শুক্রবার, জুন ১৬, ২০০৬

মামা বাড়ির আবদার


মামাবাড়ির আব্দার-
----------------
আরে ভাই, ৩৫ বছর পরে ঐসব চেচামেচি করার কি দরকার? সব ভুলে যান। নিজেদের ঐক্য নষ্ট করবেন না। আসেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি।

আমার কথা-
----------
বন্ধুদের মধ্যে একটা রসিকতা প্রচলিত আছে- " কলা ছিলছো কেন, আবার বুজাইয়া দাও''!
আব্দারের চরমসীমা বুঝাতে আমরা এই বাক্য ব্যবহার করি।
বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক দূরে আছি। আড্ডাও হয় না- কিন্তু এই আব্দারের কথা মনে পড়ল আবার। মামাবাড়ির আব্দার!

৩৫ বছর কি অনেক লম্বা সময়, ৩০ লক্ষ মানুষের রক্ত ধুয়ে মুছে ফেলবার জন্যে? কেন আমাদের ইতিহাসকে ভুলে যেতে হবে? কেনই বা আমাদের ভুলে যেতে বলা হবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের কথা?
না, আমরা ভুলবোনা। ভুলতে চাইবে তারাই যাদের জন্যে মুক্তিযুদ্ধ মানে লজ্জা, মানে পরাজয়, মানে নিজেদের নীচতা আর বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলজ্বলে দলিল। ভুলে যেতে চাইবে রাজাকাররা, আমরা না।

কি করেনি তারা?
একটা দেশের জন্মলগ্নে যতভাবে সম্ভব তার বিরোধীতা করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়েছে পাকসেনাদের হাতে, নিজেরা অস্ত্র তুলে নিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে, হাজার হাজার নারীদের ঠেলে দিয়েছে পাকসেনাদের বিকৃত লালসার সামনে!! যখন টের পেয়েছে আর কোনভাবেই বাংলাদেশের জন্মকে ঠেকানো সম্ভব নয়- তখন করেছে সবচেয়ে ঘৃন্য কাজ। ১৪ ডিসেম্বরে- আত্মসমর্পনের মাত্র দুদিন আগে বেছে বেছে খুন করেছে এ দেশের শে্রষ্ঠ সম্পদদের- ধ্বংসস্তূপ থেকে যারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারত!
জন্মাবিই যখন তখন পঙ্গু হয়েই জন্মা!
ভেবে দেখুন- একটি শিশুর জন্মের সময় তার গর্ভপাতের চেষ্টা করে যে দস্যুরা, কিন্তু কোনভাবেই না পেরে তার জন্মমূহুর্তে যারা তার হাত পা কেটে পঙ্গু করে দেয়, সে শিশু কি পারবে তাদের ক্ষমা করে দিতে? অথবা তার সন্তানেরা? ৩৫ বছর পরেও?

নাহ। ভুলবোনা । ইতিহাস আমাদের জন্যে কখনো চেচামেচি নয়। ইতিহাস আমাদের শেখায় বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতে।

দেশ গড়ব অবশ্যই। তবে ঐ জানোয়ারদের সাথে ঐক্য বেঁধে নয়, বিষাক্ত রক্ত যাদের শরীরে বয়ে চলছে এখনো। বাংলাদেশের অস্তিত্বইতো তাদের জন্যে লজ্জার। আর এ লজ্জা তারা মুছে ফেলতে চাইবেই। যতদিন না মুছতে পারো ততদিন- ভুলে যান ভাইসব, আপনে আমি ভাই ভাই!
ভাই? ভাইয়ের রক্তে হাত ভিজিয়েছে যারা একদিন, তারা আমার ভাই!!

আমি চাই না রাজাকারদের কাঁধে কাঁধ মিলাতে। আমার কাঁধ এখনো পঁচে যায় নি এত। মেলাবার মত শক্ত কাঁধের অভাব হয় নি এখনো যে রাজাকারদের বিশ্বাস করতে হবে!

৩৫ বছর খুব বেশি সময় নয়।
আড়াইশো বছর আগে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো মীরজাফর, আজো তাকে লোকে তার নাম ধরেই গাল দেয়।
শুধু ৩৫ নয়, ৩৫০০ বছর পরেও নিজের ভাইয়ের সাথে যারা বেঈমানী করবে, তাদের মুখে আমাদের সন্তানেরা থুতু দিবে এবং ঘৃণা ভরে উচ্চারন করে বলবে- "তুই রাজাকার, তুই রাজাকার ''।


-------------
মূল লেখা- এইখানে- ।

কোন মন্তব্য নেই: