রবিবার, জুলাই ০৯, ২০০৬

অপারগতার গ্লানি- কাক কবির কবিতা


অপারগতার গ্লানি-
--------------

ঝুম বৃষ্টি নামে।

অফিস ফেরতা আমি
হাঁটতে হাঁটতে পথ চলতে চলতে
দেয়ালে বসা দাঁড় কাকটার সঙ্গে
কাকভেজা ভিজতে থাকি।।

আমি শীতে শিউরে উঠি,
দাঁড় কাকটা নির্বিকার।।

ছোট্ট একটা আড়াল খুঁজে পাই।
ছাতার মতন ডাল ছড়িয়ে
দাঁড়িয়ে ছিলো ছাতিম গাছ।
তারই আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে
ভিজে ভিজে ভিজে
আমি তাকাই কাকটার দিকে।
ধ্যানমগ্ন ঋষির মতন, মাথা
খানিকটা হেঁট করে
ভিজেই চলেছে সে।।

মেঘেরা হঠাৎ নড়ে চড়ে ওঠে-
বৃষ্টিও থেমে যায় খানিক পরে।

এই এতক্ষণে যেন ধ্যান ভাঙে ঋষির।
টলটলে চোখ দু'টিতে স্পন্দন...;
আর কি গবর্িত ভঙ্গিতেই না সে মাথা দোলায়!

তারপর,
দারুন ক্ষিপ্রতায় গা ঝাড়া দিয়ে
অবলীলায় ঝেড়ে ফেলে সে,
ছোট্ট কালো শরীরে লেগে থাকা
এতক্ষনের অনাবশ্যক সিক্ততা।

অত:পর পলিশ করা ডানা দু'টো ছড়িয়ে
বাতাসে ভাসিয়ে দেয় রাজকীয় শরীরটা।
একটা ঘুরপাক খায়-
ছোট্ট একটা সুখের শব্দ করে
উড়ে চলে যায় সেই দাঁড়কাক।

তাবৎ অনাবশ্যকতা গায়ে জড়িয়ে রেখে
আমি সেদিকে তাকাই।
কিছুটা শীতে কাঁপতে থাকি আমি;
কিছুটা ঈর্ষায় ...।




কাক কবির কবিতা: ৩
----------------------
## সেই একই ফুটনোট।
বালকবয়েসে লেখা। তবে, এখন সুযোগ পেলেও আমি বদলাবো না। সে সময় যে অনুভুতি নিয়ে লিখেছিলাম এটা, তা প্রকাশ করতে পেরেছি ঠিকঠাক;;সেরকমই মনে হয়।
নিজেকে কাক কবি ভাবার কি হেতু, সেটা সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
সেটুকুও, অবশ্য, একেবারেই অনাবশ্যক ...।

ছবি: ২০০৪, ডারবান, দক্ষিন আফ্রিকা।

কোন মন্তব্য নেই: