কেনা বাকি নেই। পরদিন আবার বাজারে যাই, দুয়ে দুয়ে চার হাত ভরে যায়, তবু পরের দিনের স্বপ্ন কেনা বাকি থেকে যায়।

বাড়ির সাথে সাথে, আধুনিক নাগরিকের মতন পাল্টেছে আমার ফোন নাম্বার। আর..., আর পাল্টেছে, আইপি এড্রেস। এটুকু পাল্টাতে অবশ্য একটু সময় লেগে গেল। আজকে বাসায় নেট-এর সংযোগ লাগার সাথে সাথেই টের পেলাম, আমার এই নতুন ঘরেও একটা ছোট্ট সুন্দর কোনা রয়েছে।
পূর্বজন্মের সেই মামাতো ভাইয়ের মতন আজ থেকে আমিও তবে ঘরকুনো হয়ে যাবো!


মননে কবিতার আনাগোণা-

মাঝে মাঝে ভাবি, ভাগ্যিস, মানসিক পরিপক্কতা আসার পরে বিনয় মজুমদারের কবিতার সাথে পরিচয় হয়েছে। নইলে নির্ঘাৎ খুব খারাপ হোত। যেরকম হয়েছে সুধীন দত্তের বেলায়। সেই বালক বয়সেই কি মনে করে যে পড়েছিলাম একবার, ঠিকঠাক মাথায় বসে নি, এবং তারপরে আজ অবদি আমি সুধীন দত্ত পড়ে উঠতে পারি নি। বিনয় মজুমদারের বেলায় এরকমটা হলে আরো বেশি দুঃখ পেতাম, কত দুরন্ত সব কবিতা আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেত!

ঠিক সময়ে ঠিক জিনিসটা পড়ার প্রয়োজন সাংঘাতিক। আমি অবশ্য অনেক ক্ষেত্রেই এরকম কোন সিঁড়ি মানি নি, সারাটাজীবনই উই পোকার মতন পড়ে গেছি, এলেবেলে, যা কিছু হাতে পাই। এবং এই সত্যটা ভেবে পরে মনে হয়, এরকম ওলোটপালোটের পরেও মনের ভেতরে কেমন করে জানি সত্যিই একটা সিঁড়ি ডিংগানোর মতন ব্যাপার আপনা থেকেই দাঁড়িয়ে গেছে।
গানের ব্যাপারে এই কথাটা আমার বারংবারই মনে হয়, বিশেষত নজরুল গীতির বেলায়। বাবা শুনতেন, আমি বরাবরই এড়িয়ে যেতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন যখন কি মনে করে শুনতে শুরু করলাম নজরুল, এবং অবধারিত ভাবেই টের পেলাম এর কাছে টাকিলার নেশাও কিছুই নয়। হু, এমনকি লেবু-লবণ ছাড়াই! এবং আমার তাই দৃঢ মনে হয়, নজরুল মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের গীতিকার।

কথায় কথা বাড়ে।…

টুকরো টাকরা

আমার সহকর্মী, বেশ ভালমতন বাচ্চা একটা ছেলে। ইন্ডিয়ান, পাঞ্জাবী।
পঁচিশ পার হবার পর থেকে নিজেকে বুড়ো ভাবা শুরু করেছি, তার ওপারের যে কাউকেই বাচ্চা মনে হয়!
কাল ওর গার্লফ্রেন্ডের গল্প করছিলো আমার সাথে।
স্প্যানিশ মেয়ে, খুব নাকি ভালো, অনেক কেয়ার করে। ওর বাবা-মারও নাকি খুব পছন্দ। ভারতীয় কালচার ধরে ফেলছে খুব দ্রুত।
ছেলেটার আলোমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে ভালো লাগলো। স্বপ্নালু চোখ, গার্লফ্রেন্ডের সাথে একটা বাড়ি শেয়ার করছে, কত কত সুবিধা সেখানে জানালো আমাকে। আমিও মজা পেলাম।

হঠাৎ কি মনে হতেই আমাকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার গার্লফ্রেন্ড নেই? আমি হাসতে হাসতে দু'পাশে মাথা নাড়ালাম, না, নেই।
একটু মনে হয় দুঃখ পেল সে। মনে হলো, হয়ত স্বান্তনাসুচকই হবে, কিছু একটা বলতে যাবে, আমি থামিয়ে দিলাম। তারপর হেসে বললাম, ... বাট, আই হ্যাভ আ ওয়াইফ, নো ওয়ারিজ!


ঢেঁকি

ছবি
শেল-এর সার্ভিস স্টেশানে পার্টটাইম জব করি।
সেদিন গিয়ে, রাতে, কাউন্টারে দাঁড়াতেই খুব ব্যস্ত হয়ে গেলাম। পরিচিত এক ক্রেতা এসে নিয়ম-মাফিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরেই জিজ্ঞেস করলো, আজকে ডাকাত আসে নি তো? কুশল জিজ্ঞাসার এই পর্বগুলোর সাথে এখন পরিচিত আমি, হেসে বলি, না, এখনো নয়।

একজন, দুইজন, তিনজন। চতুর্থ ক্রেতা একই ভাবে ডাকাতের কথা বলায় আমি ভাবলাম, কোথাও নির্ঘাৎ গন্ডগোল আছে। বললাম, আজ সবাই ডাকাতের কথা জিজ্ঞেস করছো কেন বলো তো?
ও অবাক! তুমি জানো না?
জানলাম। দু'দিন আগে, রাতে, এখানে ডাকাতি হয়ে গেছে! বিশাল একটা কিচেন-চাক্কু নিয়ে এসে ক্যাশ টাকা নিয়ে গেছে ডাকাত।

নির্ঘাৎ ড্রাগি বা জাংকিজ-গুলো হবে। তবু স্টোরে একা হতেই খানিকটা ভয়-ভয় করলো। ডায়রি খুলে দেখি, কোথাও ডাকাতির উল্লেখও নেই! কি আশ্চর্য, কেউ আমাকে কিছু জানালো না কেন?
বিশাল রেগে মেগে ডায়রিতে বড়সড় একটা নোট রাখবো, ভাবতেই ভাবতেই ম্যানেজার ফোন করলো। এ কথা সে কথার পরে বললো, ডাকাতির কথা। আমাকে সাহস জোগালো। আমি বললাম, ঠিকাছে। আমি ভীত নই।

শেষমেষ এলো আসল কথায়।
যে ছেলেটা ছিলো ডাকাতির দিন, ও নাকি একটু ডিপ্রেশানে ভুগছে, কাজ করতে পারবে না কিছুদিন, আমি যদি ওর শিফটগুলো কর…

লেয়ার কেইক

ছবি
২০০৪ এ বের হওয়া মুভি 'লেয়ার কেইক', এতদিনেও দেখি নি। অবশ্য আমি একাই নাকি আমার সাথে পুরো পৃথিবীবাসী, এই তর্কে ইচ্ছে করলেই খানিকটা সময় খরচ করা যায়। কারণ- নতুন বন্ড ক্যাসিনো রয়াল বের হবার আগে ড্যানিয়েল ক্রেইগের এই মুভিটি ভিডিও ক্লাবের কোন শেলফের শোভাও বাড়াচ্ছিলো না।
দেখে ভাল লাগলো। ক্রেইগের নাম নেই এই ছবিতে, মানে আছে আর কি একটা, মিষ্টার এক্স। ড্রাগ ডিলার, বড় মাপের। এ ধরণের ছবিগুলোকে কি ধরনের জেনরে ফেলে? খুঁজে দেখি, তিনটা কথা বলা আছে। ক্রাইম, ড্রামা, থ্রিলার। নতুন কোন শব্দের আসলেই প্রয়োজন নেই। বরং এই তিনটেই কোনটা কাকে ফেলে টপকে গেছে সেটা বরং চিন্তার বিষয় হতে পারে।
দেখতে দেখতে আমার আরো একটা সিনেমার কথা মনে হচ্ছিলো, লর্ড অব ওয়ার, নিকোলাস কেইজের। ওখানে কেইজ থাকে আর্মস ডিলার। দু'টি সিনেমার মধ্যে আরেকটা বিষয়ে খুব মিল, দুর্দান্ত সব ডায়লগ দুটাতেই।

ক্রেইগের আরো খানিকটা ভক্ত হলাম। সেই সাথে দু'টা নাম মুখস্থ করে নিলাম, ম্যাথু ভন, আর এন্ড্রু নিকোল। দুই পরিচালকের। এদের আরো ছবি পেলে দেখতে হবে!

মন খারাপের দিন-

কদিন ধরে তুমুল বৃষ্টি। সারাদিন আকাশ জুড়ে মেঘ, মেলবোর্ণের মুখ কালো, নাকি মন খারাপ?
জানি না ঠিক। তবে এরকম অবিরাম টানা বৃষ্টি এই শহরে খুব বেশি দেখি নি আমি।

একটা টিনের চালা পেলে খুব ভাল হোত, তারউপরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়লে শোনা যেত ঝমঝম ঝম। দিনে রাতে, একদম সমান ঠান্ডা। চারপাশের সব ভুলে গিয়ে গায়ে কম্বল টেনে শুয়ে থাকি। সব কি ভুলে থাকা যায়? যেতে পারলে বেশ হতো। এই রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, এই শহর, শহরের মানুষ, মানুষেদের সাথে আমার বন্ধুতা, আমি সব কিছু ভুলে থাকতে চাই, অন্তত, অল্প ক'টা দিন।

নাহ, আকাশের মন খারাপ, তাতে কি? আমার মন খারাপ নয়।
আমি চিরসুখী মানুষ, আমার কখনো মন খারাপ হতে নেই।

নতুন বন্ড

ছবি
ক্যাসিনো রয়াল দেখা শুরু করার সময় চোখ মুখ শক্ত করে বসেছিলাম।
ব্রসন্যানকে রিপ্লেস করছে যেই ব্যাটা, তাকে কিছুতেই ভাল লাগা চলবে না, মোটামুটি এইরকম মারদাঙ্গা টাইপ ছিলো আমার মনোভাব। পিয়ার্স ব্রসন্যানের পরে অনেকেই শ্যন কনারিকে সবচেয়ে মানানসই বন্ড বলে থাকেন। আমার কিন্তু বুড়া কনারিকেই বেশি স্মার্ট লাগে, বন্ড কনারির চেয়ে। তার চেয়ে বরং রজার মুর অনেক বেশি 'ঠিকাছে'।

তো, সিনেমা শুরুর পর থেকে দেখি আমার মন খানিকটা গলতে শুরু করেছে। তারপর ছবির মাঝামাঝি এসে টের পাই, ড্যানিয়েল ক্রেইগকে আর ততটা 'খারাপ লাগছে না'। এবং আরো কিছুক্ষণ পর যখন গুন্ডাদের মার টার খেয়ে নায়কসাহেব রীতিমতন নাস্তানাবুদ, এবং এতক্ষণের পারফরমেন্সের কল্যাণে তিনি অতিমানবদের কাতার থেকে সরে এসে আমাদেরই চেনা জানা পাশের বাড়ির মাসুদ রানার পর্যায়ে এলেন, সেই মুহুর্তগুলোয়, খুব আরামপ্রদ একটা অনুভূতি হল মনে, আর মনে হল, এই বেড়াল চোখা পাথুরে চেহারার শক্ত-পোক্ত ক্রেইগের মুখেই আসলে মানায় সেই চিরন্তন সংলাপ- মাই নেম'জ বন্ড। জেমস বন্ড।

ক্যাসিনো রয়্যালের জটিলস্য প্লট এবং মাঝে মাঝেই ধীর গতির কারণে খানিকটা উশখুশের পরেও এই মনুষ্য-বন্ডকে দেখে অন্…

পৃথিবী কিন্তু তত বড় নয়!

আজকের তাজা খবর!
মাত্র পাঁচ বছর আগেও যেমনটা ভাবা হয়েছিলো, পৃথিবী কিন্তু সত্যি সত্যি ততটা বড় নয়।
আজকের পত্রিকায় পড়লাম, বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডক্টর এক্সেল নথনাজেল বের করেছেন, আসলে যতটা ভাবা হয়, পৃথিবীর ব্যাস তারচেয়ে পাক্কা ৫ মিলিমিটার কম! ভাবা যায়!

এইটুকু পড়ে আমি অবশ্য হেসে ফেলেছিলাম। কেউ কেউ শুনে হাসবে, এরকমটা বোধহয় ডক্টর এক্সেল আগেই অনুমান করেছিলেন। আমার মতন অকালকুষ্মান্ডদের জন্যে তিনি তাই বলে রেখেছেন, যতটা খেলো মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা আসলে তত সহজ নয়। একদম সঠিক মাপ জানার দরকার ছিলো আমাদের, বিশেষ করে আবহাওয়া সংক্রান্ত খোঁজখবর দেয় যেসব উপগ্রহগুলো, তাদের সঠিক পজিশনিং-এর জন্যে।

গুরুত্ব বুঝে টুঝে আমি অবশ্য খানিকটা গম্ভীর ভাব ধরে আছি। তবে সমস্যা হলো, থেকে থেকেই খিক খিক করে হাসি পাচ্ছে!
কি মুশকিল!

চাঁদে বাঁধি ঘর

চাঁদে জমি বিক্রি হয়, জানতাম। কিন্তু এর চেয়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু আছে বলে জানি না। অথবা, অনেকের প্রয়োজন থাকতেও পারে, কিন্তু আমি জাস্ট- নট ইন্টারেস্টেড!
একই অনুভূতি- ওয়েবস্পেসের ব্যাপারেও। চাঁদের জমির মতন এই জিনিসেরও আমার আসলে কোন প্রয়োজন ছিল না। ব্লগস্পট নিয়েই আমি পূর্ণমাত্রায় খুশি। গুগল মহাশয় দিন দিন ওটাকে আরো বেশি নতুনত্ব এনে দিচ্ছে, আমার মতন সাদাসিধে ব্লগারদের জন্যে এইই যথেষ্ঠ।
কিন্তু কেউ যদি আমাকে চাঁদে একখন্ড জমি কিনে দেয়? তবে? ওখানে বাড়ি বানানোর একটা দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করতে আর বাঁধা কোথায়?
ঘুরেফিরে তাই হলো। আমরা গোটা আষ্টেক বাল্যবন্ধু। একই শহরে হুটোপুটি করতে করতে বেড়ে উঠেছি, সময়ের প্রয়োজনে এখন পৃথিবীর নানা প্রান্তে গিয়ে বাসা বেঁধেছি। সবাইকে এক জায়গায় আনবার জন্যে একেবারেই নিজেদের একটা 'প্রাইভেট' ফোরাম নিয়ে জল্পনা অনেকদিনের। ঠিক কোনটা যে সেট করবো বুঝছিলাম না। পানবিবি, পিহেইচপিবিবি, ওয়ার্ডপ্রেস এইসব ঘুরে ঘুরে শেষমেষ মন ঠিক করে ফেলেছিলাম, জুমলা দিয়েই বানিয়ে ফেলবো ফোরাম।
ঠিক তখুনি অরূপদা সচলায়তন বানালেন ড্রুপাল দিয়ে।
এই জিনিস এতদিন আমার চোখে পড়ে নি! এখন দেখি, এরকম দারূন কাজের জিনিস আর …

নোটিশ বা ঐ ধরণের কিছু একটা-

ছবি
অনেকে অল্প স্বল্প জানতে চাইছেন, সামহোয়্যার ইনে কেন এখন ব্লগাই না।
তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই, তেমন কোন বড় সড় কারণ নেই।
এর আগেও মাঝে সাঝেই ওখান থেকে ব্রেক নিয়েছি, কোনটাই যদিও এবারের মতন দীর্ঘ ছিল না।
এই মুহুর্তে সামহোয়্যারে কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না, এটাই মূল কারণ।
ইচ্ছেটা ফিরে এলে আমিও আবার লিখতে শুরু করবো হয়তো।

তার আগ পর্যন্ত ব্লগস্পট, আর সচলায়তন নিয়ে- এই বেশ ভাল আছি।

প্যারিস হিলটন আর আমাদের রাজনীতিবিদেরা-

শেষমেষ প্যারিস হিলটন জেলে গেলো। যাবার আগে সানডে হেরাল্ডের পুরো পাতা জুড়ে নিজের কান্না ভরা মুখ উপহার দিয়ে গেলো।
কদিন ধরেই এই নিয়ে অনেক গালগল্প পড়লাম। আমি প্রতিদিন পড়তাম আর ভাবতাম, এই সব মিডিয়া পারেও বটে। যে কোন পর্যায়েই রীতিমত বখে যাওয়া এক মেয়ে, শুধু মাত্র সেলিব্রেটি হবার কারণে কি কাভারেজটাই না পেলো! হানিমুনে নয়, শ্বশুর বাড়িও নয়, যাচ্ছে কোথায়? জেলে! তাই নিয়েও কত কাহিনী। প্রতিদিন গাদা গাদা রিপোর্ট, পত্রিকার তরফ থেকেই চলল কাউন্ট ডাউন, প্যারিসের জেলে যাওয়ার আর এতদিন বাকি! মস্করা আর কি!!
আর সাথে ডিটেইলে বর্ণিত হলো - আজ প্যারিস এখানে চা, ওখানে কফি আর ঐযে ঐখানে হাওয়া খেতে গেলেন।
প্যারিসের প্রস্তুতিও দেখার মতই ছিলো। যাবার আগে কোন পার্লারে গিয়ে যেন বিদায়ী ফেসিয়াল করালেন।

যাগগে, আমরা বঙ্গদেশের ক্রিমিনাল শ্রেণীর মানুষ, এইরকম জেলে যাওয়া আমরা উঠতে বসতে কত দেখি! মুরগী মিলন, কানা লিটনদের পরে আমাদের ভূতপূর্ব রাজনীতিকগণ এখন লম্বা কিউ-এ দাঁড়িয়ে আছেন, কার পরে কে জেলে যাবেন এই অপেক্ষায়।
আমাদের মনেও মায়াদয়া কমে গেছে। বৈদেশী প্যারিসের জন্যে যাওবা দুস্কু দুস্কু একটা ভাব এলো মনে, কিন্তু স্বদেশীদের জন্যে কিছুই হলো…

দন্ত-কাহিনি

ছবি
মিষ্টিপ্রীতি আছে তীব্র রকমের। জিভ সামলাতে পারি না দেখলে,হাতও না। অবশ্য সামলানোর ইচ্ছেও মনের মধ্যে তেমন একটা জোরালো নয়।দেশে থাকার সময় ইচ্ছেমতন খেতাম। কুমিল্লা গেলেই মাতৃভান্ডারের রসমালাই আর জলযোগের স্পঞ্জ নিয়ে বসে যেতাম বন্ধুরা গোল হয়ে, আয়েশ করে খেতাম। আমরা অবশ্য খাওয়া বলতাম না, বলতাম সাধনা করা।

তো যা হয়, পরবাসী হবার পরে সেই সাধনায় ব্যাঘাত ঘটলো। এখানে এসে টিন কেটে মিষ্টি খেতে জুত পাই না। তাই বলে খাওয়া কমেছে সেটাও ঠিক নয়। পেলেই খাই, এরকম অবস্থা। শুটকো পটকা অবস্থা থেকে দেহের হাল এখন এমন হয়েছে যে লোকে ইদানীং আমাকে দেখিয়ে উদাহরণ দেয়, 'আমি ভাই ঠিক আপনার মতন মোটা ছিলাম ক'দিন আগেও, ইদানীং শুকিয়েছি।'' নিজের পাশে বসে থাকা মর্তমান হিমালয়সম বউকে রেখে আমাকে দিয়ে মোটা মানুষের উদাহরণ কেন টানা, ভদ্রতার খাতিরে আমি এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাই। সে যাকগে। এই দুঃখের গল্প আরেকদিন।

তো যা বলছিলাম। মিষ্টি খাই, সাথে বেশি পাই না এই দুঃখে জাত-বেজাতের চকোলেটও সাবাড় করি নিয়মিত। এই করে করে দাঁতের তেরটা বেজে গেছে আমার। আজ সকালে মাজতে গিয়ে দেখি কমপক্ষে তিনটা দাঁতের গোড়া ফাঁকা হয়ে গেছে, একটার অর্ধেক নেই। এভাবে চল…

তারেক মাসুদ-এর অন্তর্যাত্রা

ছবি
এখানকার বাংলাদেশী দোকান থেকে অনেকদিন আগেই কিনে এনেছিলাম সিডি-টা। কিন্তু এতদিন সময় করে উঠতে পারি নি। অবশেষে গত পরশু দেখে ফেললাম তারেক মাসুদ-এর অন্তর্যাত্রা।

সিনেমার শুরুতে যখন এ ছবির ইংরেজী নাম দেখালো 'হোমল্যান্ড'- অর্থটা বুঝি নি ভাল করে। কিন্তু পুরোটা দেখবার পরে মনে হলো, এর চেয়ে সুন্দর নাম আর হয় না।

গল্পটা অনেক সুন্দর। একদম সুলভ (নাকি সহজলভ্য) কোন কাহিনি নয় এটা, তবে সেরকম অনেকগুলো কাহিনিকে জোড়া দিয়ে বানানো বলা চলে। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেছে এ ছবির পাত্র-পাত্রীরা। আমি সিলেটী ভালো বুঝি না, তারপরেও যখন কারো সংলাপ বুঝতেই কোন কষ্ট হয় নি, ভাবছিলাম, আসল সিলেটী কথাবার্তা এরকমই তো ? নাকি সিনেমার খাতিরে খানিকটা প্রমিতকরণ করা হয়েছে?

সিনেমাটা, এককথায়, সাবলীল নয়। দৃশ্যান্তরে যাবার সময়গুলোকে প্রায়শই জাম্প-কাট মনে হয়েছে। ঘড়ি দেখি নি, কিন্তু খুব বেশি লম্বা নয় বোধহয় দৈর্ঘ্যে, শেষ হতে তাই সময় লাগলো না বেশি। এবং হয়তো একারণেই শেষ হবার পর মনে হচ্ছিলো, শেষ করার তাড়াহুড়ায় ছিলেন না তো পরিচালক?

কোন চরিত্রই পূর্ণতা পাবার সুযোগ পায় নি যেন, এবং পুরো সিনেমার প্রতিটি চরিত্রের পেছনে যে নিজস্ব গল্প থাকে, ত…

জলদস্যুদের দেখে ফিরে-

ছবি
কি জানি, একদিন হয়তো লোকে জনি ডেপকেও ভুলে যাবে, কিন্তু মনে রাখবে ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো-কে। যারা রাখবে তাদের মধ্যে আমার নাম থাকবে এক নম্বরে, অথবা তারও আগে।

ক্যারিবিয়ান পাইরেটসদের তিন নম্বর পর্বটা দেখলাম, থিয়েটারে আসার দু'দিন বাদেই। এবং মুগ্ধ হলাম। টানা তিন পর্বে একই আমেজ বজার রাখা সহজ কথা নয়। ম্যাট্রিক্স পারে নি, টার্মিনেটরও ঝুলে গেছে, কিন্তু পাইরেটস অব দ্যা ক্যারিবিয়ান- অ্যাট ওয়ার্ল্ডস এন্ড, একেবারে হাই ডিস্টিংশান সহ পাশ!

এবারে কাহিনি জটিল হয়েছে অনেক। আগের গুলোর মত শুধু চোখ বুলিয়েই রস পাওয়া যাবে না। এবারে মাথা খাটাতে হয়েছে, মনটাকে আরেকটু বেশি মনোযোগী করতে হয়েছে।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও এতটুকু বোরিং লাগে নি। পাইরেট ম্যুভি হতে যা যা লাগে, সবই ছিলো এখানে। আগের পর্বে যেগুলো বাদ পড়েছিলো- যেমন- জাহাজে জাহাজে যুদ্ধ- এবারে সেগুলো এসেছে, এবং বলাই বাহুল্য, স্পেশাল ইফেক্টের কারিগরিতে সেগুলোও হয়েছে দেখবার মতন!

কিয়েরা নাইটলিকে এবারে আরেকটু মোহময়ী লেগেছে। সেরকম আবেদন আনার চেষ্টাও ছিল অবশ্য। ডেভি জোন্সএর প্রেমিকা ক্যালিপসো, এটা আবিষ্কার করে অবাক হয়েছি, এরকম সম্ভাবনার কথা একবারও মাথায় আসে নি!

চৌ…

হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ-

ছবি
এই গানটা কার লেখা মাঝে মাঝেই ভাবি। ভদ্রলোকের জীবন স্বার্থক! এক গান দিয়েই সারা পৃথিবীর সব মানুষের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন, আর কিছু না লিখলেও চলবে।
তিনি, মানে গীতিকার, মনে হচ্ছে বিজ্ঞাপনপ্রিয়ও নন। নইলে ''সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক''-এর আদলে ''সর্বাধিক গাওয়া গান'' বলে নিঃসন্দেহে বিজ্ঞাপন দেয়া যেত। বছরের ৩৬৫ দিনই পৃথিবীর কোথাও না কোথাও গাওয়া হচ্ছে এই গান। যেহেতু সব জায়গায় একসাথে রাত ১২ টা বাজে না, তারমানে প্রায় প্রতিটি বারোটা বাজার মুহুর্তেই এই গান গাচ্ছে কেউ না কেউ!
আরেকটা কথাও মনে হয়, সম্ভবত এই গানের কাছ থেকেই লিনাক্স বা অন্য ওপেন সফটওয়্যার উদ্ভাবকরা যে কোন কিছুই 'ওপেন' সোর্স করে দেবার আইডিয়া পেয়েছেন। যেমন দেখুন, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ দুইবার গেয়ে তারপরে যে গায় হ্যাপি বার্থ ডে টু ডিয়ার ড্যাশ ড্যাশ- এখানে ড্যাশের জায়গায় বাড্ডে বালক-বালিকাদের নাম বসিয়ে কি সুন্দর করেই না সবাই মনের খুশি মতন ব্যবহার করে! ওপেন সোর্সের এর চেয়ে ভাল উদাহরণ আর কে কোথায় পাবে বলেন?
তারপরে ধরুন গানের সুরটা...।
আচ্ছা, গান নিয়ে বেশি কথা বলে ফেলছি না কি? হুম, তাই তো মনে হচ্ছে। আচ্ছা, …

সহজ উপায়ে ইউনিকোড বশীকরণ-

১।
মাত্র মাসছয়েক আগেও কম্পুকে ইউনিকোড কম্পাটিবল করতে প্রচুর মারামারি করতে হোত৷ ব্যাপারটা একসময় সহজ হবে জানতাম, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হবে সেটা ভাবি নি৷ সেই জন্যে সবার আগে ওমিক্রোনল্যাবকে সেলাম জানাই৷

এখন মোটামুটি দু'তিনটে সহজ স্টেপেই কম্পুতে ইউনিকোড বাবাজিকে ধরে রাখা যায়৷

আপনি যদি উইন্ডোজ এক্সপি ইউজার হন, তাহলে ঝটপট নীচের লিংক থেকে 'কমপ্লেক্স' নামক সফটো টা নামিয়ে ফেলুন৷
লিংক= কমপ্লেক্স

ওটা ডেস্কটপে রেখে ডাবল ক্লিক করে ইন্সটল করে ফেলুন৷
কাজ শেষে কম্পু রিস্টার্ট হতে চাইবে, করে ফেলুন৷ নতুন করে যখন চালু হবে, তখন আপনার কম্পুতে ইউনিকোড বাসা বেঁধেছে!

২। এইবারে আসুন কেমন করে ইউনিকোডে লিখবেন৷
এখান থেকে নামিয়ে ফেলুন অভ্রো সফটো৷
এটা ইন্সটল করে লেখ শুরু করে দিতে পারেন৷ অভ্র-র যে মেনুবারটি দেখবেন, ওখানেই হেল্প সেকশান আছে, ওগুলোয় একটু খানি উঁকি ঝুকি দিলেই আর কোন সমস্যা থাকার কথা না৷

৩।
অভ্র ইন্সটলের সাথে সাথেই নিজে থেকে অনেকগুলো ইউনিকোড ফন্ট ইন্সটল হয়ে যায়৷
সেসব যদি কোন কারণে মনে না ধরে, তাহলে এখান থেকে পছন্দসই একটা ফন্ট খুঁজে নিতে পারেন ৷
ফন্টের ব্যাপারে এই মুহুর্তে সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট …

প্রিয় চট্টগ্রাম-

ছবি
ভূমিধ্বসের এরকম ভয়াবহতা নিজের চোখে দেখা হয় নি খুব বেশি।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের পত্রিকাগুলো পড়ছি না। আমার খুব প্রিয় শহর চট্টগ্রাম, তার সম্পর্কিত সব রকম খবরের কাছ থেকে পালাতে চাইছি ইচ্ছে করেই। তবু এর মাঝেই জানতে হলো আমাকে মৃতের সংখ্যা সর্বমোট ১০৮ জন।
১০৮ সংখ্যাটা আমাদের জন্যে একেবারেই বেশি কিছু নয়। হ্যা, এমনকি সেটা পাহাড় ধসে পড়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা হলেও!
আপাতত থেমেছে আশা করি। 'আরো এক বা দুজনের পরে সংখ্যাটা আর বাড়বেনা হু হু করে'। শান্তি খুঁজে নিতে এরকম ভাবনারই মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে এখন আমাকে।
ছবি খুঁজতে গিয়ে দেখি, ছোট্ট একটা তিন চার বছরের বাচ্চাকে মাটি খুঁড়ে তুলে আনা হচ্ছে। ভঙ্গিটা এরকম- গুটিশুটি মেরে মায়ের কোলে শুয়ে আছে যেন সে।
থাকুক শুয়ে, ছোট্ট বাবু। সেটাকে এখানে এই জনারন্যে টেনে এনে ওর ঘুম ভাঙ্গাতে ইচ্ছে করলো না আর।
ঘুমাক।



------------
১। ডোনেশানের জন্যে পে পাল একাউন্ট
২। আরো কিছু ছবি
৩। আরো লেখা

আইনস্টাইন কোট অব দ্য ডে-

ছবি
গুগলের হোমপেজের আইডিয়াটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে।
যদিও এরকমটা প্রথম শুরু করেছিলাম পেজফ্লেক্স দিয়ে, কিন্তু একইসাথে জিমেইল, অর্কুট, ব্লগস্পট, গুগলটক, গুগল-বুকমার্ক এবং সর্বশেষ গুগল-রিডার ব্যবহার শুরু করায় ওটা ছেড়ে দিলাম। এখন শর্টকাটের যুগ, এক লগইনে যদি সব হয়ে যায়, তাহলে কেই বা যাবে আরেকটা নতুন সাইট ওপেন করতে? তাছাড়া গুগলের প্রতি খানিকটা দূর্বলতা তো আছেই।
গুগলের হোমপেজে দারুন সব টুলস বসানো যাচ্ছে। আমি মোটামুটি মুগ্ধ সেসবে। প্রথম খেলনা পাওয়ার পর বাচ্চারা যেমন করে খেলে, আমি সেরকম করে সময় কাটাচ্ছি।
উপরের ছবিটা পেলাম 'আর্ট অব দ্য ডে' থেকে। একই পাতায় গ্যারফিল্ডের কার্টুন পড়তে পারছি, আছে ক্যালভিন ও হবস! আমি পাংখা!
অর্কুট বলছে, আজ আমি নতুন কিছু কাপড়চোপড় পেতে যাচ্ছি! যদিও তেমন কোন লক্ষণ নেই এখনো।
তবে সবচে' মজা পেয়েছি আজকের 'আইন্সটাইন কোট' পড়ে। বলছে- 'মানুষের প্রেমে পড়ার জন্যে মাধ্যাকর্ষন শক্তি দায়ী নয়!' হা হা হা!
জটিল! জয়তু গুগল!



লোপা এলেন, লোপা গেলেন-

ছবি
কিন্তু যাবার আগে জয় করতে পারলেন কি না, সেটা আমি বাদে অডিটরিয়মে উপস্থিত বাকি সব দর্শক শ্রোতারা জানেন।
আমি জানি না, কারণ বহু আগেই তিনি আমাকে জয় করে ফেলেছেন। অন্য সবাই যখন তাই ফুলগুলো বুকপকেটে লুকিয়ে এনেছিলো, যদি পছন্দ হয়, তবেই তাঁকে পরাবেন ভেবে, আমি তখন ঢাকঢোল সহ লাল গালিচা নিয়ে উপস্থিত সেখানে!
তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী, আমি অবাক থাকতে পারি নি শুনে। বাকি সবার সাথে তাই প্রায়শই চেঁচিয়ে উঠেছি, আরেকবার হবে, ওয়ান মোর!
তো গাইলেন লোপামুদ্রা, পুরো শরীর আর মন দিয়ে, আমিও দেখলাম তাঁকে, শুনলাম মাত্র পনের গজ সামনে বসে। পনের গজ অনেক দূর ভাবছেন নাকি? উঁহু, ভুলে যাবেন না, ক্রিকেট পিচের দৈর্ঘ্যও মিনিমাম বাইশ গজ। তারই দু'প্রান্তে দাঁড়িয়ে দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে কতই না আন্ডারস্ট্যান্ডিং! পনের তার চেয়ে কম হলো না?!?
মেলবোর্ণের মূল শহর থেকে দূরে, কোন একটা খটোমটো নামের অডিটরিয়ামে দাঁড়িয়ে, তিনি সর্বমোট বিশ বা বাইশটি গান গাইলেন। গানের পছন্দগুলো এলোমেলো ছিল না। সেটা বুঝলাম যখন দর্শকদের নিজস্ব পছন্দ জানবার পরেও তিনি পুরোটা সময়েই তাঁর মত করে নিজের সিরিয়ালেই গান গাইলেন। এর ফলে যেটা হলো, সারাক্ষণই একটা উত্তেজনা …

গলাগলি আর গালাগালি-

ছবি
গলাগলি আর গালাগালি।
না না। ইহারা দুই ভাতৃদ্বয় নহেন। সেরম কিছু হইবার সম্ভাবনা কস্মিনকালেও নাই, তবে এই নামে দুইখানা নৌকার স্যাংশান হইবে বলিয়া শুনিয়াছি।
বাজারে গিয়া দেখিলাম সেই নিমিত্তে জোরে শোরে বৃক্ষ কর্তন চলিতেছে। আমি সব দেখিয়া শুনিয়া খুঁজিয়া পাতিয়া তিনখানা জবরদস্ত পেরেক কিনিয়া আনিলাম।
দুইখানার যে কোন এক নৌকায় উঠিতেই হইবে, এমনটা আমার বোধ হইলো না। থাকুক তাহারা তাহাদের বৃহৎ তরণী লইয়া। আমি ক্ষুদ্র মনিষ্যি, কাহারো বোঝা বাড়াইতে চাহি না।
আমি তাই আরামসে পেরেক ঠুকিয়া ঠুকিয়া আমার পুরানা ডিঙিখানা বেশ অনেকখানি সময় লইয়া মেরামত করিলাম।
অতঃপর তাহাতেই চড়িয়া বসিয়া একেলা মাঝি নদী বাহিয়া যাই,
কেউ শুনে বা না শুনে বেসুরা গলায় দেশেরই গান গাই!

ব্লগের আবার জাত কীয়ের-

ছবি
কথাটা শুনতে ভাল শোনায়, কিন্তু বাস্তব তার উল্টা। সকল ব্লগ মূলত ভাই ভাই নয়। দুঃখজনক ভাবে ব্লগীয় উম্মাহ নামে কোন বৃত্তের অস্তিত্বও নেই, যার বাউন্ডারির ভেতরে 'সব ব্লগই সমান' স্লোগান নিয়ে ব্লগেরা বেঁচে থাকবে।
ব্লগের ভেতর খুব স্পষ্টভাবেই জাতপাত বিদ্যমান। ভাল ব্লগ বা খারাপ ব্লগ বলছি না। লেখার মানের উপর নির্ভর করে যে বিভাজন, সেটা হবেই, ভালো মানুষ বা খারাপ মানুষের মতন। আমি বলছি উঁচু জাতের ব্লগ, আর নীচু জাতের ব্লগের কথা, আশরাফ আর আতরাফ ব্লগ।
বাংলাদেশী ব্লগারদের কথা যদি ধরি, তাহলে সবচেয়ে উঁচু জাতের ব্লগার হলেন তারা যারা ইংলিশে ব্লগান। আন্তর্জাতিকতার বিবেচনা করলে অবশ্য ঠিকই আছে, সবচেয়ে বেশি ব্লগারদের কাছে পৌঁছবার জন্যে ইংলিশই ভালো। সুতরাং ইংরেজি ব্লগারদের জাত উঁচু হয়ে যাওয়াটায় কারো কোন হাত নেই। বাংলা ব্লগাররা তাই দূর থেকে ঈর্ষান্বিত চোখে তাদের দিকে তাকানো ছাড়া বেশি কিছু করতে পারবেন না।
জাত-পাত আছে বাংলা ব্লগগুলোর মধ্যেও।
এ ক্ষেত্রে উঁচু জাত হচ্ছে- যারা খানিকটা গম্ভীর বিষয়ে লিখেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি - এইসব ব্যাপারগুলো নিয়ে। অপেক্ষাকৃত মাঝারি জাতে পড়েন টেকনিক্যাল …

হেলাল হাফিজঃ বাইসাইকেল থিফঃ ভ্যালেরি এ টেইলর

ছবি
প্রায়শই নির্জনে বসে ভাবি, সম্ভবত আমার ভেতরে কোথাও নীরবে নিভৃতে একজন হেলাল হাফিজ বাস করেন। অথবা হয়তো আমার নয়, আমাদের সবারই, আমাদের মানে-, আমরা যারা কবিতা ভাবি, হয়ত বা লিখি না সবসময় কিন্তু কবিতায়ই বসবাস করি। সেই কবিতাজীবি আমাদের সবার ভেতরেই আছেন একজন হেলাল হাফিজ।
একজন প্রেমিক ও সৈনিক হেলাল হাফিজ, যিনি সভ্যতাকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করেন, 'অশ্লীল সভ্যতা, নিউট্রন বোমা বোঝ, মানুষ বোঝ না!' যিনি আমাদের কানে কানে মন্ত্র পড়ে শোনান, 'এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।' আবার তিনিই যখন হাতের পাঁচটি আঙুলকে নিরাশ্রয়ীর ছদ্মবেশ দিয়ে প্রিয়তমাকে স্পর্শ করার ষড়যন্ত্র করেন, আমরা পুলকিত হই। জলের আগুনে জ্বলে পুড়েন যিনি, সেই হেলাল হাফিজ যখন লিখেন-
'মানব জন্মের নামে হবে কলঙ্ক হবে
এরকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,
উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবো
আমার যৌবন দিয়ে এমন দুর্দিনে আজ
শুধু যদি নারীকে সাজাই। ''

-আমি তখন মুগ্ধ হয়ে পড়ি। প্রায় নিরুপদ্রব জীবনের কোন এক অবসর মুহূর্তে যখন আমি এ কবিতাটি পড়ি, মাথার ভেতরে কিছু ভাবনা কিলবিল করে ওঠে। ঠিক এমন করে জীবন পার করে দেয়াটা উচিৎ হচ্ছে কি…

যদি আপনি হন এ প্রজন্মেরই কেউ-

যদি হন আপনি, এ প্রজন্মেরই কেউ, আর প্রায় অবুঝ চেহারা নিয়ে যদি আপনি, প্রায়শই বলে ওঠেন-'' না তো, জন্মযুদ্ধ দেখি নি আমি, জানি না তো কি হয়েছিলো তখন; কে বা কারা, কি করেছিলো!''

আমরা- বোকাসোকা কিছু মানুষ-, যদি তখন, আদর করে গল্প শোনাই আপনাকে-, কেমন করে অনেক অনেক দিন ধরে আমাদের মায়েদের অশ্রু ভিজিয়েছিলো এ মাটি; অথবা, কেমন করে আমাদের ভাইয়েদের রক্তে এ সবুজ পতাকা হয়েছিলো লাল; কেমন করে তিরিশ লক্ষ বোকা মানুষ, মৃত্যুর বিনিময়ে এনে দিয়েছিলো স্বাধীনতা...।

সব দেখে এবং শুনে, এইবার, খানিকটা বুঝদার চেহারার আপনি যদি বলেন, ' হুমম, কিন্তু সংখ্যাটা যে শুনেছিলাম- তিন লক্ষ! আর মুজিব, হু হু, তিনি কিন্তু স্বাধীনতা চান নি, আপনারা জানেন না?''

অথবা, যদি বলে ওঠেন, ' গোলাম আযম- তিনি তো অপরাধী নন, আর রাজাকারেরা, ভেবে দেখুন, তারা তো নিজের দেশ ভাংতে চায় নি শুধু, ওরাইতো সাচ্চা দেশ প্রেমিক!''

আমরা- বোকাসোকা কিছু মানুষেরা-, একটুও না রেগে তখন, অনেকগুলো বধ্যভূমি খুঁজে, গুনে গুনে ... হয়ত আপনার হাতে তুলে এনে দিবো তিরিশ লক্ষ মৃতের তালিকা। হয়ত কোন সন্তানহারা মা, আপনাকে বলে যাবে হত্যাকারী অগণিত রাজ…

আজিকে বাহিরে শুধু ক্রন্দন-

ছবি
কদিন ধরেই এ শহরে তুমুল বৃষ্টি! দিন নেই রাত নেই সারাক্ষণ ঝুম ঝুম ঝুম।
দেশে হলে এর মাঝেই দৌড়ে নেমে যেতাম ভিজতে। কিন্তু এখানে, আমার ভাল লাগে না। দু'একবার যে চেষ্টা করি নি তা নয়। কিন্তু, দেশে যেমন, আকাশ থেকে একগাদা দূষিত রাসায়নিকের সাথে সাথে ভালোবাসাও ঝরে পড়ে বৃষ্টি হয়ে, এখানে একেবারেই তা নয়। উলটো কেমন গা বাঁচিয়ে চলতে ইচ্ছে করে আমার বৃষ্টি দেখলেই।

কিন্তু, সম্ভবত আমি বাদে, মেলবোর্ণের সবাই খুবই খুশি। মাত্র ক'দিন আগেই পত্রিকায় দেখলাম, রিজার্ভয়ারে পানির পরিমাণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সীমায় গিয়ে ঠেকেছে। কাঠা ফাটা রোদে কোন একটা চাষী জমির ছবি দিয়েছিলো তার সাথে, ঠিক যেন আশী বছরের কোন বুড়োর কুচকানো গালের চামড়া! দেখলেই শিউরে উঠতে হয়!
এ শহরের সবাই কিছুদিনের জন্যে তাই চাতক পাখীর সঙী হয়ে উঠেছিলো। সৌভাগ্যবান চাতক, এতগুলো মানুষের কল্যানে অবশেষে তারও অদৃষ্টে জল এলো!
এ কয়দিনের রিমঝিমের পরে আজকের পত্রিকায়তাই অন্যরকম ছবি! মাঠের মাঝে খেলছে ছোট্ট এক কৃষক কন্যা, তার বাবার সাথে। কি যে ভাল লাগলো দেখে!

মাঝের পাতায় আরেকটা ছোট্ট ছেলের ছবি ছাপা হয়েছে। রেইনকোট গায়ে হাসিমুখে খেলছে সে বৃষ্টিতে। প্রথম বৃষ্…

বিবাহনামা-

[ বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই পোষ্ট কেবলমাত্র বিবাহিতদের জন্যে। যুবক ও অবিবাহিত ভাইয়েরা শত হস্ত দূরে থাকুন। তবে... কথা আছে, সদ্য বিবাহিতরা পড়িতে পারেন। আপনাদের জন্যে জরুরী অবস্থা আপাতত শিথিল:-) ]

জানুয়ারির কোন এক রাত। সদ্য দেশ থেকে ফিরেছি, বিবাহ করে মোটামুটি যুদ্ধ জয়ী সেনাপতির মতন নূরানী হাসি সারাক্ষণ আমার চোখে মুখে। কারো সাথে দেখা হলেই খানিক কথাবার্তার পর পেটের মধ্যে ভুটভাট শুরু হয়ে যায়, কেবলই উশখুশ করতে থাকি কি করে নিজের বিয়ের গল্প বলা যায়। হাওয়া অনুকূল দেখলে শেষ মেষ গলা খাঁকারী দিয়ে বলেই ফেলি, ' তা শুনেছেন নাকি, কাহিনি তো একটা ঘটিয়ে ফেলেছি!' শ্রোতা তখন আগ্রহী হয়ে বলেন, তাই নাকি? কি করেছেন?
আমি তখন প্রসন্ন হাসি দিয়ে বলি, 'আর বইলেন না, বিয়ে করে ফেলছি!'
তারপরে শুরু হয় আমার প্যাচাল। এর আগে বহুবার বলে বলে আমি যেটাতে বিশাল দক্ষতা অর্জন করে বসে আছি। আমার সেই প্রাঞ্জল বর্ণনায় শ্রোতা মুগ্ধ হয়ে যান, আমিও গল্প শেষে আয়েসী ভঙ্গিতে একটা ঢেকুর তুলি।

তো, তেমনি একদিন, আলাপের কেউ নেই, তাই ইয়াহু চ্যাটে লগইন করে বসে আছি, এমন সময়ে অনলাইনে এলো আমার কলেজের এক বছরের জুনিয়ার এক ছোট ভাই। ও কানাডায় থা…

দূরালাপনী-

কাল কি জানি কি হলো, রাতে ঘুমুবার আগে খু-উ-ব মন কেমন করে উঠলো!
বালিশের তলায়, বিছানার নীচে- আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজি, কিন্তু কোথাও পেলাম না আমার কেন মন খারাপ!
বাইরের মাঠে, ঘাসের ডগার আড়ালেও খুঁজলাম অনেকক্ষণ। কি মুশকিল! সেখানেও নেই নেই নেই।
মুখ তুলে তাকাতেই দেখি ঘাসফড়িং, তাঁকে দেখে যেই না লুকাবো, ও মা, সে দেখি আমার দিকে চেয়ে ফিক ফিক হাসে! আমি তার ডানা ধার নিয়ে উড়ে উড়ে উড়ে সো-জা- মেঘের ওপরে! ওখান থেকে উঁকি দিয়ে দেখি, না তো, সেই নদীটার গায়েও লেখা নেই কেন আমার মন খারাপ।
এমনকি ওই বদমাশ পাহাড়টাও জানে না!
আমি ধ্যুত্তোরি বলে রাগ দেখালাম। তারপরে রংধনু বেয়ে নেমে এলাম ঘরের ভেতর। বিছানার কাছটায় এসে মনে পড়লো- আরে, চাঁদকে তো জিজ্ঞেস করি নি! জানালা খুলে যেই না ডাকতে যাবো, ওমনি ব্যাটা আমার ঘরে এসে হাজির। আর কি নির্লজ্জ! বসলো গিয়ে ঠিক তোর মাথার কাছটাতে। আমি চোখ রাঙিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে বলি, চুপ! শব্দ কোরো না! ঘুমাচ্ছে তো! তারপর জোছনার আলো সরিয়ে চাদরটা তোর গায়ে টেনে দিতে দিতে হঠাৎই মনে পড়লো, তাই তো! কাল যে তুই আমাকে গুড নাইট না বলেই ঘুমিয়ে গেলি!
আমার মন খারাপ হবে না বল?

রঙীন 'একটি ফুলে দুইটি ভ্রমর'-

ছবি
সোজা সাপ্টা কাহিনি। দুই নায়ক, এক নায়িকা। নায়কদের একজনের বাবা নিজে নিজে খুন হন, ঘটনাচক্রে সন্দেহ গিয়ে পড়ে মূল নায়কের উপর। এদিকে নায়ক নায়িকার মাঝখানে চলে আসে আরেক প্রায়-নায়িকা। আমাদের নায়ক লোকসম্মুখে চুমু খান সেই নবাগতা নায়িকাকে- তাও আবার অনেককাল আগে মূল নায়িকাকে যেই ইশটাইলে খান, ঠিক সেই ইশটাইলে। এই না দেখে নায়িকার অভিমান ভেঙে পড়ে। ওদিকে বাবার খুনী সন্দেহ করায় নায়কদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। কাহিনিতে চলে আসেন ভিলেন। সেই কিন্তু আবার ভালো মানুষ, পুরোপুরি ভিলেন না। মেয়ের চিকিৎসার খরচ তোলার জন্যে তিনি ভিলেনের রোল করছেন।
তো এইরকম গোলমালের মাঝখানে সিনেমার শেষপ্রান্ত হাজির হয়ে যায়। নায়িকাকে কিডন্যাপ করে ফেলে ভালো মানুষ-ভিলেন, আর সহযোগী ভিলেন। ওখানে তুমুল মারামারি, নিজেদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি ভেঙে দুই নায়ক 'বুকে বুক মিলিয়ে' যুদ্ধ করে ভিলেনদের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যায়ে ভিলেন ছুরি হাতে এগিয়ে আসে নায়ককে মারতে, আর বন্ধুকে বাঁচাতে সেই ছুরির সামনে পিঠ পেতে দেন অন্য নায়ক। লাভের মধ্যে লাভ- নায়িকার কোলে মাথা রেখে মৃত্যু হয় তাঁর। শেষমেষ নায়ক নায়িকার মিলন ঘটে। সিনেমারও শেষ হয়।
এতক্ষণের কাহিনি পড়ে যদি ভাবে…

রচনা রবীন্দ্রনাথ-

ছবি
বলা হয়, মানব মনের এমন কোন অনুভূতি নেই, যেটা নিয়ে তাঁর কোন কবিতা বা গান নেই। মানুষের মনের সব কথাই নাকি তিনি বলে ফেলেছেন।
এরকম একটা মানুষকে নিয়ে লেখা আমার সাধ্যের ভেতর নেই। এবং সত্যি বলতে কি- সেই চেষ্টার ধারে কাছেও আমি আজ যাবো না।
জীবনের নানা প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে নানা কথা ধার করে কাজ চালাই। আজ রবীন্দ্রজয়ন্তীতে তাঁকে রেহাই দেবার সুযোগ পেলাম। এবারে হাত পাতলাম সুনেত্রা ঘটকের কাছে। তাঁর লেখা 'রচনা রবীন্দ্রনাথ'- আমার মনের প্রায় সব কথাই বলা হয়েছে যেখানে। নির্দ্ধিধায় বলতে পারি- রবি ঠাকুরকে নিয়ে লেখা এর চেয়ে সুন্দর কোন কিছু আমি আজ অবদি পাই নি, , এবং আমার দৃঢ় ধারণা আর কখনো পাবোও না।
সৌভাগ্য এই যে, 'রচনা রবীন্দ্রনাথ'-এ কণ্ঠ দিয়েছেন আমার আরেকজন প্রিয় আবৃত্তিকার- শিমুল মুস্তাফা।
দুইয়ে মিলে আমি যতক্ষণই শুনতে থাকি- মুগ্ধতার সাগরে সারাক্ষণই ডুবি ভাসি।




rochona robindrona...

একটি আইটিঘটিত কল্পকাহিনি-

অবশ্য এরকমই হয়- জামাত যখন পত্রিকা বের করে, তার নাম দেয় 'সংগ্রাম'।
তাতে কারই বা কি আসে যায়? কাগজটা নরম নয় বলে এমনকি টয়লেট পেপার হিসেবেও তার ব্যবহার নেই। অথবা কে জানে, যাদের শক্ততেও চলে, তারা হয়ত রোল করে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখেন 'সংগ্রাম'।

বাজারে পর্ণ ম্যাগাজিনের অভাব নেই। কাউন্টারের তলদেশ থেকে সর্বদাই উঁকি দিতে থাকে রসময়ের চটি বই। তবু যদি এ শহরের প্রধানতম নটী ঘোষনা দেন, 'সতী নারীর কিসসা!' নামে গল্প লিখবেন তিনি, তবে অনেকেরই হয়তো জিভ লকলকিয়ে উঠবে। এটুকুই তো! বখে যাওয়া কিশোরেরা সেই তো সেটা হাতে নিয়ে বাথরুমেই ঢুকবে!

আমি ভাই বিবাহিত সদ্বংশীয় পুরুষ, আমার এসবে কাজ নেই। বাথরুমেও ঝুলে থাকে নরমানরম টয়লেট টিস্যু।

তবে হ্যাঁ, আমাদের পাড়ার ডাস্টবিন নিয়ে বড়ই চিন্তায় আছি। কাল রাতে কে যেন সেটা তুলে নিয়ে গেছে, সেই সাথে ঘোষনা দিয়ে গেছে ওটার আর কোন দরকার হবে না। এখন আইটির যুগ, লেখাপড়া থেকে বাজার সদাই সবকিছুই অনলাইন, তো ডাস্টবিনটাই বা বাকি থাকে কেন?
শুনলাম জোর গবেষনা চলছে। অনেক পয়সা ঢালা হচ্ছে তাতে, খুব শিঘ্রীই আপনারা মাউসে ক্লিক করেই পেয়ে যাবেন ঝকঝকে নতুন অনলাইন ডাস্টবিন!
অপেক্ষায় থাকুন!

----…

একজন জননীর জন্যে-

ছবি
''পঞ্চাশের দশকে আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, জাহানারা ইমাম তখন ঢাকা শহরের সুচিত্রা সেন। ''
আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এমন করেই তাঁর স্মৃতিচারণে জানিয়েছেন, জাহানারা ইমামকে প্রথম দেখে তিনি চমকে উঠে ভেবেছিলেন কোলকাতা থেকে এত দূরে, ঢাকায়, কি করে অবিকল একই রকম একজন সুচিত্রা সেন থাকতে পারে, যিনি পর্দার অলীক নায়িকা নন, বাস্তব মানুষ!
'৯৪ এ লেখা এই প্রবন্ধটি প্রায় এক যুগ বাদে প্রথমবারের মত পড়বার সময় আমি নিজেও চমকে উঠেছিলাম! বস্তুত, জাহানারা ইমামকে শহীদ জননী হিসেবেই জানি, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির প্রধান হিসেবে জানি- তিনি একজন সাধারণ মানবী নন, একজন অতিমানবী। ঠিক এরকম ভাবনাগুলোর সাথে সুচিত্রা সেন-এর ছবিটা মিলছিল না, সে কারণেই যখন তাঁরই সমবয়েসী ও সমকালীন সায়ীদ স্যারের লেখায় জানলাম, তৎকালীন যুব সমাজের কাছে তিনি ছিলেন ঢাকা শহরের সুচিত্রা সেন, এই প্রথমবারের মত অনেক কাঠিন্যের পেছনে তাঁর মানবী রূপটিও যেন সহসাই চোখে পড়লো।
অনেক রকমের স্মৃতিচারণের মাঝে এই নতুনত্বটুকু বেশ উপভোগ্য লাগলো।
----------------

এইট বা নাইনে পড়ি, কলেজ লাইব্রেরীর বাংলা বইয়ের শেলফের কোন এক কোনায় একটা বই সবসময়ে চোখে পড়তো,…