মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০০৬

বেহেশতে যাচ্ছি-




মনের মধ্যে কতরকমের হাউশ!
ম্যাকগাইভার দেইখা একসময় ভাবতাম, এই ব্যাটার মত বুদ্ধি না হইলে তো জীবনটাই বৃথা! বোম্বাই সিনেমা 'গুরু' দেইখা মোনাজাতে কইতাম, আল্লাহ , আমারে মিঠুনের মতন মারামারি শিখাইয়া দাও।
বেহেশতে যাওনের একটা খায়েশ মনের মধ্যে উঁকি ঝুকি মারে বহু আগে থেইকা। না না, জান্নাতুল ফিরদাউশ চাই না, ঠেলাঠেলি কইরা চামে চুমে কোন একটা ছোটখাট বেহেশতে জায়গা পাইলেই হইলো!
সাড়ে তিন বছর বয়েসে ইশকুলে ভর্তি হওনের পর একা একা জীবনেও কেলাশে যাইতাম না। আম্মু যাইতো লগে, আম্মুর আঙুল ধইরা বইসা বইসা কেলাশ করতাম।
সেভেনে ওঠার পর থেইকা ঘরছাড়া হইছি। শুনলাম বেহেশতে নাকি পরিবার নিয়া থাকার সু-বন্দোবস্ত আছে, সেইজন্যেও যাইতে সাধ হয়। মায়ের লগে থাকতে মন চায়।

কোন সিনেমায় জানি দেখছিলাম, শিল্পা শেঠি তাহার চিক্কন কোমর দুলাইয়া সঞ্জয়রে কয়, চল। সঞ্জয় জিগায়, কাহা? বেটি হাতে টান মাইরা চোখে নাচুনি দিয়া কয়, জান্নাত মে!
আহা!

অধম কনফু কহে, পূণ্যবানেরা শোনেন, শেষমেষ বেহেশতে যাইতাছি। টিকেট ফাইনাল, নভেম্বরে।
বাংলাদেশ ছাড়া এই মুহুর্তে আর কোন বেহেশত চিনি না!


-

টিভি দেখা

এই মুহুর্তে আমার প্রিয় চ্যানেল নিঃসন্দেহে ইউটিউব ডট কম
সার্চ দিলেই অগুনতি বাংলা নাটক সিনেমা চলে আসছে। দেখা যাচ্ছে মজার সব বিজ্ঞাপন বা মিউজিক ভিডিও।
লাবন্য প্রভার বেশ কিছু পর্ব দেখলাম। মোস্তফা ফারুকীর কয়েকটা নাটক, এবং সর্বশেষ দেখলাম হুমায়ুনের সিনেমা- নিরন্তর। সবই ফ্রিতে!

জাম্প টিভি নামের একটা সাইট ওয়েব এ টিভি দেখার ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে। নানা দেশের চ্যানেল আছে সেখানে। বাংলাদেশের চ্যানেল আছে তিনটি। চ্যানেল আই, আরটিভি, আর এনটিভি।
কাল এনটিভি-র জন্যে সাবস্ক্রাইব করে ফেললাম, মাঝে মাঝে নিউজ দেখা যাবে।

খুব একটা পয়সাও লাগে না। এমনিতে ১৫ ডলারের মত লাগে মাসে। তবে ওরা একটা সুযোগ দিচ্ছে, প্রথম মাসে লাগবে মাত্র দেড় ডলার!

ভালই তো!


রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০০৬

জেসমিন মানে কি জুঁই?


ছোটবেলায় কেউ যখন বাবার নাম জিজ্ঞেস করত, উত্তরে পুরো নাম বলতাম। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করত, আম্মুর নাম কি? খুব সিরিয়াস মুখ করে বলতাম,আম্মুর নাম হচ্ছে আম্মু।
এটাই তখন নিয়ম ছিল, বাসা থেকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল, কখনো আম্মুর নাম বলবে না। আম্মুর নাম বলতে হবে আম্মু।
কাল অনেকদিন পরে সেই কথা মনে পড়ে গেল।

বিকেলে বের হয়েছি, আমি আর আমার হাউসমেট, বাসা থেকে খানিকটা সামনে এগুতেই দেখি পিচ্চি একটা মেয়ে, দুই বা আড়াই হবে বয়েস, দু রাস্তার মাঝখানের আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁদছে!
ওখানে কারো দাঁড়িয়ে থাকার কথা না। পাশ দিয়ে ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। তারচেয়ে বড় কথা মেয়েটার আশপাশে কেউ নেই, এমনকি যতদূর দেখা যাচ্ছে, অভিভাবক টাইপের কাউকেই দেখছি না।
অগত্যা গাড়ি থামালাম। সন্দেহ হলো, সম্ভবত হারিয়ে গেছে।
কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই এই মহা কিউট মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতেই চোস্ত অজি উচ্চারণে বললো, আম্মুর কাছে যাব! বুঝলাম যা সন্দেহ করেছি তাই। হারিয়ে গেছে যেমন করেই হোক।
বললাম, আম্মু কোথায়, রাস্তার এক দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দিল। ওখানে কেউ নেই। বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করতেই আবারো সেই একই দিকে আঙ্গুল। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, বাসা কোথায় তোমাদের? আবারো আঙ্গুল সেই দিকে, আমি মনে মনে বলি, গেছি!
খানিক্ষন অপেক্ষা করব সিদ্ধান্ত নিলাম, কেউ যদি আসে খোঁজে। এর ফাঁকে টুকিটাকি কথা হলো, ততক্ষনে কান্না থেমেছে, নাম জিজ্ঞেস করতেই মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, জাসমিন। কঠিন মজা পেলাম। বারবার মায়ের খোঁজ করছিলো দেখে জিজ্ঞেস করলাম তোমার আম্মুর নাম কি?
জাসমিন বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে স্পষ্ট করে উচ্চারণ করলো, মাম্মি! এবারে হেসে ফেললাম।
বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে কি উত্তর পাব বুঝে গেছি ততক্ষণে, তবু একটা চান্স নিলাম। উত্তরে 'ড্যাডি' শুনে আর কিছু বললাম না।
কি আর করা, ইমার্জেন্সি নাম্বারে ডায়াল করলাম মোবাইল থেকেই। জিরো জিরো জিরো। কথা বললাম পুলিশের সাথে। ওরা বললো আসছে এখুনি।
খানিকটা পিছিয়ে বাসার সামনে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর ভাবছিলাম, বাংলা সিনেমাই ভাল, ছোট থাকতেই নায়ক নায়িকাকে একটা ফ্যামিলি সং শিখিয়ে দেয়া হয়, হারিয়ে গেলে পরে সেই গান গাইতে গাইতে বাবা-মাকে খুঁজে পায় তারা!
মিনিট পনের বাদে দেখি, রাস্তার অন্যপাশে এক ভদ্রলোক কোলে আরেকটা পিচ্চি নিয়ে বিমর্ষ মুখ করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, কি মনে হতেই কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি কাউকে খুঁজছো?
ওর বাচ্চাকে খুঁজছে শুনে নিয়ে এলাম সাথে করে।
পিতা-কন্যার মিলন হলো। ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে মনে মনে আমি কোন একটা বাংলা ছবির গান গেয়ে নিলাম।

ঘটনা হচ্ছে, পিচ্চির মা বের হয়েছে কোন একটা কাজে। বের হতে না হতেই এই পিচ্চি চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে দরজার লক খুলে দৌড়ে বের হয়ে এসেছে রাস্তায়।

খানিক পর পুলিশ মামুরাও এলো। কিছুক্ষণ থ্যাংকস আর নো ওয়ারিজ মাইট -এর পালা চললো। জাসমিনের বাবাকে কঠিন গলায় বলা হলো, দরজায় যেন ডেডলক লাগানো হয়। তারপর বিদায় নিয়ে যার যার রাস্তায় আমরা।

বেশ অনেকক্ষণ ধরে মজা লাগছিলো আপন মনেই! একদম বৈশিষ্ঠ্যহীন একটা দিন কাটাচ্ছিলাম, দিনটা সুন্দর হয়ে গেল।


ছবির পিচ্চিটাই জাসমিন। আমার হাউসমেটের তোলা ছবি, ফোনের ক্যামেরা দিয়ে।

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০০৬

মাতা-পুত্র


বলা হয়ে থাকে, নেসেসিটি আর ইনভেনশান - এর সম্পর্ক নাকি মাতা আর পুত্রের।
আমার দেশের অভাগা মানুষের চেয়ে ভাল এটা আর কে-ই বা জানে।


প্রথম আলো থেকে নেয়া ছবি।

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০০৬

চার এবং পাঁচের কাল্পনিক হিসাব-


কাল সারাদিনে আমি ২ টা সেদ্ধ ডিম খেয়েছি। দুপুরে আর রাতে মিলে মুরগীর ঠ্যাং খেয়েছি মিনিমাম ৪ পিস। ৫ নম্বরটার দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম, কিন্তু খাওয়া হয় নি।

৯/১১ হামলায় মোট মারা গেছিলো ২৯৭৬ জন মানুষ।
ইরাকে মারা যাওয়া আমেরিকান সৈন্যের সংখ্যা মে মাসের ২ তারিখে ছিল ১৫৮৬। এখন কি সংখ্যাটা ২০০০ পেরিয়েছে?
একটা ওয়েবসাইট বলছে , একই যুদ্ধে সাধারন ইরাকি নাগরিক মরেছে, ৪৩১৫৪ জন। এটা সর্বনিম্ন সংখ্যা।

ছোটবেলায় টিভিতে দেখতাম, প্রতি মিনিটে বাংলাদেশে জন্মায় ৪ টি শিশু। কেউ কি জানে কতজন মরে? হয়ত মিনিটে ১ জন। বা, ঘন্টায় ২ জন।
শিশু নয়, সব মিলিয়ে কতজন মানুষ মারা যায় প্রতিদিন বাংলাদেশে? ২০০ জন, বা ৪০০ জন? কে জানে!
কতজন দূর্ঘটনায় মরে, তাও জানি না। হয়ত ১০০ জন।

চিকিৎসার অভাবে মরে কতজন? ৭০? নাকি ৮০?
আচ্ছা, চিকিৎসার জন্যে এম্বুলেন্স এ হাসপাতালে যেতে যেতে মারা যায় কজন? রাস্তায় জ্যামে আটকা পড়তে পারে এম্বুলেন্স, অথবা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর যাবার মতন অতি গুরুত্বপূর্ণ কোন কারনে হয়ত তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতে পারে। পারে না?

আচ্ছা, ধরে নিলাম, গতকাল এম্বুলেন্স এ মারা গেছে ৪ জন মূমুর্ষু মানুষ।
৪ , সংখ্যাটা ৪ ই। কিন্তু যদি ৫ জন মারা যেত , তাহলেই বা কি হোত? কিছু কি আদৌ হোত?
পত্রিকায় হয়ত ৪ লেখা হতো না, বলা হতো, মারা গেছে ৫ জন। আর, সেই পাতায় চোখ বুলিয়ে ৪ এর বদলে আমি ৫ পড়তাম, চার এর বদলে পাঁচ। এইতো, ব্যস। আর কিছু না।

সত্যি বলতে কি, চারজন অথবা পাঁচজন মূমুর্ষু মানুষের জন্যে আমার মনে কোন হাহাকার জাগে না। সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছালে তারা বেঁচে যেতে পারতো কিনা তাই বা কে ভাবে! আমি অন্তত ভাবি না।
লিখতে লিখতে আমার বরং মুরগীর ৫ নম্বর রসালো টুকরোটার জন্যে বড্ড দুঃখ হচ্ছে।
ইস, ৪ টা না খেয়ে কাল ৫ টা খেলেই পারতাম!

ছবি সূত্রঃ প্রথম আলো

শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০০৬

প্রথম আলোয় লেখা।

আজকের প্রথম আলোর ছুটির দিনে -তে আমার আরো একটা লেখা ছাপা হলো। লোপামুদ্রাকে নিয়ে যেটা লিখেছিলাম- ভালোলাগায় লোপামুদ্রা।
পাওয়া যাবে এখানে

আর, বলতে ভুলে গেছিলাম, ছুটির দিনে-তে কদিন আগে আমার অন্য একটা লেখাও ছাপা হয়েছিল- অবশেষে আলেকজান্ডার কহিলা বিষাদে।
ওটা পাওয়া যাবে এখানে।

বেশ ফুরফুরে টাইপ একটা মজা লাগছে!

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০০৬

রত্নভান্ডার-


এটাকে রত্নভান্ডার ছাড়া আর কিছু বলতে পারছি না।
আজ সকালে ইউনি যাবার সময় স্টেশন থেকে বের হতেই একজন হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল। নিতান্ত অনাগ্রহে নিলাম সেটা, সবসময় যেটা করি। তাকিয়ে দেখি একটা বইয়ের দোকানের বিজ্ঞাপন। যে কোন বইয়ে আজ ওরা ২০% ডিসকাউন্ট দিচ্ছে।
ক্লাশ শেষে তাই সেই দোকান খুঁজতে বের হলাম। জায়গামত যাবার আগেই পরিচিত আরেকটা বইয়ের দোকান দেখে অলসতায় পেয়ে বসলো, ঢুকে গেলাম সেটাতেই।
হাজার হাজার বই সেখানে, কিন্তু সবগুলোরই ভীষন দাম। এ দেশে এসে এই দামের কারনেই বই কেনার অভ্যাসটা একেবারেই চলে গেছে। প্রতিবারের মতই তাই বইয়ের গন্ধ নিয়েই সময় কাটাচ্ছিলাম। হাত দিয়ে ছুয়ে ছুয়ে দেখছিলাম।
চট করে আর্ট এন্ড কালচার সেকশনে গিয়ে দেখি এই বই! লিওনার্দো দা ভিন্সি- দি কমপ্লিট ওয়ার্কস! সাংঘাতিক ব্যাপার! যেন এক সিডিতে সমগ্র রবীন্দ্রনাথ!
হাতে নিয়ে পাতা ওল্টালাম। ছোট ছোট নোটসহ লিওনার্দো-র আঁকা সবগুলা পেইন্টিং আর ড্রয়িং! মাথা খারাপ হবার জোগাঢ়! অবধারিতভাবে একদম শেষে গিয়ে দামটাও দেখে নিলাম। ত্রিশ ডলার! এখানে এসে সবাই ডলারের সাথে ৫০ দিয়ে গুণ দেয়। তারপরে ভিরমি খায়।
এই অভ্যাসটা সাউথ আফ্রিকায়ই ফেলে এসেছি আমি। এখানে এসে ৫০ দিয়ে গুণ দেই না আর। আমি করি কি, এরকম কিছু খরুচে শখ মেটানোর আগে মনকে বোঝাই, কিনিস না বাপ, কিনিস না, কতগুলা টাকা!
তবু মন না বুঝলে, চোখ বুজে সেটাকে ১৯ দিয়ে ভাগ দেই। হুম, তারমানে এই বইটা কিনতে হলে আমাকে মিনিমাম দেড়ঘন্টা এক্সট্রা কাজ করতে হবে।
তাই সই।
৩০ ডলারের বিনিময়ে এরকম সলোমনের গুপ্তধন হারায় কোন বোকা!


সোমবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০০৬

ইউনিকোডে ব্লগাই যারা-


ইউনিকোডে যারা ব্লগিং করেন, তাদের একটা কমন প্ল্যাটফর্ম নেই বলে তারা নিজেরাও ঠিক বেশিরভাগ ইউনিকোড ব্লগের খোঁজ জানেন না৷ সুতরাং আমাদের ব্লগিংটা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে নিজেদের পরিচিতদের মধ্যেই৷
এসব কারণে ইউনিকোড ব্লগারদের জন্যে কমন একটা প্ল্যাটফর্ম করার চিন্তা মাথায় আসে৷ এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্যেই বানালাম এই বাংলা ইউনিকোড ব্লগ৷
কি আছে এখানে?
বাম পাশে আছে ব্লগরোল, সেখানে প্রায় সমস্ত বাংলা ইউনিকোড ব্লগের ঠিকানা আছে৷
কিন্তু তার চেয়ে জরুরি কথা হচ্ছে, প্রতিদিন যে ব্লগগুলো আপডেট হয়, সেই আপডেটেড ব্লগ তাদের পোষ্টের কিছু অংশ সহ অটোমেটিক্যালি এই ব্লগে চলে আসে৷
সুতরাং, যারা একটা পেজে এসে দেখতে চান যে আজ কোন কোন ব্লগ আপডেট হলো- তারা এখানে আসলেই সেই খোঁজ পেয়ে যাবেন৷ তারপর ইচ্ছেমতন চলে যেতে পারবেন পছন্দের ব্লগ বা আর্টিকেলে৷

লিংকটি আবারো দিলাম: http://banglaunicode.blogspot.com/
অথবা ক্লিক করুন এখানে: বাংলা ইউনিকোড ব্লগ
আমরা যারা ইউনিকোডে ব্লগাই- তাদের জন্যে এই ব্লগটা খুব কাজে লাগবে, এই আশাই করছি৷


শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০০৬

মায়ামি ভাইসঃ যত গর্জায় ততই কি বর্ষায়?


দেখতে গিয়েছিলাম লাগে রাহো মুন্নাভাই।
বড় পর্দায় হিন্দি ছবি দেখাটা আমার কাছে অপচয় বলে মনে হয়। কিন্তু এ ছবিটা আসতে না আসতেই অনেক প্রশংসা শোনা হয়ে গেছে। মংগলবারদিন পরিচিত কয়েকজন বন্ধুদের সবাই ফ্রি। একসাথে সবার এরকম কাজ ছাড়া দিন সহজে পাওয়া যায় না। একটা ছবি দেখতে যাব প্রস্তাব করলাম। ছবির নাম ভেবে বের করার আগেই দলের রমণীরা প্রস্তাব দিলেন- লাগে রাহো মুন্না ভাই দেখতে হবে, হবেই। সুতরাং ঢেঁকি গেলো।
গিললাম। খুব তাড়াহুড়ো করে গেলাম সিনেমা হলে, দাঁড়ালাম চীনের প্রাচীরের মতন লম্বা একটা লাইনের পেছনে। সে প্রাচীর বেয়ে উঠে যখন কাউন্টারের সামনে যাবার সৌভাগ্য হল- জানা গেল- টিকেট নেই।
অন্য একটা হিন্দি কি যেন চলছে। সবাই সেটাই দেখতে চাইল, আমি রাজি হলাম না। ( হেলায় হারিওনা সুযোগ! ) চট করে বললাম মায়ামি ভাইস দেখব।
একটাও ট্রেলার দেখিনি, কেমন হয়েছে কিছুই জানি না, তবু পুরনো মায়ামি ভাইসের নাম ডাকের অপর ভরসা করে এই নাম প্রস্তাব করলাম।
খানিকটা গাইগুইয়ের পরে সবাই রাজি হল। ঢুকলাম গিয়ে হলে। এবং আবিষ্কার করলাম, আমরা সাতজনের দলটা বাদে পুরো হলে দর্শকের সংখ্যা দুই!
সেটার কারনও বোঝা গেল খানিক পরেই। ছবি শুরু হবার আধা ঘন্টা বাদেও কাহিনির কোন সুতো খুঁজে পেলাম না। শুরুতেই মনে হয়েছিল দুম করে কোন একটা ঘটনার মাঝ থেকে সিনেমা শুরু হয়েছে।
আলেক্সাজান্ডারে কলিন ফেরেল কে একেবারেই ভাল লাগে নি। এখানে বেশ চমৎকার মানিয়ে গেছে। লম্বা চুলে, জটিল একটা সানগ্লাসে কাউবয় ডিটেকটিভ। জেমি ফক্সকেও বরাবরই ভাল লাগে। এখানেও তাই। কিন্তু এইটুকুই।
বেশ কিছু দেখবার মতন বিচ্ছিন্ন মারামারি রয়েছে। নিঃশ্বাস আটকানো কিছু লাভ-মেকিং। আর ছবির প্রতিটি চরিত্রের কঠিন ভাব। এ সবই দেখার মতন। এবং এইটুকুই সব। বলবার মতন তেমন কিছু নেই।
পুরো মুভিটা দেখে যেটা মনে হল, এডিটর হয়ত ভুল করে ছবির চটকদার দৃশ্যগুলো রাখতে গিয়ে মুল কাহিনিগুলোই কেঁটে ফেলে দিয়েছে।
একদম শেষের গোলাগুলির দৃশ্যটায় একটু অবাক হলাম। হঠাৎ করেই মনে হল, ক্যামেরা বদলে গেছে। পুরো দৃশ্যটাকে হোম-মেইড কোন ভিডিও বলে মনে হলো। সিনেমাসুলভ কোন রঙ বা গ্রাফিক্স নেই ওখানে। আমাদের বিয়ে বা জন্মদিনে যেরকম ভিডিও কোয়ালিটি দেখা যায়, একদম সেরকম।
বাস্তবতার ছোঁয়া দিতে এরকম করা হয়েছে কি না কে জানে। উদ্দেশ্য যাই হোক, সেটা মাঠে মারা গেছে একদম।
সব মিলিয়ে কেমন লাগলো? আমাদের আশরাফুল একবার ইংল্যান্ডকে পিটিয়ে ৫২ বলে ৯৪ করেছিল। যতক্ষন ক্রিজে ছিল, মনে হয়েছে পুরোটা সময় জুড়ে যেন হাইলাইটস দেখছি। ( না না, হাসির কিছু নেই, আমাদের আছেই ওই দু একটা খড়কুটো, ওগুলোই আঁকড়ে ধরি মাঝে মাঝে!)
মায়ামি ভাইস দেখে মনে হয়েছে, পুরোটা সময় যেন একটা দুর্দান্ত ছবির ট্রেলার দেখলাম বসে বসে। কিন্তু হায়, পুর্ণাঙ্গ মুভিটাকে খুঁজে পেলাম না আর।

ছবি সুত্রঃ ইয়াহু মুভিজ।

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০০৬

মেঘদল


গতকাল এখানে যাচ্ছেতাই ওয়েদার ছিল।
সারাদিন কুকুর-বিড়াল বৃষ্টি। দেশ ছেড়ে আসার সাথে সাথে বৃষ্টির প্রতি ভাললাগাও ফেলে এসেছি নির্ঘাৎ। এখানে বৃষ্টি একেবারেই দেশের মত নয়। একদমই আলাদা, দেশের বৃষ্টির মতন আকাশ থেকে ভালবাসা ঝরে পড়ে না এখানে।
তার মধ্যে কাল ছিল ড্রাইভিং টেষ্ট। কাগজ কলম নিয়ে বসে থাকা কোন মাষ্টারনীকে পাশে নিয়ে গাড়ি চালাতে ভাল লাগে না। তার ওপর সে যদি শকুনের মত চোখ নিয়ে শুধু আমার ভুল ধরার জন্যে বসে থাকে!
এত কিছুর মধ্যেও হঠাৎ চোখ পড়লো আকাশের দিকে। মেঘেরা যেন অনেক নীচে নেমে এসেছে, ঐ দালানগুলোর মাথায় চেপে বসেছে যেন।
এটা অতি অবশ্যই মেঘ নয়। ভারি কুয়াশা হতে পারে। বা মেঘের ছোট ভাই- ঘন জলীয় বাষ্প। তবু ভাবতে মজা লাগছিল মেঘেরা হঠাৎ আমাদের খুব কাছে চলে এসেছে- এত কাছে যে, লিফটের বোতাম চাপলেই চড়ে বসা যায় তাদের উপর।

মোবাইল ক্যামটাকে কালই প্রথম প্রয়োজনীয় মনে হলো।

মিরুজিন নদীটির তীরে-



কোন কোন মানুষ থাকেন পাহাড়ের মতন।

সাগর বয়ে যায়, দিনান্তে ঘরে ফেরে পাখি, বাতাসের সাথে অবিচল সখ্যতায় কখনো কখনো গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে আজন্ম স্থির থাকবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গাছেরা। শুধু পাহাড়ই যেন একঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে |

সেই পাহাড়ের পাশ দিয়ে পায়ে হাঁটা রাস্তাটুকু প্রতিদিন নিশ্চিত নির্ভরতায় পার হয়ে যাই হেঁটে। ছায়াটুকু গায়ে মেখে নিই, দমকা হাওয়ায় নির্ভয়ে পথ চলার সুবিধাটুকুও।

তবু কোন এক দুঃস্বপ্নের রাতে ছোট কুটীরে জ্বলতে থাকা মাটির পিদিম নিবে যায় ঝড়ো বাতাসে। শঙ্কায় কেঁপে ওঠে মন। এবং সত্যিই চোখ মেলে দেখে, পাহাড়টা নেই আর সেখানে।

বুকের কাছ থেকে বয়ে চলে নোনা নদীর জল।
পাবে না জেনেও বাতাসে কান পাতে হৃদয়- যদি ভেসে আসে তবু ইলেক্ট্রার গান !
---------------------

প্রিয় কবি, আপনাকে বিদায় বলবার স্পর্ধা আমার নেই। আপনি শিখিয়েছিলেন, স্বাধীনতা মানে রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
পৃথিবী জানুক, আমাদের কাছে কবিতা মানে শামসুর রাহমান

--------------
বাংলালাইভে মুল লিংক


বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০০৬

ব্লগ দিবস

৩১ অগাস্ট ব্লগ দিবস গেল।
সবাই তাঁদের পছন্দের পাঁচটা ব্লগের নাম দিয়েছিল সেদিন।
একটু দেরি করে আমিও দিলাম। যেগুলোর নাম মনে আসবে ঠিক পাঁচটা হলে থেমে যাব।

-হারে রেরে রেরে
-মেঘদল
-স্লোগান দিতে গিয়ে
- বিবর্ণ আকাশ এবং আমি
- জিকোবাজি

আরো অনেক বাকি থেকে গেল। থাক, ওগুলোতো আছেই জায়গামতন। এখানে এই পাঁচটাই থাক।

আপন দেশে -

কদিন খুব কোলাহলে ছিলাম।
কোলাহল ভালো লাগে না এমনটা নয়। একটা টান আছে ব্যাপারটায়। ভিড়ের মাঝে নিজেকে ঠেলে দেবার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ আছে।
কিন্তু সেই আনন্দ হঠাৎ করে আতিশয্য মনে হলো। তাই, কিছুদিন নির্জন বাসের জন্যে ফিরে এলাম এখানে।
নিজেকে নিজেই উইশ করছি- বিরতির পরবর্তী যাত্রা শুভ হোক।
সুন্দর হোক।

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০০৬

মহামতি আকামেরডিসঃ প্রত্যাবর্তন ও ইউরেকা বিষয়ক জটিলতা


মাথার পাশের ক্যাটক্যাটে কমলা রঙের আলোগুলো হঠাৎ জ্বলে উঠলো। তিনটা জ্বলার কথা, জ্বললো দুইটা। একটা মনে হয় কোন কারণে ফিউজ হয়ে গেছে। একটু পরেই টাইম ক্যাপসুলের ঢাকনা দুইটা ক্যাচক্যাচ শব্দে খুলে গেলো। ধোলাই খালে বানানো জিনিস- কোনই ভরসা নাই- মাত্র কয়েকশ বছরেই মরিচা ধরে গেছে!

দরোজা খুলতেই তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি তারস্বরে চিৎকার করতে লাগলো, " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হয়ে গেছে। ও ওস্তাদ ওঠেন।'
কিন্তু মহামতি আকামেরডিস উঠবার কোন লক্ষনই দেখালেন না। তিনি গরিলার মত বিশাল হা করে, আ-আ-আ শব্দ করে একটা হাই তুলেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন।
তৃতীয় মাত্রার বুদ্ধিমান অ্যালার্ম ঘড়ি এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দিলো- " ওস্তাদ ওঠেন, সময় হইয়া গেছে! আরে ও ওস্তাদ- ওঠেন না! সময় হইয়া গেছে তো!'
কিন্তু তবুও মহামতি আকামেরডিসের কাছ থেকে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে হঠাৎ ঘড়িটা ঘোঁতঘোঁত করে তীব্র স্বরে চেঁচিয়ে উঠলো- " ধুৎ, তোর ওস্তাদের খ্যাতা পুড়ি! ওঠ হারামজাদা! ওঠ!'

মহামতি আকারমেডিস ধড়মড় করে উঠে বসলেন! উফ, কি ভয়ংকর এক দু:স্বপ্নই না দেখছিলেন তিনি। মিশমিশে কালো কিছু মিচকা বদমাশ তার আজানুলম্বিত দাঁড়ি ধরে টানাটানি করছে!
টাইম ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে তিনি চারপাশে তাকালেন। প্রায় অন্ধকার একটা ঘর। কোথায় এসে নামলেন তিনি? কয়েকশ বছর আগে টাইম ক্যাপসুলে ওঠার সময় সেট করেছিলেন, যেন ২০০৬ সালে এই ছোট্ট ব-দ্বিপের সবচে ক্ষমতাবান ব্যাক্তির বাসভবনে এসে নামেন। কিন্তু বাড়ির অবস্থা দেখে তো সেরকম কিছু মনে হচ্ছে না! হতদরি˜্র অবস্থা। দেয়াল হাতড়ে দেখলেন বেশ কিছু সুইচ আছে, কিন্তু কোনটাই কেন জানি কাজ করছে না!
নিজের থলথলে ভুঁড়িটা ঘ্যাস ঘ্যাস করে চুলকাতে গিয়ে আকামেরডিস হঠাৎ আবিষ্কার করলেন, তার গায়ে কাপড় চোপড়ের নাম গন্ধও নেই! একেবারে নেংটা বাবা যাকে বলে!
ব্যাপার কি? এমুন তো কথা ছেলুনি! অন্তত নিজের কিসমিস ব্র্যান্ডের লুংগিখান না পরে তো তিনি কোথাও যান না!
আহা বড়ই প্রিয় লুংগি তার। মাঝে মাঝে রাজার সাথে দেখা করতে গেলেও সেই লুংগিখানই মালকোচা মেরে তার উপর পাতলুন চাপিয়ে চলে যেতেন। সারাজীবন এর কল্যানেই তো একটাও আন্ডারওয়্যার কিনতে হলো না!

চি›তায় পড়ে গেলে মহামতি আকামেরডিসের পেট চুলকানোর মাত্রা বেড়ে যায়। লুংগিটা যে কোথায় হারালেন সেটা ভাবতে ভাবতে তিনি দরজা খুলে পাশের রুমে ঢুকতেই দেখেন সেইটা একটা বাথরুম! আর কিম আশ্চর্যম, সেইখানে একটা বাথটাবও সেট করা। আকামেরডিসের মন খুশিতে ধেই ধেই করে উঠলো। পানি ভতির্ করে তিনি মনের আনন্দে জলকেলি করতে লাগলেন।
কিন্তু মাথার মধ্যে থেকে থেকেই সেই এক চিন্তা, লুংগিখান গেলো কই??

ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মনে পড়লো- সেদিন টাইম ক্যাপসুলে চড়বার আগে তিনি নদীর ধারে গেছিলেন প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে। কি›তু সকালবেলা বি(এ)ডি ফুডসের চানাচুর খেয়ে তার পেটটা ভুডভুড করছিল। হঠাৎ প্রকৃতি তাকে এমন জোরেই ডাক দিলো যে তিনি খেই হারিয়ে লুংগি খুলে রেখে পাশের ঝোপে ঢুকে গেলেন। কার্য সমাধার পরে আনমনে হাটতে হাটতে কখন যে লুংগি ছাড়াই বাড়ি পৌছে গেছেন নিজেও টের পান নাই!

হঠাৎ করে নিজের হারানো লুংগি ফিরে পাবার আনন্দে মহামতি আকামেরডিস ¯থান কাল ভুলে এক লাফে বাথটাব ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর "ইউরেকা, ইউরেকা' বলে চিৎকার করতে করতে বাড়ি হতে বের হয়ে এলেন!

------------------

বাড়ির চারপাশে ড্যাবড্যাব বাহিনি কালো বন্দুক উঁচা করে দাঁড়িয়ে আছে। ইংরাজি ভাইকে তারা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে। যেকোনো সময় সে আত্মসমর্পণ করবে।
ড্যাবড্যাব বাহিনির প্রধান জনাব আজরাইল আলি, যিনি কানে একটু কম শোনেন, সারারাত জাগার ক্লান্তিতে ঘুমে ঢুলু ঢুলু প্রায়।
তক্ষুনি বাড়ি হতে হাঁটু সমান দাঁড়িওয়ালা এক লোক চিৎকার করতে করতে ছুটে আসলো। দাঁড়ি দেখে কোন সন্দেহই রইলোনা যে এটাই তাদের বহু প্রতীক্ষিত ইংরাজি ভাই।
আজরাইল আলি হুকুম দিলেন, ধর ব্যাটারে!
ড্যাবড্যাব বাহিনির সদস্যরা সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়লো। কিন্তু দাঁড়ির আড়ালে তার হাত-পা খুঁজে না পেয়ে শেষে দাঁড়ি ধরেই তাকে আটকালো।
মহামতি আকামেরডিস তখনো বলছেন, ইউরেকা ইউরেকা! কানে খাটো আজরাইল আলী শুনলেন, জুলেখা, ও জুলেখা! তিনি চমকে উঠলেন! ইংরাজি ভাইয়ের মুখে তার বউয়ের নাম কেন?? কয়দিন ধরেই বউকে সন্দেহ করছিলেন, তবে কি তার বউ এই ইংরাজি ভাইয়ের সাথেই ...।
তিনি আকামেরডিসের কাছে গিয়া হুংকার করলেন, হারামজাদা, আমার বউরে তুই চিনস কেমনে?
মহামতি আকামেরডিস বাংলা না বুঝে আবারো বললেন, ইউরেকা ইউরেকা!
এইবার এই জুলেখা ডাক সোজা গিয়া আজরাইলের বুকে ধাককা মারলো! তিনি হাতের ডান্ডা দিয়া মহামতি আকামেরডিসের পশ্চাদ্দেশে মারলেন দুই বাড়ি!
ব্যাথার চোটে মহামতি আর্তচিৎকার করে উঠলেন, " মার ডালা!' ( বলা বাহুল্য- ভবিষ্যৎ দর্শনের মেশিনে তিনি সারাক্ষনই হিন্দি ছবি দেখতেন।মিস ওয়ার্লড দিলধরিয়া খাই- এর এই গানটি তার বিশেষ প্রিয় গান!)
কিন্তু হিতে বিপরীত। আজরাইল এবারে মার ডালা-রে শুনলেন বিমান-বালা! তিনি চমকে উঠলেন, সর্বনাশ! এতো দেখি বউয়ের চাকুরির খবরও জানে!
তেড়ে ফুঁড়ে তিনি মহামতি আকামেরডিসরে খানিক্ষন দুমাদ্দুম পেটালেন!
অত:পর, দু:স্বপ্ন সত্য করে আজরাইলের নিদের্শে ড্যাবড্যাব বাহিনির লোকেরা মহামতি আকামেরডিসের দাঁড়ি ধরে তাঁকে চ্যাংদোলা করতে করতে রাজার বাড়ি- অর্থাৎ রংগভবনের দিকে নিয়ে চললো।

এদিকে-
ইংরাজি ভাই তার টাকে হাত বুলাতে বুলাতে ফোনের নম্বর ঘুরিয়ে তার বন্ধু জর্জ ঠুসের বাড়ি ব্ল্যাক হাউসে ডায়াল করতে লাগলেন। খবর পেয়েছেন, খানসামা বিন হ্যাভেন নাকি ইদানিং সেখানেই আস্তানা গেঁড়েছেন! তাকে খবরটা জানানো দরকার।



(ক্রমশ: হইলেও হইতে পারে। তবে চান্স কম।)
---------------------------

উৎসর্গ :: মুখফোড়রাসেল ( অষ্টডটু)- বাংলা সাহিত্যের এই বিশেষ শাখায় যাদের নিদির্ধায় আকামেরডিসের সম্মান দেয়া যায় ! :-))

বাংলাদেশের জন্যে গানঃ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ


Bangla Desh, Bangla Desh
Where so many people are dying fast
And it sure looks like a mess
I've never seen such distress
Now won't you lend your hand and understand
Relieve the people of Bangla Desh

খুব চেনা গান। কমবেশি সবাই শুনেছি।
শুভ-র একটা পোষ্ট পড়ে অসাধারন লাগলো- সব যুদ্ধ স্টেনগান দিয়ে হয় না
আমিও ভাবি- অস্ত্র হাতে যারা সম্মুখযুদ্ধ করেছেন, শুধু তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা নন। সে সময় যাঁদের বুকের ভেতরেই বাংলাদেশের জন্যে জন্ম নিয়েছিলো বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসা- তাঁরা সবাই-ই মুক্তিযোদ্ধা।
আমি তাই বলি- রবি শংকরও আসলে মুক্তিযোদ্ধা-ই। অথবা আমাদের পরম ভালোবাসার জর্জ হ্যারিসন।
'৭১ -এ নিউইয়কের্র ম্যাডিসন স্কয়ারে এই দু'জনের প্রচেষ্টাতেই হয়েছিলো - কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
প্রস্তাবটা করেছিলেন রবিশংকর। বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের কাছে বলেছিলেন, দেখো, বাংলাদেশে একটা অন্যায় গণহত্যা হয়েছে। এখন চলেছে যুদ্ধ। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে সেখানে। আমাদের কিছু একটা করা উচিৎ।
বন্ধু সায় দিয়েছিলেন সে আহবানে। গানের লিরিকেই আছে সেটা।

My friend came to me, with sadness in his eyes
He told me that he wanted help
Before his country dies
Although I couldn't feel the pain, I knew I had to try
Now I'm asking all of you
To help us save some lives


সেদিন পারফর্ম করেছিলেন জর্জ হ্যারিসন, বিটলসের রিংগো স্টার, বাডফিংগার। আরো ছিলেন লিও রাসেল, এবং বিলি প্রেস্টন। প্রিয় রবি শংকর বাজিয়েছিলেন - বাংলা ধুন। সাথে ছিলেন আলী আকবার খান ও আল্লা রাখা।

নেটে খুঁজতে গিয়ে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামেই একটা অসাধারন ওয়েবসাইট পেয়ে যাই। সেই ওয়েবসাইট দেখে আমি মুগ্ধ।
রবিশংকর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, রিংগো স্টার, লিও রাসেল এবং বিলি প্রেস্টন- প্রত্যেকের নিজের স্বরে ছোট্ট ভূমিকা শোনা যাবে সেখানে।
এমনকি একটা স্পষ্ট ট্রেইলারও দেখা যাবে।

---------------------------------------
রক্তসম্পকের্র না হলেও অনেকেই আত্মার খুব কাছের মানুষ হয়ে যান। সেরকমই একজন - অরিজিৎদা - আমাকে সেদিন জোয়ান বায়েজ এর একটা গান পাঠালেন। সং অব বাংলাদেশ
এ গানের লিরিকটাও কাছাকাছি ।

Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh
When the sun sinks in the west
Die a million people of the Bangladesh
The story of Bangladesh
Is an ancient one again made fresh
By blind men who carry out commmands
Which flow out of the laws upon which nation stands
Which is to sacrifice a people for a land
Bangladesh, Bangladesh
Bangladesh, Bangladesh

----------------
নিজের দেশকে ভালোবাসি সবাই।
তুলনায় অন্যদেশের জন্যে ভালোবাসাটা একটা বাহুল্যই বলা চলে। হয়ত নেহাৎই মানবতার খাতিরে, অথবা কর্তব্যবোধের জন্যেই এই সব বিখ্যাত মানুষেরা সেদিন বাংলাদেশের গান গেয়েছিলেন।
তবু, ভাবতে ভালো লাগে- ঐ গান গাইবার মুহুর্তটুকুতে হলেও- একটু সময়ের জন্যে - তাঁরা বাংলাদেশকে ভালোবেসেছিলেন।
যেমনটা আমি ভালোবাসি- আমার বাংলা মা-কে।



----------------
ছবি কৃতজ্ঞতা: কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

ভাবছো তুমি সুতোর টানে নাচবে সবাই


... ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই-
ভাবছো লোকে দিচ্ছে তোমায় হাততালিটাই।
ভাবছো তুমি বাঁচবে তুমি একার চালে-
ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে। ..

সুমনের গান
ভেবে দেখলাম, ঘুরে ফিরে আমার একাকীতে¡র সঙ্গী আসলে গানেরাই। একটা সময় বই আর গানে কম্পিটিশান ছিলো। কিন্তু এখন হাতের কাছে বই অপ্রতুল। তাই , সিনেমাকে খুব অল্প খানিকটা ভাগ দিয়ে পুরো সাম্রাজ্যটা প্রায় একাই দখল করে নিয়েছে প্রিয় গানেরা

নিজের গানের গলা খুব খারাপ। আমার কর্কশ কবিতাগুলো ছাড়াও হঠাৎ করে মাঝে মাঝেই আনমনে যখন গান গুনগুন করি, কাকের কথা আরও বেশি মনে পড়ে যায়।
অবশ্য কাক গান গায় কিনা জানা নেই, তবে আমি গাই। প্রায়শই, গুন গুন করে, অথবা হেঁড়ে গলায়।

আজ শুনছিলাম সুমনের এই গানটা। আর গুন গুন করছিলাম। একটা সময়ে একটু মনোযোগ দিতেই কথাগুলো খুব আকৃষ্ট করলো।
ভাবছো তুমি সূতোর টানে নাচবে সবাই - । বেশ অদ্ভূত একটা কথা। কিন্তু ভেবে দেখলাম আমরা প্রায় সবাইই ঠিক এরকমটাই আশা করি। পরের লাইনগুলো আরো অদ্ভুত! ভাবছো তুমি ছুটবে জগৎ তোমার তালে!

চট করে মনে হলো- সুমন কি এই গানটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লিখেছিলেন? নইলে গাইতে গাইতে আমার কেন মনে হলো, গানটা আসলে নিজের চোখে চোখ ফেলে গাওয়া উচিৎ!

ভাবছো তুমি এই তো জীবন দিব্যি আছো
নাচাতে চাও দেখাও নিজে কেমন নাচো।
নাচছো তুমি নিজেই নিজের সূতোর টানে-
হয়তো জীবন তোমায় নিয়ে খেলতে জানে।

আমাদের সমাজ বা ব্যাক্তিজীবনের, আরও ভালো করে বললে ব্লগের বাইরের জীবনের অস্থিরতার খানিকটা ছোঁয়া এই ব্লগেও টের পাচ্ছি। বড় বেশি অসহনশীল হয়ে যাচ্ছি আমরা, দিনে দিনে।
এই গানটা আজ ব্লগের সবাইকে উৎসর্গ করলাম।
পারলে শুনে নিবেন সবাই। হাতের কাছে আয়না পেলে ভালো। না পেলেও সমস্যা নেই। চোখ বুজেও নিজের চোখে চোখ ফেলা যায়।


ছবি নিয়ে কিছু কথা: বাচ্চারা নতুন খেলনা পেলে যা করে, আমার এখন ছবি আঁকার নতুন সফটওয়্যারটা পেয়ে ঠিক সেই অবস্থা। দুমদাম ছবি এঁকে যাচ্ছি। পঁচা হোক কি ভালো, কোনায় আবার নিজের নামও লিখে রাখছি! :-))
খুব আদর করে এই ছবিটার নাম দিয়েছি- আয়না।
আবারো গুনগুন-
ভাবছো তুমি ভাবনা নিয়ে কোথায় যাবে , ভয় পেওনা জীবন তোমায় পথ দেখাবে।

ফাইভ হান্ড্রেড মাইলস এওয়ে ফ্রম হোম-


If you missed the train I'm on
You will know that I am gone
You can hear the whistle blow a hundred miles.

... গান শুনি, তার সবই বাংলা গান। ইংলিশ গান খুব বেশি শোনা হয় না। অল্প কিছু, বাছাই করা। তার বেশিরভাগই পরিচিত, সবাই শোনে বা শুনেছে- এরকম।
ফাইভ হানড্রেড মাইলস- এই গানটা খুব ভালো লাগে।
অঞ্জন দত্তের একটা গান আছে- মিষ্টার হল।
... কানে বাজে এখনো পুরোনো সে পিয়ানোর সুরটা, নিকোটিনে হলদে হয়ে যাওয়া দশটা আঙুল... সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে একশ মাইলের গানটা....
ওখানেই এটা প্রথম শোনা।
মূল গানটা অনেক বেশি স্লো, অঞ্জনেরটার চেয়ে।
এখন আমার কাছে মূল গানটাই আছে, অঞ্জনেরটা হারিয়ে গেছে- তবু, ওটাই এখনো ভালো লাগে, মনে মনে।

----------------------

And the land that I once loved is not my own
Lord I'm one, Lord I'm two,
Lord I'm three, Lord I'm four
Lord I'm five hundred miles away from home

...। দেশে কবে যাবো তার ঠিক নাই।
অনেক রাতে কাজ থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে, কখনো ট্রাফিক লাইটে থেমে গিয়ে- নিজের মনে গুনগুন করে উঠি- লর্ড আয়্যাম ফাইভ হানড্রেড মাইলস অ্যাওয়ে ফ্রম হোম- ।

প্রিয় মানুষদের প্রতিদিন নতুন করে কথা দেই। এই জুনে আসবোই... জুন পেরিয়ে গেলে - এই ডিসেম্বরে- নিশ্চিত।
একসময় ডিসেম্বর চলে যায়। তাতে কি? ফেব্রুয়ারী আছে না?
... যাবো কি না জানি না, তবু, ভেবে রাখি। যাবো নিশ্চয়ই - ফেব্রুয়ারিতে - দেশে।

Someday soon the tide'll turn and I'll be free
I'll be free, I'll be free
I'll come home to my country





ছবি : কংকাবতীর তোলা, জায়গা- সম্ভবত ময়মনসিংহ ।

বেসিক ইন্সটিক্টঃ ১ এবং ২


প্রথমটা দেখেছিলাম লুকিয়েলুকিয়ে। তখনো যৌনতা বিষয়ক কিশোরসুলভ চিত্তচাঞ্চল্য বিদ্যমান আমাদের মধ্যে। মানুষের বেসিক ইনস্টিংক্ট কি এটাই নাকি নিষ্ঠুরতা- এরকম কোন জটিলতর ভাবনা তখনো আমাদের কাছে অকারন।
লুকিয়ে দেখা আরো অনেক কিছুর লিষ্টে বেসিক ইন্সটিংক্ট নামক সিনেমাটিও ছিলো। মাহেন্দ্রক্ষণে যখন শ্যারোন স্টোন তার পা বদলালেন, সামনে বসে থাকা ডিটেকটিভদের পেছনে তখন আমরাও ছিলাম, আমরা-কিছু উদভ্রান্ত কিশোর, গলায় আটকানো গন্ধম ফলের অস্তিত¡ অস্বিকারের চেষ্টায় বারে বারে ঢোক গিলছি সবাই।
আটকানো দরজার এপাশে, কমানো ভলিউমে, একসাথে বসে দেখতে দেখতেও নানা দৃশ্যে নিজেদের মাইকেল ডগলাস ভেবে ফেলবার মত স্বার্থপর নি:সঙ্গতায় আমরা কমবেশি সবাই আক্রান্ত। শ্যারোন স্টোনের তীব্রতায় ডুবতে ডুবতে আমরা নিষিদ্ধ গন্ধ পাই। সেই গন্ধ আমাকে বহু বছর আগে কেনা আমাদের ছোট্ট-নতুন-কাঠের শো-কেসটির কথা মনে পড়িয়ে দেয়। কি অদ্ভুত ঝাঁঝালো একটা গন্ধ ছিলো তাতে, আর কি সুন্দরই না সেই বাদামী রঙের পলিশ করা গা তার, শ্যারোন স্টোনের মতই।

দ্বিতীয় পর্ব দেখলাম গতকাল।
অনাবশ্যক জটিলতা কাহিনিতে। সেই জম্পেশ সাইকো-থ্রিলার ভাবটি অনুপস্থিত সেখানে, বরং খানিকটা যেন সাই-ফাই। যেসব ছবির শেষে পাদটীকা আকারে এতক্ষণ দেখে আসা নানা দৃশ্যের ব্যাখ্যা সংযোজন করা হয়, তাদের আমার পছন্দ নয়। অনেক বেশি পৌনপুনিকতায় বৃত্তাবদ্ধ এবারের পর্ব। খানিকটা নতুনত¡ বোধহয় হতে পারে মানসিক আধিপত্য ছড়িয়ে এমকি খুনও করিয়ে ফেলবার আইডিয়াটুকু।
তুলনায় না গিয়েও শুধু একক মুভি হিসেবেও ভালো লাগেনি বলা চলে।
দরোজা না আটকে অথবা ভলিউম না কমানো একটা কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে। অথবা হয়তো ঢোক না গিলেও নিজের অ্যাডামস অ্যাপেলের অস্তিত¡ খালি চোখেই দেখতে পাওয়াটা। কিংবা, পাংশুটে পলিশের সেই পুরোনো শো-কেসও হতে পারে, সময়ের সাথে সাথে ক্রমশ বুড়োটে হয়ে গেছে সে, যেমনটা হয়েছেন শ্যারোন স্টোন!


--------------